
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচে বেঞ্চে থাকার পর গতরাতে মাঠে নামেন রাফিনিয়া। বার্সেলোনা অধিনায়কের ফেরার দিন জয়ে ফিরতে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। তবে কোপা দেল রে-তে আগের ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ৪-০ গোলে হারের পর এবার জিরোনার মাঠেও হারলো বার্সেলোনা।
জিরোনার মাঠে সোমবার লা লিগার ম্যাচটি ২-১ গোলে হেরেছে বার্সোলোনা। পাও কুবার্সির গোলে পিছিয়ে পড়ার পরপরই সমতা টানেন জিরোনার তমাস লেমা। শেষদিকে ব্যবধান গড়ে দেন ফ্রান বেলত্রান।
এই হারে লিগ টেবিলে শীর্ষে ফেরা হলো না বার্সেলোনার। মৌসুমে চতুর্থ হারের পর, ২৪ ম্যাচে ১৯ জয় ও এক ড্রয়ে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে ফ্লিকের দল। তাদের চেয়ে ২ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ।
আরও পড়ুন
| চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমারে মুগ্ধ কোচ |
|
বার্সেলোনার এদিন ৭০ শতাংশ সময় বল দখলে রাখে। ২৬ শটের কেবল চারটি লক্ষ্যে ছিল। যার মধ্যে তিনটি প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্যও তাদের সহায় হয়নি। বিপরীতে আগের তিন ম্যাচে জয়হীন জিরোনার ১৩ শটের ৯টিই লক্ষ্যে থাকে। দারুণ এই জয়ে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে ১২ নম্বরে উঠেছে তারা।
বার্সেলোনার টানা কয়েকটি আক্রমণ সামলে ২৩ মিনিটে প্রতি আক্রমণে উঠে জিরোনা। যদিও ভ্লাদিস্লাভের ওই প্রচেষ্টা কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি বার্সেলোনা গোলকিপারকে। ছয় মিনিট পর ভ্লাদিস্লাভের আরেকটি শট পা দিয়ে আটকান গোলকিপার জোয়ান গার্সিয়া।
৪৩ মিনিটে রাফিনিয়ার শট পোস্টে প্রতিহত হয়। এক মিনিট যোগ করা সময়ে দানি ওলমো ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। কিন্তু, ইয়ামালের নেওয়া স্পট কিকও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
৫৯ মিনিটে কুবার্সির নৈপুণ্যে ডেডলক ভাঙতে পারে বার্সেলোনা। ডান দিক থেকে জুল কুন্দের ক্রস পেনাল্টি স্পটের কাছে পেয়ে, দারুণ হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন তরুণ ডিফেন্ডার কুবার্সি। লা লিগায় এটাই তাঁর প্রথম গোল।
আরও পড়ুন
| রিয়ালের বিপক্ষে পাগলাটে সেই গোল নিয়ে মুখ খুললেন বেনফিকার গোলকিপার |
|
এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ অবশ্য দুই মিনিটেই হতাশায় রূপ নেয় বার্সেলোনার। বল ক্লিয়ার করার সুযোগ পেয়েও পারেননি কুবার্সি। বরং আবার বল পেয়ে এবার গার্সিয়াকে ফাঁকি দিয়ে গোলমুখে সতীর্থকে খুঁজে নে ভ্লাদিস্লাভ এবং বিনা বাধায় জালে বল জড়ান তমাস লেমা।
৮৬ মিনিটে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়। বেলত্রান নিচু এবং কোনাকুনি শটে জালে বল পাঠান। বিল্ড-আপে কুন্দেকে ফাউল করার দাবি বার্সা জানালেও গোলটি বহাল থাকে। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে সমতায় ফিরতে পারত বার্সেলোনা; কিন্তু অফসাইডে ছিলেন লেভানদোভস্কি।
No posts available.
৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
৪ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১২ পিএম
৪ এপ্রিল ২০২৬, ৭:২৯ পিএম

মুহূর্তের জন্য যেন বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচের চিত্রনাট্য ফিরে এলো বুন্দেসলিগার ম্যাচে। ৮০ মিনিট পর্যন্ত ২ গোলে এগিয়ে থেকেও, শেষ দিকে ৩ গোল হজম করে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে গেল এসসি ফ্রেইবুর্গ।
জার্মান লিগের ম্যাচটিতে শনিবার রাতে ফ্রেইবুর্গকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন। অথচ ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত ০-২ গোলে পিছিয়ে ছিল তারা। সেখান থেকে ইনজুরি টাইমের দুইটিসহ মোট ৩ গোল দিয়ে জয়ের স্বাদ পেয়েছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।
প্রায় ৭২ ঘণ্টা আগে ফ্রেইবুর্গের মতো একই পরিণতি হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের। অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০তে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে ৩ গোল হজম করে ম্যাচটি হেরে যায় তারা।
বায়ার্ন-ফ্রেইবুর্গ ম্যাচে সবকটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৬ মিনিটে ডেডলক ভেঙে ফ্রেইবুর্গকে লিড এনে দেন জোহান মানজাম্বি। পরে ৭১ মিনিটে লুকাস হোলারও জালের দেখা পেলে মনে হচ্ছিল অঘটনের জন্ম দিয়েই ফেলবে ফ্রেইবুর্গ।
শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। ৮১ মিনিটে টম বিশফের গোলে ব্যবধান কমায় বায়ার্ন। পরে ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে আবার গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান ২০ বছর বয়সী এই উইং-ব্যাক।
নাটকীয়তার শেষটা লিখেন লেনার্ট কার্ল। ইনজুরি টাইমের নবম মিনিটে জাল কাঁপিয়ে দলকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দেন তিনি।
এমনিতে ম্যাচে সার্বিক পারফরম্যান্সে পরিষ্কার এগিয়েই ছিল বায়ার্ন। প্রায় ৬৮ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৯টি শট করে তারা। এর ৯টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে ১২টি শট করে ৪টি শুধু লক্ষ্যে রাখতে পারে ফ্রেইবুর্গ।
এই জয়ে ২৮ ম্যাচে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার পথে আরও এগিয়ে বায়ার্ন। সমান ম্যাচে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। বাকি ৬ ম্যাচে আর ৮ পয়েন্ট পেলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে বায়ার্নের শিরোপা। ২৮ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে ফ্রেইবুর্গ।

দারুণ ছন্দে থেকেই আন্তর্জাতিক বিরতির যায় রিয়াল মাদ্রিদ। টানা ছয় ম্যাচে জয় পাওয়া লস ব্লাঙ্কোসরা মৌসুমের বড় দুটি শিরোপার দৌড়ে ভালোভাবেই টিকে ছিল। তবে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন শেষে যেন খেই হারিয়ে ফেলল রিয়াল। অবনমন অঞ্চলের এক দলের কাছে পয়েন্ট হারাতে হলো তাদের।
লা লিগায় আজ মায়োর্কার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিপক্ষের মাঠে ৪১ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর শেষদিকে একটি গোল শোধ করে আলভারো আরবেলোয়ার দল। অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফেরার আশা দেখতে না দেখতেই যোগ করা সময়ে আবার গোল খেয়ে শেষ পর্যন্ত রিক্ত হস্তেই মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারীদের।
এই হারে লিগ জেতার দৌড়ে বড় ধাক্কা খেল রিয়াল মাদ্রিদ। ৩০ ম্যাচে ২২ জয়, ৩ ড্র ও ৫ হারে কিলিয়ান এমবাপে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের সংগ্রহ ৬৯ পয়েন্ট। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা এক ম্যাচ কম খেলে ৪ পয়েন্ট এগিয়ে আছে। আজ আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে জয় পেলেই ব্যবধান হবে ৭। আর লিগে চলতি মৌসুমে অষ্টম জয় পাওয়া মায়োর্কা ৩১ পয়েন্ট নিয়ে ১৭ নম্বরে আছে। রেলিগেশন জোন থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট এগিয়ে আছে তারা।
প্রতিপক্ষের মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বেঞ্চে রেখে কিলিয়ান এমবাপে ও ব্রাহিম দিয়াজকে দিয়ে আক্রমনভাগ সাজান রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আরবেলোয়া। প্রথমার্ধে দারুণ কিছু সুযোগও পায় রিয়াল। এমবাপের দুটি শট মায়ার্কোর গোলকিপার লিও রোমান। তবে রিয়াল সুযোগ হাতছাড়া করলেও ব্যবধান বাড়াতে ভুল করেনি স্বাগতিকরা। ৪১ মিনিটে ডানদিক থেকে পাবলো মাফেও আক্রমণে ওঠেন। এরপর রিয়ালের বক্সে মানু মরলান্সকে বল বাড়ালে নিচের ডান কোনে বল পাঠিয়ে দেন মায়োর্কার মিডফিল্ডার।
দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের পারফরম্যান্স ছিল আরও হতাশাজনক। সমতায় ফেরার কয়েকটি কিছু সুযোগ পেলেও মায়োর্কার গোলকিপারের কাছে হার মানতে হয় তাদের। ২৫ বছর বয়সী স্প্যানিশ এই গোলকিপার মোট পাঁচটি দুর্দন্ত সেভ দেন।
৫৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ভিনিসিয়ুস। তবে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারও। ৮৮ মিনিটে কাঙ্খিত গোল পেয়ে যায় রিয়াল। স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এদের মিলিতাও। আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের নেওয়া কর্নার থেকে হেডে বল জড়ান নিচের কোনায়।
যোগ করা সময়ে রিয়ালের জালে আবার বল পাঠালে, নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। পাঁচ মিনিটের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মায়োর্কার জয়সূচক গোলটি করেন কসোভোর ফরোয়ার্ড ভেদাত মুরকি। শেষ পর্যন্ত হতাশার এক হার সঙ্গী করেই মাঠ ছাড়ে রিয়াল।

টানা তিন বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইতালির ফুটবলে এখন তুমুল ঝড় বয়ে যাচ্ছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন দুর্দশার মধ্যেই বিতর্কে জড়ালো দেশটির ফুটবলাররা। ইতালির একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিতের আগেই নাকি বোনাস দাবি করেন জিয়ালুইজি দোন্নারুম্মার দল!
ইতালির সংবাদমাধ্যম লা রিপাবলিকা’ এর প্রতিবেদন, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ প্লে-অফ ফাইনালের আগে ইতালির খেলোয়াড়রা বড় অঙ্কের বোনাস চেয়েছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী দলগতভাবে ভাগ করে নেওয়ার জন্য তারা মোট ৩ লাখ ইউরো বোনাস দাবি করেন—যা বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে পারলে প্রতি খেলোয়াড়ের জন্য প্রায় ১০ হাজার ইউরো করে দাঁড়াত।
ইতালির সদ্য সাবেক কোচ জেনেরো গাত্তুসো নাকি শুরুতেই এই বোনাস আলোচনা বন্ধ করে দেন। খেলোয়াড়দের তিনি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন—পুরস্কার ফলাফলের মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়। মাঠে তার বিখ্যাত ‘গ্রিন্তা’ মানসিকতার মতোই এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের মনোযোগের ঘাটতি দেখে তিনি ভীষণ হতাশ ছিলেন।
লা রিপাবলিকা তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে,
‘এই দুঃখজনক পরিণতি রিনোর কথাকেই সঠিক প্রমাণ করেছে, আর এটাও দেখিয়ে দেয়—কিছু ইতালিয়ান খেলোয়াড় কেমন মানসিকতা নিয়ে সেই ম্যাচে নেমেছিল, যে ম্যাচ ইতালিকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনতে পারত।’
ব্যর্থতার পর ইতালির ফুটবলে রীতিমতো পদত্যাগের হিড়িক নামে। ফুটবলপ্রধান থেকে শুরু করে ফেডারেশনের কর্মকর্তা এবং সবশেষ কোচও সরে দাড়ান। পেনাল্টি শুটআউটে ইতালির স্বপ্নভঙ্গের পর দলটির সিনিয়র খেলোয়াড়রা নাকি কোচকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে গাত্তুসো নিজের নীতিতে অটল থাকেন। প্রত্যাশা পূরণে এমন ব্যর্থতার পর তিনি দায়িত্বে আর না থাকার সিদ্ধান্ত জানান দলকে।
ইতালির ফুটবল কাঠামো এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার ধাক্কা সামলে নতুন করে গড়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ সামনে। এরই মধ্যে বোনাস দাবির খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সমালোচকদের মতে, বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মধ্যে তাড়নার অভাব এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এখন ইতালির সামনে একটাই পথ—দলের সংস্কৃতি ও নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা, যাতে ভবিষ্যতে এমন ‘ঐতিহাসিক’ লজ্জার স্বাক্ষী হতে না হয়। ‘আজ্জরিদের’ পরবর্তী লক্ষ্য এখন ইউয়েফা নেশন্স লিগ। এই প্রতিযোগিতায় একেবারে নতুন কোচিং স্টাফ ও পুনর্গঠিত দল নিয়েই মাঠে নামতে হবে তাদের।

আর্লিং হলান্ড যেদিন ‘দানবীয়’ রূপে হাজির হন, প্রতিপক্ষের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া সেদিন কিছুই করার থাকে না। এবার নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ডের সেই রূপ দেখার দুর্ভাগ্য হলো লিভারপুলের। অল রেডদের প্রায় একাই দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে হ্যাটট্রিক করলেন ম্যানচেস্টার সিটির ‘গোলমেশিন’।
এফ এ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ লিভারপুলকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। সিটির মাঠ ইতিহাদে ঝড় তুলে হ্যাটট্রিক করেন হলান্ড। সিটিজেনদের অন্য গোলটি আসে অ্যান্তনি সেমেনিওর নৈপুণ্যে।
গত তিন মৌসুমে এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা পেপ গার্দিওলার দল এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো সেমিফাইনালের টিকিট কাটলো। টানা সাতবার এফ এ কাপের শেষ চারে ওঠার নিজেদের রেকর্ডই ভাঙলো তারা। এছাড়া সেমি ফাইনাল ও ফাইনাল বাদে এফ এ কাপে টানা ৩২টি ম্যাচ জিতল ম্যান সিটি। ২০১৭-১৮ মৌসুমের পঞ্চম রাউন্ডে উইগানের কাছে হারের পর থেকে এই টুর্নামেন্টকে যেন দুধ-ভাত বানিয়ে ফেলেছে ম্যান সিটি।
আর্সেনালের হারিয়ে লিগ কাপের শিরোপা জিতে আন্তর্জাতিক বিরতিতে যায় সিটি। বিপরীতে সবশেষ ম্যাচে ব্রাইটনের কাছে ২-১ গোলে হারে লিভারপুল। বিরতের আগের সেই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাই বজায় রাখল সিটি। নিষেধাজ্ঞার জন্য এই ম্যাচে সিটির ডাগ-আউটে ছিলেন না পেপ গার্দিওলা। এরপরও লিভারপুলকে হেসেখেলে উড়িয়ে দিতে কোনো বেগ পেতে হয়নি হলান্ডদের।
সিটির মাঠে বল দখল কিংবা শট নেওয়ায় খুব একটা পিছিয়ে ছিল না লিভারপুল। ৫১ শতাংশ বল নিজেদের কাছে রেখে সফরকারীরা ১১টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখে। তবে ছন্নছাড়া আক্রমণ আর সুযোগ হাতছাড়ার খেসারাত দিতে হয় আর্নে স্লটের দলকে। ০-৪ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মোহাস্মদ সালাহর একটি পেনাল্টি মিসে হতাশার ষোলোকলা পূর্ণ করে লিভারপুল।
১৮ মিনিটেই হ্যাটট্রিক করে লিভারপুলকে ম্যাচ থেকে একাই ছিটকে দেন ম্যানসিটির জয়ের নায়ক হলান্ড। ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি গোলের পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সেমেনিওর ক্রস থেকে হেড থেকে জোড়া গোল পূর্ণ করেন হলান্ড। বিরতির পর ৫৭ মিনিটে ক্রসবারের পাশে থেকে বল জালে পাঠিয়ে মৌসুমের প্রথম হ্যাটট্রিক এবং ২০২২ সালে ক্লাবে যোগদানের পর ১২তম হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। এরমধ্যে সিটির ব্যবধান ৩-০ করা গোলটি আসে সেমেনিওর সৌজন্যে।

আগামী ১০ দিনে তিনবার দেখা হবে দুই দলের। চলতি মৌসুমে এরমধ্যেই দু’বার মুখোমুখি হয়েছে বার্সেলোনা-আতলেতিকো মাদ্রিদ। আজ লা লিগায় নিজেদের মাঠে কাতালান ক্লাবটিকে আতিথেয়তা দেবে আতলেতিকো।
সবশেষ কোপা দেল’রের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বার্সার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারে আতলেতিকো। তবে প্রথম লেগে ৪-০ গোলে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে সিমিওনের দলই। কিন্তু বার্সার ডেরা ক্যাম্প ন্যূতে অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়েছিল আতলেতিকো। হান্সি ফ্লিকের দলের প্রবল আক্রমণের মুখে পড়ে কোনোমতে কোপা দেল’রের ফাইনাল নিশ্চিত করে তারা।
এবার লা লিগায় বার্সার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আরও বেশি সতর্ক সিমিওনে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে আতলেতিকোর লিগ জয়ের আশা নেই বললেই চলে। ২৯ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে আছে তারা। সেরা চারে থেকে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের অবস্থানও অনেকটাই নিশ্চিত করেছে ক্লাবটি। তবে শীর্ষে থাকা বার্সার জন্য লিগের বাকি সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করা বার্সা দুই নম্বরে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছে।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সিমিওনের বিশ্লেষণ। ঠিক কী কারণে বর্তমান বার্সাকে বিপজ্জনক মনে হয়। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় বার্সেলোনার সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড় কে, তিনি লামিন ইয়ামাল, রাফিনহা, রবার্ট লেভানডফস্কি বা ফেরমিন লোপেজের মতো কারও নাম নেননি। বরং তার মতে, সবচেয়ে বড় বিপদ হলো ক্লাবটির খেলোয়াড়দের তৈরি করা সম্মিলিত চাপ।
সিমিওনে বলেন,
‘এদের সব খেলোয়াড়ই বিপজ্জনক, কারণ তারা অসাধারণ। তারা প্রতিপক্ষের অর্ধেক মাঠ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, আপনাকে চিন্তা করার কোনো সময়ই দেবে না। প্রতিটি ম্যাচে তারা এটা করে, যা খুবই কঠিন; তারা হাই-ডিফেন্স করে এবং ঝুঁকি নেয়। আমাদের ম্যাচটা এমন জায়গায় খেলতে হবে যেখানে আমরা তাদের আঘাত করতে পারি।’
এই ম্যাচের তিন দিন পরই আবার দেখা হবে বার্সা-আতলেতিকোর। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বার্সার আতিথেয়তা নেবে তারা। ১৪ এপ্রিল দ্বিতীয় লেগে মৌসুমে শেষবারের মতো মুখোমুখি হবে দুই দল।