
বিপিএলের ১২তম সংস্করণের এলিমিনেটর ম্যাচে কয়েনভাগ্য পাশে পেলেন না লিটন কুমার দাস। বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে টস জিতে রংপুর রাইডার্সকে আগে ব্যাটিং করতে পাঠালেন সিলেট টাইটান্স অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
এই ম্যাচ হারলে চতুর্থ হয়ে বিদায় নিতে হবে টুর্নামেন্ট থেকে। আর জিতলে অপেক্ষা করতে হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচের। প্রথম কোয়ালিফায়ারে লড়বে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস। ওই ম্যাচের পরাজিত দলের সঙ্গে খেলতে হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার।
ম্যাচের একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে রংপুর। বাদ পড়েছেন ইফতেখার হোসেন ইফতি ও আকিফ জাভেদ। তাদের জায়গায় দলে ফিরেছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও কাইল মেয়ার্স।
আর সিলেটের একাদশে পরিবর্তন মোট ৪টি। বাদ পড়ে গেছেন মুমিনুল হক, রুয়েল মিয়া, শহিদুল ইসলাম ও ইথান ব্রুকস। প্রথমবার বিপিএল খেলতে নামছেন ক্রিস ওকস ও স্যাম বিলিংস। আর একাদশে ফিরেছেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও আরিফুল ইসলাম।
রংপুর রাইডার্স একাদশ
দাভিদ মালান, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), খুশদিল শাহ, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, কাইল মেয়ার্স, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), ফাহিম আশরাফ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, আলিস আল ইসলাম
সিলেট টাইটান্স একাদশ
মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন (উইকেটরক্ষক), তৌফিক খান তুষার, স্যাম বিলিংস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, আরিফুল ইসলাম, মইন আলি, ক্রিস ওকস, নাসুম আহমেদ, সালমান ইরশাদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ
No posts available.
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২:৩৬ পিএম

ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া নিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা আবারও শক্তভাবে জানালেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। জোর দিয়েই তিনি বললেন, আইসিসির কোনো অযৌক্তিক শর্ত মানবে না বাংলাদেশ।
চলতি মাসের শুরুতে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিসিআই। এর জের ধরে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাঠে সামনের মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ।
এরপর গত সপ্তাহে নানান ঘটনাপ্রবাহে এখনও অনিশ্চিত লিটন কুমার দাস, মোস্তাফিজদের বিশ্বকাপ খেলার টিকেট। ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ জানুয়ারি, বুধবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে আইসিসি।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের গ্রুপ বদলে দেওয়ার জন্য বিসিবি যে আবেদন করেছিল, সেটিও নাকি নাকচ করে দিয়েছে আইসিসি। এছাড়া বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলতে রাজি না হয়, তাহলে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হবে।
এই বিষয়ে আইসিসি বা বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এর মাঝেই মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আসিফ নজরুল আবারও নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে জানান দেন।
“আমার জানা মতে এমন কিছু শুনি নাই যে, আমাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেবে! আমাদের মূল কথা হচ্ছে, যদি আইসিসি ভারতীয় বোর্ডের কাছে মাথানত করে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, অযৌক্তিক কোনো কিছু ছাপিয়ে দেয়- আমরা সেই অযৌক্তিক শর্ত মানব না।”
“এর আগে এমন উদাহরণ আছে, পাকিস্তানে ভারত খেলতে যাবে না বলেছে, আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করেছে। আমরা অত্যন্ত যৌক্তিক কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের কথা বলেছি, আমাদেরকে অযৌক্তিক চাপ প্রয়োগ করে আমাদেরকে ভারতে খেলাতে বাধ্য করা যাবে না।”

বিগ ব্যাশ নকআউটে আগামীকাল মাঠে নামছে হোবার্ট হারিকেনস। বাঁচা-মরা এই লড়াইয়ের আগে ছিটকে গেছেন দলটির অধিনায়ক নাথান এলিস।
ব্রিসবেন হিটের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পড়েছিলেন এলিস। তাঁর চোটের ধরন সম্পর্কে জানা যায়নি। টুর্নামেন্টের বাকি অংশে এই পেসার খেলতে পারবেন কি না, তা জানা যাবে কয়েকদিনের মধ্যেই।
বিগ ব্যাশে হোবার্টের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এলিস। ১৪ ম্যাচে নিয়েছেন ১৪ উইকেট, গড় ২১.২৮ এবং ইকোনমি রেট ৯.০৩।
অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বোলিং আক্রমণেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এলিস। ২৯ জানুয়াররি থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। এই সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এলিসকে।
কালকের ম্যাচে লেগস্পিনার রেহান আহমেদকেও পাচ্ছে না হোবার্ট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে ইংল্যান্ড দলে যোগ দিতে দল ছেড়েছেন। বক্সিং ডেতে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ার পর থেকে টিম ডেভিডও দলের বাইরে।
মেলবোর্ন স্টার্সের বিপক্ষে প্লে অফের নকআউট ম্যাচটি কাল শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটায়।

অনিয়মিত উইকেটরক্ষক হলেও চলতি বিপিএলের শুরু থেকেই উইকেটের পেছনে চমৎকার পারফর্ম করছেন পারভেজ হোসেন ইমন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এলিমিনেটর ম্যাচে তিনি গড়লেন এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার দুপুরের ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে গ্লাভস হাতে ৪টি ক্যাচ নিয়েছেন ইমন। বিপিএল ইতিহাসে উইকেটরক্ষকদের মধ্যে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড এটি।
এর আগে ২০১৫ সালে রনি তালুকদার, ২০২৪ সালে মুশফিকুর রহিম ও ২০২৫ সালে আকবর আলি এক ম্যাচে নিয়েছিলেন ৪টি ক্যাচ। এবার তাদের পাশে বসলেন ইমন।
দ্বিতীয় ওভারে সৈয়দ খালেদ আহমেদের বলে তাওহিদ হৃদয়ের ক্যাচ নিয়ে শুরু হয় ইমনের রেকর্ড গড়ার যাত্রা। পরের ওভারে ক্রিস ওকসের বলে দাভিদ মালানের ক্যাচ নেন তিনি। চতুর্থ ওভারে আবার খালেদের বলে ধরেন লিটন কুমার দাস।
পরে দ্বাদশ ওভারে নাসুম আহমেদের বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের চমৎকার ক্যাচ নিয়ে রেকর্ড স্পর্শ করেন ইমন।
সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে উইকেটরক্ষকদের মধ্যে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড উপুল ফার্নান্দোর। ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার টোয়েন্টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে লঙ্কান ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ৭টি ক্যাচ নিয়েছিলেন উপুল।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে পরপর দ্বিতীয় ম্যাচে সহজ জয় পেল বাংলাদেশ নারী দল। নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ব বিদ্যালয় মাঠে পাপুয়া নিউ গিনিকে ৩০ রানে হারাল নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন দল।
মঙ্গলবার সকালের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৬৮ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ১৩৮ রানের বেশি করতে পারেনি পিএনজি।
ব্যাটে-বলে বাংলাদেশের জয়ের কারিগর স্বর্ণা আক্তার। প্রথম ব্যাট হাতে রেকর্ড ৪টি ছক্কায় ১৪ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন তরুণ অলরাউন্ডার। পরে বোলিংয়েও ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন তিনি।
দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে এখন 'এ' গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বাংলাদেশ।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ঝড় তোলেন দিলারা আক্তার দোলা ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা। দুই ওপেনার মিলে ৩০ বলে যোগ করেন ৪৯ রান। দিলারা ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৯ বলে ৩৫ ও জুয়াইরিয়া ২ চার ও ১ ছক্কায় ১১ বলে করেন ১৭ রান।
আরও পড়ুন
| বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ব্যাটিংয়ে রংপুর |
|
তিন নম্বরে নেমে মন্থর ব্যাটিং করেন শারমিন আক্তার সুপ্তা। ২৮ রান করতে ৩৪ বল খেলে ফেলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। আগের ম্যাচের মতো এবারও ব্যর্থ হয়ে মাত্র ৬ রান করে আউট হন জ্যোতি।
পরে পঞ্চম উইকেট জুটিতে পাল্টা আক্রমণ করেন স্বর্ণা ও সোবহানা মোস্তারি। দুজনের জুটিতে মাত্র ৩২ বলে আসে ৬২ রান। ২টি করে চার-ছক্কায় ২৪ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত ইনিংস খেলেন সোবহানা। স্বর্ণার ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ৩৭ রান।
পরে রান তাড়ায় পিএনজি তেমন লড়াই করতে পারেনি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক ব্রেন্ডা টাউ। এছাড়া সিবোনা জিমির ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান।
বাংলাদেশের পক্ষে ১টি করে উইকেট নেন সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, সোবহানা মোস্তারি ও স্বর্ণা।
একই মাঠে বৃহস্পতিবার নামিবিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে লড়বে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৬৮/৫ (দিলারা ৩৫, জুয়াইরিয়া ১৭, শারমিন ২৮, জ্যোতি ৬, সোবহানা ৩৪*, স্বর্ণা ৩৭, রিতু ৫*; মাইরি ৪-০-৩৭-১, থমাস ৪-০-৪৪-১, সিয়াকা ১-০-৭-০, জিমি ১-০-১৩-০, ইসাবেল ৪-০-১৮-০, হানে ৩-০-২১-০, দিকা ৩-০-২৫-০)
পাপুয়া নিউ গিনি: ২০ ওভারে ১৩৮/৯ (ডরিগা ২১, কোনিও ১২, ব্রেন্ডা ৩৫, জিমি ২৮, সিয়াকা ৮, নাওনি ১৫, থমাস ৮, ইসাবেল ০, হানে ০, লোহিয়া ১*, মাইরি ৪*; মেঘলা ৪-০-২৮-১, রাবেয়া ৪-০-২৬-১, সুলতানা ৪-০-২৬-০, রিতু ৪-০-২৬-১, ফাহিমা ৩-০-১৩-১, সোবহানা ১-০-১২-১, স্বর্ণা ১-০-৬-১)
ফল: বাংলাদেশ ৩০ রানে জয়ী

৮৪, ১৩১* ও ১৩৭। ওয়াডেতে ড্যারি মিচেলের সবশেষ তিন ইনিংস। ভারতের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ জয়ের নায়ক এভাবে ব্যাট হাতে রাজত্ব করেন। ভারতের মাটিতে কিউইদের প্রথমবার ৫০ ওভারের সিরিজ জয়ে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৫২ রান, হন সিরিজসেরা। ওয়ানডে ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা বিরাট কোহলি থেকে মাত্র এক পয়েন্ট দূরে আছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে থেকে ভারত জয় করা এই মিচেল একসময় ভারতেই পথ হারিয়েছিলেন। পথ খুঁজে পেতে তাঁর লেগেছিল কঠিন ছয়টি বছর। উপমহাদেশে স্পিনারদের সামনে খাবি খাওয়া মিচেল কোন মন্ত্রে বদলে গেলেন?
২০১৩ সাল। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম মৌসুমে ভালো করার পর নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কা সফর সুযোগ পান ড্যারিল মিচেল। সেখান থেকেই শুরু হয় দুঃস্বপ্ন ডানহাতি ব্যাটারের। স্পিনে ধারাবাহিকভাবে পরাস্ত হতে থাকেন। ভারতের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজে যিনি কুলদীপ যাদবকে মাঠের চারদিকে অনায়েসে খেলছিলেন, সেই ব্যাটসম্যানই তখন স্পিনের সামনে রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। তারপর নিউজিল্যান্ডের মূল দলে জায়গা করে নিতে তাঁর লেগে যায় দীর্ঘ ছয় বছর। একসময় যে ভারত তাঁকে আটকে দিয়েছিল, আর আজ সেই ভারতেই বিজয়গাঁথা লিখছেন। ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটারের ইস্পাত কঠিন মানসিকতায় মুগ্ধ খোদ ভারতই।
বর্তমান ক্রিকেটে এমন ব্যাটার খুব কমই আছেন, যারা ড্যারিল মিচেলের মতো ‘ভি’ অঞ্চলে—সোজা মাঠের মাঝখান দিয়ে—এত ধারাবাহিকভাবে শট খেলতে পারেন, সেটা স্পিন হোক বা পেস। যেখানে একটা সময় বলের দিকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝাঁপিয়ে পড়তেন, আগেভাগেই স্পিনারদের আন্দাজ করার চেষ্টা করতেন—আর তাতেই বারবার ধরাও পড়তেন।
আরও পড়ুন
| ২৬৪ স্ট্রাইক রেটে স্বর্ণার ছক্কার রেকর্ড |
|
ইউটিউব চ্যানেল ক্রিকেট মেন্টরিং-এ একবার মিচেল বলেনছিলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে বড় হওয়া, এরপর পার্থে (অস্ট্রেলিয়া) খেলা—এই দুই জায়গায় এমন কন্ডিশনের মুখোমুখি আমি কখনো হইনি। ওই সফর আমার চোখ খুলে দিয়েছিল। বুঝেছিলাম, আলাদা পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে; সব জায়গায় একভাবে খেললে চলবে না। আমি খুব একগুঁয়ে ছিলাম। ভাবতাম—এই আমার টেকনিক, এভাবেই আমি খেলি, এটাই আমি।’
মিচেল আরও যোগ করেন, ‘ভালো স্পিন বোলারের সামনে যদি আপনি ক্রিজে স্থির থাকেন এবং পায়ের ব্যবহার না জানেন, তাহলে আপনি শেষ। এটা বুঝতে আমার কয়েক বছর লেগে গেছে।’
বাবার কাছ থেকেই হয়তো এমন একগুঁয়েমি স্বভাব পেয়েছেন মিচেল। বাবা ছিলেন অল ব্ল্যাকসের রাগবি খেলোয়াড় এবং ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের একজন জনপ্রিয় কোচ। বাবার কোচিং ক্যারিয়ারের কিছুটা খারাপ সময়ই ছেলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
২০০০ সাল। মিচেলর বাবা তখন সিক্স নেশনস লিগে জয়ী ইংল্যান্ড দলের কোচিং টিমের অংশ ছিলেন, কিন্তু তিনি যে পদটির আশা করেছিলেন—হেড কোচ—সেটি পাননি, তখন তিনি নিউজিল্যান্ডে ফিরে আসেন। নতুন স্কুলে তখন ৯ বছরের মিচেল ক্রিকেট কোচকে মুগ্ধ করেছিলেন।
সংক্ষেপে, বাবার কঠোরতা ও ব্যাটসম্যান তৈরি করার ধৈর্যই ড্যারিল মিচেলের খেলোয়াড়ি মানসিকতার বীজ বোনা।
মিচেলকে গড়তে শুরু হলো বাবার কর্মযজ্ঞ। বাড়ির পেছনের লনে একটি ক্রিকেট নেট বসানো হলো, এবং নিয়মগুলো ঠিক করা হলো। নেটের স্লিপে ক্যাচ হলে আউট। অন-সাইড বাউন্ডারির জন্য বল অবশ্যই হিপের নিচে হিট করতে হবে, পুরো বাড়ি মারলে চলবে না।
ছেলেকে একটি লক্ষ্য দিলেন, ১২ বলে ১৫ রান করা। ‘ছয়টি ফাস্ট, ছয়টি স্লো বল। কল্পনা করতে পারো, ব্যাটগুলো লাউঞ্জে উড়ছে!’, সিনিয়র মিচেল হাসতে হাসতে বললেন।
মিচেলর বাবার ভাষায়, ‘আমি শুধু তাকে নিজেই আবিষ্কার করতে দিয়েছি। যেখানে পারতাম উপস্থিত থেকেছি। সম্প্রতি মারা যাওয়া তার দাদাও থাকতেন। আমি মাঝে মাঝে চলে গিয়ে দেখতাম—ভাল দিন হোক বা খারাপ দিন। তাকে নিজের পথ খুঁজে নিতে হতো। সে তার কৌশল আয়ত্ত করতে শিখেছে। ফিজিওলজি-তে তাঁর একটি এক্সারসাইজ ডিগ্রি আছে—মানসিক প্রস্তুতির দিকে সে বেশ মনোযোগি।’
এককথায় মিচেলের বাবা শুধু তাকে শেখাননি বরং নিজে খুঁজে বের করার সুযোগও দিয়েছেন—ড্যারিল মিচেলের স্বতঃসিদ্ধ এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার গল্পের কেন্দ্রবিন্দু।
ড্যারিল মিচেলের দ্বিতীয় বড় উত্থান ঘটল তখন, যখন নিউজিল্যান্ড রাগবি দল বাবাকে কোচ হিসেবে ছেড়ে দেয় সেমিফাইনাল থেকে ব্যর্থ হওয়ার পর। খুব শিগগিরই তিনি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থে একটি রাগবি দলের কোচের চাকরি নিলেন। তখন ১২ বছরের মিচেল পুরোনো মাঠ আর ঘাস ছেড়ে যেতে মোটেও রাজি ছিল না। কিন্তু নতুন স্কুলের ক্রিকেট মাঠ একবার দেখার পর—সে উত্তেজিত হয়ে উঠল।
আরও পড়ুন
| উইজডেনের বর্ষসেরা টি–টোয়েন্টি একাদশে মোস্তাফিজ |
|
সেখানে মিচেলের বন্ধুত্ব হয়ে গেল মার্কাস স্টোইনিস ও মার্কাস হ্যারিসের সঙ্গে, যারা পরে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন। পাশাপাশি প্রায়ই দেখা হতো জাস্টিন ল্যাঙ্গার ও তার কোচ নডি হোল্ডারের সঙ্গে, যারা মিচেলের ব্যাটিংয়ের মূল নীতি ঠিকমতো বোঝাতেন।
সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল, যতক্ষণ না ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের ভারত সফরে হোঁচট খেলেন। মিচেল বলেন, ‘সব দল আমার বিপক্ষে শুধু স্পিনারদের কাজে লাগাতে শুরু করল।’ তখন ধীরে ধীরে মিচেল নিজের পথ খুঁজতে শুরু করলেন—স্পিন বোলে কীভাবে আগেভাগে আন্দাজ করা থেকে বেরোনো যায়, পা কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, বলকে কিভাবে জায়গা দিতে হয় যাতে সিঙ্গল সহজ হয়, এবং শেষ পর্যন্ত কিভাবে স্পিনারদের বিরুদ্ধে শট খেলার উপায়।
২০১৮-১৯ মৌসুম নিউজিল্যান্ডের হয়ে টেস্ট দলে অভিষেক হয় মিচেলের। আর ২০২১ এ ওয়ানডেতে।ক্যারিয়ারে বহু চড়াই উৎরাই পা করে মিচেল শেষ পর্যন্ত বিশ্বসেরা ব্যাটার হিসেবে প্রমাণ করেছেন। ওয়ানডেতে তাঁর গড় এখন ৫৮.৪৭। এ সংস্করণে ৫৪ ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ২৬৯০ রান। সেঞুরি নয়টি, ফিফটি ১২। এরমধ্যে প্রায় ৭০ গড়ে ১২৫৯ রান এসেছে স্পিনারদের বিপক্ষে। ৪৯ ইনিংসে স্পিনারদের নিজের উইকেট দিয়েছেন মাত্র ১৮বার।
এভাবেই নিজের দূর্বলতাকে শক্তিমত্তার জায়গায় পরিণত করেছেন ড্যারিল মিচেল। নিজেকে ভেঙে আবার গড়ে সেরাদের কাতারে নিয়ে গেছেন, আর ক্রিকেটকে উপহার দিয়েছেন ঘুরে দাড়ানোর দারুণ এক অনুপ্রেরণার গল্প।