১১ মার্চ ২০২৬, ১০:২৫ এম

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেতৃত্ব ভাগাভাগি করে করবেন নিউ জিল্যান্ডের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মিচেল স্যান্টনার ও টম ল্যাথাম। সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেবেন স্যান্টনার, আর শেষ দুই ম্যাচে অধিনায়কত্ব করবেন টেস্ট দলের অধিনায়ক ল্যাথাম।
গতকাল নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করলে এ তথ্য জানানো হয়। সিরিজটি শুরু হবে ১৫ মার্চ, মাউন্ট মঙ্গানুইতে।
সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় খেলেছিলেন স্যান্টনারসহ নিউজিল্যান্ডের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। সামনে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি থাকায় তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে সিরিজের বিভিন্ন সময়ে বিশ্রাম দেওয়া হবে। এর মধ্যে এপ্রিল-মেতে আইপিএল ও পিএসএলের সময় বাংলাদেশের সফর রয়েছে নিউ জিল্যান্ডের। এরপর শীত মৌসুমে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরও আছে কিউইদের।
প্রায় তিন বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরছেন টম ল্যাথাম। ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির হয়ে সুপার স্ম্যাশ ও ফোর্ড ট্রফিতে ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি।
দলের নির্বাচক গ্যাভিন লারসেন জানিয়েছেন, কয়েকজন ক্রিকেটারের বিশ্রাম ও চোটের কারণে দল নির্বাচন করতে কিছুটা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাঁর মতে, দলের গভীরতা থাকায় নতুন কয়েকজন ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
| শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় নিউক্যাসলকে থামাল বার্সেলোনা, স্লটের শততম ম্যাচে লিভারপুলের হার |
|
চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন অফস্পিন অলরাউন্ডার মাইকেল ব্রেসওয়েল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কাফ ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি তিনি এবং এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। চোটের কারণে বিবেচনায় আনা হয়নি পেসার অ্যাডাম মিলনে, ব্লেয়ার টিকনার ও উইল ও’রাউর্ককেও।
সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে উইকেটরক্ষকের দায়িত্বে থাকার কথা ডেভন কনওয়ের। শেষ দুই ম্যাচে তাঁকে বদলে দায়িত্ব নিতে পারেন ডেন ক্লিভার। সম্প্রতি প্লাঙ্কেট শিল্ডে খেলতে নেমে সেঞ্চুরি করে দারুণ ছন্দে আছেন তিনি।
এই সিরিজে নিউ জিল্যান্ড দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন দুই ক্রিকেটার—জেডেন লেনক্স ও কাতেনে ক্লার্ক। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ভালো পারফরম্যান্সের পর টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার লেনক্স। শেষ দুই ম্যাচে স্যান্টনার বিশ্রামে গেলে মূল স্পিনার হিসেবে খেলতে পারেন তিনি।
অন্যদিকে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা সুপার স্ম্যাশে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দলে জায়গা করে নিয়েছেন ওপেনার কাতেনে ক্লার্ক। নয় ইনিংসে ৪৩১ রান করে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭০-এর বেশি।
ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে থাকা বেভন জ্যাকবসও দলে জায়গা পেয়েছেন। সুপার স্ম্যাশে টানা পাঁচটি অর্ধশতক করে আলোচনায় আসেন এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান। এছাড়া টিম রবিনসন ও নিক কেলিকেও টপ অর্ডারে দেখা যেতে পারে।
অলরাউন্ডার হিসেবে দলে আছেন জিমি নিশাম ও জশ ক্লার্কসন। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন পেসার নাথান স্মিথ। এছাড়া কাইল জেমিসন ও বেন সিয়ার্সও এই সিরিজে সুযোগ পেতে পারেন।
নিউ জিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার এই টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ডাবল হেডার হিসেবে হবে, যেখানে একই দিনে নারী দলের ম্যাচও থাকবে। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সিরিজটি প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
লারসেন বলেছেন, বিশ্বকাপের পর এত দ্রুত আবার মাঠে নামার সুযোগ পাওয়া সমর্থকদের জন্যও দারুণ বিষয়। ঘরের মাঠে আবার দর্শকদের সামনে খেলতে মুখিয়ে আছেন দলের ক্রিকেটাররা।
নিউ জিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি দল:
মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক, ১–৩ ম্যাচ), কাতেনে ক্লার্ক (৪–৫ ম্যাচ), জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লিভার (উইকেটরক্ষক, ৪–৫ ম্যাচ), ডেভন কনওয়ে (উইকেটরক্ষক, ১–৩ ম্যাচ), লকি ফার্গুসন (২–৩ ম্যাচ), জ্যাক ফাউলকস, বেভন জ্যাকবস, কাইল জেমিসন, নিক কেলি, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক, ৪–৫ ম্যাচ), জেডেন লেনক্স (৪–৫ ম্যাচ), কোল ম্যাককনকি, জিমি নিশাম, টিম রবিনসন, বেন সিয়ার্স, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি।
No posts available.
১১ মার্চ ২০২৬, ২:৫৩ পিএম
১১ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৬ এম

আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নির্ধারিত সাদা বলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ স্থগিত করা হয়েছে। ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে পরিবহন সীমাবদ্ধতার জন্য সিরিজটি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
আজ এক বিবৃতিতে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল এই সিরিজের। নতুন সূচি অনুযায়ী এটি ২০২৬ সালের শেষ দিকে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই সিরিজটি হওয়ার কথা ছিল ছয়টি সাদা বলের ম্যাচ নিয়ে। সূচি অনুযায়ী প্রথমে শারজা স্টেডিয়ামে তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল ১৩, ১৫ ও ১৭ মার্চ। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ২০, ২২ ও ২৫ মার্চ তিন ওয়ানডের সূচি নির্ধারিত ছিল।
আরও পড়ুন
| ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, নেই সৌম্য, পাকিস্তানের ৪ অভিষেক |
|
সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের অনুমোদন পাওয়ার পর দুই ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের সব প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন ছিল। তবে মার্চের শুরুতে অপ্রত্যাশিত কিছু পরিস্থিতির কারণে ভ্রমণব্যবস্থা ও আয়োজনে জটিলতা তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ড, শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
৪ মার্চ অনুষ্ঠিত এক যৌথ বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ৬ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ৭ মার্চ আরেক দফা আলোচনায় ৯ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করার সুপারিশ করা হয়, যাতে পরিস্থিতির উন্নতি হয় কি না তা দেখা যায়।
তবে সব পক্ষের চেষ্টা সত্ত্বেও ভ্রমণ ও আয়োজনে থাকা জটিলতা কাটেনি। শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এসব সমস্যার কারণে সিরিজটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের সম্মতিতেই সিরিজ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
| দেখে নিন পিএসএলে রিশাদ-মোস্তাফিজদের ম্যাচের সূচি |
|
পুনর্নির্ধারিত সিরিজটিও সংযুক্ত আরব আমিরাতেই আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এই বিষয়ে সহযোগিতার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ড, শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম, দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক বজায় রেখে সুবিধাজনক সময়ে সিরিজটি আয়োজনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা।

ক্রিকেটের বাণিজ্যিকীকরণের যুগে এখন প্রতি বছরই কোনো না কোনো আইসিসি ইভেন্ট লেগেই থাকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ কিংবা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি—বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে প্রায় প্রতিবছরই ব্যস্ত থাকতে হয় ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাকে।
অনেকের কাছেই এত এত ক্রিকেটের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের কোনো মানে হয়না। এই যেমন এ বিষয়ে ঘোর আপত্তি জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ভারতীয় ব্যাটার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রতি দুই বছরের পরিবর্তে ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো চার বছর অন্তর হওয়া উচিত।
৮ মার্চ টানা দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ভারত। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার পর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক আলোচনায় ‘মাত্রাতিরিক্ত’ আইসিসি ইভেন্ট নিয়ে কথা বলেন আকাশ চোপড়া।
আরও পড়ুন
| ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, নেই সৌম্য, পাকিস্তানের ৪ অভিষেক |
|
প্রতি বছর আইসিসি ইভেন্ট প্রসঙ্গে আকাশ চোপড়া বলেন, ‘আইসিসি সাদা বলের টুর্নামেন্টগুলো ২০২১ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই হচ্ছে। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, একাধিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপ রয়েছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কথা তো বাদই দিলাম। প্রতি বছর কীভাবে একটি আইসিসি ইভেন্ট হতে পারে? মনে হচ্ছে আমরা যেন প্রতি সপ্তাহে একটি করে আইসিসি ট্রফি খেলছি।’
বড় টুর্নামেন্ট চার বছর পরপর আয়োজনের যুক্তিকতা তুলে ধরেন আকাশ চোপড়া, যেমনটা দেখা যায় ফুটবল বিশ্বকাপে। তাঁর মতে মেগা ইভেন্টগুলো চার বছর পরপর হলে সমর্থকদের মধ্যে যে উন্মাদনা ও আবেগ কাজ করে, প্রতি বছর চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হলে তা অনেকটা ফিকে হয়ে যায়।
আলোচনায় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কার দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে বাড়তি রান দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন আকাশ। কেভিন পিটারসনের মতো তিনিও ১০০ মিটারের বেশি দূরত্বের ছক্কায় ৮ রান দেওয়ার পক্ষপাতী, তবে ১০ বা ১২ রান দেওয়ার বিরোধী।
আকাশের মতে, ‘১০০ মিটার পার করা সহজ কাজ নয়, পুরো টুর্নামেন্টে হয়তো দুইবার এমনটা ঘটে। যদি কেউ এটি করতে পারে, তবে ৮ রান দেওয়া যেতেই পারে। তবে ক্রিকেটের নিয়ম এত দ্রুত পরিবর্তন হয় না, তাই এখনই এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা কম।‘
ব্যাটারদের সুবিধার পাশাপাশি বোলারদের জন্যও নতুন একটি কৌশলের কথা ভাবছেন এই বিশ্লেষক। তিনি প্রস্তাব করেন, যদি কোনো বোলার টি-টোয়েন্টি ম্যাচে উইকেট শিকার করেন, তবে তাকে পুরস্কার হিসেবে একটি অতিরিক্ত ওভার করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে করে খেলার ধরনে ভারসাম্য আসবে বলে মনে করেন তিনি।
২০২৪ ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের টানা সাফল্যের পর ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ভবিষ্যৎ এবং এর জৌলুস ধরে রাখা নিয়ে আকাশ চোপড়ার এই পর্যবেক্ষণ ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনারই জন্ম দিয়েছে।

নতুন বছরের প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমে কয়েনভাগ্য পাশে পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। স্বাগতিকদের আমন্ত্রণে ব্যাটিং করতে নামবে পাকিস্তান।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে।
বাংলাদেশ একাদশে নেই বাঁহাতি টপ-অর্ডার ব্যাটার সৌম্য সরকার। গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে ৪৫ ও ৯১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। কিন্তু এবার একাদশে জায়গা হয়নি তার।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের হিসেব মাথায় রেখে পাকিস্তান সিরিজ শুরু বাংলাদেশের |
|
তিন পেসার তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানার সঙ্গে আছেন দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন। এছাড়া দলের প্রয়োজনে আফিফ হোসেন ধ্রুবকে অফ স্পিন করতে দেখা যেতে পারে।
পাকিস্তান দলে অভিষেক হয়েছে ৪ জনের- সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হোসেন ও আব্দুল সামাদ। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ওয়ানডেতে একসঙ্গে ৪ জনের অভিষেক করাল তারা।
বাংলাদেশ একাদশ
তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা
পাকিস্তান একাদশ
সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হোসেন, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলি আগা, হুসাইন তালাত, আব্দুল সামাদ, ফাহিম আশরাফ, শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ ওয়াসিম, আবরার আহমেদ

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম মৌসুমের পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট চলবে ৩ মে পর্যন্ত।
প্রথমবারের মতো ছয় দলের পরিবর্তে আট দল নিয়ে মাঠে গড়াবে পাকিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। নতুন দুই দল হিসেবে যুক্ত হয়েছে হায়দরাবাদ হিউস্টন কিংসমেন এবং রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ।
৩৯ দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে মোট ৪৪টি ম্যাচ হবে। উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ফাইনাল হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।
পিএসএলে এবার মাঠ মাতাবেন বাংলাদেশের ৪ ক্রিকেটার। এর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ হোসেন ইমন খেলবেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্সের হয়ে। ২৬ মার্চ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবেন তারা।
লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন নতুন দল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ ও নাহিদ রানাকে দেখা যাবে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার জালমিতে। পেশোয়ারের ইমরান খান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৮ মার্চ ঘরের দল পেশোয়ার জালমি মুখোমুখি হবে রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজের।
আরও পড়ুন
| টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্যান্টনার-ল্যাথামের ভাগাভাগি নেতৃত্ব |
|
টুর্নামেন্টে দলের সংখ্যা বাড়ায় প্রতিটি দল লিগ পর্বে ১০টি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে। লিগ পর্বের শীর্ষ চার দল নিয়ে ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে প্লে-অফ।
প্রথম কোয়ালিফায়ার অনুষ্ঠিত হবে রাওয়ালপিন্ডিতে। এলিমিনেটর ১, ২ এবং ফাইনাল হবে লাহোরে। ৪ মে ফাইনালের জন্য একটি রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে।
পিএসএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দলগুলোর সূচি:
২৬ মার্চ লাহোর কালান্দার্স বনাম হায়দরাবাদ হিউস্টন কিংসমেন
২৮ মার্চ পেশোয়ার জালমি বনাম রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ
২৯ মার্চ লাহোর কালান্দার্স বনাম করাচি কিংস
৩১ মার্চ পেশোয়ার জালমি বনাম ইসলামাবাদ ইউনাইটেড
২ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম করাচি কিংস
৩ এপ্রিল লাহোর কালান্দার্স বনাম মুলতান সুলতানস
৪ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম ইসলামাবাদ ইউনাইটেড
৬ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম মুলতান সুলতানস
৮ এপ্রিল পেশোয়ার জালমি বনাম হায়দরাবাদ হিউস্টন কিংসমেন
৯ এপ্রিল লাহোর কালান্দার্স বনাম পেশোয়ার জালমি
১০ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স
১১ এপ্রিল পেশোয়ার জালমি বনাম লাহোর কালান্দার্স
১৩ এপ্রিল পেশোয়ার জালমি বনাম মুলতান সুলতানস
১৫ এপ্রিল পেশোয়ার জালমি বনাম কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স
১৬ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম হায়দরাবাদ হিউস্টন কিংসমেন
১৭ এপ্রিল লাহোর কালান্দার্স বনাম কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স
১৮ এপ্রিল লাহোর কালান্দার্স বনাম রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ
২১ এপ্রিল লাহোর কালান্দার্স বনাম রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ
২২ এপ্রিল পেশোয়ার জালমি বনাম মুলতান সুলতানস
২৩ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম লাহোর কালান্দার্স
২৪ এপ্রিল পেশোয়ার জালমি বনাম ইসলামাবাদ ইউনাইটেড
২৫ এপ্রিল লাহোর কালান্দার্স বনাম হায়দরাবাদ হিউস্টন কিংসমেন
২৬ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম পেশোয়ার জালমি

লম্বা বিরতির পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সূচি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হতাশা শেষ হওয়ার পর এখন পুরো মনোযোগ ৫০ ওভারের ক্রিকেটে। সামনে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ—সেই লক্ষ্যেই নতুন পরিকল্পনায় এগোতে চায় বাংলাদেশ।
গত কয়েক মাস আন্তর্জাতিক ম্যাচ না থাকলেও ক্রিকেটাররা মাঠের বাইরে ছিলেন না। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ এবং বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন তারা। তবু আন্তর্জাতিক ম্যাচ না থাকায় ব্যস্ততার মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে।
এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার আরেকটি কারণ আছে। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ নয় দলের মধ্যে থাকতে হবে। তাই সামনে থাকা প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দলের জন্য।
আরও পড়ুন
| গোলকিপারের ভুলে টটেনহামের বিপর্যয়, বায়ার্নের গোলবন্যা |
|
বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ মনে করেন, সামনে থাকা ম্যাচগুলো দলের জন্য বড় সুযোগ। তাঁর মতে, এই বছরে বেশ কিছু ওয়ানডে ম্যাচ রয়েছে বাংলাদেশের সূচিতে এবং সেগুলোর ফলই ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করবে। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে র্যাঙ্কিং ধরে রাখা দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় পাকিস্তানও ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নতুনভাবে দল গুছানোর চেষ্টা করছে। এই সিরিজে তারা কয়েকজন নতুন ক্রিকেটারকে সুযোগ দিয়েছে। দলে থাকা ছয় অনভিষিক্ত ক্রিকেটারের মধ্যে চারজনই টপ অর্ডারের ব্যাটার। এর মধ্যে সাহিবজাদা ফারহানকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, যিনি সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান করেছিলেন।
তাই অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও পাকিস্তানের নতুন মুখগুলোকে সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্কোয়াডে বড় কোনো চমক না থাকলেও দীর্ঘদিন পর আবার সুযোগ পেয়েছেন লিটন দাস ও আফিফ হোসেন।
ওয়ানডে ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে লিটনের পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো ছিল না। তবু স্পিন ভালো খেলতে পারার কারণে তাঁকে আবার দলে ফেরানো হয়েছে। দলের কোচ ফিল সিমন্স মনে করেন, ব্যাটিং অর্ডারের মাঝামাঝি জায়গায় খেললে লিটনের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে উইকেটকিপিংয়ের পর বিশ্রামও পেতে পারেন তিনি। এখন তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পুরোনো ছন্দে ফিরে আসা।
পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। তাঁর অধিনায়কত্বে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি সিরিজ জিতেছে পাকিস্তান। যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স খুব একটা নজরকাড়া ছিল না।
আরও পড়ুন
| শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় নিউক্যাসলকে থামাল বার্সেলোনা, স্লটের শততম ম্যাচে লিভারপুলের হার |
|
মিরপুরে ম্যাচ মানেই উইকেট নিয়ে আলোচনা। আগের সিরিজে এই মাঠে স্পিনারদের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচগুলোতে বেশির ভাগ ওভারই করেছিলেন স্পিনাররা। এমনকি এক ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পুরো ইনিংসই স্পিনে শেষ করেছিল।
তবে এবার দুই দলের কোচই জানিয়েছেন, উইকেট আগের তুলনায় কিছুটা ভালো। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবার বিকেলের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ জিতেছিল ৩–০ ব্যবধানে। এবারও সেই স্মৃতি মনে রেখে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। সিরিজে জয় পেলে ঈদের আগে সেটি দেশের সমর্থকদের জন্য দারুণ আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে।