
নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন মৌসুমে জেগেছে শিরোপাহীন থাকার সম্ভাবনা। প্রবল প্রতাপশালী ম্যানচেস্টার সিটিকে এই মৌসুমে লড়তে হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের সেরা চারে থাকতেই। ফলে সংশয় জেগেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন নিয়ে। সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা মনে করেন, ঠিক এই কারণে নতুন খেলোয়াড় কেনার ক্ষেত্রে তাদের বিড়ম্বনার মুখ পড়তে হতেও পারে।
শনিবার রাতে প্রিমিয়ার লিগে এভারটনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে পয়েন্ট টেবিলে সিটির অবস্থান পঞ্চম (৫৫)। হাতে ম্যাচ আছে আর ছয়টি। তিন ও চারে আছে যথাক্রমে নিউক্যাসল ইউনাইটেড (৫৯) ও নটিংহ্যাম ফরেস্ট (৫৭)। ইংলিশ চারটি ক্লাব সরাসরি সুযোগ পাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার। সিটির সামনে তাই চ্যালেঞ্জ রয়েছে ভালোই সেরা চারে থাকার জন্য।
আরও পড়ুন
| ৩৯ বছর বয়সে না ফেরার দেশে ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলার |
|
আর এটা প্রভাব ফেলতে পারে নতুন খেলোয়াড় দলে আনার ক্ষেত্রেও, এমনটাই শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন গার্দিওলা।
“এটা আমরা যেসব খেলোয়াড়দের চাই এবং তাদের হাতে আমরা ছাড়া আর কোনো বিকল্প আছে কিনা, তার ওপর নির্ভর করবে। যদি তাদের আরও প্রস্তাব থাকে, তাহলে আমি নিশ্চিত খেলোয়াড়রা অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা দলগুলোর দিকেই তাকাবে।”
গত ও এই মৌসুমে সিটি ছেড়েছেন কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। আগামী গ্রীষ্মে ঠিকানা বদল করবেন কেভিন ডে ব্রুইনা সহ কয়েকজন। ফলে দল ঢেলে সাজাতে নতুন খেলোয়াড় দলে টানার বিকল্প নেই সিটির সামনে।
সুত্রের বরাত দিয়ে ইএসপিএন জানিয়েছে, লেভারকুসেন ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান উর্টজকে ডে ব্রুইনার পজিশনে ক্লাবে আনার চেষ্টা করবে সিটি। যদিও তার দিকে নজর আছে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বায়ার্ন মিউনিখেরও, যাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে আগেই।
আরও পড়ুন
| লা লিগার তামাশায় ‘বাকরুদ্ধ’ বার্সা কোচ |
|
দলবদল নিয়ে তাই কিছুটা অনিশ্চিয়তা দেখছেন গার্দিওলা।
“সম্ভবত খেলোয়াড়রা সাধারণ প্রক্রিয়া মেনেই আসেন। তবে এমন কিছু লোকও আছে, যারা বলে দেয় যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে না খেললে তারা সেখানে যাবে না। আমি জানি না আসলে ব্যাপারটা। আমি পরবর্তী মৌসুমের জন্য সম্ভাব্য কোনো খেলোয়াড়ের সাথে কথা বলিনি। তাই আমি জানি না। এই ব্যাপারে।”
No posts available.
১৩ মে ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
১৩ মে ২০২৬, ৯:৪৫ পিএম

রিযাল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের হঠাৎ ডাকা সংবাদ সম্মেলন এবং এর পরপরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণায় রীতিমতো হইচই রটে গিয়েছে। যদিও পেরেজ এখনই এই দায়িত্ব থেকে অবসর নেওয়ার কোনো ইচ্ছা পোষণ করেননি, তবুও ক্লাবের মাঝে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে আবারও একটি নতুন ম্যান্ডেট বা গণদেশ চাইছেন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের এই নির্বাচনে পেরেজের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্প্যানিশ ব্যবসায়ী এনরিকে রিকুয়েলমে ছাড়া অন্য কারও নাম সেভাবে এখনো সামনে আসেনি। তবে স্পেনের স্থানীয় কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিংবদন্তি টেনিস তারকা রাফায়েল নাদালের নাম এই পদের সঙ্গে জড়িয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে।
নির্বাচনে নিজের প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই মুখ খুললেন টেনিস কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল। তাকে ঘিরে নানা জল্পনা ডালপালা মেললে তিনি এই নির্বাচন থেকে নিজেকে দূরে রাখার ঘোষণা দেন।
২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক নাদাল আজীবন রিয়াল মাদ্রিদের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার ঠিক একদিন পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় সব গুঞ্জন থামিয়ে দেন নাদাল। এর আগে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, নাদাল হয়তো পেরেজের চ্যালেঞ্জার হিসেবে নির্বাচনে লড়তে পারেন।
নাদাল নিজের বার্তায় লেখেন, ‘আমি এমন কিছু খবর পড়েছি যেখানে রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট পদে আমার সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়ে বলা হয়েছে। আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই যে, এই খবরগুলো মোটেও সত্য নয়।’
পেরেজের ঘোষণার পরপরই এই গুঞ্জন শুরু হয়। এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জানান, ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ করতে পারেন এমন যেকোনো সদস্যই প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়াই করতে পারবেন।
নাদালের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা, ক্লাবের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং সমর্থকদের মাঝে তাঁর গ্রহণযোগ্যতার কারণে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন আলোচনায় দ্রুত তাঁর নাম উঠে আসে। তবে এই কিংবদন্তি সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি এই প্রক্রিয়ার মধ্যে নেই।
নাদাল নিজেকে সরিয়ে নিলেও এখন সবার নজর অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের দিকে। স্পেনে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসছে এনরিকে রিকুয়েলমের নাম, যিনি গুরুত্বের সঙ্গেই নির্বাচনী প্রচারণার কথা ভাবছেন বলে জানা গেছে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ শেষ পর্যন্ত কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখে পড়বেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়; তবে নির্বাচন ঘিরে স্প্যানিশ ফুটবল মহলে ইতিমধ্যে কৌতূহল ও উত্তেজনা শুরু হয়ে গেছে।

ক্লাব বিশ্বকাপে ফুটবলাদের এককভাবে মাঠে প্রবেশের (সিঙ্গেল প্লেয়ার ওয়াকআউট) প্রথা দেখা যাবে না ২০২৬ বিশ্বকাপে। বুধবার এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্পোর্টস লিগের আদলে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপে ‘ওয়াকআউট’ ফরম্যাট পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছিল ফিফা। এই ধারণার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি খেলোয়াড়কে আলাদাভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা। তবে ফুটবল ঐতিহ্যের সঙ্গে বিষয়টি একদমই খাপ খায়নি। এমনকী এ নিয়ে তৈরি হয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বিশ্বকাপের ম্যাচ শুরুর আগের প্রটোকলের কথা বিবেচনা করেই একক প্রবেশ প্রথাটি বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর পরিবর্তে ফিফা খেলোয়াড়দের মাঠে প্রবেশের জন্য সম্পূর্ণ নতুন কোনো পদ্ধতি বিবেচনা করছে, যা প্রথাগত দলগত প্রবেশের চেয়ে আলাদা হবে।
গত বছরের টুর্নামেন্টে দলগুলো তাদের খেলোয়াড়দের মাঠে প্রবেশের ক্রম ঠিক করার সুযোগ পেয়েছিল। শর্ত ছিল অধিনায়ককে সবার শেষে মাঠে প্রবেশ করতে হবে। তৎকালীন সময়ে চেলসি মিডফিল্ডার রোমিও লাভিয়া এই আয়োজনকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিলেন। তিনি এটিকে ফুটবলে কিছুটা 'শোবিজ' বা বিনোদনের ছোঁয়া হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
সাংবাদিকদের লাভিয়া বলেছিলেন,
‘আমি মনে করি এটি আমাদের জন্য নতুন এবং বিশেষ কিছু। আমি এটি উপভোগ করেছি। এটি প্রিমিয়ার লিগেও কেন চালু করা হবে না?’
লাভিয়া মনে করেন, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলো থেকে সবসময়ই নতুন কিছু শেখা যায় এবং এটিই বিশ্বকাপ বা বড় টুর্নামেন্টগুলোকে বিশেষ করে তোলে।

মেয়ের অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব ছাড়ার তিন মাস পর আবারও কুরাসাও জাতীয় দলের কোচের পদে ফিরছেন ডিক অ্যাডভোকেট। আর তাতেই বিশ্বকাপে ইতিহাসে নাম লেখাতে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ এই কোচ। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড গড়বেন তিনি। ৭৮ বছর বয়সী এই ডাচ কোচ এর আগে দুটি বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করেছেন—১৯৯৪ সালে নেদারল্যান্ডস এবং ২০০৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে।
এক বিবৃতিতে আজ অ্যাডভোকেটের ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করা করেছেন কুরাসাও। ক্যারিবীয় সাগরের ছোট্ট দ্বীপ কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র ১ লক্ষ ৫৫ হাজারের মতো। গত নভেম্বরে অ্যাডভোকেটের অধীনেই তারা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। এই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করলেও তারা কুরাসাও বংশোদ্ভূত এবং অনেকেই বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নেদারল্যান্ডসের হয়ে খেলেছেন।
জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং বারমুডার সমন্বয়ে গঠিত কনকাকাফ গ্রুপের শীর্ষে থেকে তারা ৪৮ দলের বর্ধিত বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে স্টিভ ম্যাকলারেনের জ্যামাইকার বিপক্ষে ০-০ ড্র করে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তারা বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া ক্ষুদ্রতম দেশে পরিণত হয়।
তিন মাস পরেই অবশ্য কোচ অ্যাডভোকেট ঘোষণা দেন, অসুস্থ মেয়ের দেখাশোনার জন্য তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর পরিবর্তে স্থলাভিষিক্ত হন আরেক ডাচ কোচ ফ্রেড রুটেন। রুটেনের অধীনে খেলা দুটি ম্যাচে কুরাসাও বেশ ধুঁকেছে; মার্চে প্রীতি ম্যাচে চীনের কাছে ২-০ এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫-১ ব্যবধানে হারে তারা।
কদিন আগেই পদ থেকে ইস্তফা দেন রুটেন। মঙ্গলবার কুরাসাও ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানায়, স্কোয়াড ও কর্মীদের মধ্যে স্থিতিশীলতা এবং পেশাদার সুসম্পর্ক বজায় রাখতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফেডারেশন তার পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে। একই বিবৃতিতে রুটেন বলেন, ‘দলের মধ্যে এমন কোনো পরিবেশ থাকা উচিত নয় যা পেশাদার সম্পর্কের ক্ষতি করে। তাই সরে দাঁড়ানোটাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। হাতে সময় কম এবং কুরাসাওকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে কুরাসাও ফেডারেশনের সভাপতি গিলবার্ট মার্টিনা অ্যাডভোকেটের ফেরার ঘোষণা দিয়ে জানান, খেলোয়াড়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ডিক অ্যাডভোকেট আবারও দলের হাল ধরছেন। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, মার্টিনা জানিয়েছেন, অ্যাডভোকেটের মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে আগামী ৩০ মে হ্যাম্পডেন পার্কে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে কুরাসাও।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে কুরাসাও 'ই' গ্রুপে রয়েছে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ জার্মানি, ইকুয়েডর এবং আইভরি কোস্ট। আগামী ১৪ জুন হিউস্টনে জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে।

দেশের ইতিহাসের প্রথম ফুটসাল লিগ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে হবে বহুল কাঙ্ক্ষিত এই লিগ। ফুটসাল লিগের খেলাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস।
১৪ মে শুরু হওয়া ফুটবল লিগ শেষ হবে ২৩ মে। ১০ দিনের এই যাত্রায় নারী ও পুরুষ মিলিয়ে অংশ নিয়েছে ১১টি দল।
ফুটসাল লিগের প্রথম আসরে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলো হলো—বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, আনসার, বিকেএসপি, চাঁদপুর জেলা, ঢাকা অ্যাথলেটিক, ফকির এফসি, আইএম টেন, স্পোর্টস ফিল্ড লজিস্টিকস, টেকভিল ফুটসাল ক্লাব, ওয়ারিয়র স্পোর্টস একাডেমি ও জেনন এফসি।
ফুটবসালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিকাল ৪টা। প্রথম দিনেই মাঠে নামবে তিনটি দল। বিকেল ৫টায় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিকেএসপির নারী দল। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু পুরুষ বিভাগের প্রথম ম্যাচেও খেলবে একই দল দুটি। দিনের শেষ ম্যাচে রাত ৯টায় খেলবে পুরুষ বিভাগের জেনন এফসি ও ঢাকা অ্যাথলেটিক।
ফুটসাল মূলত ফুটবলের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। যেখানে এক দলে ৫ খেলোয়াড় অংশ নিতে পারে। তবে সর্বোচ্চ ১২ জন ব্যবহার করা যায়। আর বদলি করা যায় যত খুশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৯৩০ সাল থেকে প্রচলিত থাকলেও বাংলাদেশে এর বড় উদ্যোগে পথচলা শুরু ২০১৮ সালে মেয়েদের এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সৌদি আরবের সেই ঐতিহাসিক জয়টি টুর্নামেন্টের ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে এখনও অমলিন। সেই হারের পর আলবিসেলেস্তারা শেষ ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নই হয়ে যায়। বিপরীতে গ্রুপপর্বে সৌদির একমাত্র জয় নকআউট পর্বে তোলার জন্য যথেষ্ট না হলেও, বিশ্বকে তারা দেখিয়ে দিয়েছিল—এই দলটি বিশ্বের যেকোনো বড় পরাশক্তির সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করার সামর্থ্য রাখে।
সৌদি আরবের ইতিহাসে সেই স্মরণীয় ম্যাচে নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন দলটির রাইট-ব্যাক সাউদ আবদুলহামিদ। ২৬ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার এরপর থেকেই ক্লাব এবং জাতীয় দল—নিজের দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন। এই মৌসুমে রোমা থেকে ধারে ফরাসি ক্লাব লেন্স-এর হয়ে খেলছেন। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৯ ম্যাচে ৩টি গোল এবং ৮টি অ্যাসিস্ট করে ছন্দের তুঙ্গে আছেন তিনি।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন কোচ জর্জিওস ডনিসের অধীনে সৌদি আরবের লক্ষ্য আরও বড়। কাতার বিশ্বকাপের সেই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছাতে মরিয়া গ্রিন ফ্যালকনরা।
এশিয়ার এই জায়ান্টদের গ্রুপ পর্বের বাধা টপকানো বেশ কঠিনই হতে যাচ্ছে। গ্রুপ ‘এইচ’-এ তাদের মোকাবিলা করতে হবে সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এবং স্পেনের। এরপর হিউস্টনে কেপ ভার্দোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তারা তাদের গ্রুপ পর্বের অভিযান শেষ করবে।
ফিফার সাথে আলাপকালে আবদুলহামিদ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই অবিস্মরণীয় জয়, ইউরোপে খেলার অভিজ্ঞতা এবং আসন্ন টুর্নামেন্ট নিয়ে সৌদি আরবের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন। ২০২২ বিশ্বকাপের সেই মহাকাব্যিক জয় নিয়ে সাউদের স্মৃতিচারণটা এমন,
‘সেই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। আর্জেন্টিনা ছিল এক শক্তিশালী দল যারা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছিল। তাই আর্জেন্টিনার মতো এত বড় একটা দলকে হারানোর অনুভূতিটা ছিল একদম অন্যরকম, কিছুটা অবিশ্বাস্যও বটে। এটা আমাদের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি ছিল। আমরা তখন এতটাই খুশি ছিলাম যে, আমার মনে হয় না কেউ কোনোদিন সেই মুহূর্তের কথা ভুলতে পারবে।’
সালেম আল দাওসারির সেই জয়সূচক গোলের পর দলের সবার অনুভূতি নিয়ে সাউদ বলের,
‘সালেম যখন গোল করে আমাদের ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নিল, তখন মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী আমাদের সমর্থন করছে। গ্যালারিতে একজন দর্শককেও বসে থাকতে দেখিনি, সবাই দাঁড়িয়ে চিৎকার করছিল—পুরো পাগলাটে একটা পরিবেশ! আমরা খুশিতে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে দৌড়াচ্ছিলাম। ওইটা এক অসাধারণ অনুভূতি ছিল এবং আমি আশা করি এবারের বিশ্বকাপেও আমরা তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি করতে পারব।’
২০২২ থেকে ২০২৬—এই চার বছরে সৌদি আরব এবং নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের বদল নিয়ে সাউদ বলেন,
‘সত্যি বলতে, এই সময়ে অনেক কিছু বদলে গেছে। সৌদি প্রো লিগে অনেক বিদেশি খেলোয়াড় আসায় লিগের মান অনেক বেড়েছে। আমি নিজেও দেশের বাইরে (ইউরোপে) খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সেখান থেকে যা শিখছি তা মাঠে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। আমার অভিজ্ঞতা হয়তো এখনও খুব বেশি নয়, কিন্তু আমি সতীর্থদের সাহায্য করার চেষ্টা করি। আমরা খেলোয়াড়রা একে অপরকে সাহায্য করি এবং ক্লাবগুলোতে বিদেশি খেলোয়াড়দের অবদান আমাদের জন্য দারুণ ইতিবাচক।’
বিশ্বকাপে এবার কঠিন এক গ্রুপে আছে সৌদি। যে গ্রুপের একটি দল শিরোপার দাবিদারও। উরুগুয়ে, স্পেন এবং কেপ র্ভাদের কঠিন গ্রুপে নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে সাউদ বলেন,
‘আমাদের লক্ষ্য হলো যতটা সম্ভব দূরে যাওয়া। বিশ্বকাপের আগে আমরা নিজেদের সেরা প্রস্তুতি নিতে চাই এবং আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো গ্রুপ পর্ব পার হওয়া। আমরা জানি গ্রুপটা অনেক কঠিন, কিন্তু আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে লড়াই করব যাতে নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পারি।’
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে সৌদি আরব কোন শক্তিতে ভর করে সফল হতে চায়, এমন প্রশ্নে সাউদের উত্তর, ‘আমার মতে, আমাদের অদম্য ইচ্ছা, দলের একতা এবং আমাদের ওপর কোচ ও সমর্থকদের অগাধ বিশ্বাস—এগুলোই এই দলের মূল শক্তি।