১১ মে ২০২৫, ১০:৩২ পিএম
ম্যাচের শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল, মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে ভিন্ন ছন্দেই হাজির রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম দিকে এলেমেলো ফুটবল খেলা বার্সেলোনা খুব দ্রুতই নিজেদের গুছিয়ে নিল। বিরতির আগেই চার গোল খেয়ে বসা রিয়ালের হয়ে একাই লড়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপে, করলেন দারুণ এক হ্যাটট্রিক। তবে কার্লো আনচেলত্তির দলের রক্ষণভাগের ভুলে যাওয়ার মত এক ম্যাচে শেষ হাসি হাসল ইয়ামাল-রাফিনিয়ারাই। আর তাতে চলে গেল লা লিগা জয়ের আরও কাছে।
লা লিগায় রোববারের এল ক্লাসিকোর মহারণে আরও একবার বার্সেলোনার কাছে হেরেছে রিয়াল। ৪-৩ গোলে দুর্দান্ত জয়ে মৌসুমে রিয়ালকে টানা চার ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ উপহার দিল ফ্লিকের দল।
আরও পড়ুন
| ‘ইয়ামাল বাচ্চা না, এমন পারফরম্যান্সই চায় বার্সা’ |
|
এই জয়ে বার্সেলোনার লিগ জয়ও প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। তিন ম্যাচ হাতে রেখে ৮২ পয়েন্ট কাতালান ক্লাবটির। আর দুইয়ে থাকা রিয়ালের অর্জন ৭৫ পয়েন্ট।
লা লিগায় বড় ধরণের নাটকীয়তা না দেখা দিলে এই হারে নিশ্চিত হয়ে গেছে রিয়ালের শিরোপাহীন মৌসুম। দুই দফায় রিয়ালকে অসাধারণ সব সাফল্য এনে দেওয়া আনচেলত্তির জন্য শেষটা হতে যাচ্ছে ভুলে যাওয়ার মতোই।
ম্যাচে রিয়ালের শুরুটা অবশ্য হয় স্বপ্নময়। পাউ কুবার্সির দুর্বল ব্যাকপাস থেকে বল পেয়ে গতিতে বক্সের ভেতর প্রবেশ করেন এমবাপে। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তাকে ফাউল করে বসেন গোলকিপার ওয়েজেচ সেজনি। পেনাল্টির বাঁশি সাথে সাথেই বাজিয়ে দেন রেফারি। ফরাসি তারকার বাঁদিকে নেওয়া নিচু শটে হাত লাগালেও আটকাতে পারেননি সেজনি।
এটি ছিল চলতি মৌসুমে লিগে এমবাপের ২৫তম গোল। লিড নিয়ে রিয়াল অব্যাহত রাখে ইতিবাচক ফুটবল। একের পর পর আক্রমণ শানায় দলটি। বিপরীতে ফ্লিকের দল গুছিয়ে নিতেই নষ্ট করে কিছুটা সময়।
নবম মিনিটে বলার মত প্রথম আক্রমণে বক্সের ভেতর কঠিন এঙ্গেল থেকে শট নিয়েছিলেন এরিক গার্সিয়া, তবে রিয়ালের জন্য তা বিপদের কারণ হয়নি।
১৪তম মিনিটে ফের বার্সেলোনার জালে বল, আর এবারও স্কোরার সেই এমবাপেই। তবে বল বানিয়ে দেওয়ার একটা বড় কৃতিত্ব পাবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রায় মাঝমাঠ থেকে দারুণ এক ডিফেন্সচেড়া পাসে খুঁজে নেন ফ্রানের বিশ্বকাপ জয়ী তারকাকে। বল রিসিভ করে জায়গা বানিয়ে সেজনিকে পরাস্ত করে রিয়ালের লিড বড় করেন এমবাপে।
গোলের লক্ষ্যে প্রথম দুই শট থেকেই জালের দেখা পাওয়া রিয়ালের আক্রমণের সামনে সেই সময়ে বেকায়দায় ছিল বার্সেলোনা। ১৮তম মিনিটে বক্সের একটু বাইরে থেকে লামিন ইয়ামালের কার্লিং শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ব্লক করেন থিবো কোর্তোয়া।
পরের মিনিটে আরেকটি ভালো সেভ দিলেও শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় কোর্তোয়াকে। ফেররান তরেসের কর্নার কিক থেকে হেডারে জাল খুঁজে নেন এরিক গার্সিয়া, যিনি কোপা দেল রের ফাইনালেও রিয়ালের বিপক্ষে গোল করেছিলেন।
আরও পড়ুন
| আবেগে ভেসে, চোখের জলে বায়ার্নকে বিদায় জানালেন কিংবদন্তি মুলার |
|
এক গোল শোধ দিয়ে ক্রমেই রিয়ালকে চেপে ধরে বার্সেলোনা। খেই হারিয়ে ফেলা রিয়ালের খর্বশক্তির রক্ষণের জন্য গতিময় ইয়ামালকে সামলানো শুরু থেকেই ছিল কঠিন। ৩২তম মিনিটে তরেসের পাস থেকে কাট করে বক্সের ভেতর বাঁদিক থেকে বা পায়ের কোনাকুনি এক শটে গোল করেন স্প্যানিশ এই উইঙ্গার, লা লিগায় এটি এই মৌসুমে ইয়ামালের সপ্তম গোল।
পরপর দুই গোলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগে ফের গোল হজম করে বসে রিয়াল, যেখানে ফুটে ওঠে তাদের ছন্দপতন। বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এমবাপে, তবে ঠিক তার সামনে দাঁড়িয়ে যান সতীর্থ লুকাস ভাজকেস। দুজনের ভুল বোঝাবুঝি থেকে পাল্টা আক্রমণে বল পেয়ে যান রাফিনিয়া। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে প্রথমবারের মত বার্সেলোনাকে লিড এনে দেন ব্রাজিল ফরোয়ার্ড।
শুরুতে ঝলক দেখানো রিয়াল এরপর আশা জাগিয়েছিল সমতা টানার। পেনাল্টি আদায় করেছিলেন এমবাপে। তবে তিনি নিজেই অফসাইড থাকায় সেটা আর মেলেনি।
উল্টো ৪৫তম মিনিটে আরেক গোল খেয়ে বসে রিয়াল। এবারও কেন্দ্রবিন্দু সেই ভাজকেসই। রিয়াল অধিনায়কের কাছ থেকে বক্সের বাইরে বল কেড়ে রাফিনিয়াকে পাস বাড়ান তরেস, ফাঁকায় থাকা দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই উইঙ্গারের সমস্যা হয়নি জালের দেখা পেতে। লা লিগায় এটি মৌসুমে রাফিনিয়ার ১৮তম গোল ছিল।
অবিশ্বাস্য এক প্রথমার্ধে রিয়াল শুরুর দুই গোলের পর লক্ষ্যেই আর শটই রাখতে পারেনি। বিপরীতে ১১টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখে বার্সেলোনা।
বিরতির পরও একই ছন্দ ধরে রাখে বার্সেলোনা। রিয়ালের জোড়াতালি দেওয়া রক্ষণভাগকে আরও একবার বিপদে ফেলেই দিচ্ছিলেন রাফিনিয়া। ৫৩তম মিনিটে বাঁদিক থেকে তার পাস থেকে ফাঁকায় দাঁড়ানো ইয়ামাল টোকা দিয়ে বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে আর মেলেনি গোল।
ম্যাচের ধারার বিপরীতে এর তিন মিনিট পর একটা সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপে, তবে শট উঁচিয়ে মেরে হতাশ করেন রিয়ালকে। পাল্টা আক্রমণ থেকে এরপর দুরন্ত গতিতে এগিয়ে ডান দিক থেকে ক্রস বাড়ানোর চেষ্টা করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, তবে সেটা বাধাপ্রাপ্ত হয় আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের ক্লিয়ারিংয়ে।
শেষ পর্যন্ত এই জুটির হাত ধরেই গোল পায় রিয়াল। আরও একটি কাউন্টার এটাক থেকে বল পেয়ে দুজন এগিয়ে যান বার্সেলোনার বক্সে। নিজের সামনে সুযোগ থাকলেও গোলের সামনে এমবাপেকে দিয়ে হ্যাটট্রিক করান ভিনিসিয়ুস। ২৭তম গোলের মাধ্যমে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলস্কোরারের তালিকায় রবার্ট লেভানদভস্কির চেয়ে দুই গোলে এগিয়ে যান ফরাসি ফরোয়ার্ড।
৭৪তম মিনিটে স্কোরলাইন ৫-৩ করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন রাফিনিয়া। তার সামনেও ছিল হ্যাটট্রিকের আশা। ইয়ামালের ক্রসে ছিলেনও ভালো পজিশনে, তবে ছয় গজের ভেতর থেকে বল পোস্টের ওপর দিয়ে মেরে টিকিয়ে রাখেন রিয়ালের ম্যাচে ফেরার আশা।
আরও পড়ুন
| ড্র করে সুযোগ মিসের হতাশায় গার্দিওলা |
|
জমে ওঠা ম্যাচের ৮২তম মিনিটে বার্সেলোনা শিবিরে জোর দাবি ওঠে পেনাল্টির। বক্সের ভেতর অহেলিয়া চুয়ামেনির সম্ভাব্য হ্যান্ডবল সময় নিয়ে স্ক্রিনে দেখে রেফারি নাকচ করেন পেনাল্টির আবেদন। হাফ ছেঁড়ে বাচে রিয়াল।
৮৮তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের বদলি হিসেবে নামা তরুণ ফরোয়ার্ড ভিক্টর মুনজ প্রথম টাচেই পেয়েছিলেন হিরো হওয়ার সুযোগ। তবে লক্ষ্যে শট রাখলেই গোল, এমন পজিশন থেকে তিনি বল মেরে দেন পোস্টের বাইরে।
গোলের জন্য মরিয়া রিয়ালকে আরও একবার পাল্টা আক্রমণে চমকে দেয় বার্সেলোনা। ৯৫তম মিনিটে কাট করে বক্সে ঢুকে কোর্তোয়াকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান ফেরমিন লোপেজ। তবে হ্যান্ডবল হওয়ায় বাতিল হয় সেই গোল। বাকি সময়ে কোনো দলই পারেনি বলার মত আর সুযোগ তৈরি করতে।
No posts available.
৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:২৯ পিএম
৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম

জাতীয় দল কিংবা ক্লাব—দুই জার্সিতেই বছরজুড়ে গোলের পর গোল করেছেন। নরওয়ে ও ম্যানচেস্টার সিটিতে সমানতালে গোল উৎসব করে ক্যারিয়ারে পেলেন আরেকটি স্বীকৃতি। টানা ছয়বার নরওয়ের বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়ে ‘হেক্সা’ পূরণ করলেন তারকা এই ফরোয়ার্ড।
প্রতি বছর নরওয়েজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বছরের সেরা নারী ও পুরুষ ফুটবলারকে স্বর্ণপদক (গোল্ডেন বল) পুরস্কার দিয়ে থাকে। পুরুষদের বিভাগে আগের পাঁচ বছরে সেরার এই স্বীকৃতি পান হলান্ড। আর মেয়েদের বিভাগে বছরের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হওয়া ক্যারোলাইন গ্রাহাম হ্যানসেন গত সাত বছরে ষষ্ঠবার এই পদক পাচ্ছেন।
টানা ষষ্ঠবারের মতো বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়ে হলান্ড বললেন, ‘আবার জিততে পেরে দারুণ লাগছে। এটা দারুণ এবং আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।
২০২৫ সাল হল্যান্ডের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। গত বছর হলান্ডের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে তোলা। সদ্য সমাপ্ত বছরের কথা স্বরণ করে এই ‘গোলমেশিন, বলেন,
‘এটা খুবই রোমাঞ্চকর একটি বছর ছিল, অনেক কিছু ঘটেছে। বিশ্বকাপের যোগ্যতা পাওয়া অসাধারণ এবং বড় ঘটনা। আমার জন্য এটাই বছরের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। এটা অংশ হওয়া দারুণ এবং অবশেষে সফল হওয়া আরও ভালো লাগছে।’
ইতালিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট কাটে নরওয়ে। ওই ম্যাচে জোড়া গোল করেন হলান্ড। ২০২৫ সালে মাত্র নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৭টি গোল করে দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
দলকে বিশ্বকাপে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখাই ছিল হল্যান্ডের জন্য বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সিটির ফরোয়ার্ড বলেন,
‘আমরা সান সিরোতে গিয়েছিলাম এবং জানতাম আমরা যোগ্যতা অর্জন করব। তবে ৪-১ গোলে ইতালিকে হারিয়ে সেটা দারুণ স্টাইলিশভাবেই হলো। এটা আমরা কেবল স্বপ্নে ভাবতে পারতাম। তাই এটা অনেক বড় অর্জন, আমরা ভীষণ খুশি। এখন আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি, এবং আমি অনেক আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি।’
গত বছর প্রিমিয়ার লিগেও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে অসাধারণ মৌসুম কাটিয়েছেন হলান্ড। প্রিমিয়ার লিগে ১০০ গোল করার দ্রুততম খেলোয়াড় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৫০ গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। চলতি মৌসুমেও লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হলান্ড। ২১ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার।

একজন উইঙ্গারের প্রধান দায়িত্ব প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানো। পাশাপাশি অ্যাসিস্টে অবদান রাখাও প্রত্যাশিত। কিন্তু ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই মানদণ্ডে একেবারেই ফিকে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সবশেষ ২০ ম্যাচে গোলের খাতা খুলতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এ সময়ে পেয়েছেন মাত্র তিনটি অ্যাসিস্ট। বিপরীতে শাস্তির খাতায় নাম লিখিয়েছেন আরও ঘন ঘন—চারটি হলুদ কার্ড পেয়েছেন এসময়।
ভিনিসিয়ুসের সর্বশেষ গোলের জন্য ফিরতে হবে প্রায় ৬০ দিন পেছনে। সবশেষ গত বছরের ১০ অক্টোবর জাতীয় দলের গোল হয়ে করেছিলেন ভিনি। সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে ১ গোল ও এক অ্যাসিস্ট পেয়েছিলেন ভিনি। তার আগে ৫ অক্টোবর ক্লাবের হয়ে লা লিগায় জোড়া গোল পেয়েছিলেন ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে। এরপর থেকে গোল যেন হারিয়েই ফেলেছেন ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার।
ফর্মহীনতার সঙ্গে যোগ হয়েছে মাঠের উত্তেজনা ও আচরণগত বিতর্ক। শেষ ২০ ম্যাচে চারবার হলুদ কার্ড দেখার পাশাপাশি একাধিকবার জড়িয়েছেন নিজ দলের কোচ, প্রতিপক্ষ কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তর্কে।
গতবছরের ২৬ অক্টোবর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এল ক্লাসিকোতে ৭২ মিনিটে বদলি হিসেবে তুলে নেওয়া হয় ভিনিসিয়ুসকে। সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে পারেননি তিনি। টাচলাইনের দিকে হাঁটার সময় বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রকাশ্যেই। বদলি হিসেবে রদ্রিগোকে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন কোচ জাবি আলোনসো, যা নিয়েই মূলত ক্ষোভের সূত্রপাত।
সাধারণত বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় কোচের সঙ্গে হাই-ফাইভ বা কোলাকুলি করেন খেলোয়াড়রা। কিন্তু ভিনিসিয়ুস সেই সৌজন্য দেখাননি। আলোনসোর দিকে তাকানো তো দূরের কথা, বেঞ্চেও না বসে সরাসরি টানেলের দিকে চলে যান। পরে ফিরে এলেও কোচের সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা স্পষ্ট ছিল।
সর্বশেষ সুপারকোপার সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গেও তর্কে জড়ান ভিনিসিয়ুস। ম্যাচ চলাকালীন সিমিওনের খোঁচায় উতপ্ত হয়ে পাল্টা জবাব দেন রিয়ালের ৭ নম্বর জার্সিধারী।
গোল নেই, ফর্ম নেই—তার ওপর আচরণগত বিতর্ক। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জন্য সময়টা যে মোটেও স্বস্তির নয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় সত্য।

তারুণ্যের উৎসব ব্যানারে ধলেশ্বরী জোনে আজ থেকে শুরু হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী ম্যাচে শরিয়তপুর জেলাকে ৩-০ পরাজিত করে স্বাগতিক রাজবাড়ী জেলা।
রাজবাড়ী জেলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথমার্ধে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজবাড়ী। ৫৯ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে মো. নাসিম খানের ক্রসে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে রাজবাড়ীকে লিড এনে দেন রাহুল বিশ্বাস।
দুই মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মো. কাজী আসলান। ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন আসলান। এতে নিশ্চিত হয় রাজবাড়ীর বড় জয়।
পরিসংখ্যানেও রাজবাড়ীর আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। তারা অন টার্গেট ৬টি শট নেয়, কর্নার আদায় করে ৭টি এবং ফ্রি কিক পায় ৮টি। বল দখলে রাজবাড়ী ছিল ৬০ শতাংশ সময়। অন্যদিকে শারিয়তপুর নেয় ৩টি অন টার্গেট শট, কর্নার ৫টি, ফ্রি কিক ৭টি।
জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন রাজবাড়ী জেলার আসলান।
এই প্রতিযোগিতার এটি দ্বিতীয় জোনের খেলা। এর আগে ঝিনাইদহ জোনের খেলা শেষ হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে এক শোক বার্তায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় বাফুফে।
শোক বার্তায় ফিফা সভাপতি উল্লেখ করেন,
‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।’
আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনের পক্ষ থেকে ফিফা সভাপতি বাংলাদেশ সরকার, বাফুফে এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও এই শোক বার্তার জন্য ফিফা সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায়ের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম নক্ষত্রের জীবনাবসান হয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বর। সেদিন ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ‘মা, মাটি ও মানুষের নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ইতিহাসে অনেক ব্রাজিলিয়ান তারকাই মাঠ মাতিয়েছেন। গোলের পর গোল করে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন। ব্যাক্তিগত অনেক অর্জনেরও স্বাক্ষী হয়েছেন। তবে এত এত তারকাদের টপকে এক জায়গায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন আড়ালে থাকা এক ব্রাজিলিয়ান।
প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল করা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার এখন ইগোর থিয়াগো। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে গত পরশু জোড়া গোল করে দারুণ এই রেকর্ডে নাম লেখান ব্রেন্টফোর্ডের এই ফরোয়ার্ড।
২০২৫-২৬ মৌসুমে লিগে ২১ ম্যাচে ১৬ গোল করে ইগোর থিয়াগো ছাড়িয়ে গেছেন ম্যাথিউস কুনহাকে। বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলা কুনহা গত মৌসুম উলভারহ্যাম্পটনের হয়ে ৩৩ ম্যাচে ১৫ গোল করেন। অর্থাৎ ১২ ম্যাচ কম খেলেই এই রেকর্ডে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ২৪ বছর বয়সী ইগোর থিয়াগো। এছাড়া প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে ১৫ গোল করেছেন রবার্তো ফিরমিনো, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি।
গত রোববার এভার্টনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর টানা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের পথে ছিলেন থিয়াগো। তবে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৮২তম মিনিটে তাকে তুলে নেন ব্রেন্টফোর্ডের কোচ কিথ অ্যান্ড্রুজ।
ইভান টোনি, ব্রায়ান এমবেউমো ও ইয়োয়ানে উইসার ক্লাব ছাড়ার পর ব্রেন্টফোর্ডের প্রথম পছন্দের স্ট্রাইকার হিসেবে থিয়াগোর এটি প্রথম মৌসুম। ২০২৪ সালের ক্লাব ব্রুজ থেকে ৩ কোটি পাউন্ডে তাকে দলে নেয় ব্রেন্টফোর্ড। তবে চোটের কারণে পুরো প্রথম মৌসুমই মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি।
এ মৌসুমে লিগে ২০ ম্যাচেই শুরুর একাদশে খেলেছেন ইগর থিয়াগো। চার ম্যাচে করেছেন জোড়া গোল, পেয়েছেন একটি হ্যাটট্রিক। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের প্রশংসা করে ব্রেন্টফোর্ডের কোচ কেইথ অ্যান্ড্রু বিবিসিকে বলেন, ‘সে একজন বিশেষ মানুষ, যে খুব সুন্দরভাবে এই জীবন মানিয়ে নিয়েছে। এই জায়গায় আসতে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। নিজের পথ নিজেই তৈরি করেছে এবং কঠোর পরিশ্রম করেছে। তার ব্যক্তিত্বে প্রবল দৃঢ়তা আছে। সে নিয়মিত নিজের দক্ষতা বাড়াচ্ছে, আর আমরা ধীরে ধীরে তাকে আরও ভালোভাবে জানতে পারছি। সে প্রায় পরিপূর্ণ একজন সেন্টার-ফরোয়ার্ড।’
থিয়াগো এখনও ব্রাজিল জাতীয় দলে সুযোগ পাননি। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার দৌড়ে বেশ জোরালো দাবিই জানিয়ে রাখলেন তিনি।