৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:২৫ পিএম

৯ ফেব্রুয়ারি, জোন-জোন স্মাটস এমন একটি দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলবেন, যেখানে তিনি কখনোই পা রাখেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করা এবং প্রোটিয়াদের হয়ে খেলা স্মাটস ইতালির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডের অংশ। সেটা কিভাবে? বিয়ে মাধ্যমে পাসপোর্ট পাওয়ার পর। যদিও তিনি কখনো রোম, ফ্লোরেন্স বা ভেনিস দেখেননি, তবু মনে করেন ইতালিয়ান মানসিকতা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা আছে এবং নিজেকে সেখানে মানিয়ে নিতে পারছেন।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারতে দুবাইয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ইতালের দলের সঙ্গে থাকা স্মাটস বলেন, ‘ইতালিয়ানরা খুব আবেগপ্রবণ, তাই আমরা যখন খেলি সবটাই ফুটে ওঠে। আমি আমাদের আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম জয়েরও স্বাক্ষী হয়েছি। এটা স্পষ্টভাবে ইতালির বড় দেশের বিপক্ষে প্রথম জয়। আমরা মনে করি, এমন দলগুলোর সঙ্গে আমরা লড়াই করতে পারি।’
গত ১৯ বছর ধরে স্মাটস দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রিকেট খেলছেন। ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার তাঁর নিজ অঞ্চলের ইউনিয়ন ইস্টার্ন কেপ (এবং ওয়ারিয়ার্স ফ্র্যাঞ্চাইজ) এবং সম্প্রতি ডারবানের ডলফিনসের হয়ে। টপ অর্ডারে ধারাবাহিক, সাবলীল ব্যাটিং এবং বাঁ হাতের স্পিনের জন্য পরিচিত তিনি। ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের অংশ ছিলেন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য।
অবশ্য স্মাটস কখনো জাতীয়তা পরিবর্তন করে নতুন ক্যারিয়ার গড়ার বড় পরিকল্পনা করেননি; তার স্ত্রী জুদি পুরো পরিবারের জন্য ইতালিয়ান পাসপোর্টের ব্যবস্থা করার যাতে চেষ্টা করেন, যাতে ভ্রমণ সহজ হয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানো যায়। প্রায় চার বছর আগে স্মাটস তাঁর সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়েছিলেন।
তবুও, ৩৭ বছরে পৌঁছে তিনি কল্পনাও করেননি যে বিশ্বকাপের জন্য তাঁর ডাক আসবে। বিশেষ করে বিশ্বমঞ্চে একটি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মতো গুরুদায়িত্বের জন্য। তিনি বলেন,
‘আমি কখনো ভাবিনি যে বিশ্বকাপ খেলব, তবে আমি সবসময় আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলন করতে চেষ্টা করেছি, যাতে প্রয়োজন হলে খেলায় তীব্রতা বাড়াতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আমি খুব বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলিনি, কিন্তু যথেষ্ট খেলে বুঝেছি বিষয়টা কেমন। আমার শেষ কয়েকটি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আমি ভালো করেছি, তাই সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই ইতালির হয়ে খেলতে এলাম, জানি আন্তর্জাতিক মঞ্চের চ্যালেঞ্জ কী। আমি জানি এটা কত কঠিন হতে পারে, তবে জানি আমি এখনও এখানে অবদান রাখতে এবং ভালো পারফর্ম করতে পারি।’
স্মাটস ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৬টি ওয়ানডে এবং ১৬টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। করোনা মহামারির আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি ওয়ানডে-তে তার ৮৪ রানের ব্যাটিং এবং ২ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। তারপর দীর্ঘ বিরতি, দক্ষিণ আফ্রিকার দলীয় কাঠামোর বিপুল সমস্যা এবং দলে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে তিনি স্থায়ী জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। তবে তিনি কোনও আফসোস করেননি। ডানহাতি ব্যাটার বলেন,
‘প্রতিটি খেলোয়াড়ই সবসময় মনে করে আরও দীর্ঘ সময় খেলতে পারত, কিন্তু আমি জানি দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো ক্রিকেটার তৈরি করার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। আমিও ক্যারিয়ারটা আরও দীর্ঘ হোক, তবে আমাদের এখানে বিশ্বমানের কিছু সুপারস্টার আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার দল সবসময় প্রতিযোগিতামূলক, তাই কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারা সহজ, তবে তার পরে আবার ছিটকেও যেতে হয়।’
এর পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা নিয়ে খেলোয়াড়দের জন্য একজন দূত হিসেবে কাজ করার পন্থা বেছে নেন স্মাটস। স্মাটস তাঁর পুরো ক্যারিয়ার টাইপ ১ ডায়াবেটিস নিয়ে খেলেছেন। তিনি দিনে ‘ছয় থেকে আট বার’ আঙুলের ছোট পরীক্ষা করে রক্তে শর্করা যাচাই করেন এবং দিনে কমপক্ষে চারবার ইনসুলিন নিজেই নেন।
অসুস্থতার সঙ্গে লড়ায়ের গল্প নিয়ে স্মাটস বলেন, ‘ক্রিকেট খেলা মানসিক চাপ, অ্যাড্রেনালিন, ওঠানামা—সব মিলিয়ে খুব কঠিন। তবে আমি নিয়মিত আমার ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি, যিনি সব বুঝতে পারছেন। এটি এমন এক বিষয় যা আমি মোকাবিলা করেছি, তবে ক্যারিয়ারের পুরো অংশেই আমি এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি।’
ঘরোয়া ক্রিকেটেও ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ খেলছেন স্মাটস। এমনকি ৩০-এর পরে। গত গ্রীষ্মে, স্মাটস দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ওয়ান-ডে চ্যালেঞ্জে রান তালিকার শীর্ষে ছিলেন। ডিউওয়াল্ড ব্রেভিস এবং লুয়ান-ড্রে প্রেটোরিয়াসকে পেছনে ফেলেছেন এবং ৯ ইনিংসে ৬টি ফিফটি করে ডলফিনসকে কাপ জেতাতে সাহায্য করেছেন। এমন অভিজ্ঞ এক ক্রিকেটারকেই পেল ইতালি।
ইতালির বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সবচেয়ে অভিজ্ঞ স্মাটস ২৩০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। স্কোয়াডের মধ্যে তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট নেই আর কারওেই—১৩৩টি উইকেট নিয়ে এ তালিকাতেও শীর্ষে তিনি। সর্বোচ্চ রানের তালিকায় স্মাটসের (৫০০৬) চেয়ে এগিয়ে শুধু ওয়েইন ম্যাডসনের (৫৫১৬)।
নিজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার নিয়ে স্মাটস বলেন, আমি একমাত্র খেলোয়াড় যার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আছে, আর সবচেয়ে দারুণ বিষয় হলো আমি কত ভালোভাবে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছি এবং তারা আমাকে গ্রহণ করেছে। তারা অনেক প্রশ্ন করে, আপনার মতামত জানতে চায়, অন্য খেলোয়াড়দের সাহায্য চায়, এবং শুধু নিজের মতো থাকা চায়—আমি মনে করি এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
বিশ্বকাপে বাস্তাবতাও ভালোভাবেই জানা আছে স্মাটসের। তিনি জানেন, গ্রুপ ‘সি’তে ইতালির কাজ সহজ হবে না—যেখানে তারা পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বী স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে, এছাড়া আছে নেপাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ডও। এরপরও দল নিয়ে আশাবাদী স্মাটস, ‘খেলার ইতিহাস দেখিয়েছে, বিস্ময়কর ফলাফল সম্ভব। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই মানসিকতায় থাকা, যেখানে আমরা বড় দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করতে প্রস্তুত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মজা হলো, একজনের এক মুহূর্তের দারুণ পারফরম্যান্স পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এটা খুব রোমাঞ্চকর, কারণ আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের দেখাতে চাই, ইতালিয়ান ক্রিকেট আসলে কেমন।’
ইতালিতে ক্রিকেট এখনও তুলনামূলকভাবে ছোট, এবং ফুটবলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন মনে হলেও স্মাটস দেখাচ্ছেন কিভাবে অন্যান্য খেলাও এগিয়ে আসতে পারে। উদাহরণ হিসেবে রাগবি—২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ নিক ম্যালেটের নেতৃত্বে রাগবি অনেক জনপ্রিয় হয়েছে। ইতালির রাগবি দল বর্তমানে বিশ্বে দশম স্থানে, ওয়েলস, জাপান ও উরুগুয়ের মতো দেশের উপরে।
স্মাটস আশা করেন ক্রিকেটও এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। তিনি বলেন, ‘ইতালিতে আগে রাগবি তেমন জনপ্রিয় ছিল না, তবে উন্নতি দেখা দারুণ। ইতালির স্বপ্ন হলো ক্রিকেটেও এমন পরিবর্তন আনা, যাতে দ্রুত পরিচিতি পাওয়া যায়। এই বিশ্বকাপ সেই ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে, কারণ আমরা এখন বিশ্ব মঞ্চে খেলতে পারছি।’
যে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলছেন, সেই ইতালিতে কখনো নিজ চোখে দেখেননি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই যাব। ইতালির পরবর্তী কয়েক বছরের ক্রিকেট পরিকল্পনার সঙ্গে এটা যুক্ত। তারা এই গ্রীষ্মে একটি সুবিধাজনক স্থান তৈরি এবং একাধিক উইকেট সহ টার্ফ উইকেট নির্মাণের পরিকল্পনা করছে, যাতে রোমে ম্যাচ আয়োজন করা যায়। ইতালি আরও পেশাদার হওয়ার চেষ্টা করছে, ভবিষ্যতের ক্রিকেটারদের জন্য।’
No posts available.
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:১৩ পিএম
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:২৮ পিএম
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:১০ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিযান শুরুর আগেই বেশ ভুগেছে দুশ্চিন্তায় নিউ জিল্যান্ড। কিউই দলের একাধিক ক্রিকেটার ভাইরাসজনীত সমস্যায় ভুগছেন। চোটের সমস্যার সঙ্গে ভাইরাস সংক্রমণ মড়াঁর ওপর খাড়ার ঘাঁ হিসেবে হাজির হয়েছে।
ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটার রাচিন রাভিন্দ্রা ও ডেভন কনওয়ে। এছাড়া, টপ-অর্ডারের ব্যাটার ফিন অ্যালেনও কাঁধের চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য বিশ্রামে আছেন। বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচে আগামীকাল মুম্বাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ড। অসুস্থতার কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না রাভিন্দ্রা ও কনওয়ে। এছাড়া কাঁধের চোটে বিশ্রামে থাকবেন ফিন অ্যালেনও।
নিউ জিল্যান্ডের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার নিশ্চিত করেছেন যে রাভিন্দ্রা ও কনওয়ে দুজনই মুম্বাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া, শীর্ষ-অর্ডারের ব্যাটসম্যান ফিন অ্যালেনও কাঁধের চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য বিশ্রামে আছেন।
আরও পড়ুন
| মোস্তাফিজকে দলে পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার: লাহোর মালিক |
|
আজ সংবাদ সম্মেলনে ওয়াল্টার বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দলের মধ্যে কিছু অসুস্থতা রয়েছে। ডেভন ও রাচিন ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত, যা আন্তর্জাতিক সফরের একটি স্বাভাবিক অংশই বলা যায়।’
তিনি রাবিন্দ্রোর শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিউই কোচ যোগ করেন, ‘রাচিন আমার পাশের রুমে আছে, এবং পুরো রাত ধরে তার অবস্থার কথা শুনে ভালো লাগছে না। মনে হয় সে সত্যিই কষ্টে আছে।’ ভারতে পৌঁছানোর পর থেকে মোমেন্টাম ফিরে পেতে বেগ পেতে হচ্ছে নিউ জিল্যান্ডকে। অসুস্থ আছেন জিমি নিশামও।
ব্ল্যাক ক্যাপসরা প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্য নিয়ে আগামী রোববার চেন্নাইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে। উদ্বোধনী ম্যাচে পেশীর চোট সেরে ফেরার সম্ভাবনা আছে অলরাউন্ডার মাইকেল ব্রেসওয়েলের।
ভারতের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সিরিজ হারের পরও, শেষ টি-টোয়েন্টিতে লুকি ফার্গুসনের দুই উইকেট নেওয়া ওয়াল্টারের জন্য আশার একটি বড় দিক ছিল। অ্যাডাম মিলনের অনুপস্থিতিতে এই পেসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদী নিউ জিল্যান্ড কোচ।
বিশ্বকাপে ‘ডি’ গ্রুপে আছে নিউ জিল্যান্ড। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর মিচেল সেন্টনারের দল মুখোমুখি হবে যথাক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডার।

সরাসরি চুক্তিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে পেয়ে ভীষণ খুশি লাহোর কালান্দার্স মালিক সামিন রানা। তার মতে, বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই পেসারের মতো একজনকে পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার।
সামনের পিএসএলের জন্য ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপির (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ কোটি ৮১ লাখ টাকার বেশি) বিনিময়ে মোস্তাফিজকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে লাহোর। সবশেষ ২০১৮ সালের পিএসএলে লাহোরের হয়েই খেলেছিলেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার।
এর আগে ২০১৬ সালে পিএসএলের প্রথম সংস্করণে মোস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল লাহোর। তবে সেবার অনাপত্তিপত্রের ঝামেলায় পিএসএল খেলতে যাওয়া হয়নি বাঁহাতি পেসারের। প্রায় ৮ বছর পর আবার পিএসএল খেলতে দেখা যাবে তাকে।
মোস্তাফিজকে দলে নিয়ে আনন্দের শেষ নেই লাহোর মালিকের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির পেজে দেওয়া ভিডিওবার্তায় নিজের অনুভূতি জানিয়েছেন সামিন রানা।
আরও পড়ুন
| ‘বাংলাদেশি ভাই’ মোস্তাফিজকে সরাসরি দলে নিলো লাহোর |
|
“স্পষ্টতই তিনি (মোস্তাফিজ) পাকিস্তান সুপার লিগের জন্য যেমন বড় নাম, তেমনি বিশ্ব ক্রিকেটেরও বড় নাম। তাকে দলে নেওয়া যে কোনো দলের জন্যই অনেক সম্মানের বিষয়। তাছাড়া তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এবং ভালোবাসা অনেক পুরোনো।”
“১০ বছর আগে যখন পিএসএল শুরু হয়, আমার মনে আছে গোল্ড ক্যাটাগরিতে লাহোর কালান্দার্সের প্রথম পিক ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। দুর্ভাগ্যবশত তখন তিনি আসতে পারেননি। এনওসি সংক্রান্ত কিছু সমস্যা ছিল। তবে দুই বছর পর তিনি আসেন। আমরা তাকে দলে পেয়ে দারুণ উপভোগ করেছি। এখন বিশ্বজুড়ে যেভাবে তিনি পারফর্ম করছেন, অসাধারণ।”
এসময় সামিন রানা বলেন, মোস্তাফিজকে দলে পাওয়া তাদের জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার।
“আমি মনে করি, মোস্তাফিজের মতো একজন খেলোয়াড় পাওয়া লাহোরের জন্য সত্যিই সৌভাগ্যের ব্যাপার। যখন মোস্তাফিজ পিএসএলে সাইন করেছিল, তখনই আমাদের মাথায় ছিল যে আমরা তাকে নিতে চাই।”
“স্বাভাবিকভাবেই প্রথম বাধা ছিল রিটেনশন। সেটা হয়ে যাওয়ার পর আমরা আমাদের দলে কোথায় ফাঁক আছে, কোথায় মোস্তাফিজকে সবচেয়ে ভালোভাবে ফিট করানো যায়- সেটা দেখেছি। আর ফিজ সেখানে একদম আদর্শভাবে মানিয়ে যাচ্ছে।”
মোস্তাফিজের আগে শাহিন শাহ আফ্রিদি, আব্দুল্লাহ শফিক, সিকান্দার রাজা ও মোহাম্মদ নাঈমকে দলে নিয়েছে লাহোর। আফ্রিদির সঙ্গে মোস্তাফিজের জুটি বাধার অপেক্ষায় রোমাঞ্চিত সামিন রানা।
“আমি সত্যিই ভীষণ রোমাঞ্চিত শাহিন ও ফিজের কম্বিনেশনটা দেখার জন্য। ডেথ ওভার হোক বা মিডল ওভার, তাদের পারফরম্যান্স, বিশেষ করে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সগুলো ছিল দুর্দান্ত।”
আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি হবে পিএসএলের নিলাম। আর ২৬ মার্চ থেকে শুরু হবে পিএসএলের ১১তম সংস্করণ।

পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) শুরু হচ্ছে ২৬ মার্চ। এর আগে ১১তম আসরের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে ১১ ফেব্রুয়ারি। নিলামের আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো খেলোয়াড়দের সরাসরি দলে ভেড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।
নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি শিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার স্টিভেন স্মিথকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে। স্মিথের জন্য ফ্রাঞ্চাইজিটি খরচ করছে প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি, যা পিএসএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর ফলে তিনি বাবর আজমের বেতনের দ্বিগুণ বেতন পাচ্ছেন। প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে থাকা পাকিস্তানি ব্যাটার পাবেন ৭০ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি।
পিএসএলে দুটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত হওয়ার কারণে পুরোনো দলের রিটেনশন কোটা ৮ থেকে কমিয়ে ৪ করা হয়েছে। যাতে তারা চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে একজন করে খেলোয়াড় রিটেইন করতে পারে। সম্প্রতি রিটেইন করা খেলোয়াড়দের তালিকা প্রকাশ হয়েছে, যেখানে চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্লাটিনাম ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের বেতন ৭ কোটি রুপি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সূত্র মতে, কিছু ক্রিকেটার আনুষ্ঠানিক ঘোষিত বেতনের চেয়ে বেশি পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন
| পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট নিয়ে মুখ খুললেন সূর্যকুমার |
|
৩৬ বছর বয়সী স্মিথ সম্প্রতি শেষ হওয়া বিগ ব্যাশে দারুণ ছন্দে ছিলেন। এই আসরে তিনি করেছেন ২৯৯ রান, গড় প্রায় ৬০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৬৭.৯৭। একটি সেঞ্চুরি ও দুটি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে তার সংগ্রহে। স্মিথ বেশ কয়েকটি ম্যাচে পাকিস্তানের বাবর আজামের সঙ্গে ওপেনিং করেছেন।
শিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ দলে স্পষ্ট অস্ট্রেলিয়ান প্রভাব দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানি-বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান ব্যবসায়ী হামজা মাজিদের মালিকানাধীন দলটি ১৮৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দিয়ে কেনা হয়েছে, যা পিএসএলের আটটি দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক টিম পেইনকে ২০২৬ মৌসুমের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্টিভেন স্মিথকে দলে পাওয়ার বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে টিম পেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের একজন এখন পিএসএল স্ট্যালিয়নজের অংশ। আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং পিএসএল টি–টোয়েন্টির জন্য এটি বিশাল অর্জন।”

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচটি খেলবে না পাকিস্তান। পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগা বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছেন ক্রিকেট বোর্ডের হাতেই। এবার আলোচিত এই প্রসঙ্গ নিয়ে নিজের মতামত জানালেন ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।
পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিলেও, সূর্যকুমার স্পষ্ট করেছেন যে ভারতীয় দল তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোবে এবং ইতিমধ্যেই কলম্বো যাওয়ার জন্য টিকিটও বুক করা হয়েছে। বিশ্বকাপে অধিনায়কদের নিয়ে করা অনুষ্ঠানে আজ ভারতের অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের অবস্থা পরিষ্কার… আমরা খেলতে না বলিনি। ওরা না বলেছে। আইসিসি সূচি দিয়েছে। আমাদের কলম্বোর ফ্লাইট বুক করা আছে, আমরা যাচ্ছি। বাকিটা পরে দেখব।’
পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের জন্য ভালো কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তান অধিনায়ক আগার মতোই জবাব দিলেন সূর্যকুমার। জানালেন এটি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে, ‘তাদের সিদ্ধান্ত আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। আমাদের ১৫ তারিখ খেলা হবে বলে জানানো হয়েছে। আমরা এশিয়া কাপের সময় তিনবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে তাদের সঙ্গে খেলেছি। যদি কলম্বোতে সুযোগ আসে, আমরা আবার খেলব।’
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে চাপে থাকবে ভারত, বললেন ডি ভিলিয়ার্স |
|
এর আগে, পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলি আগা জানিয়েছিলেন যে, পাকিস্তান দল ভারত ম্যাচ বয়কট বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলবে। আগা বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে খেলা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি সরকারের সিদ্ধান্ত, আমরা তা সম্মান করি। যা কিছু তারা বলবে, আমরা তা করব।’
পাকিস্তান গ্রুপ পর্বে ভারতের সঙ্গে খেলছে না, কিন্তু টুর্নামেন্টে নকআউট পর্বেও দুই দলের দেখা হতে পারে। এমনটা হলে পাকিস্তান কী করবে সেই প্রশ্নের উত্তরও দিতে হয়েছে সালমানকে, ‘যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে তাদের বিপক্ষে খেলতে হয়, তাহলে আমাদের সরকারের কাছে যেতে হবে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হবে।’
গ্রুপ ‘এ’ তে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত ছাড়া একই গ্রুপে আছে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়া।

অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের প্রথম ম্যাচে টস জিতলেন লিটন কুমার দাস। আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন ধুমকেতু একাদশের অধিনায়ক। টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমেছে আকবর আলির নেতৃত্বাধীন দুরন্ত একাদশ।
আগে ব্যাটিং নেওয়ার কারণ হিসেবে মিরপুরের উইকেটের রহস্যময় আচরণের কথা বলেন লিটন। তার মতে, বিপিএলে আগে ব্যাট করা দলগুলো ভুগেছে মিরপুরে। তাই আগে ফিল্ডিং করে প্রতিপক্ষকে অল্পে আটকাতে চান ধুমকেতু অধিনায়ক।
অন্যদিকে নির্দিষ্ট কোনো সংগ্রহের কথা বলেননি আকবর। তবে মিরপুরের মাঠের গড়পড়তা পুঁজি দাঁড় করাতে চায় তার দল।
মাঠের লড়াই শুরুর আগে বিকেল ৪টা থেকে গানের সুরে স্টেডিয়াম মাতায় দেশের বিখ্যাত ব্যান্ড ওয়ারফেজ।
ধুমকেতু একাদশ:
তানজিদ হাসান তামিম, লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, শেখ মেহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, শামীম হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম
দুরন্ত একাদশ:
জিসান আলম, মাহফিজুর ইসলাম রবিন, আজিজুল হাকিম তামিম, আরিফুল ইসলাম, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, আকবর আলি (অধনায়ক), রিপন মন্ডল, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, এসএম মেহেরব হাসান, নাহিদ রানা, রকিবুল হাসান