চুক্তির মেয়াদ বাকি রয়েছে অনেকটা। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বাজেভাবে বিদায়ের পর জোরেশোরেই বাতাসে ভাসছে কার্লো আনচেলত্তি রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার গুঞ্জন। চাকরি নিয়ে ভীষণ চাপের মুখে থাকলেও যথারীতি নির্লিপ্ত অভিজ্ঞ এই কোচ। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কাজ চালিয়ে যেতে চান রিয়ালের ডাগআউটেই।
গত মৌসুম থেকেই আসছিল আনচেলত্তির রিয়াল ছাড়ার খবর। তাতে যোগ হয়েছিল তার ব্রাজিলের কোচ হওয়ার বিষয়টি। তবে শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেন তিনি। মৌসুমটা খুব একটা খারাপ না গেলেও, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর্সেনালের কাছে ৫-১ গোলে হেরে বিদায়ের পর নড়বড়ে হয়ে গেছে তার অবস্থান। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের দাবি, কোপা দেল রের ফাইনালের পরই বিদায় নেবেন তিনি।
আরও পড়ুন
| ৭ গোলের থ্রিলারে জিতে উচ্ছ্বসিত বার্সেলোনা কোচ |
|
তবে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বললেন ভিন্ন কথাই।
“আমি খেলোয়াড় এবং ক্লাবের সাথে কথা বলেছি। আমরা সবাই একই চিন্তা করছি, আর সেটা হল আমরা শিরোপার জন্য লড়তে চাই। ক্লাবের সাথে আমার কোনো লড়াই নেই। আমরা সবাই একই নৌকার যাত্রী। যারাই বলছেন আমার সাথে ক্লাবের বা সভাপতি (ফ্লোরেন্টিনো পেরেজ) লড়াই চলছে, তারা সত্য বলছেন না।”
দ্বিতীয় মেয়াদে ২০২১ সালে রিয়ালে ফেরেন আনচেলত্তি। এরপর থেকে পেয়েছেন ভালো সাফল্যই। তার হাত ধরে রিয়াল দুটি লা লিগা ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে। এই মৌসুমে এখনও আছে লা লিগার শিরোপার লড়াইয়ে। আর ২৬ এপ্রিল রয়েছে বার্সেলোনার বিপক্ষে কোপা দেল রের ফাইনাল।
আরও পড়ুন
| ৩৯ বছর বয়সে না ফেরার দেশে ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলার |
|
আর সেই কারণেই এই সময়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় মন নেই আনচেলত্তির।
“মৌসুম শেষে ক্লাব এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করবে। আমরা এখনও শিরোপা জেতার জন্য লড়াই করছি।আমাদের এক সপ্তাহের মধ্যে একটি (কোপা দেল রে) ফাইনাল রয়েছে এবং মৌসুম শেষে আমাদের সামনে (৩২ দলের) ক্লাব বিশ্বকাপ রয়েছে। তাই এখনই এটি নিয়ে কথা বলা ঠিক হবে না।”
No posts available.
২৯ মার্চ ২০২৬, ৫:১০ পিএম

স্প্যানিশ ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই উত্তেজনা যেন আরও উগরে উঠেছে। বিশেষ করে ‘নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারি’ ঘিরে দুই ক্লাবের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বার্সেলোনার পুনর্নির্বাচিত সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা। দায়িত্বে ফিরেই আবারও রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাপোর্তা বলেন, ‘নেগ্রেইরা মামলায় তাদের সম্পৃক্ততার পর থেকেই আমাদের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। অনেক দিন ধরেই তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’
এর আগে নেগ্রেইরা ইস্যুতে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। তদন্ত প্রক্রিয়াতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখে ক্লাবটি। সেই ঘটনার জেরেই দুই ক্লাবের সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নিয়েও দুই ক্লাবের অবস্থান ভিন্ন হয়ে যায়। একসময় যৌথভাবে এই প্রকল্পে থাকলেও পরে সরে দাঁড়ায় বার্সেলোনা। লাপোর্তা বলেন, ‘আমরা সুপার লিগ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি হচ্ছিল না। আগেই আমরা বিষয়টি জানিয়েছিলাম।’
বার্সেলোনা সভাপতি যোগ করেন, ‘উয়েফা ইউরোপীয় ফুটবলের স্থায়িত্ব বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেটাও আমাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।’
তবে সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন রেফারিং প্রসঙ্গে। লাপোর্তার দাবি, রেফারিরা বার্সেলোনাকে সুবিধা দেন না, বরং রিয়াল মাদ্রিদই বেশি সুবিধা পায়। তাঁর ভাষায়, ‘আমার সবসময়ই মনে হয়েছে আমাদের অনেক ভালো খেলতে হয়, কারণ রেফারিরা আমাদের পক্ষে থাকে না। এখানে মনে হয় সবসময় রিয়ালকেই সহায়তা করা হয়। তাদের বার্সেলোনা-ইটিস আছে, এটা স্পষ্ট।’
নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারি নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন লাপোর্তা। তাঁর দাবি, বার্সেলোনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে পাল্টা অভিযোগ তুললেন, ‘আমরা এমন একজনকে নিয়োগ দিয়েছিলাম, যিনি আগে রেফারি কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন—এ নিয়ে আমাদের সমালোচনা করা হচ্ছে। অথচ তাদের সঙ্গেই রেফারি কমিটির সভাপতিদের যোগসূত্র ছিল।’
লাপোর্তার এই মন্তব্য স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুই ক্লাবের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে এমন বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের দাগ এখনও দগদগে। এরই মধ্যে রাফিনিয়ার চোট বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে ব্রাজিলকে। বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ার মুহূর্তেই জানা গেল, ডান পায়ের বাইসেপস ফেমোরিসে চোট পেয়েছেন বার্সেলোনা উইঙ্গার। তাঁর মেডিক্যাল রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করেনি ব্রাজিল। তবে সত্যিকার অর্থে চোট গুরুতর হলে একমাসের বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে রাফিনিয়াকে।
রাফিনিয়া ইস্যুতে খারাপ সংবাদ মিললেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়ে বার্সেলোনা ও ব্রাজিলের আকাশে যে মেঘ জমেছিল তা ধীরে ধীরে সরে গেছে। ফরাসিদের বিপক্ষে ম্যাচে চোটের শঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত গুরুতর কিছু হয়নি এই তারকা লেফট উইঙ্গারের। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুশীলনে না থাকলেও, দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে না ভিনিকে।
১ এপ্রিল ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রীতি ম্যাচের অনুশীলনে ভিনিকে রাখেননি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অরল্যান্ডোতে দলের অনুশীলনে না থাকলেও একাকী জিমে ঘাম ঝরাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ লেফট উইঙ্গার। ফ্রান্সের বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচের পর পেশিতে টান অনুভব করায় শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এখন আর সে ভয় নেই
স্প্যানিশ ক্রীড়া সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মিগুয়েল এঞ্জেল দিয়াজ জানিয়েছেন,
“ভিনিসিয়ুস ভালো আছেন” এবং “ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে না খেললেও সেটা শুধু সতর্কতার জন্য।”
আগামী সপ্তাহে মায়োর্কার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচে ভিনির খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বড় স্বস্তির কারণ হবে কোচ আলভারো আরবেলার জন্য। যিনি আগেই কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোটে দুশ্চিন্তায় আছেন।
চোট গুরুতর না হওয়ায় ক্লাবের ম্যাচের দিকে নজর ভিনিসিয়ুয়েসের। লা লিগায় দ্বিতীয় স্থানে থেকে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছেন আরবেলা। সে জায়গায় ভিনির উপস্থিতি হতে পারে বড় নিয়ামক।

জিনেদিন জিদান ও মার্কো মাতেরাজ্জি—ফুটবল ইতিহাসের আলোচিত সেই মুহূর্তের পর কেটে গেছে প্রায় দুই দশক। ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই ‘হেডবাট’ ঘটনার পর আজ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে কোনো কথা বলেননি তাঁরা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাতেরাজ্জি নিজেই জানিয়েছেন এই তথ্য। তাঁর ভাষায়, ‘এই গ্রীষ্মে ২০ বছর হয়ে যাবে জিদানের সেই হেডবাটের। কিন্তু এখনো আমাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। আমার কোনো আক্ষেপও নেই।’
২০০৬ সালে জার্মানির বার্লিনে বিশ্বকাপ ফাইনালে দেখা হয়েছিল ফ্রান্স ও ইতালি। ম্যাচটি টাইব্রেকারে জিতে শিরোপা ঘরে তোলে ইতালি। তবে শিরোপার চেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে ওঠে ম্যাচের শেষদিকে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা—মাতেরাজ্জির বুকে মাথা দিয়ে আঘাত করেন জিদান। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ফরাসি কিংবদন্তিকে।
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর ও স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে এখনো সেই ঘটনাটি আলোচিত। কিন্তু ঘটনাটি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কখনো আলোচনা হয়নি দুজনের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে কখনো কথাও হয়নি।
মাতেরাজ্জি বলেন, ‘আমি কি জিদানের সঙ্গে কথা বলেছি? এখনো না। আমার জন্য এটা কোনো সমস্যা নয়। ফুটবলে ৯০ মিনিটের মধ্যে আপনি দলের জন্য সবকিছু করতে পারেন। কিন্তু রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর আমার কাছে সব শেষ।’
সে ঘটনা মনে রাখেননি মাতেরাজ্জি। বলেছেন জিদানের প্রতি সম্মানের কথাও, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট পরই আমার কাছে বিষয়টি শেষ হয়ে গিয়েছিল। জানি না জিদানের কাছে কেমন ছিল। তবে তার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা আছে। রিয়াল মাদ্রিদে কোচ হিসেবেও সে অনেক চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে। সে আমার কাছে একজন কিংবদন্তি।’
ঘটনার পেছনের কারণ নিয়েও কথা বলেছেন মাতেরাজ্জি। তিনি স্বীকার করেন, জিদানকে উসকানি দিতে গিয়ে তিনি তার বোন সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘সে আমাকে তার জার্সি দিতে চেয়েছিল। আমি বলেছিলাম, ‘না, আমি তোমার বোনকে পছন্দ করি।’
এই বর্ণনা জিদানের আগের বক্তব্যের সঙ্গেও মিলে যায়। জিদান একসময় বলেছিলেন, মাতেরাজ্জি তাঁর বোনকে অপমান করেছিলেন, যা তাঁকে উত্তেজিত করে তোলে। পরে নিজের আচরণের জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন ফরাসি তারকা।
ক্যারিয়ারে ফিফা বিশ্বকাপ ২০০৬ ফাইনালের সেই লাল কার্ডের ঘটনা জিদানের উজ্জ্বল সাফল্যকেও আড়াল করে দেয়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ইউরো জয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।
মাতেরাজ্জিও ইতালির হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মিলানের হয়ে একাধিক সিরি আ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফুটবল ইতিহাসের সেই মুহূর্ত এখনো অমলিন। আর জিদান ও মাতেরাজ্জি নীরবতাও যেন সেই স্মৃতিকে আরও রহস্যময় করে রেখেছে।

শনিবার ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলে আজ সুইমিং আর রিকভারি সেশন করেই দিন পার করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দল। বুধবার ম্যাচের আগে আরও দুই দিন সময় পাবে মার্ক কক্সের দল। বিগ ম্যাচের ধকল সামনে আপাতত নিজেদের গোছাতে মনোযোগী বাংলাদেশ। ১ মার্চ নেপালকে হারাতে আত্মবিশ্বাসী লাল সবুজের ছেলেরা।
রোববার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পাঠানো ভিডিও বার্তায় কথা বলেছেন ডেকলান সুলিভান। গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচের একটিতেও খেলা হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন একাডেমির এই ফুটবলারের। যদিও ভারতের বিপক্ষে রক্ষণে ছিল ভুলের মহড়া। অনেকেই মনে করেন সেই সমস্যা সমাধান হতে পারে ডেকলানকে দিয়ে।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ডেকলানকে খেলানো হবে কি না সেটি নিশ্চিত নয়। তবে নিজেকের পুরোপুরি ফিট রাখছেন তিনি। সতীর্থদের সঙ্গে সময়টাও ভালো কাটছে বলে জানান। সেই সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন ১৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার,
‘দলের সঙ্গে আমাদের রিকভারি সেশন মাত্র শেষ হলো। সেশনটা বেশ ভালো ছিল। একটা কঠিন ও বড় ম্যাচের পর শরীরটাকে একটু সচল করে নেওয়া সবসময়ই ভালো। আমাদের লড়াই থামবে না। পরের ম্যাচে আমাদের জিততেই হবে এবং তারপর পুরো টুর্নামেন্টটাই আমাদের জিততে হবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য।‘
ডেকলানের মতো ভালো কিছুর আশায় ইব্রাহীম হাসিব নেওয়াজও। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯০ মিনিটের মাথায় নামানো হয় তাঁকে। আর পরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ইব্রাহীমকে বেঞ্চেই বসিয়ে রাখায় হয়। ইংল্যান্ডের ক্লাব ওয়ালটন অ্যান্ড হারশাম এফসির এই মিডফিল্ডার আজ বলেছেন তারা সময়টা উপভোগ করছেন। নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে যাওয়ার ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী।
প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের ম্যাচে ভারতের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। আগামী ১ এপ্রিল সেখানে নেপালের মুখোমুখি হবে কক্সের দল।
প্রতিযোগিতার এই আসরের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে নেপালকে হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার আরও একটি শিরোপার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। গোলকিপার কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘গত দুই ম্যাচ আমাদের দলের খেলোয়াড়দের ওপর ধকল গেছে। এখন সবাই রিকভারি করছে। সামনে একটা বড় ম্যাচ। খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে সবটাই করা হচ্ছে। আশা করছি সেমিফাইনালে নেপালকে হারিয়ে আমরা ফাইনালে উঠবো।’
একই দিন আরেক সেমিফাইনালে ভারতের সামনে ভুটান। বাংলাদেশের গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ ভুটানকে পেয়েছে দলটি।

ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে থমাস টুখেল ইংল্যান্ড দলে ডিফেন্স নির্বাচন নিয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ারকে আপাতত পিছিয়ে রেখেছেন তিনি।
গত শুক্রবার লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ও উরুগুয়ের প্রীতি ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়। সেই ম্যাচেই প্রায় দেড় বছর পর জাতীয় দলে ফেরেন ম্যাগুয়ার এবং শুরু থেকেই খেলেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম জাতীয় দলে সুযোগ পান ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। ক্লাব ফুটবলে অবশ্য ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন। জানুয়ারিতে কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ইউনাইটেডের রক্ষণে ভালোই ছন্দে আছেন তিনি।
তবে জাতীয় দলে জায়গা নিশ্চিত করতে এখনও লড়াই করতে হবে ম্যাগুয়ারকে—এমনটাই জানালেন কোচ টুখেল। তাঁর মতে, বর্তমানে চারজন ডিফেন্ডার ম্যাগুয়ারের চেয়ে এগিয়ে আছেন।
টুখেল বলেন ম্যাগুয়ারের কাছ থেকে তিনি প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সই পেয়েছেন, ‘সে শক্ত, নির্ভরযোগ্য সেন্টার-ব্যাক। বল কন্ট্রোলে ভালো, শান্ত, আকাশে শক্তিশালী এবং সেট-পিসে কার্যকর।’
তারপরও স্কোয়াড নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্যদের এগিয়ে রাখছেন টুখেল। ম্যানচেস্টার সিটির জন স্টোনস ও মার্ক গেহি, অ্যাস্টন ভিলার এজরি কনসা ও চেলসির ট্রেভোহ চালোবাহ—এই চার ডিফেন্ডারকে এগিয়ে দেখছেন ইংল্যান্ড কোচ।
টুখেল বলেন, ‘আমি এখনো মত বদলাইনি। দলে শুরুর একাদশে রাখার মতো অন্য খেলোয়াড়দের দেখছি, যাদের প্রোফাইল আলাদা। কনসা এগিয়ে, গেহি এগিয়ে। চালোবাহ গতিশীলতায় সামান্য এগিয়ে। স্টোনসও আছে, যদিও সে চোটে ভুগছিল।’
টুখেল জানিয়েছেন, স্কোয়াড ঘোষণার এখনো সময় আছে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তাড়াহুড়া করতে চান না। তবে চোট-সমস্যা বিবেচনায় নিলে ম্যাগুয়ারের সুযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না টুখেল। টুখেলের ভাষায়, ‘যদি কালই দল ঘোষণা করতে হতো, চোটের কারণে সে দলে থাকতে পারত। সে ভালো খেলেছে, ক্লাবের মতোই পারফরম্যান্স দিয়েছে।’
তবে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে ম্যাগুয়ারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে বলেও মনে করেন টুখেল। বিশেষ করে নকআউট ম্যাচে লিড ধরে রাখা, লং বল বা সেট-পিস থেকে আক্রমণে ম্যাগুয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে উল্লেখ করেন ইংল্যান্ড কোচ।