
জয় দিয়ে ফেডারেশন কাপ শুরু করেছে গেল আসরের দুই ফাইনালিস্ট আবাহনী ও মোহামেডান। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ওয়াশিংটনের হ্যাটট্রিকে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ৬-০ গোলে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। গ্রুপ বি এর অন্য ম্যাচে গোপালগঞ্জে চট্টগ্রাম আবাহনীকে ২-১ গোলে হারিয়েছে মোহামেডান।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ব্রাদার্স ইউনিয়নকে শুরু থেকেই চেপে ধরে আবাহনী লিমিটেড। প্রথমার্ধে ২ গোল, শুরুটা করেন নাবিব নেওয়াজ জীবন ১৭ মিনিটে।
আরও পড়ুন: জিকোর ফেরার ম্যাচে ফেডারেশন কাপে জয়ে শুরু কিংসের
প্রথম গোলে করলেন সহায়তা, তখন থেকেই শুরু ব্রাজিলিয়ান ওয়াশিংটনের ম্যাজিক দেখানো। ৩১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের নামের পাশে। প্রথমার্ধে স্কোরশিটে গোল সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারতো। তবে, কর্নিলিয়াস গোল মিসও করেছেন একইসাথে তার ২ গোল বাতিল হয়েছে অফসাইডে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও চলে কর্নিলিয়াসের গোল মিসের মহড়া। এর মাঝেই নিজেরতো বটেই, এবারের মৌসুমে বাংলাদেশের ফুটবলেও প্রথম হ্যাটট্রিক পেয়ে যান ওয়াশিংটনের। ৭১ ও ৭৩ মিনিটে দুইবার গোল করে ওয়াশিংটন তখনই নিশ্চিত করেন দলের বড় জয়ও।

শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পান কর্নিলিয়াস স্টুয়ার্ট। ৮৩ আর ৮৬ মিনিটে ২ গোল করে যেন গোল মিসের পাপ মোচন করেন কর্নিলিয়াস। আবাহনীও পায় এই মৌসুমের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়।
ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জয়টা অবশ্য এত সহজ ছিলো না। চট্টগ্রাম আবাহনী ম্যাচের শুরুতে নেয় লিড। বাংলাদেশে গোলের খাতা খোলেন নাইজেরিয়ার আবু আজিজ। প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ে সমতায় ফেরা না হলেও, অতিরিক্ত সময়ের ৩য় মিনিটে মোহামেডানের স্বস্তি। মোজাফরাভের ফ্রি-কিক থেকেই প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলো সাদা-কালোরা। তবে, পোস্টে সেই শট আটকে গেলেও, পেনাল্টি এরিয়ায় থাকা জাফর ইকবাল সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি। উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডার মোজাফরাভ সেবার হতাশ হলেও, ৫৫ মিনিটে অপেক্ষা শেষ হয়। আর এই গোলেই মোহামেডানের ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত হয়।
দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সর্বশেষ খেলার আপডেট জানতে চোখ রাখুন টি স্পোর্টসে এছাড়া ফেসবুকে আমাদের ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন ও ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।
No posts available.
১০ মে ২০২৬, ৯:৩৫ এম

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে বাকি আর মাত্র এক মাস। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন কেবল দল বা ভেন্যুর দিকে নয়, বরং সবার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে উত্তর আমেরিকার বিরূপ আবহাওয়া।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিশ্বকাপে ফুটবলারদের বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াতে পারে তীব্র দাবদাহ, বজ্রবৃষ্টি—এমনকি দাবানল থেকে সৃষ্ট বাতাসের নিম্নমান। বিশেষ করে অত্যধিক আর্দ্রতা এই টুর্নামেন্টের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফিফা ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছে, প্রচণ্ড গরম একটি বড় সমস্যা হতে পারে। খেলোয়াড়দের কথা মাথায় রেখে প্রতি অর্ধে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের ‘কুলিং ব্রেক’ বা শরীর শীতল করার বিরতি রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে প্রচণ্ড গরম ও বজ্রপাতের কারণে ছয়টি ম্যাচ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। চেলসি ও বেনফিকার মধ্যকার একটি ম্যাচ প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে অংশ নিতে ফিফার কাছে ১০ শর্ত ইরানের |
|
আয়োজক শহরগুলোর অনেকগুলোই গ্রীষ্মকালীন উচ্চ তাপমাত্রায় অভ্যস্ত। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তর মেক্সিকোতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। তবে তাপপ্রবাহ চললে তা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।
তবে বিপত্তি বাড়ে যখন এই তাপমাত্রার সঙ্গে আর্দ্রতা যোগ হয়। আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীর সহজে ঘাম ঝরিয়ে নিজেকে শীতল করতে পারে না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৬টি আয়োজক শহরের মধ্যে ১৪টিতেই গ্রীষ্মের বিকেলে খেলোয়াড়দের শারীরিক ধকল সহ্য করার ক্ষমতা সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। মায়ামি, হিউস্টন, ডালাস, মন্টেরি, কানসাস সিটি এবং আটলান্টার মতো শহরগুলোতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সংমিশ্রণে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করতে পারে।
গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে চেলসির সাবেক কোচ এনজো মারেসকা বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত এই ধরনের প্রতিযোগিতার জন্য সঠিক জায়গা নয়।’
মাঠে খেলা চলাকালীন সবচেয়ে দৃশ্যমান বাধা হয়ে আসতে পারে বজ্রবৃষ্টি। মায়ামি, হিউস্টন ও আটলান্টার মতো শহরগুলোতে বিকেলে বা সন্ধ্যায় প্রায়ই বজ্রবৃষ্টি হয়। নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ১০ মাইলের মধ্যে বজ্রপাত শনাক্ত হলে খেলা অন্তত ৩০ মিনিটের জন্য বন্ধ রাখা হয়। সম্প্রতি মায়ামিতে একটি বড় রেসিং প্রতিযোগিতা বজ্রপাতের আশঙ্কায় তিন ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছিল। ফুটবলের ক্ষেত্রেও এমন আকস্মিক সূচি পরিবর্তন আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
২০২৬ সালের দাবানল মৌসুম যুক্তরাষ্ট্রে বেশ আগেভাগেই শুরু হয়ে গেছে। গত বছর কানাডার দাবানলের ধোঁয়া হাজার মাইল দূরে নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, যার ফলে বাতাসের মান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং অনেক খেলা বাতিল করতে হয়। ফিফার নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকলেও, স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ম্যাচ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন
| ব্রেন্টফোর্ডকে উড়িয়ে আর্সেনালের ওপর চাপ বাড়াল ম্যানচেস্টার সিটি |
|
চরম আবহাওয়ার প্রভাব কেবল খেলোয়াড়দের ওপরই নয়, সমর্থকদের ওপরও পড়বে। স্টেডিয়াম বা ফ্যান জোনে থাকা দর্শকরা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। বজ্রপাতের কারণে ম্যাচ দেরি হলে পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ম্যাচ শেষ হতে গভীর রাত হয়ে যেতে পারে, যা হোটেল বুকিং এবং সমর্থকদের যাতায়াতে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি করবে।
সব মিলিয়ে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গেও এক কঠিন যুদ্ধ লড়তে হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে।

একেই বলে টেস্ট। একটা ভাল সেশন কিংবা ঘন্টা বদলে দিতে পারে ম্যাচের চেহারা। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ ২১০ মিনিট নির্বিঘ্নে ব্যাট করে ১৭৯/১ স্কোরে লিডের স্বপ্ন দেখেছে পাকিস্তান। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে উইকেট থেকে অ্যাডভান্টেজ না পেয়েও হেসেছে বাংলাদেশ। এই সেশনে ৭২ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান ৪ উইকেট। প্রথম সেশনে তাসকিন (৭-১-২১-২)-মিরাজের (১১-২-২৪-২) একটি স্পেলে তারাই নেমেছে ব্যাকফুটে। মাত্র ২০ রানের মধ্যে সফরকারী দলের ৪ উইকেট ফেলে দিয়ে প্রথম ইনিংসে লিডের পথটা প্রশস্ত করেছে বাংলাদেশ। লাঞ্চ ব্রেকের সময়ে পাকিস্তানের স্কোর ২৫১/৩। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে আছে তাঁরা ১৬২ রানে।
দিনের প্রথম ঘন্টায় ৪৭ রান যোগ করে হারিয়েছে ২ উইকেট। পেস বোলার তাসকিনের ৪ ওভারের স্পেলে (৪-১-১২-২) আজান (১০৩), শান মাসুদ (৯)ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। দিনের প্রথম ড্রিংকসের পরের ঘন্টাটি ছিল অফ স্পিনার মিরাজের। মিডল অর্ডার সউদ শাকিল (০) এবং অভিষিক্ত ওপেনার আবদুল্লাহ ফজলকে (৬০) ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। উইকেট পড়তে পারতো আরও একটি। তাসকিনের বলে সালমান আগা উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন। তবে ওভার স্টেপিংয়ে 'নো' ডেলিভারিতে গণ্য হওয়ায় 'ডাক' এর অপবাদ থেকে বেঁচে গেছেন তিনি।
দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৫ রানে ব্যাটিংয়ে থেকে অভিষেকে সেঞ্চুরির আভাস দিয়েছিলেন। তৃতীয় দিনের ৫ম ওভারে নাহিদ রানার শর্ট বলে গালি অঞ্চল দিয়ে বাউন্ডারিতে পৌছে গেছেন তিন অঙ্কে। ১৯৬৪ সালে করাচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুুরির রেকর্ড করেছিলেন খালিদ ইবাদুল্লাহ। অভিষেকে ত্রয়োদশতম পাকিস্তানি সেঞ্চুরিয়ান আজান আইওয়াস।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে অংশ নিতে ফিফার কাছে ১০ শর্ত ইরানের |
|
বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে সেঞ্চুরির রেকর্ডে তৃতীয় পাকিস্তানি তিনি। ২০০১ সালে মুলতানে তৌফিক ওমর, ২০০৩ সালে করাচিতে ইয়াসির হামিদের পর চলমান টেস্টে আজান আইওয়াস (১০৩)।
প্রথম উইকেট জুটিতে ইমাম উল হক-এর সঙ্গে ১০৬ এবং দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আবদুল্লাহ ফজলকে নিয়ে ১০৪ রানের পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। উইকেটে পাহাড় হয়ে দাঁড়ানো আজানের ইনিংসের স্থায়ীত্ব ছিল ১৭১ মিনিট। ১৬৫ বল মোকাবেলায় মেরেছেন ১৪টি চার। সেঞ্চুরির পর ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে তার। তাসকিনের চতুর্থ এবং তৃতীয় দিনের প্রথম স্পেলের তৃতীয় ওভারে শর্ট অব লেন্থ বলে ফার্স্ট স্লিপে শান্ত'র হাতে দিয়েছেন ক্যাচ এই অভিষেক সেঞ্চুরিয়ান। কাঁধ সমান উঁচু থেকে ভালো ক্যাচ নিয়েছেন শান্ত।
দ্বিতীয় দিনে ২টি ক্যাচ ড্রপে আফসোস করেছে বাংলাদেশ দল। তবে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে দুটি দর্শনীয় ক্যাচে কুড়িয়েছে প্রশংসা। তাসকিনের বলে শান মাসুদকে পয়েন্টে লো ক্যাচটি দূর্দান্ত ডাইভে নিয়েছেন ক্যাচ সাদমান। দ্বিতীয় দিন থেকে এক এন্ডে টানা বল করে যাওয়া অফ স্পিনার মিরাজ প্রথম উইকেটের মুখ দেখেছেন ২৩ তম ওভারে। সুইপ করতে যেয়ে সউদ শাকিল হয়েছেন এলবিডাব্লুউ (৪ বলে ০)। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে মিডল এন্ড অফ স্ট্যাম্পের উপরে সম্ভাব্য আঘাতের দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন টিভি আম্পায়ার। ২ ওভার পর মিরাজের পরবর্তী শিকার আবদুল্লাহ ফজল। অভিষেকে হাফ সেঞ্চুরিয়ান আবদুল্লাহ ফজল ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে মিড অনে তাইজুলের হাতে দিয়েছেন ক্যাচ (১২০ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৬০)।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর একমাস বাকি। বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এখনো। বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝে ফিফা এবং আয়োজক দেশগুলোর কাছে একগুচ্ছ নিশ্চয়তা দাবি করেছে তারা। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, নিজেদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতিতে অটল থেকেই তারা বিশ্বমঞ্চে লড়তে চায়।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) প্রধান মেহেদি তাজ ফিফাকে ১০টি শর্ত সংবলিত একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। গত মাসে ফিফা কংগ্রেসে তাজকে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার পর এই দাবিগুলো সামনে এলো।
শনিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে বলা হয়েছে—দলের সঙ্গে ভ্রমণকারী সকল খেলোয়াড়, কোচ এবং কর্মকর্তাদের ভিসার গ্যারান্টি দিতে হবে। বিশেষ করে যারা ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-এ সামরিক সেবা দিয়েছেন, তাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে কোনো বাধা থাকা চলবে না।
আরও পড়ুন
| দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড মেসির |
|
এছাড়া ইরান তাদের জাতীয় দলের প্রতি সম্মানজনক আচরণ, ইরানি পতাকা ও জাতীয় সংগীতের মর্যাদা রক্ষা এবং বিমানবন্দর, হোটেল ও স্টেডিয়ামে বাড়তি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়েছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন খেলোয়াড়দের কেবল ফুটবল সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয়, রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়।
ইরানের এই দাবিগুলোর সবকটি পূরণ করা ফিফার জন্য সহজ হবে না। ফিফা টুর্নামেন্টের লজিস্টিকস, প্রটোকল এবং দলগুলোর দেখভালের তদারকি করতে পারলেও ভিসা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের মতো বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারে থাকে, ফিফার নীতিমালায় নয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, ইরানি ফুটবলারদের বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হবে। তবে আইআরজিসির সাথে কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা থাকা কাউকে তাদের মাটিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন
| গৃহযুদ্ধে কোণঠাসা মাদ্রিদ, ক্লাসিকোতে ইতিহাস ছোঁয়ার অপেক্ষায় বার্সেলোনা |
|
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে হামলা করে। বর্তমানে একটি চুক্তির অধীনে যুদ্ধ সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ 'জি'-তে রয়েছে ইরান। নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী তাদের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা রয়েছে।
১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।

লিওনেল মেসি যেখানে যান, রেকর্ড যেন সেখানে তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকে। শনিবার রাতে কানাডার টরন্টোতে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
টরন্টো এফসির বিপক্ষে মায়ামির ৪-২ ব্যবধানে জয়ের রাতে লিগের দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ গোল কন্ট্রিবিউশনের (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) রেকর্ড গড়েন মেসি।
এমএলএস-এর নিয়মিত মৌসুমে মাত্র ৬৪ ম্যাচে ১০০ গোল কন্ট্রিবিউশন পূর্ণ করেন মেসি। এর মাধ্যমে তিনি সেবাস্তিয়ান জিওভিনকোর করা রেকর্ডটি ভেঙে দিলেন।
টরন্টোর বিপক্ষে ম্যাচে একটি গোল এবং দুটি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে এই রেকর্ড গড়েছেন মেসি। জিওভিনকোর যেখানে ১০০ গোল কন্ট্রিবিউশনে লেগেছিল ৯৫ ম্যাচ, মেসি সেখানে ৩১ ম্যাচ আগেই সেই শিখরে পৌঁছালেন।
ম্যাচের ৪৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো ভলিতে ইন্টার মায়ামিকে লিড এনে দেন রদ্রিগো ডি পল। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর তৃতীয় গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৬ মিনিটে মেসির নিখুঁত পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লুইস সুয়ারেজ। এরপর ৭৩ মিনিটে মেসির দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে মায়ামির হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন সার্জিও রেগিলন।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে ডি পলের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান খেলে দলের চতুর্থ গোল করেন অধিনায়ক মেসি নিজে। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর নবম গোল। শেষ দিকে টরন্টো দুই গোল শোধ করে ব্যবধান কমালেও মায়ামির জয় নিশ্চিত ছিল।
এই জয়ের ফলে অ্যাওয়ে ম্যাচে চলতি মৌসুমে নিজেদের সেরা ফর্ম ধরে রাখল ইন্টার মায়ামি। এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের মাঠে ১৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে তারা। ১২ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে লিগে তিন নম্বরে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
আগামী বুধবার এফসি সিনসিনাটির বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে ইন্টার মায়ামি।

‘রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি সাদা, এটি ঘাম, কাদা এমনকি রক্তে রঞ্জিত হতে পারে—কিন্তু কখনো অপমানে কালিমালিপ্ত হতে পারে না।’ যুগের পর যুগ ধরে এই মন্ত্রটিই মাদ্রিদিস্তাদের শ্রেষ্ঠত্বের দম্ভ দিয়ে এসেছে। মাদ্রিদ মানেই হার না মানা মানসিকতা, যেখানে জার্সি ময়লা হওয়া মানে হলো মাঠের লড়াইয়ে সর্বোচ্চ নিবেদন। তারা গর্ব করে বলে, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, এই সাদা জার্সির মর্যাদা তারা ধুলোয় মিশতে দেবে না। কিন্তু এবারের এল ক্লাসিকোর আগে সেই গর্বের জায়গায় কি কোথাও ফাটল ধরল? যে ড্রেসিংরুমকে তারা নিজেদের দুর্গ মনে করে, সেখানে আজ অন্তকোন্দলের বিষবাষ্প। ‘গৃহযুদ্ধে’ লস ব্লাঙ্কোসরা রীতিমতো কোনঠাসা।
আজ বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ক্যাম্প ন্যূতে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে যেখানে লস ব্লাঙ্কোসরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপরীত মেরুতে হ্যান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা শিবিরে এখন শুধুই উৎসবের আমেজ। রিয়ালের এই ভঙ্গুর মানসিক অবস্থার সুযোগ নিয়ে ঘরের মাঠে কেবল জয় নয়, কাতালানরা লক্ষ্য স্থির করেছে লা লিগায় ইতিহাস গড়ার।
আজ একটি জয়—কিংবা স্রেফ ড্র-ও বার্সার টানা দ্বিতীয় লা লিগা শিরোপা নিশ্চিত করে দেবে; যা হবে ঘরোয়া ফুটবলে তাদের একাধিপত্যের এক দারুণ সমাপ্তি। এক জায়গায় এই ম্যাচ আগের সব ক্লাসিকোকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ঘরের মাঠে বার্সা যদি হার এড়াতে পারে, তবে প্রায় ১০০ বছর পর—সেই ১৯৩২ সালের পর—এই প্রথম কোনো ক্লাসিকো গাণিতিকভাবে লিগ শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে।
আরও পড়ুন
| মোহামেডান, ব্রাদার্সের সহজ জয় |
|
পিছনে তাকালে দেখা যায়, ১৯৩১-৩২ মৌসুমের শেষ দিনে বার্সেলোনার মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে লিগ জয় নিশ্চিত করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ড্রয়ের ফলেই অ্যাথলেটিক ক্লাবকে পেছনে ফেলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম লিগ শিরোপা জিতেছিল লস ব্লাঙ্কোসরা। ৩৬টি লিগ শিরোপার মালিক রিয়ালের সেই জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঠ থেকেই। আজ বার্সার সামনে সুযোগ ঘরের মাঠে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানো, তবে এবার মঞ্চটা তাদের নিজেদের উদযাপনের।
মৌসুমের প্রথম ক্লাসিকোতে চিত্রটা অবশ্য একদম ভিন্ন ছিল। গত অক্টোবরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল রিয়াল। তখন শিরোপার লড়াই ছিল উন্মুক্ত, রিয়ালের ডাগআউটে ছিলেন জাবি আলোনসো এবং আজকের মতো গৃহবিবাদের আঁচ তখনো লাগেনি।
তবে এবারের লড়াইয়ের সমীকরণ একদম পরিষ্কার। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে নিজেদের মাঠে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সুযোগ বার্সেলোনার সামনে, আর রিয়াল মাদ্রিদ লড়ছে কেবল অনিবার্য সেই পরাজয়কে কিছুটা বিলম্বিত করতে।
এল ক্লাসিকোর আগে রিয়াল মাদ্রিদের সংবাদ সম্মেলনের পুরোটা জুড়েই ছিল দলের ড্রেসিংরুমের অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা। ফেদেরিকো ভালভার্দে ও অঁরেলিয়ে চুয়ামেনির হাতাহাতি, একজনের হাসপাতালে ভর্তি আর দুজনের লাখ ইউরো জরিমানা—গত কদিন অবিশ্বাস্য সব ঘটনার সাক্ষী হয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটি। একে তো টানা দুই মৌসুম ট্রফিশূন্য থাকার হতাশা এরমধ্যে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে রেষারেষিতে আরবেলোয়ার দল পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ড্রেসিংরুমের অনাকাঙ্ক্ষিত এই সংঘাতকে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষণীয় এক পাঠ হিসেবে উল্লেখ করে আরবেলোয়া সকলকে মাঠের ফুটবলে ফেরার তাগিদ দেন, ‘এটি মোটেও কোনো সুখকর পরিস্থিতি নয়। এটি সবার জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে থাকা উচিত এবং ব্যস, এটুকুই। আমাদের এখন এই অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনে তাকাতে হবে, এটি থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং ভুলে গেলে চলবে না যে আগামীকাল বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচ রয়েছে।’
আরও পড়ুন
| জনসমক্ষে শিষ্যদের ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাতে চান না রিয়াল কোচ |
|
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের এমন দুর্বিষহ দিনে বেশ আনন্দেই থাকার কথা বার্সেলোনার। সংবাদ সম্মেলনে একের পর এক প্রশ্ন হলো রিয়ালের অস্থির ড্রেসিংরুম নিয়ে। তবে সব প্রশ্নেই বিতর্ক এড়িয়ে সাদামাটা উত্তরই দিলেন বার্সা কোচ ফ্লিক। বার্সার নিজের প্রথম মৌসুমে ঘরোয়া ‘ট্রেবল’ জয়ের পর দ্বিতীয় মৌসুমে দুটি শিরোপা জয়ের পথে জার্মান এই কোচ নিজেদের খেলাতেই মনোযোগ দিতে চান।
ফ্লিক বলেন, ‘আমাদের মূল কাজ হলো খেলা এবং মাঠের পরিকল্পনায় স্থির থাকা। আমরা দারুণ একটা মৌসুম কাটাচ্ছি এবং কালও সেটার প্রতিফলন দেখতে চাই। আমি চাই দল হিসেবে খেলতে, অন্য কিছু নিয়ে ভাবার সময় আমার নেই।’