
বক্সিং ডে। নামটা শুনলেই মনে হতে পারে বক্সিং বা কুস্তির মতো কোনো লড়াইয়ের জন্য দিনটি নির্ধারিত। খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব ক্রিসমাসের পরদিনে বক্সিং বা কুস্তির লড়াই কেন—এমন প্রশ্ন মনে উদয় হওয়াই স্বাভাবিক। তবে বক্সিং মানে কোনো লড়াই নয়।
বক্সিং ডে মূলত বড়দিনের ছুটিকে আরও বিস্তৃত ও আনন্দমুখর করে তোলার একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ক্রীড়াজগতে জনপ্রিয় এক শব্দযুগলে পরিণত হয়েছে। ছুটির আমেজকে আরও রাঙাতে বক্সিং ডেতে আয়োজন করা হয় বড় বড় ক্রীড়া ইভেন্ট।
বক্সিং ডে উপলক্ষে খেলাধুলার সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ক্রিকেট, ফুটবল, হ্যান্ডবল ও ঘোড়দৌড়ের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট ও ফুটবলই এই দিনের আয়োজন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রাখছে। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।
আজ অ্যাশেজে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) ইংল্যান্ড–অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ম্যাচ হচ্ছে। সেই মেলবোর্নেই ১৯৫০ সাল থেকে নিয়মিত বক্সিং ডে ম্যাচ আয়োজনের প্রচলন রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বক্সিং ডে ম্যাচের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৮ সাল থেকে।
আরও পড়ুন
| বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়া দলে একাধিক পরিবর্তন |
|
বক্সিং ডে ঘিরে দর্শক আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে থাকে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এই দিনে অন্তত বড় দলগুলোর ম্যাচ রাখার চেষ্টা করে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৫৪ বছর ধরে বক্সিং ডেতে টেস্ট বা ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চলে আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও এই দিনে সেঞ্চুরিয়নে টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করে থাকে, আর নিউজিল্যান্ডও সুযোগ পেলে বক্সিং ডেতে ম্যাচ রাখার চেষ্টা করে।
প্রথাগতভাবে বক্সিং ডে বলতে বোঝানো হয় ক্রিসমাস বা বড়দিনের পরের দিনটিকে, অর্থাৎ ২৬ ডিসেম্বর। ইতিহাস অনুযায়ী, এই দিনে ধনী ও সম্ভ্রান্ত গৃহস্থরা বাক্সে ভরে তাদের গৃহপরিচারকদের উপহার দিতেন। সেই ‘বক্স’ থেকেই দিনটির নাম হয়ে যায় বক্সিং ডে। ধীরে ধীরে এই রীতি সামাজিক রূপ নেয় এবং উৎসবের অংশ হয়ে ওঠে।
বক্সিং ডের এই ধারণার সূচনা হয় রাণী ভিক্টোরিয়ার সময়কালে। এরপর কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে কালের বিবর্তনে এর পরিধি বাড়তে থাকে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সামর্থ্যবানরা শুধু নিজেদের পরিচারক নয়, আশপাশের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝেও উপহার ও অর্থ বিতরণ শুরু করেন। পাশাপাশি চার্চের বাইরে রাখা বাক্সে দান বা অনুদান সংগ্রহ করে তা গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার রীতিও গড়ে ওঠে। এভাবেই ২৬ ডিসেম্বর পরিচিতি পায় ‘বক্সিং ডে’ নামে।
বক্সিং ডে আর মেলবোর্ন ক্রিকেটের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। প্রতিবছর ২৬ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হয় বহুল আলোচিত বক্সিং ডে টেস্ট। সাধারণত অস্ট্রেলিয়া ও সফরকারী দলের মধ্যেই এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এক সময় বক্সিং ডেতে ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ হতো, সেটিও আয়োজন করা হতো মেলবোর্নে। তবে ১৯৬৮ সালের পর থেকে এই আয়োজন অনেকটাই জাতীয় দলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে।
No posts available.
৩ মার্চ ২০২৬, ১০:২১ পিএম
৩ মার্চ ২০২৬, ১০:০০ পিএম
৩ মার্চ ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম

বাংলাদেশ সফরের আগে বড় চমক দিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সাবেক অধিনায়ক ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ী তারকা সরফরাজ আহমেদকে পাকিস্তানের টেস্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী মে মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়েই নতুন এই দায়িত্ব শুরু করবেন সরফরাজ।
পাকিস্তানের সংবাদ ম্যাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, ৩৮ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটারের নিয়োগের বিষয়টি এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায়।
আরও পড়ুন
| গাভাস্কারের চোখে ভারতকে কাঁপিয়ে দিতে পারে যে ইংলিশ ‘অস্ত্র’ |
|
গত বছরের অক্টোবর থেকে পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদটি খালি ছিল। সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন আজহার মাহমুদ।
তবে দীর্ঘ মেয়াদে টেস্ট দলের হাল ধরার জন্য পিসিবি বেছে নিয়েছে সরফরাজকেই।
গত ডিসেম্বরে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ জয়ী পাকিস্তান দলের মেন্টর হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন সরফরাজ। সেখানে সফল হওয়ার পরই তাকে জাতীয় দলের এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরফরাজ পাকিস্তানের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে পরিচিত। তার অধীনে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান। দেশটির হয়ে তিন ফরম্যাটে করেছেন ৬ হাজার ১৬৪ রান।
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৭ চক্রের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ৮ মে, এরপর দ্বিতীয় টেস্ট ১৬ মে থেকে।
তার আগে চলতি মাসে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ৯ তারিখ ঢাকায় আসার কথা রয়েছে প্রতিবেশী দেশটির।

ফেবারিট হয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করে ভারত। নিজেদের ডেরায় আরও একবার এই ট্রফি জেতার দারুণ সুযোগও আছে স্বাগতিকদের। ফাইনালের টিকিট কাটতে হলে সূর্যকুমার যাদবদের প্রথম ঠেকাতে হবে ইংল্যান্ডকে। যে ইংল্যান্ড সুপার এইটের সবক’টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে আগামীকাল দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ড। পরদিনই ওয়াংখেড়ে ইংলিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত। এই ম্যাচে ভারতকে সবচেয়ে বেশি বিপদে ফেলতে পারেন উইল জ্যাকস, এমনটাই মনে করছেন সুনীল গাভাস্কার। ভারতের সাবেক কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের মতে ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চারবার ম্যাচসেরার পুরষ্কার জিতেছেন জ্যাকস। সাত ম্যাচে একটি হাফ-সেঞ্চুরিতে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১৯১ রান। বল হাতে সাতটি উইকেটও নিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী অফস্পিনার। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসের সঙ্গে নিয়েছেন দুটি উইকেটও।
দুর্দান্ত ছন্দে ইংলিশ অলরাউন্ডারকে নিয়ে ভারতকে সতর্কই করলেন গাভাস্কার। তাঁর মতে জ্যাকসকে সামলাতে ভারতীয় ব্যাটিংয়ে সঞ্জু স্যামসন, সূর্যকুমার যাদব এবং হার্দিক পান্ডিয়া-এর পারফরম্যান্সই মূল চাবিকাঠি হবে।
আগামী ৬ মার্চ মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ডিপি ওর্য়াল্ড সেলিব্রেটি গলফ ইভেন্ট-এর আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সুনীল গাভাস্কার। চ্যাম্পস ফাউন্ডেশনের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি সেমি ফাইনালে উইল জ্যাকস-কে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। গাভাস্কার বলেন,
‘যদি পিচে একটু টার্ন থাকে, তাহলে জ্যাকস সত্যিই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন। (সানজু) স্যামসন, সূর্যকুমার বা হার্দিক পান্ডিয়া তাঁকে কিভাবে সামলাবেন, সেটিই মূল বিষয়। সে দুর্দান্ত ছন্দে আছে। সাত নম্বরে তাঁর মতো একজন থাকা বড় সুবিধা—যেমন শিভাম দুবে ভারতের জন্য।’
গাভাস্কার আরও বলেন,
‘হয়তো তিনি দলের বাঁ-হাতের ব্যাটারদের (অভিষেক, তিলক, ডুভে বা অন্য কেউ) বিপক্ষে বেশি বল করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে ডানহাতি ব্যাটারদের ওপরই বাড়তি চাপ থাকবে তাঁর বিরুদ্ধে রান তোলার।’
জ্যাকসকে ভারতীয় অলরাউন্ডার শিভাম দুবের সঙ্গে তুলনা করে গাভাস্কার বলেন,
‘সে ঠিক শিবম ডুভের মতো। ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে আমরা যা দেখেছি, ডুভে এসে এক ওভারে দুইটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের ওপর চাপ কমিয়েছিলেন।’
গাভাস্কার আশা করছেন ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচটি বেশ রোমাঞ্চকর হবে,
‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনালের মতোই এটি হবে একটি ‘ক্র্যাকার’ ম্যাচ। দুই দলই সমান শক্তিশালী—ব্যাটিং, বোলিং, মিডল অর্ডার, ফিনিশাররা সব আছে। বৈচিত্র্যও আছে, এবং প্রচুর টি-টোয়েন্টি অভিজ্ঞতা আছে।’

পরপর দুই ম্যাচে নর্থ জোনকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ওয়ানডে সংস্করণের চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল সেন্ট্রাল জোন। মিরপুরে মঙ্গলবারের ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর নর্থ জোনকে ৫ উইকেটে হারায় সাইফ হাসান, নাঈম শেখদের সেন্ট্রাল জোন।
অথচ টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে রীতিমতো উড়ছিল শান্তর নর্থ জোন। প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের হারিয়ে ফাইনালের টিকেট পায় সেন্ট্রাল জোন। এবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচেও লড়াই করতে পারল না নর্থ জোন।
তাওহিদ হৃদয়ের লড়াকু ৯৬ রানের সৌজন্যে ২৩৮ রানের পুঁজি পায় নর্থ জোন। জবাবে সাইফ, নাঈমের ঝড়ো জুটিতে অনায়াসে ম্যাচ জিতে নেয় সেন্ট্রাল।
বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণে আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন হয় নর্থ জোন। এবার তাদের হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা ঘরে তুলল সেন্ট্রাল জোন।
রান তাড়ায় এদিন আর ঝড় তুলতে পারেননি জিসান আলম। ষষ্ঠ ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন ১৭ বলে ১৪ রান করা তরুণ ওপেনার। তবে দলের ওপর আর চাপ আসতে দেননি মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও সাইফ হাসান।
দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার মিলে ১৪১ বলে গড়ে তোলেন ১৬৪ রানের জুটি। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, দুজনের জুটিতেই জিতে যাবে সেন্ট্রাল জোন। কিন্তু আশা জাগিয়েও সেঞ্চুরি করতে পারেননি দুজনের কেউই।
রিশাদ হোসেনের লেগ স্পিনে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৭ বলে ৭৮ রান করা নাঈম। পরে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৮ বলে ৮৭ রান করা সাইফকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। সেঞ্চুরি না পেলেও দুজনই মূলত জয়ের ভিত গড়ে দেন।
মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৮ বলে ৬) ও ইরফান শুক্কুরও পরে (১৩ বলে ১৪) আউট হয়ে যান৷ তবে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে মাহফিজুল ইসলাম রবিন (২৪ বলে ১৮) দলের শিরোপা নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন।
২টি করে উইকেট নেন রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে তেমন সুবিধা করতে পারেনি নর্থ জোন। জ্বরের কারণে খেলতে পারেননি লিটন কুমার দাস। তার জায়গায় একাদশে ফেরার সুযোগ পেয়ে আবার হতাশ করেন হাবিবুর রহমান সোহান (১৭ বলে ৫)।
আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ভালো শুরু করলেও ইনিংস টানতে পারেননি। ৪ চারে ২২ বলে ২৩ রান করে আউট হন তিনি। শুরুর ধাক্কা সামলে ৫২ রানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়।
সাইফ হাসানের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বিদায় নেন ৫১ বলে ৩৫ রান করা শান্ত। পাঁচ নম্বরে নেমে এসএম মেহেরব হাসানও (৩৮ বলে ২৮) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একই ওভারে আকবর আলিকে (৩ বলে ০) ফেরান রকিবুল হাসান।
পরে একাই দলকে টেনে নেন হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে সাব্বির রহমানের সঙ্গে তিনি যোগ করেন ৬৩ রান। আগের ম্যাচে ঝড় তোলা সাব্বির এদিন ৪৩ বলে করেন ২৪ রান। রয়েসয়ে শুরু করা হৃদয় ফিফটি করেন ৬৯ বলে।
সাব্বিরের বিদায়ের পর রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন হৃদয়। একইসঙ্গে জাগে তার সেঞ্চুরির আশা। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে একদমই সমর্থন পাননি মিডল-অর্ডার এই ব্যাটার। রিশাদ হোসেন ১৮ বলে ১৬ রান করে আউট হন।
ইনিংসের শেষ ওভারে সেঞ্চুরি থেকে ৪ রান দূরে ছিলেন হৃদয়। উইকেট ছিল একটিই। রিপন মন্ডলের প্রথম দুই বলে রান নিতে পারেননি হৃদয়। তৃতীয় বলে তিনি এলবিডব্লিউ হওয়ায় আর সেঞ্চুরি হয়নি। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৯৮ বলে করেন ৯৬ রান।
৪১ রানে ৪ উইকেট নেন রিপন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও রকিবুল হাসানের শিকার ২টি করে উইকেট।

আরও একটি আইসিসির ইভেন্টে ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা আছেন বেশ চাপে। বাবর আজম-সালমান আলী আগাদের হতাশার পারফরম্যান্সে ক্ষুদ্ধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড শাস্তির সিদ্ধান্তও নেয়। পাকিস্তানের একাধিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন, প্রত্যেক ক্রিকেটারকে গুনতে হবে ৫০ হাজার পাকিস্তানি রুপি। তবে ক্রিকেটারদের এমন শাস্তিও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন শহিদ আফ্রিদি। বাজে পারফরম্যান্সের জন্য আরও কঠিন শাস্তি চান সাবেক এই ক্রিকেটার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে হারের পরই নাকি পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয় দলটির ক্রিকেট বোর্ড। এরপর সুপার এইট থেকে সেমি ফাইনালের টিকিট কাটতে না পেরে ঘরে ফেরার পর তো আর্থিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় আগাদের। এ নিয়ে টানা চারবার আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান।
পাকিস্তানের পারফরম্যান্সের এমন ভরাডুবির জন্য আফ্রিদির মতে যে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে তা আরও বেশি হওয়া উচিত। এমনকি শুধু জরিমানা নয়, পাশাপাশি আফ্রিদি চান কিছু ক্রিকেটারদের শাস্তিস্বরুপ অন্তত দুই বছর দলের বাইরে রাখা উচিত।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভিকে আফ্রিদি বলেন,
‘এটি সিদ্ধান্ত বোঝা কঠিন। এটি সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা। এটা তো সামান্য অর্থ। ৫০ লাখ দিয়ে তুমি কী করবে? এটা তো শাস্তি বলে মনে হয় না।’
আফ্রিদি আরও যোগ করেন,
‘যারা জাতীয় দলের জন্য বাজে পারফরম্যান্স করেছে তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঠানো উচিত এবং এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যাদের কমপক্ষে ২ বছর দলের জন্য খেলা উচিত নয়। যারা খেলতে ব্যর্থ, তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঠাও। আমার মনে হয় এমন কিছু খেলোয়াড় আছে যারা অন্তত দুই বছর দলের হয়ে না খেলুক। এটুকুই যথেষ্ট।’
এদিকে, পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন মোহাম্মদ আমিরও। আগার নেতৃত্বাধীন দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় সাবেক এই পেসার বলেন,
‘আমি আমার খোলাখুলি মত দিচ্ছি। বাকিটা ছেড়ে দাও। আমরা আসলে ট্যালেন্টই নেই। যারা এখন খেলছে, তারা ট্যালেন্ট নয়।’
আমির আরও বলেন,
‘যখন কোনো দল আমাদের দেশে হোম সিরিজ খেলতে আসে, তারা তাদের মূল দল পাঠায় না। এটা দেখলে বোঝা যায় তারা আমাদের কতটা গুরুত্ব দেয়। যদি তারা মনে করে, হ্যাঁ, এটা একটি দল, তবে তারা তাদের এ-টিম পাঠায়। তারা সব নতুনদের নিয়েই তাদের দল পাঠায়। যদি নিউজিল্যান্ড ভারত যায়, পুরো দল নিয়েই যাবে। ইংল্যান্ড যাচ্ছে, পুরো দল যাবে। অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে, পুরো দল যাবে। ঠিক তেমনি, তারা যদি আমাদের দেশে আসে, তারা তাদের এ-টিম পাঠায়। তাই বোঝা যায় তারা আমাদের কতটা গুরুত্ব দেয়।’
জরিমানা নিয়ে এখন পর্যন্ত পিসিবি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। ক্রিকেটার ছাড়াও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও তীব্র সমালোচনার মুখে আছে। দল নির্বাচন, পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে দলটির সাবেক অনেক ক্রিকেটারই ক্ষোভ ঝেড়েছেন।

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ফিরছে মুলতান সুলতান্স। নতুন মৌসুমে অভিষেক হতে যাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি শিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ নিজেদের নাম বদলে নিচ্ছে মুলতানের নামে।
এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার পিএসএলের প্রধান নির্বাহী সালমান নাসির এই ঘোষণা দেন। এসময় তার পাশে ছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নতুন সিইও ও সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার গোহার শাহ।
এই বিষয়ে গত সপ্তাহেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নাসির। মুলতান সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন, সুখবর আসছে।’ অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।
নাসির জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (পিসিবি) নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন গোহর শাহ। এককালীন ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দিতে সম্মত হওয়ায় আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। ফলে দলটির নতুন নাম হচ্ছে মুলতান সুলতান্স।
নাম বদলের ফির বাইরেও নতুন মালিক সিডি ভেঞ্চারস বার্ষিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ২০০ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে উন্নীত করতে রাজি হয়েছে। নাসিরের ভাষ্য, পিএসএলের পরিসরে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে মুলতান সুলতান্স নামটির আলাদা মূল্য রয়েছে।
গত মাসে আগের মালিক আলি তারিন লিজ নবায়ন না করায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি নিলামে ওঠে। সর্বোচ্চ ২৪৫ কোটি রুপি বার্ষিক ফিতে সেটি কিনে নেয় ওয়ালি টেকনোলজিস। পরে তারা দলটিকে রাওয়ালপিন্ডিতে সরিয়ে নিয়ে ‘পিন্ডিজ’ নাম দেয়।
এতে আট মৌসুমের পথচলার পর কার্যত পিএসএল থেকে মুলতান সুলতান্সের বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল। তবে মালিকানা নিয়ে জটিলতা এবং নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের পর স্ট্যালিয়নজ ফ্র্যাঞ্চাইজির ৯৮ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় সিডি ভেঞ্চারস।
নতুন মালিকানার প্রতিনিধি হিসেবে গোহর শাহ সিইওর দায়িত্ব নেন। পিএসএলের নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্স ও নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হায়দ্রাবাদ কিংসমেন।