৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৪:২৩ পিএম

টানা পাঁচ হারের পর আগের ম্যাচে জয় পেয়ে সিলেট স্ট্রাইকার্স ছিল আত্নবিশ্বাসী। বল হাতেও তাদের শুরুটাও মন্দ হয়নি। তবে প্রথমে বাবর আজম ও পরে নুরুল হাসানের পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই দুটি স্কোর রংপুর রাইডার্সকে এনে দিল শক্তিশালী সংগ্রহ। ইনিংসের প্রথম ভাগেই ছয় ব্যাটার হারিয়ে অনেক আগেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়া সিলেট শিকার হল ব্যাটিং ধসের। সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের উড়িয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল রংপুর।
বিপিএল টি২০ ২০২৪-এর ২০তম ম্যাচে একতরফা লড়াইয়ে সোহানের দল পেয়েছে ৭৭ রানের বড় জয়। ছয় ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে উঠে এসেছে রংপুর। আর সপ্তম ম্যাচে সিলেটের ষষ্ঠ হার।
টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা রংপুর ২০ ওভারে ৭ উইকেটে করে ১৬২ রান। জবাবে ১৬.৫ ওভারে মাত্র ৮৫ রানে অলআউট হয় সিলেট।
আরও পড়ুন: কঠিন সময়ে পাশে থাকা রংপুরের জার্সিতে খেলে ‘গর্বিত’ সাকিব
বল হাতে রংপুরের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মত। এই বিপিএলে প্রথম স্পেলে উইকেট নেওয়াকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলা আজমতউল্লাহ ওমারজাই এদিনও আঘাত হানেন প্রথম ওভারেই। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল টেনে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন হ্যারি টেক্টর। কম যাননি মাহেদি হাসানও।

নিজের প্রথম বলেই শিকার ধরেন এই অফ স্পিনারও। একটু গতি কমিয়ে দিয়েছিলেন মাহেদি, এগিয়ে এসে তালগোল পাকিয়ে আকাশে বল তুলে দেন নাজমুল হাসান শান্ত। দৌড়ে এসে কৃতিম আলোর নিচে দারুণ ক্যাচ নেন হাসান মাহমুদ। হতাশাজনক বিপিএলে আরও একবার এক ডিজিটেই শেষ হয় শান্ত’র ইনিংস। ৭ ইনিংসে বাঁহাতি ব্যাটার এবার করেছেন মোটে ৭৩ রান।
পাওয়ার প্লেতে আঁটসাঁট বোলিং করা মাহেদি এক ওভার বাদে ফের আঘাত হানেন। যদিও এই উইকেটে কৃতিত্বটা সোহানেরই বেশি। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে মিস করেন জাকির হাসান। ফলোআপের সময় ক্ষনিকের জন্য পেছনের পাঁ উঠে গিয়েছিল এই বাঁহাতি ব্যাটারের। সুযোগটা লুফে নিয়ে বেলস ফেলে দেন রংপুর অধিনায়ক।
রংপুর বোলারদের প্রথম ওভারে উইকেট নেওয়ার ধারায় যোগ দেন সাকিব আল হাসানও। মেডেন নেওয়ার পাশাপাশি ফেরান সিলেট অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনকে। ৬ ওভার শেষে ২৩ রানে ৪ উইকেট হারানো দলটি বাকি ইনিংসে আর পথ খুঁজে পায়নি।
আরও পড়ুন: বাবর-সোহান নৈপুণ্যে রংপুরের শক্তিশালী সংগ্রহ
সামিতকে সাকিব দ্বিতীয় শিকার বানানোর পর ব্যাটারদের ব্যর্থতার মিছিলে যোগ দেন শামসুর রহমানও। ৩০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে সিলেটের ম্যাচ জেতার নুন্যতম সম্ভাবনাও শেষই হয়ে যায়। এরপর বাকিটা ছিল শুধুই আনুষ্ঠানিকতা।
রায়ান বার্লের ৪৩ দলটির সর্বোচ্চ স্কোর। ১৩ রানে ৪ উইকেট নেন মাহেদি। আর ৪ ওভারে সাকিব ২ উইকেট নেন ১৮ রানের বিনিময়ে।
বল হাতে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখানো রংপুরের ব্যাট হাতে লড়াকু স্কোর গড়ার পথচলা অবশ্য সহজ ছিল না। বাবর আজম যথারীতি শুরুটা ভালো এনে দিলেও আরও একবার ব্যর্থ হয়ে ব্র্যান্ডন কিং আউট হন ১ রানে।
আরও পড়ুন: সাকিবের সাথে ক্রিকেট নিয়েই ‘কম কথা’ সালাউদ্দিনের
তিনে নামা ফজলে রাব্বী পারেননি বাবরকে যথার্থ সঙ্গ দিতে। ক্রিজে যতক্ষণ ছিলেন, খুব একটা স্বচ্ছন্দে দেখা যায়নি তাকে। টেক্টরের বলে আউট হওয়ার আগে ২১ বলে করেন ১৪। আগের কয়েকটি ম্যাচে ব্যাটিং না করা সাকিব এদিন চারে নামলেও দ্রুতই ফিরতে হয় সাজঘরে। টেক্টরের বল প্রথম বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
আসরে দুই ফিফটি করা বাবর ছিলেন দলের আশা হয়ে। তবে সামিত প্যাটেলের দারুণ এক ডেলিভারিতে শেষ হয় এই তারকা ব্যাটারের ইনিংস। ৩৭ বলে ৪৭ রান করার পথে বাবর চার মারেন ৭টি।
১৪ বলে দুই ছক্কা ও এক চারে ২২ রান করেন ওমারজাই। অন্যপ্রান্তে সতীর্থ বদল হওয়ার মধ্যে সোহান খেলেন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস। ৫টি চার ও ১ ছক্কায় সাজানো তার ৪৬ রানই মূলত রংপুরকে ১৫০ ছাড়াতে সাহায্য করে, যা শেষ পর্যন্ত বড় জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
No posts available.
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৩৭ পিএম
২২ এপ্রিল ২০২৬, ২:৫৯ পিএম

মিরপুরে প্রথম দুই ওয়ানডেতে দেখা গেছে ভিন্ন দুই আচরণের উইকেট। তাই চট্টগ্রামে তৃতীয় ম্যাচ শুরুর আগেও আলোচনার বড় অংশ জুড়ে পিচ। কেমন হবে সাগরিকার উইকেট, সেটি নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। সে বিষয়ে ধারণা দিয়েছেন শন টেইট ও উইল ও'রোক।
প্রথম দুই ম্যাচে একটি করে জিতে সমতা নিয়ে চট্টগ্রামে গেছে বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ড। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে নামবে দুই দল।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে উইকেট নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে কিছুটা রহস্যই রেখে দেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ টেইট।
“উইকেটটা দেখতে ভালোই লাগছে, তবে আসলে কেমন আচরণ করবে সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। সাধারণত চট্টগ্রামের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ সহায়ক হয়। যদিও মাঝে মাঝে বল নিচু হয়ে আসতে পারে।”
“তবে আমি খুব বেশি আগে থেকে উইকেট নিয়ে বিশ্লেষণ করতে চাই না। আমরা ভালো এক জয়ের পর এখানে এসেছি। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সামনে যা আছে, সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই আসল। আমি উইকেট বিশেষজ্ঞ নই, এটা স্বীকার করতেই হবে।”
এমনিতে চট্টগ্রামে বরাবরই মেলে রানের দেখা। ব্যাটারদের জন্য স্বর্গ হিসেবেই পরিচিত সাগরিকার এই মাঠ। টেইট বললেন, ভালোভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে শেষ ম্যাচের উইকেট।
“এখানে স্কয়ারটা বেশ ভালো দেখাচ্ছে। আজ কিউরেটরের সঙ্গে কথা হচ্ছিল- তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে এখানে খুব বেশি খেলা হয়নি। তাই উইকেট ভালোভাবে প্রস্তুত করার সময় ও সুযোগ পেয়েছেন তারা।”
এসময় বাংলাদেশের মাঠের উইকেটের আচরণ নিয়ে রহস্য থাকার বিষয়টি উপভোগ করার কথাও বলেন টেইট।
“আগেও বলছিলাম, চট্টগ্রামে সাধারণত ভালো ব্যাটিং উইকেটই পাওয়া যায়, যদিও কখনো কখনো বল নিচু হয়। কিন্তু গত এক বছরে এখানে যত উইকেট দেখেছি, তার মধ্যে এটাকে সবচেয়ে ভালো মনে হচ্ছে। কাল ম্যাচে আসল চিত্রটা বোঝা যাবে।”
“বাংলাদেশে একটা জিনিস আমি লক্ষ্য করেছি, এখানকার উইকেট বোঝা সত্যিই কঠিন, বিশেষ করে মিরপুরে। যেমন প্রথম ম্যাচ আর দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট একেবারেই আলাদা ছিল। হয়তো এটাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের সৌন্দর্য।”
টেইটের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন নিউ জিল্যান্ডের পেসার উইল ও'রোক। উইকেট ও আউটফিল্ড দেখে তার ধারণা, ঘাস থাকায় সব মিলিয়ে ভালো হবে উইকেট।
“আউটফিল্ড একটু শুষ্ক মনে হচ্ছে, হয়তো দ্রুতগতির হবে। বল ফিল্ডার পেরিয়ে গেলে দ্রুত বাউন্ডারিতে পৌঁছে যেতে পারে। উইকেট কিছুটা ঘাস দেখা যাচ্ছে, তাই আশা করছি একটু পেস আর বাউন্স থাকবে। কালই আসলে বোঝা যাবে। আমরা আমাদের ফিল্ডিং নিয়ে গর্ব করি। আগামীকাল সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার চেষ্টা করব।”

ব্যাট হাতে লড়াই করলেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। তবু বাকিদের ব্যর্থতায় মিলল না বড় পুঁজি। অল্প রান নিয়েও বল হাতে চেষ্টা করলেন নাহিদা আক্তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পক্ষে এলো না ফল। অনায়াস জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল শ্রীলঙ্কা।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল। আগে ব্যাট করে ১৬৫ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। জবাবে ৭০ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জেতে লঙ্কানরা।
এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে শ্রীলঙ্কা। একই মাঠে আগামী শনিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে লড়বে দুই দল।
ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল বেশ বাজে। মাত্র ৪ রানের মধ্যে ফিরে যান জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা (২) ও আগের ম্যাচের নায়ক শারমিন আক্তার সুপ্তা (২)।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ৪৫ রানের জুটি গড়েন শারমিন সুলতানা ও জ্যোতি। আশা জাগিয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি শারমিন (২৬)। আগের ম্যাচে ভালো ব্যাটিং করা সোবহানা মোস্তারিও (৫) এদিন টিকতে পারেননি।
পরে আর কাউকে সঙ্গী হিসেবে পাননি জ্যোতি। একপ্রান্ত আগলে রেখে রয়েসয়ে ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ৪ চারে ১০১ বলে ৫৮ রান করে আউট হন অভিজ্ঞ এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
এছাড়া নাহিদা (২০), স্বর্ণা আক্তার (১৭) ও রাবেয়া খানরা (১৫) ছোট ছোট অবদান রাখেন।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ৩৬ রানে ৩ উইকেট নেন অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু। এছাড়া ২টি করে উইকেট নেন মালকি মাদারা, ইনোকি রানাভিরা ও নিমাশা মিপাগে।
রান তাড়ায় পঞ্চাশের আগে দুই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের পথে রাখেন আতাপাত্তু। ৮ চারে ৩৯ বলে ৪০ রানের ইনিংস আসে তার ব্যাট থেকে। ৭৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় লঙ্কানরা।
এরপর চতুর্থ উইকেটে ৭৭ রানের জুটিতে সফরকারীদের এগিয়ে দেন হার্শিতা সামারাবিক্রমা ও হানসিমা করুনারত্নে। তারা জয় থেকে মাত্র ১০ রান দূরে থাকতে নাটকীয়তার জন্ম দেন নাহিদা। দুই ওভারে তিনি নিয়ে নেন ৩ উইকেট।
তবে জয় পেতে সমস্যা হয়নি শ্রীলঙ্কার। হার্শিতা ৫০ ও হানসিমা করেন ৪০ রান।
বাংলাদেশের পক্ষে ২১ রানে ৪ উইকেট নেন নাহিদা।

পায়ে হালকা অস্বস্তির কারণে মিরপুরে প্রথম দুই ওয়ানডেতে খেলতে পারেননি মোস্তাফিজুর রহমান। এরই মধ্যে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে সামনের টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেও। এখন বড় প্রশ্ন, সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে কি ফিরবেন অভিজ্ঞ এই পেসার?
এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দিতে পারেননি বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইট। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজের একাদশে ফেরার বিষয়টি টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে খেলা কথা ছিল মোস্তাফিজের। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগে ওয়ার্ম আপ করার সময় হঠাৎ পায়ে অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। তাই টসের ঠিক আগে মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে শরিফুল ইসলামকে একাদশে ফেরায় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন
| ১১ বছর আগের সুখস্মৃতি ফেরানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের |
|
ধারণা করা হচ্ছিল, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হয়তো ফিরবেন অভিজ্ঞ কাটার মাস্টার। কিন্তু তা হয়নি। একই পেস বিভাগ নিয়ে ওই ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। এখন সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে চট্টগ্রামে চলে গেছে বাংলাদেশ। সেখানে বৃহস্পতিবার হবে শেষ ম্যাচ।
ম্যাচের আগের দিন দলের সঙ্গে অনুশীলনে বেশ কয়েক ওভার বোলিং করেছেন মোস্তাফিজ। তবে তিনি আদৌ একাদশে ফিরবেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে, পুরোপুরি নিশ্চয়তা দেননি টেইট।
“আমার মনে হয়, মোস্তাফিজ শেষ ম্যাচের একাদশে জায়গা পাওয়ার বিবেচনায় আছে। তবে আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত নই। আজকে সে সম্ভবত ৩-৪ ওভার বোলিং করেছে। আমি আসলে জানি না নির্বাচকরা একাদশ বাছাইয়ে কী করবেন। তবে আজকে বোলিংয়ে সে ভালো ছিল।”
ভিন্ন আরেক প্রশ্নেও নির্বাচকদের কথাই বলেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ।
“আজকে সে বোলিং করেছে এবং আমি যতটা জানি বোলিংয়ের পরও তার অবস্থা বেশ ভালো ছিল। তো এখন আসলে নির্বাচকরা কী সিদ্ধান্ত নেবে সেটি তাদের ওপর। আমি আসলে জানি না।”
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শুরু হবে শেষ ওয়ানডে।

শুরুতে গতিময় বোলিংয়ে বাউন্স আর সুইংয়ে ওপরের সারির ব্যাটারদের ফেরানো আর শেষে নিখুঁত সব ইয়র্কারে লেজের সারির ব্যাটারদের বিদায়ঘণ্টা বাজানো- নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এমন বোলিং করে নাহিদ রানাকে দেখে ওয়াকার ইউনিসের কথা মনে পড়ে গেছে শন টেইটের।
নতুন বলে গতির সঙ্গে সুইং আর শেষ দিকে পুরোনো বলে রিভার্স সুইংয়ের সঙ্গে ইয়র্কারের মিশেলের জন্য বিশেষ খ্যাতি ছিল পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিসের। প্রতিপক্ষের লেজের সারির ব্যাটারদের গুটিয়ে দিতে তার ইয়র্কারের জুরি মেলা ছিল ভার।
ওয়াকার ইউনিস খেলা ছেড়েছেন প্রায় ২৩ বছর আগে। আর এই দীর্ঘ দিন পর এসে পাকিস্তানি পেসারের স্মৃতি ফিরিয়েছেন নাহিদ। গত সোমবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে গতিময় বোলিংয়ের প্রদর্শনীর সঙ্গে শেষ দিকে দারুণ কিছু ইয়র্কারও করেছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার।
আরও পড়ুন
| নাহিদের উন্নতি ৩২ ধাপ, এগোলেন তামিম-রিশাদরাও |
|
চট্টগ্রামে তৃতীয় ওয়ানডের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে নাহিদের সেই ইয়র্কারের প্রশংসা করতে গিয়ে ওয়াকারের কথা বলেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইট।
“এই সিরিজে এখন পর্যন্ত আমি যেটা খুব উপভোগ করেছি, গত ম্যাচে নাহিদের ইয়র্কার। যা অনেকটা ওয়াকার ইউনিসের দিনগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছিল। ফাস্ট বোলাররা শুরুতে উইকেট নেবে আর শেষে ইয়র্কার দিয়ে টেইলএন্ডারদের আউট করবে- আমি এটি খুব পছন্দ করি।”
এমনিতে গতির ঝড় তুলে টেইটের খেলোয়াড়ি জীবনের কথাও মনে করাচ্ছেন নাহিদ। ঘণ্টায় ১০০ মাইল বেগে বোলিংয়ের বিরল কীর্তি আছে অস্ট্রেলিয়ান সাবেক এই পেসারের। এছাড়া নিয়মিতই ১৪৫-১৫০ কিমি. প্রতি ঘণ্টা বেগে বোলিং করতেন তিনি।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একই কাজ করেছেন নাহিদ। ১০ ওভারের মধ্যে ১৯টি বল ১৪৫ কিমি. প্রতি ঘণ্টা বেগে করেছেন ২৩ বছর বয়সী পেসার। আর সব মিলিয়ে তার ৫৯টি বৈধ ডেলিভারির গতি ছিল ১৪০ কিমি. প্রতি ঘণ্টার বেশি।
নাহিদের এমন বোলিং দেখে স্বাভাবিকভাবে যারপরনাই খুশি ও গর্বিত পেস বোলিং কোচ। নাহিদকে দেখে নিজের বোলিং মনে পড়ে যায় কিনা জিজ্ঞেস করা হলে কিছু বৈসাদৃশ্য তুলে ধরেন টেইট।
আরও পড়ুন
| ১১ বছর আগের সুখস্মৃতি ফেরানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের |
|
“আমাদের মধ্যে বেশ মিল আছে। তবে কিছু অমিলও রয়েছে। সে খুব ফিট। আমি যা ছিলাম, সে তুলনায় সে অনেক বেশি। আমার ওজন বেশি থাকায় জোরে বোলিং করা কঠিন ছিল। কিন্তু তার জন্য এটি সহজ কারণ সে দারুণ অ্যাথলেট। অনেক শক্তপোক্ত ও পাতলা। ফাস্ট বোলারের জন্য দারুণ শরীর তার।”
“এসব কারণেই মূলত এই কন্ডিশনেও তার ওপর আমার বিশ্বাস রয়েছে। এই গরমে টানা ম্যাচ খেলার প্রয়োজন পড়লেও, তার সেই সামর্থ্য আছে। আমি তার তুলনায় কিছুটা ভিন্ন ছিলাম। তার চেয়ে বেশি চোটপ্রবণও ছিলাম আমি।”

গতিময় বোলিংয়ে নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটারদের কাঁপিয়ে আইসিসির কাছ থেকেও সুখবর পেলেন নাহিদ রানা। বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার। একইসঙ্গে উন্নতির খবর পেলেন তানজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়, রিশাদ হোসেনরাও।
যথারীতি বুধবার দুপুরে পুরুষ ক্রিকেটের র্যাঙ্কিংয়ের হালনাগাদ প্রকাশ করেছে আইসিসি।
মিরপুরে গত সোমবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাত্র ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে ৩২ ধাপ এগিয়েছেন নাহিদ। বর্তমানে ক্যারিয়ার সেরা ৪৪৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৬৪ নম্বরে অবস্থান করছেন ২৩ বছর বয়সী পেসার।
আরও পড়ুন
| ম্যাচ জিতে শাস্তির খবর পেল বাংলাদেশ |
|
এছাড়া ১০ ধাপ এগিয়ে ৫৮ নম্বরে আছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। প্রায় ১৬ মাস পর ওয়ানডে খেলে আবার র্যাঙ্কিংয়ে ফিরেছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। তার বর্তমান অবস্থান ৩৯তম।
চোটের কারণে প্রথম দুই ম্যাচ না খেলায় ধাক্কা লেগেছে মোস্তাফিজুর রহমানের র্যাঙ্কিংয়ে। বাঁহাতি এই পেসার ৭ ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছেন ৫৫ নম্বরে। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ এখন ২ ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছেন ৮ নম্বরে।
নাহিদের ৫ উইকেটের ম্যাচে ৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে ১৪ ধাপ এগিয়েছেন তামিম। ক্যারিয়ার সেরা ৫৩৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৪০ নম্বরে আছেন বাঁহাতি এই ওপেনার।
এছাড়া ৫ ধাপ এগিয়ে ২৬ নম্বরে আছেন তাওহিদ হৃদয়। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে তিনিই সবার ওপরে। আর ১ ধাপ এগিয়ে এখন ৪৩ নম্বরে নাজমুল হোসেন শান্ত।