
টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিং মানে শুধু রান নয়; ধৈর্য, মনোবল ও মানসিক দৃঢ়তাও। এ সবকিছুর প্রতিচ্ছবি যেন ছিলেন চেতেশ্বর পুজারা। এশিয়ার মন্থর, অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি থেকে ইংল্যান্ডের সবুজ উইকেট, সব কন্ডিশনেই ভারতের আস্থার প্রতীক। ১৫ বছরের ক্যারিয়ার শেষে নামের পাশে ১০৩ টেস্ট, ৭১৯৫ রান।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলার পর ক্যারিয়ারের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন পূজারা। জানিয়েছেন, নিজের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস ও কঠিন প্রতিপক্ষের নামও।
এক সাক্ষাৎকারে পূজারা জানালেন নিজের স্মরণীয় ইনিংসের কথা। তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ইনিংস শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৫ সালে কলম্বোতে করা অপরাজিত ২৮৯ বলে ১৪৫ রান। এই ইনিংসের কল্যাণে ভারত প্রথম ইনিংসে পেয়েছিল লিড, জেতে সিরিজও।
ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস প্রসঙ্গে পূজারা বলেন,
‘সেটি ছিল একটি অপরাজিত ইনিংস, আমাকে ওপেন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সিরিজ তখন ১-১-এ সমতায়, এবং পিচ খুবই কঠিন ছিল। প্রথম দুই টেস্ট আমি খেলিনি, তাই সেই ইনিংসটি আমার কাছে স্মরণীয়।'
তবে ২০১৮ সালের অ্যাডিলেড টেস্টে করা ১২৩ রানকেও রাখলেন ওপরের দিকে, কারণ সেটিই ছিল অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতের প্রথম সিরিজ জয়। এ ছাড়া ২০১৭ সালে বেঙ্গালুরুতে অজিদের বিপক্ষে ৯২ রানের ইনিংসে এবং ২০২১ সালের গ্যাবা টেস্টের ৫৬ রানকে ভোলার নয় বলে উল্লেখ করেন পূজারা। সাবেক ভারতীয় ব্যাটার বলেন,
'অস্ট্রেলিয়ার শক্ত প্রতিরোধ ঠেকাতে দীর্ঘ সময় ব্যাট করা জরুরি ছিল। একবার থিতু হয়ে গেলে আরও শট খেলতে ইচ্ছা হয়, তবে সেই পরিস্থিতিতে রান করা খুবই কঠিন। ভালোভাবে ডিফেন্স করলে টিকে থাকা সম্ভব।'
পূজারার চোখের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। তারা সহজে কাউকে জিততে দেয় না এবং তাদের পেসারদের বিপক্ষে খেলা কঠিন। পূজারা বলেন,
‘অস্ট্রেলিয়া সহজে জিততে দেয় না। এমনকি বিজয় খুব কাছে থাকলেও তারা রান তোলাকে কঠিন করে তোলে। অষ্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে মানসিক ও শারীরিকভাবে শক্ত থাকা এবং পুরোপুরি প্রস্তুত থাকা জরুরি।'
আরও পড়ুন
| সুপার ওভার জিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন অনূর্ধ্ব-১৫ দল |
|
অষ্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগে ভালো প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ বললেন পূজারা,
‘যদি ভালোভাবে প্রস্তুত না থাকেন, তারা কৌশল, ধৈর্য এমনকি স্লেজিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করবে। এ কারণেই আমি কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে ভালোবাসি।'
২০১৭ সালে রাঁচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫২৫ বলে ২০২ রান ও ৬৭২ মিনিট লড়াই করেছিলেন পূজারা। সেটিও ছিল দুর্দান্ত এক ইনিংস। দীর্ঘ ইনিংস খেলার রহস্য প্রসঙ্গে বলেন
'ছোটবেলা থেকেই দুর্বল দলের হয়ে খেলতে গিয়ে বুঝেছিলাম, কেবল শতক যথেষ্ট নয়, জিততে হলে প্রয়োজন বড় ইনিংসের। সেই মানসিকতাই শিখিয়েছে ধৈর্য ও অধ্যবসায়।'
কোন দেশে রান করা সবচেয়ে কঠিন- সহজেই বললেন ইংল্যান্ডের কথা, ‘সবুজ উইকেটে অ্যান্ডারসন-ব্রডের বিপক্ষে খেলাই ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বলেন তিনি।' কঠিনতম বোলারদের তালিকায় পূজারা রেখেছেন ডেল স্টেইন, মরনে মরকেল, জেমস অ্যান্ডারসন ও প্যাট কামিন্সকে।
বাজবল যুগে নিজেকে শেষ শাস্ত্রীয় ব্যাটার মনে করেন কি না পুজারা? বললেন,
'এই উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে কঠিন। এখনকার ক্রিকেটাররা হোয়াইট বল ফরম্যাট থেকে উঠে আসে, তাই তাদের স্বাভাবিক খেলা আক্রমণাত্মক। তবে পরিস্থিতি বুঝে রক্ষণাত্মক কৌশলও যোগ করছেন তারা। আমার খেলা ছিল ডিফেন্সের ওপর, এখনকার প্রজন্মের খেলা আক্রমণাত্মক, তবে দুটোই ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করেছে।’
No posts available.
২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:১০ এম

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ক্রিকেটের নতুন মৌসুম শুরুর আগে নিজেদের বোলিং বিভাগ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পেশাওয়ার জালমির অধিনায়ক বাবর আজম। তার মতে, এবারের বোলিং আক্রমণ দিয়ে গতবারের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠবে দল।
পিএসএলের নতুন সংস্করণে পেশাওয়ার দলে আছেন বাংলাদেশের দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। এছাড়া আমির জামাল, খুররাম শাহজাদ, শাহনাওয়াজ দাহানি, সুফিয়ান মুকিম, মাইকেল ব্রেসওয়েলদের নিয়ে সাজানো হয়েছে দলটির বোলিং বিভাগ।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলনে নিজ দলের বোলিং বিভাগ নিয়ে সন্তুষ্টির কথা বলেছেন বাবর।
“গত মৌসুমগুলোতে আমরা বোলিং আক্রমণের কারণে ভুগেছি। তবে এবার নতুন ক্রিকেটারদের নিয়ে আমরা বোলিং আক্রমণ শুধরে নিয়েছি। মাঠে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব আমরা।”
“পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাটাই মূল ব্যাপার। আমরা বোলিংয়ে কোন সমন্বয় নিয়ে নামছি সেটা ব্যাপার না, আমরা যদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারি, তাহলে সেটি কোনো কাজে দেবে না। তো আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগোচ্ছি।”
২০১৭ সালের পর আর পিএসএলের শিরোপা জিততে পারেনি জালমি। এর বড় কারণ বোলিং ব্যর্থতা। গত পাঁচ আসরে তারা ১৪ বার প্রতিপক্ষের কাছে ২০০-র বেশি রান হজম করেছে। এবার সেটি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোরই লক্ষ্য বাবরদের।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে নবাগত রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে জালমি। এই দলে শরিফুল-নাহিদ ছাড়াও আছেন বাংলাদেশের তানজিদ হাসান তামিম।

মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পর একের পর এক ইনজুরির ধাক্কা খাচ্ছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। সবশেষ ছিটকে যাওয়া হার্শিত রানার জায়গায় প্রায় দুই বছর ধরে আইপিএল না খেলা পেসারকে দলে নিলো দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা।
হাঁটুর চোটে আগে এবারের আইপিএল থেকে ছিটকে গেছেন তরুণ পেসার রানা। তার জায়গায় ৭৫ লাখ ভারতীয় রুপিতে কলকাতায় যোগ দিয়েছেন নবদীপ সাইনি। ২০২৩ সালের পর আর আইপিএল খেলেননি ৩৩ বছর বয়সী সাবেক ভারতীয় পেসার।
ভারতের হয়ে ২ টেস্ট, ৮ ওয়ানডে ও ১১ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন সাইনি। তবে ২০২১ সালের পর জাতীয় দলে আর সুযোগ হয়নি তার। আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে পাঁচ সংস্করণ মিলিয়ে তিনি খেলেছেন ৩২ ম্যাচ, নিয়েছেন ২৩ উইকেট।
আরও পড়ুন
| আইপিএল শুরুর আগে আলোচনায় ‘অসম্পূর্ণ ক্যাচ’ ও ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ |
|
এর আগে চোটের কারণে ছিটকে গেছেন কলকাতার আরেক পেসার আকাশ দীপ। আর কাফ মাসলের চোটে আইপিএলের শুরুর অংশ থেকে বাদ পড়ে যান শ্রীলঙ্কান পেসার মাথিশা পাথিরানা। এর আগে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ায় আরও কমে কলকাতার পেসার সংখ্যা।
ইনজুরির এই মিছিলে আকাশে জায়গায় সৌরভ দুবে ও বিদেশি পেসার হিসেবে ব্লেসিং মুজারাবানিকে দলে নিয়েছে কলকাতা।
অন্য দিকে গুজরাট টাইটান্স দলে এসেছে এক পরিবর্তন। অনভিষিক্ত বাঁহাতি পেসার পৃথ্বি রাজ ইয়ারার জায়গায় ৩০ লাখ রুপিতে সুযোগ পেয়েছেন কুলওয়ান্ত খেজরোলিয়া। গত মৌসুমেও গুজরাটের সঙ্গেই ছিলেন কুলওয়ান্ত।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের নতুন সংস্করণ শুরুর আগে ক্যাচ ধরা নিয়ে ফিল্ডারদের নড়াচড়া ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আয়োজকরা। অধিনায়কদের স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বল হাতে নেওয়ার পর ফিল্ডারের শরীর ও বল- দুটোর ওপরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না আনা পর্যন্ত ক্যাচ সম্পূর্ণ বলে ধরা হবে না এবং তার আগে উদযাপনও শুরু করা যাবে না।
বুধবার বিসিসিআইয়ের এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে অধিনায়কদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়। প্রায় ৯০ মিনিটের ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারিং বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সেখানে সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন ম্যাচের কয়েকটি ভিডিও দেখানো হয়, যেগুলোতে ক্যাচ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এসব উদাহরণ দেখিয়ে কর্মকর্তারা বোঝান, ফিল্ডারের শরীরের ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হলে ক্যাচ বৈধ ধরা হবে না।
আরও পড়ুন
| আইপিএলে কেন টাকা ঢালছেন আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা |
|
আইপিএলের প্লেয়িং কন্ডিশনের ধারা ৩৩.৩-এ বলা আছে, বল প্রথমবার কোনো ফিল্ডারের শরীরের সংস্পর্শে আসার মুহূর্ত থেকে ক্যাচ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ফিল্ডার যখন বল ও নিজের চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনবেন, তখনই সেই প্রক্রিয়া শেষ হবে।
যদিও নিয়মটি নতুন নয়, তবে এবারের আসরে এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আগাম সতর্ক করা হয়েছে দলগুলোকে। অধিনায়কদের ব্রিফিং দেন ভারতের সাবেক পেসার ও আইসিসির ম্যাচ রেফারি জাভাগল শ্রীনাথ এবং আন্তর্জাতিক আম্পায়ার নীতিন মেনন।
আলোচনায় আসে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মও। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে জানানো হয়, এই নিয়ম অন্তত আরও দুই মৌসুম বহাল থাকবে এবং ২০২৭ সালের আগে এটি পুনর্বিবেচনার কোনো পরিকল্পনা নেই। এই নিয়মে অবশ্য সব পক্ষ একমত নয়। দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছেন।
তার মতে, এই নিয়মের কারণে দলে অলরাউন্ডারের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। আগে ব্যাটিং ও বোলিং- দুই দিকেই অবদান রাখতে পারে এমন খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হতো, এখন দলগুলো নির্দিষ্ট ভূমিকার ক্রিকেটারদেরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে বিসিসিআই ও আইপিএল কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট- দর্শক আকর্ষণ ও কৌশলগত বৈচিত্র্য বাড়াতে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, তাই আপাতত এটি বহাল থাকছে।

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে দলে দলে পরিবর্তনের হাওয়া। এরই মধ্যে বড় এক পরিবর্তন এসেছে রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ দলে। মিডল-অর্ডার ব্যাটার লরি ইভান্সের বদলে দলে নেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার উসমান খাজাকে।
ইভান্সের সরে যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি পিন্ডিজ। সামাজিক মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বার্তায় তারা নিশ্চিত করেছে, তার জায়গায় দলে যোগ দিচ্ছেন খাজা। এই দলে আছেন বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।
সবশেষ অ্যাশেজ সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন ৩৯ বছর বয়সী খাজা। এরপর নিজ দেশের বিগ ব্যাশ লিগে ব্রিসবেন হিটের হয়ে তিন ইনিংসে প্রায় ১৪৮ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১০৮ রান। একই সঙ্গে শেফিল্ড শিল্ডে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে খেলে শেষ করেছেন প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ার।
এবার নতুন অধ্যায়ে নাম লেখালেন পিএসএলে। এই টুর্নামেন্টে অবশ্য খাজার অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এর আগে ২০২১ মৌসুমে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। সেই আসরে সাত ইনিংসে ৪৯.২০ গড় ও ১৫২.৭৯ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ২৪৬ রান।
ওই টুর্নামেন্টে পেশাওয়ার জালমির বিপক্ষে তার অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংসের সৌজন্যে তৎকালীন পিএসএলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ২৪৭ রান করে ইসলামাবাদ। যদিও টেবিলের শীর্ষে থেকে শেষ করেও দ্বিতীয় এলিমিনেটরে জালমির কাছেই হেরে বিদায় নেয় দলটি।
নতুন দলে অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামতে পারেন খাজা। এর আগে জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক পিন্ডিজ স্কোয়াড থেকে সরে দাঁড়ালে তার বদলি হিসেবে দলে নেওয়া হয় নিউ জিল্যান্ডের কোল ম্যাকঙ্কিকে।
আরও পড়ুন
| অধিনায়কের সঙ্গে বাজি ধরে প্রোটিয়া তরুণের চমক |
|
অন্য দিকে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড দলে এসেছে আরেক পরিবর্তন। ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন ম্যাক্স ব্রায়ান্ট। তার বদলে অফস্পিনার ক্রিস গ্রিনকে দলে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে মুলতান সুলতান্সের হয়ে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছিলেন গ্রিন।
বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হচ্ছে পিএসএলের নতুন সংস্করণ। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় উদ্বোধনী ম্যাচে নতুন দল হায়দরাবাদ কিংসমেনের মুখোমুখি হবে লাহোর কালান্দার্স। লাহোরের স্কোয়াডে আছেন বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ হোসেন ইমন।
এবারের পিএসএলে খেলবেন বাংলাদেশের মোট ৬ ক্রিকেটার। লাহোর কালান্দার্সে মোস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ হোসেন ইমন; পেশাওয়ার জালমিতে নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও তানজিদ হাসান তামিম এবং রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজে দেখা যাবে রিশাদ হোসেনকে।
টুর্নামেন্টের সবগুলো খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশের একমাত্র খেলাধুলার চ্যানেল টি স্পোর্টস।

নিয়মিত ক্রিকেটারদের বিশ্রামে সুযোগ পেয়ে বাজিমাত করলেন কনর এস্তেহেইজেন। নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে বড় অবদান রাখলেন তরুণ ব্যাটার। আর এর পেছনে রয়েছে অধিনায়ক কেশব মহারাজের সঙ্গে অন্যরকম এক বাজি।
নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে বুধবার সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি জিতে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ৩৩ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলে নায়ক এস্তেহেইজেন। ম্যাচ সেরার পুরস্কারের পাশাপাশি তিনি জিতে নিয়েছেন অধিনায়কের একটি ব্যাটও।
সব মিলিয়ে নিজের অভিষেক সিরিজটি দুই ফিফটিতে ২০০ রান করে রাঙিয়েছেন এস্তেহেইজেন। এর মধ্যে প্রথম তিন ম্যাচে তিনি করেন ৬৮ রান। আর শেষ দুইটিতে তার ব্যাট থেকে আসে ১৩২ রান। সব মিলিয়ে ৫০ গড় ও ১৪৫.৯৮ স্ট্রাইক রেটে রান করে তিনিই সিরিজের সেরা।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ জেতার পর মহারাজ জানিয়েছেন বাজির কথা। শেষ ম্যাচ শুরুর আগে মহারাজ নিজ থেকে এস্তেহেইজেনকে বলেছিলেন, যদি ৭৫ রান করতে পারো, তাহলে একটি ব্যাট দেবো। যেই কথা সেই কাজ। শেষ ম্যাচে ৫ চার ও ৬ ছক্কায় ঠিক ৭৫ রানই করেন এস্তেহেইজেন।
আরও পড়ুন
| আইপিএলে কেন টাকা ঢালছেন আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা |
|
ম্যাচ শেষে ব্যাট নিতেও দেরি করেননি ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার। পরে সেই গল্পই শোনান মহারাজ।
“আমি ওকে বলেছি, যদি ৭৫ রান করতে পারো তাহলে একটি ব্যাট দেবো। যেভাবে সে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, কন্ডিশন বুঝে ব্যাটিং লাইনআপের নেতৃত্ব দিয়েছে, দারুণ ছিল। নিজের অভিষেক সিরিজে কঠিন উইকেটে ম্যাচ সেরা ও সিরিজ সেরা হওয়া সুপার স্পেশাল ব্যাপার।”
“আজকের ইনিংসটিই তার সামর্থ্য সম্পর্কে একটা বার্তা দিয়েছে। আশা করি, সে এখান থেকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাবে এবং নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বিভিন্ন ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে থাকবে।”
এসএটোয়েন্টিতে মহারাজের সঙ্গে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসে ছিলেন এস্তেহেইজেন। ওই টুর্নামেন্টে ভালো করতে পারেননি তরুণ ব্যাটার। সব মিলিয়ে ১২ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ১৬৬ রান। তবে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে মনে করেন মহারাজ।
“আমি পুরো এসএটোয়েন্টি তার সঙ্গে কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলাম, শুধু দেখার জন্য যে সে কীভাবে নিজের কাজটা করে। সে ভীষণ পরিশ্রমী একজন। সে এমন একজন, যাকে আমি নিজের তত্ত্বাবধানে রাখি।”
“আমার মনে হয় না খুব বেশি মানুষ মাঠে ওইভাবে ক্রিকেট শট খেলতে পারে। তার ব্যাটে বল লাগার টাইমিংটা দারুণ। তবে সবচেয়ে ভালো লাগে, সে কতটা পরিষ্কার চিন্তাধারার এবং কতটা ক্ষুধার্ত ভালো করার জন্য।”
আরও পড়ুন
| উসমান তারিককে নকলের চেষ্টা লঙ্কান বোলারের, বাধা আম্পায়ারের |
|
এসময় নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এস্তেহেইজেনের দারুণ পারফরম্যান্সের কৃতিত্ব কিছুটা নিজেও নিয়ে নেন মহারাজ।
“প্রথম ম্যাচে (৪৮ রান) সে আমার পাশে বসেছিল। পরের দুই ম্যাচে (১৫ ও ৮ রান) বসেনি। চতুর্থ ম্যাচ শুরুর আগে আমি তাকে ডেকে বললাম, 'যদি রান করতে চাও, আমার পাসে বসতে হবে।' ওয়েলিংটনে সে ফিফট করল।”
“আজকের ম্যাচের আগে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'কী অবস্থা?' সে তখন যেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার সঙ্গে সঙ্গে রইল। আর ম্যাচের শুরু থেকেই জানত, ৭৫ রান করলে আমার থেকে ব্যাট পাবে। তাই ম্যাচ শেষে নিজ থেকেই আমার ব্যাগ থেকে ব্যাট নিয়ে চলে গেছে।”