১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৫৬ এম

৪৮ ঘন্টা পর এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে অবতীর্ন হবে বাংলাদেশ। সে কারণেই অজানা এই প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ধারণা নিতে আবুধাবিতে আফগানিস্তান-হংকং ম্যাচে চোখ রাখতে হয়েছে লিটনদের। আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশের ক্রিকেট দলটি অভিবাসী ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া, অপেশাদার ক্রিকেটারদের সহজেই কাবু করা যাবে-এমনটা নিশ্চিত করে বলতে পারবে না কেউ। কারণ, ১১ বছর আগে এই হংকংই কিন্তু চট্টগ্রামে আইসিসির মেগা আসর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে দিয়েছে হারিয়ে। সে কারণেই দলটি সম্পর্কে প্রাক ধারণা নেয়াটা ছিল জরুরী। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে এক বছর পর ফিরেছে টি-টোয়েন্টি। এই মাঠের উইকেট এবং ফ্লাড লাইটের আলোয় পিচের বৈশিষ্ট্যটাও জানা ছিল দরকার।
এই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দল সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছে ৪ বছর আগে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই দুটি ম্যাচে যাচ্ছেতাই ভাবে হারের অতীত আছে বাংলাদেশ দলের। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে অবতীর্ন হওয়ার আগে এই ভেন্যুতে বাংলাদেশ দলের অগৌরবের রেকর্ডটাও মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন
| হংকংকে গুঁড়িয়ে এশিয়া কাপে যাত্রা শুরু আফগানিস্তানের |
|
এই মাঠে টস জিতলে চোখ বুজে আগে ব্যাটিং নেয়াটা মঙ্গল। এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আফগান ক্রিকেট দল তা জানিয়ে দিয়েছে। শুরুটা করেছে তারা ৯৪ রানের বিশাল জয় দিয়ে। আইসিসির পূর্ণ এবং সহযোগী সদস্য দেশের ক্রিকেট দলের মধ্যে ব্যবধান কতোটা, মঙ্গলবার রাতে তা হংকং হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে।
নতুন বলের শুরুটা ছিল ভালই। এক পর্যায়ে স্কোরশিটে ২৬ উঠতে ২ উইকেট ফেলে দিয়ে কী আত্মতুষ্ঠিতেই না ভুগেছে হংকং। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্প্রতি ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলে কন্ডিশনের সঙ্গে অভ্যস্ত আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের গায়ে টি-টোয়েন্টিতে বড় দলের তকমাটা আছে, ব্যাটিংয়ে তা জানিয়ে দিতে সাধ্যমত চেষ্টা করেছে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে স্কোর যাদের ৪১/২, তারাই স্কোরটা টেনে নিয়েছে ১৮৮/৬ পর্যন্ত। আবুধাবিতে কষ্ট করে রান করতে হবে। সিঙ্গল-ডাবলে মনযোগ দেয়াটা জরুরী, এ কথা মাথায় রেখে বল কম ডট করেছে আফগানিস্তান। ৩৯টি ডট বলের পাশে ১১টি চার, ১০টি ছক্কা মেরেছে আফগান ব্যাটাররা।
আরও পড়ুন
| ভারত-পাকিস্তানকে অঘটনের হুঙ্কার আমিরাত অধিনায়কের |
|
আফগানিস্তান শ্লগের ৩০ বলকে একটু বেশিই শাস্তি দিয়েছে। ওই ৩০ বলে যোগ করেছে আফগানিস্তান ২ উইকেট হারিয়ে ৭৮ রান। কৃতিত্বটা দিতে হবে ওপেনার সাদিকুল অটল এবং লোয়ার অর্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে। ৫ম উইকেট জুটিতে তারা ৩৫ বলে ৮২ রান যোগ করেছেন। সারজায় সর্বশেষ ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫৪ এবং ৬৪ রানের দুটি তরতাজা ইনিংসের সুখস্মৃতি থেকে টনিক নিয়ে মঙ্গলবার পুঁচকে হংকংয়ের বিপক্ষে করেছেন ৫২ বলে ৬ চার, ৩ ছক্কায় হার না মানা ৭৩। ফিফটিতে লেগেছে তার ৪১টি বল, অবশিষ্ট ১১ বলে করেছেন ২৩! আজমতউল্লাহ ওমরজাই-এর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস ছিল ৩৪, তা ছাপিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটিটা উদযাপন করেছেন তিনি মঙ্গলবার (২১ বলে ২ চার, ৫ ছক্কায় ৫৩)।
অপেশাদারী ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া এই দলটির ব্যাটারদের বেসিক ক্রিকেটজ্ঞানে যথেষ্ট ত্রুটি ধরা পড়েছে এদিন। হাফ ভলি, ফুলটস ডেলিভারীতে পর্যন্ত হাফ হার্টেড শট নিয়েছে তাদের ব্যাটাররা। কখনো বল পিচিংয়ের আগে চলে গেছে তাদের ব্যাট। ৯৬ ম্যাচের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বাবর হায়াত দর্শনীয় পুল শটে বর্তমান সময়ে বিশ্বসেরা লেগ স্পিনার রশিদ খানকে ছক্কা মেরে বাহাদুরি দেখালেও গ্র্যাউন্ড শটে তার দুর্বলতা ধরা পড়েছে। বাউন্ডারিহীন ইনিংসে ৩ ছক্কা, ৪৩ বলে ৩৯ রানে থেমেছেন গুলবাদিন নাইবের আউটসাইড অফ ডেলিভারিতে পুল করতে যেয়ে মিড উইকেটে দিয়েছেন ক্যাচ।
আরও পড়ুন
| এসএটোয়েন্টিতে ৩৫ লাখে দল পেলেন তাইজুল, অবিক্রিত বাকিরা |
|
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ২৩ উঠতে ৪ উইকেট হারিয়েও হংকং পুরো ২০ ওভার পার করেছে। আফগানিস্তান এদিন তাদের পূর্ণ বোলিং শক্তি পরখ করে দেখেছে। নিজেসহ ৭ বোলারকে ব্যবহার করেছেন রশিদ খান। গজনফর এবং করিম জানাত ছাড়া অবশিষ্ট ৫ বোলারের সবাই পেয়েছেন উইকেট। আইজাজ খানকে শিকার করতে ২৪ রান খরচ করতে হয়েছে রশিদ খানকে। আজমতউল্লাহ ওমরজাই ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন হংকংকে। সেই আজমতউল্লাহ ওমরজাই বোলিংয়েও ছড়িয়েছেন জুজু (২-০-৪-১)। অথচ কী জানেন, এই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬টি হেড টু হেড-এ ২টি জয়ের রেকর্ড আছে হংকংয়ের।
'বি' গ্রুপের হার্ডল পেরিয়ে সুপার ফোর-এ খেলতে হলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটার অঙ্কও কিন্তু করতে হবে বাংলাদেশ দলকে।
No posts available.
৬ এপ্রিল ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৪ এম

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। ব্র্যান্ড ভেল্যু, তারকা ক্রিকেটারদের উপস্থিতি এবং সম্প্রচারের দিক থেকে ভারতের ঘরোয়া এই লিগের ধারে কাছে নেই পিএসএল, এসএ টি-টোয়েন্টি ও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভির বিশ্বাস, শিগগিরই আইপিএলকে ছাড়িয়ে যাবে পিএসএল।
সোমবার লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নকভি বলেন, বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহই পিএসএলের দ্রুত অগ্রগতির প্রমাণ। তার মতে, এই লিগ এখন বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই বিশ্বসেরার কাতারে উঠে আসবে।
তিনি বলেন, “পিএসএল এখন বিনিয়োগের জন্য সেরা বাজার। খুব বেশি দেরি নেই, যখন এটি বিশ্বের এক নম্বর লিগ হবে।”
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপ জিতিয়ে মার্চের সেরার লড়াইয়ে ভারতের দুই তারকা |
|
লিগের সম্প্রসারণের পাশাপাশি বোর্ড ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও অনুমোদন দিয়েছে, যা মাঠের বাইরেও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলামেও ছিল ব্যাপক সাড়া। ৬ দল থেকে বেড়ে ৮ দলে উন্নীত হয়েছে পিএসএল, নতুন করে যুক্ত হয়েছে সিয়ালকোট ও হায়দরাবাদ।
১.৮৫ বিলিয়ন রুপিতে সিয়ালকোট ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনেছে ওজেড ডেভেলপারস দলটির নাম দিয়েছে সিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ। এফকেএস গ্রুপ ১.৭৫ বিলিয়ন রুপিতে হায়দরাবাদ দল কিনে নাম রেখেছে হায়দরাবাদ কিংসমেন।
এত কিছুর পরও কিছু চ্যালেঞ্জ কিন্তু রয়ে গেছে। মাত্র দুই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পিএসএল। জ্বালানি সংকটের কারণে ম্যাচগুলো দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হচ্ছে। অন্যদিকে আইপিএল একাধিক শহরে পূর্ণ গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে এর বিশাল দর্শক রয়েছে। ২০০৮ সালে শুরু হয় আইপিএল। আর ২০১৬ সালে শুরু হয় পিএসএল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের টানতেও কিছুটা সমস্যায় পড়ে পিএসএল। অনেক সময় আইপিএলে সুযোগ না পাওয়া ক্রিকেটাররা পিএসএলে খেলেন। পরে আইপিএল দলগুলো তাদের বদলি হিসেবে দলে ভেড়ায়—মাঝ মৌসুমেই তাদের ছাড়তে হয় পিএসএল। আর্থিক দিক থেকেও আইপিএল অনেক এগিয়ে; অনেক ক্ষেত্রে আইপিএলের একজন ক্রিকেটারের চুক্তির খরচ পিএসএলে একটি দলের বাজেটের সমান।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের চাকরি ছেড়ে যাওয়ার আগে 'স্পিন বোলিং মেশিনের' গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছিলেন নিক পোথাস। তার বিদায়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে না হলেও, অবশেষে সেই স্পিন বোলিং মেশিন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যার নাম মার্লিন বাই বোলা।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা বলের দুই সিরিজ শুরুর আগে চলমান অনুশীলন ক্যাম্পে সোমবার প্রথম এই স্পিন বোলিং মেশিন ব্যবহার করা হয়। যা দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো অফ স্পিন, লেগ স্পিন বা স্ট্রেইট ডেলিভারির অনুশীলন করতে পেরেছেন ব্যাটাররা।
এর আগে শুধু এনালগ বোলিং মেশিনের ব্যবহার ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটে। যা দিয়ে গতি বাড়ানো বা কমানো ও বাউন্সের তারতম্যের অনুশীলন করা যেত। এখন নতুন করে মার্লিন বাই বোলা নিয়ে আসায় স্পিনের বিপক্ষেও নিজেদের ঝালাই করতে পারবেন ব্যাটাররা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জাতীয় একাডেমি মাঠে সোমবার সকালেই যেমন সাইফ হাসান, জাকের আলি অনিকরা ব্যাটিং করেছেন এই মেশিনের সামনে। এটি দিয়ে চাইলে সময় ঠিক করে দিয়ে একসঙ্গে ৩০টি বলও খেলা যাবে।
আরও পড়ুন
| প্রধানমন্ত্রীর হাতে ট্রফি তুলে দিতে চান সাফজয়ী অধিনায়ক |
|
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই মেশিনের ব্যাপারে ধারণা দেন বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস।
“এই বোলিং মেশিনের নাম মার্লিন বাই বোলা। এটা নিয়ে অনেকদিন ধরেই কথা হচ্ছিল। কিছুদিন আগেই অর্ডার করা হয়। মেশিনটা অনেক ভারী হওয়ায় ফ্লাইটের মাধ্যমে না এনে জাহাজের মাধ্যমে আনা হয়েছে।”
“এটা দিয়ে অফ স্পিন, লেগ স্পিন এবং আর্মার- তিন ধরনের বল খেলা যায়। বলের লেন্থ পরিবর্তন করা যায়, পেস বাড়ানো-কমানো যায়। ম্যানুয়ালি বা অটোমেটিক, দুই মোডেই চালানো যায়। অটোমেটিক মোডে একসঙ্গে ২৫-৩০টা বল খেলা যায়।”
জানা গেছে, মেশিনটি কিনতে বিসিবির খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড বা ১৬ লাখ টাকা।

ভারতকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতানোর পথে বড় অবদান রেখে এবার আরেকটি স্বীকৃতির সম্ভাবনা জাগিয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন ও জাসপ্রিত বুমরাহ। মার্চ মাসের আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থ পুরস্কারে মনোনীত হয়েছেন ভারতের এই দুই তারকা।
স্যামসন ও বুমরাহ ছাড়াও পুরুষ ক্যাটাগরিতে মাসসেরার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার উদীয়মান তারকা কনর এস্থেইজেন। আর নারী ক্রিকেটে মনোনয়ন পেয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের অ্যামিলিয়া কার, অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি ও দক্ষিণ আফ্রিকা আয়াবোঙ্গা খাকা।
আরও পড়ুন
| বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠিয়ে মজা পেয়েছেন ডেভিড |
|
ঘরের মাঠে হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুরুর দিকে তেমন সুযোগ পাননি স্যামসন। তবে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তিনিই হয়ে ওঠেন দলের বড় ভরসা। সব মিলিয়ে মার্চ মাসে খেলা তিন ম্যাচে ২৭৫ রান করেন স্যামসন। সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ৮৯ রানের ইনিংস।
ওই তিন ম্যাচে বল হাতে আলো ছড়ান বুমরাহ। ওভারপ্রতি মাত্র ৭ রান খরচ করে ১২ গড়ে ৭টি উইকেট নিয়েছিলেন ভারতের এই তারকা পেসার। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৫ রানে নেন ৪ উইকেট।
বিশ্বকাপের পরপর নিউ জিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন এস্থেইজেন। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৫০ গড় ও ১৪৫.৯৮ স্ট্রাইক রেটে ২০০ রান করেছিলেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার।
মার্চ মাসে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি' দুই সংস্করণেই দারুণ ছন্দে ছিলেন অ্যামিলিয়া কার। গত মাসে খেলা ৪ ওয়ানডে ১৭৬ রানের পাশাপাশি বল হাতে ১৮ উইকেট নেন হোয়াইট ফার্ন অধিনায়ক। এছাড়া ৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৭৬ রানের সঙ্গে ৬ উইকেট নেন তিনি।
আরও পড়ুন
| কাঁথা-বালিশ নিয়ে ‘মাঠেই ঘুমাতে চান’ মুলতান অধিনায়ক |
|
মার্চে খেলা দুই ওয়ানডেতে ১৭১ রান করেন বেথ মুনি। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ১০৬ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন ৬৫ রান। এছাড়া ৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১২৮.৯১ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন ১০৭ রান।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ৪ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন আয়াবোঙ্গা খাকা। পরে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ৫৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন অভিজ্ঞ পেসার।

চেন্নাই সুপার কিংসের বোলারদের তখন রীতিমতো কচুকাটা করছেন টিম ডেভিড। একের পর এক ছক্কা মারছেন অবলীলায়। এর মাঝেই জেমি ওভারটনের বলে একটি শট সোজা গেল স্টেডিয়ামের গ্যালারির ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে। সেই ছক্কাটি মেরেই মজা পেয়েছেন ডেভিড।
চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে রোববার রাতে ডেভিডের আগুনে ব্যাটিংয়ে পুড়েছে চেন্নাই। ১৫তম ওভারে ক্রিজে গিয়ে ৩ চারের সঙ্গে ৮টি বিশাল ছক্কা মেরে মাত্র ২৫ বলে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই মারকুটে ব্যাটার।
তার বিধ্বংসী ইনিংসে চলতি আইপিএলের সর্বোচ্চ ২৫০ রানের পুঁজি পায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। পরে ৪৩ রানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে তারা। অসাধারণ এই ইনিংসে বেশ কিছু রেকর্ডও ৩০ বছর বয়সী মিডল-অর্ডার ব্যাটার।
ডেথ ওভার তথা শেষের চার ওভার থেকেই ৬৮ রান করেছেন ডেভিড। আইপিএলে শেষ চার ওভারে কোনো ব্যাটারের এটিই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এছাড়া ১৫তম ওভারে ক্রিজে গিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে তার চেয়ে বেশি রান আছে শুধু ড্যানিয়েল স্যামসের, ২৪ বলে ৭১।
খুনে ব্যাটিংয়ের এই ইনিংসে ডেভিডের সবচেয়ে ভালো লেগেছে ১৯তম ওভারের চতুর্থ ও শেষ ছক্কাটি। জেমি ওভারটনের ওই ওভারে মোট ৩০ রান নেন ডেভিড। এর মধ্যে শেষ ছক্কাটির দূরত্ব ছিল ১০৬ মিটার। যা কিনা গ্যালারি পেরিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে।
বেঙ্গালুরুকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়ার পর ওই ছক্কার কথা বলেন ডেভিড।
“(অনুশীলনে) আমরা ছাদের ওপরে বল পাঠানোর প্রতিযোগিতা করে থাকি। তখন অবশ্য এক প্রান্তের উইকেটগুলোতে খেলে থাকি আমরা। ম্যাচের সময় মাঝ উইকেট থেকে এরকম কিছু করতে পারা তাই সত্যিই সন্তুষ্টির।”
“জেমি (ওভারটন) তখন বেশ দ্রুতগতিতে বল করছিল। বল ছাদের ওপরে পাঠাতে এটাও সহায়তা করেছে। বেশ মজা পেয়েছি।”

রোববারের ম্যাচ শেষ করার ২০ ঘণ্টার মধ্যে নামতে হবে পরের খেলায়। কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সকে হারানোর পর এবার মুলতান সুলতান্সের সামনে রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ। ব্যস্ত এই সূচিতে তাই কিছুটা মজাই করে নিলেন মুলতান অধিনায়ক অ্যাশটন টার্নার।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার রাতের ম্যাচে কোয়েটার বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতেছে মুলতান। এই জয়ের পর কোনো ফুরসৎ নেই তাদের। সোমবার রাতেই পিন্ডিজের বিপক্ষে লড়তে হবে তাদের।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই ম্যাচ। পরদিন বিকেলে আবার মাঠে যেতে হবে, তাই মাঠ ছেড়ে যেন টিম হোটেলে যেতেই চান না টার্নার। বরং কাঁথা-বালিশ নিয়ে মাঠেই ঘুমিয়ে পড়া ভালো মনে করেন অস্ট্রেলিয়ান এই অধিনায়ক।
“দুই ম্যাচের মাঝে এত কম সময়। হয়তো আজ রাতে এখানেই কাঁথা-বালিশ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে! তবে এটাই পেশাদার ক্রিকেটের বাস্তবতা। আমরা জানি, সূচি এমনই হয়।আমরা পরের ম্যাচে নতুন সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।”
কোয়েটার বিপক্ষে দাপুটে জয়ই পেয়েছে মুলতান। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৬৬ রানের বেশি করতে পারেনি কোয়েটা। জবাবে সাহিবজাদা ফারহান, স্টিভেন স্মিথের ঝড়ে ১৫ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে যায় মুলতান।
দলের এমন পারফরম্যান্সে তৃপ্ত অধিনায়ক টার্নার।
“গত দুই ম্যাচের তুলনায় আজকের কন্ডিশন কিছুটা ভিন্ন ছিল। তবে আমরা এমন একটি পারফরম্যান্স খুঁজছিলাম যেখানে খেলার দুই দিকই একসঙ্গে ঠিকভাবে করতে পারি। আমার মনে হয়, আজ আমরা তিনটি বিভাগেই সেটা করতে পেরেছি-যা সত্যিই তৃপ্তিদায়ক।”
পাকিস্তান সুপার লিগে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচের তিনটি জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে মুলতান।