
দুই দলের র্যাঙ্কিংয়ে ফারাক আকাশ-পাতাল। বাংলাদেশের ১১২ এবং উত্তর কোরিয়ার ৯। তারপরও সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে খেলতে নেমে প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে গেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। তবে ইনজুরি টাইমে গোল হজম, রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারায় শেষটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের।
এএফসি এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচে ব্যর্থতায় শেষ আটে যাওয়ার রাস্তা কঠিন হয়ে পড়েছে লাল-সবুজ দলের।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার জানালেন নিজেদের দুর্বলতা এবং ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার টার্নিং পয়েন্ট।
আরও পড়ুন
| দুই মিনিটে জোড়া গোল হজম ঠেকাতে চেয়েছিলেন বাটলার |
|
তিনি বলেন, ‘আশা ছিল আমরা অনেক ভালো খেলব, ফাইট করব। সেটাই করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ফার্স্ট হাফের শেষ কয়েক মিনিটে ম্যাচটি আমাদের থেকে ছুটে যায়।’
অস্ট্রেলিয়ায় তুলনামূলক গরম পড়ছে । যা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য অন্যতম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। ম্যাচ চলাকালীন হাঁসফাঁস করতে দেখা যায় আফঈদা খন্দকারদের।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা যেখান থেকে এসেছি, বাংলাদেশেও এতটা গরম ছিল না। যেহেতু কিছুদিন আগে এসেছি, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
গ্রুপ পর্বে টানা দুই ম্যাচে হার। চীনের বিপক্ষে হারের পর উত্তর কোরিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে নারী ফুটবলাররা। লাল সবুজ দলের পরবর্তী ম্যাচে প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। তাদের বিপক্ষে জয় পেলে সেরা তৃতীয় দলের একটি হয়ে শেষ আটে যাওয়ার সুযোগ মিলতে পারে বাংলাদেশের।
টানা দুই ম্যাচ হারের কারণে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে গেল কিনা, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে আফঈদা বলেন, ‘আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো পরের রাউন্ডে যাওয়ার। উজবেকিস্তান ম্যাচ এখনো আমাদের হাতে আছে। আশা করি আমরা ভালো করতে পারবো তাদের বিপক্ষে।’
No posts available.
৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২৭ এম
৬ মার্চ ২০২৬, ১১:১৬ এম
৬ মার্চ ২০২৬, ১০:০৯ এম

দেশের নম্বর ওয়ান গোলকিপার এবং গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী রুপনা চাকমাকে বসিয়ে এএফসি এশিয়ান কাপে মিলি আক্তারকে সুযোগ করে দেন পিটার বাটলার। এশিয়া সেরা টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ নিজেদের দুটি ম্যাচে হারলেও গোলকিপার মিলির দৃঢ়তা বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। লাল সবুজ দলের কোচের চোখে মিলি একজন সত্যিকারের ফাইটার। তার ভবিষ্যৎ বেশ উজ্জ্বল।
সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরের উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমে ৫ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে বাটলারের দলের বিপরীতে আরও কয়েকটি গোল বেশি হতো। সম্ভবয় হয়নি মিলির কারণে। অন্তত পাঁচটি গোল ঠেকিয়ে দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন
| মিলি নৈপুন্যের পর শক্তিশালী কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারল বাংলাদেশ |
|
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিলি সম্পর্কে বাংলাদেশের কোচ বলেন, ‘মিলি একজন সত্যিকারের ফাইটার। সে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। তাঁর পটভূমি বিবেচনা করলে জীবনের প্রতি তার জেদ এবং উদ্দীপনার প্রশংসা আপনাকে করতেই হবে। তার সঙ্গে কাজ করা দারুণ।’
রুপনা চাকমা নিয়মিত গোলকিপার হওয়া সত্ত্বেও এশিয়ান কাপের দুই ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন মিলি। বাটলার বলেন, ‘সে এই সুযোগটি পাওয়ার যোগ্য এবং মেয়েটির জন্য আমার কেবল প্রশংসাই আছে। মাঝে মাঝে তাকে অনেক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।’
প্রথম ম্যাচে চীনের বিপক্ষে দুই গোল এবং শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫ গোল হজম। এক্ষেত্রে রক্ষণছাড়াও গোলকিপারের ওপর দায়িত্ব বর্তায়। বাটলার বলেন, ‘তবে হ্যাঁ, এশিয়ান কাপের মতো এই স্তরে আসার পর আমাদের গোলকিপিং বিভাগটি একটি দুর্বল জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু মিলির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। তাকে কেবল কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে এবং মাটিতে পা রেখে চলতে হবে। খুব বেশি উত্তেজিত হওয়া যাবে না।’
৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে ৭ গোল হজম করায় কোয়ার্টার ফাইনালের পথটি এখন বেশ বন্ধুর। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলে সেরা তৃতীয় দলের একটি হয়ে শেষ আটে যাওয়ার সুযোগ মিলতে পারে বাংলাদেশের।

শুক্রবার সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে শুরু থেকে উত্তর কোরিয়ার মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলে একটা সময় গোলশূন্য বিরতিতে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুই মিনিটের মধ্যে দুই গোল হজম করে লাল সবুজের মেয়েরা। দ্বিতীয়ার্ধেও দেখা গেছে এমন চিত্র। এমনকি চীনের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে হারা ম্যাচেও গোল হয়েছিল পরপর দুই মিনিটে।
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে পরপর গোল হজম ঠেকাতে ভিন্ন পরিকল্পনা করেন বাটলার। আগের ম্যাচের চীনের বিপক্ষে প্রথমার্ধের শেষ দিকে খেই হারিয়ে সর্বনাশ ডেকে আনেন আফঈদা খন্দকাররা। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে কারণে আজ প্রথমার্ধ বিরতির আগেই একসঙ্গে ৩ পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশে কোচ পিটার বাটলার।
আরও পড়ুন
| মেসির দিকে তাকিয়ে ট্রাম্প বললেন— তুমিই বিশ্বের সেরা ফুটবলার |
|
৪৪ মিনিটে মাঠে নামেন স্বপ্না রানী, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী এবং উমেহ্লা মারমা। উঠে যান শামসুন্নাহার জুনিয়র, আইরিন খাতুন ও তহুরা খাতুন। সেই পবির্তনের কারণ ব্যাখ্যায় ম্যাচ শেষে বাটলার বলেছেন, ‘অনুভব করেছি হাফটাইমে যাওয়ার আগে এটি প্রয়োজন ছিল। কারণ অতিরিক্ত সময় মিলে আরও প্রায় ১০ মিনিট বাকি ছিল খেলা। আমার মনে ছিল যে চীনের বিপক্ষে গত ম্যাচে ক্লান্তির কারণে আমরা ৪২, ৪৩ বা ৪৪ মিনিটের দিকে দুটি গোল খেয়েছিলাম। আমি কেবল সতেজতা আনতে চেয়েছিলাম এবং আসলে আরও ৫-১০ মিনিট আগেই পরিবর্তনগুলো করতে চেয়েছিলাম। এটাই ছিল পেছনের যুক্তি। কেউ বলবে এটি সঠিক, কেউ বলবে ভুল, কিন্তু আমার মনে হয়েছে আমাদের ক্লান্ত দেখাচ্ছিল এবং হাফটাইমে যাওয়ার আগে একটু নতুন গতির প্রয়োজন ছিল।’
খেলোয়াড়দের ব্যর্থতায় যদিও কোচের পরিকল্পনা এদিন কাজে লাগেনি। খানিক পরই নিজেদের বক্সে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে টেনে মাটিতে ফেলে দেন আফঈদা খন্দকার। পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় উত্তর কোরিয়া। ওই গোল হজমের এক মিনিট পর আরও এক গোল হজম করে বাংলাদেশ। যে কারণে বাটলারের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত কাজে দেয়নি।
বাংলাদেশের পরের ম্যাচ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। ৯ মার্চ ওই ম্যাচটি গড়াবে পার্থে। এর আগে বাংলাদেশের প্রথম দুই ম্যাচ হয়েছে সিডনিতে। পার্থে মাঠে নামার আগে মাঝে দুই দিন সময় পাবে বাংলাদেশ।
অনেকের কাছেই বাংলাদেশের আসল লড়াইটা হবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। টুর্নামেন্টে একমাত্র যাদের বিপক্ষে জয়ের আশা করে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ। আর শেষ ম্যাচ জিতলে মিলবে শেষ আটের টিকিটও। এই ম্যাচ নিয়ে বাটলার আজ বলেন, ‘মেয়েরা এখন আইস বাথ নেবে। কাল আমরা পার্থে যাব এবং নিজেদের প্রস্তুত করব। আমি জানি আমি কোন সিস্টেমে খেলাব। চেয়েছিলাম বড় কোনো ইনজুরি ছাড়াই এই ম্যাচটি শেষ করতে। এটি মেয়েদের জন্য একটি দুর্দান্ত শেখার সুযোগ।’
উজবেকিস্তানও বাংলাদেশের চেয়ে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বেশ এগিয়ে। বাংলাদেশ ১১২-তে আর উজবেকিস্তান তালিকার ৪৯ নম্বরে। বাংলাদেশের চেয়ে তারা এএফসি এশিয়ান কাপেও খেলেছে বেশিবার। উজবেকিস্তান ম্যাচের আগে তাই প্রত্যাশায় লাগাম টানতে চাইলেন বাটলার, ‘আপনারা যা ভুলে যান তা হলো এই দলটির গড় বয়স ১৯.৫ বছর। আর প্রতিপক্ষের গড় বয়স ২৩-২৪ বছর। তাই আমরা একটি ভিন্ন শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছি। আমরা আবার লড়াই করব হাসিমুখে এবং আমাদের সেরাটা দেব। যদি সেটা যথেষ্ট হয় তবে ভালো, আর না হলে জীবন তার গতিতে চলবে।’

এমএলএস কাপ জয়ের স্মারক হিসেবে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হয় চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মায়ামির ফুটবলারদের। লুইস সুয়ারেজ, রদ্রিগো দি পলের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
যুক্তরাষ্ট্রে পেশাদার ও কলেজ ক্রীড়ায় চ্যাম্পিয়ন দলকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ এবং প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন জানানোর রীতি দীর্ঘদিনের। এবারও সেটির ব্যতিক্রম ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে জমকালো অনুষ্ঠানে পরিচয় পর্বের পর ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন করেন মিয়ামির ফুটবলাররা। এসময় ট্রাম্প বলেন, “এটা আমার জন্য সম্মানের যে, এমন কথা বলছি যা আগে কোনো প্রেসিডেন্ট বলেননি—হোয়াইট হাউসে স্বাগতম, লিওনেল মেসি।”
এরপর ট্রাম্প জানান, তাঁর ছেলে ব্যারন মেসির বড় ভক্ত। পাশাপাশি তিনি রোনালদোর নামও উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন
| ৫-০, ৬-০ কিংবা ৭-০ গোলের হার লজ্জার নয়, বললেন বাটলার |
|
ট্রাম্প বলেন, “আমার ছেলে (ব্যারন) তোমার বড় ভক্ত। সে মনে করে তুমি দারুণ একজন মানুষ। সে তোমার ভক্ত, আর আরেকজনেরও—রোনালদো। ক্রিস্টিয়ানোও অসাধারণ। ফুটবলে এমন অনেক বড় চ্যাম্পিয়ন আছে।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের কথাও তোলেন এবং মেসির সঙ্গে তুলনার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি মজা করে বলেন, “আমি জানি না, হয়তো তুমি আরও ভালো। কে সেরা?”—এ কথা বলে ইন্টার মায়ামি দলের দিকে ঘুরে তাকান ট্রাম্প। পরে মেসির দিকে ইশারা করে বলেন, “আমার মনে হয় এই (মেসি) জনই।”
গত ডিসেম্বর এমএলএস কাপ ফাইনালে ভ্যাঙ্কুভার হোটয়াইটসক্যাপসকে ৩–১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে মায়ামি। সেই ম্যাচে দুইটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন মেসি।
এএফসি এশিয়ান কাপে আরও একটি কঠিন দিন পার করেছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার কাছে আজ ৫-০ গোলে হেরেছে পিটার বাটলারের দল। বড় ব্যবধানের পরাজয় হলেও প্রতিপক্ষ কারা সেটি বিবেচনা করতে বলেছেন বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন,
‘আমি মেয়েদের সমালোচনা করতে পারি না, কারণ তারা সেই স্তরেই নেই।’
এশিয়ান কাপে আগের ম্যাচে চীনের কাছে ২-০ গোলে এবং আজ উত্তর কোরিয়া কাছে বড় ব্যবধানের হার। দুটি দলই এএফসি এশিয়ান কাপের সাবেক চ্যাম্পিয়ন। এই হারের পর মেয়েদের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি বাটলার। তিনি বলেছেন,
‘আজ আমরা একটি অসাধারণ দলের বিপক্ষে খেলেছি। সম্ভবত এশীয়ান ফুটবলের অন্যতম সেরা। আমাদের সত্যিকারের ফুটবলের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। শক্তি ও টেকনিক্যাল সক্ষমতার দিক থেকে তারা আমাদের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে ছিল। আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারিনি এবং ৫-০, ৬-০ বা ৭-০ গোলে হেরে যাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়।’
শুক্রবার সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে শুরু থেকে প্রতিপক্ষের আক্রমণের গোলা সামলে একটা সময় গোলশূন্য বিরতিতে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। যদিও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দেন অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। ডেডলক ভাঙার দুই মিনিটের মধ্যে আরও এক গোল দেয় উত্তর কোরিয়া।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা সময় উত্তর কোরিয়াকে গোলবঞ্চিত রাখা গেলেও সেই দুই মিনিটের ফাঁদে পরে বাংলাদেশ। এবার ৬২-৬৪ মিনিটের মধ্যে আবারও দুই গোল হজম করে বাংলাদেশের মেয়েরা। আগের ম্যাচে চীনের বিপক্ষেও পরপর দুই মিনিটে জোড়া গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ। এ নিয়ে বাটলার বলেন,
‘আমি দুঃখিত বা হতাশ নই, আমি আসলে এই মেয়েদের জন্য গর্বিত। আমি অবশ্যই হতাশ নই। আচ্ছা, আপনি কি কখনও প্রতিপক্ষ দলের কথা ভেবেছেন যাদের বিরুদ্ধে আমরা খেলছি? ৩০ মিনিট পর তো ৩, ৪ বা ৫ গোলও হয়ে যেতে পারত। আমি বিশ্বাস করি মেয়েরা তাদের সবটুকু দিয়েছে। আমরা কেবল যথেষ্ট ভালো ছিলাম না।’
বাংলাদেশ দুই ম্যাচে হারলেও এখনো শেষ আটে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আগামী ৯ মার্চ শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হারালেই মিলতে পারে সেই সুযোগ।
শুরু থেকে উত্তর কোরিয়ার একের পর এক আক্রমণ সামলে গোলশূন্য বিরতিতে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ দিকে দুই মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল হজম করল লাল সবুজের মেয়েরা। দ্বিতীয়ার্ধেও অনেকটা সময় গোলবঞ্চিত রাখা গেল কোরিয়াকে, কিন্তু আবার দুই মিনিটে দুই গোল হজম। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হারা ম্যাচে বাংলাদেশের প্রাপ্তি গোলকিপার মিলি আক্তারের অসাধারণ পারফরম্যান্স।
এএফসি এশিয়ান কাপে শুক্রবার সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এদিন প্রথমার্ধে হয়েছে দুই গোল। দ্বিতীয়ার্ধে হয় আরও তিনটি গোল। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে চীনের সঙ্গে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে মোট ৭ গোল হজম করলো লাল সবুজের মেয়েরা। বিপরীতে প্রতিপক্ষের জালে একবারও বল পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ।
পরপর দুই ম্যাচ জিতে ‘বি’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের শীর্ষে উত্তর কোরিয়া। তারা সুপার এইট নিশ্চিত করেছে। এক খেলায় এক জয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে চীন। আজ দুপুর ২টায় উজবেকিস্তানকে মোকাবিলা করবে চীনের মেয়েরা্। নিজেদের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে জয়ের খোঁজে তালিকার তিনে থাকা উজবেকিস্তান।
কোরিয়ার কাছে এদিন পরাজয়টা আরও বেশি হলেও হতে পারত। তবে গোলকিপার মিলি আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও অসাধারণ খেলেছেন। সমীকরণ বলছে অন্তত ৬টি পরিষ্কার গোল তিনি সেভ করেছেন। এমনকি ওয়ান অন ওয়ান সিচুয়েশনেও তিনি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে হারিয়েছেন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে যারা ৯ নম্বর দল, তাদের বিপক্ষে হার অনুমিতই ছিল। ব্যবধান আরও বড় হতে দেননি ২০ বছর বয়সী গোলকিপার মিলি।
এ ছাড়া এদিন বাংলাদেশের হয়ে উল্লেখ করার মতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি কেউ-ই। অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার আগের ম্যাচের মতোই ছিলেন নিস্প্রভ। তাঁর ভুলেই ডেডলক ভাঙে উত্তর কোরিয়া। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের নিখুঁত পাসিং ফুটবলের জবাবও ছিল না বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য।
পঞ্চম মিনিটে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয় মিলি আক্তারকে। বক্সে ঢুকে হান জিং হংয়ের নেওয়া গতিময় শট ক্ষীপ্রতায় ঠেকিয়ে দিয়েছেন তিনি। যদিও পরে দেখা যায় অফসাইড ছিলেন কোরিয়ান ফরোয়ার্ড।
১১ মিনিটে আবারও উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ ঠেকান মিলি। এবারও ফরোয়ার্ড হান জিন হংয়ের নিরাশ করেছেন বাংলাদেশ গোলকিপার। মিলির নৈপূণ্য বাদ দিলে এই সময় পর্যন্ত বাংলাদেশ কিছুটা ছন্নছাড়া ছিল। যার সুযোগ কাজে লাগিয়ে উত্তর কোরিয়া জালের দেখা পায় ১৪ মিনিটের মাথায়। বক্সের ভেতর বল পেয়ে উত্তর কোরিয়াকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড কিম কিয়ং ইয়ং। যদিও হ্যান্ডবলের কারণে এই যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। এর আগে চীনের বিপক্ষেও শুরুতে ভিএআরের কারণে গোল হজম করেও বেঁচে গিয়েছিল লাল সবুজের মেয়েরা।
২৬ মিনিটে আরও একবার ভিএআর রিভিউয়ে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। কিম সং ইয়ংয়ের কর্নার থেকে হ্যান ঝিং হংয়ের হেড ঠেকিয়ে দেন মিলি। কিন্তু মিলির ধরে রাখা বলে শট দিয়ে গোল করেন মিও ইয়ো ঝং। ৩১ মিনিটে আরও একবার জালের দেখা পায় কোরিয়া। এবার অফসাইডে থাকার কারণে গোল বাতিল হয় কোরিয়ার।
প্রথম আধা ঘন্টায় এদিন কোনো আক্রমণ শানাতে পারেননি ঋতুপর্ণা, মনিকারা। প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণে গোলা সামলেছেন আফঈদা, নবিরনরা। বাংলাদেশের বক্সে কোরিয়ান মেয়েরা আতঙ্ক ছড়িয়েছেন পুরোটা সময়। দুই উইং দিয়ে একের পর এক ক্রস দিয়েছেন তারা। তাদের ফরোয়ার্ডরা প্রায় সময়ই থেকেছেন আনমার্ক।
৩৮ মিনিটে কিয়ং ইয়ংয়ের হেড ফিরে আসে বারে লেগে। পেনাল্টির আবেদন হলে এবারও ভিএআর যায় বাংলাদেশের পক্ষে। দুই মিনিট পর হান ঝিং হংয়ের শট বাঁদিকে ঝাপিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন মিলি, বলের নাগাল পাননি তিনি। বল বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট দিয়ে।
বিরতির আগেই তিন পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। মাঠে নামেন স্বপ্না রানী, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী এবং উমেহ্লা মারমা। উঠে যান শামসুন্নাহার জুনিয়র, আইরিন ও তহুরা। যোগ করা সময়ের ৪ মিনিটের মাথায় মিলির দারুণ সেভ।
পরের মিনিটে পেনাল্টি পায় কোরিয়া। হান ঝিংকে বক্সে ফেলে দেন আফঈদা। পেনাল্টির বাশি বাজান রেফারি। সফল স্পটকিক নেন মিয়ং জং। দুই মিনিটের মাথায় কিম কিয়ং ইয়ংয়ের গোলে জোড়া গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় কোরিয়া। এখানেও ছিলেন ডিফেন্ডার আফঈদা, বাংলাদেশ অধিনায়ক ট্যাকলের বদলে লাফিয়ে উপরে উঠলে তাঁর পায়ের নিচ দিয়েই নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন কোরিয়ান ফরোয়ার্ড।
আগের ম্যাচেও আফঈদার ভুলের মাশুল দিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে রক্ষণ থেকে আফঈদাকে নয়, নবিরনকে তুলে বিরতির পর উন্নতি খাতুনকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ। এই ম্যাচে সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হলো ২০ বছর বয়সী উন্নতির।
৬০ মিনেটর মধ্যে পরপর দুটি সেভ করেন মিলি। খানিক পর দুই মিনিটে পরপর দুই গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। ৬২ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার হয়ে তৃতীয় গোল করেন চা উন ইয়ং। গোলকিপারের এগিয়ে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ৬৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন কিম কিয়ং ইয়ং।
৭০ মিনিটে মিলির অসাধারণ সেভ। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ব্যবধান ৫-০ করেন কিম হাই ইয়ং। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে উত্তর কোরিয়া।
বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৯ মার্চ, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে।