২০ এপ্রিল ২০২৫, ১:৩১ পিএম

কার্লো আনচেলত্তি নিজে বারবার বলছেন, চুক্তির মেয়াদের শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদেই থেকে যেত চান তিনি। তবে বাস্তবতা আভাস দিচ্ছে ভিন্ন কিছুরই। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে দলটির আকস্মিক বিদায়ের পর। দা আথলেতিক এর প্রতিবেদনেও এবার দাবি করা হয়েছে, খুব দ্রুতই রিয়ালের ডাগআউটে শেষ হচ্ছে আনচেলত্তির অধ্যায়।
শুধু তাই নয়, সেখানে আরও বলা হয়েছে আনচেলত্তির পরবর্তী গন্তব্য নিয়েও। আর সেখানে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে ব্রাজিল জাতীয় দলই, যারা আগেও কয়েকবার চেষ্টা করেছে ইতালিয়ান কোচকে নিয়োগ দেওয়ার।
গত মার্চে আথলেটিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আনচেলত্তিকে কোচ হিসেবে পেতে আগ্রহী ব্রাজিল। সংক্ষিপ্ত তালিকায় আরও আছেন আল হিলাল প্রধান কোচ জর্জ জেসুসও। তবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) আনচেলত্তিকে কোচ হিসেবে পাওয়াকে সভাপতির একটা স্বপ্ন বলে উল্লেখ করেছে।
আরও পড়ুন
| রিয়ালেই থেকে যেতে চান আনচেলত্তি |
|
রিয়ালের সাথে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ রয়েছে আনচেলত্তির। দুই মেয়াদে ক্লাবটিতে কাজ করার সুবাদে দলটির প্রতি তার আলাদা এক ভালবাসা তৈরি হয়েছে। আর তাই সাবেক এসি মিলান কোচের সামনে সুযোগ থাকবে ভিন্ন ভূমিকায় রিয়ালে থাকার ও কাজ করার। তবে আপাতত ঠিকানা বদল করতে হলে তার প্রথম পছন্দ ব্রাজিলের কোচ হওয়া, এমনটাই দাবি আথলেতিকের।
গত মার্চে দরিভাল জুনিয়রকে বরখাস্ত করেছে ব্রাজিল। এরপর থেকেই আলোচনায় আসছে আনচেলত্তির তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার খবর। ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, ক্লাবের বোর্ড যদি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়, কেবল তখনই তিনি রিয়াল ছেড়ে যাবেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সাথে তার অগ্রিম আলোচনা চলছে বলেই খবর।
এর মূল কারণ, ব্রাজিল পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিরতির আগেই নতুন কোচ নিয়োগ দিতে আগ্রহী। ফলে রিয়ালকে খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তারা আনচেলত্তিকে ধরে রাখতে চায় কিনা। গুঞ্জন রয়েছে, আগামী ২৬ এপ্রিল বার্সেলোনার বিপক্ষে কোপা দেল রের ফাইনালের পর এই বিষয়ে আলোচনায় বসবে ক্লাব ও আনচেলত্তি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ আটে আর্সেনালের কাছে ৫-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেওয়া রিয়াল লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে সাত ম্যাচ হাতে রেখে পিছিয়ে আছে সাত পয়েন্টে।
আরও পড়ুন
| নতুন খেলোয়াড় কেনায় সিটির ভোগান্তি দেখছেন গার্দিওলা |
|
গত মৌসুম থেকেই রিয়ালের ভবিষ্যৎ কোচ হিসেবে সম্ভাবনাময় হিসেবে বারবার এসেছে জাবি আলোনসোর নাম। লেভারকুসেনের এই কোচ অতীতে খেলেছেন রিয়ালের জার্সিতে। সাবেক স্পেন মিডফিল্ডারকেই এখন ধরা হচ্ছে আনচেলত্তির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার শীর্ষ পছন্দ নিয়ে।
No posts available.
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:১৯ পিএম
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২:৫০ পিএম
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১:৪৪ পিএম

আর্জেন্টিনা দলে ফেরার টান যে এখনও কাজ করে, তা লুকালেন না অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া। তবে সব কিছু বিবেচনা করে তিনি মেনে নিয়েছেন, জাতীয় দলের অধ্যায়টা তার জন্য শেষই হয়ে গেছে।
স্প্যানিশ দৈনিক এএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোসারিও সেন্ট্রালের এই তারকা বলেন,
‘(জাতীয় দলে ফেরার) ইচ্ছা নেই এমন নয়। কিন্তু আমার একটা পর্ব শেষ হয়েছে। যা চেয়েছিলাম, সবই পেয়েছি। এখন নতুন প্রজন্মের পালা।’
জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তটা হুট করেই নেওয়া নয়। দি মারিয়া জানালেন, কাতার বিশ্বকাপের পরই তিনি মনে মনে বিদায় ঠিক করে ফেলেছিলেন। তবে সতীর্থদের অনুরোধে কোপা আমেরিকায় আরেকবার খেলতে রাজি হন।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দি মারিয়া বেছে নেন ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয়কে।
‘তখন ২৮ বছরের শিরোপা-খরা ছিল। ব্যক্তিগতভাবেও সেটা ছিল এক ধরনের মুক্তি। ক্লাব ফুটবলে ভালো করছিলাম, কিন্তু দেশের হয়ে জিততে পারছিলাম না। সেই বোঝা নিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে আমার গোল- ওটাই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি।’
কাতার বিশ্বকাপ জয় নিয়ে দি মারিয়ার উপলব্ধি আরও গভীর। তার ভাষায়,
‘বিশ্বকাপের মূল্য অবশ্যই বেশি। তবে প্রতিটি ট্রফিই ত্যাগের পুরস্কার। একটাকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে ফুটবলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দেশটির সাবেক ফুটবল প্রধান, কোচ ও খেলোয়াড়সহ ৭৩ জনকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে চাইনিজ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (সিএফএ)। একই সঙ্গে শাস্তির মুখে পড়েছে দেশটির শীর্ষ লিগের একাধিক ক্লাব।
আজ এক বিবৃতিতে সিএফএ জানায়, ম্যাচ পাঁতানো, জুয়া ও ঘুষের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার পর পর্যালোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফুটবলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এমন কঠোর পদক্ষেপ বলে জানানো হয়। তবে সদ্য ঘোষিত ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের ঘটনাগুলো কবে ঘটেছে বা কীভাবে হয়েছে তা জানায়নি সিএফএ।
আজীবন নিষিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন চীনের সাবেক জাতীয় দলের কোচ ও সাবেক এভারটন ফুটবলার লি। তিনি এরই মধ্যে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই তালিকায় আছেন চীনা ফুটবল সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান চেন শুয়ুয়ান, যিনি প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার ঘুষ নেওয়ার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত।
শুধু ব্যক্তি নয়, ক্লাব পর্যায়েও বড় শাস্তি দিয়েছে সিএফএ। ২০২৫ মৌসুমে চীনা সুপার লিগে খেলা ১৬ দলের মধ্যে ১১টি ক্লাবের পয়েন্ট কাটা হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে। এর ফলে ২০২৬ মৌসুম শুরু হলে নয়টি দলকে লিগ শুরু করতে হবে মাইনাস পয়েন্ট নিয়ে।
তিয়ানজিন জিনমেন টাইগার ও শাংহাই শেনহুয়াকে ১০ পয়েন্ট করে কাটা এবং ১০ লাখ ইউয়ান জরিমানা করা হয়েছে। টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন শাংহাই পোর্ট ও বেইজিং গুয়ান পেয়েছে ৫ পয়েন্ট করে কাটার শাস্তি সঙ্গে ৪ লাখ ইউয়ান জরিমানা।
সিএফএ ক্লাবগুলোর নির্দিষ্ট অপরাধ বিস্তারিতভাবে জানায়নি। শুধু বলা হয়েছে, এগুলো ম্যাচ ফিক্সিং, জুয়া এবং ঘুষ সংক্রান্ত। শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে অবৈধ লেনদেনের পরিমাণ, পরিস্থিতি, এবং সামাজিক প্রভাবের ভিত্তিতে।
সিএফএ জানিয়েছে, ফুটবলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে তারা অভিযান চালিয়ে যাবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া প্রায় ৯০ জন খেলোয়াড়ের অধিকার ও সুরক্ষা খর্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদের অধিকাংশই তুলনামূলক খর্বশক্তির দলগুলোর খেলোয়াড়। পরিস্থিতি এমন হতে পারে যে, এই দলগুলোর খেলোয়াড়দের সীমাহীন সংখ্যক কনটেন্ট কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য করা হবে এমনকি লাইসেন্সিং চুক্তি নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে না—সব ক্ষমতা থাকবে সংশ্লিষ্ট জাতীয় বোর্ডের হাতে।
এই উদ্বেগের বিষয়গুলো বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) অন্তত ছয়টি সদস্য দেশের কাছে পাঠানো একটি স্মারকলিপিতে তুলে ধরেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, ২০ দল নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে আইসিসি কিছু দলের কাছে অনুমোদনহীন ‘স্কোয়াড টার্মস’ পাঠিয়েছে। ক্রিকেটভিত্তিক সাইট ক্রিকবাজের হাতে আসা ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, আইসিসির পাঠানো ‘আইসিসি ভার্সন’ স্কোয়াড টার্মস এবং ডব্লিউসিএ অনুমোদিত শর্তাবলীর মধ্যে স্পষ্ট অমিল রয়েছে। বৈশ্বিক ক্রিকেটার্স ইউনিয়নের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়াসহ একাধিক দল এই নথি পেয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘অনুমোদনহীন স্কোয়াড টার্মস ছড়িয়ে দেওয়া আইসিসি ও কিছু জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একটি প্রচেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে, যার মাধ্যমে এই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সবচেয়ে দুর্বল ও কম পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের শোষণ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ অপেশাদার খেলোয়াড়। এসব শর্তের আওতায় খেলোয়াড়দের তথ্য, নাম, ছবি ও পরিচিতি তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রায় সীমাহীনভাবে ব্যবহার ও বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রাখা হয়েছে খেলোয়াড়দের সম্মতি ছাড়াই। একমাত্র প্রতিকার হিসেবে রাখা হয়েছে আইসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া।’
এখানে ‘স্কোয়াড টার্মস’ বলতে বোঝানো হয়েছে এমন একটি আইনি চুক্তিকে, যেখানে প্রতিটি আইসিসি ইভেন্টে একজন খেলোয়াড়ের জন্য প্রযোজ্য শর্তাবলি ও নিয়মকানুন নির্ধারিত থাকে। ডব্লিউসিএর আশঙ্কা, আইসিসির বর্তমান সংস্করণে ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় থাকা সব ধরনের চেক অ্যান্ড ব্যালান্স (ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ) বাদ দেওয়া হয়েছে—যে সুরক্ষা খেলোয়াড়রা ডব্লিউসিএ অনুমোদিত বৈধ স্কোয়াড টার্মসে স্বাক্ষর করলে পেতেন।
স্কটল্যান্ড যুক্ত হওয়ায় এবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডব্লিউসিএ-সংশ্লিষ্ট দেশের সংখ্যা ১৪-তে পৌঁছেছে। তবে সংস্থাটির প্রধান দুশ্চিন্তা হলো, আইসিসির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গড়ে তোলা সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো যেন কোনোভাবেই দুর্বল না হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা জয়ে দুর্বল ও কম পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড় দলগুলোকে বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়েছে এবং তাদের অন্য দলগুলোর তুলনায় ভিন্ন শর্তে খেলতে বলা হচ্ছে। স্কোয়াড টার্মসের দুই সংস্করণের মধ্যে অসামঞ্জস্য সামগ্রিক হলেও, কিছু নির্দিষ্ট বিষয় বেশ চোখে পড়ে। যেমন, আইসিসির চেঞ্জিং রুমে রেকর্ডিং কন্টেন্টের অ্যাক্সেস। ডব্লিউসিএ অনুমোদিত চুক্তিতে, এটি শুধুমাত্র জয়ী দলের জন্য এবং অধিনায়কের অনুমোদনের সময় অনুযায়ী সীমিত। আইসিসির সংস্করণে, ম্যাচের পর সব দলের চেঞ্জিং রুমে ‘যুক্তিসঙ্গত অ্যাক্সেস’ থাকবে, এবং অনুমতি পেতে শুধু টিম ম্যানেজারের সম্মতি যথেষ্ট।
একইভাবে, মাঠের বাইরের বা ‘বিহাইন্ড দ্য সিনস’ কনটেন্টের ক্ষেত্রেও বড় পার্থক্য রয়েছে। আইসিসির মডেলে, সম্ভাব্য ইভেন্ট ডকুমেন্টারির জন্য দলের সব কার্যক্রমের কনটেন্ট আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিপরীতে, ডব্লিউসিএর সংস্করণে যেকোনো ধরনের ডকুমেন্টারির জন্য খেলোয়াড়দের সম্মতি বাধ্যতামূলক এবং যেহেতু এটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্য, তাই এর বিনিময়ে অর্থ প্রদানের কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
দুই স্কোয়াড টার্মসের আরেকটি বড় পার্থক্য হলো খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত তথ্যের মালিকানা। ডব্লিউসিএ অনুমোদিত সংস্করণে খেলোয়াড় নিজেই তার তথ্যের মালিক এবং সেটি ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই তার সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু আইসিসির সংস্করণে খেলোয়াড়ের সব তথ্য পূর্ণ মালিকানা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে, যারা জাতীয় বোর্ডের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সেই তথ্য বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে।
এছাড়া আইসিসির সংস্করণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—একবার কোনো খেলোয়াড় আইসিসির কোনো ইভেন্টে অংশ নিলে, সে চুক্তিতে সই করুক বা না করুক, তাকে স্কোয়াড টার্মসের সব শর্ত মেনে নিয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। বিপরীতে, ডব্লিউসিএর সংস্করণে প্রতিটি আইসিসি ইভেন্টের জন্য আলাদাভাবে চুক্তিতে সই করাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সবকিছু মিলিয়ে ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মফ্যাটের ভাষায়, ‘ডব্লিউসিএর সংস্করণটি তুলনামূলকভাবে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ, যেখানে খেলোয়াড়দের মতামতের গুরুত্ব বেশি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বাধীন।’

মহানাটকীয় ও ঘটনাবহুল ফাইনাল জিতে আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের (আফকন) চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ১০ দিন পর এবার বড় শাস্তি পেলেন সেনেগালের কোচ পেপ থিয়াও। একইসঙ্গে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার হিড়িক পড়েছে দুই দলেই।
আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল জানিয়েছে, মরক্কোর বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে যেতে বলা আনস্পোর্টিং আচরণের কারণে পাঁচ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ১ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে থিয়াওকে।
শুধু থিয়াও একা নন, মাঝে ১৪ মিনিট বন্ধ থাকা ফাইনালে শাস্তি পেয়েছেন আরও অনেকে। ম্যাচে দল ও দর্শকদের আচরণের কারণে সেনেগালের ফুটবল ফেডারেশনকে ৬ লাখ ১৫ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
| গোলকিপারের ‘মিরাকল’ গোল নিয়ে যা বললেন মরিনিও |
|
রেফারির সঙ্গে আনস্পোর্টিং আচরণের জন্য সেনেগালের দুই ফুটবলার ইলিমান নিদায়ে ও ইসমাইলিয়া সারকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ওই ম্যাচে সেনেগালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ফল নিজেদের পক্ষে আনার আবেদন করেছিল মরক্কো। তবে সেটি উড়িয়ে দিয়েছে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল।
উল্টো ম্যাচজুড়ে বল বয়দের আচরণ, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির কাছে গিয়ে ফুটবলার ও স্টাফদের আচরণ ও দর্শকদের লেজার ব্যবহারের কারণে মরক্কোর ফুটবলার ফেডারেশনকে ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
এর সঙ্গে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ২ ম্যাচ ও ইসমাইল সাইবারি ৩ ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন।
রাবাতে গত ১৯ জানুয়ারি মহানাটকীয় ফাইনাল ম্যাচটিতে একটি গোল বাতিল হওয়া ও মরক্কোর একটি পেনাল্টি পাওয়াকে কেন্দ্র করে নিজের খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন সেনেগালের কোচ থিয়াও। এর ফলে প্রায় ১৪ মিনিট বন্ধ ছিল খেলা।
পরে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি ব্রাহিম দিয়াজ। অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটের মধ্যে চতুর্থ মিনিটে গোল করে সেনেগালের দ্বিতীয় আফকন শিরোপা নিশ্চিত করেন পেপ গুইয়ে। ওই ম্যাচের ১০ দিন পর এলো নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানার আনুষ্ঠানিক খবর।

পাগলাটে ওই মুহূর্তে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিলেন বেনফিকার কোচ হোসে মরিনিওই। যোগ সময়ের একেবারে শেষ দিকে কিছু বুঝে উঠতে পারছিলেন না রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের নায়ক বেনফিকার গোলকিপার আনাতোলি ট্রাবিন। কোথা থেকে হাজির হয়ে হেডে বল জালে আছড়ে ফেলেই পুরো গ্যালারিকে নিয়ে মেতে উঠলেন বুনো উদযাপনে। পাগলাটে সেই মুহূর্তে কী চলছিল মরিনিওর মাথায়?
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বেনফিকার ৪-২ গোলের জয় অনেক কারণেই বিশেষ। পর্তুগিজ ক্লাবটির প্লে অফ নিশ্চিত করা এই জয় নিয়ে মরিনিও বলেন, ‘এটা সত্যি সত্যিই প্রাপ্য ছিল...রিয়াল মাদ্রিদকে হারানো বেনফিকার জন্য অবিশ্বাস্য সম্মানের বিষয়।’
রিয়ালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ও যখন যথেষ্ট ছিল না, যোগ করা সময়ের ৯৮ মিনিটে গোলকিপাররের গোলে মিলে গেল সব সমীকরণ। বেনফিকার গোল ব্যবধান হয়ে গেল মাইনাস দুই। ঠিক এতটুকুই যথেষ্ট ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় ঠেকিয়ে প্লে অফেরে টিকিট কাটা।
তবে ম্যাচ চলাকালীন নাকি গোল ব্যবধান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ মরিনিও এমন মুহূর্তের কথা স্বীকার করে বলেন, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তিনি এবং তার দল ভেবেছিলেন ৩-২ স্কোরলাইনই প্লে-অফ নিশ্চিত করবে, তবে পরে জানা গেল আরও একটি গোল প্রয়োজন। অভিজ্ঞ এই কোচের ভাষায়, ‘যখন আমি শেষ পরিবর্তনগুলো করলাম—তখন আমাকে বলা হয়েছিল স্কোরলাইন যথেষ্ট, তাই আমি ভাবলাম ম্যাচটাই এখানেই শেষ হয়ে যাক। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জানানো হলো আমাদের আরও একটি গোল দরকার, কিন্তু আমি আর বদলি নামাতে পারিনি। ভাগ্যক্রমে আমাদের ফ্রি-কিকটা হয়েছিল, যাতে আমাদের দীর্ঘদেহী খেলোয়াড় (ট্রাবিন) মাঠে উপরে উঠে আসতে পারে।’
নাটকীয় হেডারের আগে একই ধরনের বিভ্রান্তির কথা স্বীকার করেন ইউক্রেনের গোলকিপার ট্রাবিনও, ‘আমি জানতাম না আমাদের কী দরকার। তারপর দেখলাম সবাই আমাকে উপরে যেতে বলছে। কোচও উপরে যেতে বলেছিলেন, তাই আমি বক্সে গেলাম… আর আমি জানি না… বলতে পারব না। পাগলাটে মুহূর্ত। আমি জানি না কী বলব। আমি গোল করার অভ্যস্ত নই। আমি ২৪ বছর বয়সি, আর এটা প্রথমবার। অবিশ্বাস্য।’
‘স্পেশাল ওয়ান’ মরিনিওর জন্য এই জয় কতটা বিশেষ তা বেশ ক’দিন আগে তাঁর একটি মন্তব্য শুনলেই স্পষ্ট হওয়া যাবে। গত সেপ্টেম্বরে বেনফিকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্লাবটির চতুর্থ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট ছিল কেবল শূন্য। তখন পোড় খাওয়া এই কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি কি এখনও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পরের পর্বে যাওয়া নিয়ে বিশ্বাসী কি না? এই প্রতিযোগিতায় তিনবার শিরোপা জয়ী মরিনিও তখন বলেন, ‘আমি এখনও বিশ্বাস করি, আমরা টিকে আছি।’ শেষ পর্যন্ত শেষ ম্যাচের শেষ মিনিটেই দলের টিকে থাকার কারীগর হলেন মরিনিও।
প্লে অফে আবারও রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হতে পারেন মরিনিও। শেষ ষোলো নিশ্চিতের ম্যাচে নিজের আরেক সাবেক ক্লাব ইন্টার মিলানও হতে পারে তাঁর প্রতিপক্ষ। আগামীকাল সুইজারল্যান্ডের নিওনে হবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফের ড্র।