১২ নভেম্বর ২০২৪, ৬:৩৩ পিএম

হাতে আছে চার মাসেরও কম সময়। আইসিসির আর দশটা টুর্নামেন্ট হলে এমন সময়ে আয়োজক দেশ ব্যস্ত থাকে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে, সূচিও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় বা হওয়ার পথে থাকে। ভেন্যুগুলোতে চলে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। তবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পাকিস্তানে হওয়ার এই সময়েও রয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা। ভারত কোনোভাবেই যাবে না প্রতিবেশী দেশে খেলতে, আর ছাড় দিতে নারাজ পাকিস্তানও। তাদের দাবি, হয় ভারতকে তাদের দেশে আসতে হবে বা রোহিত-কোহলিকে ছাড়াই আয়োজন হবে এবারের আসরের।
সবকিছু ঠিক থাকলে, গত সোমবার থেকে ১০০ দিনের কাউন্টডাউন শুরু হতো আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫-এর। লাহোরে হত বিশাল আয়োজন। জানানো হতো টুর্নামেন্টের সূচি। কিন্তু তা আর হলো কই। এর পেছনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের অনড় অবস্থানও কম দায়ী নয়।
আরও পড়ুন
| ‘ভারত-পাকিস্তান আছে বলেই আইসিসি টিকে আছে’ |
|
পাকিস্তানে হিয়ে খেলার ক্ষেত্রে গোড়ামি যে শুধু ভারতেরই নয়। পাকিস্তানও যেন পণ করেছে, একচুল ছাড় ভয় ভারত ক্রিকেট বোর্ডকে। ২০২৩ সালের এশিয়া কাপের হাইব্রিড মডেলকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তারা কিছুতেই মানবে না। গেল বছর এশিয়া কাপে ভারত ছাড়া বাকি দলগুলো খেলেছে পাকিস্তানের মাঠে। শুধু ভারতের জন্যে শ্রীলঙ্কাতেও বসাতে হয়েছিল ভেন্যু। তবে এবার পাকিস্তান তাতেও রাজী না।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আইসিসিকে ই-মেইলে জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানে খেলতে যেতে অপারগ। ভারত সরকার তাদের পাঠাবেন না। প্রস্তাব দিয়েছে হাইব্রিড মডেলে তাদের ম্যাচগুলো অন্য আরেকটি দেশের রাখার জন্য। সেটা আবার আইসিসি পাকিস্তানকে মেইল করে জানিয়েছে।
পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, ভারত যদি এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে না আসে, তবে মাইনাস ইন্ডিয়া বা বয়কট ইন্ডিয়া নীতিতে এগোতে পারে পাকিস্তান। অর্থাৎ, ভারতকে ছাড়াই টুর্নামেনট আয়োজনের কথা ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। গণমাধ্যমগুলো এমনও বলছে, ভারত পাকিস্তানে না খেলা অব্দি পাকিস্তানও কোন টুর্নামেন্টেই ভারতের সঙ্গে আর খেলবে না। পিসিবিও নাকি এগোচ্ছে এমন পরিকলল্পনার দিকেই।
আরও পড়ুন
| রউফের ফাইফারে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিল পাকিস্তান |
|
ভারত-পাকিস্তানের বৈরিতা তো নতুন কিছু না। তবে এরপরেও দুই দলের মধ্যে সফর ছিল প্রায় নিয়মিত। মাঝে শুধু ১৯৬২ থেকে ১৯৭৭ সাল দুবার যুদ্ধে জড়িয়ে আসা যাওয়া বন্ধ ছিল দুই দেশ। এর আগে-পরেও একাধিকবার সফর বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। তবে একুশ শতকে কোনো যুদ্ধ না লাগলেও এক যুগ ধরে ভারত-পাকিস্তান একে অপরের দেশে সফর করে না।
পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে সবশেষ ভারতে গেছে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। আর ভারতীয় দলের সর্বশেষ পাকিস্তান সফর ২০০৭ সালে। এর পরের বছরও ভারতের একটি দল পাকিস্তানে গেছে, তবে সেটা এশিয়া কাপের জন্য। এর পর থেকে চলছে লম্বা বিরতি। আর গত ৮ বছরে দুই ফরম্যাটের দুটি বিশ্বকাপ খেলতে দুইবার ভারতে গেছে পাকিস্তান।
গত বছর এশিয়া কাপের জন্য ভারতীয় দলের পাকিস্তানে যাওয়া না–যাওয়া নিয়ে যখন তুমুল আলোচনা, তখন জাভেদ মিয়াঁদাদের একটি মন্তব্য ভারতীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। মিয়াঁদাদ বলেছিলেন, “ভারত জানে পাকিস্তানের কাছে হারলে তাদের দেশের মানুষ ছেড়ে কথা বলবে না। এমনকি নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত উধাও হয়ে যাবেন, ভারতের জনগণ তাঁকেও ছাড়বে না। এই ভয়ৈই ভারত আসে না। পাকিস্তানে যদি তারা খেলতে না আসে, তাহলে তারা জাহান্নামে যাক।”
পাকিস্তানে না যাওয়া নিয়ে বিসিসিআই সব সময়ই সরকারের অনুমোদন না থাকার কথা বলে। কিন্তু ভারত সরকারের কেউ কখনোই স্পষ্ট করে বলেন না ঠিক কী কারণে অনুমতি দেওয়া হয় না। আর এ ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমে ভারতের ক্রিকেট–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একটা শব্দই নিয়মিত উচ্চারণ করে থাকেন—‘নিরাপত্তা’।
আরও পড়ুন
| ভারতের অংশগ্রহণে পাকিস্তানেই হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, আশা পিসিবির |
|
পাকিস্তানে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কিন্তু শঙ্কা কমবেশি সব দেশেরই থাকে। ২০০৯ সালের মার্চে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর হামলার ঘটনায় তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসনেই চলে গিয়েছিল পাকিস্তানের ভেন্যু। এমনকি ২০১১ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক হলেও পাকিস্তানে শেষ পর্যন্ত কোনো ম্যাচই হয়নি।
পাকিস্তানে ভারত ক্রিকেট দলের সফর বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে লাহোরের ঘটনা ছিল সবার জন্য ‘কমন ফ্যাক্টর’। লাহোর হামলার পরবর্তী ছয় বছর কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশই আর পাকিস্তানে সফর করেনি। তবে ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের মাধ্যমে আবার দরজা খোলার পর গত কয়েক বছরে প্রায সব দেশই পাকিস্তানে খেলতে গেছে। বাকি কেবল ভারতই।
এর পেছনে ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর টানা চার দিন মুম্বাইয়ে দফায় দফায় সন্ত্রাসী হামলার কারণটিও জড়িত। ওই হামলায় প্রায় পৌনে দুই শ মানুষ নিহত হয়। মুম্বাইয়ে সেই সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় পাকিস্তানকে সরাসরি দায়ী করে ভারত। এতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ঠেকে তলানিতে । সঙ্গে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর হামলার ঘটনা মিলিয়ে ভারত, পাকিস্তানে ক্রিকেট দল পাঠানো বন্ধ করে দেয়।
২০১৫ সালের শেষে সম্ভাবনা দেখা দেয় পিসিবি আর বিসিসিআইয়ের মধ্যকার এক বৈঠকের আহবানে। বৈঠকের দিন ওয়াংখেড়েতে হানা দেন শিবসেনার কর্মীরা। প্রায় দুই শর মতো শিবসেনা বিসিসিআই প্রধান শশাঙ্ক মনোহরসহ অন্যদের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখলে পিসিবি-বিসিসিআই বৈঠক পণ্ড হয়ে যায়।
বিসিসিআইয়ের তখনকার সচিব অনুরাগ ঠাকুর বলেছিলেন, “আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা নিয়ে আলোচনা করতে পারি তিনটি শর্তে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, ভারতীয় ক্রিকেটারদের স্বার্থ এবং ভারতীয় জনগণের অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে।”
তবে সেই শর্ত পূরণ হয়েছে নাকি হয়নি, আজ অব্দি তা নিয়ে কোনো পক্ষ থেকেই আসেনি পরিস্কার কোন বক্তব্য। ২০২৩ সালের এশিয়া কাপ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপ ঘিরে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক পুনরায় চালু নিয়ে আবার ব্যাপক মাত্রায় আলোচনা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তান সব ভুলে কিন্তু বিশ্বকাপেও খেলেছে ভারতে গিয়ে। আবার ভারতের ইচ্ছেনুযায়ী হাইব্রিড মডেলও দিয়েছে এশিয়া কাপে। তবে পাকিস্তানে গিয়ে খেলার ব্যাপারে অতীতের অবস্থান পরিবর্তন এখন ও নিকট ভবিষ্যতেও হয়ত করবে না ভারত।
আর সেই কারণেই উঠছে প্রশ্ন, অল্প সময়ের মধ্যে আয়োজক দেশ ও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও ক্ষমতাধর ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই - দুই পক্ষকে খুশি রেখে আইসিসি কী পারবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ঠিক সময়ে আয়োজনে এগিয়ে যেতে? বাস্তবতা বলছে, খুব জটিল সময় অপেক্ষা করছে ৫০ ওভারের এই টুর্নামেন্টের জন্য।
No posts available.
৮ এপ্রিল ২০২৬, ৭:১৯ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই প্রথম বোর্ডসভায় হাজির হলেন তামিম ইকবাল। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবারের এই সভায় স্ট্যান্ডিং কমিটি ঠিক করে ফেলেছে তামিমের নতুন বোর্ড।
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম নিজেই জানিয়েছেন নতুন স্ট্যান্ডিং কমিটির সবার নাম। একইসঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাড়ানোসহ আরও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বুধবারের বোর্ড সভায়।
স্ট্যান্ডিং কমিটি সাজানোর আগে মঙ্গলবারের প্রথম পরিচিতি সভায় মুখপাত্র হিসেবে ঠিক করা হয়েছিল তানজিল চৌধুরির নাম। তবে ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে এই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তাই নতুন করে অন্য কাউকে মুখপাত্র বানানো হবে জানিয়েছেন তামিম।
ফলে বুধবারের সভার পর এডহক কমিটির প্রধান নিজেই সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন। এসময় তিনি জানিয়েছেন, সঙ্গত কারণবশত ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের দায়িত্ব আপাতত কাউকে দেওয়া হবে না। কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এলে সেটি বোর্ড সভায় সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমাধান হবে।
এডহক কমিটির সদস্য সংখ্যা মাত্র ১১ জন। তবে বিসিবির স্ট্যান্ডিং কমিটির সংখ্যা ২৩টি। তাই সঙ্গত কারণেই একাধিক কমিটির দায়িত্ব নিতে হয়েছে তামিম ইকবাল, ফাহিম সিনহা, সালমান ইস্পানাহি, রাশনা ইমাম, ইসরাফিল খসরু ও সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদকে।
একনজরে বিসিবির নতুন স্ট্যান্ডিং কমিটি
ওয়ার্কিং এন্ড ফ্যাসিলিটিজ কমিটি - তামিম ইকবাল
গেইম ডেভেলপমেন্ট ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল - ফাহিম সিনহা
গ্রাউন্ডস কমিটি - রফিকুল ইসলাম বাবু
বয়সভিত্তিক ক্রিকেট - তানজিল চৌধুরী
মার্কেটিং ও ডিসিপ্লিন কমিটি - সালমান ইস্পাহানি
নারী ক্রিকেট, মেডিকেল ও অভিযোগ কমিটি - রাশনা ইমাম
ফাইন্যান্স ও ওয়েলফেয়ার - ইসরাফিল খসরু
সিকিউরিটি ও টেন্ডার পারচেজ - সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ
টুর্নামেন্ট কমিটি - মিনহাজুল আবেদিন নান্নু
লজিস্টিকস কমিটি - মির্জা ইয়াসির আব্বাস
আম্পায়ার্স কমিটি - আতহার আলি খান

মোহাম্মদ শামির জাতীয় দলে ফেরার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। তার মতে, চলমান আইপিএলে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই পেসারের এখনই ভারতীয় দলে ফেরা উচিত।
কলকাতায় লখনৌ সুপার জায়ান্টস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচের আগে শামির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন গাঙ্গুলি।
“বুমরাহর সঙ্গে অন্য প্রান্তে বল করার কথা যদি কারও হয়, সেটা শামিরই। অন্য কেউ নয়। ও কতটা ভালো, সেটা আমরা সবাই জানি।”
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে শামির বিধ্বংসী স্পেল বিশেষভাবে উল্লেখ করেন গাঙ্গুলি। ওই ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন শামি, থামিয়ে দেন ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মার মতো দুই মারকুটে ব্যাটসম্যানকে। সেই পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরাও হন তিনি।
গাঙ্গুলির ভাষায়, 'হেড আর অভিষেকের মতো দুই সেরা টি-টোয়েন্টি ব্যাটারের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান- এটা অসাধারণ ছিল।”
শুধু আইপিএল নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটেও শামির ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন ভারতের সাবেক বিসিসিআই সভাপতি। বিশেষ করে রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার হয়ে তার পারফরম্যান্সের কথা স্মরণ করেন তিনি।
“রঞ্জি ট্রফিতেও ওর মৌসুমটা দারুণ গেছে। সেমিফাইনালে বাংলা হারলেও শামি ৮ উইকেট নিয়েছিল। দলকে এতদূর আনার পেছনে ওর অবদান ছিল বিশাল।”
শামির ফিটনেস ও মানসিকতারও প্রশংসা করেন তিনি।
“ও এখনও রঞ্জি ট্রফি খেলতে চায়- এটা দেখেই ভালো লাগে। একজন ফাস্ট বোলারের জন্য এটা সহজ নয়। কিন্তু নতুন বলে শামির রান-আপ নিয়ে আসার দৃশ্য দেখার চেয়ে ভালো কিছু নেই।”
দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত বোলিং করায় শামি এখন শারীরিকভাবেও সেরা অবস্থায় আছেন বলে মনে করেন গাঙ্গুলি।
“ওকে ফিট ও তীক্ষ্ণ দেখাচ্ছে। মাসের পর মাস বল করলে স্বাভাবিকভাবেই শরীর সেরা ছন্দে আসে। অনুশীলনে সেটা পাওয়া যায় না।”
ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলে ধারাবাহিক ভালো করার পরও প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকরের অধীনে জাতীয় দলে জায়গা পাচ্ছেন না শামি। তবে গাঙ্গুলির বিশ্বাস, তার সময় আবার আসবে।
“আমি এখনও মনে করি, শামির ভারতের হয়ে খেলা উচিত। আশা করি খুব দ্রুতই সুযোগ পাবে। ও যখন সোজা সিমে বল ছাড়ে, সেটা দেখতে দারুণ লাগে।”

ম্যাচ চলাকালে একটি রান-আউটের সিদ্ধান্ত। সেটি ঘিরে তর্ক। পরে মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত। স্থানীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এক আম্পায়ার।
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে গত রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমদাহ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানা গেছে এই খবর। নিহত আম্পায়ারের নাম অজিত বাবু। সহ–আম্পায়ার বুদুমুরি চিরঞ্জীবীর সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনা করছিলেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাচ চলাকালে একটি রান-আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। দুই আম্পায়ার পরিস্থিতি সামাল দিয়ে মাঠের উত্তেজনা প্রশমিত করেন। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আবারও সেই বিরোধ নতুন করে শুরু হয়।
বিশাখাপত্তনমের সার্কেল ইনস্পেক্টর মাল্লেশ্বর রাও বলেন, মাঠের ঘটনা মিটে যাওয়ার পর এক দর্শক আম্পায়ার ও খেলোয়াড়দের গালিগালাজ শুরু করেন। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম কান্তা কিশোর (২৬)। তিনি ম্যাচে খেলোয়াড় ছিলেন না, দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য, ম্যাচ শেষে ‘বিষয়টি মীমাংসা’ করার কথা বলে আম্পায়ারদের অন্য একটি স্থানে ডেকে নেন কিশোর। সেখানে পৌঁছানোর পর আবারও তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে হঠাৎ ছুরি বের করে দুই আম্পায়ারের ওপর হামলা চালান কিশোর।
অজিত বাবুকে বুকে ছুরিকাঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে বাচাতে এগিয়ে গেলে সহ-আম্পায়ার চিরঞ্জীবীসহ আরও একজন আহত হন।
অজিত বাবুর পরিবারের অভিযোগ, ম্যাচ চলাকালেই কিশোর উত্তেজিত আচরণ করছিলেন এবং পরে মদ্যপ অবস্থায় ফিরে এসে হামলা চালান।
নিহতের ভাই বলেন, ‘সে (কিশোর) চিৎকার করছিল, তর্ক করছিল। হঠাৎ পকেট থেকে ছুরি বের করে অজিতের বুকে আঘাত করে।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলার পর অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা করা হলেও তিনি পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় অজিত বাবুকে প্রথমে ভিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক না থাকায় পরে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অজিত বাবুর বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোর এখনো পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বড় জনসমাগম হওয়া এসব টুর্নামেন্টে নিরাপত্তা জোরদার এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে একটার পর একটা তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। সত্যি বলতে কী, এসব তদন্তের অধিকাংশই দেখেনি আলোর মুখ। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফিক্সিং নিয়ে ৯শ পৃষ্ঠার রিপোর্ট বাক্সবন্দী করে রেখেছে বিসিবি। শুধু রেড ফ্লাডে থাকা ৮ ক্রিকেটারকে বিপিএলে অংশগ্রহন থেকে বিরত রেখেছে বিসিবি। নারী ক্রিকেটার জাহানারার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টও প্রকাশ করেনি বিসিবি। তদন্ত রিপোর্টে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় শুধুমাত্র নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক মুঞ্জুরুল ইসলামকে বিসিবির সকল কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে গত রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ( এনএসসি) জমা দিয়েছে তদন্ত রিপোর্ট। তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে গত মঙ্গলবার বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম খুঁজে পেয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করেছে এনএসসি।
তদন্ত কমিটির একজন সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী তদন্ত রিপোর্টের যে সামারি পেপার জমা দেওয়া হয়েছে, তার পৃষ্টা সংখ্যা ৩৪। তদন্ত কাজে যে সব রেফারেন্স রিপোর্টের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে, তার পৃষ্টা সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে এক হাজার। তবে এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সামনে তদন্ত রিপোর্টের উপর তাদের পর্যালোচনামূল রিপোর্ট পড়েছেন এবং পরবর্তীতে সংবাদ মাধ্যমে পিডিএফ কপি পাঠিয়েছে এনএসসি, তার পৃষ্টা সংখ্যা ১১। পঠিত এই ১১ পৃষ্টার পর্যালোচনা অভিযোগের পৃষ্টা সংখ্যা ৯, অবশিষ্ট ২ পৃষ্টা প্রস্তাবনা। তদন্ত কমিটির পেশকৃত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে ৬টি ধারায় মোট ২৩টি অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে এনএসসি।
এসব অভিযোগ কারা করেছেন, তাদের সবার নাম উল্লেখ করেনি এনএসসি। শুধুমাত্র অভিযোগের উৎস হিসেবে শরিফুল আলম এবং অন্যান্য কাউন্সিলরদের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের কাউকে কাউকে শুনানীতে হাজির হতে হয়েছে, কেউ লিখিত জবাব দিয়েছেন। অথচ, তাদের বক্তব্য কিন্তু পঠিত হয়নি। এমনকি সংবাদমাধ্যমকে তদন্ত রিপোর্টের উপর যে পর্যালোচনামূলক রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, সেই পিডিএফ কপিতে কোথাও তদন্ত কমিটির কারো সীল-স্বাক্ষর নেই।
তাঁর উপর তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে কমিটি প্রধানের বক্তব্যের সঙ্গে দুদিন পর তদন্ত রিপোর্টের উপর যে পর্যালোচনামূলক রিপোর্ট এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) পড়েছেন, তার মধ্যে মিল খুঁজে পাননি অনেকে। এ কারণেই তদন্ত রিপোর্টের উপর পর্যালোচনা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের সামারির পুরোটা সংবাদ মাধ্যমকে বিলি করলে কেটে যেতো এই ধোঁয়াশা। সমালোচনা এড়াতে এ পথে হাঁটাই ছিল উত্তম।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের ঘটনাটি ২৩ বছর আগে ঘটেছে। দক্ষিণ আফ্রিকয় অনুষ্ঠিত ২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যাচ্ছে-তাই পারফরমেন্সে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল আলী আসগার লবির নেতৃত্বাধীন বিসিবি। ৮০ দশকের শুরুতে বিসিবির সাবেক সভাপতি কমোডোর (অব.) মুজিবুর রহমান এবং তৎকালীন সচিব সৈয়দ শামীম হাসানকে নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্ট দেখেছে আলোর মুখ। প্রায় ২ মাস তদন্ত করে, বিশ্বকাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেককে জেরা করে ২০০৩ সালের ২৭ মে বিসিবিতে জমা দিয়েছিলেন তাঁরা।
পরদিন হোটেল সোনারগাঁয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল ইংরেজিতে লেখা ৩৪ পৃষ্টার তদন্ত রিপোর্টের সামারি। ছিল সূচিপত্র। যে সামারি রিপোর্টে ২ সদস্যের তদন্ত কমিটির সীল স্বাক্ষর ছিল। ফলে তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে ছড়ায়নি বিভ্রান্তি। তদন্ত রিপোর্টে চোখ বুলিয়ে সংবাদ মাধ্যম তাৎক্ষনিকভাবে যা জানার তা জেনে নিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিসিবি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। মনে আছে ওই রিপোর্টটি যখন প্রকাশ করা হয়, তখন রাজধানীতে বইয়ে গেছে কালবৈশাখী ঝড়। ফলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সংখ্যা ছিল বড়জোর বিশ জন।
ওই তদন্ত রিপোর্টে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট, টিম ম্যানেজার এ এস এম ফারুক এবং কোচ মহসীন কামাল হয়েছেন অভিযুক্ত। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে পাইলট হারিয়েছেন ক্যাপ্টেনসি, এ এস এম ফারুক স্থায়ীভাবে হারিয়েছেন টিম ম্যানেজারের দায়িত্ব। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পাকিস্তানী কোচ মহসীন কামালকে ভদ্রচিতভাবে বিদায় দিয়েছে বিসিবি। ওই তদন্ত কমিটির সুপারিশমালা বাস্তবায়নে পেশাদার বোর্ড পরিচালনার ফর্মূলা দেওয়া হয়েছিল।
বোর্ড পরিচালনার কাঠামো পর্যন্ত দিয়েছিলেন তারা। তাদের সেই সুপারিশমালা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করেছে বিসিবি। বিসিবি নিয়োগ দিয়েছে সিইও। জিম্বাবুইয়ান ম্যাক দুদিয়াকে এই দায়িত্ব দিয়ে পেশাদারী বোর্ড ম্যানেজম্যান্ট প্রবর্তন করেছে বিসিবি।
একটি তদন্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে এতো পরিবর্তন ? বোর্ড পরিচালনায় পেশাদারিত্ব প্রবর্তন-সত্যিই স্যালুট দিতে হবে দুই সদস্যের ওই তদন্ত কমিটিকে। বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়ম খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে গঠনতন্ত্র ব্যাপকভাবে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশমালাকে গুরুত্ব দিয়ে বিসিবির অ্যাডহক কমিটি যদি তাদের মেয়াদকালে গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে পারে, তাহলে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী বোলিংয়ের পর আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর কলকাতা লখনৌ সুপারজায়ান্টসের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামি। এবার তার গন্তব্য ‘নিজের মাঠ’ ইডেন গার্ডেন্স- যেখানে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে নামার আগে বাড়তি সুবিধা দেখছেন তিনি।
ইডেনে বৃহস্পতিবার আইপিএলে মুখোমুখি হবে কলকাতা ও লখনৌ। টানা তিন ম্যাচ হেরে চাপে থাকা কলকাতার জন্য ম্যাচটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই ম্যাচের আগে কেকেআরকে সতর্কবার্তা শুনিয়ে রাখলেন লখনৌর পেসার শামি।
মঙ্গলবার বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের তৃতীয় আসরের উন্মোচনী অনুষ্ঠানে কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে ও সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে হুঙ্কারই দিয়ে রাখেন শামি।
“ইডেন গার্ডেন্সে খেললে সব সময়ই হোম অ্যাডভান্টেজ থাকে। আমি জানি কন্ডিশন কেমন, উইকেট কীভাবে আচরণ করে- কারণ অনেক সময় কাটিয়েছি সেখানে। আমি যদি এখানে কেকেআরের বিপক্ষে খেলি, তাহলে 'লোকাল' হওয়ায় কিছুটা বাড়তি সুবিধা তো থাকবেই।”
সানরাইজার্সের বিপক্ষে লখনৌর জয়ে বড় ভূমিকা ছিল শামির। মাত্র ৯ রান খরচায় ২ উইকেট নেওয়ার পথে করেছিলেন ১৮টি ডট বল। রিশাভ পান্তের নেতৃত্বাধীন দলটি সেই ম্যাচে পায় মৌসুমের প্রথম জয়।
চোট কাটিয়ে ফেরার পর ঘরোয়া ক্রিকেটেও দারুণ ধারাবাহিক শামি। সদ্য সমাপ্ত রঞ্জি ট্রফিতে ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের একজন- ৩৭ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ১৬.৭২ গড়ে। জম্মু ও কাশ্মীরের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৯০ রানে ৮ উইকেট নেওয়ার মতো দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও ছিল তার।
তবু এখনও জাতীয় দলে ফেরা হয়নি এই অভিজ্ঞ পেসারের। তবে তাতে হতাশ নন শামি। বরং এটি নিয়ে খানিক রসিকতাই করলেন তিনি।
“আমরা তো শ্রমিক মানুষ, আমাদের কাজ শুধু বল করে যাওয়া। জীবনে উত্থান-পতন থাকবে, চোটও থাকবে। কিন্তু মাটির কাছাকাছি থেকে পরিশ্রম করার কথা ভুললে চলবে না। বেশি 'ফ্যান্সি' জিনিসের পেছনে ছুটলে সেটাই দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়। এখন সবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে ব্যস্ত।”
উত্তর প্রদেশে জন্ম হলেও বাংলার প্রতি নিজের টান আবারও স্পষ্ট করেছেন শামি। বাংলাকেই আখ্যা দিয়েছেন নিজের ‘কর্মভূমি’ হিসেবে।
“আমি কৃষক পরিবারে জন্মেছি, শেকড় ভুলিনি। ক্রিকেটার হিসেবে আমার ক্ষুধা এখনও আছে। আবার ওই পর্যায়ে খেলতে চাইলে সেই তাড়নাটা থাকতে হবে। আমার কাছে ঘরোয়া ক্রিকেট সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। আমি সব সময় এটাকে গুরুত্ব দিই।”
“জন্ম উত্তর প্রদেশে হলেও বাংলা আমার কর্মভূমি। যত দিন আমার মধ্যে খেলার শক্তি থাকবে, তত দিন বাংলার হয়েই খেলব।”