
এনজো ফার্নান্দেজ নিষিদ্ধ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে নিয়ে সংশয়, আর নিকোলাস ওতামেন্দির ফিটনেস পরীক্ষার মাঝেই লিওনেল মেসিকে ঘিরে বিশেষ আবেগ আর্জেন্টাইন দলে।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে লাতিন আমেরিকা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দুটি ম্যাচ খলবে আর্জেন্টিনা। আগামী পরশু বাংলাদেশ সময় ভোরে প্রথম লড়াইয়ে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। এস্তাদিও মনুমেন্তালে মূল লড়াইয়ের আগে এজেইজার এএফএ স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি সেরেছেন মেসি-দি পলরা। পুরো দলের অনুশীলন সংবাদমাধ্যমের জন্য রাখা হয় উন্মুক্ত।
এই ম্যাচকে ‘বিশেষ’ করে তুলেছে, হতে পারে আর্জেন্টিনার মাঠে লিওনেল মেসির জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ। মহাতরকা আগেই জানিয়েছেন, এই ম্যাচ দেখতে উপস্থিত থাকবেন তাঁর পরিবারও।
আরও পড়ুন
| ইকুয়েডরের বিপক্ষে অনিশ্চিত মেসি |
|
বিশ্বকাপের মূলপর্ব এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। আলোচনা হচ্ছে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে তাদের একাদশ কেমন হবে। দলে আছে কিছু অনিশ্চয়তাও।
লিভারপুল তারকা ম্যাক অ্যালিস্টারকে নিয়ে দোটানা। দলের গুরুত্বপূর্ণ এই মিডফিল্ডার অনুশীলনে খুব একটা অংশ নিতে পারেননি। চোটের পাশাপাশি সময়মতো দলেও যোগ দিতে পারেননি। যদিও প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে লিভারপুলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন, কিন্তু শারীরিক অবস্থার কারণে কোচ লিওনেল স্কালোনির বড় দুশ্চিন্তা তিনিই। অ্যালিস্টার শতভাগ ফিট কি না, এ প্রশ্ন থাকছেই।
এনজো ফার্নান্দেজ নিষিদ্ধ থাকায় ভেনেজুয়েলার ও ইকুয়েডরের বিপক্ষে তাঁকে পাওয়া যাবে না। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন, এই অবস্থায় স্কালোনি চার মিডফিল্ডার নিয়ে নামার পরিকল্পনা করছেন- রদ্রিগো দি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, থিয়াগো আলমাদার সঙ্গে থাকবেন হয় ম্যাক অ্যালিস্টার, নয়তো জিওভানি লো সেলসো।
রক্ষণভাগে ওতামেন্দির জায়গা নিশ্চিত হলেও সবশেষ অনুশীলনে দলের সঙ্গে ছিলেন না। জিমে আলাদাভাবে কাজ করেছেন ফিটনেস ধরে রাখতে। তবু তাঁর মাঠে নামা প্রায় নিশ্চিত ধরা হচ্ছে। ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর সঙ্গী হবেন তিনি। যদি কোনো কারণে নামতে না পারেন, তবে লিওনার্দো বালের্দির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন মেসি। তবে তাঁর পাশে কে থাকবেন তা এখনো নিশ্চিত নয়। হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ। আপাতত আলভারেজ সামান্য এগিয়ে আছেন, বুধবারের শেষ অনুশীলনের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
এমন এক ম্যাচে মেসিকে নিয়ে ভক্তদের আবেগ তুঙ্গে। শেষবারের মতো দেশের মাঠে নামতে পারেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। তাই শুধু আর্জেন্টিনা নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বই তাকিয়ে থাকবে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের দিকে।
ভবিষ্যৎ দলের সম্ভাব্য কিছু মুখও এই দলে আলোচনায়। ক্লাউদিও এচেভেরি ও ভ্যালেন্টিন কার্বোনি অনূর্ধ্ব-২০ দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন। তবে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো ও জুলিও সোলের ছিলেন সিনিয়র দলের সঙ্গেই। স্কালোনির পরিকল্পনায় ভবিষ্যতের জন্য এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে।
আরও পড়ুন
| নেপালে খেলতে চান জামাল, হংকং ম্যাচে আসবেন হামজা |
|
আর্জেন্টিনা দল শুধু ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে জয় নয়, বরং এক ঐতিহাসিক সন্ধ্যার অপেক্ষায়। মেসির সম্ভাব্য বিদায়ী ম্যাচে আবেগ, ট্যাকটিকস, আর নতুনদের ভবিষ্যৎ সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে অনন্য এক অধ্যায়।
আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ:
এমিলিয়ানো মার্তিনজে, নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো দি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার/জিওভানি লো সেলসো, থিয়াগো আলমাদা, লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ/লাউতারো মার্তিনজে।
No posts available.
১৯ মে ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
১৯ মে ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ের রোমাঞ্চকর নাটকের অবসান ঘটল বোর্নমাউথের ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে। মঙ্গলবার রাতে স্বাগতিকদের সঙ্গে ড্র করে শিরোপার রেস থেকে ছিটকে গেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শেষ রাউন্ডের খেলার আগেই লিগ শিরোপা নিশ্চিত হলো আর্সেনালের।
প্রতিপক্ষের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই হারে চলতি মৌসুমে পেপ গার্দিওলাকে এফএ কাপ এবং কারাবাও কাপের ডাবল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।
সিটির হোঁচটের দিনে প্রিমিয়ার লিগে ৮,০৬০ দিনের ট্রফির খড়া ভেঙ্গেছে আর্সেনাল। এর আগে সবশেষ ২০০৩-০৪ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ঘরে তুলেছিল আর্সেনাল। বছরের হিসেবে দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও শিরোপা নিশ্চিত করল গানাররা।
আরও পড়ুন
| আর্জেন্টিনাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, হুঙ্কার অস্ট্রিয়ান স্ট্রাইকারের |
|
লিগ শিরোপা রেসে টিকে থাকতে এদিন জয়ের কোন বিকল্প ছিল না ম্যানচেস্টার সিটির। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে উল্টো পিছিয়ে পড়ে তারা। বোর্নমাউথের ফরাসি ফরোয়ার্ড জুনিয়র ক্রুপির বাঁকানো শটের চমৎকার গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় সিটি।
এরপর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ম্যান সিটি। কাঙ্খিত সেই গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের ইনজুরি টাইম পর্যন্ত। ৯০+৫ মিনিটে আর্লিং হালান্ড সমতাসূচক গোল করলেও তা কেবল সিটির পরাজয় এড়াতে পেরেছে, প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি নয়।
৩৭ ম্যাচ শেষে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত হলো আর্সেনালের। সমান ম্যাচে ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সিটি। ৩৭ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে ৬ নম্বরে বোর্নমাউথ।
ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে রোববারের ম্যাচটি এখন মিকেল আরতেতা ও তাঁর শিষ্যদের জন্য কেবলই এক রাজকীয় উৎসবের মঞ্চ। দীর্ঘ ২২ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে গানাররা এখন প্রস্তুত প্রিমিয়ার লিগের রাজমুকুট মাথায় পরার জন্য।
সিটির সঙ্গে এই ১ পয়েন্ট অর্জনের মাধ্যমে আগামী মৌসুমে ইউরোপা লিগে খেলা নিশ্চিত হয়েছে বোর্নমাউথ। চলতি মৌসুমে আন্দোনি ইরাওলাওয়ের অধীনে টানা ১৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অনন্য রেকর্ড গড়ল ক্লাবটি।

ফ্রেইবুর্গ এবং অ্যাস্টন ভিলা—ইউরোপীয় ফুটবলে দল দুটির দুঃখ প্রায় একই সমানুপাতিক। মাঠের ফুটবল দিয়ে প্রতিনিয়ত নজর কাড়লেও বড় কোনো সাফল্য না পাওয়ার আক্ষেপে পুড়ছে তারা। ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর শীর্ষ স্তরের কোনো মেজর শিরোপা জেতেনি জার্মান ক্লাব ফ্রেইবুর্গ। ভিলা পার্কের ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা সেদিক থেকে এগিয়ে থাকলেও তাদের ট্রফি কেবিনেটে ধুলো জমেছে।
১৯৮২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ) এবং ১৯৯৬ সালে লিগ কাপ জেতার পর, দীর্ঘ ৩০টি মৌসুম ধরে মেজর শিরোপা ঘরে তুলতে পারেনি ইংলিশ ক্লাবটি। এবার ইউয়েফা ইউরোপা লিগের ট্রফি জয়ই পারে দুই দলের দীর্ঘদিনের এই শিরোপা খরা ও আক্ষেপের অবসান ঘটাতে।
বুধবার ইস্তাম্বুলের তুপরাস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ইউরোপা লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে অ্যাস্টন ভিলা ও ফ্রেইবুর্গ। এই ম্যাচটি মূলত দুই দলের জন্যই ইতিহাস গড়ার এবং ট্রফি খরা কাটানোর এক মহা চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন
| আর্জেন্টিনাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, হুঙ্কার অস্ট্রিয়ান স্ট্রাইকারের |
|
টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে নটিংহাম ফরেস্টকে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে ফাইনালে পা রাখে অ্যাস্টন ভিলা। সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ব্রাগার মাঠে ২-১ গোলে হারের পর দ্বিতীয় লেগে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ফ্রেইবুর্গ। লুকাস কুবলারের গোল এবং ইয়োহান মানজাম্বির জোড়া স্ট্রাইকে পর্তুজাল প্রতিপক্ষকে ৪-৩ অ্যাগ্রিগেটে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম কোনো ইউরোপীয় ফাইনালে ওঠে জার্মান ক্লাবটি।
অ্যাস্টন ভিলা এবারই প্রথম ইউরোপা লিগের ফাইনাল খেললেও তাদের ডাগআউটে আছেন এই প্রতিযোগিতার সফলতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ কোচ উনাই এমেরি। এটি এমেরির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ইউরোপা লিগ ফাইনাল। স্প্যানিশ এই কোচ সেভিয়ার হয়ে তিনবার এবং ভিয়ারিয়ালের হয়ে একবার এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছেন। মর্গান রজার্সের মতো তরুণদের সৃজনশীলতা এবং ওলি ওয়াটকিন্সের দুর্দান্ত ফর্মের ওপর ভর করেই ১৯৮২ সালের পর প্রথম কোনো ইউরোপীয় ফাইনালে উঠেছে ভিলা। তার মধ্যে গত শুক্রবার লিভারপুলকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিল থেকে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করেছে এমেরির দল।
ফাইনাল প্রসঙ্গে এমেরি বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় আমার আগের অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক লড়াই। ফুটবলে অতীতে আপনি যা করেছেন, তা যতই চমৎকার হোক না কেন, তা অতীত। এখন এটি একটি নতুন অধ্যায় এবং আমি এখানে নতুন ইতিহাস লিখতে চাই।’
নিজেদের ক্লাব ইতিহাসে প্রথম কোনো ইউরোপীয় ফাইনাল খেলতে নামলেও, দারুণ সুখস্মৃতি ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে ফ্রেইবুর্গ। গত শনিবার বুন্দেসলিগার ম্যাচে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে টেবিলের সপ্তম স্থান নিশ্চিত করেছে তারা, যা তাদের আগামী মৌসুমের কনফারেন্স লিগ নিশ্চিত করেছে। তবে কোচ জুলিয়ান শুস্টারের দল খুব ভালো করেই জানে, ফাইনালে জয় পেলে তারা এর চেয়েও বড় কিছু অর্জন করতে পারবে। এই ম্যাচে জয়ী হলে বুন্দেসলিগার কম বাজেটের এই ক্লাবটি সরাসরি আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সুযোগ পাবে। যা ক্লাবটির জন্য আরও কয়েক মিলিয়ন ইউরোর অতিরিক্ত আয়ের পথ খুলে দেবে।
শিরোপা জিততে হলে ফ্রেইবুর্গকে সব সমীকরণ উল্টে দিতে হবে, কারণ কাগজের কলমে অ্যাস্টন ভিলাই স্পষ্ট ফেবারিট। ফ্রেইবুর্গের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ম্যাথিয়াস গিন্টার বলেন, ‘এটি ফুটবল, এখানে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে, বিশেষ করে যখন ম্যাচটি ফাইনাল। তাই মাঝে মাঝে আন্ডারডগ বা পিছিয়ে থাকা দলও ফেবারিটদের হারিয়ে দেয়।’
ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড় শুস্টারের অধীনে প্রধান কোচ হিসেবে তার দ্বিতীয় মৌসুমেই দলটি সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৪ সালে কোচিং লাইসেন্স পাওয়া শুস্টার, ক্লাবের দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করা ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রেইচের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। চাপ সামলানো প্রসঙ্গে শুস্টার বলেন, ‘আমি চাপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখি। কারণ এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করে এবং যেকোনো কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায়।’

বিশ্বকাপে ‘জে’ গ্রুপে অস্ট্রিয়া। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টে ফেরা দলটির গ্রুপে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ছাড়াও রয়েছে আলজেরিয়া ও জর্ডান। বলা চলে, বেশ কঠিন গ্রুপেই পড়েছে ইউরোপের এই দলটি। গ্রুপে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকলেও দৃঢ় মনোবল অস্ট্রিয়ান স্ট্রাইকার সাসা কালাইচিচের। ২৮ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার সাফ জানিয়ে রাখলেন, আর্জেন্টিনার মতো প্রতিপক্ষ দেখে মাঠের লড়াইয়ের আগেই কুঁকড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই তাদের।
কালাইচিচ বলেন,
‘আমার মতে, কোনো প্রতিপক্ষকে ভয় পাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে এই দল নিয়ে তো নয়ই। আমাদের দলে কিছু অবিশ্বাস্য ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভর মেধাবী খেলোয়াড় আছে; কিন্তু একতা, দলীয় চেতনা, দৃঢ়তা ও তাড়নাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
তিনি আরও যোগ করেন,
‘এটা স্রেফ এক ঐক্যবদ্ধ শক্তি এবং ছেলেরা অবিশ্বাস্য কাজ করেছে। তারা বাছাইপর্বে গ্রুপ সেরা হয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে সম্ভব হয়নি। আপনি এখন সারা দেশের সেই উচ্ছ্বাস অনুভব করতে পারবেন এবং অস্ট্রিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে প্রত্যেকেই অবিশ্বাস্যভাবে গর্বিত।’
আগামী সোমবার বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে অস্ট্রিয়া। রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা ছাড়াও দলটিতে রয়েছেন টটেনহ্যাম ডিফেন্ডার কেভিন ডানসো, বায়ার্ন মিউনিখ মিডফিল্ডার কনরাড লাইমার, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড মিডফিল্ডার মার্সেল সাবিতজার ও আরবি লাইপজিগ মিডফিল্ডার ক্রিস্টোফ বাউমগার্টনার। চেনা তারকাদের নিয়ে গড়া এই স্কোয়াডের কারণেই উচ্চাশার কমতি নেই কালাইচিচের।
দলের শক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,
‘অস্ট্রিয়া সবসময় আগ্রাসী ঘরানার ফুটবল খেলে এবং আমাদের দলে সেই ধরনের ফুটবল খেলার মতো উপযুক্ত খেলোয়াড় আছে। আপনি যখন মাঠে তীব্রতা আর পূর্ণ নিবেদন নিয়ে খেলবেন, তখন তা প্রতিপক্ষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলবে। আমরা আসলে খেলোয়াড়, কোচ, স্টাফ ও সমর্থকদের নিয়ে খুব ঘনিষ্ঠ একটি দল—পুরো দেশটাই এখন এক সুতোয় গাঁথা।’
প্রায় তিন দশক পর বিশ্বকাপে ফিরে গ্রুপ পর্বেই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে অস্ট্রিয়াকে। আগামী ২২ জুন টেক্সাসে অনুষ্ঠিত হবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি। তবে তার আগে ১৭ জুন ‘জে’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে নবাগত জর্ডানের মুখোমুখি হবে তারা। আর ২৭ জুন গ্রুপের শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে অস্ট্রিয়ানরা।
তিনি বলেন,
“এটা স্রেফ এক ঐক্যবদ্ধ শক্তি এবং ছেলেরা অবিশ্বাস্য কাজ করেছে। তারা বাছাইয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, দীর্ঘদিন যা হয়নি। আপনি এখন সারা দেশের সেই উচ্ছ্বাস অনুভব করতে পারবেন এবং অস্ট্রিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে প্রত্যেকেই অবিশ্বাস্যভাবে গর্বিত।”

মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে নারী ফুটসাল লিগে খেলা দেখতে আজ উপস্থিত ছিলেন ৭-৮শ' দর্শক। এক একটা গোলের পর উল্লাসে ফেটে পড়েছেন তারা, স্লোগান দিচ্ছিলেন সাবিনা, মাসুরা, সুমাইয়াদের নিয়ে। দর্শকদের সেই উল্লাস শুরু থেকে চললো ম্যাচ শেষ পর্যন্ত। মঙ্গলবার চাঁদপুর এফসিকে যে সাবিনাদের দল আইএম টেন এফসি উড়িয়ে দিয়েছে ১৮-০ গোলে।
খেলা শেষে দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ভক্ত, দর্শকদের এই আনন্দটুকু দিতে পারাটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। তেমনি মাসুরা নিজেও কিন্তু ফুটবলে পার ভক্ত ব্রাজিলের। গত রাতে বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড দিয়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
অনেক জল্পনার পর আনচেলত্তির দলে জায়গা পেয়েছেন নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলের সাপোর্টার হিসেবে নেইমারকে দলে নেওয়ায় বেজায় খুশি মাসুরা। পাশাপাশি একটু অখুশি নিজের আইডল থিয়াগো সিলভা না থাকাতে। তবুও জানালেন কেউ না থাকলেন তিনি ব্রাজিলের সাপোর্ট করবেন। বলেন,
'ব্রাজিল দলে নেইমার আছে, দেখার পর খুবই ভালো লাগছে। আর কেউ থাকুক বা না থাকুক, ব্রাজিল সাপোর্ট করি আমি, সব সময় সাপোর্ট করব।'
সবশেষ ২০০২ সালের বিশ্বকাপে পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। হেক্সা মিশন তাদের আর সফল হয়নি। দলের সাপোর্টার হিসেবে এবার সেই কাঙ্খিত আশা পুরণ হবে বলে মনে করেন মাসুরা,
'ব্রাজিল ভালো খেলবে, ভালোর চেষ্টা করবে। তারপর কাপের ইচ্ছা তো সবারই থাকে, তো ব্রাজিলেরও থাকবে (চ্যাম্পিয়ন হওয়ার)। আশা করতে সমস্যা আছে কী।'
দেশের নারী ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জেতা সাফ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। এরপর ফুটসালেও প্রথমবারের মতো গত বছর সাফ জিতেছেন সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসা এই তারকা।
এখন ফুটসালের সঙ্গেই আছেন বাফুফের চুক্তিবদ্ধ এই ফুটবলার। যখন আবার ফুটবলের দায়িত্ব পাবেন তখন নিজেকে সেখানেই মানিয়ে নেবেন, এ নিয়ে কোনো হতাশা কিংবা ক্ষোভ নেই তাঁর।আপাতত ফুটসাল উপভোগ করছেন বলে জানালেন। লিগে তাঁর দলও উড়ছে। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিচ্ছে আইএম টেন এফসি। তবু প্রতিটি দলতে সমীহ করছেন তিনি।
মাসুরা বলেন,
'প্রত্যেকটা ম্যাচই আমরা চ্যালেঞ্জিং হিসেবে নেই। সে ভালো খেলুক আর না খেলুক, প্রতিপক্ষ সবসময় শক্তিশালীই হয়। তো আজ ওদের গোলকিপার অনেক ভালো খেলছে।'
আজকের ম্যাচে প্রায় পুরোটা সময় গ্যালারি থেকে সাবিনা-মাসুরা-কৃষ্ণাদের উৎসাহ জুগিয়েছেন সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মাসুরা বলেন,
'জিতলে তো সব সময় ভালো লাগা কাজ করে। আর আমরা মাঠে নামি একটা ভালো ম্যাচ খেলার জন্য, দলের জন্য, দর্শকদের জন্য। তো আমাদের জয়ে তারা (দর্শক) অনেক খুশি হয়েছে, এটাই আমাদের পাওয়া। আমরা সবসময় চেষ্টা করি আমাদের ভালো, ভালো পারফরমেন্সটা দেওয়ার।'
মাসুরা পারভীনরা এভাবেই সব সময় দর্শকদের আনন্দের কারণ হয়েছেন। সেটা যখন ফুটবল মাঠে ছিলেন তখন যেমন করেছেন, এখন দায়িত্ব যখন ফুটসাল কোর্টে, চিরচেনা সেই মাসুরার দেখাই মিলছে।

গত এক দশক ধরে ব্রাজিল ফুটবলের সমার্থক শব্দ হয়ে আছেন তিনি; দলের যেকোনো সংকটে বারবার আবির্ভূত হয়েছেন একমাত্র ত্রাতা হিসেবে। ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ বা কোপা আমেরিকার আরাধ্য ট্রফিটা ছোঁয়া না হলেও, বছরের পর বছর ধরে সেলেসাওদের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন তিনিই। কিন্তু চোটের ভয়াল থাবায় দীর্ঘ তিন বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকায় অনেকেই শেষ দেখছিলেন তাঁর।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, ৩৪ বছর বয়সী সেই মহাতারকা নেইমার জুনিয়রকে রেখেই যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। আর বিশ্বমঞ্চের দলে এই রূপকথার মতো প্রত্যাবর্তনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।
নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিও বার্তায় কান্নাভেজা চোখে নেইমার বলেন,
‘এই মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখা সত্যিই কঠিন। বিগত দিনগুলোতে আমরা যে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি, বিশেষ করে মানুষ আমাকে যেভাবে কষ্টের মুখোমুখি হতে দেখেছে—সেসব পেরিয়ে আজ এখানে পৌঁছানো এবং আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাওয়াটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমার চোখের এই জল স্রেফ খাঁটি আনন্দের।’
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেইমার আরও যোগ করেন,
‘আমাকে সমর্থন করার জন্য এবং আমার ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রতিটি ব্রাজিলিয়ানকে আমি মন থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমাদের সামনে লড়াই করার জন্য আরেকটি বিশ্বকাপ হাজির। আমরা ব্রাজিলে ট্রফি ফিরিয়ে আনার জন্য মাঠে নিজেদের জীবন বাজি রেখে খেলব, এটা নিশ্চিত।’
নেইমারের শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস নিয়ে শুরুতে অনেক বড় সংশয় থাকলেও, সান্তোসের হয়ে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন এই ফরওয়ার্ড। আনচেলত্তি নিজেই জানিয়েছেন, আসন্ন বিশ্বকাপে নেইমার তাঁর দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছেন। এই ডাক পাওয়ার মধ্য দিয়ে ৩৪ বছর বয়সী এই মহাতারকার সামনে ক্যারিয়ারের বহুল প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফিটি ছোঁয়ার শেষ সুযোগ তৈরি হলো। তবে ব্রাজিলের শুরুর একাদশে জায়গা করে নেওয়াটা নেইমারের জন্য মোটেও সহজ হবে না; কারণ এই মুহূর্তে দলে তাঁর পজিশনে ম্যাথিউস কুনিয়া এবং লুকাস পাকেতা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন ঘটছে দীর্ঘ তিন বছর পর। ফলে সেলেসাওদের জার্সিতে তাঁর দীর্ঘদিনের গোলের খরা কাটানোর এটিই সবচেয়ে বড় মঞ্চ। তাছাড়া, রদ্রিগো এবং এস্তেভাওয়ের মতো তারকাদের সাম্প্রতিক ইনজুরির কারণে আনচেলত্তির কৌশলে নেইমার এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন, কারণ বিশ্বমঞ্চের মতো কঠিন জায়গায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দলের জন্য যেকোনো মুহূর্তে নির্ধারক ভূমিকা পালন করতে পারে। শুধু মাঠের খেলাই নয়, নেইমারের ফেরার মাধ্যমে ব্রাজিল ড্রেসিংরুমে একজন সত্যিকারের দলনেতা বা ‘লিডার’ ফিরে পেল, যা সর্বোচ্চ স্তরের টুর্নামেন্টে লড়াই করার জন্য বড্ড প্রয়োজন।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কৌশল ইতিমধ্যেই অনেকটা স্পষ্ট। আক্রমণভাগের দুই উইংয়ে রাফিনিয়া এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে রেখে ছক কষছেন কোচ আনচেলত্তি। এরসঙ্গে মাঝমাঠে ‘অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার’ হিসেবে ম্যাথিউস কুনিয়ার নিয়মিত উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, কেমন হতে যাচ্ছে সেলেসাওদের মূল একাদশ। এমন এক সেটআপে নেইমারের ভূমিকা ঠিক কী হবে—তা নিয়ে যখন ফুটবলপাড়ায় তুমুল বিতর্ক, ঠিক তখনই আনচেলত্তি খোলসা করলেন তাঁর আসল পরিকল্পনা। ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড জানিয়েছেন, আসন্ন বিশ্বকাপে ৩৪ বছর বয়সী এই মহাতারকাকে ‘ইনসাইড ফরোয়ার্ড’ হিসেবে খেলানো হবে।
আল হিলালে থাকার সময় একের পর এক ইনজুরির ধাক্কায় নেইমারের খেলার ধরনে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। গতি বা পেস দিয়ে এখন আর প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের পরাস্ত না করলেও, উইঙ্গার থেকে তিনি এখন পুরোদস্তুর একজন সৃষ্টিশীল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারে রূপান্তরিত হয়েছেন। এখন তাঁর মূল শক্তি হলো নিখুঁত ড্রিবলিং, অসাধারণ ফুটবলীয় ভিশন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যূহ ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার মতো ‘থ্রু পাস’ দেওয়ার ক্ষমতা। আর নেইমারের এই জাদুকরী সৃষ্টিশীলতা দলের সামগ্রিক খেলার ধার বাড়াতে ব্যবহার করতে চান আনচেলত্তি; যা ম্যাথিউস কুনিয়া কিংবা লুকাস পাকেতারা জাতীয় দলের জার্সিতে ধারাবাহিকভাবে করতে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। আনচেলত্তির এই নতুন ছক বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলকে কাঙ্ক্ষিত সোনালী ট্রফি এনে দিতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।