১০ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:০৪ পিএম

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ হলেন সৌম্য সরকার ও লিটন দাস। শুরুটা আগ্রাসী হলেও তানজিদ হাসান তামিম পারলেন না ইনিংস বড় করতে। সাথে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় এক পর্যায়ে দুইশ রানই মনে হচ্ছিল পাহাড়সম লক্ষ্য। তবে বহু যুদ্ধের পোড় খাওয়া যোদ্ধা মাহমুদউল্লাহ আরও একবার দাঁড়িয়ে গেলেন দলের বিপদে। শেষ পর্যন্ত একাই লড়ে গেলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। নয় নম্বরে নামা তানজিম হাসান সাকিব খেললেন গুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস। এই দুজনের কল্যাণে একটা ফাইট দেওয়ার মত পুঁজি পেল বাংলাদেশ।
সেন্ট কিটসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ৪৫.৫ ওভারে ২২৭ রানে।
অথচ টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামার পর বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ভালোই। প্রথম বলেই বাউন্ডারি আসে আগের ম্যাচে ফিফটি করা তানজিদের ব্যাট থেকে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে চড়াও হন মারকুইনো মিন্ডলের ওপর দিয়ে। মিড উইকেট দিয়ে প্রথমে চার মারার পরের বলে ওড়ান ছক্কায়। ওভারের শেষ বলে আরও একটি ছক্কা মেরে ওভার থেকে আদায় করেন ১৮ রান।
আরও পড়ুন
| তানজিদ-মিরাজ-মাহমুদউল্লাহর ফিফটিতে বাংলাদেশের ২৯৪ |
|
তবে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার। জেডেন সিলসের লেন্থ ডেলিভারিতে টাইমিং গড়বর করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাত্র ২ রানে। এই ম্যাচের আগে চলতি বছর খেলা তিন ওয়ানডে মিলিয়ে ১০ রানেরও কম করা লিটন দাস এদিন শুরু থেকেই ছিলেন নড়বড়ে। তার সাবধানী ব্যাটিংয়ে কমে যায় রানের গতি। সেটা পুষিয়ে দেওয়ার আগে সাজঘরের পথ ধরেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
তার আগে ১৯ বলে করতে পারেন মাত্র ৪ রান। ছন্দময় এক স্পেলে এরপর মেহেদি হাসান মিরাজকেও শিকার বানান সিলস। শট খেলবেন, না ছেড়ে দেবেন এই দ্বিধায় থেকে শেষ পর্যন্ত ইনসাইড-এজ হয়ে মাত্র ১ রানে বোল্ড হন আগের ম্যাচে ৭৪ করা বাংলাদেশ অধিনায়ক।
অন্যপ্রান্তে ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল রাখছিলেন তানজিদ। এগিয়ে যাচ্ছিলেন টানা দ্বিতীয় ফিফটির পথে। তবে অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। জাস্টিন গ্রিভসকে টানা দুই বাউন্ডারি মারার পর সেই ওভারেই লুজ শটে বিলিয়ে দিয়ে আসেন উইকেট। ৪টি চার ও ২ ছক্কায় মাত্র ৩৩ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৬ রান।
আরও পড়ুন
| গুরবাজের সেঞ্চুরিতে ম্লান মাহমুদউল্লাহ বীরত্ব, সিরিজ হার বাংলাদেশের |
|
রোমারিও শেফার্ডের এক ওভারে দুই চার মেরে ভালো কিছুর আভাস ছিল আফিফ হোসেনের ব্যাটে। একই বোলারকে এরপর হাঁকান আরও দুটি বাউন্ডারি। তবে ঠিক আগের ম্যাচের মতই সেট হয়ে ব্যর্থ হন ইনিংস লম্বা করতে। গুদাকেশ মোটির প্রথম শিকারের পরিণত হওয়ার আগে তার অবদান ছিল ২৪ রান।
প্রথম ম্যাচে চাপের মুখে ৪৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলা জাকের আলি অনিক পারেননি এবার পরিস্থিতির চাহিদা মেটাতে। একপ্রান্ত আগলে থাকা মাহমুদউল্লাহ নিজের প্রথম ৪১ বলে করেন মাত্র ১১ রান। তবে ওই সময়ে ক্রিজে একজন ব্যাটারের টিকে থাকাটাই ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মোটিকে ছক্কা মেরে হাত খোলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। তবে উইকেট পতন চলতেই থাকে। রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনও। ২৬ ওভারে মাত্র ১১৫ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে প্রবল চাপের মুখ পড়ে যাওয়া বাংলাদেশের সামনে তখন ৫০ ওভার খেলা বা ২০০ রান করাটাই হয়ে দাঁড়ায় বিশাল চ্যালেঞ্জ।
তবে আরও একবার ‘ক্রাইসিস ম্যান’ হিসেবে আবির্ভূত হন মাহমুদউল্লাহ। পেস বোলিং অলরাউন্ডার তানজিমকে নিয়ে গড়ে তোলেন মহাগুরুত্বপূর্ণ এক জুটি। প্রথম দিকে একটু দেখে খেলার পর দুজনই প্রয়োজন মত খেলেছেন বড় শটও। দুজনের ব্যাট থেকেই আসে কয়েকটি ছক্কা। জুটিতে হয়ে যায় ফিফটি।
এই জুটিতে তানজিম যেবাবে মাহমুদউল্লাকে সঙ্গ দিয়েছেন এবং স্পেশালিস্ট ব্যাটারদের মত ভালো ডেলিভারিকে সম্মান দেখিয়ে বাজে বল পেলেই মেরেছেন, তা ছিল প্রশংসনীয়। আর সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৮৪ বলে ওয়ানডেতে নিজের ৩১তম ফিফটি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ।
জমে ওঠা এই জুটির শতক থেকে মাত্র ৮ রান দূরে থাকতে নিজের বলে রোস্টন চেজের নেওয়া দারুণ এক ক্যাচে শেষ হয় তানজিমের লড়াকু ইনিংস। ফিফটি মিস করলেও ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন তানজিম।
আরও পড়ুন
| মাহমুদউল্লাহ ৯৮, মিরাজ ৬৬, বাংলাদেশ ২৪৪ |
|
এরপরই মাহমুদউল্লাহর হাত ধরে আশা ছিল ২৩০-২৪০ রানের। তবে ঠিক এর পরের ওভারে সিলসের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের লড়াই। ৪টি ছক্কা ও ২ চারে সাজান ৬২ রানের ইনিংস।
ক্রিজে গিয়েই দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা আগ্রাসন দেখান। হাঁকান কয়েকটি বাউন্ডারি। তাতে যোগ হয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ রান। মাত্র ২২ রানে ৪ উইকেট নেন সিলস।
No posts available.
১ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৫০ পিএম

পরপর দুই ম্যাচে টস জিতলেন নুরুল হাসান সোহান। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে টস জিতে আগের ম্যাচের মতোই আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে আগে ব্যাট করবে রাজশাহী।
এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচ খেলে সহজ জয় পেয়েছে রংপুর। অন্য দিকে তিন ম্যাচে রাজশাহীর জয় দুইটি।
নিজেদের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছে রংপুর। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার সুফিয়ান মুকিমের জায়গায় তারা নিয়েছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার কাইল মায়ার্সকে।
রাজশাহী দলেও পরিবর্তন একটি। বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদের পরিবর্তে এসেছে স্পিন অলরাউন্ডার এসএম মেহেরব হাসান।
রংপুর রাইডার্স একাদশ
নুরুল হাসান সোহান (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), লিটন কুমার দাস, তাওহিদ হৃদয়, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাহিদ রানা, আলিস আল ইসলাম, খুশদিল শাহ, ফাহিম আশরাফ, কাইল মায়ার্স, দাভিদ মালান
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স একাদশ
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), ইয়াসির আলি চৌধুরি, এসএম মেহেরব হাসান, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মন্ডল, সাহিবজাদা ফারহান, মোহাম্মদ নাওয়াজ, হুসাইন তালাত, বিনুরা ফার্নান্দো

পার্থ স্কর্চার্সের বিপক্ষে প্রথম দুই ওভারে ১১ রান দেন রিশাদ হোসেন। তবে শেষ স্পেলে এসে খরুচে বোলিং করলেন বাংলাদেশের এই লেগস্পিনার। রিশাদের মিশ্র বোলিংয়ের দিনে বাকিদের বাজে পারফরম্যান্সে চলতি বিগ ব্যাশে প্রথমবার দুইশর বেশি লক্ষ্য তাড়ায় নামবে হোবার্ট হারিকেন্স।
বেলেরিভ ওভালে প্রথম ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ পেয়েছে পার্থ স্কর্চার্স।
চার ওভার বল করে ৩৫ রান দিয়েছেন রিশাদ, ছিলেন উইকেটশূন্য। ৬ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে উইকেট শিকারিদের তালিকায় ৬ নেমে গেছেন তিনি।
ঘরের মাঠে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্বান্ত নেয় হোবার্ট। তৃতীয় ওভারে অধিনায়ক নাথান এলিসের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান পার্থের ওপেনার ফিন অ্যালেন। পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে আসেন রিশাদ হোসেন। নিজের প্রথম ওভারে আঁটসাঁট বোলিংয়ে দেন ৭ রান।
ষষ্ঠ ওভারে মিচেল ওয়েনের বলে দলীয় ৫১ রানে ফিরে যান তিনে নামা কুপার কনোলি। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে ৪ রান দেন রিশাদ।
১৩তম ওভারে রিশাদের হাতে দ্বিতীয় স্পেলে বল তুলে দেন হোবার্ট অধিনায়ক। প্রথম দুই বলে ৮ রান নিয়ে নিজের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মিচেল মার্শ। ওভারের শেষ চার বলে ৪ রান দেন রিশাদ।
১৪ তম ওভারে বিগ ব্যাশে নিজের দুই হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মার্শ। ২৬ বলে ফিফটি তুলে নেন আরেক ব্যাটার অ্যারন হার্ডি।
১৬তম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে আসেন রিশাদ। প্রথম দুই বলে দুটি চার মারেন হার্ডি। শেষ চার বলে ৪ রান দিয়ে ১২ রানে ওভার শেষ করেন রিশাদ। ৪ ওভারের স্পেল পূর্ণ করা বোলারদের মধ্যে রিশাদের ইকোনমি সবচেয়ে কম ৮.৮০।
এদিন ৫৫ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন মার্শ। সেঞ্চুরির পর দ্রত ফিরে গেলে অ্যারন হার্ডির ভাঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৬৪ রানের জুটি। মার্শের ৫৮ বলে ১০২ রানের ইনিংসে ছিল ১১ টি চার ও ৫টি ছক্কা। ৪৩ বলে ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন হার্ডি।
জয়ের জন্য রিশাদের হোবার্টের দরকার ২৩০ রান। পাঁচ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হোবার্ট।

১২ বলে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রয়োজন ৪৫ রান। উইকেট বাকি মাত্র ২টি। কঠিন এই সমীকরণে একাই লড়লেন শামীম হোসেন। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ওভারে ১৮ রানের পর মোহাম্মদ আমিরের শেষ ওভারে তিনি নিলেন ২০ রান। কিন্তু জয়ের জন্য যথেষ্ট হলো না সেটি। রোমাঞ্চকয় জয়ে দুই নম্বরে উঠল সিলেট টাইটান্স।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ঢাকাকে ৬ রানে হারায় সিলেট। ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৭৩ রানের পুঁজি পায় সিলেট। জবাবে শামীমের লড়াইয়ের পরও ১৬৭ রানের বেশি করতে পারেনি ঢাকা।
ছয় নম্বরে নেমে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ বলে ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন শামীম। ১৩৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই বাঁহাতি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংস। একইসঙ্গে এই ফরম্যাটে ২ হাজার রানও পূর্ণ হয়েছে তার।
সিলেটের জয়ের নায়ক আজমতউল্লাহ ওমরজাই। আগের রাতে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ব্যাট হাতে ২৪ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পরে বল হাতেও ৩ উইকেট নেন আফগানিস্তানের পেস বোলিং এই অলরাউন্ডার।
আরও পড়ুন
| রাতে এসে দুপুরেই ওমরজাইয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিং |
|
দুই দিন বিরতির পর এই ম্যাচ দিয়েই আবার শুরু হয় বিপিএল। খেলা শুরুর আগে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন দুই দলের ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়াল ও মাঠে উপস্থিত বাকিরা।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন ছয় নম্বরে নামা ওমরজাই। তার ঝড়ে শেষ পাঁচ ওভারে ৭৪ রান পায় সিলেট। এছাড়া ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩২ বলে ৪৪ রান করেন ইমন। আর ২৯ রান করতে ৩৪ বল খেলে ফেলেন সাইম আইয়ুব।
২ উইকেটের জন্য ৪ ওভারে ৪৬ রান খরচ করেন সালমান মির্জা। তাসকিনও ৪ ওভারে দেন ৪৬ রান।
রান তাড়ায় শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা। ৮ ওভারের মধ্যে মাত্র ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে ৩১ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়েন সাব্বির রহমান ও শামীম। ১৯ বলে ২৩ রান করে ফিরে যান সাব্বির।
পরে দলকে একাই টেনে নেন শামীম। তবে শেষ দুই ওভারে ঝড় তুলেও জেতাতে পারেননি তিনি।
তিন ম্যাচের সিলেটের এটি দ্বিতীয় জয়। দুই ম্যাচে ঢাকার প্রথম পরাজয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৭৩/৫ (সাইম ২৯, রনি ১১, মিরাজ ৬, ইমন ৪৪, আফিফ ১৩, ওমরজাই ৫০*, ব্রুকস ১৩*; ইমাদ ৩-০-১৪-০, তাসকিন ৪-০-৪৬-১, সালমান ৪-০-৪৬-২, নাসির ৩-০-২০-০, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩২-১, সাইফ হাসান ২-০-১৩-১)
ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৬৭/৮ (সাইফ ৯, জুবাইদ ১, উসমান ২১, মিঠুন ০, নাসির ৫, শামীম ৮১*, সাব্বির ২৩, ইমাদ ৮, সাইফ উদ্দিন ০, তাসকিন ৩*; আমির ৪-১-৩০-২, নাসুম ৪-০-২৬-২, ওমরজাই ৪-০-৪০-৩, মিরাজ ৩-০-১৯-১, খালেদ ৩-০-২৫-০ সাইম ১-০-১৪-০, আফিফ ১-০-৬-০)
ফল: সিলেট টাইটান্স ৬ রানে জয়ী

নতুন বলে মোহাম্মদ আমিরের প্রথম ওভার যেন বুঝতেই পারলেন না সাইফ হাসান। একের পর এক ডট বল খেলে পুরো মেডেন দিয়ে দিলেন ঢাকা ক্যাপিটালস ওপেনার। আর ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাকিব আল হাসানকে টপকে গেলেন সিলেট টাইটান্সের পাকিস্তানি ওপেনার।
দীর্ঘ টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে আমিরের এটি ২৮তম মেডেন ওভার। এই সংস্করণে তার চেয়ে বেশি মেডেন আছে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনিল নারিনের, ৩৩টি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবারের ম্যাচের আগপর্যন্ত ২৭ মেডেন নিয়ে যৌথভাবে দুই নম্বরে ছিলেন আমির ও সাকিব। ঢাকার প্রথম ওভারেই মেডেন করে সাকিবকে তিন নম্বরে ঠেলে এককভাবে দুই নম্বরে উঠে যান আমির।
প্রায় ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে ৩৪৪ ম্যাচে আমিরের এটি ২৮তম মেডেন। পেসারদের মধ্যে তার মেডেনই সবচেয়ে বেশি। ৪৫৯ ইনিংসে সাকিবের মেডেন ২৭টি। পেসারদের মধ্যে আমিরের পরে আছেন ভারতের ভুবনেশ্বর কুমার, ৩১৫ ইনিংসে ২৬টি।
সবার ওপরে থাকা নারিন তার ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে ৫৬৭ ইনিংসে করেছেন ৩৩টি মেডেন ওভার।

জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার জন্য যেটা সবচেয়ে জরুরি সেটাই করে দেখাচ্ছেন। শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফিটনেসে দারুণ উন্নতি করেছেন। রান পাচ্ছেন নিয়মিতই। ঘরোয়া ক্রিকেটে সেঞ্চুরি-ফিফটি করছেন। তারপরও ভারতের নির্বাচকদের নজরে পড়ছেন না সরফরাজ খান।
সবশেষ গতকাল বিজয় হারারে ট্রফিতে ৭৫ বলে ১৫৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে নির্বাচকদের কড়া বার্তাই যেন দিয়ে রাখলেন সরফরাজ। গোয়ার বিপক্ষে মুম্বাইয়ের হয়ে দুর্দান্ত এ ইনিংস সাজান ১৪টি ছক্কা ও ৯টি চারে। ২৮ বছর বয়সী ব্যাটারের ব্যাটে মুম্বাইয়ও পেয়েছে জয়।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ছন্দের তুঙ্গে থাকা সরফরাজের ইনিংসটি এসেছে একেবারে উপযুক্ত সময়ে। ১১ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জায়গা পাওয়ার দাবিটা আরও জোরালো করলেন ডানহাতি ব্যাটার।
আরও পড়ুন
| রাতে এসে দুপুরেই ওমরজাইয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিং |
|
সবশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ভারতের জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন সরফরাজ। ঘরের মাঠে কিউইদের কাছে ধবলধোলাই হয় স্বাগতিক ভারত। ওই সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ডাক মারার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫০ রানের ইনিংস খেলেন সরফরাজ। সিরিজের পরের দুই টেস্টের চার ইনিংস থেকে মাত্র ২১ রান করেন তিনি।
কিউইদের বিপক্ষে ওই সিরিজের ব্যর্থতার পর জাতীয় দলে একরকম ব্রাত্যই হয়ে পড়েন সরফরাজ খান। দল থেকে ছিটকে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে নামেন মিডল অর্ডারের এই ব্যাটার। ১৭ কেজি ওজন কমিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে রীতিমতো রান মেশিনে রূপ নেন। রঞ্জি ট্রফিতে প্রায় ৭০ গড়ে রান করেন। বিজয় হারারে ট্রফিতে সবশেষ পাঁচ ইনিংসে সরফরাজ একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে তিন ফিফটিতে মোট ৩৫৭ রান। এরমধ্যে সিকিমের বিপক্ষে ম্যাচে ৮ রানে ছিলেন অপরাজিত।
সরফরাজের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে কথা বলেন অনেকেই। এরমধ্যে ভারতীয় ধারাভাষ্যকর হার্ষা ভোগলে বলেছেন, যদি রানই চূড়ান্ত মাপকাঠি হয়, তাহলে তাকে দলে না রাখাভারতীয় নির্বাচকদের ব্যর্থতা। সরফরাজের লড়াইটা শুধু ব্যাটের নয়।
আগামী ১১ জানুয়ারী ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলবে ভারত। ১৪ ও ১৮ জানুয়ারি ৫০ ওভারের বাকি দুই ম্যাচের পর কিউদের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারত। ব্যাটে রানের বন্যা বইয়ে দেওয়া সরফরাজকে এবার প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ডাক পান কিনা সেটাই দেখার।