২০ এপ্রিল ২০২৫, ১:৩১ পিএম

কার্লো আনচেলত্তি নিজে বারবার বলছেন, চুক্তির মেয়াদের শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদেই থেকে যেত চান তিনি। তবে বাস্তবতা আভাস দিচ্ছে ভিন্ন কিছুরই। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে দলটির আকস্মিক বিদায়ের পর। দা আথলেতিক এর প্রতিবেদনেও এবার দাবি করা হয়েছে, খুব দ্রুতই রিয়ালের ডাগআউটে শেষ হচ্ছে আনচেলত্তির অধ্যায়।
শুধু তাই নয়, সেখানে আরও বলা হয়েছে আনচেলত্তির পরবর্তী গন্তব্য নিয়েও। আর সেখানে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে ব্রাজিল জাতীয় দলই, যারা আগেও কয়েকবার চেষ্টা করেছে ইতালিয়ান কোচকে নিয়োগ দেওয়ার।
গত মার্চে আথলেটিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আনচেলত্তিকে কোচ হিসেবে পেতে আগ্রহী ব্রাজিল। সংক্ষিপ্ত তালিকায় আরও আছেন আল হিলাল প্রধান কোচ জর্জ জেসুসও। তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) আনচেলত্তিকে কোচ হিসেবে পাওয়াকে সভাপতির একটা স্বপ্ন বলে উল্লেখ করেছে।
আরও পড়ুন
| রিয়ালেই থেকে যেতে চান আনচেলত্তি |
|
রিয়ালের সাথে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ রয়েছে আনচেলত্তির। দুই মেয়াদে ক্লাবটিতে কাজ করার সুবাদে দলটির প্রতি তার আলাদা এক ভালবাসা তৈরি হয়েছে। আর তাই সাবেক এসি মিলান কোচের সামনে সুযোগ থাকবে ভিন্ন ভূমিকায় রিয়ালে থাকার ও কাজ করার। তবে আপাতত ঠিকানা বদল করতে হলে তার প্রথম পছন্দ ব্রাজিলের কোচ হওয়া, এমনটাই দাবি আথলেতিকের।
গত মার্চে দরিভাল জুনিয়রকে বরখাস্ত করেছে ব্রাজিল। এরপর থেকেই আলোচনায় আসছে আনচেলত্তির তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার খবর। ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, ক্লাবের বোর্ড যদি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়, কেবল তখনই তিনি রিয়াল ছেড়ে যাবেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সাথে তার অগ্রিম আলোচনা চলছে বলেই খবর।
এর মূল কারণ, ব্রাজিল পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিরতির আগেই নতুন কোচ নিয়োগ দিতে আগ্রহী। ফলে রিয়ালকে খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা আনচেলত্তিকে ধরে রাখতে চায় কিনা। গুঞ্জন রয়েছে, আগামী ২৬ এপ্রিল বার্সেলোনার বিপক্ষে কোপা দেল রের ফাইনালের পর এই বিষয়ে আলোচনায় বসবে ক্লাব ও আনচেলত্তি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ আটে আর্সেনালের কাছে ৫-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেওয়া রিয়াল লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে সাত ম্যাচ হাতে রেখে পিছিয়ে আছে সাত পয়েন্টে।
আরও পড়ুন
| নতুন খেলোয়াড় কেনায় সিটির ভোগান্তি দেখছেন গার্দিওলা |
|
গত মৌসুম থেকেই রিয়ালের ভবিষ্যৎ কোচ হিসেবে সম্ভাবনাময় হিসেবে বারবার এসেছে জাবি আলোনসোর নাম। লেভারকুসেনের এই কোচ অতীতে খেলেছেন রিয়ালের জার্সিতে। সাবেক স্পেন মিডফিল্ডারকেই এখন ধরা হচ্ছে আনচেলত্তির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার শীর্ষ পছন্দ নিয়ে।
No posts available.
১৩ মে ২০২৬, ২:৫২ পিএম

রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন ক্লাবটির সীমানা ছাড়িয়ে দলবদলের বাজারে বড় আলোচনার খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উরুগুয়ের তারকা মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং ফরাসি সতীর্থ অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দ্য মিররের প্রতিবেদন, এই ঘটনায় অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ এখন ভালভার্দের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলছেন। আর এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাতে চাইছে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলো।
ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এই মুহূর্তে একজন বিশ্বমানের মিডফিল্ডারের খোঁজে মরিয়া। রিয়াল মাদ্রিদে ভালভার্দের বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ক্লাবটি। তারা উরুগুয়ের এই তারকাকে দলে ভেড়ানোর জন্য একটি বড় অংকের প্রস্তাব তৈরি করছে। ওল্ড ট্রাফোর্ডের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, রিয়ালের এই অস্থিরতা ভালভার্দেকে প্রিমিয়ার লিগে নিয়ে আসার সেরা সুযোগ হতে পারে।
শুধু ইংল্যান্ড নয়, ফ্রান্সের ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ভালভার্দেকে পাওয়ার দৌড়ে বেশ জোরালোভাবেই নেমেছে। স্প্যানিশ টেলিভিশন প্রোগ্রাম এল চিরিংগিতোর সাংবাদিক মার্কোস বেনিতো জানিয়েছেন, ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা ইতিমধ্যে খেলোয়াড়ের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।
বেনিতো বলেন,
‘প্যারিস ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা খেলোয়াড়ের বর্তমান অবস্থা এবং দলবদলের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। আমি এটা বলছি না যে ভালভার্দে রিয়াল ছাড়তে চান, কিংবা ক্লাব তাকে চলে যেতে বলেছে। কিন্তু পিএসজি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছে—যদি কোনো এক পর্যায়ে তিনি মাদ্রিদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে প্যারিসের দরজা তার জন্য সব সময় খোলা।’
যদিও দলবদলের বাজারে গুঞ্জনের শেষ নেই, তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখন পর্যন্ত ফেদেরিকো ভালভার্দে কিংবা রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ—কারো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হওয়ার কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়নি। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ভালভার্দে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে চুয়ামেনির সঙ্গে ভালভার্দের বিরোধের বিষয়টি ড্রেসিংরুমের সংহতি নষ্ট করলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নিতেও পারে। আপাতত সব কিছুই অনিশ্চিত। তবে এটি নিশ্চিত যে, যদি ভালো কোনো প্রস্তাব আসে কিংবা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে আগামী দলবদলের মৌসুমে ভালভার্দেই হতে পারেন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। মাদ্রিদ কি তাদের এই ঘরের ছেলেকে ধরে রাখতে পারবে, নাকি নতুন কোনো ঠিকানায় পাড়ি জমাবেন এই লড়াকু মিডফিল্ডার—সেটি এখন দেখার বিষয়।

বিশ্বকাপের এক মাসও বাকি নেই। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা আর চুলচেরা বিশ্লেষণ। চায়ের টেবিলে জমে উঠছে ২০০৬ বিশ্বকাপে মার্কো মাতেরাজ্জিকে জিনেদিন জিদানের ঢুঁ দেওয়ার ঘটনা, ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে ব্রাজিলের হারের দুঃস্মৃতি কিংবা ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের গল্প।
বড় এসব ঘটনার মাঝেই চায়ের চুমুকে মিষ্টি স্বাদের জোগান দেয় খেরোখাতায় ধুলো জমা কিছু পরিসংখ্যান। যেমন—বিগত পাঁচটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ২৯টি গোল করেছে ফ্রান্স, যা অন্য যেকোনো দলের তুলনায় বেশি। এই তালিকায় তাদের পরেই রয়েছে জার্মানি (২৮), আর্জেন্টিনা (২১) এবং ব্রাজিল (২০)। মূলত এই আক্রমণাত্মক শক্তির ওপর ভর করেই 'লে ব্লু'রা ২০১৮ সালে শিরোপা জিতেছিল এবং ২০০৬ ও ২০২২ সালে রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল।
বিস্ময়কর বিষয় হলো—রাশিয়া এবং কাতার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফ্রান্সের গোল করার গড় ছিল ম্যাচপ্রতি ২.৬৩। এর বিপরীতে, এই দুই আসরের গ্রুপ পর্বে তাদের গোল করার গড় ছিল ১.৫।
নকআউট পর্বের মাত্র আট ম্যাচে আট গোল করে কিলিয়ান এমবাপে এই পর্যায়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ব্রাজিলের লিওনিদাস এবং রোনালদোর সাথে যৌথভাবে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন।
ক্লাব ফুটবলে গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ খুব একটা স্বস্তিদায়ক সময় পার না করলেও ব্যক্তিগতভাবে উজ্জ্বল ছিলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। লা লিগায় তিনি সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন। চ্যাম্পিয়নস লিগেও নিজের গোল করার দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। আশা করা যায়, গোলের এই ধারা তিনি বিশ্বকাপেও বজায় রাখবেন।

বিশ্বকাপ মানেই রেকর্ডের খেরোখাতা নতুন করে লেখা। ফুটবল মহাযজ্ঞের ইতিহাস মানেই কিছু অসম্ভব রেকর্ড আর অবিশ্বাস্য সব ঘটনা। যদিও রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য, তবে বিশ্বকাপের এই অতিমানবীয় অর্জনগুলো আজকের দিনের মহাতারকাদেরও ধরাছোঁয়ার বাইরে। কোটি ফুটবলপ্রেমীর উন্মাদনা আর মাঠের রোমাঞ্চের মাঝে এই অজেয় রেকর্ডগুলোই যেন বিশ্বকাপের অলঙ্কার। বিশ্বকাপের এমন ৯টি রেকর্ড দেখে নেওয়া যাক।
জাঁ ফন্তেইন: এক আসরে ১৩ গোল
১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জাঁ ফন্তেইন একাই করেছিলেন ১৩টি গোল। আজ পর্যন্ত এই অনবদ্য কীর্তি ছোঁয়া তো দূরের কথা, এর ধারেকাছেও কেউ পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে সাধারণত ৫ বা ৬ গোল করলেই গোল্ডেন বুট জেতা নিশ্চিত হয়ে যায়। আজকের দিনের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ এবং অতিমাত্রায় কৌশলনির্ভর ফুটবলের যুগে একই আসরে এমন গোল উৎসব প্রায় অলৌকিক ব্যাপার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফন্তেইনের এই কীর্তিকে বিবেচনা করা হয় সর্বকালের সেরা এবং অজেয় রেকর্ড হিসেবে।
আর্নস্ট উইলিমভস্কি: হারানো ম্যাচে ৪ গোল
১৯৩৮ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের আর্নস্ট উইলিমভস্কি ব্রাজিলের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য ৪টি গোল করেছিলেন। কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, তাঁর দল ম্যাচটি হেরেছিল ৬-৫ ব্যবধানে। বিশ্বকাপের মঞ্চে ৪ গোল করাটাই যেখানে অতিমানবীয় ব্যাপার, সেখানে ম্যাচ হেরেও এমন ব্যক্তিগত অর্জন একে এক অনন্য ও বিয়োগান্তক রেকর্ডে পরিণত করেছে। রক্ষণাত্মক কৌশলের আধুনিক ফুটবলে হেরে যাওয়া ম্যাচে কোনো ফুটবলার আবার ৪ গোল করবেন—এমনটা কল্পনা করাও এখন অসম্ভব।
পাওলো মালদিনি: ২,২১৬ মিনিটের লড়াই
ইতালিয়ান কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনি চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন এবং অবিশ্বাস্যভাবে একটি মিনিটও মাঠের বাইরে কাটাননি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের মাঠে তার উপস্থিতির সময় ২,২১৬ মিনিট। বর্তমান ফুটবলে চোটের প্রবণতা, খেলোয়াড়দের রোটেশন পলিসি এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণে মালদিনির মতো এমন দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিকতা অর্জন করা বর্তমান প্রজন্মের জন্য কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে।
রজার মিলা: বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা
ক্যামেরুনের গোলমেশিন রজার মিলা ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, তিনি ১৯৯০ বিশ্বকাপে করা নিজের ৩৮ বছর বয়সের রেকর্ডটিই ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছিলেন। যদিও আজকালকার ফুটবলাররা কঠোর ফিটনেস মেনে দীর্ঘ সময় ক্যারিয়ার টেনে নিচ্ছেন, তবুও বিশ্বকাপের মতো চরম শারীরিক সক্ষমতার মঞ্চে ৪২ বছর বয়সে গোল করার মতো ঘটনা পুনরায় ঘটা প্রায় অসম্ভবই।
এসাম এল-হাদারি: সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ফুটবলার
২০১৮ বিশ্বকাপে যখন মিশরের গোলপোস্ট সামলাতে নামলেন এসাম এল-হাদারি, তখন তার বয়স ৪৫ বছর ১৬১ দিন! বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে খেলার এই রেকর্ডটি অনন্য। শুধু খেলাই নয়, সেই ম্যাচে তিনি একটি পেনাল্টিও ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন। আধুনিক ফুটবলের যে গতি এবং ফিটনেসের চাহিদা, তাতে ৪৫ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে গ্লাভস হাতে দাঁড়ানোটা এখন রূপকথার মতোই শোনায়।
রাফায়েল মার্কুয়েজ: অধিনায়কত্বের ‘পাঞ্জা’
মেক্সিকান কিংবদন্তি রাফায়েল মার্কুয়েজ এমন এক কীর্তি গড়েছেন যা ভাবলে রীতিমতো অবাক হতে হয়। ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (২০০২ থেকে ২০১৮) নিজের দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। টানা ২০ বছর ধরে দলের অধিনায়ক হিসেবে নিজের জায়গা ধরে রাখা এবং ছন্দ বজায় রাখা বর্তমান সময়ে অবিশ্বাস্য। এই রেকর্ডের আশেপাশে পৌঁছানোও যেকোনো ফুটবলারের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
পেলে: সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার মুকুট
ফুটবল সম্রাট পেলে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে যখন প্রথম গোল করেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর ২৩৯ দিন। সেই আসরেই সর্বকালের অন্যতম সেরা হ্যাটট্রিক করেন এবং ফাইনালও জেতেন। বর্তমান সময়ে কিশোর ফুটবলারদের প্রতিভা থাকলেও এত কম বয়সে বিশ্বকাপের মতো চাপের মঞ্চে গোল করা এবং ফাইনাল জেতা পেলের সেই রেকর্ডকে আজও অমর করে রেখেছে।
ওলেগ সালেঙ্কো: এক ম্যাচেই বাজিমাত
এক ম্যাচে পাঁচ গোল! ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্কো এই অতিমানবীয় রেকর্ডটি গড়েন। মজার ব্যাপার হলো, সেই আসরে রাশিয়া গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও এক ম্যাচের এই ৫ গোলের সৌজন্যেই সালেঙ্কো গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। বর্তমানের জমাট রক্ষণভাগের যুগে এক ম্যাচে ৫ গোল করা এখনকার স্ট্রাইকারদের কাছে এক অলীক স্বপ্ন।
জসিপ শিমুনিচ: এক ম্যাচেই তিন হলুদ কার্ড!
২০০৬ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার জসিপ শিমুনিচ এমন এক কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন যা ফুটবল ইতিহাসে আর কখনো ঘটা সম্ভব নয়। রেফারি গ্রাহাম পোলের এক মারাত্মক ভুলে একই ম্যাচে শিমুনিচকে তিনবার হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল! আসলে শিমুনিচ অস্ট্রেলিয়ান টানে ইংরেজি বলায় রেফারি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং তাকে লাল কার্ড দেখাতে ভুলে গিয়েছিলেন। বর্তমান ফুটবলে ভিএআর এবং প্রযুক্তির যে জয়জয়কার, তাতে এই ধরণের ভুল হওয়া এখন একেবারেই অসম্ভব। শিমুনিচের এই অদ্ভুত রেকর্ডটি বিশ্বকাপের পাতায় চিরকাল অমলিন ও অজেয় হয়েই থাকবে।

পরের সপ্তাহেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আর সেই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরো রিও ডি জেনিরোর বাতাসে এখন একটিই প্রশ্ন—নেইমার কি থাকছেন, নাকি থাকছেন না? ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও চোট আর পড়তি ফর্ম তাঁকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
রিওতে অবস্থিত ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সদর দপ্তরে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি নিজের দ্বিধার কথা লুকাননি, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেও সহজ নয়। নেইমার এই দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। কিন্তু তার চোটের ইতিহাস আমাদের ভাবাচ্ছে। যদিও ইদানীং সে নিয়মিত খেলছে এবং ফিটনেসে উন্নতি করেছে, তবুও আমাদের সব দিক খতিয়ে দেখতে হবে।’
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মধ্যে এখন দুই পক্ষ। এক পক্ষ চায় অভিজ্ঞ নেইমারকে শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে দেখতে, অন্য পক্ষ তরুণ এবং ফিট খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রাখতে আগ্রহী। আনচেলত্তি স্বীকার করেছেন, দলের ফুটবলাররা নেইমারকে স্কোয়াডে চান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো চাপের মুখে তিনি নতি স্বীকার করবেন না।
আরও পড়ুন
| নেইমারকে নিয়ে আনচেলত্তির সিদ্ধান্তে তোলপাড় ব্রাজিল ফুটবলে |
|
আনচেলত্তির ভাষায়, ‘খেলোয়াড়রা তাদের মতামত জানাতেই পারে, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল আমার। নেইমারকে দলে নিলে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নষ্ট হবে না, সেটা আমি জানি। তবে মাঠের বাইরের আলোচনা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।’
আনচেলত্তির বর্তমান কৌশলে এমন ফরোয়ার্ড প্রয়োজন যারা পুরো ম্যাচ জুড়ে দৌড়াতে পারবেন এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারবেন। নেইমারের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সেই উচ্চ-তীব্রতার ফুটবলের সঙ্গে কতটা মানানসই, সেটিই এখন বড় বিবেচ্য বিষয়।
ব্রাজিল কোচ বললেন, ‘আমি কোনো নিখুঁত দল বানাতে পারব না, কিন্তু এমন একটি দল গড়তে চাই যেখানে ভুলের পরিমাণ হবে সর্বনিম্ন। নেইমারকে নেওয়া বা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে শতভাগ পেশাদার। এখানে আবেগের কোনো জায়গা নেই।’
সান্তোসের হয়ে খেলা নেইমার এখন কেবল আনচেলত্তির একটি ফোনের অপেক্ষায়। আগামী সপ্তাহের সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই জানা যাবে, ব্রাজিলের সোনালী স্বপ্নে নেইমারের তুলির আঁচড় আর থাকবে কি না।

বিশ্বকাপে নেইমার জুনিয়র কি খেলবেন? এই একটি প্রশ্ন এখন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) অন্দরমহলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। তবে খবর হচ্ছে, কোচ কার্লো আনচেলত্তি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। নেইমারকে বিশ্বকাপে দেখা যাবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে! কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত তিনি এতটাই গোপন রেখেছেন, সিবিএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশও এখনো অন্ধকারে।
লন্ডনে ব্রাজিল ফুটবল দলের সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানোর সঙ্গে কোচ আনচেলত্তির সাম্প্রতিক আলাপচারিতার পর থেকেই গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। পুরো ব্রাজিল জুড়ে সাধারণ মানুষ যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, সেই একই প্রশ্ন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের অনেক কর্মকর্তারও!
নির্ভরযোগ্য সূত্রে গ্লোবর প্রতিবেদন, আনচেলত্তি তাঁর এই বড় সিদ্ধান্তের কথা মাত্র হাতেগোনা কয়েকজনকে জানিয়েছেন। সিবিএফের কর্মকর্তাদের মধ্যে শুধুমাত্র জাতীয় দলের সমন্বয়ক এবং কোচের অতি বিশ্বস্ত রদ্রিগো কায়েতানোই জানেন আসল সত্য। এর বাইরে ইতালিয়ান কোচের নিজস্ব কোচিং স্টাফের নির্দিষ্ট সদস্যরাই কেবল এই আলোচনার অংশ হতে পারছেন।
আরও পড়ুন
| পদত্যাগ নয়, আবার রিয়ালের প্রেসিডেন্ট হতে চান পেরেজ |
|
আশ্চর্যের বিষয় হলো, সিবিএফ সভাপতি সামির শাউদ কিংবা পরিচালনা পর্ষদের কাউকেই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে জানা গেছে, বোর্ড থেকেও এই মুহূর্তে কোচের ওপর কোনো ধরনের বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে না।
ভেতরের পরিবেশ শান্ত দেখানোর চেষ্টা করা হলেও বাইরের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ব্রাজিলের বর্তমান ও সাবেক ফুটবলাররা, যাদের সঙ্গে আনচেলত্তির সুসম্পর্ক রয়েছে, তাঁরা নেইমারের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করে চলেছেন। অনেকে চাইছেন দলের সেরা তারকাকে যেন শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে আনচেলত্তি তাঁর পেশাদারিত্বের জন্য বেশ সুপরিচিত। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, আবেগ নয় বরং নেইমারের শারীরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত উপযোগিতা বিচার করেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সেই রহস্যের চাবিকাঠি আনচেলত্তি এবং কায়েতানোর পকেটেই থাকছে।
নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই লুকোচুরি ভক্তদের মনে যেমন শঙ্কা বাড়াচ্ছে, তেমনি বাড়িয়ে দিচ্ছে রোমাঞ্চ। শেষ পর্যন্ত কি ‘১০ নম্বর’ জার্সিধারীকে দেখা যাবে বিশ্বজয়ের মিশনে, নাকি নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছেন আনচেলত্তি? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।