
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১১তম আসরের জন্য নতুন স্পন্সর পেল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশের ক্রিকেটের হোম সিরিজের পাশাপাশি এবার বিপিএলের প্রধান স্পন্সর হয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। সাথে পাওয়ার্ড বাই ও কো-স্পন্সর হিসেবে থাকছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকেরই দুটি গ্রাহক প্রিয় সেবা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস রকেট ও ই-ওয়ালেট নেক্সাসপে অ্যাপ।
বুধবার মিরপুরের শের-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিপিএলের আসছে আসরের লোগো উন্মোচনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিপিএলের ১১তম আসরের নাম রাখা হয়েছে ‘ডাচ-বাংলা ব্যাংক বিপিএল টি-টুয়েন্টি, পাওয়ার্ড বাই রকেট, কো-স্পন্সর নেক্সাসপে।’
আরও পড়ুন
| ফ্র্যাঞ্চাইজির সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় বিপিএলের পলিসি তৈরি করবে বিসিবি |
|
সংবাদ উপস্থিত ছিলেন বিসিবির বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব জনাব নাজমুল আবেদিন ফাহিম। আরও ছিলেন টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আবুল কাশেম মোঃ শিরিন ও বিপিএল-এর টাইটেল ও গ্রাউন্ড ব্র্যান্ডিং রাইটস হোল্ডার ইমপ্রেস-মাত্রার পক্ষ থেকে জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা জনাব আফজাল হোসেন।
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সম্পর্ক বেশ পুরোনো। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অভিষেক টেস্ট আয়োজিত হয়েছিল এই ডাচ-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতাতেই। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হোম সিরিজের টাইটেল স্পন্সরও রয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। এবারই প্রথম তারা বিপিএল আয়োজনে যুক্ত হল।
সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রতিনিধিবৃন্দ ডাচ-বাংলা ব্যাংককে বিপিএল-এ পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তারা তরুণ প্রজন্মের প্রিয় আসর বিপিএল টি২০ নতুনভাবে, অদম্য উদ্যমে জমকালো আয়োজনে নতুন বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের আগ্রহ ও পরিকল্পনায় মাননীয় ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া-সহ সরকারের আরও ৯টি মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের নিবিড় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় কিভাবে সম্পন্ন হবে তা ব্যাখা করেন। বিপিএল যেহেতু তারুণ্যের আয়োজন তাই এই আসরে জুলাই বিপ্লবে তারুণ্যের বিজয়ের ছোঁয়ায় বর্ণিল হবে পুরো টুর্নামেন্ট।
আরও পড়ুন
| বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন দল পাচ্ছে দুই কোটি টাকা |
|
উপস্থিত ডাচ-বাংলা ব্যাংকের প্রতিনিধি বিসিবি ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে তাদের সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের পাশাপাশি মজবুত ব্যাংকিং ভিত্তি নিয়ে যেমন দেশ ও মানুষের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তায় কাজ করছে তেমন দেশের ক্রিকেটের ভিত্তি মজবুত করতেও তাদের কাজ চলমান থাকবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘স্পন্সরই আয়োজনের প্রাণ’ একথা জানিয়ে ইমপ্রেস-মাত্রার পক্ষ থেকে এবারের বিপিএল-এ স্পন্সর প্রতিষ্ঠানকে আরও জমকালো উপস্থাপনে ব্র্যান্ডিংয়ে পেরিমিটার ও সাইড স্ক্রিণে স্ট্যাটিক বোর্ডের এলইডি বোর্ড স্থাপনের ঘোষণা দেন, যা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টুর্নামেন্টগুলোতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে শুরু হওয়া টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের জমকালো টুর্নামেন্ট বিপিএল-এর এবার ১১তম আসর। চলবে ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে, খেলবে ৭টি দল।
খেলাগুলি সরাসরি দেখা যাবে টিস্পোর্টস, টিস্পোর্টস অ্যাপ, গাজী টিভি ও র্যাবিটহোলবিডি অ্যাপে।
No posts available.
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৫০ পিএম
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম

২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের হারের পর সিনিয়র খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট টিম ম্যানেজমেন্ট। দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবর—নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের পরের ম্যাচে বাবর আজম ও শাহিন আফ্রিদিকে বেঞ্চে বসানো হতে পারে।
জিও নিউজের দাবি, নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তান দলে দুই থেকে তিনটি পরিবর্তন আসতে পারে। বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে নিজেদের প্রমাণ করার কথাও ভাবছে ম্যানেজমেন্ট।
কলম্বোতে আগামী বুধবার নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। ইতোমধ্যে দলটির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। পাকিস্তান দলের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আজ খেলোয়াড়রা বিশ্রামে রয়েছেন। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের সুপার এইটে পৌঁছাতে এই ম্যাচে জয় খুবই জরুরি। তবে বৃষ্টিতে ম্যাচের ফল ভেস্তে গেলেও পাকিস্তান পরের রাউন্ডে উঠতে পারবে।
ভারতের বিপক্ষে হতাশাজনক ব্যাটিং ও বোলিংয়ের পরই একাদশে পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। রবিবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে স্পিন সহায়ক উইকেটে আগে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। কিন্তু ভারতের ইশান কিশানের ঝড়ো অর্ধশতকে ভারত ৫ উইকেটে ১৭৫ রান তোলে। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় তারা।
ভারতের বিপক্ষে স্পিন আক্রমণের ওপর ভরসা করেছিল পাকিস্তান, কার্যত নে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। আবরার আহমেদ তিন ওভারে ৩৮ রান এবং শাদাব খান এক ওভারেই ১৭ রান খরচ করেন—কেউই উইকেট পাননি।
ম্যাচ শেষে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আগা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীতের বিপক্ষে দলের হারকে খারাপ দিন বলে উল্লেখ করেছেন।

টস জিতে আগে ব্যাটিং করা ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ২০২ রান। আনকোরা ইতালির জন্য এই রান অসাধ্য বটে। তবে দলটি শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। জয়ের কাছাকাছি গিয়েও তাদের গড়া হয়নি ইতিহাস। তাতেই ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপ থেকে শেষ আট নিশ্চিত করেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
ইডেন গার্ডেন্সে আজ টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ২০২ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। যা ২০২৬ কুড়ি কুড়ির আসরের ষষ্ঠ দুইশ উর্ধ্ব স্কোর। পাহাড়সম রান তাড়া করে জিততে রীতিমতো ইতিহাস গড়তে হতো ইতালিকে। তবে ভয়-ডরহীন ক্রিকেট উপহার দিয়ে হ্যারি ব্রুক বাহিনীকে রীতিমতো ভটকে দিয়েছেন গ্রান্ড স্টুয়ার্ট ও বেন মানেতিরা।
বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া ইতালির শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩১ রান। অঘটন ঘটতে পারত, প্রায়ই জেতার পথে ছিল হ্যারি মানেতিরা। শেষটা সুন্দর হয়নি তাঁদের। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭৮ রান তুলতে পারে ইতালি। তাঁদের ২৪ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড।
আগে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ডের বেশিরভাগ ব্যাটারই ছিলেন বেশ ধারাবাহিক। দলের সর্বোচ্চ রান উইল জ্যাকসের হলেও দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করেছেন ৭ ব্যাটার। জ্যাকস ২২ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন। সাতটি চার-ছক্কা মারেন তিনি।
জ্যাকস ছাড়া ফিল সল্ট ১৫ বলে ২৮, জ্যাকব বেথেল ২০ বলে ২৩, টম বেন্টন ২১ বলে ৩০, স্যাম কারান ১৯ বলে করেন ২৫ রান ।
জ্যাকসের ২১ বলে করা অর্ধশতকটি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি ২০১২ সালে পাল্লেকেলেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইয়ন মরগানের ২৫ বলের ফিফটি এবং ২০২১ সালে দুবাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জস বাটলারের ২৫ বলের ফিফটির রেকর্ড ভেঙেছেন।
রান তাড়ায় নেমে ইতালি তুলতে
পেরেছে ১৭৮ রান। মাত্র ২২ বলে ফিফটি পূরণের পর ২৫ বলে ৬০ রান করে থামেন বেন মানেতি।
গ্রান্ট স্টুয়ার্টের ব্যাট থেকে আসে ২৩ বলে ৪৫ রান। আর ৩৪ বলে ৪৩ রান করেন জাস্টিন
মোস্কা। এছাড়া হ্যারি মানেতি ও জাস্প্রিত সিং ১২ রান করে করেন। ইতালির ইনিংস থামে ১৭৮
রানে।
ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ
তিনটি করে উইকেট নেন জেমি ওভারটন ও স্যাম কারান। জোফরা আর্চার নেন দুটি উইকেট। আর একটি
করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন দুজন বোলার।

ভারতের বিপক্ষে এখন আর সেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারে না পাকিস্তান। সে চিত্র মাঠের খেলায় গতকাল আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে সালমান আলী আগাদের অসহায় আত্মসমর্পণের পর তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেকরা।
সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফের মতে, বর্তমানে পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে এবং দলকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে প্রশাসন ও দলে থাকা অযোগ্য ব্যক্তিদের সরাতে হবে।
কলম্বোতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভারতের কাছে ৬১ রানে হেরেছে পাকিস্তান। ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অলআউট হয় ১১৪ রানে। এই হারের ফলে সুপার এইটে যেতে হলে তাদের পরের ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে জিততেই হবে।
আরও পড়ুন
| ওমরজাইয়ের নৈপুণ্যে টিকে রইল আফগানিস্তান, সুপার এইটে দ. আফ্রিকা |
|
আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউসুফ লিখেছেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট থেকে রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত এজেন্ডা দূর না করলে আমরা আগের অবস্থায় ফিরতে পারব না। এটা আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্ধকারতম সময়, আর এটা ভেবে আমার হৃদয় রক্তক্ষরণ করছে। অযোগ্য ব্যক্তিদের প্রশাসন ও দল—দুই জায়গা থেকেই সরাতে হবে।’
এর আগেও ইউসুফ বর্তমান পাকিস্তান দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন। ইউসুফ বলেন, টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও শাদাব খানের সময় শেষ, এখন নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর ভাষায়, ‘শাহীন, বাবর ও শাদাবের সময় শেষ। পাকিস্তানের টি–টোয়েন্টি দলে এখন নতুন পারফর্মার দরকার, দুর্বল দলের বিপক্ষে ফাঁপা জয়ে নয়।’
২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রায় তিন মাস পাকিস্তান দলের ব্যাটিং কোচ ছিলেন ইউসুফ, পরে তিনি পদত্যাগ করেন। বিশ্বকাপে টিকে থাকতে পাকিস্তানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নামিবিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়া। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দল নির্বাচন, কৌশল ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও বাড়ছে প্রশ্ন। ইউসুফের মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। এখন দেখার বিষয়, তাঁর বক্তব্য কোনো কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা ঘটায়, নাকি তা কেবল আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

শেষ ওভারে দলকার ছিল ১২ রান। ২০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে স্ট্রাইক পেলেন ফারজানা ইয়াসমিন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে চার ও ছক্কা মেরে সমীকরণ নামিয়ে আনলেন ২ বলে ১। তারপর সিঙ্গেল নিয়েই বাংলাদেশকে রোমাঞ্চকর এক জয় এনে দিলেন ডানহাতি ব্যাটার।
রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে তিন উইকেটে জিতল বাংলাদেশ নারী ‘এ’ দল। প্রায় হারতে বসা ম্যাচে ১৫ বলে ২৩ করে জয়ের নায়ক ফারজানা। প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর থাইল্যান্ডকে হারিয়ে সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করল বাংলাদেশের মেয়েরা।
ব্যাংককে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশ থাইল্যান্ডকে আটকে দেয় ১০৯ রানে। জবাবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়লেও শেষ পর্যন্ত এক বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে গ্রুপ ‘বি’ তে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। সমান ম্যাচে একটি জয় নিয়ে দুই নম্বরে শ্রীলঙ্কা। সমান দুই পয়েন্ট নিয়ে নেট রান রেটে পিছিয়ে থেকে তিন নম্বরে টুর্নামেন্টের আয়োজক থাইল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ মালেশিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচে হারলেও শেষ চার নিশ্চিতই ফাহিমা খাতুনের দলের। অন্যদিকে শ্রীলঙ্ক-থাইল্যান্ডের শেষ ম্যাচটিতে জয়ী দল সেমির টিকিট কাটবে।
আরও পড়ুন
| ওমরজাইয়ের নৈপুণ্যে টিকে রইল আফগানিস্তান, সুপার এইটে দ. আফ্রিকা |
|
রান তাড়ায় এক ১১ রানেই প্রথম তিন উইকেটে খোঁয়ায় বাংলাদেশ। এরপর লতা মন্ডলকে নিয়ে ব্যাটিং ধস ঠেকান ওপেনার শামীমা সুলতানা। ২৯ বলে ২৬ করা শামীমা ফিরলে ভাঙে ৪৩ রানের জুটি। দলীয় ৭৩ রানে আউট হন অধিনায়ক ফাহিমা।
শেষ চার ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৭। এরমধ্যে থিতু হয়ে যাওয়া লতা ৪০ বলে ৩০ করে আউট হলে হঠাৎ হারের শঙ্কা জাগে। শেষ দুই ওভারে লাগতো ২০ রান। ১৯তম ওভারে ৮ রান নেওয়ার পর ফান্নিতিয়া মায়ার শেষ ওভারে সব শঙ্কা উড়িয়ে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে ফারজানা।
এর আগে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা থাইল্যান্ড প্রথম উইকেট হারায় ১৬ রানে। তারপর দ্বিতীয় উইকেট নাথাকান চান্তাম ২৭ রানের জুটি গড়ে। তাদের ইনিংসে সবচেয়ে বড় জুটিই ছিল এটি। ৩৪ বলে ২৪ করা চান্তামকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ফাহিমা। তারপর এক পর্যায়ে ৬৮ রানে পাঁচ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১০৩ রানে থামে থাইল্যান্ড। ৩৮ বলে ৩৪ করে তাদের ইনিংসের সেরা ব্যাটার নান্নাপাত কনচারোয়েনকাই।
বল হাতে দুটি করে উইকেট নেন শরীফা খাতুন ও ফাহিমা খাতুন। এছাড়া ফারিহা তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা ও জান্নাতুল ফেরদৌস নেন একটি।

প্রথমে
বল হাতে জাদু দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখলেন হাতের নাগালে। চাপের মুখে ব্যাট হাতেও
তুললেন ঝড়। সব মিলিয়ে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে একাই আফগানিস্তানকে জেতালেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
ফলে আশা বেঁচে রইল দলের। আর সুপার এইট নিশ্চিত হয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকার।
দিল্লির
অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে সোমবারের প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৫ উইকেটে হারায়
আফগানিস্তান। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৬০ রানের পুঁজি পায় আমিরাত। জবাবে ৪ বল বাকি
থাকতে ম্যাচ জেতে আফগানরা।
টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপে তৃতীয় ম্যাচে এসে আফগানিস্তানের এটি প্রথম জয়। অনেক যদি-কিন্তুর ওপর এখনও
টিকে আছে 'ডি' গ্রুপ থেকে তাদের সুপার এইট খেলার সম্ভাবনা। আর তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট
নিয়ে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর সেরা আট নিশ্চিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার।
আরও পড়ুন
| ৪ বছর পর বিশ্বকাপে স্মিথ |
|
বোলিংয়ে
চমৎকার প্রদর্শনীতে মাত্র ১৫ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে ২১ বলে ৪০ রানের দুর্দান্ত
ইনিংস খেলেন ওমরজাই। অনুমিতভাবেই তার হাতে ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
টস
হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দুই ওভারে দুই ওপেনারকে হারায় আমিরাত। তৃতীয় উইকেটে ৮৪
রানের জুটি গড়েন আলিশান শারাফু ও সোহাইব খান। শারাফু ৩১ বলে ৪০ ও সোহাইবের ব্যাট থেকে
আসে ৪৮ বলে ৬৮ রান।
শেষ
দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ফেলায় বড় পুঁজির আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ১৬০ রানের বেশি করতে
পারেনি আমিরাত।
মোহাম্মদ
আফরানকে হিট উইকেটে পরিণত করে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেট
পূর্ণ করেন রশিদ খান।
রান
তাড়ায় আফগানিস্তানের শুরুটাও তেমন ভাল ছিল না। একপ্রান্ত ধরে রেখে ৪১ বলে ৫৩ রানের
ইনিংস খেলেন ইব্রাহিম জাদরান। এছাড়া গুলবদিন নাইব ও সেদিকউল্লাহ অতল খেলেন ছোট ছোট
ইনিংস।
পরে
কঠিন হয়ে আসা সমীকরণে দারউইশ রসুলি করেন ২৩ বলে ৩৩ রান। আর ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংসে
জয় নিশ্চিত করেন ওমরজাই।