২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৮:৩৪ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে উত্তাপ ক্রমেই স্তিমিত হচ্ছে। শনিবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে বরিশাল বিভাগীয় কোটা থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় পরিচালক পদে নির্বাচনের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন ভোলা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর শাখাওয়াত হোসেন। বিসিবির বর্তমান সভাপতির এই উপদেষ্টা রোববার নির্বাচন কমিশনকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সবার আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছেন। সোমবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে টিকে গেলে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না তাকে। ২৯ সেপ্টেম্বরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবির পরিচালক পদে নির্বাচিত হবেন তিনি।
সিলেট বিভাগের ১টি পরিচালক কোটায় মাত্র ১ জন কাউন্সিলর রাহাত সামস মনোনয়নপত্র কিনে তা জমা দেয়ায় তিনিও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিসিবির পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়ে গেছেন।
আরও পড়ুন
| টেইলরের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড জিম্বাবুয়ের |
|
এদিকে শনিবার জাতীয় দলের নির্বাচকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহত দিয়ে বিসিবির পরিচালনা পরিষদের সদস্য হিসেবে খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর আবদুর রাজ্জাক রাজ মনোনয়নপত্র কিনে নির্বাচনী যুদ্ধে লিখিয়েছিলেন নাম। শনিবার খুলনা বিভাগীয় কোটা থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে নড়াইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার আসজাদুর রহমান মিঠু রোববার মনোনয়নপত্র জমা না দেয়ায় আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার জুলফিকার আলী খানও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হয়ে গেছেন। বাকি শুধু মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষনার।
১৯২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে তিন ক্যাটাগরিতে আগের দিন মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন ৬০জন। রোববার মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ৫১টি। জেলা ও বিভাগীয় সংস্থার ক্যাটাগরি ১-এ মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছিল ২৮টি, জমা পড়েছে ১৮টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩টি, চট্টগ্রামে ৪, খুলনায় ২, রাজশাহীতে ৪, রংপুরে ৩, সিলেটে ১, বরিশালে ১টি।
আরও পড়ুন
| টসে আগার সঙ্গে শাস্ত্রী, সূর্যকুমারের সঙ্গে কথা বলেন ওয়াকার |
|
ক্যাটাগরি-১ এ ২৫টি মনোনয়নপত্র বিক্রির মধ্যে যে ৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েনি, তার প্রধান কারণ প্রস্তাবকও সমর্থকের ঘরে স্ব স্ব বিভাগের কাউন্সিলদের কারো স্বাক্ষর না পাওয়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তা।
রাজশাহী বিভাগের ১টি পরিচালক পদের লড়াইয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হাসিবুল আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার মো. মুখলেসুর রহমান, জয়পুরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এস এম শামস মতিন ও পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার তৌহিদ তারিক খান। রংপুর বিভাগে জমা দিয়েছেন রংপুর বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার হাসানুজ্জামান, দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার রেহাতুল ইসলাম ও ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রীড়া সংস্থার নূর-এ শাহাদাৎ।
ঢাকা বিভাগীয় কোটা থেকে ২টি পরিচালক পদের বিপরীতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিসিবির বর্তমান সভাপতিও ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার আমিনুল ইসলাম বুলবুল , বিসিবির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নাজমূল আবেদীন ফাহিম এবং বিসিবির সাবেক পরিচালক ও জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান।
আরও পড়ুন
| ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ সূচি |
|
চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার আহসান ইকবাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আসিফ আকবর ও চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার শওকত হোসেন জমা দিয়েছেন মনোনয়নপত্র।
ক্যাটাগরি ২–এ ৩২টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছিল। মনোনয়নপত্র পূরণ করে জমা দিয়েছেন ৩০জন। মনোনয়নপত্র জমা দেননি ব্রাদার্স ইউনিয়নের ইশরাক হোসেন এবং বিসিবির বর্তমান পরিচালকও কাকরাইল বয়েজ ক্লাবের সালাহউদ্দিন চৌধুরী।
সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক ক্রিকেটারের ক্যাটাগরি ৩-এ বিক্রি হওয়া তিনটি মনোনয়নপত্রই জমা পড়েছে। ১টি পরিচালক পদের বিপরীতে শেষ পর্যন্ত ৩ জন নির্বাচন যুদ্ধে আছেন। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর এবং বিসিবির সাবেক পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর দেবব্রত পাল রোববার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সোমবার জমাকৃত মনোনয়নপত্র বাছাই ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের আপত্তি ও শুনানি হবে।
আরও পড়ুন
| পাওয়ার হিটিংয়েই নাকাল বাংলাদেশ |
|
ক্যাটাগরি-২ তে নির্বাচনে সমঝোতার মাধ্যমে একক প্যানেলে নির্বাচনের উদ্যোগে এক হতে পারেননি প্রার্থীরা। এই ক্যাটাগরিতে ২টি পক্ষ পরিস্কার হয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে ১২টি পরিচালক পদের ২টি ভিন্ন প্লাটফর্মে নির্বাচনী যুদ্ধের আভাস পাওয়া গেছে। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সমমনাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে সে আভাসই দিয়েছেন বিসিবির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বাবু-
‘সমঝোতা বলে কিছু নেই। নির্বাচনে যদি প্রতিপক্ষই না থাকে, সেটাকে নির্বাচন বলা যায় না। আমরা চাই যোগ্যরা নির্বাচনে আসুক। তাহলে গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন হবে। ক্লাব ক্যাটাগরিতে আমরা সমমনা ১২ জনের প্যানেল দেব। সেভাবেই আমরা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’
এদিকে দুই প্যানেলের দড়ি টানাটানি থেকে বেরিয়ে এসে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন মোহামেডানের কাউন্সিলর মাসুদুজ্জামান।
No posts available.
২৯ মার্চ ২০২৬, ৪:১৩ পিএম
২৯ মার্চ ২০২৬, ১:৫৭ পিএম

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বিরাট কোহলিকে ঘিরে আলোচনা থামেনি। বরং প্রশ্নটা আরও বড় হয়েছে। ওয়ানডেতে মাঠে নামলেই আলোচনা শুরু হয়, এটাই কি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়?
এই প্রশ্নের মাঝেই নতুন পরামর্শ দিলেন আম্বাতি রাইডু। তার মতে, কোহলির শুধু ওয়ানডে খেলা নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও ফেরা উচিত এবং সেটি অধিনায়ক হিসেবেই।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের নতুন আসরের প্রথম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে কোহলির ৩৮ বলে ৬৯ রানের ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ইনিংস যেন সেই দাবির পক্ষে জোরাল যুক্তি হয়ে উঠেছে।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইনিংস নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন তিনি। ইনিংসজুড়ে খেলেছেন সেরা সময় মনে করিয়ে দেওয়ার মতো বেশ কয়েকটি শট।
ম্যাচ শেষে তাকে প্রশংসায় ভাসান ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রাইডু।
“আমি মনে করি না, কোহলি ক্যারিয়ারের শেষের কাছাকাছি কোথাও আছে। তার সামনে এখনও পাঁচ-ছয়টা ভালো বছর আছে। আমরা আলোচনা করছিলাম, তার টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা উচিত, আর সেটা অধিনায়ক হিসেবেই হলে ভালো হয়।”
রাইডুর মূল্যায়নে, কোহলি এখনও ভারতের সেরা টেস্ট অধিনায়কদের একজন নন, বরং সেরা।
“আমরা সিরিয়াস- ভারতীয় ক্রিকেটে আমি যত লাল বলের অধিনায়ক দেখেছি, তাদের মধ্যে কোহলিই সেরা। এখনও সে যেভাবে ব্যাটিং করছে, তাতে তার না থাকা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ক্ষতি।”
কোহলির অপরাজিত ইনিংসটি ছিল সেই পুরোনো ধারার প্রতিচ্ছবি- কভার ড্রাইভে নান্দনিকতা, স্ট্রেইট ড্রাইভে আত্মবিশ্বাস আর কবজির জোরে ফ্লিক শটে ছক্কা। বয়স বা ফরম্যাট- কোনোটিই যেন তার ব্যাটিংয়ের ধার কমাতে পারেনি।
কোহলিকে দলের ‘চেজমাস্টার’ হিসেবেই দেখছেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পাতিদার।
“সে আমাদের এক নম্বর চেজমাস্টার। যেভাবে সে পরিস্থিতি বোঝে এবং ইনিংস গড়ে, সেটা ডাগআউট থেকে দেখাও দারুণ অভিজ্ঞতা।”

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৪ জন। একটি ছক্কা মারলেও প্রথম পাঁচ বলে ৮ রানের বেশি নিতে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ বলে বাকি থাকল ৬ রান। দুর্দান্ত শটে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে দিলেন কায়লা রেইনেক।
দলকে জেতানোর পাশাপাশি রেকর্ডও গড়লেন অভিষিক্ত অলরাউন্ডার। পুরুষ ও নারী মিলিয়ে বিশ্বের মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে একাধিক ফরম্যাটে নিজের অভিষেক ম্যাচেই প্লেয়ার অব দা ম্যাচ হলেন রেইনেক।
এতদিন এই রেকর্ডটি ছিল শুধু চার জনের, যেখানের বাংলাদেশের দুজন- ইলিয়াস সানি ও মোস্তাফিজুর রহমান। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন সানি। আর ২০১৫ সালে ওয়ানডের পর টেস্ট অভিষেকে সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন মোস্তাফিজ।
এছাড়া ইংল্যান্ডের বেন ফোকস ওয়ানডে ও টেস্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লুঙ্গি এনগিডি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের অভিষেকেই ম্যাচ সেরা নির্বাচিত।
ক্রাইস্টচার্চে রোববার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মোস্তাফিজদের এই রেকর্ডে ভাগ বসান প্রোটিয়া অলরাউন্ডার। তার নৈপুণ্যে ম্যাচের শেষ বলে গিয়ে ২ উইকেটের জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দল।
দলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে ৩২ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন রেইনেক। এর আগে গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ১৩ রানে ২ উইকেটের পাশাপাশি ১৬ বলে ২৯ রান করে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ২০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। সেদিনও শেষ বলে ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এবার রেইনেকের ওয়ানডে অভিষেকের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ম্যাডি গ্রিনের ৮৫ রানে ভর করে ২৬৮ রানে অলআউট হয় নিউ জিল্যান্ডের মেয়েরা। জবাবে অ্যানারি ডেরেকসেন ৭২ ও সুন লুস ৫৩ রান করলেও শেষ দিকে গিয়ে চাপে পড়ে যায় প্রোটিয়ারা।
তবে একপ্রান্ত ধরে রেখে দলকে জয়ের পথে রাখেন অভিষিক্ত রেইনেক। পরে সুজি বেটসের করা শেষ ওভারে ১৪ রান প্রয়োজন পড়লে তৃতীয় বলে প্রথম ছক্কা মারেন তিনি। কিন্তু পরের দুই বল ডট খেলায় চাপ পড়ে শেষ বলে গিয়ে।
রাউন্ড দা উইকেট থেকে ফুল লেংথে করেন অভিজ্ঞ বেটস। সামনের পা সরিয়ে সজোরে লং অন দিয়ে উড়িয়ে মারেন রেইনেক। সীমানার ওপারে যেতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন রেইনেক ও তার সতীর্থ টুমি সেখুখুনে।
নারী ও পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বের আর কোনো ক্রিকেটার একাধিক ফরম্যাটে অভিষেক ম্যাচেই শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতাতে পারেননি।
এর আগে ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়েছিলেন পাকিস্তানের জুলফিকার বাবর। তবে সেদিন জয়ের জন্য বাকি ছিল শুধু ১ রান।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এখন পর্যন্ত যৌথ সর্বোচ্চ পাঁচবার আইপিএলের ট্রফি জিতেছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দলটি। তবে একটি জায়গায় এক যুগের বেশি সময় ধরে পিছিয়ে রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদবরা।
গত ১৩ বছর ধরে আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিততে পারে না মুম্বাই। ১৪তম বছরে তাদের এবার প্রতিপক্ষ কলকাতা নাইট রাইডার্স। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রোববার রাতে কলকাতার মুখোমুখি হবে মুম্বাই। এই ম্যাচে ১৩ বছরের অপেক্ষা ফুরোবে কিনা সেটিই বড় প্রশ্ন।
সবশেষ ২০১২ সালের আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতেছিল মুম্বাই। এরপর ১৩ বছরে আর প্রথম ম্যাচ জেতা হয়নি তাদের।
২০১৩, ২০২১ ও ২০২৩ সালের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু; ২০১৪ ও ২০১৫ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্স; ২০১৬-১৭ সালে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস; ২০১৯ ও ২০২২ সালে দিল্লি ক্যাপিটালস; ২০১৮, ২০২০ ও ২০২৫ সালে চেন্নাই সুপার কিংস এবং ২০২৪ সালে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ হেরেছে মুম্বাই।
অথচ এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা চার আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যথাক্রমে চেন্নাই, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ও চেন্নাইকে হারিয়েছিল মুম্বাই। কিন্তু ২০১৩ সালে বেঙ্গালুরুর কাছে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর পরই যেন মোড়ক লেগেছে তাদের প্রথম ম্যাচে।
এবার ২০২৬ সালে কলকাতার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে মুম্বাই। তাদের বিপক্ষে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে প্রথম ম্যাচ হেরেছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
তবে অন্য এক পরিসংখ্যান থেকে সাহস পেতে পারে মুম্বাই। এখন পর্যন্ত মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ১২ ম্যাচ খেলে মোটে ২টি (২০১২ ও ২০২৪) ম্যাচ জিততে পেরেছে কলকাতা। হেরেছে বাকি ১০ ম্যাচে। তাই দুই দলের জন্যই এটি নিজেদের অতীত রেকর্ড বদলানোর ম্যাচ।
কলকাতার সম্ভাব্য একাদশ (ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারসহ ১২ জন)
ফিন অ্যালেন, অজিঙ্কা রাহানে, আংকৃশ রঘুবংশী, ক্যামেরন গ্রিন, রিঙ্কু সিং, অনুকুল রায়, রমনদ্বীপ সিং, সুনিল নারিন, বৈভব অরোরা, বরুণ চক্রবর্তী, ব্লেসিং মুজারাবানি, উমরান মালিক/কার্তিক ত্যাগী
মুম্বাইয়ের সম্ভাব্য একাদশ (ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারসহ ১২ জন)
রোহিত শর্মা, কুইন্টন ডি কক/রায়ান রিকেল্টন, তিলক বর্মা, সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, নমন ধীর, শেরফান রাদারফোর্ড, দীপক চাহার, এএম গজনফর, জাসপ্রিত বুমরাহ, আশওয়ানি কুমার, ট্রেন্ট বোল্ট

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরুর আগে বিদেশি খেলোয়াড়দের নাম প্রত্যাহারের প্রবণতা বেড়েছে। তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুনীল গাভাস্কার। এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেটি যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ভারতের কিংবদন্তি এ ক্রিকেটার।
আইপিএলের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নিলামে দল পাওয়ার পর কোনো খেলোয়াড় চোট বা জরুরি মেডিকেল কারণ ছাড়া নাম প্রত্যাহার করলে তাকে পরবর্তী দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তবে হ্যারি ব্রুক ও বেন ডাকেটের মতো খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এই নিয়মের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গাভাস্কার।
ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাভাস্কার বলেন, ‘দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই কাজ করছে না। এমন কিছু করতে হবে যা খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ক্যারিয়ার বা আইপিএলে ফেরার সুযোগে বড় কোনো ধাক্কা না লাগছে, ততক্ষণ এই প্রবণতা থামবে না।’
এবারের মৌসুমে ডাকেটকে ২ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। মৌসুম শুরুর ঠিক আগে ব্যক্তিগত কারণ ও টেস্ট ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলে সরে দাঁড়ান। এই ইংলিশ ব্যাটারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গাভাস্কার বলেন, ‘ডাকেট হয়ত দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে ভালো দাম পাওয়ায় আইপিএলে নাম প্রত্যাহার করতে দ্বিধা করেননি। তিনি হয়ত এখন টেস্ট ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেওয়ার অজুহাত দিচ্ছেন, কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কী হবে?’
এর আগে গত মৌসুমে হ্যারি ব্রুক ৬.২৫ কোটি রুপিতে দল পাওয়ার পর নাম প্রত্যাহার করে বর্তমানে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন। ডাকেটের ক্ষেত্রেও এই দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
গতকাল থেকে শুরু হয়েছে আইপিএলের ১৯ তম সংস্করণের। একের পর এক বিদেশি খেলোয়াড় নাম সরিয়ে নেওয়ায় বিপাকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বর্তমানে ২৪ জনের স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দিল্লি ক্যাপিটালসকে।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আইপিএলের নতুন আসরের প্রথম ম্যাচ রাঙিয়েছেন বিরাট কোহলি। চমৎকার ইনিংসে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে এনে দিয়েছেন দারুণ জয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে খেলেছেন ৩৮ বলে ৬৯ রানের ইনিংস।
অথচ এই ম্যাচের আগে গত ৯ মাস কোনো টি-টোয়েন্টি খেলেননি কোহলি। গত আইপিএল ফাইনালের পর এবারই প্রথম কোনো ২০ ওভারের ম্যাচ খেললেন তিনি। আর সেখানেই করলেন বাজিমাত। এর রহস্য হিসেবে কোহলি বললেন, মাঠে নামলে ১২০ শতাংশ প্রস্তুত হয়েই মাঠে নামেন তিনি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন শুধু আইপিএলেই কুড়ি ওভারের ক্রিকেট খেলেন কোহলি। গত বছরের জুনে বেঙ্গালুরুর প্রথম আইপিএল শিরোপা জয়ের ম্যাচ দিয়েই এই সংস্করণে সবশেষ ম্যাচ খেলেন তিনি।
এরপর মাঝের ৯ মাসে খুব বেশি ক্রিকেট খেলেননি কোহলি। গত জানুয়ারিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে আলো ছড়ান তিনি। পরে আবার দুই মাসের বিরতি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে এরকম বিরতিগুলো দারুণ কাজে দিচ্ছে মনে করেন তিনি।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ২০২ রান তাড়া করে বেঙ্গালুরুকে জেতানোর পর বিরতি ও বিশ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরেন কোহলি।
“গত ১৫ বছর যে ধরনের ব্যস্ত সূচি ও যে পরিমাণে ক্রিকেট আমি খেলেছি, বিষয়টা অপ্রস্তুত থাকার চেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকিটা বেশি। তাই এসব বিরতি অনেক কাজে দেয়। আমি সতেজ থাকি, (খেলার জন্য) রোমাঞ্চিত থাকি। যখনই মাঠে ফিরি, ১২০ শতাংশ প্রস্তুত থাকি। আর যদি না ফিরি, তাহলে বুঝে নেবেন আমি অপ্রস্তুত।”
“অতিরিক্ত বিশ্রাম আমাকে মানসিকভাবে সতেজ হতে সাহায্য করে। আপনি যখন শারীরিকভাবে ফিট থাকেন ও মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত থাকেন, তখন এই দুটি একসঙ্গে খুব সুন্দরভাবে কাজ করে। আপনি দলের জন্য অবদান রাখতে পারেন, যেটা খেলোয়াড় হিসেবে মূল লক্ষ্য। কখনও শুধু দলে জায়গা ধরে রাখতে চাইবেন না। আপনি পারফর্ম করতে চান, দলের জন্য নিয়মিত পরিশ্রম করে যেতে চান।”
দুইশ ছাড়ানো লক্ষ্য তাড়ায় রয়েসয়ে শুরুর পর ৩৩ বলে ফিফটি করেন কোহলি। পরে ১৬তম ওভারে টানা চার বলে ৬, ৪, ৪ ও ৪ মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি। সব মিলিয়ে ৫টি করে চার-ছক্কা মেরে ৩৮ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন কোহলি।
৩৭ বছর বয়স পেরিয়েও ম্যাচ জেতানো এই ইনিংসে নিজের সেরা সময়ের মতোই ফ্লিক, কাভার ড্রাইভ বা অন ড্রাইভ খেলেন কোহলি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, এসব নিয়ে ফাঁকা সময়ে অনেক ঘাম ঝরিয়েছেন তিনি।
“আমি এমন কোনো শট খেলিনি, যেগুলো আমি সাধারণত খেলি না। আমি জানতাম, যতক্ষণ রিদম ঠিক আছে ও ফিটনেসের দিক থেকে আমি পর্দার আড়ালে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি, সবকিছু ঠিকভাবে মিলেই যাবে। আজকের রাতটা ছিল আরেকটা সুযোগ- ভালোভাবে শুরু করার ও এগিয়ে যাওয়ার।”