
গত মৌসুমে চুক্তি নবায়ন যখন করেন, তার আগে থেকেই জোর গুঞ্জন ছিল রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হওয়ার। শেষ পর্যন্ত লেভারকুসেনেই থেকে গেলেও থেমে থাকেনি জাবি আলোনসোর স্প্যানিশ ক্লাবটির কোচ হওয়ার খবর। আগামী মৌসুমে যদি রিয়ালের প্রস্তাব আসে, তাহলে কী করবে তার বর্তমান ক্লাব? লেভারকুসেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফার্নান্দো ক্যারো স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাবেক ক্লাবের ডাকে আলোনসোকে বাধা দেবেন না তারা।
লা লিগায় শিরোপার লড়াইয়ে থাকা রিয়ালকে কোপা দেল রের ফাইনালে নিয়ে গেলেও চাপে রয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ক্লাবটির প্রস্থানের পর থেকে বাতাসে ভাসছে তার বিদায়ের খবর। আর তার উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসছে আলোনসোর নাম, যিনি খেলোয়াড় হিসেবেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন রিয়ালকে।
সোমবার সাংবাদিকদের সাথে এক আলাপচারিতায় জার্মান ক্লাবটির ফার্নান্দো ক্যারো বলেছেন, আলোনসোর সাথে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা।
“আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা আমাদের ক্লাবে কোনও কোচিং পরিবর্তন আসছে কিনা, তা জেনে যাব। তবে এখানে মূল ব্যাপার হল, আমরা খুব পেশাদার একটা ক্লাব এবং আমাদের যেকোনও কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
২০২২ সালে লেভারকুসেনের কোচ হন আলোনসো। গত বছর তার সাথে চুক্তি নবায়ন করা হয় ২০২৬ সাল পর্যন্ত। তবে ওই সময়ই খবরে এসেছিল, রিয়াল বা লিভারপুলের মত ক্লাবের প্রস্তাব এলে তিনি যৌথ সম্মতিকে ক্লাব ছাড়তে পারবেন। যদিও স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ী এই মিডফিল্ডার বারবার বলেছেন, তিনি চুক্তির শেষ পর্যন্ত থাকতে চান।
ফার্নান্দো ক্যারো অবশ্য বাস্তবতাকেই এগিয়ে রাখছেন আগে, যেখানে খুব শীঘ্রই তাদের কাছে প্রস্তাব আসতে পারে রিয়ালের কাছ থেকে।
“আমরা জাবিকে সাইন করার সময় থেকেই আমরা জানতাম তিনি একজন দুর্দান্ত কোচ হতে যাচ্ছেন। আর যে মুহুর্তে তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, তখন থেকেই আপনাকে অন্য আরেকজনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
নিজের সময়ের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার আলোনসোর তার খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের সময় রিয়াল ছাড়াও খেলেছেন রিয়েল সোসিয়েদাদ, আইবার, লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে।
কোচ হওয়ার প্রস্তাবে আলোনসোর সাবেক ক্লাবটির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখাতে চায় লেভারকুসেন।
“২০২৬ সাল পর্যন্ত তাকে সাইন করে আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল যে তিনি এখানে থাকবেন। আমরা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি এবং যে কোনও ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারি। তার সাথে আমাদের জেন্টেলম্যান চুক্তি রয়েছে। সেখানে তিনি যে দলগুলোয়ে খেলেছেব, তারা যদি প্রস্তাব দেয় তাহলে আমরা আলোচনায় বসতে পারি।”
২০২২ সালের অক্টোবর থেকে লেভারকুসেনের প্রধান কোচের দায়িত্বে আছেন আলোনসো। গত মৌসুমে তার কোচিংয়ে ইতিহাস গড়ে অপরাজিত থেকে প্রথমবারের মত বুন্দেসলিগা শিরোপা জেতে ক্লাবটি। তার অধীনে তারা ডিএফবি-পোকাল, ডিএফএল-সুপারকাপও জেতে। আর ইউরোপা লিগ শেষ করে রানার্সআপ হয়ে।
No posts available.
২৯ মার্চ ২০২৬, ৫:১০ পিএম

৪৮ দলের অংশগ্রহণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিসরে শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের চুড়ান্ত পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে ৪২ দল। ইউরোপীয় ও আন্তমহাদেশীয় অঞ্চলের ৬ দল অধীর অপেক্ষায়। ৩১ মার্চ ফয়সালা হবে তাদেরও।
১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসতে যাওয়া বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও দুই মাসের বেশি সময় বাকি। অথচ ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ, আমেরিকার ভিসা নীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ ৬ কারণে এই প্রতিযোগিতা অনিশ্চয়তার ছায়ায়।
ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ: বিশ্বকাপ যতই ঘনিয়ে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়। টুর্নামেন্টে ইরানের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচ মার্কিন মুলুকে। তেহরান থেকে বারবার ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করা হলেও ফিফা এখনও পর্যন্ত ফিরতি উত্তর দেয়নি।
ইরানের ভেন্যু পরিবর্তনের বাহনার মূলে—আমেরিকা। তেল আবিব ও তেহরান যুদ্ধে ইসরায়েলের বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে ইসরায়েল। দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ইন্ধন ও সহযোগিতার কারণে প্রথম দিকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যু ব্যতিত যেকোনও ভেন্যুতে খেলতে রাজি। আর ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানলুইজি ইনফান্তিনো আশ্বাস দিয়েছেন, বিশ্বকাপে ইরানকে স্বাগত জানানো হবে। তবে ট্রাম্প নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেননি। সবকিছু বিবেচনায় বিষয়টি আরও জটিলতার দিকে যাচ্ছে, যা প্রভাব ফেলতে পারে বিশ্বকাপে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন বেশ উত্তপ্ত। অবৈধ অভিবাসন রোধ ছাড়াও ইরানের বিপক্ষে ইসরায়েলের হয়ে যুদ্ধের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না আমেরিকার অনেক রাজনীতিবিদ। ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ইউএস ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সংস্থার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জানুয়ারিতে আইস হেফাজতে ছয়জনের মৃত্যুরে ঘটনা ঘটে।
ড্রাগ কার্টেল সহিংসতা: মেক্সিকোতে জালিস্কো ড্রাগ কার্টেলের সহিংসতা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্বকাপের জন্য বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এটি। কার্টেল নেতা নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনী ও কার্টেলের মধ্যে বেশ কয়েকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
যদিও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য ১ লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা: ‘বিশ্বকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত’— ফিফা প্রেসিডেন্ট এমন ঘোষণা দিলেও বাস্তবতার নিরিখে ঠিক তার উল্টোটাই ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেক ভক্তই সমস্যায় পড়ছেন। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যা বেআইনি অভিবাসন রোধের চেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
ফলস্বরূপ, সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের ভক্তদের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। আর ইরান ও হাইতির ভক্তরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ঝামেলায় পড়তে পারেন। তাছাড়া ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম’ অনুযায়ী কয়েকটি দেশের ভক্তদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত দিতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য।
টিকিটের উচ্চ দাম: বিশ্বকাপে সবচেয়ে কমদামি টিকিটের মূল্য ৬০ মার্কিন ডলার। এ নিয়ে আন্দোলন কম হয়নি। ফ্যান গ্রুপগুলোর অভিযোগ—টিকিটের আসল দাম অনেক বেশি এবং সাধারণ ভক্তদের জন্য এটি বহনযোগ্য নয়।
ফিফা অভিযোগ তুলেছে, এই টিকিটগুলো অনেক আগে বিক্রি হয়ে গেছে এবং বিজ্ঞাপনে দেখানো দাম আসলেই পাওয়া যায় না। এছাড়া পুনঃবিক্রয় বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও আছে। টিকিটের দাম বিশ্বকাপ থামিয়ে দেওয়ার মতো বড় ঘটনা না হলেও, সমালোচনা তীব্র হতে পারে বিশ্বকাপ চলাকালীন।
মাঠ ও আবহাওয়া: যেসব ভক্ত যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন, তাদের জন্য মাঠের পরিস্থিতি এবং আবহাওয়া একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে কয়েকটি মাঠ খারাপ অবস্থায় ছিল। এ নিয়ে খেলোয়াড় ও কোচরা অসন্তুষ্ট প্রকাশ করেছিলেন। গরমের কারণে বিরতি বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছিল। ফিফা তিন মিনিটের হাইড্রেশন বিরতি ঘোষণা দিয়েছিল। তবে কিছু সমালোচক মনে করেন এটি শুধুমাত্র টিভি বিজ্ঞাপনের সুবিধার জন্য।

স্প্যানিশ ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই উত্তেজনা যেন আরও উগরে উঠেছে। বিশেষ করে ‘নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারি’ ঘিরে দুই ক্লাবের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বার্সেলোনার পুনর্নির্বাচিত সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা। দায়িত্বে ফিরেই আবারও রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাপোর্তা বলেন, ‘নেগ্রেইরা মামলায় তাদের সম্পৃক্ততার পর থেকেই আমাদের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। অনেক দিন ধরেই তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’
এর আগে নেগ্রেইরা ইস্যুতে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। তদন্ত প্রক্রিয়াতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখে ক্লাবটি। সেই ঘটনার জেরেই দুই ক্লাবের সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নিয়েও দুই ক্লাবের অবস্থান ভিন্ন হয়ে যায়। একসময় যৌথভাবে এই প্রকল্পে থাকলেও পরে সরে দাঁড়ায় বার্সেলোনা। লাপোর্তা বলেন, ‘আমরা সুপার লিগ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি হচ্ছিল না। আগেই আমরা বিষয়টি জানিয়েছিলাম।’
বার্সেলোনা সভাপতি যোগ করেন, ‘উয়েফা ইউরোপীয় ফুটবলের স্থায়িত্ব বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেটাও আমাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।’
তবে সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন রেফারিং প্রসঙ্গে। লাপোর্তার দাবি, রেফারিরা বার্সেলোনাকে সুবিধা দেন না, বরং রিয়াল মাদ্রিদই বেশি সুবিধা পায়। তাঁর ভাষায়, ‘আমার সবসময়ই মনে হয়েছে আমাদের অনেক ভালো খেলতে হয়, কারণ রেফারিরা আমাদের পক্ষে থাকে না। এখানে মনে হয় সবসময় রিয়ালকেই সহায়তা করা হয়। তাদের বার্সেলোনা-ইটিস আছে, এটা স্পষ্ট।’
নেগ্রেইরা কেলেঙ্কারি নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন লাপোর্তা। তাঁর দাবি, বার্সেলোনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে পাল্টা অভিযোগ তুললেন, ‘আমরা এমন একজনকে নিয়োগ দিয়েছিলাম, যিনি আগে রেফারি কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন—এ নিয়ে আমাদের সমালোচনা করা হচ্ছে। অথচ তাদের সঙ্গেই রেফারি কমিটির সভাপতিদের যোগসূত্র ছিল।’
লাপোর্তার এই মন্তব্য স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুই ক্লাবের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে এমন বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের দাগ এখনও দগদগে। এরই মধ্যে রাফিনিয়ার চোট বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে ব্রাজিলকে। বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ার মুহূর্তেই জানা গেল, ডান পায়ের বাইসেপস ফেমোরিসে চোট পেয়েছেন বার্সেলোনা উইঙ্গার। তাঁর মেডিক্যাল রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করেনি ব্রাজিল। তবে সত্যিকার অর্থে চোট গুরুতর হলে একমাসের বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে রাফিনিয়াকে।
রাফিনিয়া ইস্যুতে খারাপ সংবাদ মিললেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়ে বার্সেলোনা ও ব্রাজিলের আকাশে যে মেঘ জমেছিল তা ধীরে ধীরে সরে গেছে। ফরাসিদের বিপক্ষে ম্যাচে চোটের শঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত গুরুতর কিছু হয়নি এই তারকা লেফট উইঙ্গারের। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুশীলনে না থাকলেও, দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে না ভিনিকে।
১ এপ্রিল ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রীতি ম্যাচের অনুশীলনে ভিনিকে রাখেননি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অরল্যান্ডোতে দলের অনুশীলনে না থাকলেও একাকী জিমে ঘাম ঝরাচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ লেফট উইঙ্গার। ফ্রান্সের বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচের পর পেশিতে টান অনুভব করায় শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এখন আর সে ভয় নেই
স্প্যানিশ ক্রীড়া সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মিগুয়েল এঞ্জেল দিয়াজ জানিয়েছেন,
“ভিনিসিয়ুস ভালো আছেন” এবং “ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে না খেললেও সেটা শুধু সতর্কতার জন্য।”
আগামী সপ্তাহে মায়োর্কার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচে ভিনির খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বড় স্বস্তির কারণ হবে কোচ আলভারো আরবেলার জন্য। যিনি আগেই কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোটে দুশ্চিন্তায় আছেন।
চোট গুরুতর না হওয়ায় ক্লাবের ম্যাচের দিকে নজর ভিনিসিয়ুয়েসের। লা লিগায় দ্বিতীয় স্থানে থেকে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছেন আরবেলা। সে জায়গায় ভিনির উপস্থিতি হতে পারে বড় নিয়ামক।

জিনেদিন জিদান ও মার্কো মাতেরাজ্জি—ফুটবল ইতিহাসের আলোচিত সেই মুহূর্তের পর কেটে গেছে প্রায় দুই দশক। ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই ‘হেডবাট’ ঘটনার পর আজ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে কোনো কথা বলেননি তাঁরা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাতেরাজ্জি নিজেই জানিয়েছেন এই তথ্য। তাঁর ভাষায়, ‘এই গ্রীষ্মে ২০ বছর হয়ে যাবে জিদানের সেই হেডবাটের। কিন্তু এখনো আমাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। আমার কোনো আক্ষেপও নেই।’
২০০৬ সালে জার্মানির বার্লিনে বিশ্বকাপ ফাইনালে দেখা হয়েছিল ফ্রান্স ও ইতালি। ম্যাচটি টাইব্রেকারে জিতে শিরোপা ঘরে তোলে ইতালি। তবে শিরোপার চেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে ওঠে ম্যাচের শেষদিকে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা—মাতেরাজ্জির বুকে মাথা দিয়ে আঘাত করেন জিদান। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ফরাসি কিংবদন্তিকে।
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর ও স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে এখনো সেই ঘটনাটি আলোচিত। কিন্তু ঘটনাটি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কখনো আলোচনা হয়নি দুজনের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে কখনো কথাও হয়নি।
মাতেরাজ্জি বলেন, ‘আমি কি জিদানের সঙ্গে কথা বলেছি? এখনো না। আমার জন্য এটা কোনো সমস্যা নয়। ফুটবলে ৯০ মিনিটের মধ্যে আপনি দলের জন্য সবকিছু করতে পারেন। কিন্তু রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর আমার কাছে সব শেষ।’
সে ঘটনা মনে রাখেননি মাতেরাজ্জি। বলেছেন জিদানের প্রতি সম্মানের কথাও, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট পরই আমার কাছে বিষয়টি শেষ হয়ে গিয়েছিল। জানি না জিদানের কাছে কেমন ছিল। তবে তার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা আছে। রিয়াল মাদ্রিদে কোচ হিসেবেও সে অনেক চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে। সে আমার কাছে একজন কিংবদন্তি।’
ঘটনার পেছনের কারণ নিয়েও কথা বলেছেন মাতেরাজ্জি। তিনি স্বীকার করেন, জিদানকে উসকানি দিতে গিয়ে তিনি তার বোন সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘সে আমাকে তার জার্সি দিতে চেয়েছিল। আমি বলেছিলাম, ‘না, আমি তোমার বোনকে পছন্দ করি।’
এই বর্ণনা জিদানের আগের বক্তব্যের সঙ্গেও মিলে যায়। জিদান একসময় বলেছিলেন, মাতেরাজ্জি তাঁর বোনকে অপমান করেছিলেন, যা তাঁকে উত্তেজিত করে তোলে। পরে নিজের আচরণের জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন ফরাসি তারকা।
ক্যারিয়ারে ফিফা বিশ্বকাপ ২০০৬ ফাইনালের সেই লাল কার্ডের ঘটনা জিদানের উজ্জ্বল সাফল্যকেও আড়াল করে দেয়। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ইউরো জয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।
মাতেরাজ্জিও ইতালির হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলে ইন্টার মিলানের হয়ে একাধিক সিরি আ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফুটবল ইতিহাসের সেই মুহূর্ত এখনো অমলিন। আর জিদান ও মাতেরাজ্জি নীরবতাও যেন সেই স্মৃতিকে আরও রহস্যময় করে রেখেছে।

শনিবার ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলে আজ সুইমিং আর রিকভারি সেশন করেই দিন পার করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দল। বুধবার ম্যাচের আগে আরও দুই দিন সময় পাবে মার্ক কক্সের দল। বিগ ম্যাচের ধকল সামনে আপাতত নিজেদের গোছাতে মনোযোগী বাংলাদেশ। ১ মার্চ নেপালকে হারাতে আত্মবিশ্বাসী লাল সবুজের ছেলেরা।
রোববার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পাঠানো ভিডিও বার্তায় কথা বলেছেন ডেকলান সুলিভান। গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচের একটিতেও খেলা হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন একাডেমির এই ফুটবলারের। যদিও ভারতের বিপক্ষে রক্ষণে ছিল ভুলের মহড়া। অনেকেই মনে করেন সেই সমস্যা সমাধান হতে পারে ডেকলানকে দিয়ে।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ডেকলানকে খেলানো হবে কি না সেটি নিশ্চিত নয়। তবে নিজেকের পুরোপুরি ফিট রাখছেন তিনি। সতীর্থদের সঙ্গে সময়টাও ভালো কাটছে বলে জানান। সেই সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন ১৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার,
‘দলের সঙ্গে আমাদের রিকভারি সেশন মাত্র শেষ হলো। সেশনটা বেশ ভালো ছিল। একটা কঠিন ও বড় ম্যাচের পর শরীরটাকে একটু সচল করে নেওয়া সবসময়ই ভালো। আমাদের লড়াই থামবে না। পরের ম্যাচে আমাদের জিততেই হবে এবং তারপর পুরো টুর্নামেন্টটাই আমাদের জিততে হবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য।‘
ডেকলানের মতো ভালো কিছুর আশায় ইব্রাহীম হাসিব নেওয়াজও। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯০ মিনিটের মাথায় নামানো হয় তাঁকে। আর পরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ইব্রাহীমকে বেঞ্চেই বসিয়ে রাখায় হয়। ইংল্যান্ডের ক্লাব ওয়ালটন অ্যান্ড হারশাম এফসির এই মিডফিল্ডার আজ বলেছেন তারা সময়টা উপভোগ করছেন। নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে যাওয়ার ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী।
প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের ম্যাচে ভারতের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। আগামী ১ এপ্রিল সেখানে নেপালের মুখোমুখি হবে কক্সের দল।
প্রতিযোগিতার এই আসরের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে নেপালকে হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার আরও একটি শিরোপার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। গোলকিপার কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘গত দুই ম্যাচ আমাদের দলের খেলোয়াড়দের ওপর ধকল গেছে। এখন সবাই রিকভারি করছে। সামনে একটা বড় ম্যাচ। খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে সবটাই করা হচ্ছে। আশা করছি সেমিফাইনালে নেপালকে হারিয়ে আমরা ফাইনালে উঠবো।’
একই দিন আরেক সেমিফাইনালে ভারতের সামনে ভুটান। বাংলাদেশের গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ ভুটানকে পেয়েছে দলটি।