
প্রথম লেগে বার্সেলোনা তিন গোল হজম করায় রক্ষণভাগ নিয়ে একটা চিন্তা ছিলই। ঘরের মাঠে উজ্জীবিত ইন্তার মিলান কাউন্টার এটাকে শুরুটা করল দুর্দান্ত। বিরতির আগেই দুই গোল খেয়ে কোনঠাসা হয়ে গেল হান্সি ফ্লিকের দল। দারুণ এক কামব্যাকে একে একে তিন গোল দিয়ে এক পর্যায়ে বার্সেলোনাই পাচ্ছিল জয়ের সুবাস। তবে এই ইন্তার যে হার মানার নয়। ইনজুরি ও অতিরিক্ত সময়ের দুই গোলে শেষ হাসি হাসল সিমোনে ইনজাগির দল।
সান সিরোতে বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে বার্সেলোনাকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে ইন্তার। দুই লেগ মিলিয়ে ইতালিয়ান ক্লাবটি জিতেছে ৭-৬ ব্যবধানে। ২০২৩ সালের পর আবারও দলটি খেলবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ থাকবে আর্সেনাল বা পিএসজি।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোলের ভালো একটি সুযোগ তৈরি করেছিল বার্সেলোনা। ডান দিক থেকে গতিতে ইন্তার ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে বক্সে প্রবেশ করেন ইয়ামাল, অপেক্ষায় ছিলেন ট্যাপ-ইনের। তবে পাস না বাড়িয়ে গোলের জন্য শট নিয়ে ব্যর্থ হন ফেররান তরেস।
আরও পড়ুন
| পর্তুগাল দলে ডাক পেলেন ছেলে, ‘গর্বিত’ বাবা রোনালদো |
|
ম্যাচের প্রথম দিকে বার্সেলোনার অফসাইড ট্র্যাপ এড়িয়ে আক্রমণে যেতে বেশ সংগ্রাম করতে হচ্ছিল ইন্তারকে। এই ম্যাচের আগে চলতি মৌসুমে এই ম্যাচের আগে ৭৪ বার প্রতিপক্ষকে অফসাইডে ফেলেছে দলটি।
১৭তম মিনিটে আলেসান্দ্রো বাস্তোনি ইন্তারের বক্স থেকে বলের দখল নিয়ে লম্ব ক্রস বাড়ান, বার্সেলোনার হাই লাইন ডিফেন্সকে বিপদে ফেলে বল নিয়ে ফেদেরিকো দিমার্কো পাস দেন লাউতারোকে। তবে তার শট লক্ষ্যে থাকেনি আর, এর আগে ক্লিয়ার হয়ে যায়।
মিনিট তিনেক বাদে ডান দিক থেকে কাট করে বক্সে প্রবেশ করে নিকোলা বারেল্লার নেওয়া জোরাল শট কোনোমতে সেভ করে ওয়েচেজ সেজনি। তবে বার্সেলোনার অফসাইড ট্র্যাপ পার করে শেষ পর্যন্ত ইন্তারের লিড নেওয়ায় ভূমিকা রাখেন প্রথম লেগে জোড়া গোল করা ডেনজেল ডামফ্রিস।
পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে তড়িৎ গতিতে বল পেয়ে ডান দিক থেকে বল নিয়ে বক্সে প্রবেশ করেন তিনি। বার্সেলোনার রক্ষণভাগের চেয়ে বক্সে ইন্তারের খেলোয়াড়ই বেশি। সেজনি এগিয়ে এসে ক্লিয়ার করতে গেলে তাকে ফাঁকি দিয়ে ফাঁকায় থাকা লাউতারোকে পাস দেন ডামফ্রিস, যেখান থেকে জাল খুঁজে নিতে ভুল করেননি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৩ ম্যাচে এটি লাউতারোর ৯ নম্বর গোল। এই গোলটি ইন্তারের জন্য গুরুত্বছিলপূর্ণ ছিল, কারণ এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আগে গোল দিয়ে এই লড়াইয়ের আগে ১০ ম্যাচের একটিতেও হারেনি সেরি আর ক্লাবটি। আর সব মিলিয়ে এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের শেষ ৪৯টি হোম ম্যাচে মাত্র একটিতে আগে গোল করে হারের রেকর্ড ছিল ইন্তারের।
আরও পড়ুন
| মিলান কাব্যে ধরাশায়ী বার্সা, ফাইনালে ইন্তার |
|
ওই গোলের খানিক বাদে ইন্তারের বক্সের ভেতর পেদ্রির শট প্রতিপক্ষের একজনের হাতে লাগলে ওঠে পেনাল্টির দাবি। তবে রেফারি তা নাকোচ করে দেন।
৩৬তম মিনিটে বিরতির আগে নিজেদের সেরা সুযোগটা পায় বার্সেলোনা। বক্সের বাইরে থেকে ইন্তারের কয়েকজন খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে পেছনে ফেলে ডান দিক থেকে একটা শট নেন, যা শেষ চলে যায় অল্পের জন্য পোষ্টের বাইরে দিয়ে। অল্পের জন্য ট্যাপ-ইন করতে ব্যর্থ হন তরেস।
তবে একের পর এক আক্রমণে ইন্তারকে ব্যতিব্যস্ত রাখেন ইয়ামাল, যাকে নিয়ে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ সতর্ক বার্তা দিয়েছিলেন দলটির কোচ সিমোনে ইনজাগি। ডাবল মার্কিং করে তার পরিকল্পনা ছিল ইয়ামালকে আটকানোর।
তবে কাজটা ক্রমেই কঠিন থেকে কঠিন হয়ে ওঠে। ৩৯তম মিনিটে ফের গতি দিয়ে ডি-বক্সে প্রবেশ করেন ইয়ামাল। তবে ছয় গজের ভেতর শেষ সময়ে দুর্দান্ত এক স্লাইড ট্যাকেল করে সেযাত্রায় দলকে রক্ষা করেন বাস্তোনি।
এরই মাঝে ম্যাচের ধারার বিপরীতে পেনাল্টি হজম করে বসে বার্সেলোনা। লাউতারোকে আটকাতে বক্সের ভেতর ফাউল করেন পাউ কুবার্সি। ঠাণ্ডা মাথায় বাঁদিকে বল জালে পাঠান হাকান কালহানোগলু।
দুই গোল খেয়ে বেশ চাপে পড়ে যাওয়া বার্সেলোনা বিরতির আগে মাত্র ছয়টি শট থেকে একটি রাখতে পারে লক্ষ্যে। ৫১তম মিনিটে ফের ইন্তার বল জালে পাঠালেও এবার আর গোল মেলেনি অফসাইডের কারণে।
এর ঠিক দুই মিনিট পর বার্সেলোনার ক্যামব্যাকের সূচনা করেন এরিক গার্সিয়া। জটলার মধ্যে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক ভলিতে সান সিরোতে স্তব্ধতা নিয়ে আসেন তিনি। সেই গোলের রেশ না কাটতেই আরও একটি গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিলেন। তবে ছয় গজ থেকে নেওয়া তার শট পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে ফিরিয়ে দেন ইয়ান সোমের।
তবে আরেকটি রেমোনটাডার স্বপ্নের বিভর বার্সেলোনা আক্রমণের ঢেউয়ে বেসামাল ইন্তার বেশিক্ষণ পারেনি সামাল দিতে। বাঁদিক থেকে জেরার্ড মার্তিনের দারুণ এক ক্রস থেকে ডাইভিং হেডে গোল করেন দানি ওলমো।
ছন্দহীন ইন্তার ৬৮তম মিনিটে বড় বিপদেই পড়তে যাচ্ছিল। আগুয়ান ইয়ামালকে ফাউল করে শুরুতে পেনাল্টি উপহার দিয়ে ফেলেছিলেন হেনরিখ মিখিতারিয়ান। তবে রেফারি পরে নিজের সিদ্ধান্ত বদলান ভিএআরে দেখে, যেখানে দেখা যায় ফাউলটি করা হয়েছিল ঠিক বক্সের বাইরে।
৭৯তম মিনিটে কাট করে বক্সের ভেতর থেকে গতিময় এক শট নেন ইয়ামাল, তবে পোষ্টের নিয়ে আস্থার পরিচয় দেন সোমের। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৫ স্কোরলাইনে লড়াই যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর দিকে, তখনই চিত্রে হাজির পুরো ম্যাচে প্রায় অচেনা ছন্দে থাকা রাফিনিয়া।
৮৭তম মিনিটে মিলান শিবিরকে হতাশায় ভাসিয়ে বার্সেলোনাকে ফের এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। বাঁদিক থেকে বল নিয়ে বক্সে প্রবেশ করে তার নেওয়া প্রথম শট ফিরিয়ে দেন সোমের, তবে ফিরতি বল পেয়ে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠাতে আর ভুল হয়নি তার।
আরও পড়ুন
| অ্যানফিল্ড-রোম ‘ট্র্যাজেডি’ পেছনে ফেলতে পারবে বার্সেলোনা? |
|
এই গোলের মধ্য দিয়ে দুর্দান্ত এক রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন রাফিনিয়া। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৩টি গোলের সাথে তার নামের পাশে রয়েছে ৮টি অ্যাসিস্ট। এক মৌসুমে গোলে অবদান রাখার ক্ষেত্রে তার সমান (২১টি) রয়েছে কেবল সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর, ২০১৩-১৪ মৌসুমে।
এই গোলের পর বার্সেলোনার জয় যখন ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র, তখন মিলান শিবিরে আশার আলো নিয়ে আসেন ফ্রান্সেস্কো এসেরবি। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় নিজের ২০তম মৌসুমে একটি গোলও না করা অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার প্রথম গোলের জন্য বেছে নেন সেরা উপলক্ষ্য।
ডান দিক থেকে স্কিলের প্রদর্শনী দেখিয়ে বক্সের ভেতর ক্রস বাড়ান ডামফ্রিস। রক্ষণ ছেড়ে স্ট্রাইকার বনে যাওয়া এসেরবি বল রিসিভ করে কিছুটা সময় নিয়ে জায়গা বানিয়ে কোনাকুনি এক শটে বল পাঠান জালে, যা চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না সেজনির।
ম্যাচের এমন সময়ে গোল, স্বাভাবিকভাবে বাঁধভাঙ্গা উল্লাসে দলের সাথে মেতে ওঠেন এসেরবিও। উদযাপন করার সময় তিনি জার্সি খুলে ফেলেন এবং এজন্য তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। তবে তাতে আর কীইবা আসে যায়!
এই গোলের মধ্য দিয়ে ২০১১ সালের এপ্রিলে শালকের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে রায়ান গিগসের পর এসেরবি (৩৭ বছর ৮৫ দিন) চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে দ্বিতীয় বয়স্ক খেলোয়াড় (৩৭ বছর ১৪৮ দিন) হিসেবে জালের দেখে পেয়েছেন।
জয়ের সুবাস পেতে পেতে এমন একটা গোল খেয়ে বসলে একটা দলের মানসিকতায় তাতে আসতে পারে বড়সড় আঘাত। বার্সেলোনার ক্ষেত্রেও হয় ঠিক তাই। তার ফলশ্রুতিতে অতিরিক্ত সময়ের নবম মিনিটে ফের গোল পেয়ে যায় ইন্তার।
ডান দিক থেকে উঠে মার্কাস থুরাম দাভিদ ফ্রাত্তেসিকে পাস বাড়ান। ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার বক্সের ভেতরে মেহেদি তারেমির সাথে ওয়ান-টু খেলে এরপর প্লেসিং শটে খুঁজে নেন ঠিকানা।
এটি ছিল এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বার্সেলোনার হজম করা ২৪তম গোল, যা এক আসরে ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল খাওয়ার রেকর্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোলের জন্য মরিয়া বার্সেলোনা খেলে অল আউট ফুটবল। ইয়ামালের ক্রস থেকে বদলি নামা রবার্ট লেভানদভস্কির হেড অল্পের জন্য থাকেনি লক্ষ্যে।
পাল্টা আক্রমণ থেকে ক্লোজ রেঞ্জ থেকে ফ্রাত্তেসির শট ঠেকান সেজনি। ১১৪তম মিনিটে গোলের সেরা সুযোগটা নষ্ট করেন ইয়ামাল। অনেকটা নিচে নেমে বলের দখল নিয়ে লেভানদভস্কি পাস দেন ইয়ামালকে। গতিতে সবাইকে পেছনে ফেলে তরুণ এই উইঙ্গার নেন শট, যা এক হাতে কোনোমতে আটকে ইন্তার শিবিরে প্রাণ ফিরিয়ে আনেন সমের।
বাকি সময়ে বার্সেলোনার একের পর আক্রমণ সামাল দেওয়ার মাঝে সুযোগ তৈরি করে ইন্তারও। তবে লক্ষ্যে রাখতে পারেনি শট কোনো দলই। তাতে দুই বছরে মধ্যে নিজেদের দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে জায়গা করে নেয় ইন্তার।
No posts available.
২২ এপ্রিল ২০২৬, ২:৫১ পিএম

আগামী ২৫ মে ভারতের গোয়ায় পর্দা উঠতে যাচ্ছে অষ্টম সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। গত আসরের মতো এবারও প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও ভারত একই গ্রুপে।
বুধবার ঢাকার সাফ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র। ড্র অনুযায়ী ‘এ’ গ্রুপে পড়েছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। ছয় দেশের অংশগ্রহণে এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে না পাকিস্তান।

ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে অনুষ্ঠিত হয়েছে ড্র। র্যাঙ্কিংয়ে ভারত ও নেপাল শীর্ষ দুই অবস্থানে থাকায় তাদের রাখা হয়েছে দুটি আলাদা গ্রুপে। আর বাংলাদেশ রয়েছে তিন নম্বরে।
২০১০ সালে ঢাকায় প্রথম নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই থেকে ভারত টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাদের সাফল্যে ভাগ বসায় বাংলাদেশ। গত দুটি আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সামনে এবার হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লড়াই।

লিওনেল মেসি হাসছেন। ইন্টার মিয়ামির অনুশীলনে রদ্রিগো দি পলের সঙ্গে তাঁর সেই চিরচেনা হাসিমুখের ছবিই বলে দিচ্ছে, আর্জেন্টাইন জাদুকর ফুটবলকে কতটা উপভোগ করছেন। কোটি কোটি ভক্তের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—আগামী বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে ফুটবলের এই মহাতারকাকে? সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষার মাঝেই কাল সকালে এমএলএসে রিয়াল সল্ট লেকের মুখোমুখি হচ্ছে ইন্টার মিয়ামি।
বিশ্বকাপের আগে মেসির সামনে এখন সাতটি ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচই এখন তাঁর জন্য প্রস্তুতির মঞ্চ। যদিও মেসি এখনো জনসমক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি, তবে ফুটবল বিশ্ব একরকম নিশ্চিত যে কাতার জয়ের পর এবার মুকুট রক্ষার মিশনেও নেতৃত্ব দেবেন এই খুদে জাদুকরই।
স্বাভাবিকভাবেই মেসি মাঠে নামা মানেই নতুন কোনো রেকর্ডের হাতছানি। এরই মধ্যে এমএলএসে ৬০ ম্যাচে ৯৪ গোলে অবদান (গোল ও অ্যাসিস্ট) মেসির। আর ৬টি গোল বা অ্যাসিস্ট করলেই সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
বর্তমানে এমএলএসে দ্রুততম ১০০ গোল কন্ট্রিবিউশনের রেকর্ডটি সেবাস্টিয়ান জিওভিনকোর (৯৫ ম্যাচ)। মেসি যদি তাঁর বর্তমান ছন্দ ধরে রাখেন, তবে তিনি জিওভিনকোর চেয়ে প্রায় ৩০ ম্যাচ কম খেলেই এই রেকর্ড নিজের করে নিতে পারেন। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার পর থেকে মেসি কেবল মিয়ামির খেলার মানই বাড়াননি, বরং লিগের পরিসংখ্যানের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছেন।
কোচ গুইলার্মো হোয়োসের অধীনে মিয়ামি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। লুইস সুয়ারেজ ও দি পলের সঙ্গে মেসির রসায়ন মিয়ামিকে লিগের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত করেছে। ফুটবল প্রেমীদের নজর এখন রিয়াল সল্ট লেকের ম্যাচে দিকে—মেসি কি রেকর্ডের আরও কাছে পৌঁছে যাবেন?
বিশ্বকাপ বিরতির আগে মেসির সামনে থাকা ম্যাচগুলো হলো:
২২ এপ্রিল: রিয়াল সল্ট লেক (অ্যাওয়ে)
২৫ এপ্রিল: নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশন (হোম)
২ মে: অরল্যান্ডো সিটি (হোম)
৯ মে: টরন্টো (অ্যাওয়ে)
১৩ মে: সিনসিনাটি (অ্যাওয়ে)
১৭ মে: পোর্টল্যান্ড টিম্বার্স (হোম)
২৪ মে: ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন (হোম)

ইউরোপীয় ফুটবলের মৌসুম শেষের বাঁশি বাজতে আর দেরি নেই। শিরোপা লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন সবার নজর চ্যাম্পিয়নস লিগের টিকিটের দিকে। ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে জায়গা পাওয়ার এই চূড়ান্ত লড়াই এখন এক রোমাঞ্চকর মোড়ে দাঁড়িয়ে।
লিগ টেবিলের শীর্ষ চারে কিংবা পাঁচে থেকে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরে নাম লেখাতে মরিয়া হয়ে লড়ছে ক্লাবগুলো। একদিকে বড় দলগুলোর সম্মান বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে মাঝারি সারির ক্লাবগুলোর ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন—সব মিলিয়ে মাঠের প্রতিটি সেকেন্ডই এখন অমূল্য। পয়েন্ট তালিকার সামান্য হেরফের বদলে দিতে পারে পুরো মৌসুমের পরিশ্রমের ফল। কার হাতে উঠবে সেই কাঙ্ক্ষিত টিকিট আর কারা ছিটকে যাবে ইউরোপের এই রাজকীয় আসর থেকে, সেই প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে আর কদিন পরই। দেখে নেওয়া যাক ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের হাল-চাল।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
ইউরোপের সবচেয়ে জনপ্রিয় লিগের শেষ অংশে শিরোপার লড়াইটা জমিয়ে তুলেছে ম্যানচেস্টার সিটির প্রত্যাবর্তন আর আর্সেনালের একের পর এক হোঁচট। ৩৩ ম্যাচ শেষে আর্সেনালের পয়েন্ট ৭০। এক ম্যাচ কম খেলে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে এরপরই অবস্থার করছে সিটিজেরা। দুই নিজদের বাকি সব ম্যাচে জয় পেলে লিগ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হবে গোল ব্যবধানে। এখানেও দুই দলের অবস্থান একই থাকলে দেখা হবে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা দল। আর এখানেই এগিয়ে পেপ গার্দিওলার ম্যান সিটি।
আরও পড়ুন
| ভিনিকে আমার ওপর ছেড়ে দিন—কিসের ইঙ্গিত রিয়াল সভাপতির |
|
শিরোপার লড়াই জমে উঠলেও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে নেই তেমন কোনো রোমাঞ্চ। এই লিগ থেকে এবার পাঁচটি দল অংশ নিবে আগামী মৌসুমের ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায়। পয়েন্ট টেবিলের তিন ও চারে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলার পয়েন্ট সমান ৫৮। ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে পাঁচে লিভারপুল।
প্রিমিয়ার লিগের আসল লড়াইটা এরপরই। পয়েন্ট টেবিলে ছয় থেকে ১৪ নম্বরে থাকা দুই দলের পয়েন্ট ব্যবধান মাত্র ৮। সাত নম্বরে থাকা ব্রাইটনের পয়েন্ট ৫০। সাত, আট ও নয় নম্বরের দল চেলসি, ব্রেন্টফোর্ড ও বোর্নমাউথের পয়েন্ট সমান ৪৮।
এরমধ্যে অবনমন নিশ্চিত হয়েছে উলভারহ্যাম্পটনের। চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে আছে বার্নলি। ৩৩ ম্যাচে পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে থাকা টটেনহ্যামের জন্য বাকি পাঁচ ম্যাচই এখন বাঁচামরার।
লা লিগা
স্প্যানিশ লা লিগা এবার বড্ড ম্যাড়ম্যাড়ে। বার্সেলোনার দাপটে শিরোপার লড়াই এখন প্রায় একপেশে , শীর্ষ চারে থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা দলও প্রায় চূড়ান্ত। ৩১ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে রাজত্ব বার্সেলোনার। এক ম্যাচ বেশি খেলা কাতালান ক্লাবের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ৬ পয়েন্ট কম নিয়ে দুই নম্বরে আছে।
বার্সা-রিয়াল ছাড়া শীর্ষ চারে থাকা অন্য দুই দল ভিয়ারিয়াল ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। ৩১ ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট ভিয়ারিয়ালের। সমান ম্যাচে ৫৭ দিয়েগো সিমিওনের দলের। পাঁচ নম্বরের দল রিয়াল বেতিসের সংগ্রহ ৪৯ পয়েন্ট।
সিরি‘আ’
২০২৫-২৬ মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সবচেয়ে জমজমটা লড়াই দেখা যাচ্ছে ইতালির সিরি‘আতে। তবে সেটা শিরোপার দৌড়ে নয়, পয়েন্ট টেবিলে দুই নম্বরে অবস্থান করা এসি মিলানের চেয়ে ১২ পয়েন্ট এগিয়ে থাকা ইন্টার মিলানের লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে পরের ম্যাচেই।
ইদুঁর-বিড়াল দৌড় শুরু এরপরই। দুই ও তিন নম্বরের দল এসি মিলান ও নাপোলির পয়েন্ট সমান ৬৬। ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে জুভেন্টাস। ৩৩ ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট কম নিয়ে ৫৮ কোমোর। ইউরোপা লিগের এই স্পট নিয়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বি সমান পয়েন্ট সংগ্রহ করা রোমা।
বুন্দেসলিগা
বুন্দেসলিগায় চার ম্যাচ হাতে রেখেই চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। চ্যাম্পিয়নস লিগের বাকি তিন স্পটের মধ্যে দুই ও তিন নম্বরে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও আরবি লিপজিগের টিকিট প্রায় নিশ্চিত—৩০ রাউন্ড শেষে ডর্টমুন্ডের ৬৪ আর লিপজিগের ৫৯। পয়েন্ট টেবিলে চার নম্বরে অবস্থান করা স্টুটগার্ড পা হড়কালেই বিপদ। তাদের সংগ্রহ ৫৬, সমান ম্যাচে হফেইনহেইমের ৫৪, বায়ার লেভারকুজেনের অর্জন ৫২ পয়েন্ট।
লিগ আঁ
সবশেষ মৌসুমে ৬ ম্যাচ বাকি রেখেই লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছিল পিএসজি। তবে এই মৌসুমে ট্রফি অক্ষুন্ন রাখতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে লুইস এনরিকের দলকে। ২৮ ম্যাচ শেষে পিএসজির পয়েন্ট ৬৩। তাদের থেকে এক ম্যাচ বেশি খেলে এক পয়েন্ট কম লাঁসের।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপ স্বপ্ন ও চোটের দুঃস্বপ্ন, মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে কঠিন মনের যুদ্ধ |
|
ফরাসি লিগটি থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলবে তিনটি দল। এক ও দুইয়ে থাকা পিএসজি ও লাঁসের জায়গা অনেকটা নিশ্চিত হলেও তিন নম্বর পজিশন নিয়েই দেখা যেতে পারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তিনে থাকা লিঁওর সঙ্গে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরের দল লিলের পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান দুটোই সমান। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থাকায় লিলের ওপরে আছে লিঁও।
এখানেই শেষ নয়, লিগ আঁ’ তে পয়েন্ট টেবিলে পাঁচ, ছয় ও সাত নম্বরের দলগুলোর মধ্যে পয়েন্টের পার্থক্য কেবল ৩। ৩০ ম্যাচে রেনের পয়েন্ট ৫৩, মার্শেইয়ের পয়েন্ট ৫২ আর মোনাকোর পয়েন্ট ৫০। তাতে লিগে বাকি থাকা আর চার রাউন্ডের এক একটি ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে পুরো দৃশ্যপট।

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর স্বস্তিতে নেই রিয়াল মাদ্রিদ। শিরোপাহীন মৌসুম কাটানোর শঙ্কায় তারা। কোচ-খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ব্যবস্থপনায় রদবদলের আলোচনাও হচ্ছে ব্যাপক। এই পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছেন ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। মৌসুমের কাটাছেঁড়া করতে গিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ভিনিসিয়ুসের পারফরম্যান্স নিয়ে যখন সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠছে, তখন পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন রিয়াল সভাপতি পেরেজ। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘এটা আমার দায়িত্ব, ভিনিসিয়ুসকে আমার ওপর ছেড়ে দিন।’ সভাপতির এমন অনড় অবস্থান এটিই প্রমাণ করে, রিয়ালের ভবিষ্যতের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ডের দৌড় আরও দীর্ঘ হতে যাচ্ছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা পেরেজের এই বক্তব্যকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছে। মার্কার সাংবাদিক মিগুয়েল আনহেল লারা তাঁর এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ‘ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানে অনড়। ভিনিসিয়ুসকে রিয়ালের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তার চুক্তি নবায়নকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন
| বার্সাতেই ইতি টানতে চান ফ্লিক, শেষবেলায় দেখছেন দুই বড় স্বপ্ন |
|
চলতি মৌসুমে ভিনিয়ুসের পারফরম্যান্সে কিছুটা অবনতি দেখা গেলেও তাঁর প্রতি পেরেজের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। রিয়াল সভাপতি বিশ্বাস করেন, চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করার মতো ক্ষমতা ভিনির আছে। অতীতেও তিনি সেটি প্রমাণ করেছেন।
বিশেষ করে গত কয়েক মৌসুমে ভিনিসিয়ুস যখন বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন, তখন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ যেভাবে জনসমক্ষে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে দুজনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। এই ব্যক্তিগত ও পেশাদার বন্ধনই বর্তমান সংকটে ভিনিসিয়ুসের জন্য সবচেয়ে বড় ঢাল হিসেবে কাজ করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পেরেজ নিজের কিছু ভুলও অভ্যন্তরীণভাবে স্বীকার করেছেন। বিশেষ করে জাবি আলোনসোকে বেছে নেওয়া এবং আলভারো আরবেলোয়াকে দ্রুত মূল দলের দায়িত্ব দেওয়াকে তিনি কৌশলগত ত্রুটি হিসেবে দেখছেন। মিউনিখে বায়ার্নের বিপক্ষে হারটি রিয়ালের পুরো প্রজেক্ট নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
দল পরিচালনা নিয়েও অসন্তুষ্ট ক্লাব সভাপতি। আলভারো কারেরাস, ডিন হুইসেন ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনোর মতো তরুণ খেলোয়াড়দের পেছনে বিপুল অর্থ খরচ করা হলেও মাঠে সেভাবে তাঁরা আলো ছড়াতে পারছেন না।

প্রত্যেক অ্যাথলেটের জন্য এটিই চরম দুঃস্বপ্ন। সামনে জীবনের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট—ফিফা বিশ্বকাপ, তাও আবার নিজের দেশে। আজীবনের সাধনা যখন চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখে, ঠিক তখনই হানা দেয় চোট। মনের ভেতর দানা বাঁধে হাজারো সংশয়, আমি কি ফিরতে পারব? ফিরলেও কি আগের সেই ছন্দে দেখা যাবে আমাকে?
গত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছেন। পিএসভি আইন্দহোভেনের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় সার্জিনো ডেস্ট গত মার্চে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ে এখন সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। বোর্নমাউথের মিডফিল্ডার টাইলার অ্যাডামসও ডিসেম্বরের পর থেকে একাধিকবার চোটে পড়েছেন। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে প্যাট্রিক আগেমাংয়ের ক্ষেত্রে। অ্যাকিলিস টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়ায় এই ফরোয়ার্ডের ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন অন্তত এই বারের মতো শেষ হয়ে গেছে।
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে খেলার সম্ভাবনা যখন ঝুলে থাকে, তখন সেই মানসিক চাপ সামলানোই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিক কমিটির মনস্তাত্ত্বিক সেবা বিভাগের পরিচালক ডক্টর জেসিকা বার্টলি মনে করেন, চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য এখন অপরিহার্য।
বার্টলি বলেন, ‘আমরা এখন প্রতিটি চোটের সঙ্গে মনোবিজ্ঞানকে যুক্ত করেছি। অ্যাথলেটরা যখন একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুস্থ হওয়ার চাপে থাকে, তখন তাদের চিন্তাভাবনা এবং মানসিক অবস্থাই তাদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে।’ এই প্রক্রিয়ায় খেলোয়াড়দের 'মেন্টাল ইমেজারি' বা দৃশ্যকল্প এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখা হয়।
আরও পড়ুন
| বার্সাতেই ইতি টানতে চান ফ্লিক, শেষবেলায় দেখছেন দুই বড় স্বপ্ন |
|
পেশাদার ফুটবলারদের কাছে তাদের শরীরই হলো জীবিকা অর্জনের প্রধান মাধ্যম। তবুও মাঠে নামলে চোটের আশঙ্কা সবসময়ই ছায়ার মতো তাড়া করে বেড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার টিম রিম বলেন, ‘আপনি যদি সবসময় এটি নিয়ে ভাবেন, তবে অবচেতন মনে যেন সেটিকেই ডেকে আনছেন। তাই আমরা এটা নিয়ে না ভাবার চেষ্টা করি, যদিও জানি যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে।’ গত সপ্তাহেই চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে এই ফুটবলারকে।
একেকজন খেলোয়াড় চোটকে একেকভাবে গ্রহণ করেন। রিকার্ডো পেপি বা টাইলার অ্যাডামসের মতো খেলোয়াড়রা দ্রুত মাঠে ফেরার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদী চোট অনেক সময় খেলোয়াড়দের বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দেয়। ফুলহামের ডিফেন্ডার অ্যান্টোনি রবিনসন গত বছরের অস্ত্রোপচারের পর যখন মাঠে ফিরতে পারছিলেন না, তখন তিনি অন্ধকারের শেষ প্রান্তে কোনো আলোর রেখা দেখতে পাচ্ছিলেন না বলে জানিয়েছিলেন।
ইতিহাস বলে, কোনো দলই শতভাগ সুস্থ খেলোয়াড় নিয়ে বিশ্বকাপে যেতে পারে না। ২০০২ সালে ক্রিস আরমাস কিংবা ২০০৬ সালে করি গিবস দল ঘোষণার পরও চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন।
তবে হতাশার পাশাপাশি জয়ের গল্পও আছে। ২০১০ সালে ওগুচি অনিউ এবং ২০২২ সালে ওয়েস্টন ম্যাককেনি চোট কাটিয়ে ফিরে এসে দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলারদের এখন একটাই প্রার্থনা—দুঃস্বপ্নগুলো যেন পাশ কাটিয়ে যায়, আর বাস্তবের সবুজ গালিচায় যেন পূরণ হয় দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন।