৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫:১৪ পিএম

ইতালির খেলোয়াড়রা নাকি বিশ্বকাপে উঠতে পারলে বোনাস দাবি করেছেন, এমন খবরকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদন তাকে ‘কষ্ট দিয়েছে’ বলেও জানিয়েছেন এই গোলরক্ষক।
স্কাই স্পোর্টস ইতালিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে মুখ খোলেন দোনারুম্মা
“অধিনায়ক হিসেবে আমি কখনোই ইতালি জাতীয় দলের কাছে একটি ইউরোও দাবি করিনি। জাতীয় দল সব সময়ের মতোই বড় টুর্নামেন্টে ওঠার পর খেলোয়াড়দের একটি উপহার দেয়। এর বাইরে কিছু নয়।”
চার বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি পরপর তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিট কাটতে ব্যর্থ হয়েছে। গত মাসে প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে হেরে ছিটকে যায় আজ্জুরিরা।
ব্যর্থতার জেরে পদত্যাগ করেন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। জাতীয় দলের ডেলিগেশন প্রধানের দায়িত্ব ছাড়েন সাবেক কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিনালুইজি বুফন। একই সঙ্গে কোচের পদ থেকেও সরে দাঁড়ান কিংবদন্তি জেনারো গাত্তুসো।
এর মাঝে ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, বিশ্বকাপে উঠতে পারলে ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের কাছে অগ্রিম বোনাসের দাবি করেছেন ফুটবলাররা। সেই খবরের সত্যতা নেই বলেই জানিয়েছেন দোনারুম্মা।
একইসঙ্গে সামনের দিনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন তারকা গোলরক্ষক।
“নতুন করে শুরু করতে হবে, সামনে এগোতে হবে। আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। পরের বিশ্বকাপের জন্য চার বছর অপেক্ষা করতে হবে, তবে এর মধ্যে ইউরো ও নেশনস লিগের মতো বড় টুর্নামেন্ট আছে।”
“বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবার আগে মাঝের বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে ভালো করতে হবে। এখন থেকেই শক্তভাবে নতুন শুরু করতে হবে।”
No posts available.
৯ এপ্রিল ২০২৬, ১:১৯ পিএম

আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস (আফকন) ফাইনাল এখনও বিতর্ক সৃষ্টি করছে। সেনেগাল কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) সিদ্ধান্তে মরক্কোকে শিরোপা দেওয়ার বিরুদ্ধে কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) আপিল করেছে সেনেগাল।
চলমান বিতর্কের মাঝেই ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে মুখ খুলেছেন মরক্কো অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। ম্যাচ এবং নিজের উদ্ভট আচরণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি,
“কঠিন একটা সময় ছিল তখন, মাঠে উত্তেজনা ছিল ব্যাপক। তোয়ালে নিয়ে আমি যে চিত্রটা ফুটিয়ে তুলেছি, সেটা মোটেও গর্বের বিষয় নয়। এটা ঠিক যে আমরা আমাদের প্রতিপক্ষকে সম্মান করেছি এবং টুর্নামেন্টের নিয়ম মেনে চলেছি।”
আফকনের ফাইনাল ম্যাচে গোলকিপারের তোয়ালে ছুঁড়ে ফেলে দেন হাকিমি। প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) রাইটব্যাকের সে দৃশ্যের নিন্দা করেন ফুটবল ভক্তরা। বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকলেও এবার স্পেনের স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং চ্যালেন মুভিস্টারে কথা বলেন হাকিমি।
অনুশোচনায় ভুগলেও সেনেগালের আচরণের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন হাকিমি এবং মরক্কো শিরোপা পাওয়ার যৌগ্য বলে জানিয়েছেন তিনি,
“তারা (সিএএফ) বিচার করছে কি হওয়া দরকার। আশা করি ফুটবল ও আফ্রিকার ভালোর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আশা করি আমরা জিতব, কারণ আমরা তা পাওয়ার যোগ্য এবং এমন সময় মাঠ ত্যাগ করা ঠিক নয়।”
হাকিমি আফকন ইস্যু ছাড়াও চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেছেন,
“লিভারপুলের বিপক্ষে আমরা সুযোগ তৈরি করলেও বড় ব্যবধানের সুবিধা পেতে পারিনি, তাই একটু হতাশা আছে। তবে পুরো দলের কাজ দেখে খুশি।”
চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সম্ভাবনা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন হাকিমি,
“আমি আগেও বলেছি, এই দলের ওপর সন্দেহের দরকার নেই। আমরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। এটা বহুবার প্রমাণ করেছি। মানুষ যখন আমাদের বাদ দেয়, তখনই আমরা আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠি। আমরা জানি, মৌসুমের কোথায় আছি এবং আশা করি এমনই খেলতে থাকব, যতদূর সম্ভব যেতে চাই।”

ক্যাম্প ন্যুয়ের রাত শুরু হয়েছিল বার্সেলোনার ঝড় দিয়ে, শেষটা আতলেতিকোর জয়োল্লাসে। কাতালানরা বল বুনেছে, আক্রমণ করেছে, সুযোগের পর সুযোগ তৈরি করেছে। বল পজিশনেও দেখিয়েছে মুন্সিয়ানা। তবে গোল পোস্টের নিচে থাকা হুয়ান মুসো ছিলেন দুর্ভেদ্য দেয়াল। শত চেষ্টাতেও তাকে যায়নি টলানো। তাতেই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে ২-০ গোলে পিছিয়ে শেষ করেছে হান্সি ফ্লিকের দল।
ইতিহাস বলছে, ২০০৬ সালের পর প্রথমবার বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে এসে জিতল আতলেতিকো মাদ্রিদ। ফিরতি লেগে মেট্রোপলিটানোতে লড়াই করতে হবে ইয়ামালদের। তাতে বার্সেলোনা পক্ষে জয় ছাড়াও আতলেতিকোর দুর্গে ঢুকে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
| অবসর ভেঙে বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুত সুয়ারেজ |
|
যা হয়ে গেছে, তা মেনে নিয়ে পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে চান ফ্লিক,
‘আমাদের এটা মেনে নিতে হবে। আর আগামী মঙ্গলবার আতলেতিকোর মাঠে ম্যাচটার দিকে মন দিতে হবে। আমাদের সেই মানের খেলোয়াড় আছে, যারা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। আমাদের লড়াই করতে হবে।’
লামিন ইয়ামালও বলছেন একই কথা। আশাবাদী থেকে বার্সা সমর্থকদের উদ্দেশে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন তিনি। মঙ্গলবার মেট্রোপোলিটানোতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচের আগে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে স্পেন ফরোয়ার্ড একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন,
‘‘খেলা এখনও শেষ হয়ে যায়নি বার্সেলোনা ফ্যানরা। আমরা দ্বিতীয় লেগে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব… যেমন সবসময়, একজোট থেকে।”
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে ওঠার আগে বোনাস চাওয়ার কথা অস্বীকার দোনারুম্মার |
|
বুধবার রাতে ইয়ামালকে বোতলবন্দী করে রাখার ছক এঁকেছিলেন সিমিওনে। তিন-তিনজন ডিফেন্ডার মিলে আগলে রেখেছিলেন স্পেন রাইট উইঙ্গারকে। তবু কয়েকবার সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু মুসো দেয়াল ছিল দুর্ভেদ্য।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছিলেন লুইস সুয়ারেজ। তবে অবসর নেওয়ার পর উরুগুয়ে জাতীয় দলে ফেরার ব্যাপারে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ড। দলের চাওয়া অনুযায়ী আসন্ন বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী সুয়ারেজ জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের ডাকে সাড়া না দেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব।
চলতি সপ্তাহে উরুগুয়ের প্রকাশনা 'ডায়ারিও ওভাসিওন'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৯ বছর বয়সী সুয়ারেজ বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, জাতীয় দল সব সময়ই এমন কিছু যা আপনি চান। আপনি আজ এটা নিয়ে ভাবছেন, আপনার মনে এটি ঘুরপাক খাচ্ছে; সামনেই বিশ্বকাপ, আর সেই মুহূর্তে যদি তারা আপনাকে প্রয়োজন মনে করে... তবে আপনি কী করবেন? আমি আমার দেশকে কখনোই 'না' বলতে পারব না, কখনোই আমার দেশকে “না” বলব না।’
সুয়ারেজ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে উরুগুয়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১৭ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৪৩ ম্যাচে ৬৯ গোল করে তিনি দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বিদায় নেন। ৩৯ বছর বয়সী বার্সেলোনার সাবেক এই ফরোয়ার্ড উরুগুয়ে নতুনদের সুযোগ করে দিতে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন। তবে দলের প্রয়োজনে যেকোনো সময়ই ফিরতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
সুয়ারেজ বলেন, ‘আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলাম অন্য খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা করে দিতে। কারণ আমার মনে হয়েছিল এমন এক মুহূর্ত চলে এসেছে যখন আমি স্কোয়াডের জন্য আর কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারছি না। কিন্তু তাদের যদি আমাকে প্রয়োজন হয়, আমি কখনোই জাতীয় দলকে 'না' বলব না। এটা অসম্ভব—যতদিন আমি খেলছি, যতদিন আমি সক্রিয় আছি (ততদিন দেশকে না বলা সম্ভব নয়)।’
অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া সুয়ারেজের জন্য বেশ কঠিন ছিল। জাতীয় দলকে বিদায় দেওয়ার পর নাকি ধীরে ধীরে ফুটবলের প্রতি তাঁর আবেগেও ভাটা নামে, ‘লক্ষ্য এবং স্বপ্নের তাড়নায় ফুটবলের প্রতি যে আকাঙ্ক্ষা ও আবেগ কাজ করে, তা আপনি ধরে রাখেন; আর জাতীয় দলের অংশ হওয়া তো সবসময়ই একটি স্বপ্ন। স্পষ্টতই, আমি বিভিন্ন কারণে (অবসরের) সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলাম, কিন্তু দল ছাড়ার পর থেকে ফুটবলের সেই শিখা যেন কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে।’
আপাতত সুয়ারেজ ইন্টার মায়ামির হয়ে সাফল্য পাওয়ার দিকেই মনোনিবেশ করছেন। গত শনিবার অস্টিন এফসি-র বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে গোল করেছেন। ২০২৬ মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) তাঁর প্রথম গোল ছিল এটি।
কদিন আগেই মায়ামির প্রধান কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড সুয়ারেজের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, ‘আমার মনে হয়েছে লুইসকে চমৎকার দেখাচ্ছিল; সমতাসূচক গোলটি নিশ্চিত করতে সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমার বিশ্বাস, সে আরও দুটি সুযোগ পেয়েছিল—ওই গোলটি ছাড়াও বক্সের আশেপাশে আরও দু-একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল।’
গত ডিসেম্বরেই মায়মির সঙ্গে নতুন করে এক বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেন সুয়ারেজ। আগামী শনিবার নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ম্যাচে সুয়ারেজ এবং ইন্টার মায়ামি মাঠে নামবে।

আন্তর্জাতিক বিরতির পর গত মঙ্গলবার ফিরেছে ঘরোয়া ফুটবল। তবে সেদিন ছিল ফেডারেশন কাপের দুটি ম্যাচ। আগামীকাল থেকে মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) খেলা। কুমিল্লায় জমজমাট এক ম্যাচ দিয়েই ফিরছে লিগের খেলা। মুখোমুখি হচ্ছে ঢাকা আবাহনী ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচটি শুরু হবে বেলা সাড়ে ৩টায়। ফুটবল লিগের খেলা সরাসরি সম্প্রচার করছে চ্যানেল টি-স্পোর্টস। এই মৌসুমে লিগে এটি দুই দলের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। প্রথম দেখায় দারুণ এক রোমাঞ্চকর ম্যাচই উপভোগ করেন কুমিল্লার ফুটবল সমর্থকেরা। ৫ গোলের সেই ম্যাচটিতে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল সাদা-কালোরা।
আরও পড়ুন
| ৭ ম্যাচে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক, থামছেই না বেনজেমা ঝড় |
|
ঢাকা ডার্বিতে লিগের প্রথম দেখায় আবাহনীকে হারিয়ে মোহামেডান এগিয়ে গেলেও লিগ টেবিলে পিছিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ১১ রাউন্ড শেষে মোহামেডানের সংগ্রহ ম্যাচ সমান পয়েন্ট। টেবিলের ছয়ে থাকা আলফাজ আহমেদের দল লিগে জয় পেয়েছে স্রেফ দুটি ম্যাচে।
আবাহনী আছে এই তালিকার তিনে। সমান ম্যাচে ৫ জয় দুই হার ও ৪ ড্রয়ে আকাশি-নীলদের ঝুলিতে ১৯ পয়েন্ট। লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে ব্যবধান ৫ পয়েন্টের। শিরোপা রেসে এখনো টিকে আছে ধানমন্ডিপাড়ার ক্লাবটি। কাল আবাহনীকে হারাতে পারলে দুইয়ে থাকা ফর্টিস এফসিকে টপকে যাবে আবাহনী। একই সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে প্রতিশোধও নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত ঢাকা ডার্বি কে জেতে সেটিই দেখার অপেক্ষা।
একই দিনে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে ম্যাচ রয়েছে আরও দুটি। মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ তপন স্টেডিয়ামে ফকিরেরপুলকে মোকাবিলা করবে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে পিডব্লিউডির প্রতিপক্ষ রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটি। এই দুটি ম্যাচও মাঠে গড়াবে বিকাল সাড়ে ৩টায়।

ইংলিশ ফুটবল লিগের (ইএফএল) আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ৬ পয়েন্ট কাটার বিরুদ্ধে লেস্টার সিটির করা আপিল খারিজ হয়ে গেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রিমিয়ার লিগ থেকে রেলিগেটেড হওয়ার পর এখন চ্যাম্পিয়নশিপ লিগেও টিকে থাকার ঘোর সংকটে পড়ল হামজা চৌধুরীর দল।
২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত তিন বছরের লাভ ও টেকসই নীতি (পিএসআর) ভঙ্গের অভিযোগে গত মে মাসে লেস্টারের বিরুদ্ধে মামলা করে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি স্বাধীন কমিশন লেস্টার সিটিকে ৬ পয়েন্ট জরিমানা করেছিল।
এর ফলে পয়েন্ট তালিকায় ১৭তম স্থান থেকে ২০তম স্থানে নেমে যায় লেস্টার। বর্তমানে মৌসুমে বাকি আর মাত্র পাঁচটি ম্যাচ, ২৩ নম্বরে থেকে তৃতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে ২০১৫-১৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ জেতা ক্লাবটি।
আরও পড়ুন
| ‘ভিএআর শুধু আতলেতিকোর জন্য কাজ করেছে’, রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ফ্লিক |
|
আপিল খারিজ হওয়ার পর এক বিবৃতিতে লেস্টার সিটি জানিয়েছে, ‘বিষয়টির এখন নিষ্পত্তি হয়েছে এবং মৌসুমের আর মাত্র পাঁচটি ম্যাচ বাকি। ক্লাবের সবাই এখন মাঠের লড়াইয়ে ভালো ফল করে মৌসুম শেষ করার দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে। আমরা জানি এটি একটি কঠিন সময় ছিল এবং সমর্থকদের সমর্থনের জন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই।‘
প্রিমিয়ার লিগের তিন বছরের লোকসানের সীমা ১০৫ মিলিয়ন পাউন্ড হলেও চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাবগুলোর জন্য এটি প্রতি মৌসুমে ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড করে কম হয়। ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত সময়সীমার জন্য লেস্টার সিটির নির্ধারিত সীমা ছিল ৮৩ মিলিয়ন পাউন্ড, কিন্তু তারা সেটি ছাড়িয়ে আরও ২০.৮ মিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত লোকসান করেছে।
লেস্টার যুক্তি দিয়েছিল তাদের হিসাব ৩৬ মাসের বদলে ৩৭ মাসের ভিত্তিতে দেখা হয়েছে, কিন্তু কমিশন সেই যুক্তি নাকচ করে দেয়।
পয়েন্ট কাটার সিদ্ধান্তের পর থেকে লেস্টারের ফর্ম আরও খারাপ হয়েছে। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় গত ১২ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে তারা। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গ্যারি রোয়েটের অধীনে ক্লাবটি এখন টানা দ্বিতীয়বারের মতো রেলিগেশন এড়ানোর এক কঠিন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।