২৬ অক্টোবর ২০২৪, ১০:০৭ পিএম

বয়সভিত্তিক দল থেকেই নাজমুল হোসেন শান্তর মাঝে দেখা হচ্ছিল ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করার সব গুণাবলী। চলতি বছর পেয়েও যান তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্বও। সফলতার পাশাপাশি এই সময়ে ব্যর্থতাও এসেছে বেশ। তাতে ধেয়ে এসেছে সমালোচনা। ব্যাট হাতেও পারেননি যথেষ্ট ভালো করতে। বাতাসে ভাসছে গুঞ্জন, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ শেষেই নাকি অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান শান্ত। তবে বিসিবি পরিচালক নাজমূল আবেদীন মনে করেন, অতিরিক্ত চাপে ফেলা হয়েছে বাঁহাতি এই ব্যাটারকে এবং নেতা হিসেবে বেড়ে উঠতে তাকে আরও সময় দেওয়া উচিত।
দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ফরম্যাটের সিরিজের আগে দায়িত্ব পান শান্ত। এরপর তার নেতৃত্বে একটি বিশ্বকাপ, কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। সেরা অর্জন পাকিস্তানে গিয়ে টেস্ট সিরিজ জয়। তবে ভারত সফরে সব ম্যাচ হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট হারের পর প্রশ্ন উঠছে শান্তর অধিনায়কত্ব নিয়েও। ব্যাট হাতেও অধারাবাহিক হওয়ায় সেটা সামাল দেওয়া বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে তার জন্য। এরই মধ্যে শনিবার গুঞ্জন আসে শান্তর অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার।
মেঘনা ব্যাংক তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগের ট্রফি উন্মোচনে এসে এই ব্যাপারে প্রশ্নের মুখে নাজমূল আবেদীন বলেন, রাতারাতি খুব ভালো অধিনায়ক হওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। “শান্ত যদি (অধিনায়ক) না থাকে, তাহলে কারও না কারও কাছে আমাদের তো যেতেই হবে। তাকেও কিন্তু একই বিষয়গুলোর মুখে পড়তে হবে। তাই আমাদের উচিত হবে যেই অধিনায়ক হোক না কেন, তার পাশে থাকা। হঠাৎ করে তো স্টিভ ওয়াহ, মাধুগালে, ইমরান খান বা ধোনি হওয়া যায় না। এজন্য আপনাকে সময় দিতে হবে। আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে সেভাবে অধিনায়ক গড়েও ওঠে না। তাই অধিনায়কের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা ঠিক নয়।”
মূলত দুটি ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ ও ইএসপিএনক্রিনইনফোই প্রথমে শান্তর অধিনায়কের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর খবরটি প্রকাশ করে। তবে নাজমূল আবেদীন এই ব্যাপারে এখনও বাকি সবার মতোই আছেন অন্ধকারে। “আমি সকাল থেকে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলাম। মিটিংয়ে ছিলাম, কথাবার্তার মধ্যে ছিলাম। আমিও টিভির স্ক্রলে দেখেছি, আপনাদের কাছ থেকেও শুনেছি সে নাকি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে কোথাও ব্যাপারটা। যদি সেটা হয়ে থাকে, আনুষ্ঠানিক কোনো কাগজ আমার কাছে আসেনি।”
শান্তকে অধিনায়ক করার সময়ই বলা হয়েছিল, দীর্ঘ মেয়াদের চিন্তা করেই তার হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। ছয় মাস না যেতেই তাই তিন ফরম্যাটেই নতুন অধিনায়ক খুঁজে বের করাটা বিসিবির জন্য মোটেও সহজ হওয়ার নয়। তাছাড়া তিন ফরম্যাটেই দলে নিয়মিত, এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যা খুব কম। সামনেই আছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফ্রি। দল গুছিয়ে নিতে তাই নতুন অধিনায়ক খুব একটা সময়ও পাবেন না।
নাজমূল আবেদীন তাই শান্তকেই অধিনায়ক রেখে দেওয়ার রাস্তা বন্ধ করতে চান। “এটা আমাদের জন্য একটা বড় খবর। এখন যদি নতুন অধিনায়ক তৈরি করতে হয়, তাহলে বড় একটা পদক্ষেপ নিতে হবে। বা তাকেই আবার অনুরোধ করে রাখা হয় কিনা, এটা আমাদের বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, ঘটনাটা এখন জানা গেছে। তাই আমাদের এটা নিয়ে বিবেচনা করতে হবে, সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
বাংলাদেশের মত একটি দল, যেখানে স্রেফ খেলোয়াড় হিসেবেই থাকতে হয় প্রচুর চাপের মুখে, সেখানে অধিনায়কের জন্য কাজটা হয়ে যায় আরও কঠিন। এই কারণেই শান্তর ব্যাপারে তড়িঘড়ি নিতে চায় না বিসিবি, বললেন নাজমূল আবেদীন। “বিসিবি তার সাথে আলোচনা করতে চাইবে। কারণ, শান্ত এত দিন ধরে অধিনায়কত্ব করে আসছে, তাই এটা তো আমাদের সময়ের বিনিয়োগেরও ব্যাপার। আমরা (অধিনায়ক হিসেবে) একজনকে তৈরি করার চেষ্টা করছি। সে যদি হঠাৎ করে সরে যায়, তাহলে নতুন একজন কিন্তু কিছুটা অপ্রস্তুত এখন। তাই সেদিকে যেতে না চাওয়াটা আমাদের জন্য স্বাভাবিক হবে। তারপরও এরকম কিছু ঘটনা ঘটতে পারে।”
No posts available.
৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৮ এম
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

চার দিন লড়াইয়ের পরও কোনো লাভ হলো না ইংল্যান্ডের। দাপুটে পারফরম্যান্সে জয় দিয়েই অ্যাশেজ সিরিজ শেষ করল অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট হাতে বড় কিছু করতে না পারলেও ঘরের মাঠে মাথা উঁচু রেখেই ক্যারিয়ার শেষ করতে পারলেন উসমান খাজা।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এবারের অ্যাশেজের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সফরকারীদের দেওয়া ১৬০ রানের লক্ষ্য মাত্র ৩১.২ ওভারেই তাড়া করে ফেলে স্টিভ স্মিথের নেতৃত্বাধীন দল।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রান করেছিল ইংল্যান্ড। জবাবে ট্রাভিস হেড, স্টিভ স্মিথের সেঞ্চুরিতে ৫৬৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ১৮৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমে জ্যাকব বেথেলের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরির পরও ৩৪২ রানের বেশি করতে পারেনি ইংলিশরা।
অ্যাশেজ শুরুর আগেই বিশেষজ্ঞ-বিশ্লেষকদের অনেকে বলছিলেন, গত ১৫ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে দুর্বল অস্ট্রেলিয়া দল। তাই ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়ের ভবিষ্যদ্বাণীও করেছিলেন কেউ কেউ। তাদের ভুল প্রমাণ করে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া।
এবারের অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের বড় কারিগর ট্রাভিস হেড ও মিচেল স্টার্ক। পাঁচ ম্যাচে তিন সেঞ্চুরিতে ৬২৯ রান করেন হেড। চলতি শতাব্দীতে এক অ্যাশেজে ৬০০ রান করা অস্ট্রেলিয়ার মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার তিনি। এর আগে ২০১৭-১৮ ও ২০১৯ অ্যাশেজ এই কীর্তি গড়েন স্টিভ স্মিথ।
বল হাতে স্টার্ক নেন ৩১ উইকেট। চলতি শতাব্দীতে এক অ্যাশেজে ৩০-র বেশি উইকেট নেওয়া চতুর্থ বোলার তিনি। মাত্র ২৯.৬ স্ট্রাইক রেটে এই ৩১ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন স্টার্ক। অ্যাশেজ ইতিহাসে এক সিরিজে অন্তত ৩০ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে তার স্ট্রাইক রেটই সবচেয়ে ভালো।
উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত ছিলেন অ্যালেক্স কেয়ারি। সব মিলিয়ে ২৮টি ডিসমিসাল করেছেন তিনি। এক অ্যাশেজে এর চেয়ে ডিসমিসাল আছে শুধু একজনের, ব্র্যাড হ্যাডিন (২০১৩ সালের অ্যাশেজে ২৯ ডিসমিসাল)।
৮ উইকেটে ৩০২ রান নিয়ে সিরিজের শেষ দিন ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। এদিন আরও ৪০ রান যোগ করতে পারে তারা। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করা বেথেল আউট হন ১৫৪ রান করে। আর ম্যাথু পটস করেন ১৮ রান।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন স্টার্ক ও বাউ ওয়েবস্টার।
মাঝারি লক্ষ্য পেয়ে ঝড়ো শুরু করেন হেড ও জ্যাক ওয়েদারাল্ড। মাত্র ৬৩ বলে ৬২ রান যোগ করেন দুই ওপেনার। হেড ৩৫ বলে ২৯ ও ওয়েদারাল্ড ৪০ বলে ৩৫ রান করে ফিরে যান। একই ছন্দে খেলে ৪০ বলে ৩৭ রান করেন মার্নাস লাবুশেন।
তবে দুর্ভাগ্যজনক রান আউটে কাটা পড়েন লাবুশেন। ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংস খেলতে নামা খাজা ৬ রানের বেশি করতে পারেননি। সব মিলিয়ে ৮৮ টেস্টে ১৬ সেঞ্চুরি ও ২৮ ফিফটিতে ৬ হাজার ২২৯ রান নিয়ে বিদায় জানালেন তিনি।
১২১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে অ্যালেক্স কেয়ারি (১৬) ও ক্যামেরন গ্রিনের (২২) অবিচ্ছিন্ন ৪০ রানের জুটিতে অনায়াসেই জিতে যায় স্বাগতিকরা।

সাত মাসের চোট কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরেই ম্যাচসেরা সাদাব খান। ডাম্বুলায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ওয়ার্ম–আপ সিরিজের প্রথম ম্যাচে তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে পাকিস্তান।
বল হাতে চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন সাদাব। পরে ব্যাট হাতে ১২ বলে অপরাজিত ১৮ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। দারুণ এই পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ শেষে সেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।
গত বছরের জুনে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পর কাঁধে অস্ত্রোপচার করাতে হয় সাদাবকে। দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে বিগ ব্যাশ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরলেও, ডাম্বুলার ম্যাচটি ছিল তার জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম ম্যাচ।
ফেরা নিয়ে ম্যাচ শেষে সম্প্রচার চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাদাব বলেন,
“আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসা কঠিন, কারণ এখানে আপনাকে আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। বোলিং ও ব্যাটিং ভালোই হচ্ছে—আমি সহজ বিষয়গুলোর দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। উইকেট সহায়ক ছিল, তবে ক্রিকেটে সব সময় পরিস্থিতি বুঝে নিতে হয়। এখানে ভালো লেংথের চেয়ে একটু ফুল লেংথে বল করাই বেশি কার্যকর ছিল।”
সামনে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—এ বিষয়েও কথা বলেন পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার।
“একজন খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলা সব সময়ই স্বপ্ন। আমার জন্য বিষয়টা এক ধাপ এক ধাপ করে এগোনো। দল দারুণ খেলেছে—মির্জা ও ওয়াসিম তাদের সিম বোলিং দিয়ে স্পিনারদের জন্য দারুণ ভিত তৈরি করে দিয়েছে,”
—বলেন সাদাব।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) টাইটেল রেসে ইঁদুর-বিড়াল দৌড় চলছে রংপুর রাইডার্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের মধ্যে। একবার চট্টগ্রাম শীর্ষস্থান দখলে নেয় তো পরোক্ষণে তা হয়ে যায় রংপুরের।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে সিলেটকে ১৪ রানে হারায় চট্টগ্রাম। তাতে ছয় ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শ্রেয়তর নেট রান রেটের সৌজন্যে এখন এক নম্বরে চট্টগ্রাম। রংপুর রাইডার্স সমান ৮ পয়েন্ট নিয়ে ২ নম্বরে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই ম্যাচে ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। দেশীয় ব্যাটারদের মধ্যে তিনি সর্বোচ্চ ২১ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন। প্রায় ২১০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালিয়েছেন জাতীয় দলের এই ব্যাটার।
বিপিএলের ১২তম আসরে এটি সর্বোচ্চ রানের ইনিংস জয়ের। এর আগে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৭ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে রিদমে ফেরা ও নিজের ইনিংস নিয়ে কথা বলেন ২৫ বর্ষী ডান হাতি এই ব্যাটার।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জয় বলেন,
‘আমি যখন ব্যাটিংয়ে যাই তখন মনে হয়েছিল উইকেট খুবই ভালো। মারলে হয়তোবা লাগবে। তাই আমি চেষ্টা করেছি।’
এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে দেড়শর বেশি স্ট্রাইক রেট ছিল জয়ের। সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীও ছিলেন তিনি। টেস্ট স্পেশালিস্ট জয় কী তবে টি-টোয়েন্টির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন। সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে জয় বলেন,
‘চেষ্টা তো থাকবেই। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে চেষ্টা তো থাকবেই। আমি সব জায়গায় খেলার চেষ্টা করি। এখন বিপিএল হচ্ছে তাই বিপিএলে চেষ্টা করছি ভালো করার।’
চট্টগ্রাম রয়্যালসের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য থেকে ১৪ রান দূরে থামে সিলেট টাইটানস। ১৯.৪ বলে ১৮৪ রানে গুটিয়ে গেছে সিলেট। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তানভীরের বলে আউট হয়েছেন খালেদ আহমেদ। এই খালেদের ২৫ রানের ইনিংসেই খেলা কিছুটা জমিয়ে তুলেছিল সিলেট।
খালেদের ব্যাটিংটা একটা সারপ্রাইজ ছিল কিনা চট্টগ্রামের জন্য?
জয় বলেন,
‘হ্যাঁ অবশ্যই। খালেদ ভাই একটু সারপ্রাইজ করেই দিয়েছিল সবাইকে। আমাদের মেইন বোলার শরিফুল-তানভীর। ওদের কয়েকটা ভালো ছয় মেরে দিয়েছিল। একটু তো সারপ্রাইজ সবাই হয়ে গেছিল।’

সহজ লক্ষ্য—১২৯ রান। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ওয়ার্ম-আপ সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দেওয়া সাদামাটা টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২০ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সালমান আলী আগা নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান।
বুধবার ডাম্বুলায় টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। শুরুতেই শ্রীলঙ্কার ওপর পেস আক্রমণ শানায় সালমান মির্জা ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। পাশাপাশি স্পিন বিষে ছাড়েন আবরার আহমেদ ও সাদাব খান। পেস ও স্পিন দুই সেকশন থেকে সমান ৫টি করে উইকেট নেয়া হয়। তাতেই ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় লঙ্কানরা।
৩৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর স্বাগতিকদের হয়ে হাল ধরেন জনিথ লিয়ানাগে। তিনি সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিস খেলেন। দলের সাত ব্যাটার দুই অংকের রান নিলেও একমাত্র ইনিংস বড় করতে পারেন লঙ্কান এই ব্যাটার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল চারিথ আসালাঙ্কা ও ওয়েনিন্দু হাসারাঙ্গার। দুজন ১৮ করে রান করেন। লোয়ার অর্ডার ভেঙে পড়ে সালমান মির্জার ষাড়াশি অভিযানে। সবমিলিয়ে কোটার ২০ ওভার খেলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ১৯.২ ওভারে ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
জবাব দিতে নেমে শাহিবজাদা ফারহান ৩৬ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে যাত্রা শুভ করেন। আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুবও ১৮ বলে ২৪ রানের ইনিংস খেলেন। আর শেষটা ইতি টেনে দেন সাদাব খান। এই স্পিনার হাত ঘুরিয়ে দুই উইকেট নেন। ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ বলে করেন ১৮ রান।

দুই ইনিংসে নেই কারো ফিফটি। অথচ, এমন এক ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ১৯৮/৫-এর জবাবে সিলেট টাইটান্সের স্কোর ১৮৪/১০। ১৪ রানে চট্টগ্রাম রয়্যালসের জয়ের ম্যাচেও শেষ ওভার পর্যন্ত উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছিল সিলেট টাইটান্স।
চলমান বিপিএলে এ পর্যন্ত হয়ে যাওয়া সর্বোচ্চ স্কোরের ম্যাচে শেষ পাওয়ার প্লে-তে কী ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংই না দেখেছে দর্শক। শেষ ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রাম যোগ করেছে ৬৬, সেখানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিলেট টাইটান্স যোগ করেছে ৫৯ রান।
শেষ পাওয়ার প্লে-তে বোলারদের চুল ছিঁড়ে ফেলার দশা করেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালস মিডল অর্ডার শেখ মেহেদী (১২ বলে ৪ বাউন্ডারি, ১ ছক্কায় ৩১*)। জবাব দিতে এসে শেষ ১২ বলে ৪২ রানের টার্গেটের মুখে দাঁড়িয়েও সিলেট টাইটান্স টেল এন্ডার খালেদের বেপোরোয়া ব্যাটিং দেখেছে দর্শক (৯ বলে ১ চার, ৩ ছক্কায় ২৫)।
১৯তম ওভারে শেখ মেহেদী চড়াও হয়েছিলেন পেস বোলার খালেদের উপর। মেরেছেন সেই ওভারে ২ চার, ১ ছক্কা, একটি ২ রান। জবাব দিতে এসে ১৯ তম ওভারে পেস বোলার শরীফুলকে খালেদ মেরেছেন ২ ছক্কা, ১ চার।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোলারদের বধ্যভূমি বানিয়ে ফেলা ম্যাচে সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছেন সিলেট টাইটান্স পেসার খালেদ (৪-০-৫৫-০)। দলের অন্য দুই পেসার রুয়েল মিয়া (৪-০-৪১-৩) এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই (৪-০-৪৭-১)ও ছিলেন অমিতব্যয়ী। প্রশংসা প্রাপ্য শুধু বাঁ হাতি স্পিনার নাসুম ( ৪-০-২৪-০)।
টানা চতুর্থ ম্যাচে ফিফটির কক্ষপথে ছিলেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের অ্যাডাম রশিংটন। তবে ফিফটি থেকে যখন মাত্র ১ রান দূরে, তখন রুয়েল মিয়াকে পুল করতে যেয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছেন রশিংটন ( ৩৮ বলে ৬ চার, ১ ছক্বায় ৪৯)। এই ম্যাচে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে প্রকৃত টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের মাহামুদুল হাসান জয় (২১ বলে ৩ চার, ৪ ছক্বায় ৪৪)। রুয়েল মিয়াকে পর পর ২টি ছক্কা মেরে আর একটি ছক্কার শটে প্রলুব্ধ হয়ে এক্সট্রা কভারে দিয়েছেন ক্যাচ। রশিংটনের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় ২য় উইকেট জুটিতে ৩৮ বলে ৬০ রানে রেখেছেন মাহামুদুল হাসান জয় বিশেষ অবদান।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৫০ উঠতে ৩ উইকেট হারিয়েও ম্যাচে সিলেটকে রাখতে প্রানান্ত চেষ্টা করেছেন আফিফ। তবে বাঁ হাতি স্পিনার তানভিরের বলে এলবিডাব্লু হয়ে থেমেছেন ৪৬ রানে ( ৩৩ বলে ৪ চার, ২ ছক্কা)। এই ম্যাচে দুদলের মধ্যে ব্যবধান গড়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের পাকিস্তানি পেসার আমের জামাল (৪-০-৩৪-৪)।
সিলেটের জামাই মঈন আলী ইকোনমি বোলিংয়ে (৪-০-২৩-১) নাঈম শেখ-কে শিকার করেছেন। তবে ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি। মোহাম্মদ নেওয়াজের বলে বোল্ড হয়েছেন (১১ বলে ১৩)।
এই ম্যাচে ব্যবধান গড়েছে ডট বল এবং বাউন্ডারির সংখ্যা। চট্টগ্রামের (৪৩) চেয়ে ৫টি বেশি ডট করেছে সিলেট (৪৮)। চট্টগ্রামের ১৯টি বাউন্ডারির বিপরীতে ৯টি বাউন্ডারি মেরেছে সিলেট। ৩টি বেশি ছক্কা (১২টি) মেরেও তাই হেরে গেছে সিলেট।
৬ষ্ঠ ম্যাচে চতুর্থ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় রংপুরের সঙ্গে শীর্ষে উঠে এসেছে (৮ পয়েন্ট)। সিলেট নেমে গেছে পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে (৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট)।