
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জিকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, সাকিব-তামিমরা কেন গেইল-পোলার্ডদের মত পাওয়ার হিটিং করতে পারেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ব্যাটার এর ব্যাখায় খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তফাৎটা। কাছ থেকে দেখার ও কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেছিলেন, চাইলেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের পক্ষে ওই ধরনের পাওয়ার হিটিং সম্ভব নয়। স্রেফ গায়ের জোরে ছক্কা হাঁকানোর সেই দক্ষতা সহজাত হতে হয়। তবে সেটা যেহেতু নেই, তাদের বাংলাদেশের ব্যাটারদের উচিত গেইলদের মত চারটি ছক্কায় ২৪ রান করার চেয়ে ছয়টি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ২৪ রান করার দিকে মনোযোগ দেওয়া। কারণ, দিনশেষে রানটাই আসল, সেটা সিঙ্গেলস থেকেই হোক, চার মেরে হোক আর ছক্কা থেকে। ম্যাকেঞ্জি অনেক আগে বিদায় নিলেও বাংলাদেশ দল যেন আজও আটকে আছে সেই গোলকধাঁধার মধ্যেই।
আরও পড়ুন
| মোসাদ্দেকের ঘূর্ণি, শিবলির ঝড়ে উড়ে গেল সিলেট |
|
সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপের ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলকে রান তাড়ায় খেলতে হত হিসেবী ক্রিকেট। ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন এই উইকেটে ছক্কা মারার চেয়ে বেশি দরকার ছিল সিঙ্গেস-ডাবলস নেওয়া আর সুযোগ বুঝে বড় শট খেলা। অথচ মাত্র ১৩৬ রান তাড়া করতে নেমে প্রতিটি ব্যাটার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন ছক্কা মারার। গোটা ইনিংসে ৭টি ছক্কার মার এলেও শেষ পর্যন্ত সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় জাকের-শামীমদের জন্য। প্রচুর ডট বলের চাপে শেষ পর্যন্ত শেষ পর্যন্ত হেরে যেতে হয় ১১ রানে। তাতে সমাপ্তি ঘটে ফাইনালে খেলার স্বপ্নের। অথচ মাত্রাতিরিক্ত পাওয়ার হিটিংয়ের চেষ্টা না করলে হয়ত সহজেই আরেকটি এশিয়া কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারত বাংলাদেশ। কেন সেটা হলো না?
এখানে আলোচনায় সবার আগে আসবেন এশিয়া কাপের আগে অল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশ দলের সাথে কাজ করা জুলিয়ান উডের নাম। বিশ্বের প্রথম পাওয়ার হিটিং কোচ হিসেবে পরিচিত উড লিটন-জাকেরদের দীক্ষা দেন পাওয়ার হিটিংয়ের। তিনি আসার পর থেকে সবার মধ্যে একটা বদ্ধ ধারণা হয়েই গিয়েছিল যে, এখন থেকে হয়ত নিয়মিতভাবে বড় বড় ছক্কা হাঁকাতে পারবেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। নেদারল্যান্ডসের সাথে সিরিজে তার কিছু ঝলকও দেখা যায়। তবে ক্রিকেটে কন্ডিশন ও পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করার স্কিল জানাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ, যা বড় মঞ্চে বারবার ভুলে যান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
আরও পড়ুন
| চ্যাম্পিয়ন হলে পিসিবি চেয়ারম্যানের হাত থেকে ট্রফি নেবে ভারত? |
|
পাকিস্তানের সাথে সেই ম্যাচে নুরুল হাসান সোহান পাঁচে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান। সাইম আইয়ুবের শিকার হওয়ার আগে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার এরপর খেলেন ২০টি বল, আর রান করেন মাত্র ১০! নেই কোনো চার বা ছয়ের মার। অথচ তিনি যখন ক্রিজে যান, তখন বল ও রানের ব্যবধান ছিল নাগালের মধ্যেই। কিন্তু অতিরিক্ত পাওয়ার হিটিংয়ের চেষ্টায় তিনি ডট বল খেলে চাপ বাড়ান নিজের ও দলের ওপর। চারে নামা অফ স্পিনার শেখ মেহেদি হাসান ১০ বলের ইনিংসে একটি ছক্কা মেরেও করতে পারেন মাত্র ১১ রান।
সেই ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যাটারদের মাঝেও ছিল সেই একই প্রচেষ্টা। ইনিংসের শুরু থেকেই সবাই চেষ্টা করেছেন বড় শট খেলার, যার চড়া মাশুল গুনতে হয়েছে দলকে। পাকিস্তানের আগে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেও একই ভুল করেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ৫১ বলে ৬৯ রান করা সাইফ হাসান একাই হাঁকান ৫টি ছক্কা, যেখানে বাকিরা মিলে মারতে পারেন মাত্র একটি ছক্কা। ১৬৯ রানের টার্গেটে থেমে যেতে হয় মাত্র ১২৭ রানেই। এই ম্যাচেও ছিল সেই একই চিত্র। সাইফ একপ্রান্ত আগলে খেললেও অন্যরা বড় শট মারার চেষ্টায় বিলিয়ে দেন উইকেট।
আরও পড়ুন
| দলে ফিরলেন সৌম্য, জাকেরই অধিনায়ক |
|
বাংলাদেশের এই দলে ফিনিশার রোলে খেলা জাকের আলি অনিক ছক্কা মারার জন্য অল্প সময়েই পরিচিতি পেয়েছেন বেশ। তবে এশিয়া কাপে প্রায় ৭০টি ডেলিভারি খেলেও তার ব্যাট থেকে আসেনি একটি ছক্কার মার। দলে যার ভূমিকাই ফিনিশিং টাচ দেওয়া, তিনিই যদি ছক্কা হাঁকাতে না পারেন, তাহলে সেটা দলের ওপর বাড়তি চাপ যোগ করে। জাকেরের অতিরিক্ত পাওয়ার হিটিংয়ের প্রচেষ্টা তার জন্য বারবার বুমেরাং হয়েছে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, চলতি বছর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কা মারার ক্ষেত্রে নিজেদের সেরা সময় কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। এরই মধ্যে এক বছরে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন তরুণ ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। তবে এসব ছাপিয়ে বড় মঞ্চে ভালো করতে হলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করা, যা করতে পারছেন না তাওহীদ-জাকেররা। ক্রিকেটার হিসেবে তারা যতদিন পর্যন্ত পরিণতবোধ না দেখাতে পারছেন, ততদিন পর্যন্ত উডের মাপের পাওয়ার হিটিং কোচ এনেও কাজের কাজ খুব একটা কাজ হবে না।
No posts available.
২৯ মার্চ ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম
২৯ মার্চ ২০২৬, ৭:০৫ পিএম
২৯ মার্চ ২০২৬, ৪:১৩ পিএম

পরপর দুই ম্যাচে ফিফটির দেখা পেলেন শামিল হোসেন। এবার তার সঙ্গে যোগ দিলেন হাসান নাওয়াজ। দুজনের চমৎকার ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়ে গেল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স। যা আর টপকাতে পারল না হায়দরাবাদ কিংসমেন। ফলে প্রথম জয় পেয়ে গেল গ্ল্যাডিয়েটর্স।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার বিকেলের ম্যাচে কিংসমেনকে ৪০ রানে হারিয়েছে গ্ল্যাডিয়েটর্স। আগে ব্যাট করে জোড়া ফিফটিতে ১৭৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানের বেশি করতে পারেনি কিংসমেন।
দুই ম্যাচে এটিই গ্ল্যাডিয়েটর্সের প্রথম জয়। অন্য দিকে পরপর দুই ম্যাচ হারল এবারই প্রথম পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে আসা কিংসমেন।
ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি গ্ল্যাডিয়েটর্সের। শুরুতেই ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন সৌদ শাকিল (৪) ও রাইলি রুশো (০)।
চাপ সামাল দিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৬৪ বলে ৮৯ রানের জুটি গড়েন শামিল ও নাওয়াজ। আগের দিন মাত্র ২১ বলে ফিফটি করা শামিল এদিন খেলেন ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৪১ বলে ৫৪ রানের ইনিংস। নাওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ৪০ বলে ৫৩ রান।
শেষ দিকে ১৮ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলে দলকে ১৭০ পার করান টম কারান।
কিংসমেনের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন রিলে মেরেডিথ। এছাড়া মাহিশ থিকশানা ও আকিফ জাভেদ নেন ২টি করে উইকেট।
রান তাড়ায় একবারের জন্যও জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেনি কিংসমেন। ১০ ওভারের মধ্যে মাত্র ৫৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকেই যায় তারা।
সেখান থেকে ইরফান নিয়াজি ২৫ বলে ৩৩ ও হাসান খান ১৯ বলে ৩১ রান করলে পরাজয়ের ব্যবধান কমায় নবাগত দলটি।
গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে ৪ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন আবরার আহমেদ। এছাড়া ৪ ওভারে ১৩ রানে ২ উইকেট শিকার আহমেদ দানিয়ালের।

আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
রবিবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য মোশাররফ হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, ২০০৮ সাল থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের অভিযোগ যাচাই করতে শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় বিবেচনায় অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
আমিনুল বলেন, ‘আপনারা জেনে অবাক হবেন, অতীতে বিসিবির আর্থিক ও মানবসম্পদ ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠীকে জনগণের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার কাজে সহায়তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন জানতে চান, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিসিবির সম্পদের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে কি না। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ও অযোগ্য ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল।
জবাবে আমিনুল হক বলেন, পূর্ববর্তী সরকার আমলে ক্রিকেটসহ ক্রীড়া খাত ব্যাপকভাবে রাজনীতিকরণের শিকার হয়েছিল, যার ফলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে স্থবিরতা দেখা দেয়। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্রীড়া খাতকে রাজনীতিমুক্ত করতে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিসিবির কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে উদ্বেগের বিষয় তার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালকের কাছে চলমান তদন্তের তথ্য চাওয়া হবে, যাতে বিষয়টি জনসমক্ষে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা যায়।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শনিবার মধ্যরাতে ঢাকায় পৌঁছানোর পর রোববারই তিনি খোঁজ নিয়েছেন জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পের, একইসঙ্গে সেরেছেন দাপ্তরিক কার্যক্রমও।
গত মাসে রমজান শুরুর আগেই পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে অস্ট্রেলিয়া চলে গিয়েছিলেন বুলবুল। এর মাঝে নানা ধরনের গুঞ্জন ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে, আর হয়তো দেশে ফিরবেন না তিনি। অস্ট্রেলিয়া থেকে দিয়ে দিতে পারেন নিজের পদত্যাগপত্র।
সেসব গুজব উড়িয়ে দিয়ে রোববার প্রথম প্রহরে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের এই সাবেক অধিনায়ক। প্রাথমিকভাবে ২৬ মার্চ ফেরার কথা থাকলেও, সেটি দুই দিন পিছিয়ে বাংলাদেশে ফিরলেন বুলবুল।
দেশে ফিরে একদমই সময় নষ্ট করেননি বুলবুল। রোববার বিসিবি কার্যালয়ে এসে রুটিন ওয়ার্ক সেরেছেন তিনি। পরে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলমান জাতীয় দলের ফিটনেস ক্যাম্পের খোঁজ নিয়েছেন তিনি।
এসময় জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গেও কথা বলেন বিসিবি সভাপতি। বোর্ড পরিচালক ও ক্রিকেট অপ্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমও তার সঙ্গে ছিলেন।
সামনের দিনগুলোতে বুলবুলের জন্য অবশ্য বেশ কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। কারণ স্থবির হয়ে আছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। এটি আবার চালুর ব্যবস্থা নিতে হবে তার।
এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে বিসিবি নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তের জন্য বিশেষ কমিটি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই হয়তো সেই কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বসতে হবে বিসিবি সভাপতির।

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বিরাট কোহলিকে ঘিরে আলোচনা থামেনি। বরং প্রশ্নটা আরও বড় হয়েছে। ওয়ানডেতে মাঠে নামলেই আলোচনা শুরু হয়, এটাই কি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়?
এই প্রশ্নের মাঝেই নতুন পরামর্শ দিলেন আম্বাতি রাইডু। তার মতে, কোহলির শুধু ওয়ানডে খেলা নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও ফেরা উচিত এবং সেটি অধিনায়ক হিসেবেই।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের নতুন আসরের প্রথম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে কোহলির ৩৮ বলে ৬৯ রানের ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ইনিংস যেন সেই দাবির পক্ষে জোরাল যুক্তি হয়ে উঠেছে।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইনিংস নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন তিনি। ইনিংসজুড়ে খেলেছেন সেরা সময় মনে করিয়ে দেওয়ার মতো বেশ কয়েকটি শট।
ম্যাচ শেষে তাকে প্রশংসায় ভাসান ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রাইডু।
“আমি মনে করি না, কোহলি ক্যারিয়ারের শেষের কাছাকাছি কোথাও আছে। তার সামনে এখনও পাঁচ-ছয়টা ভালো বছর আছে। আমরা আলোচনা করছিলাম, তার টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা উচিত, আর সেটা অধিনায়ক হিসেবেই হলে ভালো হয়।”
রাইডুর মূল্যায়নে, কোহলি এখনও ভারতের সেরা টেস্ট অধিনায়কদের একজন নন, বরং সেরা।
“আমরা সিরিয়াস- ভারতীয় ক্রিকেটে আমি যত লাল বলের অধিনায়ক দেখেছি, তাদের মধ্যে কোহলিই সেরা। এখনও সে যেভাবে ব্যাটিং করছে, তাতে তার না থাকা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ক্ষতি।”
কোহলির অপরাজিত ইনিংসটি ছিল সেই পুরোনো ধারার প্রতিচ্ছবি- কভার ড্রাইভে নান্দনিকতা, স্ট্রেইট ড্রাইভে আত্মবিশ্বাস আর কবজির জোরে ফ্লিক শটে ছক্কা। বয়স বা ফরম্যাট- কোনোটিই যেন তার ব্যাটিংয়ের ধার কমাতে পারেনি।
কোহলিকে দলের ‘চেজমাস্টার’ হিসেবেই দেখছেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পাতিদার।
“সে আমাদের এক নম্বর চেজমাস্টার। যেভাবে সে পরিস্থিতি বোঝে এবং ইনিংস গড়ে, সেটা ডাগআউট থেকে দেখাও দারুণ অভিজ্ঞতা।”

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৪ জন। একটি ছক্কা মারলেও প্রথম পাঁচ বলে ৮ রানের বেশি নিতে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ বলে বাকি থাকল ৬ রান। দুর্দান্ত শটে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে দিলেন কায়লা রেইনেক।
দলকে জেতানোর পাশাপাশি রেকর্ডও গড়লেন অভিষিক্ত অলরাউন্ডার। পুরুষ ও নারী মিলিয়ে বিশ্বের মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে একাধিক ফরম্যাটে নিজের অভিষেক ম্যাচেই প্লেয়ার অব দা ম্যাচ হলেন রেইনেক।
এতদিন এই রেকর্ডটি ছিল শুধু চার জনের, যেখানের বাংলাদেশের দুজন- ইলিয়াস সানি ও মোস্তাফিজুর রহমান। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন সানি। আর ২০১৫ সালে ওয়ানডের পর টেস্ট অভিষেকে সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন মোস্তাফিজ।
এছাড়া ইংল্যান্ডের বেন ফোকস ওয়ানডে ও টেস্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লুঙ্গি এনগিডি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের অভিষেকেই ম্যাচ সেরা নির্বাচিত।
ক্রাইস্টচার্চে রোববার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মোস্তাফিজদের এই রেকর্ডে ভাগ বসান প্রোটিয়া অলরাউন্ডার। তার নৈপুণ্যে ম্যাচের শেষ বলে গিয়ে ২ উইকেটের জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দল।
দলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে ৩২ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন রেইনেক। এর আগে গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ১৩ রানে ২ উইকেটের পাশাপাশি ১৬ বলে ২৯ রান করে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ২০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। সেদিনও শেষ বলে ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এবার রেইনেকের ওয়ানডে অভিষেকের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ম্যাডি গ্রিনের ৮৫ রানে ভর করে ২৬৮ রানে অলআউট হয় নিউ জিল্যান্ডের মেয়েরা। জবাবে অ্যানারি ডেরেকসেন ৭২ ও সুন লুস ৫৩ রান করলেও শেষ দিকে গিয়ে চাপে পড়ে যায় প্রোটিয়ারা।
তবে একপ্রান্ত ধরে রেখে দলকে জয়ের পথে রাখেন অভিষিক্ত রেইনেক। পরে সুজি বেটসের করা শেষ ওভারে ১৪ রান প্রয়োজন পড়লে তৃতীয় বলে প্রথম ছক্কা মারেন তিনি। কিন্তু পরের দুই বল ডট খেলায় চাপ পড়ে শেষ বলে গিয়ে।
রাউন্ড দা উইকেট থেকে ফুল লেংথে করেন অভিজ্ঞ বেটস। সামনের পা সরিয়ে সজোরে লং অন দিয়ে উড়িয়ে মারেন রেইনেক। সীমানার ওপারে যেতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন রেইনেক ও তার সতীর্থ টুমি সেখুখুনে।
নারী ও পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বের আর কোনো ক্রিকেটার একাধিক ফরম্যাটে অভিষেক ম্যাচেই শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতাতে পারেননি।
এর আগে ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়েছিলেন পাকিস্তানের জুলফিকার বাবর। তবে সেদিন জয়ের জন্য বাকি ছিল শুধু ১ রান।