
বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুতিটা সেরে নেয়ার শেষ ম্যাচ। মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে বড় জয় পাওয়া বাংলাদেশ চাইবে এই ম্যাচেও ভালো কিছুই করতে।
যদিও এই প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলা হচ্ছেনা অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের। পায়ের চোটের কারণে আজও বিশ্রম দেয়া হয়েছে তাঁকে। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাঁকে মাঠে পাওয়া যাবে বলেই জানিয়েছে টিম ম্যানেজম্যান্ট।
গতকাল অনুশীলনের সময় খানিকটা ব্যাথা পেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। তবে সেটা খুব একটা গুরুতর না। ইনজুরি কাটিয়ে এই ম্যাচে খেলছেন রিয়াদও।
বাংলাদেশের আজকের ম্যাচের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। গৌহাটিতে বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটায় শুরু হবে ম্যাচটি। টি-স্পোর্টসে সরাসরি দেখা যাবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ডের এই প্রস্তুতি ম্যাচ।
এই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ দল চলে যাবে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের ভেন্যু ধর্মশালায়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭ অক্টোবর ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট শুরু হবে।
No posts available.
১০ মে ২০২৬, ৪:১৭ পিএম

প্রথম দুই রাউন্ডের ব্যর্থতা দারুণভাবেই পুষিয়ে দিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে একের পর এক ছক্কা মেরে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি উপহার দিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ওপেনার। তার ঝড়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে টানা তৃতীয় জয়ের পথে ঐতিহ্যবাহী দলটি।
ইউ ল্যাব ক্রিকেট মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৫ চারের সঙ্গে ১২টি ছক্কা মেরে ১৩৬ বলে ১৪৫ রানের ইনিংস খেলেন ২৬ বছর বয়সী ওপেনার। এই ইনিংসের সৌজন্যে ৬ উইকেটে ৩৪৫ রানের বড় পুঁজি পেয়েছে মোহামেডান।
তবে এদিনই আসেনি ম্যাচের ফল। কারণ বৃষ্টিতে খেলার অনুপযোগী হয়ে যায় মাঠ। তাই দ্বিতীয় ইনিংসে রূপগঞ্জ টাইগার্স ১৬.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ৫৩ রান করার পর বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এখান থেকেই সোমবার আবার শুরু হবে খেলা।
ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কিছুটা সময় নেন নাঈম। দ্বিতীয় উইকেটে পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৫৬ বলে ৪৬ রান করে আউট হন ইমন। রয়েসয়ে খেলে ৮৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন নাঈম।
এরপর শুরু করেন তাণ্ডব। সেখান থেকে সেঞ্চুরি ছুঁতে তার লাগে আর মাত্র ৩৭ বল। পরে আরও ১৬ বল থেকে নেন ৪৫ রান। পঞ্চম উইকেটে ইয়াসির আলি রাব্বির সঙ্গে মিলে মাত্র ৭৪ বলে ১২৪ রানের জুটি গড়েন নাঈম।
সব মিলিয়ে লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি করে ৫ চার ও ১২ ছক্কায় ১৪৫ রান করে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার।
লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এক ইনিংসে এর চেয়ে বেশি ছক্কা মারতে পেরেছেন শুধু সৌম্য সরকার। ২০১৮-১৯ মৌসুমের লিগে আবাহনী লিমিটেডের হয়ে ২০৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পথে ১৬টি ছক্কা মেরেছিলেন সৌম্য।
এছাড়া ২০২৩-২৪ মৌসুমের লিগে ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে একই দিনে ইনিংসে ১২টি করে ছক্কা মেরেছিলেন জাকির হাসান ও মাহফুজুর রহমান রাব্বি। এবার তাদের সঙ্গী হলেন নাঈম।
নাঈমের তাণ্ডবের সঙ্গে ইয়াসির রাব্বির ব্যাট থেকে আসে ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৪৪ বলে অপরাজিত ৬৯ রান। যার সৌজন্যে সাড়ে তিনশর কাছে যায় মোহামেডান।
পরে রান তাড়া করতে নেমে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর তোপে পড়ে রূপগঞ্জ টাইগার্স। ৫ ওভারের স্পেলে ২৪ রানে ৪ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার। এছাড়া অন্য উইকেট নেন মুশফিক হাসান।

মিরপুরের উইকেট যে চেহরারই হোক না কেনো, বাংলাদেশের স্পিনাররা গর্জে উঠবে এই পিচে। এটাই মিরপুরের পিচের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টে সবুজাভ পিচ প্রস্তুত করেও বাংলাদেশ পেসারদের গর্জন দেখতে পারেনি বিসিবি। অফ স্পিনার মিরাজের ছোবলে (৩৮-৫-১০২-৫) পাকিস্তানকে ৩৮৬-তে থামিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ ২১০ মিনিট নির্বিঘ্নে ব্যাট করে ১৭৯/১ স্কোরে লিডের স্বপ্ন দেখেছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় উইকেট জুটির ১১৯ রানও পাকিস্তানকে দেখিয়েছে লিডের স্বপ্ন। তবে দিনের প্রথম সেশনে উইকেট থেকে অ্যাডভান্টেজ না পেয়েও হেসেছে বাংলাদেশ। এই সেশনে ৭২ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান ৪ উইকেট। প্রথম সেশনে তাসকিন (৭-১-২১-২)-মিরাজের (১১-২-২৪-২) একটি স্পেলে তারাই নেমেছে ব্যাকফুটে। মাত্র ২০ রানের মধ্যে সফরকারী দলের ৪ উইকেট ফেলে দিয়ে প্রথম ইনিংসে লিডের পথটা প্রশস্ত করেছে বাংলাদেশ। বৃষ্টির পর ৫৩ মিনিটে পাকিস্তান ইনিংসে এক দমকা হাওয়া বইয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। এই পর্বে মাত্র ৩৭ রান যোগ করে হারিয়েছে পাকিস্তান শেষ ৪ উইকেট।
বেলা ২টা ১৫ মিনিটে মুষলধারে বৃষ্টি বাংলাদেশের জন্য আশির্বাদ হয়েছে। ২ ঘন্টা খেলাহীন কাটিয়ে মাঠে ফেরা বাংলাদেশ
দিনের প্রথম ঘন্টায় ৪৭ রান যোগ করে হারিয়েছে ২ উইকেট। পেস বোলার তাসকিনের ৪ ওভারের স্পেলে (৪-১-১২-২) আজান (১০৩), শান মাসুদ (৯)ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। দিনের প্রথম ড্রিংকসের পরের ঘন্টাটি ছিল অফ স্পিনার মিরাজের। মিডল অর্ডার সউদ শাকিল (০) এবং অভিষিক্ত ওপেনার আবদুল্লাহ ফজলকে (৬০) ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। উইকেট পড়তে পারতো আরও একটি। তাসকিনের বলে সালমান আগা উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন। তবে ওভার স্টেপিংয়ে 'নো' ডেলিভারিতে গণ্য হওয়ায় 'ডাক' এর অপবাদ থেকে বেঁচে গেছেন তিনি।
দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৫ রানে ব্যাটিংয়ে থেকে অভিষেকে সেঞ্চুরির আভাস দিয়েছিলেন। তৃতীয় দিনের ৫ম ওভারে নাহিদ রানার শর্ট বলে গালি অঞ্চল দিয়ে বাউন্ডারিতে পৌছে গেছেন তিন অঙ্কে। ১৯৬৪ সালে করাচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুুরির রেকর্ড করেছিলেন খালিদ ইবাদুল্লাহ। অভিষেকে ত্রয়োদশতম পাকিস্তানি সেঞ্চুরিয়ান আজান আইওয়াস।
বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে সেঞ্চুরির রেকর্ডে তৃতীয় পাকিস্তানি তিনি। ২০০১ সালে মুলতানে তৌফিক ওমর, ২০০৩ সালে করাচিতে ইয়াসির হামিদের পর চলমান টেস্টে আজান আইওয়াস (১০৩)।
প্রথম উইকেট জুটিতে ইমাম উল হক-এর সঙ্গে ১০৬ এবং দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আবদুল্লাহ ফজলকে নিয়ে ১০৪ রানের পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। উইকেটে পাহাড় হয়ে দাঁড়ানো আজানের ইনিংসের স্থায়ীত্ব ছিল ১৭১ মিনিট। ১৬৫ বল মোকাবেলায় মেরেছেন ১৪টি চার। সেঞ্চুরির পর ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে তার। তাসকিনের চতুর্থ এবং তৃতীয় দিনের প্রথম স্পেলের তৃতীয় ওভারে শর্ট অব লেন্থ বলে ফার্স্ট স্লিপে শান্ত'র হাতে দিয়েছেন ক্যাচ এই অভিষেক সেঞ্চুরিয়ান। কাঁধ সমান উঁচু থেকে ভালো ক্যাচ নিয়েছেন শান্ত।
দ্বিতীয় দিনে ২টি ক্যাচ ড্রপে আফসোস করেছে বাংলাদেশ দল। তবে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে দুটি দর্শনীয় ক্যাচে কুড়িয়েছে প্রশংসা। তাসকিনের বলে শান মাসুদকে পয়েন্টে লো ক্যাচটি দূর্দান্ত ডাইভে নিয়েছেন ক্যাচ সাদমান। দ্বিতীয় দিন থেকে এক এন্ডে টানা বল করে যাওয়া অফ স্পিনার মিরাজ প্রথম উইকেটের মুখ দেখেছেন ২৩ তম ওভারে। সুইপ করতে যেয়ে সউদ শাকিল হয়েছেন এলবিডাব্লুউ (৪ বলে ০)। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে মিডল এন্ড অফ স্ট্যাম্পের উপরে সম্ভাব্য আঘাতের দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন টিভি আম্পায়ার। ২ ওভার পর মিরাজের পরবর্তী শিকার আবদুল্লাহ ফজল। অভিষেকে হাফ সেঞ্চুরিয়ান আবদুল্লাহ ফজল ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে মিড অনে তাইজুলের হাতে দিয়েছেন ক্যাচ (১২০ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৬০)।
লাঞ্চের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে রিজওয়ান-সালমান আগা ১১৯ রান যোগ করে লিডের কক্ষপথে নিয়ে গেছেন পাকিস্তানকে। দুজন করেছেন পর পর ফিফটি। তবে আকাশে মেঘ দেখে ঝটপট রান নেয়ার প্রবণতা দেখে রিজওয়ানকে লফটেড শট খেলতে প্রলুব্ধ করে সফল বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুল। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে এসে পায়ের পেশিতে টান পড়ে মিড অফে ক্যাচ দিয়েছেন রিজওয়ান (৭৯ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৫৯)।
বৃষ্টির পর পুনরায় খেলা শুরুর ১২ মিনিটের মাথায় নাহিদ রানার শর্ট বলে সেকেন্ড স্লিপের ফিল্ডার শান্ত'র হাতে ধরা পড়েছে সালমান আগা (৯৪ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৫৮)। শেষ স্পেলে (৪-১-৪-২) পর পর দুই ওভারে নোমান আলী (২৯ বলে ২) এবং শাহিন শাহ আফ্রিদিকে (১০ বলে ৬) ফিরিয়ে দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৪তম বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছেন অফ স্পিনার মিরাজ। ১৩ মাস পেলেন টেস্টে এক ইনিংসে মিরাজ ৫ উইকেট। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তাঁর দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেটের কৃতিত্ব।
বৃষ্টির পর পুনরায় যখন খেলা শুরু হয়, তখন ফ্লাড লাইটের আলোয় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খেলা হওয়ার কথা ছিল। তবে ন্যাচারাল আলোর স্বল্পতায় ৫টা ৩০ মিনিটে খেলা থামিয়ে দিয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে এসে বাংলাদেশ দল ১১ বলে যোগ করে উইকেটহীন ৭ রান করেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ৩৪ রানের লিড পেয়েছে।

মাঠের পারফরম্যান্সে দাপট দেখালেও মাঠের বাইরের রাজনীতি আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। স্বায়ত্তশাসিত ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগের ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে জটিলতার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এল নতুন সংকট। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তুষ্ট নন দলটির পাঁচ তারকা ক্রিকেটার। তাঁরা এখনো ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া নতুন চুক্তিতে সই করেননি।
বিগ ব্যাশ লিগকে ঢেলে সাজাতে এবং ব্যবসায়িক লাভের উদ্দেশ্যে এটি ব্যক্তিগত মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে এই উদ্যোগ। অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি প্রাদেশিক ক্রিকেট সংস্থার মধ্যে তিনটি— নিউ সাউথ ওয়েলস, কুইন্সল্যান্ড ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রায় ৬০ থেকে ৮০ কোটি ডলারের এই বিনিয়োগ মডেল নাকচ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে বোর্ড।
আরও পড়ুন
| অভিষেকে ১৩তম পাকিস্তানি, বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় |
|
একটি ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত ও বেতন নিয়ে মোটেই খুশি নন পাঁচ সিনিয়র খেলোয়াড়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ খেলোয়াড়দের রাজি করানোর চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি।
বোর্ড যেখানে ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে তিন বছরের জন্য বিশাল অংকের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে অন্য তারকাদের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলা কামিন্সকে প্রায় ১২ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু বাকি সিনিয়র ক্রিকেটাররা মনে করছেন, তাদের প্রস্তাবিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাজারের তুলনায় অনেক কম।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেছেন,‘আমরা এখন এমন এক অবস্থায় আছি যেখানে পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল পুরো ক্রিকেটের উন্নয়ন, কিন্তু বর্তমানে আমরা ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে নেই।’
বিগ ব্যাশ লিগের বেসরকারীকরণ ভেস্তে যাওয়ায় স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। দেখা গেছে, এই টুর্নামেন্টে বিদেশি খেলোয়াড়দের তুলনায় স্থানীয় খেলোয়াড়রা প্রায় এক থেকে দুই লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার কম পারিশ্রমিক পান। চুক্তিতে এই বৈষম্য দূর না হওয়ায় অনেক তারকা ক্রিকেটার এখন দেশের খেলা বাদ দিয়ে বিদেশের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দিকে ঝুঁকে পড়ার হুমকি দিচ্ছেন। অধিক আয়ের আশায় তারা জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারেন বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বড় ‘শত্রু’ যখন প্রকৃতি |
|
সংকট নিরসনে বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাদেশিক সংস্থাগুলোর দফায় দফায় আলোচনা চলছে। টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, তাঁরা পুরো পরিস্থিতির গভীর বিশ্লেষণ করছেন। মার্কেটে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কীভাবে খেলোয়াড়দের সন্তুষ্ট রাখা যায় এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের স্বার্থ রক্ষা করা যায়, সেটিই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। তবে চুক্তি নিয়ে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রবল।
সব মিলিয়ে বোর্ডের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতা এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক অসন্তোষ অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ১৫ সদস্যের দলের নেতৃত্বে দেবেন নিগার সুলতানা জ্যোতি।
জ্যোতির সঙ্গে সহ-অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন নাহিদা আক্তার। সবশেষ শ্রীলঙ্কা সিরিজের দলে খেলা শারমিন সুলতানার জায়গা হয়নি বিশ্বকাপ দলে। তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন তাজনেহার।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ১১ জুন শুরু হবে এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গ্রুপ ১- এ জ্যোতি-নাহিদাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরু হবে।
বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ের আগে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে ২৫ মে এডিনবার্গের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলতে তারা লফবরায় যাবে।
এবার টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে কোয়ালিফাই করেছে বাংলাদেশ। বাছাই পর্বে গ্রুপ ও সুপার সিক্স মিলিয়ে মোট সাত ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বিশ্বকাপের অন্য গ্রুপে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। প্রথম সেমিফাইনাল হবে ৩০ জুন এবং দ্বিতীয়টি ২ জুলাই। এরপর ৫ জুলাই লর্ডসের ফাইনালে নির্ধারিত হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল
নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), দিলারা আক্তার, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা, সোবহানা মোস্তারি, ফাহিমা খাতুন, শারমিন আক্তার সুপ্তা, রিতু মনি, স্বর্ণা আক্তার, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, সুলতানা খাতুন, সানজিদা আক্তার মেঘলা, তাজনেহার।

দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত দৌড়ে আলোচনায় এসেছে 'ডুওটির রান ফর বাংলাদেশ' নামে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ২১ এপ্রিল ভোর ৪ টায় টেকনাফের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে তেঁতুলিয়ার শেষ প্রান্ত বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে শনিবার বিকাল ৫ টায় শেষ হয়েছে ১০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই যাত্রা।
গত ২১ এপ্রিল ভোর ৪ টায় শুরু হওয়া এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল প্রকৃতি রক্ষা, নারী শিক্ষা ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা। দলটির স্লোগান ছিল— 'প্রকৃতি বাঁচলে বাঁচবে দেশ,নারী শিক্ষা ও শিশু স্বাস্থ্যের হোক জয়জয়কার, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছড়িয়ে দিই এই অঙ্গিকার।'
আরও পড়ুন
| তাসকিন-মিরাজে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনটি বাংলাদেশের |
|
দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিদিনই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁদের। কখনো তীব্র রোদ, কখনো ঝড়-বৃষ্টি, আবার কখনো গভীর রাতে ফাঁকা মহাসড়ক—সবকিছু পেরিয়েই এগিয়ে গেছেন ৪ তরুণ।
দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন নোয়াখালীর আসিফুল হক (পাভেল-২২)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন টাঙ্গাইলের এহসানুল হক (সানি-১৭), পঞ্চগড়ের আসিফ আকবর (২২) এবং কক্সবাজারের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২১)। এর মধ্যে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাইকেলে পুরো যাত্রায় সঙ্গ দিয়েছেন। বাকি তিনজন দৌড়ে অতিক্রম করেছেন দীর্ঘ এই পথ।
অভিযানের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল যমুনা নদী পার হওয়া। দলটি প্রায় পাঁচ দশমিক তিন আট (৫.৩৮) কিলোমিটার নদীপথ সাঁতরে পার হয়েছে। প্রবল স্রোতের মধ্যেও তাঁদের এই সাহসিকতা পথের মানুষকে বিস্মিত করেছে।
যাত্রাপথে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষ তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন। কেউ পানি দিয়েছেন, কেউ ফল, আবার কেউ শুধু দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে উৎসাহ জানিয়েছেন। অনেক জায়গায় স্থানীয় তরুণেরা তাঁদের সঙ্গে কিছু দূর দৌড়েও অংশ নেন।
দলটির সদস্যরা বলেন, দেশের তরুণদের ইতিবাচক কাজে এগিয়ে আসার বার্তা দিতেই তাঁদের এই আয়োজন। তাঁদের মতে, ইচ্ছাশক্তি থাকলে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বড় কিছু করা সম্ভব।
তেঁতুলিয়ায় পৌঁছানোর পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দলটির সদস্যরা। দীর্ঘ দিনের ক্লান্তি শেষে জাতীয় পতাকা হাতে তাঁদের হাসিমুখ ঘিরে স্থানীয় মানুষের ভিড় দেখা যায়।
আয়োজকদের ভাষ্য, এটি শুধু একটি ম্যারাথন ছিল না, বরং দেশজুড়ে ইতিবাচক একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা। 'ডুওটির রান ফর বাংলাদেশ' দেখিয়ে দিল, ইচ্ছাশক্তি আর লক্ষ্য ঠিক থাকলে তরুণদের পক্ষে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।