১২ নভেম্বর ২০২৪, ৬:৩৩ পিএম

হাতে আছে চার মাসেরও কম সময়। আইসিসির আর দশটা টুর্নামেন্ট হলে এমন সময়ে আয়োজক দেশ ব্যস্ত থাকে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে, সূচিও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় বা হওয়ার পথে থাকে। ভেন্যুগুলোতে চলে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। তবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পাকিস্তানে হওয়ার এই সময়েও রয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা। ভারত কোনোভাবেই যাবে না প্রতিবেশী দেশে খেলতে, আর ছাড় দিতে নারাজ পাকিস্তানও। তাদের দাবি, হয় ভারতকে তাদের দেশে আসতে হবে বা রোহিত-কোহলিকে ছাড়াই আয়োজন হবে এবারের আসরের।
সবকিছু ঠিক থাকলে, গত সোমবার থেকে ১০০ দিনের কাউন্টডাউন শুরু হতো আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫-এর। লাহোরে হত বিশাল আয়োজন। জানানো হতো টুর্নামেন্টের সূচি। কিন্তু তা আর হলো কই। এর পেছনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের অনড় অবস্থানও কম দায়ী নয়।
আরও পড়ুন
| ‘ভারত-পাকিস্তান আছে বলেই আইসিসি টিকে আছে’ |
|
পাকিস্তানে হিয়ে খেলার ক্ষেত্রে গোড়ামি যে শুধু ভারতেরই নয়। পাকিস্তানও যেন পণ করেছে, একচুল ছাড় ভয় ভারত ক্রিকেট বোর্ডকে। ২০২৩ সালের এশিয়া কাপের হাইব্রিড মডেলকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তারা কিছুতেই মানবে না। গেল বছর এশিয়া কাপে ভারত ছাড়া বাকি দলগুলো খেলেছে পাকিস্তানের মাঠে। শুধু ভারতের জন্যে শ্রীলঙ্কাতেও বসাতে হয়েছিল ভেন্যু। তবে এবার পাকিস্তান তাতেও রাজী না।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আইসিসিকে ই-মেইলে জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানে খেলতে যেতে অপারগ। ভারত সরকার তাদের পাঠাবেন না। প্রস্তাব দিয়েছে হাইব্রিড মডেলে তাদের ম্যাচগুলো অন্য আরেকটি দেশের রাখার জন্য। সেটা আবার আইসিসি পাকিস্তানকে মেইল করে জানিয়েছে।
পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, ভারত যদি এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে না আসে, তবে মাইনাস ইন্ডিয়া বা বয়কট ইন্ডিয়া নীতিতে এগোতে পারে পাকিস্তান। অর্থাৎ, ভারতকে ছাড়াই টুর্নামেনট আয়োজনের কথা ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। গণমাধ্যমগুলো এমনও বলছে, ভারত পাকিস্তানে না খেলা অব্দি পাকিস্তানও কোন টুর্নামেন্টেই ভারতের সঙ্গে আর খেলবে না। পিসিবিও নাকি এগোচ্ছে এমন পরিকলল্পনার দিকেই।
আরও পড়ুন
| রউফের ফাইফারে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিল পাকিস্তান |
|
ভারত-পাকিস্তানের বৈরিতা তো নতুন কিছু না। তবে এরপরেও দুই দলের মধ্যে সফর ছিল প্রায় নিয়মিত। মাঝে শুধু ১৯৬২ থেকে ১৯৭৭ সাল দুবার যুদ্ধে জড়িয়ে আসা যাওয়া বন্ধ ছিল দুই দেশ। এর আগে-পরেও একাধিকবার সফর বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। তবে একুশ শতকে কোনো যুদ্ধ না লাগলেও এক যুগ ধরে ভারত-পাকিস্তান একে অপরের দেশে সফর করে না।
পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে সবশেষ ভারতে গেছে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। আর ভারতীয় দলের সর্বশেষ পাকিস্তান সফর ২০০৭ সালে। এর পরের বছরও ভারতের একটি দল পাকিস্তানে গেছে, তবে সেটা এশিয়া কাপের জন্য। এর পর থেকে চলছে লম্বা বিরতি। আর গত ৮ বছরে দুই ফরম্যাটের দুটি বিশ্বকাপ খেলতে দুইবার ভারতে গেছে পাকিস্তান।
গত বছর এশিয়া কাপের জন্য ভারতীয় দলের পাকিস্তানে যাওয়া না–যাওয়া নিয়ে যখন তুমুল আলোচনা, তখন জাভেদ মিয়াঁদাদের একটি মন্তব্য ভারতীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। মিয়াঁদাদ বলেছিলেন, “ভারত জানে পাকিস্তানের কাছে হারলে তাদের দেশের মানুষ ছেড়ে কথা বলবে না। এমনকি নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত উধাও হয়ে যাবেন, ভারতের জনগণ তাঁকেও ছাড়বে না। এই ভয়ৈই ভারত আসে না। পাকিস্তানে যদি তারা খেলতে না আসে, তাহলে তারা জাহান্নামে যাক।”
পাকিস্তানে না যাওয়া নিয়ে বিসিসিআই সব সময়ই সরকারের অনুমোদন না থাকার কথা বলে। কিন্তু ভারত সরকারের কেউ কখনোই স্পষ্ট করে বলেন না ঠিক কী কারণে অনুমতি দেওয়া হয় না। আর এ ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমে ভারতের ক্রিকেট–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একটা শব্দই নিয়মিত উচ্চারণ করে থাকেন—‘নিরাপত্তা’।
আরও পড়ুন
| ভারতের অংশগ্রহণে পাকিস্তানেই হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, আশা পিসিবির |
|
পাকিস্তানে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কিন্তু শঙ্কা কমবেশি সব দেশেরই থাকে। ২০০৯ সালের মার্চে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর হামলার ঘটনায় তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসনেই চলে গিয়েছিল পাকিস্তানের ভেন্যু। এমনকি ২০১১ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক হলেও পাকিস্তানে শেষ পর্যন্ত কোনো ম্যাচই হয়নি।
পাকিস্তানে ভারত ক্রিকেট দলের সফর বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে লাহোরের ঘটনা ছিল সবার জন্য ‘কমন ফ্যাক্টর’। লাহোর হামলার পরবর্তী ছয় বছর কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশই আর পাকিস্তানে সফর করেনি। তবে ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের মাধ্যমে আবার দরজা খোলার পর গত কয়েক বছরে প্রায সব দেশই পাকিস্তানে খেলতে গেছে। বাকি কেবল ভারতই।
এর পেছনে ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর টানা চার দিন মুম্বাইয়ে দফায় দফায় সন্ত্রাসী হামলার কারণটিও জড়িত। ওই হামলায় প্রায় পৌনে দুই শ মানুষ নিহত হয়। মুম্বাইয়ে সেই সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় পাকিস্তানকে সরাসরি দায়ী করে ভারত। এতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ঠেকে তলানিতে । সঙ্গে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর হামলার ঘটনা মিলিয়ে ভারত, পাকিস্তানে ক্রিকেট দল পাঠানো বন্ধ করে দেয়।
২০১৫ সালের শেষে সম্ভাবনা দেখা দেয় পিসিবি আর বিসিসিআইয়ের মধ্যকার এক বৈঠকের আহবানে। বৈঠকের দিন ওয়াংখেড়েতে হানা দেন শিবসেনার কর্মীরা। প্রায় দুই শর মতো শিবসেনা বিসিসিআই প্রধান শশাঙ্ক মনোহরসহ অন্যদের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখলে পিসিবি-বিসিসিআই বৈঠক পণ্ড হয়ে যায়।
বিসিসিআইয়ের তখনকার সচিব অনুরাগ ঠাকুর বলেছিলেন, “আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা নিয়ে আলোচনা করতে পারি তিনটি শর্তে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, ভারতীয় ক্রিকেটারদের স্বার্থ এবং ভারতীয় জনগণের অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে।”
তবে সেই শর্ত পূরণ হয়েছে নাকি হয়নি, আজ অব্দি তা নিয়ে কোনো পক্ষ থেকেই আসেনি পরিস্কার কোন বক্তব্য। ২০২৩ সালের এশিয়া কাপ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপ ঘিরে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক পুনরায় চালু নিয়ে আবার ব্যাপক মাত্রায় আলোচনা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তান সব ভুলে কিন্তু বিশ্বকাপেও খেলেছে ভারতে গিয়ে। আবার ভারতের ইচ্ছেনুযায়ী হাইব্রিড মডেলও দিয়েছে এশিয়া কাপে। তবে পাকিস্তানে গিয়ে খেলার ব্যাপারে অতীতের অবস্থান পরিবর্তন এখন ও নিকট ভবিষ্যতেও হয়ত করবে না ভারত।
আর সেই কারণেই উঠছে প্রশ্ন, অল্প সময়ের মধ্যে আয়োজক দেশ ও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও ক্ষমতাধর ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই - দুই পক্ষকে খুশি রেখে আইসিসি কী পারবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ঠিক সময়ে আয়োজনে এগিয়ে যেতে? বাস্তবতা বলছে, খুব জটিল সময় অপেক্ষা করছে ৫০ ওভারের এই টুর্নামেন্টের জন্য।
No posts available.
৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৪ পিএম

পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত মঈন আলী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন অনেক আগেই। একযুগ আগে বিয়ে করেছেন সিলেটি কণ্যা ফিরোজা বেগমকে। সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্রে পীর মহল্লায় পশ্চিম বাজারে শ্বশুর বাড়ি। চার বছর আগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে বিপিএলে যখন খেলতে আসেন সিলেটে, তখন শ্বশুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। তখন সিলেটি ভাষা কিছু শিখেছেন। বাংলাদেশ সফরে এলে তাই শ্বশুর বাড়ি যেতে মন চাইবে, এটাই স্বাভাবিক।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইএল টি-টোয়েন্টিতে খেলা চলাকালীন সময়ে সিলেটে এসে সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে যুক্ত হতে মন আনচান করেছে এই অফ স্পিন অলরাউন্ডারের। সেখান থেকেই মঈন আলী টুইট করেছেন, তিনি আসছেন সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলতে। সিলেটের জামাই এসেছেন, খেলেছেন শ্বশুর বাড়ির কাছাকাছি ভেন্যু সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বিপিএলের তিন ম্যাচ। তবে প্রথম ২ ম্যাচে সিলেটিদের দুলাভাই স্বাগতিদের মন জয় করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার রাতে মন জয় করা অলরাউন্ড পারফর্ম করেছেন (৮ বলে ২৮ ও ৪-০-২০-২)। ৭ ম্যাচের ৪টিতে হেরে যখন কোয়ালিফাইয়ারের পথটা কঠিন করে ফেলেছে সিলেট টাইটান্স, তখন মঈন আলীর অলরাউন্ড পারফরমেন্সে ২০ রানে জিতে কোয়ালিফাইয়ারের কক্ষপথে ফিরে এসেছে সিলেট টাইটান্স। শ্বশুর বাড়ির বাতাস লাগিয়ে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন মঈন আলী।
ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে এই ম্যাচে প্রকৃতই ম্যাচ উইনার মঈন আলী। শেষ ৩০ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৬ রান করে স্কোর ১৮০/৬ করেছে সিলেট টাইটান্স মঈন আলীর ঝড়ো ব্যাটিংয়েই। আফগান পেসার জিয়াউর রহমানকে পুল করতে যেয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে আসার আগে ৩৫০.০০ স্ট্রাইক রেটে ৮ বলে ২ চার, ৩ ছক্কায় করেছেন ২৮ রান। ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১১ বলে ৩৮ রানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই বাঁ হাতি মিডল অর্ডার। ১৯তম ওভারে অফ স্পিনার নাসিরের উপর একটু বেশিই চড়াও হয়েছিলেন মঈন আলী। তাঁর তিন ছক্কা, ২ বাউন্ডারি, একটি ২ রানে ওই ওভারে উঠেছে ২৮ রান। যে নাসির আগের ৩ ওভারে ৭ রান খরচায় পেয়েছেন ১টি উইকেট, তাকেই কি না চতুর্থ ওভারে পাড়া মহল্লা মানে নামিয়ে এনেছেন মঈন আলী।
মঈন আলীর ব্যাটিংয়ের রাতে সিলেটের পারভেজ হোসেন ইমন (১৪ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় ৩২), আরিফুল ( ২৯ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩৮), আজমউল্লাহ ওমরজাই ( ২৩ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ৩৩) রানে দলের চাহিদা মিটিয়েছেন। ইনিংসে কেউ ফিফটি না পাওয়ার পরও সিলেট টাইটান্সের স্কোর ১৮০/৬। ম্লান হয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালসের ইমাদ ওয়াসিম (৪-০-২১-১) এবং জিয়াউর রহমানের বোলিং ( ৪-০-৩৫-৩)।
১৮১ রানের টার্গেটে শুরুটা ভালই করেছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৫৭/১ স্কোরে শেষ থ্রিলারের আবহ তুলেছিল তাঁরা। রাহমানুল্লাহ গুরবাজ এদিন ফিরে পেয়েছেন ফর্ম (৪৪ বলে ৩ চার, ২ ছক্কায় ৫১)। তবে সালমান ইরশাদের (৪-০-২৫-৩) পাশে মঈন আলীর বোলিং ( ৪-০-২০-২) গড়ে দিয়েছে দু দলের ব্যবধান। শেষ পাওয়ার প্লে'র ৩০ বলে ৬৬ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে এসে ২০ রানে হেরেছে ঢাকা ক্যাপিটালস।
এই ম্যাচে দু'দলের মধ্যে পরিচ্ছন্ন ব্যবধান তৈরি হয়েছে শেষ পাওয়ার প্লে-তে। বাউন্ডারি এবং ছক্কার সংখ্যায়ও সিলেট তৈরি করেছে ব্যবধান। সিলেটের ১৭টি বাউন্ডারির বিপরীতে ঢাকার বাউন্ডারিসংখ্যা ১১টি। সিলেটের ৭টি ছক্কার বিপরীতে ঢাকার ছক্কা ৫টি।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও পাঁচটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারত। ১১ জানুয়ারি শুরু হওয়া সিরিজের শেষ ওয়ানডে ১৮ তারিখ। এরপরই কুড়ি কুড়ি মিশন।
পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু ২১ জানুয়ারি এবং শেষ ৩১ তারিখ। এরপর শুরু ভারতের বিশ্বকাপ মিশন। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ঘরের মাঠে শুরু হতে যাওয়া বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আগে দুঃসবাদ পেল ভারত।
জানা গেছে, ভারতের টি টোয়েন্টি দলের তারকা ব্যাটার তিলক বর্মা টেস্টিকুলার টরশনজনিত সমস্যা কারণে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। যে কারণে সিরিজের প্রথম তিনটি টি-টোয়েন্টিতে থাকছেন না তিনি। এমনকী পরের দুটি ম্যাচে তিলকের অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আজ ভারত ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিশ্চিত করেছে, বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিলক এবং শুক্রবার হায়দরাবাদ ফেরার জন্য ফ্লাইটে উঠবেন। বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল আছেন এবং সুস্থতার পথে।
সাধারণত টেস্টিকুলার টরশনজনিত অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে সেরে উঠতে দুই সপ্তাহের মতো লেগে যায়। তবে বয়স বেধে সময় কম-বেশি হতে পারে। তিলক যেহেতু দলের গুরুত্বপূণ ব্যাটার, নিশ্চয়ই তাঁর পূর্ণ সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করবে দল।
ভারতের হয়ে সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী তিলক। দুটি ফিফটি পেয়েছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তার ব্যাটে হাসি লক্ষ্য করা গেছে। বিজয় হাজারে ট্রফিতে চণ্ডিগ্রামের বিপক্ষে খেলেছেন ১০৯ রানের ঝলমলে ইনিংস।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তিলকের এই সংবাদ ভারতের জন্য অবশ্যই সতর্কবার্তা। যথাসময়ে তিনি যদি সুস্থ হয়ে না ওঠেন তবে ভুগতে হবে কুড়ি কুড়ি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশকে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে অম্ল-মধুর
দুই ঘটনার সাক্ষী হলেন নাসির
হোসেন। বুধবার বিপিএলে ৯০ রানের
ইনিংসের পাশাপাশি এক উইকেট
নিয়েছিলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের
অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। অথচ বৃহস্পতিবার ভুলে যাওয়ার
মতো দিন পার
করলেন। ব্যাট-বলে
ব্যর্থতার দিনে ঢাকার
বিপক্ষে ২০ রানে
জিতেছে সিলেট টাইনাস।
বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বিপিএলের সন্ধ্যার ম্যাচে আগে ব্যাটিং
করে ১৮০ রান
সংগ্রহ দাঁড় করায়
সিলেট। জবাব দিতে
নেমে ভালো শুরুর
পরও শেষটা সুন্দর হয়নি ঢাকা
ক্যাপিটালসের। নির্ধারিত ২০ ওভারে
১৬০ রান তুলতে
পারে তারা।
বুধবার চট্টগ্রামের কাছে হেরে
টাইটেল রেসে পিছিয়ে
পড়েছিল সিলেট। ৭ ম্যাচে
তিন জয়ে তাদের
পয়েন্ট দাঁড়ায় ৭। আজ ঢাকাকে হারিয়ে তিনে উঠে
গেল তারা। সমান
পয়েন্ট হলেও রান
রেটে পিছিয়ে থাকায় চারে নেমে
গেল নাজমুল হাসান শান্ত নেতৃত্বাধীন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস। দ্বিতীয়তে রংপুর রাইডার্স।
এদিন সর্বসাকুল্যে ১৫০-১৬০
রানের মধ্যে আটকা পড়ার
উপক্রম হয়েছিল সিলেটের। অথচ ১৯ ও ২০তম ওভারে
হিসাব বদলে দেন
মইন আলি ও ইথান ব্রুকস। ১৯তম ওভারে
নাসিরের এক ওভারে
২৮ রান তোলেন
ইংলিশ অলরাউন্ডার। তিনটি ছক্কা ও দুইটি
চার মারেন তিনি। আউট
হওয়ার আগ পর্যন্ত
৮ বলে করেন
২৮ রান।
২০তম ওভারে ১৬ রান
খরচ করেন সিলেটের
মিডিয়াম পেসার জিয়াউর রহমান। ওভারের চতুর্থ বলে অবশ্য
মইন আলীকে ফেরান তিনি। তবে
এই ওভারে মূল তাণ্ডবটা
চালান ব্রুকস ও মেহেদী
হাসান মিরাজ। দুজন দুটি
করে ছক্কা হাঁকান। তাতেই ১৮০ রান পুঁজি পায় সিলেট।
টুর্নামেন্টে তৃতীয় জয় পেতে
ওভারপ্রতি ৯ রান
করে প্রয়োজন পড়তো রাজধানীর
দল ঢাকার। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আবদুল্লাহ
আল মামুনের জুটিতে বেশ ভলোই
শুরু ছিল তাদের। প্রথম পাওয়ারপ্লেতে মামুন ফিরলেও রানচাকা সচল রাখে
ঢাকা। ৫৭ রান
আসে ৬ ওভারে।
দলীয় ৫৬-৬৭ রানে ধাক্কা লাগে ঢাকা
শিবিরে—এসময়ে ১১ রান
তুলতেই টপঅর্ডারের তিন ব্যাটারকে
হারিয়ে বসে তারা। তাতে থিতু হয়ে
পড়ে রান চাকা। দুঃসময় থেকে সাইফ
হাসানকে নিয়ে দলকে
উদ্ধার করেন রহমানউল্লাহ। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে
করেন ৩৭ রান। ব্যক্তিগত ৫১ রানে
গুরবাজ ফিরলে জুটি ভাঙে।
গুরবাজ ফেরার পর ফের
ধাক্কা লাগে ঢাকার
পালে। আবারও একে একে
ফেরেন সাইফ হাসান, মোহাম্মদ মিথুন ও ইমাদ
ওয়াসিম। শেষ দিকে
ইমাদ ওয়াসিম ও সাব্বির
রহমান চেষ্টা চালিয়েছেন বৈকি। তবে
তা দলের জয়ের
জন্য যথেষ্ট ছিল না।
সালামান ইরশাদ ও আজমতউল্লাহর
নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ ওভারে
ঢাকার প্রয়োজন পড়ে ৩১ রান। তবে এ ওভারে১০ রান তুলতে
পারে ঢাকার সাব্বির রহমান। ২০ রান
দূরে থামে তাদের
যাত্রা।
সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন সালমান
ইরশাদ। দুটি উইকেন
নেন মইন আলী।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট টাইটানস: ২০ ওভারে ১৮০/৬ (আরিফুল ৩৮, আজমতউল্লাহ ৩৩, পারভেজ ৩২, মঈন ২৮; জিয়াউর ৩/৩৫, সাইফ ১/১৬)।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৬০/৮ (রহমানউল্লাহ ৫১, সাব্বির ২৫:সালমান ৩/২৫, মইন২/২০)
ফল: ২০ রানে জয়ী সিলেট
ম্যাচসেরা: মইন আলি

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম আসরে সপ্তম ফ্রাঞ্চাইজি হিসেবে অংশ নেবে হায়দরাবাদ। ১৭৫ কোটি রুপিতে ফ্রাঞ্চাইজিটির মালিকানা স্বত্ব নিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এফকেএস গ্রুপ।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আজ পিএসএলের ফ্রাঞ্চাইজি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে নতুন দল হিসেবে হায়দরাবাদের নাম তোলা হয়।
হায়দরাবাদের বিডিং প্রাইস ছিল ১ মিলিয়ন রুপি। শেষ পর্যন্ত ফ্রাঞ্চাইজিটির দাম ওঠে ১৭৫ কোটি রুপি। ফাইনাল বিটে দলটিকে কিনে নেয় এফকেএস গ্রুপ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিএসএলের সিইও সালমান নাসের । তিনি পিএসএল ম্যানজম্যান্টের প্রশংসা করেন।
নাসের বলেন, ‘পিএসএল শুধু টিকেই থাকেনি বরং ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এরজন্য তিনি ফ্রাঞ্চাইজি ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠান প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।’
ম্যানেজম্যান্ট ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের প্রশংসার পাশাপাশি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট মহসিন নাকভির প্রশংসা করেন নাসের।
এই নিলামের মাধ্যমে পিএসএলে নতুন করে দুইটি দল যোগ করার কাজ শুরু হয়েছে। আগে মুলতান সুলতানসের মালিক ছিলেন আলী তারিন। কিন্তু তিনি নিলাম থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর ৯টি গ্রুপ নিলামে অংশ নেয়।
২০২৬ মৌসুমে যারা নিলামে দল জিতবে, তারা রাওয়ালপিন্ডি, হায়দরাবাদ, ফয়সালাবাদ, গিলগিট, মুজাফফরাবাদ অথবা শিয়ালকোট—এই শহরগুলোর যেকোনো একটির নামে দল রাখতে পারবে।
পিএসএলের ১১তম সংস্করণ শুরু ২৬ মার্চ। চলবে ৩ মে পর্যন্ত। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে হতে পারে প্লেয়ার ড্রাফট।

৬, ২, ৬, ৪, ও ৬- নাসির হোসেনের ওভারে এমনই তাণ্ডব চালালেন মইন আলি। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে উইকেটের চারপাশে বাউন্ডারির পসরা সাজিয়ে এক ওভারেই ২৮ রান নিলেন সিলেটবাসীর প্রিয় ‘দুলাভাই।’
বিপিএল খেলতে বাংলাদেশে আসার পর থেকেই ‘সিলেটের জামাই’ বা ‘সিলেটের দুলাভাই’ ডাকটি প্রায়ই শুনছেন মইন আলি। গত সোমবার প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার পর গ্যালারিতে চলতে থাকে ‘দুলাভাই, দুলাভাই’ স্লোগান।
মূলত ইংলিশ এই অলরাউন্ডারের স্ত্রীর সিলেটের বাসিন্দা। তাই তাকে ভালোবেসেই ‘জামাই’ বা ‘দুলাভাই’ নামে ডাকেন সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমীরা। এবার তাদেরকে চার-ছক্কার ভালোবাসাই উপহার দিলেন বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ম্যাচে ১৮তম ওভারে ক্রিজে যান মইন। ওই ওভারে এক বল খেলে রান নিতে পারেননি। তবে পরের ওভারেই তিনি ধারণ করেন রুদ্রমূর্তি। সেই আগুনে পুড়ে ছাই হন নাসির।
অথচ নিজের প্রথম ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ৭ রান খরচ করে তৌফিক খান তুষারের উইকেটও নেন নাসির। কিন্তু ১৯তম ওভারে বোলিংয়ে এসেই বিপদ ডেকে আনেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
ওভারের প্রথম বলই ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কায় ওড়ান মইন। পরের বল থেকে আসে ২ রান। তৃতীয় বলে তিনি মারেন বাউন্ডারি। চতুর্থ বলে আবার মারেন ছক্কা। পঞ্চম বলে ওয়াইড লং দিয়ে আসে চার। শেষ বল লং অন দিয়ে মারেন ছক্কা।
নাসিরের ওভারের ২৮ রান ছাড়া আর কিছু অবশ্য করতে পারেননি মইন। শেষ ওভারে জিয়াউর রহমান শরিফির বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন তিনি। মাত্র ৮ বলে ৩৫০ স্ট্রাইক রেটে খেলেন ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংস।
বিপিএল ইতিহাসে অন্তত ৮ বলের ইনিংসে এর চেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট আছে শুধু আন্দ্রে রাসেল (৩৫৮.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ১২ বলে ৪৩*) ও সুনিল নারিনের (৩৫৬.২৫ স্ট্রাইক রেটে ১৬ বলে ৫৭)।
মইনের ঝড়েই শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৮০ রান করতে পারে সিলেট টাইটান্স। এর মধ্যে শেষ দুই ওভার থেকেই তারা পায় ৪৫ রান।
২৯ বল খেলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন বিপিএল অভিষিক্ত ব্যাটার আরিফুল ইসলাম। এছাড়া পারভেজ হোসেন ইমন ২৪ বলে ৩২ ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই ২৩ বলে খেলেন ৩৩ রানের ইনিংস।
ঢাকার পক্ষে ৩ উইকেট নেন জিয়াউর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৮০/৬ (ইমন ৩২, তুষার ১৭, আরিফুল ৩৮, আফিফ ৬, ওমরজাই ৩৩, মইন ২৮, ব্রুকস ৯*, মিরাজ ৭*; ইমাদ ৪-০-২০-১, তাসকিন ৩-০-৩৯-০, সাইফ উদ্দিন ৩-০-২৮-০, জিয়াউর ৪-০-৩৫-৩, নাসির ৪-১-৩৫-১, সাইফ ২-০-১৬-১)