২৭ মে ২০২৫, ৩:৫১ পিএম

তার যে প্রতিভা, তাতে দুনিয়ার কোনো ক্লাবই ছাড়তে চাইবে না। ঠিক এই কারণেই লামিন ইয়ামালের সাথে বার্সেলোনার চুক্তি নবায়ন নিয়ে অনিশ্চিয়তা না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল এর ধরন। কারণ, একই সাথে ক্লাবটিকে যে নিশ্চিত করতে হবে যাতে স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড থাকেন অন্যদের নাগালের বাইরে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দশ নম্বর জার্সি সহ লোভনীয় শর্তেই চুক্তির মেয়াদ লম্বা মেয়াদে বাড়াতে যাচ্ছে বার্সেলোনা।
গত সোমবার ক্লাবের সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা ও ইয়ামালের এজেন্ট জর্জ মেন্ডেসের মধ্যকার ইতিবাচক বৈঠকের হয়। এর ফলে ১৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার ২০৩১ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কাছাকাছি রয়েছেন, সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ইএসপিএন।
ইয়ামালের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এটির মেয়াদ বাড়াতে চূড়ান্ত স্পর্শগুলি নিয়ে এখনও দুই পক্ষকে সম্মতিতে যেতে হবে। তবে ক্লাবের ঘনিষ্ঠ সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছে, ইয়ামালের এজেন্টের সাথে তাদের আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে।
আরও পড়ুন
| আল নাসরের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন রোনালদো? |
|
এই আলোচনাতেই জানানো হয়েছে, বার্সেলোনার ১০ নম্বর জার্সিটি আগামী মৌসুম থেকে পাবেন ইয়ামাল, যা এক সময় পরিধান করে ইতিহাস গড়েছেন ক্লাব কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।
আগামী ১৩ জুলাই ১৮ বছরে পা দিতে যাওয়া ইয়ামাল কয়েকবারই প্রকাশ্যে বলেছেন তার বার্সায় থাকার ইচ্ছার কথা। উল্লেখ্য, স্প্যানিশ এই উইঙ্গার ২০১৩ সালে তার বর্তমান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে সেই সময় তার বয়স ১৮-এর কম হওয়ায় তাকে কেবল তিন বছরের চুক্তি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তিতে ইয়ামালের বেতন বাড়ার পাশাপাশি একাধিক বোনাসও রাখা হবে, যা তাকে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের সুযোগ করে দেবে। এই বোনাসগুলোর মধ্যে একটি হল ব্যালন ডি’অর জয়।
আরও পড়ুন
| দায়িত্ব নিয়ে আলোনসো বললেন, ‘একটা নতুন যুগের সূচনা হল’ |
|
এই মৌসুমে ৫৫টি ম্যাচে ইয়ামাল ১৮ টি গোল করেছেন। সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ২৫টি গোল। বার্সেলোনার লা লিগা সহ তিন শিরোপা জয়ে তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
No posts available.
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

হোয়াংহো নদী যেমন চীনের দুঃখ, তেমনি চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার জন্য এক মূর্ত অভিশাপ দিয়েগো সিমিওনে। ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল নিয়েও ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্যের প্রতিযোগিতায় সিমিওনের আতলেতিকো মাদ্রিদের সামনে এসে আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে বার্সাকে। তর্কাতিতভাবে সর্বকালের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির হৃদয় যেমন ভেঙেছেন সিমিওনে, তেমনি বর্তমানের অন্যতম সেরা লামিনে ইয়ামালকেও দেখতে হলো বিদায়ের বিষাদ। বার্সার ভিন্ন ভিন্ন দুই যুগের এই তারকাকে বিদায় করে তাই বাধ ভাঙা আবেগে ভাসছেন সিমিওনে।
গতকাল বার্সেলোনাকে দুই লেগ মিলিয়ে হারিয়ে ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের টিকিটি কাটে আতলেতিকো মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর কোচ দিয়াগো সিমিওনে জানিয়েছেন, নিজের দলের এই লড়াকু মানসিকতা দেখে তিনি রীতিমতো 'আবেগপ্রবণ' হয়ে পড়েন।
মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটিতে বার্সেলোনা ২-১ ব্যবধানে জিতেছে—গোল করেন লামিন ইয়ামাল, ফেরান তোরেস এবং আদেমোলা লুকমান। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ চারে যাওয়া সিমিওনের দল মুখোমুখি হবে আর্সেনাল অথবা স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে।
সিমিওনের অধীনে এ নিয়ে চারবার (২০১৪, ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০২৬) চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠল আতলেতিকো মাদ্রিদ। আর এই যাত্রায় তারা তিনবারই বিদায় করেছে শক্তিশালী বার্সেলোনাকে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সিমিওনে বলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বার্সাকে ছিটকে দেওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়। আমরা লিওনেল মেসির বার্সার মুখোমুখি হয়েছি, ইয়ামালের বার্সার মুখোমুখি হয়েছি এবং দুইবারই আমরা তাদের হারিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি।’
আরও পড়ুন
| নেইমারের বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট-আনচেলোত্তির আলোচনা |
|
আতলেতিকোতে নিজের ১৪ বছরের দীর্ঘ সফরের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সিমিওনে আরও যোগ করেন, ‘দলের এই লড়াই করার ক্ষমতা দেখে আমি আজও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। অনেক খেলোয়াড় বদলেছে, আমরা বহুবার শূন্য থেকে শুরু করেছি, কিন্তু দিনশেষে আবারও আমরা ইউরোপের সেরা চারটি দলের একটি। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে খেলা যে কতটা আনন্দের!’
আতলেতিকো মাদ্রিদের জয় উদযাপনের মাঝেই কোচ দিয়াগো সিমিওনে স্তুতি গাইলেন আতোয়ান গ্রিজম্যানের। এই গ্রীষ্মেই ক্লাব ছেড়ে এমএলএস-এর দল অরল্যান্ডো সিটিতে যোগ দিচ্ছেন এই ফরাসি তারকা। প্রিয় শিষ্যকে নিয়ে সিমিওনে বলেন, ‘সে একজন জিনিয়াস। সময় গেলেই আমরা উপলব্ধি করতে পারব যে আমাদের দলে ফুটবলের একজন জাদুকর ছিল—এমন একজন খেলোয়াড় যে তার অভিজ্ঞতা আর ব্যক্তিত্ব দিয়ে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। আমাদের সাথে তার যেটুকু সময় বাকি আছে, ঈশ্বর আর ভাগ্য যেন তাকে তার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দেয়।’
সিমিওনের দলকে প্রায়ই 'ডিফেন্সিভ' বা রক্ষণাত্মক দল হিসেবে তকমা দেওয়া হয়। কিন্তু কোচ দাবি করেছেন, বার্সেলোনাকে ছিটকে দেওয়ার পেছনে ছিল তাদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে নিজেদের পরিবর্তন করেছি। আমরা কী চাই, তা নিয়ে আমাদের মনে কোনো সংশয় নেই। সত্যি বলতে, আমরা ডিফেন্ড করার চেয়ে অ্যাটাক ভালো করি! তাই আমাদের আক্রমণ করতেই হবে, এছাড়া আর কোনো পথ নেই।’

ইউরোপীয় মঞ্চে বায়ার্ন মিউনিখের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রমাণ মেলে তাদের টানা তিনবার শিরোপা জয়ের কীর্তিতে। তবে সেই দাপুটে বাভারিয়ানরা এখন ছয় বছর ধরে এক বৃত্তে বন্দি। ২০১৯-২০ মৌসুমে সবশেষ চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি গত ২০২৩-২৪ মৌসুমেও রিয়াল মাদ্রিদ নামক দুর্ভেদ্য দেয়ালের সামনে এসে থমকে গিয়েছিল।
২০২৩-২৪ মৌসুমই নয় শুধু, ইতিহাস সাক্ষী এ নিয়ে সাতবার নকআউট পর্বে লস ব্লাঙ্কোস দেয়াল টপকাতে পারেনি বায়ার্ন। কড়ায়ৎ-গণ্ডায় এবার সে প্রতিশোধ তোলার পালা এলো বুঝি। ২০২৫-২৬ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। ফিরতি লেগে বুধবার আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে রিয়ালের বিপক্ষে খেলবে বায়ার্ন। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
চ্যাম্পিয়নস লিগের ফার্স্ট লেগে বায়ার্ন জিতলেও এখন পর্যন্ত দুদলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আলভারো আরবেলোয়ার দল। ৭ বার জিতেছে রিয়াল, ২টিতে জয় বায়ার্নের। ২টি ম্যাচ হয়েছে ড্র। হোম কন্ডিশনেও পিছিয়ে বাভারিয়ানরা। এখন পর্যন্ত দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে একবারই জিতেছে তারা। তিনটি জয় রিয়ালের। একটি ড্র হয়েছে। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাকে সবশেষ দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসে। ওই ম্যাচ ২-২ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল।
চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্নের মাঠে সবশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে রিয়াল জিতলেও সান্তিয়াগো বার্নাব্যু থেকে জয় নিয়ে ফিরেছে কোম্পানির শিষ্যরা। তার মধ্যে বুন্দেসলিগায় সেন্ট পাউলির বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয় তুলেছে তারা। এই ম্যাচে কোম্পানি তার বেশ কিছু তারকা খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিতে পেরেছিলেন, যা এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য দলকে সতেজ রাখবে।
বায়ার্ন ভক্তদের জন্য আরও বড় খুশির খবর, হ্যারি কেইনের দলে ফেরা। চোটে ভোগা ইংলিশ ফরোয়ার্ড পুরোপুরি তৈরি এখন। হাঁটুর সমস্যা কাটিয়ে সার্জ গ্রানব্রি মূল একাদশে ফিরছেন। রক্ষণভাগে বায়ার্ন বেশ শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও চোটের কারণে লেনার্ট কার্ল এবং গোলরক্ষক সভেন উলরাইখকে পাওয়া যাচ্ছে না। লিওন গোরেৎজস্কা ও আলফোনসো ডেভিসকে নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে। কারণ আজ একটি হলুদ কার্ড পেলেই তারা সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়বেন।
আরও পড়ুন
| নেইমারের বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট-আনচেলোত্তির আলোচনা |
|
অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ চোট আর খেলোয়াড় নিষিদ্ধ হওয়া নিয়ে বেশ সমস্যায়। সবচেয়ে বড় ধাক্কা চুয়ামেনির না থাকা। কার্ড জটিলতায় এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। ইনজুরির কারণে রদ্রিগোও মাঠের বাইরে। সেন্টারব্যাক রাউল আসেনসিও পেটের পীড়ায় ভুগছেন। দলের সঙ্গে জার্মানিতে যাননি তিনি।
সমর্থকদের জন্য স্বস্তির বিষয়—কিলিয়ান এমবাপে সুস্থ আছেন এবং তিনি শুরু থেকেই খেলবেন। কোর্তোয়া এখনো চোটমুক্ত না হওয়ায় গোলবারের নিচে লুনিনই থাকছেন। জুড বেলিংহাম, ভিনিসিয়াস এবং কামাভিঙ্গা—এই তিনজনেরই আজ কার্ড দেখে নিষিদ্ধ হওয়ার ভয়ে আছেন। তাই কোচ আরবেলোয়াকে এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যাতে দল জিতলে সেমিফাইনালে তিনি তার সেরা তারকাদের ফিরে পান।
এত এত সমস্যার মাঝেও চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের দোহাই দিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে পিছিয়ে থাকা ম্যাচ জেতার প্রত্যয় আলভারো আরবেলোয়ার। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘আমরা রিয়াল মাদ্রিদ এবং আমরা বিশ্বাস করি যে আমরাই জিততে যাচ্ছি। আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে দলটিকে অনেক বিষয়ে উন্নতি করতে হবে। আমাদের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো—প্রথমত, আমরা রিয়াল মাদ্রিদ। আমরা এমন এক দল যারা কখনো হার মানে না এবং আমাদের ঝুলিতে ১৫টি ইউরোপিয়ান কাপ (চ্যাম্পিয়নস লিগ) রয়েছে।’’
ভিনসেন্ট কোম্পানি জানিয়েছেন, রিয়াল মাদ্রিদ যে ‘রেমনতাদা’ (অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন) করার চেষ্টা করবে, তা ঠেকাতে তিনি ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। কোম্পানি বলেন, ‘‘নিঃসন্দেহে একটি মূল বিষয় হলো, রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি আমাদের অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। বার্নাব্যুতে ম্যাচের আগেও আমরা তেমনটাই অনুভব করেছিলাম এবং এখনো আমাদের সেই শ্রদ্ধা অটুট আছে।’’
মোদ্দাকথা, ১৯৭০-৭১ মৌসুমের পর কখনোই নিজেদের মাঠে নকআউট পর্বের প্রথম লেগ হেরে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি রিয়াল। বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে হলে আরবেলোয়ার দলকে ফেরাতে হবে প্রায় ৫৬ বছর আগের স্মৃতি।
তবে ইতিহাস বলে, চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ কোনো যুক্তি মানে না। সবাই যখন ধরে নেয় তারা শেষ, তখনই ঘুরে দাঁড়িয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে বার্নাব্যুর যোদ্ধারা। বিষয়টি বায়ার্নের চেয়ে কার বেশি মনে রাখার কথা?

ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের অনুপস্থিতি এখন আর কেবল মাঠের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পৌঁছে গেছে দেশটির প্রেসিডেন্টের দরবারে। নেইমারকে দলে রাখা হবে কি না—এই বিষয়ে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার পরামর্শ চেয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চোট আর ফিটনেসজনিত সমস্যায় নেইমার জাতীয় দলের বাইরে আছেন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার জায়গা না পাওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আর এ নিয়েই পুরো দেশজুড়ে এখন বিতর্কের ঝড় বইছে।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ফুটবলের প্রতি তাদের অগাধ ভালোবাসার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। দেশটির জাতীয় দলে সবসময়ই পেলে, রোমারিও কিংবা রোনালদোর মতো কিংবদন্তি তারকাদের জয়জয়কার দেখা গেছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নেইমার ছিলেন ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় পোস্টার বয়। কিন্তু হাঁটুর চোটের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই তাকে গত প্রায় তিন বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে রেখেছে।
মার্চের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে নেইমারকে রাখা হয়নি, আর তাতেই সমর্থকদের মনে ভয় ঢুকেছে যে—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে হয়তো আনচেলত্তি তাকে দলে নেবেন না। তবে সম্প্রতি সান্তোসের হয়ে নেইমারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—তিনি কি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্য?
এই সব নাটকীয়তার মাঝেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা জানিয়েছেন, কোচ আনচেলত্তি সম্প্রতি তার কাছে নেইমারকে বিশ্বকাপে নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন। ‘ব্রাজিল ২৪৭’ ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার আনচেলত্তির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল এবং তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনার কি মনে হয় নেইমারকে দলে ডাকা উচিত?”
প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, নেইমার যদি শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট থাকেন এবং রোনালদো-মেসির মতো পেশাদারিত্ব দেখাতে পারেন, তবেই তার সুযোগ পাওয়া উচিত; শুধু ‘নামের ভারে’ দলে যাওয়া এখন আর সম্ভব নয়।
প্রেসিডেন্ট লুলা আনচেলত্তিকে দেওয়া নিজের উত্তরের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমি বলেছি: ‘দেখুন আনচেলত্তি, সে (নেইমার) যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকে, তবে ফুটবল খেলার সামর্থ্য তার আছে। আমি যেটা জানতে চাই তা হলো—সে কি আসলে মনেপ্রাণে এটা চায়?’
লুলা আরও যোগ করেন, ‘যদি সে সত্যিই ফিরতে চায়, তবে তাকে শতভাগ পেশাদার হতে হবে। সে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো কিংবা মেসির দিকে তাকাতে পারে—তারা যেভাবে নিজেদের ধরে রেখেছে, সেও ঠিক সেভাবে জাতীয় দলে খেলে যেতে পারে, কারণ তার বয়স এখনও খুব বেশি হয়ে যায়নি।’
প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নেইমারকে কেবল তার ‘নামের ভারে’ বা পুরোনো খ্যাতির ভিত্তিতে দলে নেওয়া উচিত নয়; বরং সে দলের জন্য বর্তমানে কী দিতে পারবে, সেটাই হওয়া উচিত একমাত্র মাপকাঠি।
জাতীয় দলে ফেরার মিশনে নামা নেইমার সান্তোসের হয়ে আজ মাঠে নেমেছিলেন। কোপা সুদামেরিকানায় প্যারাগুয়ের ক্লাব রেকোলেতার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র ম্যাচের ৪ মিনিটে গোল করেন সাম্বা তারকা। আগামী ১৮ মে ব্রাজিল তাদের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করতে পারে। স্কোয়াডে জায়গা করে নিতে হলে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সঙ্গে ছন্দেও থাকতে হবে নেইমারকে।

‘কামব্যাক’ কিংবা প্রত্যাবর্তন—রিয়াল মাদ্রিদের ডিএনএতেই আছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে লস ব্লাঙ্কোসদের মতো ঘুরে দাড়ানোর ইতিহাস নেই আর কোনো দলেরই। যেখানে সবাই শেষ দেখে, সেখান থেকেই শুরু হয় রিয়ালের গল্প।
আজ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় যখন পা রাখবে রিয়াল মাদ্রিদ, তাদের সামনে সমীকরণটা একদম তখন পরিষ্কার। চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে শেষ আটের ফিরতি লেগে জয় না পাওয়া মানেই মৌসুমের সব আশা শেষ। লা লিগায় বার্সেলোনা এখন ৯ পয়েন্টে এগিয়ে, হাতে আছে মাত্র ৭টি ম্যাচ। তাতে ট্রফিশূন্য আরও একটি হতাশার মৌসুম দেখতে হবে রিয়ালকে।
ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২-১ গোলে হারের পর এবার বায়ার্নের ডেরা থেকে জয় নিয়ে ফেরার অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে লিয়াল মাদ্রিদকে। বাভারিয়ানরা এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে গোল করার অবিশ্বাস্য সামর্থ্য রাখা এই দলটি ইউরোপের মাটিতে নিজেদের মাঠে অপরাজেয়। বুন্দেসলিগাতেও তারা ১২ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষে রয়েছে এবং প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নতুন নতুন রেকর্ড ভাঙছে।
আরও পড়ুন
| যেখানে ব্যর্থ হয়েছে বার্সা, যা করতে হবে ফ্লিককে |
|
প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু-তে হ্যারি কেইন, মাইকেল অলিসে এবং লুইস দিয়াজদের আক্রমণাত্মক তোপে পড়েছিল আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যরা। তবুও আশা ছাড়ছে না মাদ্রিদ; অনেকের মতেই—যদি কেউ এই বায়ার্নকে থামাতে পারে, তবে সেটা রিয়াল মাদ্রিদই। তবে বায়ার্নের মাঠে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর মতো রাত উপহার দিতে হলে, মাদ্রিদকে তাদের কৌশল কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।
লেফট ব্যাক পজিশনে পরিবর্তন
প্রথম লেগে যারা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেননি, তাদের মধ্যে সবচেয়ে হতাশাজনক ছিলেন আলভারো কারেরাস। লেফট ব্যাক পজিশনে মাইকেল অলিসের গতি আর ড্রিবলিংয়ের সামনে কারেরাসকে পুরোটা সময় অসহায় মনে হয়েছে। ক্রিস্টাল প্যালেসের সাবেক এই উইঙ্গার রীতিমতো নাচিয়ে ছেড়েছেন তাকে।
মিউনিখে দ্বিতীয় লেগে জয় পেতে হলে লেফট ব্যাক পজিশনে রদবদল আনা রিয়ালের জন্য সবচেয়ে জরুরি। গত শুক্রবার জিরোনার বিপক্ষে ম্যাচে ফ্রান গার্সিয়া এবং ফার্ল্যান্ড মেন্ডি—উভয়কেই কিছু সময় পরখ করে নিয়েছেন কোচ আরবেলোয়া। যদিও ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে গার্সিয়া ভালো করেছিলেন, তবে রক্ষণের শক্তিমত্তার বিচারে ফিট মেন্ডিই রিয়ালের সেরা অপশন। ফরাসি এই ডিফেন্ডারকে দিয়ে যদি অলিসেকে বোতলবন্দি করা যায়, তবে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ভালো ফল পাওয়ার পথ অনেকখানি প্রশস্ত হবে।
শারীরিক সক্ষমতা ও ইনটেনসিটি বাড়ানো
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগের ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখ যেখানে ১১০.৯ কিলোমিটার পথ দৌড়েছে, সেখানে রিয়াল মাদ্রিদ দৌড়েছে ১০১.৯ কিলোমিটার। যদিও কেবল কত কিলোমিটার দৌড়াল তা দিয়ে একটি দলের সাফল্য সবসময় বিচার করা যায় না, তবে এই পরিসংখ্যান রিয়ালের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর।
স্প্যানিশ পত্রিকা 'মার্কা'র তথ্যমতে, গত রাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে জয়ের দুই লেগেই রিয়াল মাদ্রিদ ১১৩ কিলোমিটারের বেশি পথ দৌড়েছে। মিউনিখে জয়ের একমাত্র পথ যেহেতু আক্রমণাত্মক ফুটবল, তাই বায়ার্নের মতো পরিশ্রমী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করতে হলে রিয়ালকে নিজেদের শারীরিক সক্ষমতার শেষ সীমানা পর্যন্ত উজাড় করে দিতে হবে।
৩. আক্রমণে নিখুঁত হওয়া
বায়ার্নের রক্ষণভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও তা কিন্তু একেবারেই অভেদ্য নয়। এ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল গোলবন্যার জোয়ার বইয়ে দিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি (ক্লিন শিট)। আর সেই দুটি ম্যাচই ছিল তুলনামূলক দুর্বল বেলজিয়ান ক্লাব ইউনিয়ন সেন্ট জিলোয়াস এবং ক্লাব ব্রুগার বিপক্ষে।
আরও পড়ুন
| ওয়ার্নের মৃত্যুর জন্য দায়ী করোনা টিকা, দাবি ছেলের |
|
প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদ একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল। মিউনিখের মাঠেও তারা বায়ার্ন সেন্টার ব্যাক দায়ো উপামেকানোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে কাঙ্ক্ষিত গোল আদায় করে নিতে পারে। এমবাপের জাতীয় দলের এই সতীর্থ গত আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিলের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ উন্নতি করেছেন। এখনো হুটহাট ভুল করার প্রবণতা রয়ে গেছে তাঁর। প্রথম লেগেও তার বড় এক ভুলের কারণেই ভিনিসিউস জুনিয়র ম্যানুয়েল নয়ারের সামনে একা হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন; যদিও সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। মিউনিখে যদি উপামেকানোকে নিয়মিত চাপের মুখে একা করে ফেলা যায় ,তবে লস ব্ল্যাঙ্কোসদের জন্য গোল পাওয়ার পথ আরও সহজ হতে পারে।
ঐতিহ্যের শক্তি ও পুরনো সেই লড়াকু মানসিকতা
কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের অন্তত প্রথম এক ঘণ্টা রিয়াল মাদ্রিদকে দেখে মনেই হয়নি যে, তারা জয়ের জন্য খেলছে। তবে জুড বেলিংহাম মাঠে নামার পর শেষ ৩০ মিনিটে যেন পুরো দলের চেহারা বদলে যায়। এমবাপের সেই গোলটি দ্বিতীয় লেগের সমীকরণকে এখনও বেশ জমজমাট করে রেখেছে। মিউনিখে মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নামার আগে মাদ্রিদের সিনিয়র খেলোয়াড় ও নেতাদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এমন রাতে ছন্দ কিংবা যুক্তি—সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর যে অবিশ্বাস্য ক্ষমতা এই ক্লাবটির আছে, সেই ‘অজেয়’ মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামতে হবে।
ইতিহাস রিয়ালের পক্ষেই কথা বলে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ভলসবুর্গের বিপক্ষে প্রথম লেগে পিছিয়ে থেকেও তারা কোয়ার্টার ফাইনাল জিতেছিল। এমনকি গত ১৫ বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে চারবার বায়ার্নকে বিদায় করেছে মাদ্রিদ। এর মধ্যে দুই বছর আগে হোসেলুর সেই অবিশ্বাস্য রূপকথা তো সবারই মনে আছে। মিউনিখে অসম্ভবকে সম্ভব করতে হলে রিয়ালকে আবারও তাদের সেই সোনালী ইতিহাসের সাহসে বলীয়ান হতে হবে।

ইউরোপীয় ফুটবলে রাজত্ব ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো বার্সেলোনার। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী কাতালান ক্লাবটি সবশেষ ২০১৫ সালে এই শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। এরপর এরপর কেটে গেছে এক দশকেরও বেশি সময়, কিন্তু ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব যেন বার্সার কাছে এক ধূসর স্বপ্নেই পরিণত হয়েছে।
হান্সি ফ্লিকের হাত ধরে গত দুই মৌসুমে বার্সেলোনা যে আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়েছিল, তাতে সমর্থকরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। তবে তাতেও মেলেনি সমাধান। গত মৌসুমে ইন্টার মিলানের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর এবার বার্সার হতাশার গল্প আরও দীর্ঘ করল আতলেতিকো মাদ্রিদ। গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো সিমিওনের দলের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় শেষ হয় ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সার এই টুর্নামেন্টের যাত্রা।
গত দুই মৌসুমে ফ্লিকের বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্যর্থতা থেকে শেখার কী আছে? সহজ কথায় রক্ষণভাগের মেরামত অপরিহার্য। গত মৌসুমের শুরু থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ২৬ ম্যাচে বার্সা গোল করেছে ৭৫টি; কেবল পিএসজি (৭৬ গোল) তাদের চেয়ে বেশি গোল করেছে। তবে পিএসজি যেখানে ৩১ ম্যাচে ৭৬ গোল করেছে, বার্সেলোনা সেখানে মাত্র ২৬ ম্যাচেই ৭৫ গোল তুলে নিয়েছে। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে ২.৮৮ গোল! অবিশ্বাস্য এক সংখ্যাই বটে।
এবার বার্সেলোনার আসল সমস্যার দিকেই চোখ দেওয়া যাক। গোল করায় সিদ্ধহস্ত বার্সেলোনা গোল হজমও করে ভূরিভূরি। গত দুই মৌসুমে তাদের হজম করা ৪৪টি গোল চ্যাম্পিয়নস লিগের যেকোনো দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই তালিকার কাছাকাছি আছে কেবল ক্লাব ব্রুগা (৪৩ গোল) এবং বার্সার সবশেষ প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মাদ্রিদ (৪২ গোল)।
রক্ষণ ঠিক রাখতে না পারার এই দুর্বলতা বরাবরই ফ্লিকের ফুটবল দর্শনের প্রধান বাধা বা 'অ্যাকিলিস হিল' হয়ে থেকেছে। যদিও ২০১৯-২০ মৌসুমে ফ্লিকের অধীনে বায়ার্ন মিউনিখ ট্রেবল জিতেছিল এবং সেবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ১১ ম্যাচে তারা মাত্র ৮টি গোল হজম করেছিল। কিন্তু তার পরের মৌসুমের চিত্রটা ছিল একদম ভিন্ন। সেবার বায়ার্ন গোল করায় রীতিমতো উৎসব মেতেছিল—৫০ ম্যাচে গোল করেছিল ১৩৯টি, বিপরীতে গোল হজমও করেছিল ৫৯টি। এমনকি জার্মানি জাতীয় দলের কোচ থাকাকালীন সংক্ষিপ্ত সময়েও রক্ষণাত্মক সমস্যাগুলো বারবার ফুটে উঠেছিল।
কোনো সন্দেহ ছাড়াই বার্সায় এসে ইউরোপের অন্যতম সেরা একটি দল গড়ে তুলে ফ্লিক তাঁর সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করেছেন। তাঁর কোচিংয়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি প্রথম মৌসুমে ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের পর এই মৌসুমেও লিগ জয়ের দ্বারপ্রান্তে আছে। কিন্তু ক্লাবের আসল লক্ষ্য হলো চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়। আর যতক্ষণ না ফ্লিক তার দলের এই ভঙ্গুর রক্ষণভাগ মেরামত করতে পারছেন, ততক্ষণ সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।