৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৫:৫৮ পিএম

উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- কোয়াবের ভোট। দুপুর ৩টার পর শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সভাপতি পদে ভোট দিয়েছেন সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটাররা।
জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানের জন্য এটি অন্যরকম অভিজ্ঞতা। কারণ এর আগে কখনও জাতীয় নির্বাচনেও ভোট দেননি তিনি। এবার কোয়াবের নির্বাচনে ভোট দিয়ে তাই বেজায় খুশি ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
বিসিবি একাডেমি ভবনে কোয়াবের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে নিজের অনুভূতি জানান সোহান।
“কোয়াবের ইলেকশন আগে একটা সিলেকশনের মতো ছিলো। আমি আসলে আগে এমন ইলেকশন দেখিনি। জাতীয় নির্বাচনের ভোটও আমি দেইনি কখনও। আজকে এখানে প্রথম ভোট দিলাম। এখানে এসে ভালো লাগছে, সিনিয়র অনেক আছে যাদের সাথে কয়েক বছরে দেখাও হয়নি।”
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামেই ‘কোর্ট’ বসাবে মরক্কো |
|
“আমরা যারা এখনও খেলছি, গেল কয়েক দিন থেকে এটা নিয়ে কথা হচ্ছিল। আমার মনে হয় একটা ভালো পরিবেশে হয়েছে সব। ধন্যবাদ দিতে চাই যারা এই অবস্থাটা তৈরি করতে পারছে, যারা ম্যানেজ করেছে। আমার মনে হয়, ভালো একটা পরিবেশ আমরা দেখা করতে পারছি।”
কোয়াবের এই নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়ছেন সাবেক ক্রিকেটার সেলিম শাহেদ ও এখনও খেলে যাওয়া মোহাম্মদ মিঠুন। আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এরই মধ্যে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়ে গেছেন সোহান।
এর বাইরে কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, আকবর আলি, রুমানা আহমেদ, শামসুর রহমান শুভ, ইরফান শুক্কুর, খালেদ মাসুদ পাইলট ও ইমরুল কায়েস।
আরও পড়ুন
| আরও বাড়ছে আইপিএলের টিকিটের দাম |
|
তবে সহ-সভাপতি হিসেবে সোহানের দায়িত্বটা একটু বেশিই। ক্রিকেটারদের ভালোমন্দ দেখভাল করার সংগঠনে নতুন এই পরিচয়ে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য খেলা সহজ করতে চান সোহান।
“যেহেতু ক্রিকেটের সঙ্গে আছি, ক্রিকেট খেলছি, আমাদেরও একটা দায়িত্ব আছে। আমাদের নিচে যারা আছে তাদের নিয়ে ঐভাবে চিন্তা করা। ক্রিকেটের মাধ্যমেই আমি আজকের সোহান হতে পেরেছি।”
“ছোট ছোট বাচ্চারা যারা আসছে, আমি যেহেতু খুলনাতে ছিলাম সেটার কথাই জানি বেশি, আমরা যে সময় প্রাকটিস করতাম, একটা পরিবেশ ছিল প্রাকটিস করার। এখন সেই ধরনের সুযোগ পাচ্ছে না বাচ্চারা। এই জায়গা থেকে ক্রিকেটার হিসেবে বলি বা মানুষ হিসেবে বলি, একটা দায়িত্ব থাকবে সবাই যেন সুযোগটা পায়।”
No posts available.
১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৫১ এম
১৬ মার্চ ২০২৬, ৯:৪২ এম
১৬ মার্চ ২০২৬, ৯:৪০ এম

জয়ের জন্য পাকিস্তানের ২ বলে প্রয়োজন ১২ রান। রিশাদ হোসেনের লেগ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি ওয়াইডের ডাক দিলেন আম্পায়ার। কিছুক্ষণ আলোচনা করে রিভিউ নিলো বাংলাদেশ। পরে দেখা গেল, শাহিন শাহ আফ্রিদির ব্যাটে লেগেছে বল। তাই বদলে যায় ওয়াইডের সিদ্ধান্ত। সমীকরণ দাঁড়ায় ১ বলে ১২ রানে। যা কার্যত অসম্ভব।
পরে ম্যাচ শেষে এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েনি পাকিস্তান। ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ রাহুলের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে তারা। সফরকারীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর রিভিউটি নিয়েছে বাংলাদেশ। ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে জানা গেছে এই খবর।
ম্যাচের শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। রিশাদের প্রথম চার বলে মাত্র ২ রান নিতে পারেন আফ্রিদি। পরে পঞ্চম বলটি লেগ স্টাম্পের বাইরে ফুল টস করেন রিশাদ। অন সাইডে খেলতে গিয়েও ঠিকঠাক ব্যাটে লাগাতে পারেননি পাকিস্তান অধিনায়ক।
সঙ্গে সঙ্গে ওয়াইডের সংকেত দেন আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। রিশাদ তখন ইশারা করতে থাকেন, বল লেগেছে আফ্রিদির ব্যাটে। উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাসও তাতে সায় দেন। পরে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে আলোচনার পর রিভিউ নেয় বাংলাদেশ।
তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যাচ্ছিল না, কিসের রিভিউ নিয়েছে বাংলাদেশ। কারণ ওয়াইডের রিভিউ নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। এছাড়া বল যে পায়ে লাগেনি সেটিও অনেকটাই স্পষ্ট ছিল। তবু মূলত এলবিডব্লিউ চেক করার জন্যই রিভিউ নেয় বাংলাদেশ।
আম্পায়ার যখন থার্ড আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্তটি পাঠান, তখন ক্ষোভ ঝাড়তে থাকেন আফ্রিদি। পরে টিভিতে রিপ্লে দেখানো হলে, বোঝা যায় তার ক্ষোভের রহস্য। কারণ বলটি তার ব্যাট ছুঁয়ে যায়। তাই আর ওয়াইডের সিদ্ধান্ত বহাল থাকেনি। আম্পায়ার সেটি বদলালে ম্যাচ কার্যত শেষই হয়ে যায়।
এটি নিয়েই পাকিস্তানের অভিযোগ। তাদের দাবি, নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ড সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পর ও জায়ান্ট স্ক্রিনে রিপ্লে দেখার পর রিভিউ নিয়েছে বাংলাদেশ। ব্রডকাস্ট ক্যামেরায় তখন ১৫ সেকেন্ডের টাইমার না ওঠায় তাদের দাবি প্রমাণের সুযোগ ছিল না তাৎক্ষণিক।
ম্যাচ শেষে তাই ম্যাচ রেফারির কাছে গিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়ে আসে পাকিস্তান। তবে এটি পরিষ্কার নয়, তাদের চাওয়া কী। ক্রিকইনফোর ধারণা, রিভিউ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম না মানায়, একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা চায় তারা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সবশেষ দুই ওয়ানডেতে ৪৫ ও ৯১ রানের ইনিংস খেলার পরও পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজে একটি ম্যাচেও সুযোগ পাননি সৌম্য সরকার। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সিরিজ জিতলেও, সৌম্যর বাদ পড়া নিয়ে তাই চলছে বিস্তর আলোচনা।
সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সৌম্যকে একটি ম্যাচেও না খেলানোর কারণ ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তার মতে, ব্যাটারদের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই সিরিজে কোনো ম্যাচে জায়গা হয়নি সৌম্যর।
গত বছরের অক্টোবরে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে মিরপুরের কঠিন উইকেটে বেশ ভালো ব্যাটিং করেন সৌম্য। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি খেলেন ৪৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। আর শেষটিতে বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৯১ রান।
তবু পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচেও একাদশে জায়গা হয়নি সৌম্যর। তিন ম্যাচেই সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমকে দিয়ে ওপেনিং করায় বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে সাইফ ৪ ও ১২ রান করে আউট হয়ে গেলেও শেষ ম্যাচে তাকে সুযোগ দেয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটিতে রানে ফেরার আভাস দেন সাইফ। তবে সাবলীল ব্যাটিং তিনি করতে ব্যর্থ হন। ৩ চারে ৩৬ রানের ইনিংসের জন্য সাইফ খেলেন ৫৫ বল। সব মিলিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজটিতে তিনি করেন মাত্র ৫২ রান।
শুধু সাইফ-ই নন, পুরো সিরিজে নিজেদের একাদশে কোনো পরিবর্তনই করেনি বাংলাদেশ। অর্থাৎ তিন ম্যাচে শুধু ১১ জন ক্রিকেটারকেই মাঠে নামিয়েছে তারা। এ নিয়ে মাত্র ষষ্ঠবার কোনো সিরিজের পুরোটা একই একাদশ নিয়ে খেলেছে স্বাগতিকরা।
শেষ ম্যাচ জিতে ট্রফি নিজেদের করলেও, সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে সৌম্যকে কোনো ম্যাচে সুযোগ না দেওয়া ও সাইফকে টানা খেলিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে। উত্তরে ম্যাচে নামানো ক্রিকেটারদের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
“এর আগেও বলেছি, আমরা চাচ্ছি একজন ক্রিকেটার যেন যথেষ্ট সুযোগ পায়। আমরা যে টপ অর্ডার খেলিয়েছি... কোনো সন্দেহ নেই, সৌম্য সরকার সবশেষ সিরিজটা অনেক ভালো খেলেছে। তবে হয়তো (ঘরোয়া ক্রিকেটে) কিছুদিন একটু ছন্দে ছিল না। তামিম ও সাইফ ভালো টাচে ছিল। আমরা তাই ওভাবে পরিকল্পনা করেছি।”
“হঠাৎ করে হয়তো ম্যাচে যদি আমরা পরিবর্তন করতাম... প্রথম দুই ম্যাচ যারা খেলেছে, তাদেরই বেশি ধারণা ছিল। তাই নতুনভাবে আরেকজনকে সুযোগ দেওয়া, এটাও অনেক কঠিন। সৌম্যর জন্য অনেক কঠিন হতো।”
“আমাদের জন্য অনেক সহজ ছিল যে, সাইফ দুইটা ম্যাচে রান করতে পারেনি তাই ওকে যদি আজকে বসিয়ে সৌম্যকে খেলাতাম, তাহলে দুইটা জিনিসই হতে পারত। ওরও আত্মবিশ্বাসটা কমে যেত, যদি তেমন ভালো করতে না পারত। তাই আমরা এটা চেষ্টা করছি যে-ই সুযোগ পাক, সে যেন যথেষ্ট পায় এবং সে নিজ থেকেই বুঝতে পারবে খারাপ খেললে যে হয়তো আমার জায়গা ছেড়ে আরেকজনকে দিতে হবে।”
এসময় সৌম্য সরকারকে নিয়ে বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনা কী, তা জানতে চাওয়া হয় মিরাজের কাছে। উত্তরে তা জানানোর চেষ্টা করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক
“অবশ্যই প্ল্যানিং আছে। যদি সুযোগ পায় আমরা যেন তাকে সর্বোচ্চ সুযোগ দিতে পারি। আপনি দেখেন সৌম্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগের দুই সিরিজে কিন্তু দলে ছিল না। তবে যখন আমরা উইন্ডিজ সিরিজে খেলিয়েছি, তিনটা ম্যাচই কিন্তু টানা খেলিয়েছি। তানজিদ তামিমকে কিন্তু আমরা তখন খেলাইনি। কারণ ও দুইটা সিরিজ ঐরকম ছন্দে ছিল না।”
“ব্যাটারের জন্য অনেক কঠিন যদি সে ছন্দে না থাকে। আপনি এক-দুইটা সুযোগ দিয়ে একটা ব্যাটারকে রেট করতে পারবেন না। তাই সর্বোচ্চ সুযোগটা দিতে হবে। যখন সৌম্যর সুযোগ আসবে, দেখবেন সে সর্বোচ্চ সুযোগ পাবে, যেন নিজেকে তুলে ধরতে পারে ও পারফর্ম করতে পারে। এমন না যে একটা ম্যাচ খেলিয়ে তাকে আবার বাদ দিয়ে দিচ্ছি। কারণ ব্যাটারদের কিন্তু সময় দিতে হয়। ওই প্ল্যান নিয়েই আমরা যাচ্ছি। যেহেতু সামনে বিশ্বকাপ, আমাদের সেভাবেই দল গুছাচ্ছি।”

ব্যাট হাতে সিরিজটিতে ঝড় তুলেছেন তানজিদ হাসান তামিম। আর বোলিংয়ে আগুন ঝরিয়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। প্রথম ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা ৫ উইকেটের পর শেষ ওয়ানডেতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি নিয়েছেন ২ উইকেট।
সব মিলিয়ে সিরিজে ৮ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে প্লেয়ার অব দা সিরিজ পুরস্কারও জিতেছেন নাহিদ। আর তার কাছে ধরাশায়ী হয়ে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বললেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যথাযথ যত্ন নিলে দলের মেইন ম্যাচ হয়ে উঠবেন নাহিদ।
মিরপুরে সিরিজের প্রথম ম্যাচে একাই পাকিস্তানের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন নাহিদ। আগুনঝরা ফাস্ট বোলিংয়ে সফরকারীদের প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে একাই আউট করে তিনি গড়েছিলেন রেকর্ড। সব মিলিয়ে মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পেয়েছিলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
পরের দুই ম্যাচেও বোলিংয়ের ধার ধরে রেখে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী পেসার। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক ও বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার আফ্রিদি।
সিরিজের শেষ ম্যাচের পর টি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার তাই নাহিদের যত্ন নেওয়ার পরামর্শই দিলেন।
“বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নাহিদ অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিভা। বাংলাদেশের উচিত তার যত্ন নেওয়া। প্রতিটি ম্যাচে তাকে ব্যবহার না করে, শুধু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে খেলানো উচিত। তাহলে সে দলের জন্য মেইন ম্যান হতে পারবে।”
সদ্য সমাপ্ত এই সিরিজের উইকেট পাকিস্তানের জন্য ছিল একরকম সারপ্রাইজের মতো। কারণ গত বছরের অক্টোবরে মিরপুরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পুরোপুরি স্পিনিং উইকেট বানিয়ে খেলেছিলেন বাংলাদেশ।
সেখান থেকে পুরোপুরি বদলে ফেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে সবুজ ঘাসের উইকেটে খেলেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন কুমার দাসরা। যেখানে ব্যাটার-বোলারের জন্য ছিল প্রায় সমান-সমান সুবিধা। যা কিছুটা অবাক করেছে আফ্রিদিকেও।
“তারা এখানে যে সবশেষ সিরিজটি খেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, পুরো ৫০ ওভার স্পিনার দিয়ে করিয়েছিল। আর এখন ছিল সবুজ উইকেট। তবে হ্যাঁ ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো ছিল উইকেট। সব মিলিয়ে উপভোগ্য ছিল।”

সালমান আলি আগার বলে ছক্কা মেরেই সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেললেন তানজিদ হাসান তামিম। দুই হাত ছড়িয়ে আকাশপানে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। পরক্ষণেই হাত দিয়ে বাতাসে এঁকে দিলেন চুম্বন। আর দুই হাতে হৃদয়ের প্রতিকৃতি করে সারলেন সেঞ্চুরির উদযাপন।
তাৎক্ষণিকভাবে জানার উপায় ছিল না, কাকে উদ্দেশ্য করে চুম্বন আঁকা অথবা ভালোবাসার প্রতিকৃতি সাজানো। তবে ম্যাচ শেষে তামিম নিজেই জানিয়েছেন, সেঞ্চুরিটি তিনি উৎসর্গ করেছেন নিজের প্রিয়তমা স্ত্রীকে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৬ চার ও ৭ ছক্কায় ১০৭ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ওপেনার। ৩১ ওয়ানডে ও ৪৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটিই তামিমের প্রথম সেঞ্চুরি।
এর আগে ওয়ানডেতে ৫টি ও টি-টোয়েন্টিতে ১১টি ফিফটি করলেও কোনো সেঞ্চুরির দেখা পাচ্ছিলেন না বাঁহাতি ওপেনার। অবশেষে সেই অপেক্ষা ঘুচিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে দলের জয়ে পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
পরে ম্যাচ শেষে টি স্পোর্টসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তামিম জানিয়েছেন, সেঞ্চুরিটি তিনি উৎসর্গ করতে চান নিজের স্ত্রীকে।
“উৎসর্গ সেভাবে কাউকে করিনি। তবে আমার স্ত্রী অনেক উচ্ছ্বসিত। তো তার প্রতিই উৎসর্গ করছি। তার জন্য তেমন কিছু বলার নেই। তবে ও আমাকে ভালো সময়, খারাপ সময়- সব সময় পাশে থেকে সাপোর্ট করে, এটাই আমার কাছে অনেক বড় বিষয়।”
এই সেঞ্চুরির আগে ওয়ানডেতে তামিমের সর্বোচ্চ ছিল ৮৪ রান। এছাড়া আরও তিন ম্যাচে ৬০ রানের ঘরে ঢুকলেও তিন অঙ্কে যেতে পারেননি তিনি। সেই ধারা ভেঙে এবার সেঞ্চুরি করার পর তাই বাড়তি তৃপ্তি তামিমের কণ্ঠে।
“আলহামদুলিল্লাহ। আমার জন্য অনেক বেশি স্পেশাল এই সেঞ্চুরি। অনেক দিন ধরে এটার অপেক্ষা করছিলাম। কারণ গত কয়েকটা ওয়ানডে ম্যাচে আমি ভালো শুরু করেও ইনিংস টেনে নিতে পারিনি। এখন চেষ্টা করছি, কীভাবে ভালো শুরুটাকে লম্বা ইনিংসে পরিণত করা যায়।”

প্রথম ম্যাচে ঝড়ো ফিফটির পর শেষটিতে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজটি দারুণভাবে রাঙিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতার পর তিনি বিশেষ ধন্যবাদ দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক ও বাঁহাতি ওপেনার শাহরিয়ার নাফীসকে।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ৯৮ বলে ৬ চার ও ৭ ছক্কার রেকর্ড গড়া ১০৭ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন তামিম।
একইসঙ্গে সিরিজের তিন ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৭৫ রান করে নাহিদ রানার সঙ্গে যৌথভাবে সিরিজ সেরার পুরস্কারও জিতেছেন ২৫ বছর বয়সী ওপেনার। শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি করার পথে তিনি দিয়েছেন দায়িত্বশীলতার পরিচয়, খেলেছেন পরিস্থিতি বুঝে।
ম্যাচে দলের চাহিদা বুঝে খেলা, ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির ইনচার্জ ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তামিম।
“আমি চেষ্টা করছি, ব্যাটিং নিয়ে কিছুটা কাজ করার। স্কিল থেকেও মূলত মানসিকভাবে কীভাবে আরও শক্ত হওয়া যায়, সেই জিনিসটা চেষ্টা করছি। ব্যাটিং নিয়ে আসলে কোচদের সঙ্গে অ্যাশ (আশরাফুল) ভাই আছে, সালাউদ্দিন স্যার, হেড কোচ (ফিল সিমন্স) সবার সঙ্গে কথা হয়।”
“আর আমি একটা নাম বিশেষ করে উল্লেখ করতে চাচ্ছি... শাহরিয়ার নাফীস। তার সঙ্গে আমার অন এন্ড অফ অনেক কথা হয়। তিনি আমাকে অনেক ভালোভাবে অনুপ্রাণিত করেন। তো সবাইকে ধন্যবাদ।”
তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পথে ৯৪ রানে দাঁড়িয়ে সালমান আলি আগার বল উড়িয়ে মারেন তামিম। লং অফে ফিল্ডার থাকলেও দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না তার। ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরির সামনে থেকে অমন ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলার ব্যাখ্যাও দেন তামিম।
“অবশ্যই (ছক্কা মারার ব্যাপারে) আমি ক্লিয়ার মাইন্ড ছিলাম। ক্লিয়ার মাইন্ডে না থাকলে ওইরকম সময় কেউ এরকম ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে না। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এটা হলে হয়তোবা ভালো হবে। আমি আমার সেই সিদ্ধান্তে গিয়েছি আর কি।”
শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি করতে ৯৮ বল খেলেন তামিম। তবে এক পর্যন্ত ৫৮ বলে ৭১ রানে ছিলেন তিনি। পরে আরও ৩৯ বল খেলে নিতে পারেন মাত্র ২৩ রান। সেখান থেকে ছক্কা মেরে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।
মাঝের ৩৯ বলের সময় মূলত নতুন স্পেলে ফিরেছিলেন হারিস, শাহিন শাহ আফ্রিদিরা। পুরোনো বলে তারা রিভার্স সুইং করানোয় কাজ কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল বললেন তামিম।
“ওই সময় বল একটু রিভার্স করছিল। তখন শান্ত ভাইয়ের সঙ্গে আমার আলোচনা চলছিল। উনি অনেক সাহায্য করছে ওই সময় কীভাবে খেলা উচিত, কীভাবে এই দুই-এক ওভার পার করা যায়। উনি আমাকে বলছিলেন, তারপর আরও অনেক সহজ হয়ে যাবে। তো চেষ্টা করেছি ওই দুই-তিনটা ওভার পার করে দিয়ে দেখে শুনে খেলতে।”