৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৩৫ পিএম

দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সৌম্য সরকার পারলেন না বড় স্কোর গড়তে। তবে আগ্রাসী এক ফিফটিতে সুর বেধে দিলেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দারুণ এক ইনিংসে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ ধরলেন মাঝের সময়টার হাল। শেষের দিকে প্রয়োজনীয় ঝড়ো দুই ইনিংসে প্রয়োজনীয় ফিনিশিং এনে দিলেন মাহমুদউল্লাহ ও জাকের আলি অনিক। বাংলাদেশ পেল চ্যালেঞ্জ জানানোর মত একটা স্কোর।
সেন্ট কিটসে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ৬ উইকেটে ২৯৪ রানে৷
গত শনিবার শেষ হওয়া গ্লোবাল সুপার লিগে সর্বোচ্চ রান করা সৌম্য ফাইনালে করেছিলেন ৮৬ রান। তবে পরদিনই মাঠে নেমে পারেননি ফর্মটা ধরে রাখতে। শুরুটা ধীর হওয়ার পর দুই চারে কিছুটা ছন্দ ফিরে পাওয়ার আভাস ছিল। তবে আলজারি জোসেফের প্রথম শিকার হওয়ার আগে করতে পারেন মোটে তিন বাউন্ডারিতে ১৮ রান।
তিনে নামা লিটন দাস ফেরেন স্রেফ দুই রান করেই। অন্যপ্রান্তে তানজিদ অবশ্য শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল রাখেন। সেই তুলনায় চারে নামা মিরাজ ছিলেন কিছুটা স্থির। আর এই দুইয়ের সম্মিলনেই জমে যায় জুটি।
জাস্টিন গ্রিভসের করা ১৩তম ওভারে একটি চার মারার পর ডাউন দ্য উইকেটে এসে ছক্কা মারেন তানজিদ। ব্যাটে আত্মবিশ্বাসের ছাপ ছিল স্পষ্ট, সেঞ্চুরি করাটা ওই সময়েই সহজ বলেই মনে হচ্ছিল তার জন্য। ইনিংসের ১৮তম ওভারে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটির দেখা পান তরুণ এই ব্যাটার, আর বাংলাদেশ স্কোর পার করে একশ।
প্রথম ৩৭ বলে ২৩ রান করা মিরাজ জেডেন সিলকে ছক্কা মেরে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার আভাস দেন। ৩১ রানে থাকা অবস্থায় ক্যাচ ড্রপে পান নতুন জীবন, যা বাংলাদেশ অধিনায়ক কাজে লাগান দুহাতে।
জুটি যখন পুরোপুরি সেট, তখনই বিপত্তি। ম্যাচের ধারার বিপরীতে আলজারিকে কাট করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তানজিদ। শেষ হয় ৬টি চার ও ৩ ছক্কায় তার ৬০ বলে ৬০ রানের সম্ভাবনাময় ইনিংসের।
আফিফ হোসেনের সাথে এরপর আরেকটি ভালো জুটি হয় মিরাজের। ৭১ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ হয় অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের। ক্রিজে গিয়ে কয়েকটি চার মেরে আফিফ ধরে রাখেন ইনিংসের গতি। গ্রিভসকে টানা দুই চার মেরে জুটির ফিফটি আসে আফিদের ব্যাট থেকে। ছন্দে থাকা ইনিংসটি শেষ হয় রোমারিও শেফার্ডকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে। তার আগে ২৯ বলে করেন ২৮।
চার মেরে রানের খাতা খোলেন মাহমুদউল্লাহ। খানিক বাদে বড় শট খেলার প্রচেষ্টায় শেষ হয় মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসটি। ৬ চার ও এক ছক্কায় ডানহাতি এই ব্যাটারের অবদান ছিল ৭১। টেস্ট সিরিজে ম্যাচ জয়ী এক ইনিংস খেলা জাকের আলি শুরুটা করেন সিলসের এক ওভারে দুই চার মেরে। ৪৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ২২৩।
এরপর শুরু হয় জাকের ও মাহমুদউল্লাহর মারমুখী ব্যাটিং। প্রতি ওভারে চার-ছক্কার মারে দ্রুতই রান বাড়তে থেকে। ২৮০ ছাড়িয়ে তাতে আশা জাগে ৩০০ রানেরও। শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্য তা না হলেও দলকে দুর্দান্ত পজিশনে নিয়ে গেছেন এই দুজন মিলে।
শেষ ওভারে পঞ্চাশে পা রাখেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ। তবে পারেননি জাকের। সমান ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৪০ বলে ৪৮ রানে থামে তার পথচলা। ষষ্ঠ উইকেটে ৯৬ রান করেন তারা। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৫০ রানে। ৫১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন শেফার্ড।
No posts available.
২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
২৮ মার্চ ২০২৬, ৯:২৪ পিএম

জয় দিয়ে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ক্রিকেটের নতুন আসর শুরু করল মুলতান সুলতান্স। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শনিবার রাতের ম্যাচে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে তারা।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৭১ রানের পুঁজি পায় ইসলামাবাদ। তবে সেটি যথেষ্ট হয়নি। ৮ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে যায় মুলতান।
দলের জয়ের নায়ক বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার মোমিন কামার ও অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার জশ ফিলিপ। পিএসএল টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ৩ উইকেট নেন মোমিন। আর ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ফিলিপ।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা তেমন মন্দ ছিল না ইসলামাবাদের। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৮ রান যোগ করেন ডেভন কনওয়ে (২৬) ও সামির মিনহাস (২৮)।
পরে চার নম্বরে নেমে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২১ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলেন মার্ক চ্যাপম্যান। শেষ দিকে ফাহিম আশরাফ ১৭ বলে ২৬ রান করলে লড়াইয়ের পুঁজি পায় ইসলামাবাদ।
মুলতানের পক্ষে ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন মোমিন। এছাড়া মোহাম্মদ ওয়াসিম ২ উইকেটের জন্য খরচ করেন ৪২ রান।
রান তাড়ায় শুরুতেই সাহিবজাদা ফারহানের উইকেট হারায় মুলতান। তবে চাপ আসতে দেননি স্টিভেন স্মিথ ও জশ ফিলিপ। দুজনের জুটিতে আসে ৪৫ রান। স্মিথ আউট হন ২৩ বলে ৩১ রান করে।
ফিলিপের ব্যাট থেকে আসে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৩৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস। ৫ নম্বরে নেমে ২৮ বলে ৪৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন অ্যাশটন টার্নার। এছাড়া ১১ বলে ২৫ রান করেন আরাফাত মিনহাস।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের শুরুটা চ্যাম্পিয়নের মতোই করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে আইপিএল ইতিহাসের রেকর্ড গড়েই নতুন আসর শুরু করল টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
নিজেদের ঘরের মাঠে শনিবার রাতে হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জিতেছে বেঙ্গালুরু। আগে ব্যাট করে ইশান কিষান ও অনিকেত বর্মার ঝড়ে ২০১ রান করে হায়দরাবাদ। জবাবে দেবদূত পাডিক্কাল ও ভিরাট কোহলির তাণ্ডবে ১৫.৪ ওভারে ম্যাচ জিতে নেয় বেঙ্গালুরু।
আইপিএল তো বটেই, বিশ্বের যে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ইতিহাসেই, এত কম ওভারে দুইশর বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই আর কোনো দলের। গত আসরে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ২১০ রানের লক্ষ্যে ১৫.৫ ওভারে জিতেছিল রাজস্থান রয়্যালস।
রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারে ফিল সল্টের উইকেট হারায় বেঙ্গালুরু। তবে দলের ওপর চাপ আসতে দেননি দেবদূত পাডিক্কাল। বিরাট কোহলিকে সঙ্গে নিয়ে হায়দরাবাদের বোলারদের কচুকাটা করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৭৬ রান করে ফেলে বেঙ্গালুরু। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় মাত্র ২১ বলে ফিফটি করে ফেলেন পাডিক্কাল। তবে এরপর বেশি দূর যেতে পারেননি। সব মিলিয়ে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ২৬ বলে ৬১ রান করে ফেরেন তিনি। পাডিক্কালের বিদায়ে ভাঙে ৪৫ বলে ১০১ রানের জুটি।
বিধ্বংসী জুটি ভাঙার পর চার নম্বরে নেমে একই ছন্দে এগোতে থাকেন অধিনায়ক রজত পাতিদার। চার-ছক্কার ঝড় তুলে তিনি খেলেন ২ চার ও ৩ ছক্কায় ১২ বলে ৩১ রানের ইনিংস। কোহলির সঙ্গে জুটিতে আসে ২২ বলে ৫৩ রান।
১৩তম ওভারে পরপর দুই বলে পাতিদার ও জিতেশ শর্মাকে আউট করেন ডেভিড পেইন। পরে কিছুটা কমে আসে রানের গতি। একপ্রান্ত ধরে রেখে ৩৩ বলে ফিফটি করেন কোহলি।
আইপিএলে এটি তার ৬৪তম ফিফটি, সঙ্গে আছে ৮টি সেঞ্চুরি। আর সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০৬ নম্বর ফিফটি করলেন কোহলি। সেঞ্চুরি মোট ৯টি।
ফিফটি ছুঁয়ে আর ম্যাচ শেষ করার জন্য সময় নেননি কোহলি। ১৬তম ওভারে হার্শাল প্যাটেলের বলে ১ ছক্কা ও ৩ চার মেরে বেঙ্গালুরুর জয় নিশ্চিত করে দেন ভারতের ব্যাটিং গ্রেট। সব মিলিয়ে ৫টি করে চার-ছক্কায় ৩৮ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। আইপিএল অভিষেকে দুর্দান্ত বোলিং করেন জ্যাকব ডাফি। তৃতীয় ওভারে হায়দরাবাদের দুই ওপেনার অভিশেক শর্মা (৮ বলে ৭) ও ট্রাভিস হেডকে (৯ বলে ১১) ফিরিয়ে দেন নিউ জিল্যান্ডের পেসার।
তার পরের ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন চার নম্বরে নামা নিতিশ কুমার রেড্ডি (৬ বলে ১)। মাত্র ২৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে খাঁদের কিনারায় চলে যায় হায়দরাবাদ।
সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন অধিনায়ক ইশান কিষান ও হেনরিখ ক্লাসেন। দুজন মিলে ৫৩ বলে গড়ে তোলেন ৯৭ রানের জুটি। যেখানে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন ইশান। ১৪তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ৩১ রান করেন ক্লাসেন।
৬ চারের সঙ্গে ২ ছক্কা মেরে ২৭ বলে ফিফটি পূরণ করেন ইশান। এরপর একই ছন্দে এগিয়ে সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকেন উইকেটকিপার-ব্যাটার। কিন্তু ১৬তম ওভারের শেষ বলে ফিল সল্টের দুর্দান্ত এক হাতের ক্যাচে বিদায়ঘণ্টা বাজে তার।
ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে ৮ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ৩৮ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন ইশান।
এরপর দলকে এগিয়ে নেন অনিকেত বর্মা। শেষের তাণ্ডবে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় মাত্র ১৮ বলে ৪৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার। ইশানের পর অনিকেতের এই তাণ্ডবেই চাপ সরিয়ে দুইশ পেরোয় হায়দরাবাদ। যদিও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি।
আইপিএল অভিষেকে মাত্র ২২ রানে ৩ উইকেট নেন ডাফি। রোমারিও শেফার্ড ৩ উইকেটের জন্য দেন ৫৪ রান।

আইপিএলের নতুন আসরের শুরুতেই বড় ধাক্কায় পড়েছে বেশ কয়েকটি দল। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের ওপর নির্ভরশীল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। জশ হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স- এই তিন তারকাই মৌসুমের শুরুর অংশে নেই। ফলে দলগুলোর পরিকল্পনায় যেমন ছন্দপতন ঘটেছে, তেমনি তাদের পারিশ্রমিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
বাইরে থেকে নানান আলোচনায় অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্টার্ক। দিল্লি ক্যাপিটালসের বাঁহাতি এই পেসার জানিয়েছেন, তার অনুপস্থিতির পেছনে রয়েছে কাঁধ ও কনুইয়ের চোট। যা অস্ট্রেলিয়ার সামারের শেষে পুরোপুরি ধরা পড়ে।
এসব বিষয়ে পুরোপুরি না জেনে ভুয়া খবর ছড়িয়ে বেড়ানো সংবাদমাধ্যমগুলোকে ধুয়ে দিয়েছেন স্টার্ক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত লিখেছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার।
“ভারতীয় গণমাধ্যমের কিছু ব্যক্তি তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমার আইপিএলে অংশগ্রহণ ও ফিটনেস নিয়ে নানা মতামত ও মন্তব্য করেছেন। বাস্তবে আমি কাঁধ ও কনুইয়ের চোটের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যার পুরো মাত্রা আমি অস্ট্রেলিয়ার সামারে বুঝতে পারিনি।”
“এসব ব্যক্তিবর্গ ক্রিকেটারদের নিয়ে ভুল তথ্যভিত্তিক মতামত দিয়েছেন এবং সেগুলোকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। সব মিলিয়ে তারা এমন আচরণ করেছেন যেন আমার শরীর সম্পর্কে আমার চেয়েও বেশি জানেন তারা।”
এসময় আইপিএলে খেলতে না পারায় দিল্লি ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন স্টার্ক।
“তবে আমি স্বীকার করছি, চোটের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি দিল্লি দলের জন্য বিঘ্ন তৈরি করেছে। মৌসুমের শুরুতে খেলতে না পারায় দল ও সমর্থকদের কাছে আমি দুঃখিত। আমি দিল্লি ক্যাপিটালসে যোগ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং যত দ্রুত সম্ভব মাঠে ফিরতে যা করার দরকার, তা করে যাচ্ছি।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে প্রচুর। এক সমর্থক তার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে জবাব দেন স্ত্রী অ্যালিসা হিলি। তিনি লিখেছেন, “ও তো চোটে আছে। বল করতে না পারলে খেলবে কীভাবে? পুরোপুরি ফিট থাকলে সে অবশ্যই খেলত।”

দিনটা ছিল ব্যাটারদের। তবে বল হাতে খুব একটা বাজে দিন দেখেননি বাংলাদেশের দুই বোলার শরীফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন। পিএসএলে আজ রিশাদদের রাওয়ালপিন্ডিকে সহজেই হারিয়েছে শরীফুলদের পেশোয়ার জালমি।
রান বন্যার ম্যাচে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটে ২১৪ রান করে রাওয়ালপিন্ডি। জবাবে পাঁচ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পেশোয়ার।
পিএসএলে অভিষেকে উইকেটশূন্য ছিলেন শরীফুল। অন্যদিকে একটি উইকেট নেন রিশাদ। তবে ৪ ওভারে ৩১ রান দেওয়া শরীফুলই ছিলেন বেশি কার্যকরী। বিপরীতে প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়েও নিজের শেষ ওভারে ১৮ রান খরচ করে দলের বিপদ বাড়ান লেগ স্পিনার রিশাদ।
টসে জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামা রাওয়ালপিন্ডি মোহাম্মদ রিজওয়া-ইয়াসির খানের উদ্বোধনী জুটিতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায়। ১২.১ ওভারে যখন তাদের জুটি ভাঙে স্কোরবোর্ডে রান তখন ১২৫। রিজওয়ান আউট হন ৩২ বলে ৪১ করে। আর খুনে মেজাজে ব্যাট করা ইয়াসির ৭ চার ও ৬ ছয়ে করেন ৪৬ বলে ৮৩। দুই ওপেনারের পর কামরান ঘুলাম, ডেরিল মিচেল ও স্যাম বিলিংসের ছোটো তবে বিধ্বংসী ইনিংসে রাওয়ালপিন্ডির সংগ্রহ দাড়ায় ২১৪।
ম্যাচের প্রথম ওভারে বল হাতে পান শরিফুল। বাংলাদেশি এই পেসারের প্রথম চার বলে কোনো রান নিতে পারেননি ইয়াসির। এরপর হয় একটি ওয়াইড। পঞ্চম বলে ছক্কা হজম করেন। শর্ট ডেলিভারি ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান ইয়াসির। শেষ বল ডট। প্রথম ওভারে ৭ রান দেওয়া শরিফুল পরের ওভারে দেন ৮।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে দারুণ বোলিং করেন শরিফুল। একটি ওয়াইডসহ এবার দেন কেবল ৫ রান। শরিফুলকে আবার বোলিংয়ে ফেরানো হয় ১৯তম ওভারে। প্রথম বলে লো ফুল টসে চার মারেন স্যাম বিলিংস। পরের বলে ব্যাটার ঠিকমতো খেলতে না পারলেও, শরিফুল ওভারস্টেপ করায় ‘নো’ বলের সংকেত দেন আম্পায়ার। এরপর টানা দুটি ওয়াইড দেন তিনি। বৈধ দ্বিতীয় বলে বিলিংস কাভারে ধরা পড়লেও ফ্রি হিটের কারণে উইকেট মেলেনি। শেষ চার বলে মাত্র চার রান দিলে ওভার থেকে আসে মোট ১১ রান।
রান তাড়ায় ৭৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় পেশোয়ার। ২৮ বলে ৩৯ করা বাবর আজম এলবিড্লুর ফাঁদে পড়েন আসিফ আফ্রিদির বলে। ঝোড়ো ব্যাটিং করা আরেক ওপেনার ২৮ বলে ৪৭ করে। ১০ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ৯৬ করা পেশোয়ার পরের চার ওভারে স্কোরবোর্ডে ৩৪ রান যোগ করে হারায় আরও দুই উইকেট। তবে এরপর মিচেল ব্রাসওয়েল ও আব্দুল সামাদের বিধ্বংসী জুটিতেই ম্যাচ হেলে যায় পেশোয়ারের দিকে। ৩০০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করা নামাদ ১১ বলে ৩৩ করে আউট হন। আর ১৭ বলে ৩৫ করা ব্রাসওয়েল দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।
নিজের প্রথম তিন ওভারে দুর্দান্ত বল করা রিশাদ খেই হারান শেষ ওভারে। দলীয় অষ্টম ওভারে প্রথম বল হাতে নেওয়া রিশাদ ওই ওভারে খরচ করেন পাঁচ রান। তাঁর করা পরের ওভার থেকে দুইটি সিঙ্গেল একটি ছক্কা হাঁকায় পেশোয়ার। পঞ্চম বলে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে তাকে ছক্কা মারেন কুসাল মেন্ডিস।
নিজের তৃতীয় ওভারে মাত্র চার রান দিয়ে একটি উইকেট নেন রিশাদ। আব্দুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দেন অ্যারন হার্ডি।
১৬তম ওভারে যখন আবার বল হাতে নেন রিশাদ, ৩০ বলে ৭৪ রান লাগতো পেশোয়ারের। তবে রিশাদকে পিটিয়ে কঠিন এই সমীকরণ অনেকটাই সহজ বানিয়ে ফেলেন ব্রাসওয়েল ও সামাদ। প্রথম বলে রিশাদের মাথার ওপর দিয়ে ছয় মারেন সামাদ। দ্বিতীয় বলে এক রানের পর তৃতীয় ডেলিভারি থেকে রান নিতে পারেননি ব্রাসওয়েল। তবে পরের দুই বলেই ছয় ও চার মেরে ডট বল উশুল করেন নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার। শেষ বলে এক রান দেওয়ার পর ওই ওভার মোট ১৮ রান আসে, আর পেশোয়ারের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪ বলে ৫৬।
অবশ্য চার ওভার করা রাওয়ালপিন্ডির চার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ইকোনমি ছিল রিশাদেরই। ৫১ রান দেওয়া নাসিম শাহ ছিলেন সবচেয়ে খরুচে। মোহাম্মদ আমীরের চার ওভার থেকে পেশোয়ারের ব্যাটাররা নিয়েছে ৪৯ আর আমাদ বাট দিয়েছেন ৪৫।
জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা পেশোয়ারের পরের ম্যাচ মঙ্গলবার করাচি ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে। আর রিশাদের রাওয়ালপিন্ডি বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হবে করাচি কিংসের বিপক্ষে।

স্বার্থের সংঘাত এড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ওয়াহাব রিয়াজ ও সরফরাজ আহমেদকে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) কোনো ধরনের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততায়।
পিসিবির এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বের দ্বৈততা থেকে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত দূর করা। বোর্ডের বর্তমান দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত থাকা নিয়ে আপত্তি উঠেছিল, যার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ।
এর আগে কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের দল ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন ওয়াহাব ও সারফরাজ। তবে পিসিবির দায়িত্বে থাকায় এখন তাঁদের সেই সম্পৃক্ততা থেকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছে।
বর্তমানে পিসিবিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন দুজনই। সারফরাজ জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি টেস্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবেও কাজ করছেন। ওয়াহাব রিয়াজ পাকিস্তান নারী দলের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, একই সঙ্গে বোর্ড ও ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্বে থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই এমন দ্বৈত ভূমিকা সীমিত করাই ছিল প্রয়োজনীয়।
পিসিবির এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে সুশাসন জোরদারের বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পিএসএলের মতো বড় টুর্নামেন্টে স্বচ্ছতা ও আস্থা বজায় রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বোর্ড।