২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ৫:১৬ পিএম

বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে বড় চমক দেখালেন ১৪ বছর বয়সী বাংলাদেশের দাবাড়ু মনন রেজা নীড়। ফিদে মাস্টার মনন হারিয়ে দিয়েছেন ইসরায়েলের ২ হাজার ৫২৩ রেটিংধারী গ্র্যান্ডমাস্টার গোর্শটেইন ইডোকে। এই নিয়ে আসরে চতুর্থ জয় পেলেন মনন।
হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট থেকে দাবা অলিম্পিয়াডের ১০ রাউন্ডে এসেছে এই সুখবর। যদিও ওপেন বিভাগে বাংলাদেশ ইসরায়েলের কাছে হেরে গেছে ৩-১ গেম পয়েন্টে। এই রাউন্ড শুরুর আগেই আলোচনার জন্ম দেন বাংলাদেশের গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব। ইসরায়েলি প্রতিপক্ষ থাকায় নাম প্রত্যাহার করে নেন তিনি।
সেজন্য রাজীবের বোর্ডে ওয়াকওভার পেয়ে যায় ইসরায়েল। খেলা হয়েছে বাকি তিন বোর্ডে। প্রথম বোর্ডে হেরেছেন আন্তর্জাতিক মাস্টার ফাহাদ রহমান। ফাহাদের সামনে ছিলো এই বোর্ডে জিতে গ্র্যান্ডমাস্টার নর্ম পাওয়ার সুযোগ। হেরেছেন আরেক বাংলাদেশি দাবাড়ু তাহসিন তাজওয়ারও।
নারী বিভাগেও শনিবার হেরেছে বাংলাদেশ। টানা ছয় বোর্ড জেতার পর ৮২ বছর বয়সী আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ প্রথম হেরেছেন। নরওয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরেছে ৩.৫-০৫ গেম পয়েন্টে।
No posts available.
২ মে ২০২৬, ৯:৩৫ পিএম

সাংহাইতে আর্চারি বিশ্বকাপ স্টেজ–২ এর প্রথম দিনে আজ মিশ্র অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের। কম্পাউন্ড পুরুষ একক ইভেন্টের প্রথম রাউন্ডের খেলায় বাংলাদেশের ঐশ্বর্য্য রহমান ১৪৫-১৪৪ স্কোরের রোমাঞ্চকর ব্যবধানে মেক্সিকোর হুয়ান কার্লোস দেল রিও গুতেরেজকে পরাজিত করেছেন। তিনি উঠেছেন প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ডে।
হিমু বাছাড় নেদারল্যান্ডের নিকলাস ব্রিডাল ব্রাইল্ডের সঙ্গে মূল লড়াইয়ে ১৪৩-১৪৩ স্কোরে ড্র করেন। শুটআউটে প্রথম তীরে ড্র করলেও দ্বিতীয় তীরের লড়াইয়ে ৮-১০ ব্যবধানে হেরে তিনি বিদায় নেন। বাংলাদেশের আরেক আর্চার নেওয়াজ আহমেদ রাকিব ১৪৩-১৪৭ স্কোরে কাজাখস্তানের বুনোদ মির্জামেতোভের কাছে হারেন।
মহিলা একক ইভেন্টে বাংলাদেশের তানিয়া রীমা ১৩৯-১৩৪ স্কোরের ব্যবধানে হংকং চায়নার হ্যাং টিং চেংকে হারিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছেন। বন্যা আক্তার 'বাই' পেয়ে ১/২৪ খেলায় উন্নীত হলেও পুষ্পিতা জামান ১৪০-১৪২ স্কোরে সিঙ্গাপুরের এলি টেং টেং লোয়ের কাছে হেরে যান।
আগামীকাল রিকার্ভ ডিভিশনের পাশাপাশি কম্পাউন্ডের পরবর্তী রাউন্ডের খেলাগুলো হবে।

বিশ্বে ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার পর্বত আছে মোট ১৪টি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই তালিকার চারটি শৃঙ্গে আরোহন করে বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন পর্বতারোহী বাবর আলী। যা কোনো বাংলাদেশির পক্ষেই আগে সম্ভব হয়নি।
এবার সেই সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরেকটি পালক। শনিবার (২ মার্চ) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে বাবর আলী পৌঁছে যান মাউন্ট মাকালু-র চূড়ায়। এর মাধ্যমে তিনি জয় করলেন নিজের পঞ্চম ৮ হাজার মিটারের শৃঙ্গ।
৮ হাজার ৪৮৫ মিটার (২৭ হাজার ৮৩৮ ফুট) উচ্চতার মাউন্ট মাকালু পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম পর্বত। যা নেপালের মহালঙ্গুর হিমাল পর্বতমালায় অবস্থিত। এই শৃঙ্গে এটাই কোনো বাংলাদেশির প্রথম সফল আরোহণ।
নেপালভিত্তিক আউটফিটার মাকালু এডভেঞ্চারের মালিক মোহন লামসালের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেন অভিযানের ব্যবস্থাপক ফারহান জামান।
মাকালু এক্সপেডিশন : দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার- শিরোনামের এই অভিযানের আয়োজন করে পর্বতারোহী সংগঠন ভার্টিকেল ড্রিমস।
চূড়ায় ওঠার পথে বাবর আলীর সঙ্গে ছিলেন গাইড অ্যাং কামি শেরপা। অভিযানের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল ভিজ্যুয়াল নিটওয়ার্স লিমিটেড, সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড, মাই হেলথ, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন ও রহমান'স গ্রোসারিজ।
'গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান' নামে পরিচিত মাউন্ট মাকালু হিমালয়ের অন্যতম কঠিন শৃঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। অভিযানের উদ্দেশ্যে বাবর আলী গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ ছাড়েন। ৯ এপ্রিল তুমলিংতার পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে সেদুয়া গ্রামে যান এবং পরে ট্রেকিং করে ১৮ এপ্রিল অ্যাডভান্সড বেস ক্যাম্পে পৌঁছান।
অভিযানের অংশ হিসেবে উচ্চতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তিনি ২১ এপ্রিল ক্যাম্প-১ ও পরদিন ক্যাম্প-২-এ ওঠেন। প্রায় ৭ হাজার মিটার উচ্চতা স্পর্শ করে আবার বেস ক্যাম্পে ফিরে আসেন। ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় রোটেশনে তিনি আবার ক্যাম্প-২ পর্যন্ত উঠে এক রাত কাটিয়ে নেমে আসেন এবং অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন।
আবহাওয়া অনুকূলে আসার ইঙ্গিত পেয়ে ৩০ এপ্রিল আবার চূড়ার পথে যাত্রা শুরু করেন। সরাসরি ৬ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-২তে ওঠার পরদিন ৭ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩-এ পৌঁছান।
সেখানেই বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে মধ্যরাতে শুরু করেন চূড়ান্ত আরোহন। টানা ১,১০০ মিটারেরও বেশি খাড়া পথ অতিক্রম করে ভোরে পৌঁছে যান চূড়ায়।
এর আগে ২০২৪ সালে মাউন্ট এভারেস্ট ও মাউন্ট লোৎসে জয় করে একই অভিযানে দুটি ৮ হাজার মিটারের শৃঙ্গ জয় করা প্রথম বাংলাদেশি হন তিনি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে আন্নপূর্ণা ও সেপ্টেম্বরে মাউন্ট মানাসলু (অক্সিজেন ছাড়াই) জয় করে আরও দুটি ইতিহাস গড়েন।
মাউন্ট মাকালু জয় করার মাধ্যমে এখন বিশ্বের ১৪টি ৮ হাজার মিটারের শৃঙ্গের মধ্যে পাঁচটিতে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন বাবর আলী। সবগুলো জয় করার লক্ষ্যে তিনি এগিয়ে চলেছেন দৃঢ় পদক্ষেপে।
তথ্যসূত্রঃ দ্য ডেইলি সান

একযোগে সারা দেশে শুরু হল নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস। শনিবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে মূল পর্বের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দেশের বাকী ৬৩ জেলাতেও শুরু হয় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কার্যক্রম।
এরই অংশ হিসেবে মিরপুরের শহীদ সহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে কাবাডি ইভেন্ট দিয়ে শুরু হয় ঢাকা পর্বের প্রতিযোগিতা। এই পর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, দোহারের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আজমুল হকসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ। পুরো আয়োজনের সমন্বয় করেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী।
উদ্বোধনী দিনে শুধু কাবাডি ডিসিপ্লিনের খেলা হয়েছে। ছেলেদের বিভাগে মুখোমুখি হয় পল্লবী থানা ও কেরাণীগঞ্জ উপজেলা। শুরু থেকেই এক তরফা আধিপত্য ছিল পল্লবী থানার। শেষ পর্যন্ত ৫৩-৩২ পয়েন্টের বড় জয়ের আনন্দে মাতে পল্লবী থানা দল।
মেয়েদের বিভাগে আরও বড় জয় তুলে নিয়েছে পল্লবীর মেয়েরা। কেরাণীগঞ্জের মেয়েদের দাঁড়াতেই দেয়নি তারা। জয় তুলে নেয় ৫৭-২১ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে।
আয়োজনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে জুডো, কারাতে, উশু ও তায়কোয়ান্দোর প্রদর্শনী ম্যাচ উপভোগ করেন উপস্থিত সবাই। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ঢাকা পর্বের পরিপাটি এই আয়োজনের প্রশংসা করেন অতিথিরা। রোববার থেকে বিভিন্ন ভেন্যুতে শুরু হবে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বাকি ৭টি ডিসিপ্লিনের খেলা।

আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠেয় ২০তম এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন ২ মে থেকে চারদিনব্যাপী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত ১৮ এপ্রিল থেকে জাপানের কোচ ইউটাকার নেতৃত্বে সিলেকশন ক্যাম্পের কার্যক্রম শুরু হয়।
এশিয়ান গেমসের মূল প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগে ৩ জন করে খেলোয়াড় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় ফেডারেশন প্রাথমিকভাবে ১৬ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী নিয়ে ক্যাম্প শুরু করে। তবে প্রথম ধাপের বাছাইয়ে এই তালিকা থেকে পুরুষ ও নারী বিভাগে ৮ জন করে খেলোয়াড় রাখা হচ্ছে।
পরীক্ষা ও অসুস্থতার কারণে বেশ কয়েকজন সম্ভাবনাময় তরুণ খেলোয়াড় এবারের বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন - নাফিজ ইকবাল, মোঃ হাসিবুর রহমান, আবুল হাসেম হাসিব, খাই খই সাই মারমা এবং রেশমী তেঞ্চঙ্গা।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের গাইডলাইন অনুযায়ী সম্ভাব্য খেলোয়াড় ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের একটি দীর্ঘ তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।
এই বছর টেবিল টেনিসে অনেক ব্যস্ত সূচি। কমনওয়েলথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান গেমস, এশিয়ান যুব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ, সাউথ এশিয়ান জুনিয়র টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ এবং সাউথ এশিয়ান গেমস খেলবে বাংলাদেশ।

ষষ্ঠ এশিয়ান বিচ গেমসে দারুণ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশের নারী কাবাডি দল। প্রায় ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের গৌরব অর্জন করেছে তারা।
সোমবার বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ব্রোঞ্জ জয়ী দলটি আগামীকাল রাতে দেশে ফিরবে। চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নং সিজেড ৩৯১ যোগে রাত ১০টায় তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
সাফল্যমণ্ডিত এই নারী কাবাডি দলকে বিমানবন্দরে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানো হবে। বিওএ-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবেন।
ষষ্ঠ আসরে কাবাডিতে স্বর্ণ জিতেছে ভারত এবং রৌপ্য পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতের কাছে হারলেও তাদের সুশৃঙ্খল ও আক্রমণাত্মক খেলা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।