
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম মৌসুমের পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট চলবে ৩ মে পর্যন্ত।
প্রথমবারের মতো ছয় দলের পরিবর্তে আট দল নিয়ে মাঠে গড়াবে পাকিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট। নতুন দুই দল হিসেবে যুক্ত হয়েছে হায়দরাবাদ হিউস্টন কিংসমেন এবং রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ।
৩৯ দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে মোট ৪৪টি ম্যাচ হবে। উদ্বোধনী ম্যাচ এবং ফাইনাল হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।
পিএসএলে এবার মাঠ মাতাবেন বাংলাদেশের ৪ ক্রিকেটার। এর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ হোসেন ইমন খেলবেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্সের হয়ে। ২৬ মার্চ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবেন তারা।
লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন নতুন দল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ ও নাহিদ রানাকে দেখা যাবে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার জালমিতে। পেশোয়ারের ইমরান খান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৮ মার্চ ঘরের দল পেশোয়ার জালমি মুখোমুখি হবে রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজের।
আরও পড়ুন
| টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্যান্টনার-ল্যাথামের ভাগাভাগি নেতৃত্ব |
|
টুর্নামেন্টে দলের সংখ্যা বাড়ায় প্রতিটি দল লিগ পর্বে ১০টি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে। লিগ পর্বের শীর্ষ চার দল নিয়ে ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে প্লে-অফ।
প্রথম কোয়ালিফায়ার অনুষ্ঠিত হবে রাওয়ালপিন্ডিতে। এলিমিনেটর ১, ২ এবং ফাইনাল হবে লাহোরে। ৪ মে ফাইনালের জন্য একটি রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে।
পিএসএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দলগুলোর সূচি:
২৬ মার্চ লাহোর কালান্দার্স বনাম হায়দরাবাদ হিউস্টন কিংসমেন
২৮ মার্চ পেশোয়ার জালমি বনাম রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ
২৯ মার্চ লাহোর কালান্দার্স বনাম করাচি কিংস
৩১ মার্চ পেশোয়ার জালমি বনাম ইসলামাবাদ ইউনাইটেড
২ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম করাচি কিংস
৩ এপ্রিল লাহোর কালান্দার্স বনাম মুলতান সুলতানস
৪ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম ইসলামাবাদ ইউনাইটেড
৬ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম মুলতান সুলতানস
৮ এপ্রিল পেশোয়ার জালমি বনাম হায়দরাবাদ হিউস্টন কিংসমেন
৯ এপ্রিল লাহোর কালান্দার্স বনাম পেশোয়ার জালমি
১০ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স
১১ এপ্রিল পেশোয়ার জালমি বনাম লাহোর কালান্দার্স
১৩ এপ্রিল পেশোয়ার জালমি বনাম মুলতান সুলতানস
১৫ এপ্রিল পেশোয়ার জালমি বনাম কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স
১৬ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম হায়দরাবাদ হিউস্টন কিংসমেন
১৭ এপ্রিল লাহোর কালান্দার্স বনাম কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স
১৮ এপ্রিল লাহোর কালান্দার্স বনাম রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ
২১ এপ্রিল লাহোর কালান্দার্স বনাম রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ
২২ এপ্রিল পেশোয়ার জালমি বনাম মুলতান সুলতানস
২৩ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম লাহোর কালান্দার্স
২৪ এপ্রিল পেশোয়ার জালমি বনাম ইসলামাবাদ ইউনাইটেড
২৫ এপ্রিল লাহোর কালান্দার্স বনাম হায়দরাবাদ হিউস্টন কিংসমেন
২৬ এপ্রিল রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ বনাম পেশোয়ার জালমি
No posts available.
১১ মার্চ ২০২৬, ৪:০০ পিএম
১১ মার্চ ২০২৬, ২:৫৩ পিএম

সালমান আলি আগার কোমরের ওপরের উচ্চতায় শর্ট বল করলেন নাহিদ রানা। অন সাইডে খেলার চেষ্টা করলেন পাকিস্তানি ব্যাটার। কিন্তু ঠিকঠাক ব্যাটে হয়নি তার। শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে দুবারের চেষ্টায় তালুবন্দী করলেন তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ৫ ওভারে ৫ উইকেট হয়ে গেল নাহিদের।
দুর্দান্ত বোলিংয়ে গতি ও বাউন্সের ঝড় তুলে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট নিলেন নাহিদ। মিরপুরে বুধবার দুপুরের ম্যাচে তরুণ পেসারের গতিময় বোলিংয়ের সঙ্গে বাউন্সের মিশেলে নাস্তানাবুদ হলেন পাকিস্তানের প্রথম পাঁচ ব্যাটার।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে কোনো ম্যাচে প্রতিপক্ষের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের উইকেট নিলেন নাহিদ। প্রথম পাঁচ ব্যাটার না হলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত বছর প্রথম ৫ উইকেটের সবকটি একাই নেন রিশাদ হোসেন।
নাহিদের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ ম্যাচে ছিল মোট ৫ উইকেট। এবার ষষ্ঠ ম্যাচে প্রথম ৫ ওভারেই তিনি নিলেন ৫টি উইকেট। পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট পাওয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার তিনি। এর আগে ২০১৯ বিশ্বকাপে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।
এছাড়া মিরপুরে প্রায় ১১ বছর পর ৫ উইকেটের দেখা পেলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার। এর আগে ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ।
নাহিদের আগে দেশের মাঠে পেসারদের মধ্যে সবশেষ ৫ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। ২০২৩ সালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন তরুণ পেসার।
দশম ওভারে প্রথম আক্রমণে আসেন নাহিদ। ওভারের শেষ বলে সাহিবজাদা ফারহানকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু দেন ২৩ বছর বয়সী পেসার। পরের ওভারে তার গতিময় ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে আকাশে তুলে দেন আরেক অভিষিক্ত শামিল হোসেন। সহজ ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস।
তরুণ পেসারের পরের ওভারে আরেকটি গতিময় ডেলিভারির শিকার মাজ সাদাকাত। বুক বরাবর ধেয়ে আসা বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ডিপ থার্ড ম্যানে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন ১৮ রান করা অভিষিক্ত ওপেনার।
পরে ইনিংসের অন্যতম সেরা ডেলিভারিটি করেন নাহিদ। ফোর্থ স্টাম্পে পিচ করে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে খোঁচা দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন লিটন। এরপর সালমান আগাকে ফিরিয়ে পূর্ণ হয় নাহিদের ৫ উইকেট।
টানা পাঁচ ওভারে ৫ উইকেট নেওয়ার পর নাহিদকে আরও দুই ওভার করান অধিনায়ক মিরাজ। নাহিদের সপ্তম ওভারে আসে আরেকটি উইকেটের সুযোগ। কিন্তু ফাহিম আশরাফের বিপক্ষে রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। তাই ষষ্ঠ উইকেট পাওয়া হয়নি নাহিদের।
নাহিদের তাণ্ডবের পর উইকেট শিকারে যোগ দেন মিরাজ নিজেই। তিনি নেন পরের ৩টি উইকেট। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৩ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৮১ রান।

গত বছরের ৬ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে নির্বাচন বর্জনকারী ক্রীড়া সংগঠকরা প্রশ্ন তুলে গণমাধ্যমে অসংখ্যবার বিবৃতি-বক্তব্য দিয়েছে। ক্লাব ক্রিকেট অর্গানাইজার্স ব্যানারে একটার পর একটা সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবির নির্বাচিত কমিটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে দ্রুত এই কমিটি ভেঙ্গে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত ৮ মার্চ ক্যাটাগরি-২ ( ঢাকার ক্লাব কোটা) এবং ১০ মার্চ ক্যাটাগরি-১ ( জেলাও বিভাগীয় কোটা) ও ক্যাটাগরি-৩ ( সাবেক ক্রিকেটার, বিভিন্ন সংস্থা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, শিক্ষা বোর্ডসমূহ, বিকেএসপি, ক্রীড়া পরিদপ্তর, এনএসসি, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, আম্পায়ার্স প্রতিনিধি) থেকে একদল কাউন্সিলর বিসিবির নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে আবেদন করেছেন।
বিসিবির নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে তাঁদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (১১ মার্চ) ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে সভাপতি করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে যুবও ক্রীড়া মন্ত্রানালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: সেলিম ফারুক,যুগ্ম পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসিমুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান এবং সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিষ্টার সালেহ আকরামকে। নির্বাচনে অনিয়ম, কারসাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি অনুমোদন করেছেন বলে বলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন যুবও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়কে জমা দিতে হবে।
তদন্ত কমিটিকে তদন্তকাজে ৬টি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। যার মধ্যে বিসিবির নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কারসাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগসমূহ পর্যালোচনা, অভিযোগে উন্থাপিত বিষয়সমূহের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, নথিপত্র ও দলিলাদি সংগ্রহ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহন, কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রক্রিয়া বিসিবির গঠণতন্তম প্রযোজ্য আইন, বিধি ও প্রচলিত নিয়ম অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ক্লাব/সংস্থা থেকে ব্যাখ্যা গ্রহন করা, অভিযোগসমূহের প্রেক্ষিতে কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভুত কার্যক্রম সংঘটিত হয়েছে কি না, তা নিরুপন করা এবং ভবিষ্যতে কাউন্সিলর মনোনয়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাও জবাবহিদিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করা।
এমন একটা সময়ে বিসিবির নির্বাচনে অনিয়ম তদন্তে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারী করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যখন শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে বিসিবি পরিচালকদের সাথে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের প্রথম ওডিআই ম্যাচ দেখছেন যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তার আগে বিসিবির প্রবেশ পথে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করেছেন যুবও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলতে জাসপ্রিত বুমরাহর জুড়ি নেই। নিখুঁত ইর্য়কার কিংবা দুর্দান্ত স্লোয়ারে নিয়মতিই ব্যাটারদের জীবন কঠিন করে তুলেন বর্তমান সময়ের সেরা এই পেসার। স্লোয়ার ডেলিভারির দক্ষতা ভারতীয় তারকা এই পেসার নাকি শিখেছিলেন এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত পেসারের কাছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে এমনটাই দাবি করেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেসার জহুর খান।
শুধু বর্তমান সময় নয়, অনেকের কাছে বুমরাহ সর্বকালের অন্যতম সেরা বোলার। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে তো ৩২ বছর বয়সী ফাস্ট বোলারকে ইতিহাসের সেরা বললেও ভুল হবে না। সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেটা আরও একবার প্রমাণ করে দেখিয়েছেন বুমরাহ। বল হাতে যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামথ্য রাখা বুমরাহ যেন কোনো জাদুর কাঠি।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ব্যাটারদের জন্য ‘জম’ হয়ে আবির্ভাব ঘটা বুমরাহ ধীরে ধীরে নিজেকে আরও ধারালো, আরো পরিণত করেন। ইর্য়কার, স্লোয়ার, বাউন্সার, ইন সুইং, আউট সুইং—কী নেই বুমরাহও অস্ত্রের ভাণ্ডারে? ভারতীয় পেসারের ৫০০’এর বেশি উইকেট এসেছে স্লোয়ার থেকেই। আর এই কৌশলই নাকি তিনি শিখেছিলেন জহুর খানের কাছ থেকে।
আরও পড়ুন
| প্রতি বছর আইসিসি ইভেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাবেক ভারতীয় ব্যাটার |
|
২০১৯ সালের আইপিএলে আমিরাত পর্বে জহুর খান মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের নেট বোলার ছিলেন। সেখানেই বুমরাহ তার বোলিং কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। জহুর জানান, তখনও বুমরাহ স্লোয়ার বল করতেন, কিন্তু তিনি তাকে তাঁর কৌশল আরও উন্নত করতে সাহায্য করেছিলেন। যদিও এই দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনেকের মনে করছেন, জহুরের এই দাবি কিছুটা অতিরঞ্জিত হতে পারে।
জহুরের মুখ থেকেই শোনা যাক স্লোয়ার শেখানোর সেই গল্প, ‘আমি আপনাদের একটা গল্প বলি। বুমরাহ আগে থেকেই ধীরগতির বল করতেন, তবে তার সাধারণ বোলিং অ্যাকশনে। এক ম্যাচে আবুধাবিতে তিনি ট্রেন্ট বোল্ট এবং নাথান কোল্টার-নিলে অনেক রান হজম করে। সেই বছর সেপ্টেম্বর মাসে আইপিএল চলছিল। সেপ্টেম্বরের আমিরাতে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি হয়। রাতেও বল ঠিকভাবে ধরা যায় না, কারণ এটি ভিজে যায়।’
জহুর ভিডিওতে বলেন, ‘মুম্বাই ইন্ডিয়ানস আমাকে ডাকে। আমি ছয় দিন কোয়ারেন্টাইন করি, সপ্তম দিনে প্র্যাকটিসে যাই। ওই রাতে আমি দলের সঙ্গে ছিলাম। জাহির খান এবং রবিন সিং আমাকে চেনে, কারণ আমি টি-টেন লিগে একটি মেইডেন ওভার করেছি। আমি প্রথম ওভারে ইয়র্কার মারলাম এবং পরের পাঁচটি ডেলিভারি করলাম স্লোয়ার। আমরা একসঙ্গে বসেছিলাম, বুমরাহ এসে টেবিলের সামনে বসে, রোহিত শর্মা বসেছিলেন, আমি বসে সব দেখছিলাম।’
জহুর আরও বলেন, মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ম্যানেজমেন্ট তার স্লোয়ার সম্পর্কে জানত টি-টেনে পারফরম্যান্সের কারণে। বুমরাহর সঙ্গে নাকি তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল এবং নেট প্র্যাকটিসও করেছিলেন, ‘আমি বললাম, একই অ্যাকশন, একই গ্রিপে। তিনি বললেন, এটা কীভাবে সম্ভব? আমি বললাম, প্র্যাকটিসে দেখাবো। প্র্যাকটিসে আমি বল করছিলাম। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বোলিং কোচ ছিলেন শেন বন্ড এবং নেটের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মাহেল জয়াবর্ধনে। আমি স্লোয়ার বাউন্সার করলাম, ব্যাটার পরাস্ত হলো। শেন বন্ড জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার গ্রিপ কী? তুমি অফ-কাটার বল করো?’ আমি বললাম, না, এটা একই গ্রিপ।’
জহুরের যোগ করেন, ‘আমি দেখালাম, দুই-তিনটি স্লোয়ার করলাম। জয়াবর্ধনে বললেন, “দেখো, একই অ্যাকশন আর আর্ম স্পিডে কত ভালো স্লোয়ার হচ্ছে।” এক-দুই দিনের মধ্যে আমি বুমরাহর সঙ্গে বল করছিলাম। তিনি বললেন, “পাজ্জি, তোমার গ্রিপ কী, দেখাও।” আমি দেখালাম, একই গ্রিপে বল করতে হয়। বুমরাহ বললেন, ‘এটা তো একেবারে অন্য লেভেলের জিনিস’! আমি আমিরাতের খেলোয়াড়, আর তিনি বিশ্বমানের বোলার। কিন্তু তিনি এই কৌশল জানতে চাইলেন, এটা আমার খুব ভালো লেগেছিল।’
জহুর আহমেদ অবশ্য জাতীয় দলে দারুণ সাফল্যই পেয়েছেন। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলা ৩৬ বছর বয়সী পেসার ৬২ ওয়ানডে ও ৫৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। দুই সংস্করণ মিলিয়ে মোট শিকার করেছেন ১৬৫ উইকেট।

আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নির্ধারিত সাদা বলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ স্থগিত করা হয়েছে। ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে পরিবহন সীমাবদ্ধতার জন্য সিরিজটি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
আজ এক বিবৃতিতে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল এই সিরিজের। নতুন সূচি অনুযায়ী এটি ২০২৬ সালের শেষ দিকে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই সিরিজটি হওয়ার কথা ছিল ছয়টি সাদা বলের ম্যাচ নিয়ে। সূচি অনুযায়ী প্রথমে শারজা স্টেডিয়ামে তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল ১৩, ১৫ ও ১৭ মার্চ। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ২০, ২২ ও ২৫ মার্চ তিন ওয়ানডের সূচি নির্ধারিত ছিল।
আরও পড়ুন
| ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, নেই সৌম্য, পাকিস্তানের ৪ অভিষেক |
|
সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের অনুমোদন পাওয়ার পর দুই ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের সব প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন ছিল। তবে মার্চের শুরুতে অপ্রত্যাশিত কিছু পরিস্থিতির কারণে ভ্রমণব্যবস্থা ও আয়োজনে জটিলতা তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ড, শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
৪ মার্চ অনুষ্ঠিত এক যৌথ বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ৬ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ৭ মার্চ আরেক দফা আলোচনায় ৯ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করার সুপারিশ করা হয়, যাতে পরিস্থিতির উন্নতি হয় কি না তা দেখা যায়।
তবে সব পক্ষের চেষ্টা সত্ত্বেও ভ্রমণ ও আয়োজনে থাকা জটিলতা কাটেনি। শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এসব সমস্যার কারণে সিরিজটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাদের সম্মতিতেই সিরিজ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
| দেখে নিন পিএসএলে রিশাদ-মোস্তাফিজদের ম্যাচের সূচি |
|
পুনর্নির্ধারিত সিরিজটিও সংযুক্ত আরব আমিরাতেই আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এই বিষয়ে সহযোগিতার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ড, শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম, দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক বজায় রেখে সুবিধাজনক সময়ে সিরিজটি আয়োজনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা।

ক্রিকেটের বাণিজ্যিকীকরণের যুগে এখন প্রতি বছরই কোনো না কোনো আইসিসি ইভেন্ট লেগেই থাকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ কিংবা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি—বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে প্রায় প্রতিবছরই ব্যস্ত থাকতে হয় ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাকে।
অনেকের কাছেই এত এত ক্রিকেটের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের কোনো মানে হয়না। এই যেমন এ বিষয়ে ঘোর আপত্তি জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ভারতীয় ব্যাটার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রতি দুই বছরের পরিবর্তে ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতো চার বছর অন্তর হওয়া উচিত।
৮ মার্চ টানা দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ভারত। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার পর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক আলোচনায় ‘মাত্রাতিরিক্ত’ আইসিসি ইভেন্ট নিয়ে কথা বলেন আকাশ চোপড়া।
আরও পড়ুন
| ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, নেই সৌম্য, পাকিস্তানের ৪ অভিষেক |
|
প্রতি বছর আইসিসি ইভেন্ট প্রসঙ্গে আকাশ চোপড়া বলেন, ‘আইসিসি সাদা বলের টুর্নামেন্টগুলো ২০২১ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই হচ্ছে। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, একাধিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপ রয়েছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কথা তো বাদই দিলাম। প্রতি বছর কীভাবে একটি আইসিসি ইভেন্ট হতে পারে? মনে হচ্ছে আমরা যেন প্রতি সপ্তাহে একটি করে আইসিসি ট্রফি খেলছি।’
বড় টুর্নামেন্ট চার বছর পরপর আয়োজনের যুক্তিকতা তুলে ধরেন আকাশ চোপড়া, যেমনটা দেখা যায় ফুটবল বিশ্বকাপে। তাঁর মতে মেগা ইভেন্টগুলো চার বছর পরপর হলে সমর্থকদের মধ্যে যে উন্মাদনা ও আবেগ কাজ করে, প্রতি বছর চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হলে তা অনেকটা ফিকে হয়ে যায়।
আলোচনায় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কার দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে বাড়তি রান দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন আকাশ। কেভিন পিটারসনের মতো তিনিও ১০০ মিটারের বেশি দূরত্বের ছক্কায় ৮ রান দেওয়ার পক্ষপাতী, তবে ১০ বা ১২ রান দেওয়ার বিরোধী।
আকাশের মতে, ‘১০০ মিটার পার করা সহজ কাজ নয়, পুরো টুর্নামেন্টে হয়তো দুইবার এমনটা ঘটে। যদি কেউ এটি করতে পারে, তবে ৮ রান দেওয়া যেতেই পারে। তবে ক্রিকেটের নিয়ম এত দ্রুত পরিবর্তন হয় না, তাই এখনই এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা কম।‘
ব্যাটারদের সুবিধার পাশাপাশি বোলারদের জন্যও নতুন একটি কৌশলের কথা ভাবছেন এই বিশ্লেষক। তিনি প্রস্তাব করেন, যদি কোনো বোলার টি-টোয়েন্টি ম্যাচে উইকেট শিকার করেন, তবে তাকে পুরস্কার হিসেবে একটি অতিরিক্ত ওভার করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে করে খেলার ধরনে ভারসাম্য আসবে বলে মনে করেন তিনি।
২০২৪ ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের টানা সাফল্যের পর ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ভবিষ্যৎ এবং এর জৌলুস ধরে রাখা নিয়ে আকাশ চোপড়ার এই পর্যবেক্ষণ ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনারই জন্ম দিয়েছে।