
অনেক আশা নিয়েই নেইমারকে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকা হিসেবে বরণ করে নিয়েছিল আল হিলাল। তবে গত মৌসুমের শুরুতেই চোট পেয়ে এক বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয় ব্রাজিল ফরোয়ার্ডকে। আপাতত খেলতে পারছেন না সৌদি প্রো লিগেও। বাতাসে ভাসছে গুঞ্জন, মেয়াদ শেষের আগেই নাকি নেইমারের সাথে চুক্তি বাতিলের চিন্তা করছে আল হিলাল।
পিএসজি থেকে সৌদি ক্লাবটিতে যোগ দিয়ে গত মৌসুমে চোটে পড়ার আগে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলতে পারেন নেইমার। চোখ কপালে তোলার মত অঙ্কে একজন খেলোয়াড়কে বেতন দিয়ে ক্লাবে আনার পর এক বছর তাকে না পাওয়া যেকোনো ক্লাবের জন্যই চিন্তার কারণ। তাছাড়া, নেইমারকে ছাড়াই গত মৌসুমে লিগ শিরোপা সহ আরও কিছু প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় ক্লাবটি। এর সাথে যোগ হতে পারে সাবেক বার্সেলোনা তারকার ফের চোটে পড়ার বিষয়টি।
আরও পড়ুন
| মাঠে ফিরে আনন্দের সীমা নেই নেইমারের, ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরবেন কবে? |
|
গত মাসের শেষের দিকে আল হিলালের হয়ে বদলি হিসেবে এক বছর পর মাঠে নামেন নেইমার। তবে বিপত্তি বাঁধে শেষ ম্যাচে, এস্তেগলালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নামার পর পেশীতে আঘাতের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার। আপাতত এটিকে গুরুতর ভাবা না হলেও ক্লাবের জন্য এটা একটা বড় ধাক্কাই বটে।
‘ইউওলেস্পোর্টে’ তাদের ইনস্টাগ্রাম পাতায় একটি পোস্টে জানিয়েছে, আল হিলাল নেইমারের সাথে সম্ভাব্য চুক্তি বাতিলের বিষয়ে আলোচনা করতে এবং তাকে ভালোভাবে বিদায় দেওয়ার শর্তে জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরিকল্পনা করেছে। এর মূল কারণ এটাই যে, আগামী জানুয়ারির আগ পর্যন্ত সৌদি আরবের শীর্ষ লিগে খেলা হবে না তার।
আরও পড়ুন
| ১ বছর পর প্রস্তুত নেইমারের ফেরার মঞ্চ |
|
আর চোট থেকে ফিরেই নেইমার পেশীতে আঘাত পেতে পারেন, সেটা নাকি আল হিলালের মেডিকেল টিম আগেই জানিয়েছিল। এক বছর না খেলা একজন খেলোয়াড় চোটের শঙ্কা নিয়ে চুক্তির শেষ ৬ মাসে কী করবেন, সেটা নিয়ে নাকি ক্লাবটির কর্মকর্তারা সন্দিহান।
যদি শেষ পর্যন্ত নেইমার ও আল হিলাল চুক্তি বাতিল করতে সমর্থ হয়, সেক্ষেত্রে তার পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের নাম। এই ক্লাবেই পেশাদার ফুটবলের শুরু হয়েছিল ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলারের।
No posts available.
৭ মার্চ ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
৭ মার্চ ২০২৬, ৫:২১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি ও তার দল ইন্টার মায়ামি। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ক্লাবটির ঐতিহাসিক শিরোপা জয় উপলক্ষে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মেসিদের। কিন্তু সেখানে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে ও মেসিদের হাততালি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। মায়ামির কোচ হাভিয়ার মাচেরানোর দাবি সাক্ষাতের আগে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল তাদের।
গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপের ট্রফি জেতে ইন্টার মায়ামি। স্মরণীয় সেই ট্রফি জয় উদ্যাপনে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহামের সহ-মালিকানাধীন ক্লাবটির তারকাদের হোয়াইট হাউস সফরে আমন্ত্রণ জানানো হয়। মেসি টানা দ্বিতীয় মৌসুমের মতো লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে মেসিকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প বলেন,
'কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা বলার সুযোগ পাননি, তা বলার সৌভাগ্য আমার হচ্ছে, “হোয়াইট হাউসে স্বাগতম, লিওনেল মেসি।” তিনি আরও বলেন, 'লিও, তুমি এসেছ এবং জিতেছ। এটা করা খুব কঠিন, খুবই অসাধারণ।'
ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করলেও পুরো সময় মেসি ছিলেন নীরব। তবে অনুষ্ঠানের শুরুতেই ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এবং শুল্ক বা ট্যারিফ নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য শুরু করেন।
ট্রাম্প দম্ভভরে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আমাদের চমৎকারভাবে ইসরায়েলি অংশীদারদের সঙ্গে মিলে শত্রুকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে।' তিনি জানান, শনিবার শুরু হওয়া এই হামলায় ইতিমধ্যে ১,২৩০ জন নিহত হয়েছেন।
ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচ মাচরানো দাবি করেছেন, হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে দলকে যা বলা হয়েছিল, বাস্তবে ঘটেছে তার চেয়ে ভিন্ন কিছু। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে মায়ামি কোচ বলেন,
‘হোয়াইট হাউসে যাওয়ার আগে আমাকে ও দলকে বলা হয়েছিল যে সেখানে শুধু ফুটবল নিয়েই কথা হবে।’
Trump to Rubio: "Your next one is gonna be Cuba. He's waiting but he says, 'Let's get this one finished first.' We could do them all at the same time, but bad things happen." pic.twitter.com/kaM63CsmZS
— Aaron Rupar (@atrupar) March 5, 2026
অবশ্য মাচেরানো স্বীকার করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে এই সাক্ষাত দুই মাস আগে নির্ধারিত হয়েছিল। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান শুরু করার অনেক আগেই। মাচেরানো বলেন,
‘চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার যে ঐতিহ্যগত প্রোটোকল আছে, আমরা সেটাই অনুসরণ করেছি। আমরা যেই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে খেলতে এসেছি, তার অনেক আগেই এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।’
মায়ামির কোচ আরও যোগ করেন,
‘আমরা সেখানে কয়েক ঘণ্টা ছিলাম। হোয়াইট হাউসের একটু-আধটু অংশ দেখার সুযোগ পেয়েছি, খুব বেশি নয়—যতটুকু সম্ভব হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বলতে টেলিভিশনে যা দেখা গেছে, প্রায় সেখানেই সীমাবদ্ধ ছিল—এর বেশি কিছু নয় ‘
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বক্তব্য শেষ করেন এই বলে, 'আমাদের লোকেরা আবারও দুর্দান্ত কাজ করছে—বিশ্বের সেরা সেনাবাহিনী।' ট্রাম্পের এই কথার পর মেসি, ইন্টার মায়ামির পুরো স্কোয়াড এবং উপস্থিত অন্যরা হাততালি দেন। আর এতেই চটেছেন অনেকে। সামাজিক মাধ্যমে আর্জেন্টাইন মহাতারকার আচরণ সমালোচনার মুখে পড়ে।

ইংলিশ লিগের তৃতীয় সারির দল ম্যানফিল্ড টাউন চোখে চোখ রেখেই আর্সেনালের সঙ্গে লড়েছে। নিজেদের মাঠে গানারদের আটকে দেওয়ার প্রাণপন চেষ্টাই করা ক্লাবটি পিছিয়ে পড়ার পর সমতায়ও ফিরে। তবে শেষ পর্যন্ত ঘাম ঝরিয়ে জিতল আর্সেনাল।
এফ এ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে আজ ম্যানফিল্ড টাউনের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। কষ্টার্জিত জয়ে ননি মাদুয়েকের গোলের পর জয়সূচক গোলটি আসে বদলি নামা এবেরেচি এজে। ম্যানফিল্ডের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন উইল ইভানস।
ছয় মৌসুম পর এফ এ কাপের শেষ আটে উঠল মিকেল আর্তেতার দল। আর্তেতার প্রথম মৌসুমে ২০২০ সালে আর্সেনালের দায়িত্ব নেওয়ার পর এফ কাপ জিতে গানাররা। এখন পর্যন্ত স্প্যানিশ এই কোচের অধীনে এটিই তাদের একমাত্র বড় ট্রফি।
প্রতিপক্ষের মাঠে শুরু থেকেই আর্সেনালকে তটস্থ রাখে স্বাগতিক ম্যানফিল্ড। ৩৪ শতাংশ বল পজেশনে রেখে ১৮টি শট নেওয়া ম্যানফিল্ডের আক্রমণাত্বক খেলার ধারায় কখনো সম্পূর্ণ স্বস্তিতে ছিল না সফরকারীরা। তাদের লক্ষ্যে শট ছিল পাঁচটি। বিপরীতে ১৯টি শট নিয়ে আটটি গোলমুখে রাখে আর্সেনাল।
এদিন আর্সেনালের হয়ে ইতিহাস গড়েন ম্যাক্স ডোম্যান। আর্সেনালের হয়ে এফ এ কাপে সর্বোকণিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন ১৬ বছর ও ৬৬ দিন বয়সী উইঙ্গারকে শুরুর একাদশে রাখেন আর্তেতা।
প্রথমার্ধের শেষের দিকে আর্সেনালকে লিড এনে দেন ননি মাদুয়েকে। বাঁ পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন ইংলিশ উইঙ্গার। মান্সফিল্ডের গোলকিপার লিয়াম রবার্টস প্রথম শট ঠেকিয়ে দিলেও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি আবারও বল তুলে দেন মাদুয়েককে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফিরে ম্যানফিল্ড। ৪৬ মিনিটে বদলি নামার চার মিনিট পর ব্যবধান ১-১ করেন ইভানস। এরপর গোল করার সুযোগ আসে উভয় দলেরই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুপার-সাব এবোরেচি এজের শক্তিশালী শটে ৬৬ মিনিটে লিড নেয় আর্সেনাল। এরপর জাল অক্ষত রেখে শেষ আট নিশ্চিত করে আর্সেনাল।
আগামী বুধবার মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে বায়ার লেভারকুসেনের মুখোমুখি হবে। প্রথম লেগ হবে জার্মান ক্লাবটির ঘরের মাঠে, ১৭ মার্চ দ্বিতীয় লেগ আর্সেনালের মাঠে।

নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভিয়েতনামের বিপক্ষে লড়াই করেই হেরেছিল ভারত। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আট নম্বর দলের জাপানের সামনে দাঁড়াতেই পারল না তারা। পুরো ম্যাচে কেবল জাপানের গোল উৎসব দেখা ছাড়া যেন কিছুই করার ছিল না ভারত নারী দলের।
নারী এশিয়ান কাপে পার্থে আজ ভারতকে ১১-০ গোলে উড়িয়ে দিল জাপান। প্রথামার্ধে পাঁচ গোলের পর বিরতির পর ভারতের জালে ছয়বার বল পাঠায় জাপান। হ্যাটট্রিক করেছেন দলটির দুই খেলোয়াড় রিকো উইকি ও হিনাতা মিনাজাওয়া।
গোলের বন্যা বইয়ে প্রতিযোগিতায় কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল জাপান। অন্যদিকে ভিয়েতনামের কাছে ২-১ গোলে হারের পর জাপানের বিপক্ষে বিধ্বস্ত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ছিটকে গেল ভারত। গ্রুপ ‘সি’ তে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে জাপান। আর দুই ম্যাচে মোট ১২ গোল হজম করা ভারত গ্রুপের তলানিতে আছে।
নামে-ভারে ভারত থেকে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা জাপান ৭৯ শতাংশ বল দখলে রেখে মোট ৩৫টি শট নেয়, যার মধ্যে লক্ষ্যেই ছিল ১৬ টি। অন্যদিকে পুরো ম্যাচে একটি শটও নিতে পারেনি ভারত। এশিয়ান কাপের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন জাপানের দাপটে দিশেহারা ভারত ব্যস্ত ছিল কেবল জাল থেকে বল কুড়োতেই।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭ নম্বর ভারতের জালে ৪ মিনিটে প্রথম জালে বল পাঠায় ৮ নম্বরে থাকা জাপান। বাঁ পায়ের জোরালো শটে জাল কাঁপান দলটির রাইট-ব্যাক। ১০ মিনিট পর ব্যবধান ২-০ করেন ইয়ুই হাসেগাওয়া। এরপর ২১ ও ৩৬ মিনিটে দুই গোল করেন মিনাজাওয়া। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কিকো সেইকের পেনাল্টি থেকে করা গোল ব্যবধান দাড়ায় ৫-০।
প্রথামার্ধেই শেষ হয়ে যাওয়া ম্যাচে গোল ব্যবধান ঠিক রাখতেই কেবল লড়াই করতে পারত ভারত। তবে জাপানের আক্রমণের ঢেউয়ের সামনে দিশেহারা ভারত গোল হজমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। ৪৬ মিনিটে বদলি নামা রিকো উইকি করেন হ্যাটট্রিক। মাঠে নামার পরের মিনিটেই গোল করার পর ৫০ ও ৬৫ মিনিটে আরও দু’দফা ভারতের জালে বল পাঠান এই ফরোয়ার্ড। ৮১ মিনিটে হ্যাটট্রিক হয় মিনাজাওয়ারও।

শুরু থেকে আক্রমণের পসরা সাজালো
ফর্টিস এফসি। তাতে দেখা মিলল গোলের। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে
ফিরতে মরিয়া হলেও লিড দ্বিগুণ করে ফেলে ফর্টিস। এরপরই সাদা-কালোদের কঠিন প্রতিরোধ,
ফর্টিসের লাল কার্ড দেখা, পেনাল্টি গোলে মোহামেডানের ম্যাচে ফেরার আভাস, মাঠে উত্তপ্ত
পরিস্থিতি বিরাজ করা; সব ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ল মাসুদ পারভেজ
কায়সারের দল।
শনিবার কুমিল্লার ভাষা সৈনিক
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলায় মোহামেডানকে ২-১ গোলে
হারিয়েছে ফর্টিস। জয়ী দলের হয়ে জোড়া গোল করেন ইসা জালো। মোহামেডানের হয়ে এক গোল পরিশোধ
করেন মুজাফফর মজাফফরভ।
এর আগে লিগের প্রথম লেগেও মোহামেডানকে
হারিয়েছিল ফর্টিস। প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় সাদা-কালোদের বিপক্ষে
ফর্টিসের জয় ছিল ২-০ গোলের।
এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে
থাকা বসুন্ধরা কিংসকে আবার ধরে ফেলল ফর্টিস। ১০ ম্যাচ শেষে দুই দলেরই পয়েন্ট সমান ২১
করে। ১০ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের ছয়ে মোহামেডান। লিগের প্রথম রাউন্ডের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডেও
ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে রইল মতিঝিল পাড়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটে মুজাফফর মুজাফফরভের দারুণ ক্রসে রহিম উদ্দিনের শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। দুই মিনিট পর ফ্রি-কিক থেকে ফর্টিসের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ওকাফরের নেওয়া শট ডাইভ দিয়ে তালুবন্দি করেন মোহামেডানের গোলকিপার সুজন হোসেন।
১৬ মিনিটে ওকাফরকে টেনে ধরায় ডি-বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় ফর্টিস। পা ওমর বাবুর নেওয়া শট মোহামেডান রক্ষণে লেগে কর্নারে পরিণত হয়। গোলমুখের সামনে শট লক্ষ্যে
রাখতে পারেননি মোর্শেদ আলী।
২০ মিনিটে লং বল ধরে ইসা জালো
মোহামেডান গোলকিপার সুজনের মাথার ওপর দিয়ে চিপ শটে গোল করেন। ১-০ গোলে লিড নেওয়ার খানিক
পর বাজেভাবে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ফর্টিসের ওকাফর।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর খানিক
পরই লিড দ্বিগুণ করে ফর্টিস। ৫১ মিনিটে বক্সের সামনে ফ্রি কিক থেকে হেডে জালে বল জড়ান
ইসা জালো।
৬৩ মিনিটে রহমত মিয়ার কর্নার
থেকে পেনাল্টি পায় মোহামেডান। স্যামুয়েল বোয়াটেংয়ের হেডে গোলমুখের সামনে হাতে বল লাগে
নিঝুমের। লাল দেখে মাঠ ছাড়েন নিঝুম। সফল স্পটকিকে ব্যবধান কমান মুজাফফরভ।
৭৮ মিনিটে রাসেলের ক্রস থেকে
ওকাফরের দারুণ শট ফিরে আসে বারে লেগে। সমতায় ফিরতে একের পর এক আক্রমণ শানায় মোহামেডান।
তবে ফর্টিসের রক্ষণ এবং গোলকিপার সুজন পেরেইরা ছিলেন গোলপোস্টের সামনে অসাধারণ। শেষ
পর্যন্ত ২-১ গোলের হার মেনে মাঠ ছাড়ে মোহামেডান।

ইংলিশ
এফএ কাপে পঞ্চম রাউন্ডের
খেলায় রাতে মাঠে নামছে
প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনাল ও চেলসি। পেপ গার্দিওলার দল আতিথেয়তা নেবে জেমস পার্কে, নিউক্যাসল
ইউনাইটেডের। গানারদের প্রতিপক্ষ
ম্যানসফিল্ড এবং চেলসি মোকাবিলা
করবে চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব রেক্সামকে।
এফএ
কাপে অঘটন ঘটানো রেক্সাম
যেন ইতিহাসেরই এক অংশ। পঞ্চম
রাউন্ডে সেই দলটির বিপক্ষে
আজ এফএ কাপে মাঠে
নামবে চেলসি। রেক্সামের কোচ ফিল পার্কিনসনেরও
এমন অঘটনের ইতিহাস আছে। এর মধ্যে
নিম্ম সারির কোনো দলের পশ্চিম
লন্ডনের ক্লাব চেলসিকে হারানোর সবশেষ কীর্তিটিও এই কোচের নামের
পাশে।
২০১৫
সালে হোসে মরিনহো দ্বিতীয় মেয়াদে চেলসিতে দায়িত্ব পালন করছেন। তখন
প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে অবস্থান করছিল ব্লুজরা এবং শিরোপার দিকেই
এগিয়ে যাচ্ছিল। দিদিয়ের দ্রগবা, ইডেন হ্যাজার্ড, সেস
ফেব্রিগাসদের মতো তারকা ফুটবলারদের
নিয়ে গড়া দলটি তৃতীয়
স্তরের ক্লাব ব্রাডফোর্ড সিটির বিপক্ষে কোনো কঠিন পরীক্ষায় পড়ার কথা ছিল
না। বিশেষ করে যখন তারা
স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ২-০ ব্যবধানে
এগিয়ে গিয়েছিল।
কিস্তু ম্যাচের যখন মাত্র তিন মিনিট বাকি তখন স্ট্যামফোর্ড ব্রিজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে ব্রাডফোর্ড সিটি; এগিয়ে ৩-২ গোলে। ৫৮ বছর বয়সী পারকিনসন বলেন,
‘দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আমি মরিনহোর দিকে তাকিয়েছিলাম। তাঁর চোখে যেন বিস্ময় দেখছিলাম। তাঁর দল হঠাৎই ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল এবং তিনি আর তাদের জাগিয়ে তুলতে পারছিলেন না।’
শেষ
বাঁশি বাজার আগেই পার্কিনসনের সঙ্গে
করমর্দন করতে হাত বাড়িয়ে
দেন মরিনহো। কিন্তু পার্কিনসন তখন আরও একবার
বুনো উল্লাসে ফেটে পড়েন, কারণ
তাঁর দল শেষ বাশির
আগমুহূর্তে চেলসির জাল কাঁপায় আরও
একবার। শেষ পর্যন্ত জয় ছিল তাদের
৪-২ ব্যবধানে। সেই
মৌসুমে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসিকে হারানো একমাত্র দল ছিল ব্রাডফোর্ড।
পারকিনসন বলেন,
‘এই সপ্তাহেই আমি সেই ম্যাচের কথা ভাবছিলাম। আমরা কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কীভাবে ম্যাচে ঢুকেছিলাম।’ তিনি আরও জানান, সেদিন ব্রাডফোর্ডের হয়ে গোল করা খেলোয়াড়দের একজন জন স্টেডের সঙ্গে এখনও তাঁর বার্তা আদান-প্রদান হয়। পারকিনসনের কথায়, ‘আমি মনে করি না তখন থেকে কোচ হিসেবে আমি খুব একটা বদলেছি। আমরা চাই দল একই নীতিতে খেলুক। ব্রাডফোর্ডে যেমন ছিল, এখানেও তেমনই। আমাদের ওপর কোনো প্রত্যাশাই ছিল না। তাই আন্ডারডগ মানসিকতা আর লড়াকু স্পিরিট থাকতেই হবে— কারণ আমরা যে দলের মুখোমুখি হচ্ছি, তাদের প্রতিভা অনেক বেশি।’