১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১:১২ এম

ফিফা ও ব্যালন ডি'অর খেতাব আলাদাভাবে দেওয়ার পর থেকেই কোনটি সেরা, তা নিয়ে চলছে বিতর্ক। আয়োজক থেকে শুরু করে ভোটাভুটি পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায় এর বিজয়ীও তাই হয়ে যায় আলাদা। এই বছর যেমন ছেলেদের ব্যালন ডি'অর রদ্রি জিতলেও দ্য বেস্ট হয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দাবি, সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য খেতাবটাই জিতেছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিল তারকা।
ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি’অর খেতাবের ক্ষেত্রে প্রায়ই প্রশ্নের মুখে পড়েছে এটির প্রশ্নবিদ্ধ ভোটিং পদ্ধতি। এবারই যেমন, একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফেভারিট থাকলেও নাটকীয়ভাবে রদ্রির কাছে হেরে বসেন ভিনিসিয়ুস। তবে ফিফার বর্ষসেরার লড়াইয়ে ঠিকই সেরা হয়েছে ভিনি। ফিফার দ্য বেস্ট হওয়াটা অনেক দিক থেকেই কঠিন বলেই এখানে জেতার জন্য ফুটবলারদের মাঠের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও রাখতে হয়ে ইতিবাচক ছাপ।
আরও পড়ুন
| সময় হয়েছে বলার, আমিই বিশ্বসেরা : ভিনিসিয়ুস |
|
আর এই কারণেই মঙ্গলবার রাতে ভিনিসিয়ুসের হাতে ফিফা দ্য বেস্ট খেতাব তুলে দিয়ে ইনফান্তিনো দাবি করলেন, এটাই শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত মূল্যায়ন। “এটাই সেরাদের সেরা। আমরা জানতে চাই ফুটবলের মাঠে কারা জিতেছে এবং সেখান থেকে কারা অফিসিয়ালভাবে সেরা, তা খুঁজে বের করতে চাই।”
ফিফার এই পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে মাঠের পারফরম্যান্সসের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরের নানা কার্যকলাপকেও বিবেচনায় রাখা হয় সেরার নির্বাচনে। চূড়ান্ত পুরস্কার প্রদানের জন্য ফিফার বিচারকেরা সংক্ষিপ্ত মনোনয়ন পাওয়া খেলোয়াড়দের তালিকা তৈরি করেন। এরপর ফিফার অধীনে থাকা দেশগুলোর জাতীয় দলের অধিনায়ক, কোচ ও সাংবাদিকরা তাদের ভোট দেন। এছাড়া ভক্তরাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পান ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। একজন ভোটারক তিনজন করে সেরা খেলোয়াড় বাছাই করেন। এসব ভোটাভুটির পয়েন্টের ভিত্তিতে করে নির্ধারণ করা হয় বিজয়ীর নাম।
আরও পড়ুন
| ‘ফিফা দ্য বেস্টই সবার সেরা, কারণ এখানে নিরপেক্ষতা থাকে’ |
|
ফিফা সভাপতি তাই এগিয়ে রাখলেন তাদের পুরস্কারকেই। “সবদিক থেকেই এটাই সেরা। কারণ, এখানে আমাদের ভোটের অনেক বিভাগ রয়েছে। আপনি যদি বিশ্বের সেরা কে, তা জানতে চান, তাহলে এটা কেবল ফিফার বিচারেই হওয়া উচিত। কারণ এখানে সবাই ভোট দেয়, এটা স্বচ্ছ, এটা নিরপেক্ষ।”
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সাল থেকে শুরু হয় ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কারের অনুষ্ঠান। তবে মাঝে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফিফা ও ফ্রান্স ফুটবলের ব্যালন ডি’অরের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে একীভূত করে। ২০১৬ সাল থেকে আবার দুটি অনুষ্ঠান হচ্ছে আলাদাভাবেই।
এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি ফিফার দ্য বেস্টে হয়েছেন রানার্সআপ। আর ফিফার দ্য বেষ্ট জেতা ভিনিসিয়ুস হয়েছিলেন ব্যালন ডি’অরের রানার্সআপ।
No posts available.
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৩:০৮ এম

সৌদি প্রো লিগে শিরোপা জয়ের আরও কাছে আল নাসর। বুধবার রাতে আল আহলিকে হারানোর ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছেন অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
ঘরের মাঠে আল নাসরের জয় ২-০ গোলের। এই জয়ের মাধ্যমে ক্লাব ইতিহাসে টানা ২০ ম্যাচ জয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে রিয়াদভিত্তিক ক্লাবটি।
ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত আল আহলির রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে স্বাগতিকদের। অবশেষে জোয়াও ফেলিক্সের নিখুঁত কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে ডেডলক ভাঙেন রোনালদো। চলতি লিগ মৌসুমে এটি পর্তুগিজ তারকার ২৫তম গোল।
আরও পড়ুন
| সালাহকে নিয়ে সম্ভাবনার খবর লিভারপুলের |
|
এই গোলের মাধ্যমে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো টানা তিন লিগ মৌসুমে ২৫ বা তার বেশি গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন রোনালদো। এর আগে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত টানা ৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন রোনালদো।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা এখন ৯৭০, যার মধ্যে আল নাসরের হয়ে করেছেন ১২৬টি। চলতি সৌদি প্রো লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে ইভান টোনির চেয়ে ২ গোল পিছিয়ে রোনালদো।
ম্যাচের ৯০ মিনিটে কিংসলে কোমান আল আহলির কফিনে শেষ পেরেকটি মারেন। আল আহলি ডিফেন্ডাররা কর্নার ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে জোরালো শটে গোল করে ২-০ ব্যবধানে দলের জয় নিশ্চিত হয় নাসরের।
এই জয়ের পর ৩০ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল আল নাসর। এক ম্যাচ কম খেলে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আল হিলাল। ২৯ ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে আছে আল আহলি।
.jpeg)
আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, একক নৈপুণ্য; সবই ছিল ম্যাচে। তবে গোলপোস্ট ছিল যেন এক তালাবদ্ধ কপাট। দুই পেনাল্টি থেকে গোল ছাড়া একাধিক চেষ্টাতেও খোলেনি। তাতেই ১-১ গোলের ড্রতে শেষ হলো চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনালের ফার্স্ট লেগ। আগামী মঙ্গলবার লন্ডনে ফিরতি লেগে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের মিশনে নামবে দু’দল।
বুধবার এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোতে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া হাইভোল্টেজ ম্যাচে দুই অর্ধে দুটি গোল হয়েছে। আর্সেনানালের হয়ে প্রথমার্ধে গোল করেন ভিক্টর ইয়োকেরেস, দ্বিতীয়ার্ধে হুলিয়ান আলভারেজের দৃষ্টিনন্দন পেনাল্টিতে সমতায় ফেরে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
ম্যাচ ঘড়ির সাড়ে পাঁচ মিনেট পর প্রথমবার গোছানো আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের বাইরে ওয়ান টু পাসে মেতে ওঠে গানাররা। এরপর ডান প্রান্ত থেকে মাদুয়েকের হাওয়ায় ভাসানো শট থেকে উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যর্থ হন জুবিমেন্দি ও ওডেগার্ড। লাফিয়ে ওঠে দুজনেই চেষ্টা করেছিলেন জালে লক্ষ্যভেদ করতে। অবশ্য তা হেলায় নষ্ট হয়।
১৩তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের বুলেট গতির শট রুখে দেন ডেভিড রায়া। ডি বক্সের সামান্য দূর থেকে নেওয়া আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে বিপদমুক্ত করেন আর্সেনাল গোলকিপার। অথচ গ্যাব্রিয়েল ও রাইস কড়া পাহারায় রেখেছিলেন আলভারেজকে। তবে তার ক্ষিপ্রতার কাছে হার মানেন তারা।
পরের মিনিটে প্রতি আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে আক্রমণে ছুটে আসা ওডেগার্ডের দিকে দারুণ এক বল বাড়ান ভিক্টর ইয়োকেরেস। কিন্তু আর্সেনাল অধিনায়ক বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে দু-তিনটি বাড়তি টাচ নিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগে দ্রুত পজিশন নিয়ে ওডেগার্ডের শট ব্লক করে দেন আতলেতিকো ডিফেন্ডাররা। ওডেগার্ড যদি বলটি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রথম প্রচেষ্টায় শট নিতেন, হয়তো গোলটি পেয়ে যেতে পারত গানাররা।
৩০তম মিনিটে একটু জন্য লিড নেওয়া হলো না আর্সেনালের! মাঝমাঠে লুকম্যানের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন রাইস। এরপর ওডেগার্ডের বুদ্ধিদীপ্ত এক টাচে বল পেয়ে যান মাদুয়েকে। ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত গতিতে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন এই উইঙ্গার। বক্সের প্রান্ত থেকে তার নেওয়া বাঁকানো শটটি ওবলাককে পরাস্ত করলেও দূরের পোস্ট ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে যায়। একটুর জন্য লিড নেওয়া হলো না গানারদের।
৪৪তম মিনিটে ইয়োকেরেস গোলে লিড আদায় করে আর্সেনাল। আলভারেজের একটি দুর্বল হেডার সরাসরি চলে যায় জুবিমেন্দিকে কাছে। ওডেগার্ডের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে তিনি বল বাড়িয়েছিলেন ইয়োকেরেসের দিকে। কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর তাকে ফাউল করে বসেন হাঙ্কো। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, হাঙ্কোর চ্যালেঞ্জটি যে ফাউল ছিল তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ খুব কমই আছে। এই গোলের সুবাধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় আর্সেনাল।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল নেশায় হন্যি হয়ে ছুটতে থাকে আতলেতিকো। ৫৭তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কর্ণার থেকে উড়ে আসা বলে লরেন্তের নেওয়া ভলি বেন হোয়াইটের হাতে লাগলে জোরালো দাবি তোলে স্বাগতিকরা। মুহূর্তেই মেত্রোপলিতানোর গ্যালারি উত্তাল হয়ে ওঠে। পেনাল্টির জোরালো আপিল নাকচ করলেও মাঠের রেফারি বর্তমানে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিআর) সঙ্গে কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত রায় আতলেতিকোর পক্ষেই যায়।
আতলেতিকোর হয়ে পেনাল্টি শট নেন আরভারেজ। ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত প্লেসিংয়ে রায়ার ডান দিক দিয়ে বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার দশম গোল। তবে গোলের সংখ্যার চেয়েও বড় কথা—ম্যাচে সমতায় ফিরল ‘লস রোহিব্লাঙ্কোস’রা।
৬৩তম মিনিটে লিড নিতে পারতো আতলেতিকো। ভাগ্যের নিদারুণ পরিহাসে গোলবঞ্চিত হন গ্রিজমান। লুকম্যানের স্কয়ার পাস থেকে বল পেয়েই চতুরতার সাথে চিপ করেছিলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক রায়া পরাস্ত হলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে গ্রিজমানের ভলি রক্ষণভাগে বাধা পেয়ে কর্নারের বিনিময়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।
৭৫তম মিনিটে আবারও পেনাল্টি পায় আর্সেনাল। প্রথমার্ধে পেনাল্টি হজম করা সেই হাঙ্কোই আবারও খলনায়ক হিসেবে ধরা দেয়।বুকোয়া সাকার ক্রস রিসিভের আগেই এজেকে ফেলে দেন হাঙ্কো। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে সরাসরি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে ভিএআর চেকে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। তাতেই বড় বাঁচা বেঁচে যায় আতলেতিকো। শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় ফার্স্ট লেগ।
ম্যাচে ৫২ শতাংশ বল আতলেতিকো দখলে ছিল। যদিও প্রথমার্ধে তারা পিছিয়ে ছিল। ১৮টি শট নিয়ে ৪টি লক্ষ্যে তারা সিমিওনের শিষ্যরা। ১১টি শট নিয়ে ২টি লক্ষ্যে রাখে গানাররা।
.jpeg)
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর রক্ষণ সামলানোর লড়াইয়ে ম্যাচটি গোলশূন্য প্রথমার্ধের দিকেই এগোচ্ছিল। তবে ৪৪তম মিনিটে আচমকা এক পেনাল্টি আশীর্বাদ হয়ে আসে আর্সেনালের জন্য। ডি-বক্সে বল নিয়ন্ত্রণের আগে ফাউলের শিকার হন ভিক্টর ইয়োকেরেস। সুইডিশ ফরোয়ার্ডের পেনাল্টিতে থেকে আদায় করা গোলেই আতলেতিকোর বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে মিকেল আরতেতার দল।
বুধবার এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোতে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগের প্রথমার্ধে মোটে একটি করে গোলমুখে শট নিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনাল। তবে বল পজিশনে এগিয়ে ছিল অতিথিরা। ৫২ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে তারা।
ম্যাচঘড়ির সাড়ে পাঁচ মিনেট পর প্রথমবার গোছানো আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের বাইরে ওয়ান টু পাসে মেতে ওঠে গানাররা। এরপর ডান প্রান্ত থেকে মাদুয়েকের হাওয়ায় ভাসানো শট থেকে উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যর্থ হন জুবিমেন্দি ও ওডেগার্ড। লাফিয়ে ওঠে দুজনেই চেষ্টা করেছিলেন জালে লক্ষ্যবেদ করতে। তা হেলায় নষ্ট হয়।
১৩তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের বুলেট গতির শট রুখে দেন ডেভিড রায়া। ডি বক্সের সামান্য দূর থেকে নেওয়া আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে বিপদমুক্ত করেন আর্সেনাল গোলকিপার। অথচ গ্যাব্রিয়েল ও রাইস কড়া পাহারায় রেখেছিলেন আলভারেজকে। তবে তার ক্ষিপ্রতার কাছে হার মানলেন তারা।
পরের মিনিটে প্রতিআক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে আক্রমণে ছুটে আসা ওডেগার্ডের দিকে দারুণ এক বল বাড়ান ভিক্টর ইয়োকেরেস। কিন্তু আর্সেনাল অধিনায়ক বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে দু-তিনটি বাড়তি টাচ নিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগে দ্রুত পজিশন নিয়ে ওডেগার্ডের শট ব্লক করে দেন আতলেতিকো ডিফেন্ডাররা। ওডেগার্ড যদি বলটি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রথম প্রচেষ্টায় শট নিতেন, তবে হয়তো গোলটি পেয়ে যেতে পারত গানাররা।
৩০তম মিনিটে একটু জন্য লিড নেওয়া হলো না আর্সেনালের! মাঝমাঠে লুকম্যানের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন রাইস। এরপর ওডেগার্ডের বুদ্ধিদীপ্ত এক টাচে বল পেয়ে যান মাদুয়েকে। ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত গতিতে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন এই উইঙ্গার। বক্সের প্রান্ত থেকে তার নেওয়া বাঁকানো শটটি ওবলাককে পরাস্ত করলেও দূরের পোস্ট ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে যায়। একটুর জন্য লিড নেওয়া হলো না গানারদের।
৪৪তম মিনিটে ইয়োকেরেস গোলে লিড আদায় করে আর্সেনাল। আলভারেজের একটি দুর্বল হেডার সরাসরি চলে যায় জুবিমেন্দিকে কাছে। ওডেগার্ডের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে তিনি বল বাড়িয়েছিলেন ইয়োকেরেসের দিকে। কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর তাকে ফাউল করে বসেন হাঙ্কো। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, হাঙ্কোর চ্যালেঞ্জটি যে ফাউল ছিল তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ খুব কমই আছে। এই গোলের সুবাধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে গেছে আর্সেনাল।

প্রিমিয়ার লিগে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মোহাম্মদ সালাহ। অ্যানফিল্ডের ক্লাবের পক্ষ থেকে মিশরীয় ফরোয়ার্ড নিয়ে স্বস্তির খবরই বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে, মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই মাঠে ফিরবেন সালাহ।
শনিবার ক্রিস্টাল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে সালাহ যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন অনেকের মনেই শঙ্কা জেগেছিল—লিভারপুলের জার্সিতে হয়তো শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন তিনি। গত মাসেই মিশরীয় যুবরাজ ঘোষণা দিয়েছিলেন, অ্যানফিল্ডে নয় বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনে এই গ্রীষ্মেই তিনি ক্লাব ছাড়বেন।
বুধবার ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সালাহর পেশির চোট গুরুতর নয়। তারা আশা করছে, ক্লাব ছাড়ার আগে অন্তত একবার লাল জার্সিতে তাকে আবারও মাঠে দেখা যাবে।
আগামী রবিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে সালাহর ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে নতুন আপডেট অনুযায়ী, ৯ মে চেলসির বিপক্ষে হোম ম্যাচ কিংবা ১৭ মে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে তাকে আবারও দেখা যেতে পারে। আর মে মাসের ২৪ তারিখ ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লিভারপুলের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলার সুযোগ থাকছে এই কিংবদন্তির।

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়া বার্সেলোনার হাতে অবশিষ্ট লা লিগা। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্পেনের সর্বোচ্চ সম্মানজনক লিগের শিরোপা জিততে চলেছে কাতালানরা। দ্বিতীয়স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ১১ পয়েন্ট এগিয়ে ক্যাম্প ন্যুর ক্লাব। এরইমধ্যে বুধবার বেশ কয়েকটি সুখবর পেল বার্সা ফ্যানরা।
মৌসুমের শেষ পাঁচটি লিগ ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মার্ক বার্নাল ও সেন্টার-ব্যাক আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন।
হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে পাঁচ সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন ব্রাজিল লেফট উইঙ্গার রাফিনিয়া। বার্নলে ছিলেন না অ্যাঙ্কেল চোটের কারণে। আর ক্রিস্টেনসেনের হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছিল।
জানা গেছে, লা লিগায় শনিবার ওসাসুনার বিপক্ষে ম্যাচের পাওয়া যেতে পারে রাফিনিয়া ও বার্নালকে। ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে তাদের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। আগামী ১০ মে ক্যাম্প ন্যু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা।