১১ নভেম্বর ২০২৪, ৩:১৪ পিএম

আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও আগেই এটা নিশ্চিতই ছিল যে, চোটের কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে মিস করছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এবার জানা গেল, চলতি মাসে ক্যারিবিয়ান সফরে টেস্ট সিরিজেও খেলতে পারবেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সোমবার এক বিবৃতিতে শান্তর চোটের সবশেষ পরিস্থিতি জানিয়েছে।
“গতকাল শারজায় শান্তর এমআরআই করা হয়েছে। আমরা টিম ফিজিওর রিপোর্ট এবং স্ক্যান রিপোর্ট হাতে পেয়েছি, যা তার বাম কুঁচকিতে গ্রেড স্ট্রেন নিশ্চিত করেছে। এজন্য তার বিশ্রাম এবং পুনর্বাসনের পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন হবে। তিনি আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে থেকে বাদ পড়েছেন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজও মিস থাকবেন। আমরা দুই সপ্তাহ পর তার অবস্থা পুনর্বিবেচনা করব। তিনি তার পুনর্বাসন চালিয়ে যেতে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরে আসবেন।”
বিসিবির সিনিয়র চিকিৎসক ডাঃ দেবাশিস চৌধুরী সেখানে তুলে ধরেন বাঁহাতি ব্যাটারে চোটের সার্বিক চিত্র।
আরও পড়ুন
| নেই অধিনায়ক শান্ত, কেমন হবে বাংলাদেশে একাদশ? |
|
শান্ত না থাকায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব করবেন ওয়ানডে ও টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। লাল বলের ক্রিকেটেও তিনি শান্তর ডেপুটি থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও তিনিই দলকে নেতৃত্ব দেবেন।
No posts available.
২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩২ এম
১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম

ক্যারিয়ারের শেষদিকে এসে খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন উসমান খাজা। পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম এই ব্যাটরের পরিবারকেও বর্ণবাদের বিষবাষ্পে জর্জরিত হতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই সৈকতের সেই কাপুরুষোচিত হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় ‘ইসলামফোবিয়া’ ও ‘অ্যান্টি-ইসলাম’ মনোভাব হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। পাশাপাশি ছন্দহীন ছিলেন খাজা। তাতে তাঁর ওপর আক্রমণের তীব্রতা দ্বিগুণ হয়।
গতকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন খাজা। আগামী রোববার শুরু হতে যাওয়া সিডনি টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ হয়ে থাকবে। স্ত্রী র্যাচেল আর দুই মেয়েকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটার। ক্রিকেটের প্রসঙ্গ ছাপিয়ে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বর্ণবাদী আচারণ নিয়েই অনেকটা সময় কথা বলেন তিনি।
খাজা বলেন, ‘সবচেয়ে বড় অনুভূতি হলো সন্তুষ্টি। আমি খুব ভাগ্যবান যে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এত ম্যাচ খেলতে পেরেছি, যেভাবে করেছি। আশা করি, এই পথে আমি অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পেরেছি।’
খুব ছোটোবেলায় ইসলামাবাদ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হন খাজা। তারপর নানা বাধার মুখোমুখি হয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত এবং প্রথম মুসলিম হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পান। এক সময় উসমান খাজা অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র এশিয়ান ফার্স্ট-ক্লাস খেলোয়াড় ছিলেন এবং অন্যদের জন্য সুযোগ খুলে দেওয়ার কারণে তিনি একজন আর্দশ হিসেবে স্বীকৃত।
কিন্তু পুরো ক্যারিয়ারেই অনেকবার বর্ণবাদের শিকার হতে হয়েছে খাজাকে। তবে দমে যাননি তিনি। ক্যারিয়ারের শেষদিকে বরং নিজেকে অন্যদের অনুপ্রেরণা মনে করছেন তিনি, ‘আমি একজন গর্বিত মুসলিম, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ছেলে, যাকে বলা হয়েছিল সে কখনো অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে পারবে না। এখন আমাকে দেখুন—আপনিও এখন আমার মতো একইরকম করতে পারেন।’
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান টড গ্রিনবার্গ খাজার অবসর নিয়ে বলেন, ‘উসমান অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে বিশাল অবদান রেখেছেন। একদিকে তিনি আমাদের সবচেয়ে স্টাইলিশ ও সহনশীল ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে ১৫ বছর আগে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। অন্যদিকে মাঠের বাইরে উসমান খাজা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের পক্ষ থেকে তার সব অর্জনের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।’
খাজার ফাউন্ডেশন শরণার্থী, অভিবাসী, আদিবাসী এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা তরুণদের জন্য ক্রিকেটের প্রাথমিক প্রোগ্রাম এবং শিক্ষাগত সহায়তা প্রদান করে।
সিডনি টেস্টসহ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে খাজার মোট ম্যাচ সংখ্যা হবে ৮৮। টেস্টে ৬,২০৬ রান করেছেন, আছে ১৬টি শতক, গড় ৪৩.৩৯। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৩২ রানের ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলেছিলেন। তবে এরপর আর তিন অঙ্কের দেখা পাননি বাঁহাতি ব্যাটার।
চলতি অ্যাশেজ সিরিজটি উসমান খাজার জন্য অগ্নিপরীক্ষার মতো। পার্থে প্রথম টেস্টে পিঠের চোট পান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনিংয়ে তাঁর জায়গায় নামেন ট্রাভিস হেড। এরপর খাজা ব্রিসবেনের পরবর্তী ম্যাচে খেলেননি এবং তৃতীয় টেস্টে এডিলেডে দল থেকে বাদ পড়েন। তবে স্টিভেন স্মিথ টসের ঠিক আগে অসুস্থ হওয়ায় খাজা শেষ মুহূর্তে সুযোগ পান। ওই টেস্টে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৮২ ও ৪০ রান করেন।
তারপর মেলবোর্নের চতুর্থ টেস্টে আবার ব্যর্থ হন খাজা। অস্ট্রেলিয়ার সিরিজে প্রথম হারের এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২৯ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ডাক মারেন। তাতে তাঁর ওপর অবসরের নেওয়ার চাপ আরও তীব্রতর হয়। শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্তেই নিলেন খাজা।

রান পাচ্ছিলেন না। বাড়ছিল চাপ। অবসরের ঘোষণা অনুমেয়ই ছিল। শেষ পর্যন্ত আলোচনা-সমালোচনার সমাপ্তি ঘটিয়ে অবসরের ঘোষণা দিলেন উসমান খাজা। অ্যাশেজে সিডনি টেস্টই হবে অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটারের শেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ।
গতকাল সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে পাশে রেখে অবসরের ঘোষণা দিয়ে খাজা বলেন, ‘আজ আমি ঘোষণা করতে এসেছি যে এসসিজি টেস্ট ম্যাচের পর আমি সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি। ঈশ্বর ক্রিকেটের মাধ্যমে আমাকে যা কিছু দিয়েছেন তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। তিনি আমাকে এমন স্মৃতি দিয়েছেন যা আমি চিরকাল মনে রাখব, এমন বন্ধুত্ব যা খেলার বাইরে গিয়ে প্রভাব ফেলে, এবং এমন শিক্ষা যা আমাকে গড়ে তুলেছে—যে আমি মাঠের বাইরে যেমন আছি।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুটা যেখান থেকে করেছিলেন, সেই সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডকেই বিদায়লের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিলেন খাজা। সিডনিতে ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল ৩৯ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটারের। আবার এই মাঠেই খাজা তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার দ্বিতীয় দফা শুরু করেছিলেন ৩৫ বছর বয়সে।
আরও পড়ুন
| টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ স্মরণ করাল রংপুর রাইডার্স |
|
খাজা তাঁর শেষ টেস্টে নামবেন ৮৭টি ম্যাচ খেলে। যেখানে এই ওপেনারের সংগ্রহ ৬২০৬ রান, সেঞ্চুরি ১৬টি, ফিফটির সংখ্যা ২৮। সাদা জার্সিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪৩.৩৯ গড়ে রান করা খাজার সর্বোচ্চ ইনিংস ২৩২। ওয়ানডেতে ৪০ ম্যাচে তাঁর রান ১৫৫৪, সেঞ্চুরি দু’টি ফিফটি ১২।
শেষদিকে অধরাবাহিক খাজা অবসর নিয়ে অনেকদিনই ভাবছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম ব্যাটার বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে ভাবছিলাম, পুরোপুরি নয় তবে বেশ কিছুদিন ধরেই।এই সিরিজে আসার সময় আমার মাথায় কাজ করছিল যে সম্ভবত এটাই হতে যাচ্ছে আমার শেষ সিরিজ।’
অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে খাজা আরও বলেন, ‘আমি রেচেলের (খাজার স্ত্রী) সাথে এটা নিয়ে বেশ আলোচনা করেছি এবং আমি জানতাম যে এটাই বড় সুযোগ। আমি দরজা একেবারে পুরোপুরি বন্ধ করে দিইনি, কারণ আমি জানতাম যে খেলা চালিয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকতে পারে। এমনকি কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডও একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, যখন আমি কয়েক দিন আগে তাকে জানালাম তিনি তখনও ভাবছিলেন কীভাবে আমাকে (২০২৭ সালের) ভারত সফর পর্যন্ত দলে রাখা যায়।’
তিনি বললেন, ‘আমি খুশি যে আমি নিজের মতো করে বিদায় নিতে পারছি, কিছুটা মর্যাদা নিয়ে এবং আমার প্রিয় এই এসসিজিতেই শেষ করতে পারছি। তবে আমার মনে হয় এই সিরিজের শুরুটা বেশ কঠিন ছিল। এরপর অ্যাডিলেডে গিয়ে যখন দেখলাম শুরুতে আমি একাদশে নেই, সেটাই সম্ভবত আমার জন্য সংকেত ছিল যে—ঠিক আছে, এবার এগিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে।’
চলতি সিরিজে পার্থে চোট পেয়ে ব্রিসবেন টেস্ট থেকে বাদ পড়েন খাজা। এরপর অ্যাডিলেডের একাদশ থেকেই ছিটকে পড়েন। তবে স্টিভ স্মিথ অসুস্থ হয়ে বাদ পড়ায় আবার সুযোগ পেয়ে কাজে লাগান। তবে মেলবোর্নে দুই ইনিংসে ২৯ ও ডাক মারায় তাঁর অবসরের দাবি তোলেন সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের কাছ থেকে।
আরও পড়ুন
| তহুরা-শামসুন্নাহারের জোড়া হ্যাটট্রিকে বড় জয়ে শুরু ফরাশগঞ্জের |
|
খাজা বললেন, ‘সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় ছিল এটাই যে, আমার মনে হচ্ছিল মানুষ আমাকে আক্রমণ করছে। আমার মনে হচ্ছিল তারা বলছে আমি দলে টিকে থাকার জন্য স্বার্থপরতা করছি। কিন্তু আমি নিজের জন্য দলে থাকছিলাম না।’
আরও আগেই অবসরের চিন্তা মাথায় এসেছিল তার, ‘অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড কার্যত আমাকে বলেছিলেন- না, আমি চাই তুমি থাকো। শ্রীলঙ্কা সিরিজ এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তোমাকে আমাদের প্রয়োজন। আমি চাই তুমি খেলা চালিয়ে যাও। আর তাই আমি থেকে গিয়েছিলাম।’
অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেও ব্রিসবেন হিটের হয়ে বিগ ব্যাশ খেলা চালিয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেন খাজা। গ্রীষ্মে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে শেফিল্ড শিল্ড ক্রিকেটও খেলার ইচ্ছা তাঁর।

সুপার ওভার স্পেশালিষ্টের লেবেলটা লেগে গেছে রিপন মন্ডলের গায়ে। গত নভেম্বরে দোহায় এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স টুর্নামেন্ট থেকে শুরু। ৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ২টি-তে সুপার ওভার হিরো এই ইয়র্কার স্পেশালিস্ট। সেমিফাইনােলে ভারত 'এ' দলের বিপক্ষে সুপার ওভারের প্রথম ২ বলে ভারত 'এ' দলের দুই ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন ইয়র্কার ডেলিভারিতে। ফাইনালে পাকিস্তান 'এ' দলকে ১২৫ রানে অল আউট করতে পেরেছে রিপন মন্ডলের শেষ ওভারে ৩ উইকেটে। আবার সেই ট্রফি নির্ধারনী ম্যাচ সুপার ওভারে বাংলাদেশ 'এ' টেনে নিয়েছে তার ব্যাটিংয়ে (৯বলে ১১)। দোহার সেই রিপন মন্ডলই যেনো বৃহস্পতিবার সিলেটে হাজির। ইনিংসের ওভারে তার অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে রংপুর রাইডার্সের ( রাজশাহী ওরিয়র্স ১৫৯/৮, রংপুর রাইডার্স ১৫৯/৬) সঙ্গে 'টাই' করেছে রাজশাহী ওরিয়র্স। সুপার ওভারে তার ভয়ংকর বোলিংয়ে (২/৬) রংপুর রাইডার্সকে হতভম্ব করে জিতেছে রাজশাহী ওরিয়র্স।
প্রথম তিন ওভারে উইকেটহীন ৩৭ রান খরচ, যার মধ্যে ১৩ তম ওভারে রিপন মন্ডলের খরচা ১৭। অথচ, শেষ ওভারে রংপুর রাইডার্সের দরকার যখন মাত্র ৭ রান, তখন এমন খরুচে বোলারের হাতেই কী না বল তুলে দিলেন রাজশাহী ওরিয়র্স অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিপন মন্ডলকে নিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন শান্ত জুয়া। সেই ট্রাম্পকার্ডের বোলিংয়েই ম্যাচ 'টাই'। ওই ওভারের প্রথম বলে পাকিস্তানী খুশদিল শাহ( ৭ বলে ৭) ডিপ থার্ডম্যানে পড়েছেন ধরা। ৫ম বলে নূরুল হাসান সোহান (৪ বলে ৬) দিয়েছেন মিড উইকেটে ক্যাচ। ১ বলে ১ রানের টার্গেটে মাহামুদউল্লাহ মেহরবের কাছে বল ঠেলে সিঙ্গল পূর্ণ করতে পারেননি। রান আউটে কাটা পড়েছেন (১ বলে ০)!
সুপার ওভারে ওয়াইড দিয়ে শুরু রিপন মন্ডলের। পরের তিনটি ডেলিভারির চিত্র ০, ১, ১। পরের ডেলিভারি আবারও ওয়াইড। বোনাস ডেলিভারি ইয়র্কার দিয়েই কাইল মায়ার্সকে করেছেন বোল্ড (৩ বলে ১)। সুপার ওভারের শেষ ডেলিভারিতে হৃদয়-খুশদিল ইয়েস-নো করায় মুশফিকুর রহিমের হাত ঘুরে রিপন মন্ডল রান আউটে ফিরিয়ে দিয়েছেন খুশদিল শাহ-কে।
সুপার ওভারে রংপুরের ৬/২ স্কোরের জবাব দিতে বেগ পেতে হয়নি রাজশাহী ওরিয়র্সকে। মোস্তাফিজের প্রথম তিন ডেলিভারিকে ২টি বাউন্ডারি, ১টি ডাবলে তানজিদ হাসান তামিম রাজশাহী ওরিয়র্সকে দিয়েছেন উৎসবের উপলক্ষ্য।
অথচ, এই ম্যাচে জমে উঠেছিল দুই দলের ২ অফ স্পিনারের লড়াই। রংপুর রাইডার্সের অফ স্পিনার আলিস আল ইসলামের ঘুর্নি বল যেনো সুপার গ্লু'র মতো পিচে আটকে গেছে (৪-০-১৬-২)। ২৪টি ডেলিভারির মধ্যে ১৫টি দিয়েছেন এই স্পিনার ডট। জবাবে রাজশাহী ওরিয়র্সের অফ স্পিনার এস এম মেহরবের বোলিং ছিল ৪-০-১৭-২।
এমন এক ম্যাচে রাজশাহীর শাহিবজাদা ফারহান (৪৬ বলে ৮ চার, ২ ছক্কায় ৬৫)-নাজমুল হোসেন শান্ত'র (৩০ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় ৪১) ব্যাটিং, রংপুর রাইডার্সের ডেভিড মালান (৫০ বলে ৬ চার, ২ ছক্কায় ৬৩*)- তাওহিদ হৃদয়ের ( ৩৯ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৫৩) জোড়া ফিফটি ছিল উল্লেখ করার মতো।
কাকতালীয় হলেও সত্য, দুদলের সেরা পার্টনারশিপই এসেছে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে। রাজশাহী ওরিয়র্স দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৬৩ বলে ৯৩ রান যোগ করেছে শাহিবজাদা ফারহান-শান্ত'র কল্যানে। জবাবে ডেভিড মালান-তাওহিদ হৃদয়ের বোঝাপড়ায় রংপুর রাইডার্স দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেছে ৭২ বলে ১০০ রান। দুদলই আবার শেষ পাওয়ার প্লে-তে হারিয়েছে ৫টি করে উইকেট। যে পর্বে রাজশাহী ৫ উইকেট হারিয়ে যোগ করেছে ৪০ রান, সেখানে রংপুর ৩৭ রানে হারিয়েছে ৫ উইকেট। সিলেটে রাতে ঘন কুয়াশায় ফ্লাড লাইটের আবছা আলোর সবটুকুই যেনো পড়েছে রিপন মন্ডলের উপর।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে প্রথম সুপার ওভারে রাংপুর রাইডার্সের দেওয়া ৬ রানের লক্ষ্য তিন বল হাতে রেখেই পূরণ করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এর আগে ২০ ওভারের খেলায় রাজশাহী ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান করে, ৬ উইকেট হারিয়ে সমান রানে থামে রংপুরের ইনিংস।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শেষ ২ বলে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নদের প্রয়োজন ছিল ১ রান। নুরুল হাসান ক্যাচ তুলে ফিরলে উইকেট আসেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাতে শেষ বলে দরকার ১ রান। বলটা মাহমুদউল্লাহর ব্যাটেও লেগেছিল, কিন্তু তিনি যতক্ষণে রানের জন্য অপর প্রান্তের ক্রিজের দাগ ছুয়েছেন, ততক্ষণে স্টাম্প ভেঙে দিয়েছেন মেহরব হোসেন। অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচটা হয়ে যায় টাই!
বিপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচের চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে বড় জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্ভাগ্য বরণ করতে হয় রংপুরকে। দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বর্ণনা করেন ম্যাচ থেকে তার দলের ছিটকে পড়ার মুর্হূত।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বলেছেন,
‘সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। প্রথম চার ওভার আমরা ভালো বল করেছিলাম। তারপর শান্ত (নাজমুল হোসেন) এবং তাদের পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানটা (সাহিবজাদা ফারহান) খুব চমৎকার ব্যাটিং করেছিল। সেই জায়গা থেকে আমরা চমৎকারভাবে কামব্যাক করেছি।’
‘আমাদের ডেভিড মালান ও তৌহিদ হৃদয় যেভাবে ব্যাটিং করছিল তাতে পুরা ইনিংসটাই কন্ট্রোল মনে হচ্ছিল। তারপরও লাস্ট ওভারের নুরুল হাসান সোহান চমৎকার একটা বাউন্ডারি মারলো নামার পর। অনেকটা ভারতের ওই ম্যাচটার মতন হয়ে গেল আরকি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হেরেছিলাম তিন বলে এক রান নিতে পারিনি। ওই জিনিসটার মত হয়ে গেছে।’-যোগ করেন আশরাফুল।
১২তম আসরে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছে রংপুর রাইডার্স। সামনে লম্বা পথ। আশরাফুল মনে করেন, অবশ্যই সঠিক ট্র্যাকে ফিরবে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ বলেন,
‘টুর্নামেন্ট শুরুর দিকে হওয়ায় আমি মনে করি যে, অবশ্যই খারাপ আমাদের জন্য। তারপর আমি মনে করি, যেহেতু লম্বা টুর্নামেন্ট, আরও আটটা ম্যাচ বাকি আছে। আশা করি কালকে আমরা আবার আমাদের রাইট ট্র্যাকে চলে আসব ইনশাল্লাহ।’

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত নেতৃত্বধানী রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলেছে দলটি। জয় এসেছে তিনটি ম্যাচে। যার দুটিতে সরাসরি ভূমিকা রিপন মণ্ডলের।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ডান হাতি পেসার রিপন রাজশাহীর হয়ে সবশেষ দুটি ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন। দুটিতেই ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। ২৯ ডিসেম্বর নিজের প্রথম ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে খেলেছেন তিনি। ম্যাচটিতে ৪ ওভারে ১৩ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট। ছিল একটি মেডেন।
নিজেরদ দ্বিতীয় ম্যাচে আরও দুর্দান্ত রিপন। জয় বন্দরের কাছে থাকা রংপুর রাইডার্সের ম্যাচ কেড়ে নেন তিনি। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে খুশদিল ফিরে গেলে ম্যাচ জমিয়ে দেন রিপন। তবে ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে দেন রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। এক বল পর তিনি নেন আরও ২ রান।
২ বলে বাকি থাকে ১ রান। কিন্তু পঞ্চম বলে ফ্লিক করে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন রংপুর অধিনায়ক। শেষ বলে ১ রানের জন্য ব্যাট করতে নামেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সেটি নিতে পারেননি। শর্ট মিড অফ ফিল্ডারের হাতে রেখে রান নিতে গিয়ে রান আউট হন অভিজ্ঞ ব্যাটার। তাতে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। যা ১২তম বিপিএলে প্রথম।
সুপার ওভারে সুপার ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়েছেন ২২ বর্ষী রিপন। কাইল মেয়ার্সকে বোল্ড করেছেন তিনি, পুরো ওভারে তাঁকে কোনো বাউন্ডারিও মারতে পারেননি রংপুরের ব্যাটসম্যানরা। ৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম বলেই চার মারেন তানজিদ হাসান, পরে দুই বলেই নিয়ে নেন জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান।
এদিন খরুচে হলেও ঠিকই দুই উইকেট তুলে নেন রিপন। সে সঙ্গে আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী বনে যান। আসরে দুই ম্যাচে রিপনের উইকেট ৬টি। তার চেয়ে দুটি উইকেট বেশি পাকিস্তানের ফাহিম আশরাফের। তৃতীয় স্থানটি অবশ্য স্বদেশি হাসান মাহমুদের।
ম্যাচ শেষেও প্রশংসিত হয়েছেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের এই পেসার। রংপুর রাইডার্সের সহকারী কোচ ও জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলেছেন,
‘রাজশাহী টিমটা খুব চমৎকার। বিশেষ করে রিপন মণ্ডলের প্রশংসা করতেই হবে। যেভাবে সে রিসেন্টলি পারফর্ম করছেন, রিসেন্টলি বাংলাদেশ ‘এ’ টিমের হয়েও আমরা দেখেছিলাম যে সুপার ওভারে সে চমৎকার বল করেছিল। ওই রিদমটাই সে ধরে রেখেছেন।’
রিপনের ইনিংসের শেষ ওভার ও সুপার ওভারের প্রশংসা করেছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেছেন,
‘আমি বলবো যে ২০ নম্বর ওভার এবং সুপার ওভারে চমৎকার বল করেছেন রিপন। আমাদের যেই ব্যাটিং লাইনআপ, যেই টিম অবশ্যই আমরা এর থেকে বেটার পারফরম্যান্স আশা করি। মাঝখানে আসলে প্রথম ম্যাচ খেলার পরে আবার দুইদিন খেলা হয়নি। আবার আজকে এসেছি। তো আশা করি যে খুব তাড়াতাড়ি রিকভার করে ফেলবে, ইনশাল্লাহ।’
আশরাফুল আরও বলেছেন,
‘রিপনের পারফরম্যান্স অবশ্যই সিলেক্টররা দেখছেন। তার ব্যাপারে সিলেক্টররা ভালো বলতে পারবেন। এমনিতেই আসলে আমাদের পেস ইউনিটটা কিন্তু খুব ভালো। আপনি যদি দেখেন যে লাস্ট পাঁচ ছয় বছর ধরে আমাদের প্রায় আট-দশটা বলার আছে যারা ১৪০ প্লাসে বল করতে পারে।’