১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৩ এম

সমালোচনার জবাবটা আগে দিলেন মাঠে, তারপর কথায়ও ছাড়লেন না শাদাব খান। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স নিয়ে সাবেকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে আর চুপ থাকলেন না পাকিস্তানি অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
দেশের সাবেক দুই তারকা শহিদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ইউসুফের বক্তব্যের পাল্টা জবাবে লেগ স্পিনিং এই অলরাউন্ডার মনে করিয়ে দিলেন, ২০২১ সালের ঐতিহাসিক ভারত–জয়ের কথা।
গত রোববার কলম্বোতে ভারতের কাছে হারের পর সাবেক অধিনায়ক আফ্রিদি প্রকাশ্যে বলেন, বাজে পারফরম্যান্সের কারণে বাবর আজম, শাহিন আফ্রিদি ও শাদাব খানকে একাদশের বাইরে রাখার কথা ভাবা উচিত।
আরও পড়ুন
| দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও জিততে পারল না আর্সেনাল |
|
একই সুরে ইউসুফও বলেন, বাবর, আফ্রিদি ও শাদাবদের সময় ফুরিয়েছে। এখন বেঞ্চের শক্তি পরখ ও তরুণদের সুযোগ দেওয়া দরকার।
বুধবার নামিবিয়ার বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচ জিতে পাকিস্তানের সুপার এইট নিশ্চিত হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ক্রিকেটারদের সমালোচনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরিই পাল্টা জবাব দেন শাদাব।
“আমাদের সাবেক ক্রিকেটারদের নিজেদের ভাবনা ও মত আছে। তারা পাকিস্তানের জন্য অনেক কিছু করেছেন। কিন্তু সত্যিটা হলো, বিশ্বকাপে তারা কখনও ভারতের বিপক্ষে জিততে পারেননি। আমরা পেরেছি, ২০২১ সালের (টি-টোয়েন্টি) বিশ্বকাপে।”
“বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে আমাদের একমাত্র জয় ওই একটিই। তারা কিংবদন্তি, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে উল্লেখযোগ্য কিছু তারা করতে পারেননি।”
২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়েছিল পাকিস্তান। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাবর আজমের নেতৃত্বে সেটিই ছিল বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের প্রথম জয়।
নামিবিয়ার বিপক্ষে শাদাবের দিন ছিল স্মরণীয়। ব্যাটিংয়ে ২২ বলে অপরাজিত ৩৬ রানের ইনিংস খেলার করার পর বল হাতে নেন ৩ উইকেট, সঙ্গে আউটফিল্ডে একটি ক্যাচ- সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন ম্যাচের সেরাদের একজন।
এমন পারফরম্যান্সের পর নিজেকে ঘিরে চলা সমালোচনার ব্যাপারে অবশ্য শান্ত ও স্পষ্ট উত্তর দেন শাদাব।
আরও পড়ুন
| অস্ট্রেলিয়ার ব্যর্থতায় হেইডেনের কণ্ঠে হতাশা |
|
“সমালোচনা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সবাই নিজের মতো করে ভাববে। আমি ফিরে আসার পর একটা ওভার খারাপ গিয়েছিল- সেটার জন্যই এত কথা। কিন্তু আমাকে কিছু প্রমাণ করতে হবে না।”
“টি-টোয়েন্টিতে খারাপ দিন আসতেই পারে। রান দিতে পারেন, আবার উইকেটও নিতে পারেন। আমি যেটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি, সেটাতেই মন দিই।”
No posts available.
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:২৬ পিএম

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আন্ডারডগ তকমা ভেঙে একের পর এক চমক দেখাচ্ছে জিম্বাবুয়ে। গ্রুপ পর্বে সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন—অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবেই সুপার এইটে উঠেছে সিকান্দার রাজার দল।
১৩ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬ উইকেটের দাপুটে জয় পায় জিম্বাবুয়ে। ম্যাচে ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। চারটি ছক্কায় গড়া সেই ইনিংসের সঙ্গে যুক্ত হয় ব্যক্তিগত এক রেকর্ডও। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক এখন রাজাই—১৬ ছক্কা। এত দিন শীর্ষে থাকা এলটন চিগাম্বুরার (১২) রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন তিনি।
গত আসরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগই পায়নি জিম্বাবুয়ে। তবে এবার সুযোগ পেয়েই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছে দলটি। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই জিম্বাবুয়ে টুর্নামেন্টে বড় কিছু করে দেখাতেই পারে। সেই সম্ভাবনার কথা অস্বীকার করছেন না রাজাও।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে রাজা বলেন,
“আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোচ্ছি। ২১ তারিখে পৌঁছাব, ২২ তারিখে অনুশীলন করব—তারপর শুরু হবে আসল লড়াই। যা হওয়ার, হবে। তিন ম্যাচের মধ্যে যদি দুটো জিততে পারি, তাহলে কে জানে কী হয়ে যেতে পারে! সবাই তো আন্ডারডগের গল্পই ভালোবাসে।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“আমরা সামনে তাকিয়েই চলছি। বর্তমানের দিকেই যদি চোখ রাখি, তাহলে মনে হয়—আমাদের খুব বেশি কেউই সুযোগ দেয়নি। কিন্তু এখন আমরা এমন জায়গায় আছি, যেখানে সবার মন জয় করছি, সম্মান আদায় করছি। এই জায়গাটা দারুণ।”
ম্যাচের টস হারের প্রসঙ্গ টেনে রাজা বলেন,
“টস হারার পর ছেলেদের একটাই কথা বলেছিলাম—আমরা যদি সত্যিই ভালো ক্রিকেট খেলি, তাহলে টস কেন গুরুত্বপূর্ণ হবে? বোলিং করে বুঝেছি, ফিঙ্গার স্পিনাররা খুব একটা টার্ন পাচ্ছে না। তাই ওদের চাপে ফেলা সম্ভব ছিল।”
টসে জিতে আগে ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কা তোলে ৭ উইকেটে ১৭৮ রান। বর্তমান বিশ্বকাপে রানবন্যার উইকেটে এই স্কোর তাড়া করা সম্ভব বলেই মনে করেছিলেন রাজা। তাঁর দল সেটাই প্রমাণ করে দেয়—৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। এটি টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়।
রাজা বলেন,
“বিরতিতে ড্রেসিংরুমে এসে আমি বলেছিলাম—ওরা ১০ রান কম করেছে। আমরা প্রতিটা পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। কখন কাকে নামাতে হবে, সেটা পরিষ্কার। তাই ড্রেসিংরুমে এমন আত্মবিশ্বাস।”
সুপার এইটের মঞ্চে এবার তাই জিম্বাবুয়ে শুধু অংশগ্রহণকারী নয়—তারা এক সম্ভাবনার নাম। আর সেই সম্ভাবনার গল্প যে আরও বড় হতে পারে, তার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন অধিনায়ক নিজেই।

সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে শনিবার ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আহমেদাবাদে এই বাঁচা–মরার ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী বার্তাই দিলেন প্রোটিয়া পেস অলরাউন্ডার কারবিন বশ। তাঁর মতে, এই ম্যাচে স্বাগতিকদের চেয়ে এগিয়ে থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
বৃহস্পতিবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদসম্মেলনে বশ বলেন,
“আহমেদাবাদে একাধিক ম্যাচ খেলতে পারায় আমরা ভাগ্যবান। মাঠটা সম্পর্কে আমাদের ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে। সামনে আরও দুটি ম্যাচ এখানেই খেলব। কন্ডিশন বুঝেই পরিকল্পনা সাজানো হবে। ভারতের প্রতিটি ক্রিকেটারকে মাথায় রেখেই নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকবে—দল হিসেবে আমরা সব সময় এভাবেই কাজ করি।”
নিজেদের এগিয়ে রাখলেও ভারতকে হালকাভাবে নিচ্ছে না প্রোটিয়ারা। প্রতিটি ভারতীয় ব্যাটারের ওপরই থাকবে বাড়তি নজর।
বশের ভাষায়,
“ভারতের ব্যাটিং খুব আক্রমণাত্মক। ওদের বিরুদ্ধে জিততে হলে আমাদের সেরা ক্রিকেটটাই খেলতে হবে। প্রত্যেক ব্যাটারকে আলাদা করে পরিকল্পনায় রাখতে হবে। নির্দিষ্ট কারও নাম টানতে চাই না।”
দক্ষিণ আফ্রিকা দলে সাধারণত চতুর্থ পেসার হিসেবে সুযোগ পান বশ। তবে কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিদি ও মার্কো ইয়ানসেনের মতো তারকাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
নিজের ভূমিকা নিয়ে বশ বলেন,
“এত মানসম্পন্ন পেসারদের সঙ্গে একই দলে থাকা গর্বের। তবে সম্মানের সঙ্গে দায়িত্বও আসে। আমাদের বোলিং আক্রমণের মান খুবই উঁচু। আমরা একে অপরের পাশে থাকি, দল হিসেবে বোলিং করি। ব্যক্তিগতভাবে কোনো চাপ অনুভব করি না।”
সুপার এইটের মঞ্চে ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বৈরথ তাই শুধু পয়েন্টের লড়াই নয়, দুই শক্তিশালী দলের কৌশল আর মানসিক দৃঢ়তারও বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপের দলগুলোকে দেখে অনেকেই প্রায় নিশ্চিত ছিলেন শ্রীলঙ্কা আর অস্ট্রেলিয়াই সুপার এইটের টিকিট কাটবে। তবে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে যে বড় দল ছোটো দল বলে কিছু নেই সেটা আরেকবার প্রমাণ করল শক্তিমত্তায় এই দুই দল থেকে ঢের পিছিয়ে থাকা জিম্বাবুয়ে। বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে পৌঁছানো দলটি একম্যাচ বাকি রেখেই পৌঁছে যায় সুপার এইটে। অস্ট্রেলিয়ারকে কাঁপিয়ে দেওয়ার পর এবার সিকান্দার রাজাদের কাছে ধরাশায়ী শ্রীলঙ্কাও।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে জিতেছে ৬ উইকেটে। প্রথমে ব্যাটিং করা শ্রীলঙ্কা ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান তোলে। জবাবে ৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। টি-টোয়েন্টিতে এটি জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রাত তাড়া। ২০২৩ সালে নামিবিয়ার বিপক্ষে ১৯৯ রান তাড়ায় করে জেতা সর্বোচ্চ তাদের।
২৬ বলে ৪৫ করে ম্যাচ সেরা হন সিকান্দার রাজা। চারটি ছক্কা মেরে দারুণ একটি রেকর্ডও গড়েন জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের হয়ে সবচেয়ে বেশি ছয় মারা ব্যাটার এখন রাজা। ১২টি ছক্কা হাঁকানো এলটন চিগাম্বুরাকে টপকে যাওয়া রাজার ছয় এখন ১৬টি।
গ্রুপ ‘বি’তে ওমানের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা জিম্বাবুয়ে এরপর হারায় অস্ট্রেলিয়াকে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় নিশ্চিত হয় তাদের সুপার এইট, আর বাদ পড়ে অজিরা। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে গ্রুপসেরার জায়াগাও দখলে নেয় রাজা বাহিনী। সুপার এইটে জিম্বাবুয়ের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
রান তাড়ায় উড়ন্ত সূচনা পায় জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান ব্রেনেট ও তাদুওয়ানাশে মারুমানির শুরুর ৬৯ রানের জুটিই জয়ের ভিত গড়ে দেয়। ২৬ বলে ৩৪ করা মারুমানিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন দানিথ ভেল্লালেগে। দলীয় ৯৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ১২ বলে ২৩ করা ব্রায়ান বার্ল আউট হন দাসুন শানাকার বলে।
এরপর ব্রেনেট-রাজার ৬৯ রানের জুটি জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয় জিম্বাবুয়েকে। লঙ্কান বোলারদের পিটিয়ে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৫ করেন রাজা। জয় থেকে ১২ রান দূরত্বে থেকে আউট হন রাজা। ১৯তম ওভারে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ককে ফেরানোর পর তাসিঙ্কা মুসেকিওয়াকেও আউট করে হঠাৎ ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান দুশান হেমন্থা।
শেষ ওভারে লক্ষ্য দাড়ায় ৮ রান। থিকাসানার ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে সেটা দুইয়ে নামিয়ে আনেন টনি মুনিয়োঙ্গা। এরপর সিঙ্গেল নিয়ে প্রান্ত বদলের পর চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন ৪৮ বলে ৬৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা ব্রেনেট।
এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং নামা শ্রীলঙ্কার শুরুটা ছিল দারুণ। পাওয়ার প্লেতে ৬১ রান তোলে তারা। পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল পেরেরার উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৫৪ রান। ১৪ বলে ২২ রান করা পেরেরাকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন ব্লেসিং মুজাবারানি।
তারপর দ্বিতীয় উইকেটে কুশল মেন্ডিসকে নিয়ে ৪৬ রানের আরেকটি জুটি গড়েন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা নিশাঙ্কা। এরমধ্যে ৩৪ বলে ফিফটি করা নিশাঙ্কা গ্রায়েম ক্রিমারের শিকার হওয়ার আগে করেন ৪১ বলে ৬২ রান। টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। কুশল মেন্ডিসকে টপকে যাওয়া ২৭ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটার ৮৭ ইনিংসে করেছেন ২৬৩৬ রান। যাকে টপকে শীর্ষে উঠেছেন সেই মেন্ডিস ২০ বলে ১৪ করে আউট হন।
১২ ওভারে ১০০ করা শ্রীলঙ্কা বাকি আট ওভার থেকে তোলে ৭৮ রান। চারে নামা পাভান রাথনায়াকে খেলেন ২৫ বলে ৪৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস।
জিম্বাবুয়ের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মুজাবারানি, ব্র্যাড ইভানস ও ক্রেমার।

২০২৬ বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের আগে অভিষেক শর্মাকে ‘স্লগার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন মোহাম্মদ আমির। সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে, যখন ভারতের তরুণ ওপেনার কুড়ি কুড়ির বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ দিয়ে শূন্য যাত্রা শুরু করা অভিষেক সবশেষ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ইনিংসের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে আউট হন। আরিয়ান দত্তের বল পুল শট খেলতে গিয়ে গড়বড় করে ফেলেন ২৫ বর্ষী অভিষেক। তাতে বল স্টাম্পে ভেঙে দেয়। তিন ম্যাচে মাত্র আট বল খেলেই এটি ছিল তাঁর টানা তৃতীয় ডাক।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ ডাকের রেকর্ডে এখন অভিষেকের নাম। তিনি যোগ দিয়েছেন স্বদেশি আশিস নেহরার সঙ্গে। সামগ্রিকভাবে তালিকার শীর্ষে পাকিস্তানের শাহিদ আফ্রিদি ও শ্রীলঙ্কার তিলকারত্নে দিলশান—দু’জনেরই ডাক পাঁচটি করে।
আজ পাকিস্তানের টিভি শো ‘গেম অন হাই’-এ কথা বলতে গিয়ে অভিষেকের বিষয়টি সামনে এনেছেন মোহাম্মদ আমির। এ সময় স্বদেশি সাইম আইয়ুবের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
আমিরের ভাষায়, সাইম শুরুতে চোখ না দেখেই বড় শট খেলত। তখন তার দুর্বলতা বোঝা যায়নি। কিন্তু এখন অফ স্টাম্পের বাইরে বল করলে সে সমস্যায় পড়ে। অফ সাইডের খেলায় উন্নতি না করলে এগোনো কঠিন—ভালো বোলাররা সব সময় দুর্বল জায়গায় আঘাত করে।
অভিষেককে নিয়ে আমির বলেন,
“অভিষেক চায় প্রতিটা বল ব্যাটের নাগালে আসুক, যেন মারতে পারে। কিন্তু বড় মঞ্চে বা ওয়ানডেতে চাপের ক্রিকেটে প্রতিটা বল মারা যায় না। সালমান আলী আগা আর আরিয়ান দত্ত তাকে একইভাবে আউট করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তোমার আসল চেহারা বের করে দেয়।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিয়মরক্ষার ম্যাচে ইতালিকে ৪২ রানে হারিয়ে গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচ জিতে সুপার এইটে পা রাখল ক্যারিবিয়রা।
আজ আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৬৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ১৮ ওভারে ১২৩ রানে গুটিয়ে যায় ইতালি।
কলকাতার ইডেন গার্ডেনে টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইতালি। ৩১ রানে দুই উইকেট হারিয়ে শুরুটা ভালো হয়নি উইন্ডিজের। তৃতীয় উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন রোস্টন চেজ ও শাই হোপ। এক প্রান্ত আগলে রেখে ২৮ বলে ফিফটি তুলে নেন ওপেনিংয়ে নামা হোপ।
চেজ ২৫ বলে ২৪ রান করে ফিরে যান বেন মানেত্তির বলে। খানিক পর রোভমান পাওয়েলকে ফেরান তিনি। পরের ওভারে ক্রিশান কালুগামেজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান চেজ। তাঁর ৪৬ বলে ৭৫ রানের ইনিংসে ছিল ৪ টি চার ও ৬ টি ছক্কার মার।
শেষদিকে শেফার্নে রাদারফোর্ডের ১৫বলে ২৪ ও ম্যাথিউ ফোর্ডের ৮ বলে ১৬ রানের ক্যামিওতে লড়াকু পুঁজি পায় উইন্ডিজ।
শুরুতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইতালি। এন্টনি মসকা (১৯), জেজে স্মাটস (২৪), বেন মানেত্তি (২৬) ভালো শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষ হওয়ার আগেই অলআউট হয়ে যায় প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা দেশটি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে শামার জোসেফ ৪ টি, ম্যাথিউ ফর্ডে ৩টি ও গুদাকেশ মোতি ২ উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন শাই হোপ।