
টাইব্রেকারে পোর্তোর শেষ শটটি ডেভিড রায়া রুখে দিতেই উল্লাসে ফেটে পড়েছিল এমিরেটস স্টেডিয়াম। আর্সেনালের মত একটি দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিতেই যে ভুলে গিয়েছিল এক যুগের বেশি সময় ধরে। খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের মাঝে তাই ছড়িয়ে পড়েছিল আনন্দের রেণু। উচ্ছ্বসিত মিকেল আর্তেতা বলেছেন, এই পর্যায়ে যাওয়াটাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে ১-০ গোলে জিতেছিল পোর্তো। ফিরতি লেগে গত মঙ্গলবার ঘরের মাঠে প্রথমার্ধে লিয়েন্দ্রো ট্রসার্ডের গোলে সমতা টানে আর্সেনাল। অতিরিক্ত সময়েও ১-১ সমতা থাকার টাইব্রেকারে লন্ডনের ক্লাবটির ত্রাতা হিসেবে হাজির হন গোলরক্ষক রায়া। আটকে দেন প্রতিপক্ষের দুটি শট। তাতে আর্তেতার দল টাইব্রেকারে জেতে ৪-২ ব্যবধানে।
আরও পড়ুন: শিরোপা কি তবে আর্সেনালের?
১৪ বছর আগে এই পোর্তোকে হারিয়েই সবশেষ এই প্রতিযোগিতার শেষ আটে খেলেছিল আর্সেনাল। দীর্ঘ বিরতির পর আরও একবার পর্তুগিজ ক্লাবটিকে পরাজিত করে পরের ধাপে পা রেখেছে ইংলিশ ক্লাবটি।
ম্যাচের পর আর্তেতা বলেছেন, এই জয়ে তাদের পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে। “অবিশ্বাস্য ব্যাপার, আমরা এখানেই থাকতে চাই। আমরা ধৈর্য ধরেছি, কঠোর পরিশ্রম করেছি, অনেক লোকেরা ভালো ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কঠিন মুহূর্তে সাহস দেখিয়েছে। আর আপনি এখানেই নিজেদের দেখতে চাইবেন।”

২০১০ সালে শেষ যখন আর্সেনাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ আটে খেলেছিল, তখন দলটির কোচ ছিলেন কিংবদন্তি আর্সেন ওয়েঙ্গার। এরপর থেকে দলটিতে এসেছে অনেক পরিবর্তন। ফরাসি কোচও সরে গেছেন অনেক বছর হয়ে গেছে। এবারের আগে শেষ ছয় মৌসুমে তো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি।
স্বাভাবিকভাবেই তাই দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আর্তেতার খুশির মাত্রা একটু বেশিই। “১৪ বছর বছর হয়ে গেছে, যা আর্সেনালের মতো একটি ক্লাবের জন্য লম্বা সময় এবং এটা বলে দেয় যে কাজটা কতটা কঠিন ছিল। আমরা স্টেডিয়ামে একটি অবিশ্বাস্য আবহ তৈরি করতে শুরু করছিলাম, আমরা সবাই এটি সম্পূর্ণ করার জন্য চাপ দিয়েছিলাম এবং একসাথে আমরা তা করেছি।”
No posts available.
৩১ মার্চ ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম

বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অম্ল-মধুর সময় পার করছেন হাভিয়ের কাবরেরা। যদিও স্প্যানিশ কোচের আমলনামায় মধুর চেয়ে অম্লের পরিমাণ বেশি। ২০২২ সালে লাল-সবুজ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৩৮ ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন তিনি। যার ১৭টি হার, ১১টি জয় এবং বাকি ১০টিতে জয়।
বন্ধুর পথ পাড়ি দেওয়া লাল-সবুজ অ্যারেনায় কাবরেরার চুক্তির মেয়াদ শেষ ৩০ এপ্রিল। তার দায়িত্বকালে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না আসায় বাংলাদেশে তার শেষটা দেখে ফেলেছেন অনেকেই। তাদের দাবি, সিঙ্গাপুর ম্যাচে জামাল ভূঁইয়াদের কোচ হিসেবে শেষবারের মতো ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন কাবরেরা। সময় হিসেবে আরও একমাস থাকায় যদিও তিনি বলছেন, এই সময়ের মধ্যে নিজের কাজ চালিয়ে যাবেন কাবরেরা। অর্থাৎ শিষ্যদের প্রতি তার যেমন ব্যবহার হওয়া উচিত তিনি সেটাই করবেন।
বাংলাদেশর এই স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘দেখা যাক এখন কী হয়। এখনো এক মাস সময় বাকি। তবে আমার পরামর্শ হলো, এভাবেই চালিয়ে যাওয়া উচিত। সত্যি বলতে, কে দায়িত্বে আছে সেটা বড় কথা নয়। আমার মনে হয় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলকে কিছুটা দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখা জরুরি। আর আমি মনে করি (দলের মধ্যে) সেই উন্নতিটা দৃশ্যমান। আমার অধীনে যেটা সম্ভবত আমরা পাচ্ছিলাম না, তা হলো আরও কিছু ইতিবাচক ফলাফল, তাই না? সুতরাং, আমি মনে করি ফেডারেশনের উচিত এই খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখা। তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে দলকে নতুন করে সাজানো। যারা অনূর্ধ্ব-২০ সাফে দেখছেন খুব ভালো করছে। খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা এবং তুলে আনার প্রক্রিয়াটা চালিয়ে যেতে হবে। আমার বিশ্বাস, খুব শীঘ্রই আমরা এই ধরনের ম্যাচগুলো জিততে শুরু করব যা আজ জিততে পারিনি।’
এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ‘সি’ গ্রুপে ছিল বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। জামাল ভূঁইয়ারা জয় পেয়েছেন মাত্র একটি ম্যাচে। ড্র পেয়েছেন দুটি। বাকিগুলো হেরেছেন।
সার্বিক পারফরম্যান্স ও বাস্তবতা নিয়ে কাবরেরা বলেন, ‘বাছাইপর্বের পুরো গ্রুপ জুড়ে আমরা কোনো দলের চেয়ে খারাপ খেলিনি। বরং অনেক ম্যাচেই প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো খেলেছি। তবে বাস্তবতা হলো, আমরা মাত্র পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শেষ করেছি। আমি বলছি না যে সিঙ্গাপুর এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্য নয়—তবে আজকের ম্যাচে বাংলাদেশই ছিল শ্রেষ্ঠ দল, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

র্যাঙ্কিংয়ে তফাৎ ছিল বৈকি। তবে আশা দেখতে ছিল না বারণ। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে কিছুটা হলেও উচ্চাশায় ভেসেছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ভক্তরা। তবে ফিনিশিংয়ের অভাবে আরও একবার আক্ষেপের গল্প লিখল হাভিয়ের কাবরেররা দল।
ম্যাচের আগের দিন শেষ সুন্দরের কথা বলেছিলেন বাংলাদেশ কোচ। প্রতিপক্ষের মাঠে ভালো করতে না পারার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্য জানিয়েছিলেন তিনি। তবে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টায় সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে তার দল ১-০ ব্যবধানে হেরে আশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুই লেগেই হারল কাবরেরার দল। প্রথম লেগে ঢাকায় বাংলাদেশ হার মেনেছিল ২-১ ব্যবধানে, এবার ১-০ ব্যবধানে। ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে বাছাই পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া সিঙ্গাপুর জয় নিয়ে শেষ করল বাছাই। ছয় ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে আপাতত তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ।
এশিয়াসেরা টুর্নামেন্টের নিজেদের শেষ ম্যাচে ভালোর প্রত্যয় থাকলেও হারের পর কাবরেরা জানিয়েছেন আজকের ফল হজম করা কঠিন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানিয়েছেন, গ্রুপ পর্বে এটিই ছিল আমাদের সেরা পারফরম্যান্স।
কাবরেরা বলেন, আজকের ফলাফল মেনে নেওয়া বা হজম করা খুবই কঠিন, কারণ সম্ভবত পুরো গ্রুপ পর্বে এটিই ছিল আমাদের সেরা পারফরম্যান্স। আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি, দলটি আজ জয় অথবা অন্তত এক পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল। আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। পুরো ম্যাচজুড়ে আমাদের আধিপত্য ছিল। তাই আজকের পারফরম্যান্সের জন্য আমি দলকে অভিনন্দন জানাই।’
বাংলাদেশ দলের উন্নতির জায়গা প্রসঙ্গে কাবরেরা বলেন, ‘আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। অনেক কিছুই বদলে যাচ্ছে। মাঠের খেলায় আমাদের গুণগত মান এখন স্পষ্ট। আমরা আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করছি এবং আরও পেশাদার হয়ে উঠছি। খেলোয়াড়রা এখন জানে কীভাবে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। আমরা অযথা উত্তেজিত হয়ে পড়ি না। অনেক ভালো দিক আছে।
তবে সিঙ্গাপুরের মতো দলগুলোর এমন সক্ষমতা আছে যে তারা একটি সুযোগ পেলে সেটি থেকেই গোল করে। এখানেই আমাদের ঘাটতি রয়েছে। এই জায়গায় উন্নতি করতে পারলে আগামী কয়েক বছরে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে আরও ২০-৩০ ধাপ এগিয়ে থাকতে দেখা যেতে পারে।’

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন নেপাল। আর বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে ট্রফির স্বাদ একবারই পেয়েছে বাংলাদেশ। কাল মালদ্বীপের মালেতে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল। সবশেষ এই নেপালকে হারিয়েই শিরোপার স্বাদ পায় লাল-সবুজ বাহিনীরা। শিরোপা ধরে রাখতে এবার শেষ চারেই তাদের বিদায় করার লক্ষ্যে নামবে বাংলাদেশ।
মালদ্বীপের মালেতে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে কাল সেমিফাইনালে নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয় আর ভারতের বিপক্ষে ড্রয়ের পর ফাইনালের টিকিট পেতে মুখিয়ে আছে যুবারা।
গ্রুপ ‘এ’ থেকে ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিল টপার হিসেবে সেমিতে উঠেছে নেপাল। এই গ্রুপ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স-আপ হয়েছে ভুটান। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘বি’ থেকে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের পয়েন্ট ৪ হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ভারত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং বাংলাদেশ রানার্স-আপ হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।
এ পর্যন্ত ৮ বারের অংশগ্রহণে ২০২৪ সালে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। এর আগে চারবার রানার্স আপ ও একবার সেমিফাইনালে ওঠে যুবারা। ২০২৪ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফাইনালে এই নেপালকেই ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজরা। সেই সুখস্মৃতি আর আত্ববিশ্বাস সঙ্গী করেই মাঠে নামবে বাংলাদেশের যুবারা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার আগে আজ প্রস্তুতির চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন করেছে তারা।
নেপালের মুখোমুখি হওয়ার আগে দলের টেকনিক্যাল স্টাফ ও কোচিং ইউনিট দলগত পারফরম্যান্সকে আরও সুসংহত করতে বিশেষ কোচিং সেশন পরিচালনা করেছে। কৌশলগত পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং ম্যাচ পরিস্থিতি মোকাবেলার বিভিন্ন দিক নিয়েও নিবিড়ভাবে কাজ করা হয়। পাশাপাশি, খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়াতে ও উজ্জীবিত করতে কোচিং স্টাফরা অনুপ্রেরণামূলক সেশনও পরিচালনা করেন।
সেমিফাইনালের আগে আজ চূড়ান্ত প্রস্তুতির পর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ মার্ক কক্স বলেন, ‘রিকভারির জন্য আমরা দুই-তিনদিন যাই পেয়েছে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। স্কোয়াডের ২২ জনকেই আমি শতভাগ বিশ্বাস করি।’
অতিরিক্ত সময় না থাকায় নির্ধারিত সময়ের পরই টাইব্রেকারে নির্ধারণ হবে ফাইনালিস্ট। সেমিফাইনালের ম্যাচ ৯০ মিনিটের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্যের কথা বললেন বাংলাদেশ কোচ, ‘আশা করি আমরা ৯০ মিনিটের মধ্যেই খেলা শেষ করতে পারব। এখানে কোনো অতিরিক্ত সময় নেই, সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে শেষ হবে খেলা, আমরা প্রস্তুত।’

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ফুটবলের শুরুতে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ড্র'র অতীতটাই বার বার মনে করতে হচ্ছে। ১৯৭৩ সালে মারদেকা কাপে ১-১ গোলে ড্র'র পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলায় কোনো সুখবর দিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। ২০১৫ সালে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ কিংবা তার এক দশক পর এ এফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে নিজেদের ঘরের মাঠে ১-২ গোলে হারের বদলা নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
৫৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষম সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে প্রবাসী বাংলাদেশের ব্যাপক সমর্থন থেকেও টনিক নিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। এ এফসি এশিয়া কাপের 'সি' গ্রুপের বাছাইপর্ব থেকে বিদায় ঘন্টা অনেক আগেই বেজেছে। এই গ্রুপ থেকে এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলের বাড়ি ফেরার দিকে তাকিয়েছিল সমর্থকরা। তবে ৬ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। র্যাঙ্কিংয়ে ৩২ ধাপ এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে এশিয়া কাপ বাছাইপর্ব শেষ করেছে বাংলাদেশ।
৪-৩-৩ ফরমেশনে ২টি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজিয়ে হাভিয়ের কারবেরা চেয়েছিলেন মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রন নিতে। গোলরক্ষক মিতুল মারমা এবং মোরসালিনের প্রত্যাবর্তন ম্যাচে বাংলাদেশের খেলা ভালই উপভোগ করেছে সিঙ্গাপুর প্রবাসী দর্শকরা। বল দখলে স্বাগতিকদের ছেড়ে কথা বলেনি বাংলাদেশ দল। বল পজিশনের পরিসংখ্যানে ছিল ফিফটি-ফিফটি। গোল লক্ষ্য করে নেয়া শটেও ছিল সমতা (২-২)। আক্রমনের সংখ্যার দিকে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ ১৪-৫-এ। তবে গোলের খেলা ফুটবলে কৌশলগত দিকে এগিয়ে গেছে সিঙ্গাপুর। ৩১ মিনিটের মাথায় ডিফেন্ডার তপুর ভুলে গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। ওই গোলই তৈরি করেছে ব্যবধান।
ভিয়েতনামের কাছে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ০-৩ গোলে হেরে আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। তার প্রতিফলনই পড়েছে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে। স্ট্রাইকিং জোনে থাকা মোরসালিন-ফাহিম-ফাহমিদুলকে গোলপোষ্ট লক্ষ্য করে একটি শটও নিতে দেখা যায়নি প্রথমার্ধে।
তারপরও প্রথমার্ধে গোলের সেরা সুযোগটা পেয়েছিল বাংলাদেশ খেলার ১৪ তম মিনিটে। ডান প্রান্ত দিয়ে ওভারল্যাপিং করে সাদ উদ্দিন দিয়েছিলেন ক্রস সমিত সোমকে লক্ষ্য করে। তবে অনমার্কড সমিত সোমের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
খেলার ধারার বিপক্ষে গোল পেয়ে যায় সিঙ্গাপুর। খেলার ৩১তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে মধ্যমাঠ থেকে বল পেয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে সিঙ্গাপুর। ডি বক্স থেকে কুহেয়'র নেওয়া শট গোলরক্ষক মিতুল মারমা ঠেকিয়ে দিলেও বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ছোট ডি বক্সের সামনে দাঁড়ানো ইখসান ফান্দির পায়ে বল আসলে তার মার্কিংয়ে থাকা তপু বর্মন বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। ইখসান দারুণ চতুরতার সঙ্গে বল বাড়িয়ে দেন হারিস স্টুয়ার্টের দিকে। তাঁর নিখুঁত প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে যায় (১-০)।
খেলার ৩৯তম মিনিটে সমতার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত থেকে আসা লম্বা থ্রো থেকে সাদ ও ফাহিমের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া হওয়ার পর ফাহিমের শট ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়।
এক মিনিট পর বাঁ প্রান্ত প্রান্ত দিয়ে আক্রমন থেকে মোরছালিনের নেওয়া শট সিঙ্গাপুর ডিফেন্ডার বাহারুদিন ব্লক করার পরও ছিল সুযোগ। কিন্তু ফিরতি বলে ফাহিম যখন শট নিতে উদ্যত, তখন ডি-বক্সের ভেতর সিঙ্গাপুরের এক ডিফেন্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যান ফাহিম। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা সমস্বরে পেনাল্টির আবেদন জানালেও অস্ট্রেলিয় রেফারি তাতে সাড়া দেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের খেলায় ছিল পরিকল্পনার ছাপ। বিশেষ করে ৭২ মিনিটের মাথায় ফাহমিদুলের জায়গায় মিরাজুল এবং মোরছালিনের জায়গায় বিশ্বনাথকে মাঠে নামানোয় শেষ ১৮ মিনিট একতরফা খেলেছে বাংলাদেশ। দুবার গোলের সুযোগও তৈরি করেছে এই সময়ে। মিড ফিল্ড থেকে উপরে উঠে হামজা চৌধুরীও চেষ্টা করেছেন সমতাসূচক গোলের।
খেলার ৭৫ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত থেকে সাদউদ্দিনের ক্রস পেয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে হামজা চৌধুরী দ্বিতীয় পোষ্ট লক্ষ্য নিয়েছিলেন শট। পোষ্টের উপর দিয়ে চলে যায় তা।
খেলার ৭৯ তম মিনিটে সমিত সোমের ফ্রি-কিক জটলার মধ্যে পেয়ে হামজা চৌধুরী পেনাল্টি বক্সে দারুণ এক ক্রস দিয়েছিলেন স্ট্রাইকার মিরাজুলকে উদ্দেশ্য করে। তবে হতভাগ্য বাংলাদেশ। মিরাজুলের নেওয়া শট গোলরক্ষক পরাস্ত হলেও দুর্ভাগ্যক্রমে গোলপোস্টে লেগে সেই শটটি প্রতিহত হয়। আশাভঙ্গ হয় হামজার দল।

পেশাদার ফুটবলের একেবারে শেষপ্রান্তে দাড়িয়ে নেইমার। জীবনের পরমান্ত্যে মানুষ যেমন, স্থির হয়ে বসে সবকিছুর যোগ-বিয়োগ করেন। একটা পর্যায়ে কী হলে কী হতো, এমন অনেক ভাবনায় ডুবে যাওয়ার সময় আসে। তেমন অধ্যায়ই যেন পার করছেন নেইমার। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই ক্যারিয়ার শুরু করে অনেক সাফল্যের স্বাক্ষী হয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। পাশাপাশি শৈশব থেকেই নিয়েছেন ত্যাগ ও তিতিক্ষার পাঠ। ফুটবল আর ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে নেইমার এবার ফিরে গেলেন ‘ছোট্ট নেইমারের’ কাছে।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর তিন মাসও বাকি নেই। ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের জায়গা এখনো অনিশ্চিত। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নে বিভোর নেইমার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে হাজির হলেন জীবনের গল্প নিয়ে। শোনালেন নিজের একান্ত ব্যাক্তিগত গল্প। শৈশব থেকে শুরু সান্তোসের ‘রাজপুত্রের’ আখ্যান, ‘তখন আমার বয়স ১৩–১৪। স্কুলের ভ্রমণে যাওয়া হয়নি, বন্ধুদের সঙ্গে সন্ধ্যায় সিনেমা দেখতে যাওয়া হয়নি—কারণ পরদিন সকালে অনুশীলন থাকত। আমি প্রায়ই বলতাম, ‘ধুর! আমার সব বন্ধুরা মজা করছে, আর আমি ঘরে বসে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছি।’
এরপর নেইমার যোগ করেন, ‘কিন্তু এর পেছনে একটা লক্ষ্য ছিল, একটা কারণ ছিল—আমি সেটা বুঝতাম। মাঝে মাঝে বিরক্ত লাগত, কিন্তু পরের দিনই আমি আনন্দে ভেসে যেতাম, কারণ আমি ফুটবল খেলতাম।’
বিশ্বজুড়ে খ্যাতি ও বিপুল অর্থসম্পদ অর্জন করলেও, কখনো কখনো নেইমার চান—এই সবকিছু থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে, ফুটবলের বাইরের এক সাধারণ জীবনও অনুভব করতে, ‘আমি প্রায় ২০ বছর থরে এই পরিস্থির মধ্যে আছি। ব্যাপারটা খুব কঠিন। ব্রাজিলে তো এটা একেবারেই ক্লান্তিকর ও নির্মম। মানুষ তোমাকে একেবারে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে, অথচ বোঝেই না তুমি একজন সাধারণ মানুষ।’
দিন শেষে নিজেকে সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে ভাবতেই স্বস্তি পান নেইমার, ‘ঠিক আছে, এটা ভীষণ কঠিন। আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ—কারণ আমি পরিশ্রম করে এখানে পৌঁছেছি। কিন্তু আমি তো একজন মানুষই।’
কয়েক বছরই চোটের সঙ্গে লড়াই নেইমারকে স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। সবকিছু মেনে নিয়েই একজন সাধারণ মানুষের মতো আবেগ নিয়েই বাঁচতে চান তিনি, ‘আমিও কষ্ট পাই, ব্যথা অনুভব করি, কখনো খারাপ মুডে ঘুম থেকে উঠি, কাঁদি, রেগে যাই, আবার খুশিও হই—এগুলো সবই স্বাভাবিক। আমি কেন স্বাভাবিক জীবনটা কাটাতে পারব না?
অনেকের কাছেই ব্রাজিল ফুটবলে একজন কিংবদন্তি হওয়ার মতো অনেক কিছুই করেছেন নেইমার। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা বলে কথা। সান্তোসের এই তারকার অর্জনও তো কম নয়। ব্রাজিল তথা বিশ্বেই তাঁর আছে বিশাল সমর্থকগোষ্ঠি। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও তো আছে। বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই ফুটবলারের সমালোচকও যে কম নয়।
সম্প্রতি সমালোচকদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে নেইমারকে। পান থেকে চুন খসলেই সমালোচকদের শূলে চড়ানো আচরণ পীড়া দেয় তাকে, ‘কোনো না কোনো কারণে কিছু মানুষ আমাকে পছন্দ করে না—এটা দেখলে আমার খারাপ লাগে। আমি যেন ভুল করতে পারি না—একেবারেই না। অথচ আমি আগেই অনেক ভুল করেছি। আমি মাথা নত করে সেগুলো স্বীকার করি, কারণ এগুলো জীবনেরই অংশ। এখন আমার বয়স ৩৪, অনেক ভুল করেছি, সামনে আরও করব।’
নেইমার ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। সাম্বাদের হয়ে ৭৯ গোল করা এই তারকা খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাঁ হাঁটুর এসিএল ও মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি আর জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি। সাম্প্রতিক সময়ে সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরলেও, তার পারফরম্যান্স এখনো জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তিকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা এখনো ঝুলেই আছে তাঁর।