
সুযোগ পেয়েও প্রতিশোধ নিতে পারল না পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বের মতো এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচেও ভারতের কাছে হারল তারা। অভিষেক শর্মার ঝড়ের সামনে কোনো জবাবই দিতে পারেনি সালমান আলি আগার দল।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারায় ভারত। আগে ব্যাট করে ১৭১ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। জবাবে ৭ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে যায় এশিয়া কাপের আটবারের চ্যাম্পিয়নরা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের এটি ১২তম জয়। তিন সংস্করণ মিলিয়ে এ নিয়ে টানা ৬ ম্যাচ জিতল তারা।
আরও পড়ুন
| নির্বাচিত হলে ক্রিকেট ছেড়ে দেবেন তামিম |
|
ভারতের জয়ের নায়ক অভিষেক ৬ চার ও ৫ ছক্কায় খেলেছেন ৩৯ বলে ৭৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। এছাড়া শুবমান গিলের ব্যাট থেকে আসে ২৮ বলে ৪৭ রান।
রান তাড়ায় শাহিন শাহ আফ্রিদির করা ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা মেরে দেন অভিষেক। এরপর আর থামাথামি নেই। অভিষেকের সঙ্গে যোগ দেন শুবমান গিল।
দুজনের ঝড়ে পঞ্চম ওভারে পঞ্চাশ করে ফেলে ভারত। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৯ রান হয় তাদের সংগ্রহ।
আরও পড়ুন
| ছক্কার ফিফটি করে অভিষেকের বিশ্ব রেকর্ড |
|
৪টি করে চার-ছক্কা মেরে মাত্র ২৪ বলে ফিফটি করে ফেলেন অভিষেক। দশম ওভারে পূর্ণ হয় ভারতের একশ রান।
দশম ওভারের চতুর্থ বলের হঠাৎ দেওয়া হয় পানি পানের বিরতি। এরপর প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে যান ৮ চারে ২৮ বলে ৪৭ রান করা গিল। তার বিদায়ে ভাঙে ৫৯ বলে ১০৬ রানের ইনিংস।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি ভারতের সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটি। ২০১২ সালে গৌতম গম্ভীর ও অজিঙ্কা রাহানে ৭৭ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন।
আরও পড়ুন
| সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হিসেবে বেথেলের সিরিজ জয় |
|
পরের ওভারে সূর্যকুমার যাদবকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন হারিস রউফ। তবু দলের ওপর চাপ আসতে দেননি অভিষেক। ফাহিমের ওভারে দুটি চার মারেন তিনি। পরের আবরার আহমেদের বল ওড়ান ছক্কায়।
ঠিক পরের বলে মারব কি ছাড়ব, দোটানায় পড়ে লং অনে ক্যাচ দেন ২৫ বছর বয়সী ব্যাটার। মাত্র ১৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা কমে ভারতের ঝড়। রানের চাহিদা খুব বেশি না থাকায় ঝুঁকিও নিতে হয়নি তিলক ভার্মা ও সাঞ্জু স্যামসনের।
তবু সহজে তেমন রান করতে পারেননি তারা দুজন। ২৫ রানের জুটি গড়তে ২৬ বল খেলেন তিলক ও স্যামসন। ১৭তম ওভারে রউফের বলে বোল্ড হন ১৭ বলে ১৩ রান করা স্যামসন।
আরও পড়ুন
| ভারতের বাজে ফিল্ডিং, ফারহানের ফিফটি, পাকিস্তানের ১৭১ |
|
এরপর আর উইকেট পড়তে দেননি তিলক ও হার্দিক পান্ডিয়া। ২টি করে চার-ছক্কায় ১৯ বলে ৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিলক। ৭ বলে ৭ রান করেন হার্দিক।
এর আগে ভারতের বাজে ফিল্ডিংয়ের পূর্ণ সুবিধা পায় পাকিস্তান। ইনিংসে ৪টি ক্যাচ ছেড়ে দেন ভারতের ফিল্ডাররা। দুবার জীবন পেয়ে দলের সর্বোচ্চ ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন সাহিবজাদা ফারহান।
ভারতের পক্ষে বল হাতে সফল পার্ট টাইম মিডিয়াম পেসার শিবাম দুবে। ছয় নম্বরে বোলিংয়ে এসে ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট দুইটি নেন তিনি।
পাকিস্তানের ইনিংসটি ভাগ করা যায় তিন ভাগে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ফারহানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৯১ রান করে তারা।
আরও পড়ুন
| শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করলেন ভারতীয় ওপেনার |
|
এরপর ব্যাটারদের চেপে ধরেন দুবে ও কুলদিপ যাদব। পরের ৭ ওভারে মাত্র ৩৮ রান করতে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
পরে শেষ ৩ ওভারে আবার ঝড় তুলেন মোহাম্মদ নাওয়াজ, সালমান আলি আগারা। শেষটা নিজেদের প্রত্যাশামাফিক করে ৩ ওভারে ৪২ রান নেয় সালমানের দল।
ম্যাচের প্রথম ওভারেই হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ফারহানের ক্যাচ ছেড়ে দেন অভিষেক শর্মা। তখনও রানের খাতা খোলেননি ফারহান।
নিজের পরের ওভারে ফাখার জামানকে আউট করেন হার্দিক। উইকেটের পেছনে সাঞ্জু স্যামসনের ক্যাচটি নিয়ে সংশয় ছিল আম্পায়ারদের। রিপ্লে দেখে টিভি আম্পায়ার জানান, বলের নিচেই ছিল স্যামসনের আঙুল।
আরও পড়ুন
| টি-টোয়েন্টিতেও দুঃস্বপ্নের অভিষেক বেকারের |
|
এরপর বরুণ চক্রবর্তীর বলে সাইম আইয়ুবের ক্যাচ ছাড়েন কুলদিপ যাদব। ৪ রানে জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত ২১ রানে আউট হন আগের তিন ম্যাচে টানা শূন্য রানে ফেরাম সাইম।
অষ্টম ওভারে আবার জীবন পান ফারহান। বরুণের বলে ওয়াইড লং অনে আবার ক্যাচ নিতে পারেননি অভিষেক। এবার ৩২ রানে ছিলেন ফারহান। দুবার জীবন পেয়ে ৩৪ বলে ফিফটি করেন পাকিস্তান ওপেনার।
ফিফটির পর কমে যায় ফারহানের রানের গতি। শেষ ১১ বলে মাত্র ৮ রান করতে পারেন তিনি। দুবের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন ফারহান। এর আগে হুসাইন তালাতকেও আউট করেন ভারতের পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
১৮তম ওভারে নিজের কোটার শেষ ওভারে ১৭ রান খরচ করেন দুবে। পরের ওভারে জাসপ্রিত বুমরাহর বলে ইনিংসের চতুর্থ ক্যাচ ছেড়ে দেন শুবমান ফিল। এবার ৬ রানে জীবন পান ফাহিম আশরাফ।
আরও পড়ুন
| সিরিজ জিততে বেথেল-বাটলারদের চাই ১৫৫ রান |
|
পরে শেষ ওভারে একটি করে চার-ছক্কা হজম করে ১৪ রান দেন হার্দিক। ৮ বলে ২০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ফাহিম।
নিজের বাজে দিনে ৪ ওভারে ৪৫ রান খরচ করেছেন বুমরাহ। তার ক্যারিয়ারে এটি তৃতীয় খরুচে বোলিং। ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫০ ও ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৭ রান দিয়েছিলেন বুমরাহ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৭১/৫ (ফারহান ৫৮, ফাখার ১৫, সাইম ২১, তালাত ১০, নাওয়াজ ২১, সালমান ১৭*, ফাহিম ২০*; হার্দিক ৩-০-২৯-১, বুমরাহ ৪-০-৪৫-০, বরুণ ৪-০-২৫-০, কুলদিপ ৪-০-৩১-১, অক্ষর ১-০-৮-০, দুবে ৪-০-৩৩-২)
ভারত: ১৮.৫ ওভারে ১৭৪/৪ (অভিষেক ৭৪, গিল ৪৭, সূর্যকুমার ০, তিলক ৩০*, স্যামসন ১৩, হার্দিক ৭*; আফ্রিদি ৩.৫-০-৪০-০, সাইম ৩-০-৩৫-০, আবরার ৪-০-৪২-১, রউফ ৪-০-২৬-২, ফাহিম ৪-০-৩১-১)
ফল: ভারত ৬ উইকেটে জয়ী
No posts available.
১৩ মে ২০২৬, ৬:১০ পিএম
১৩ মে ২০২৬, ৪:২১ পিএম

মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। সিরিজের প্রথম টেস্টে এই হারের পর পাকিস্তান দলের নেতৃত্বের মান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ব্যাটার আহমেদ শেহজাদ।
২৬৮ রান তাড়া করতে নেমে চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তান মাত্র ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায়। এই হারের পর কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং অধিনায়ক হওয়ার মাপকাঠি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় সাবেক ক্রিকেটার আহমেদ শেহজাদ পাকিস্তান ক্রিকেটে অধিনায়ক নিয়োগের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, অধিনায়ক হওয়ার ক্ষেত্রে মাঠের পারফরম্যান্স কি আদৌ এখন প্রধান বিবেচ্য বিষয় কি না।
শেহজাদ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন,
‘আপনারা যদি ৩০ গড়ের ওপর ভিত্তি করে অধিনায়ক নিয়োগ দেন, তবে ভালো ইংরেজি বলতে পারাকেই’ একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে ঘোষণা করে দিন।’
শেহজাদ ব্যঙ্গ করে আরও যোগ করেন যে, অধিনায়ক হওয়ার তালিকায় এখন সম্ভবত ব্যক্তিত্ব এবং বাহ্যিক রূপকেও অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে। শেহজাদের ভাষায়, ‘হয়তো আমরা এখন আসল ক্রিকেটীয় প্রতিভার কথা ভুলেই যেতে পারি।’
শেহজাদ আরও মন্তব্য করেন, তরুণ ক্রিকেটাররা এখন হয়তো ভাবছে নেতৃত্বের সুযোগ পাওয়ার জন্য ক্রিকেটীয় দক্ষতার চেয়ে যোগাযোগ দক্ষতা (ইংরেজি বলা) বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শেহজাদ বলেন,
‘এখন আমাদের উচিত বাচ্চাদের এটা শেখানো যে, পাকিস্তান দলের অধিনায়ক হতে চাইলে শুধু ইংরেজি বলা শিখলেই হবে। কারণ ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এর বাইরে আর কিছুরই এখন আর গুরুত্ব নেই।’
পাকিস্তানের এই হারের ম্যাচে অধিনায়ক শান মাসুদ রান তাড়ায় নেমে দ্রুত আউট হওয়ার আগে করেছেন মাত্র ২ রান। বিপরীতে বাংলাদেশের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। পাঁচ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার তছনছ করে দেন তিনি। বিশেষ করে চা-বিরতির পর এক বিধ্বংসী স্পেলে সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও নোমান আলীকে ড্রেসিংরুমের পাঠান গতি তারকা নাহিদ।
এই জয়ের ফলে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ, আর পাকিস্তান নেমে গেছে সপ্তম স্থানে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী ১৬ মে থেকে সিলেটে শুরু হবে।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) ক্রিকেটের চতুর্থ রাউন্ডে দাপট দেখালেন বোলাররা। আগুনঝরা বোলিংয়ে ৬ উইকেট নিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। বাঁহাতি স্পিনের মায়াজালে আবাহনী লিমিটেডের মাহফুজুর রহমান রাব্বির শিকার ৫ উইকেট।
পিকেএসপিতে মৃত্যুঞ্জয়ের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ৮০ রানে গুটিয়ে গেছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। পরে ১০ উইকেটেই ম্যাচ জিতে নিয়েছে মোহামেডান। সব মিলিয়ে ম্যাচে খেলা হয়েছে মোটে ৩২ ওভার।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে মাত্র ২২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা মৃত্যুঞ্জয়। এর আগের ম্যাচেও ৪১ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
বসুন্ধরার পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করতে পারেন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ছোট লক্ষ্যে ৮.১ ওভারে জিতে যায় মোহামেডান। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ২৮ বলে ৫০ রান করেন এনামুল হক বিজয়। মোহাম্মদ নাঈম শেখ করেন ২১ বলে ৩১ রান।
লিগের চার ম্যাচের সবকটি জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে মোহামেডান।
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে রুপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। আগে ব্যাট করে ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় রুপগঞ্জ টাইগার্স। জবাবে ২৫.৪ ওভারে জিতে যায় লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
রুপগঞ্জ টাইগার্সের ব্যাটারদের নাচিয়ে ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ২৫ রান খরচ করে ৫ উইকেট নেন মাহফুজুর রাব্বি। লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে এটি তার দ্বিতীয় ৫ উইকেট।
শাকির হোসেন শুভ্র দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন। এছাড়া কালাম সিদ্দিকি এলিনের ব্যাট থেকে আসে ৩৪ রান।
রান তাড়ায় ভালো শুরু করেও ৩০ বলে ২৯ রান করে আউট হয়ে যান জিসান আলম। ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৭৬ বলে ৬৫ রান করেন সৌম্য সরকার। জাকের আলি অনিক ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৪০ বলে ৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।
চার ম্যাচে আবাহনীর এটি দ্বিতীয় জয়। পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে তারা।

পরপর দুই বলে সালমান হোসেন ও মাহফুজুল ইসলামকে বোল্ড করে সম্ভাবনা জাগালেন আলিস আল ইসলাম। ওভার শেষ হয়ে যাওয়ায় বাড়ল অপেক্ষা। তবে নতুন ওভার শুরু করে কোনো ভুল করলেন না আলিস। আরিদুল ইসলাম আকাশকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন এই রহস্য স্পিনার।
ইউ ল্যাব ক্রিকেট মাঠে বুধবার প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে শুধু হ্যাটট্রিকই নয়, সব মিলিয়ে ৬ উইকেট নেন আলিস। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) চতুর্থ রাউন্ডে তার রহস্য স্পিনে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ১৯৮ রানে জিতেছে প্রাইম ব্যাংক।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩০৩ রানের পুঁজি পায় প্রাইম ব্যাংক। জবাবে আলিসের রহস্যে কাবু হয়ে ১০৫ রানের বেশি করতে পারেনি গাজী গ্রুপ। ৯.২ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক আলিস।
আরও পড়ুন
| বিসিবি নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের কমিশন |
|
লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা বাংলাদেশের ১৫তম বোলার আলিস। আর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তাকে নিয়ে হ্যাটট্রিকের স্বাদ পাওয়া বোলার হলেন মোট ১১ জন। এদের মধ্যে শুধু মোহাম্মদ শরীফের রয়েছে একাধিক হ্যাটট্রিকের রেকর্ড।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ১৪৬ রান যোগ করেন প্রাইম ব্যাংকের দুই ওপেনার শাহাদাত হোসেন দীপু ও আজিজুল হাকিম তামিম। ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৮ বলে ৭১ রান করেন দীপু। তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৩টি করে চার-ছক্কায় ১০৭ বলে ৭৮ রান।
এরপর চার নম্বরে নেমে দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব সামলান শামীম হোসেন পাটোয়ারী। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৫ বলে ৫১ রান করেন তিনি।
শেষ দিকে আবু হায়দার রনি ২ চার ও ৫ ছক্কায় মাত্র ১৭ বলে ৪২ রান করলে তিনশ পার করে প্রাইম ব্যাংক।
৫১ রানে ৪ উইকেট নেন মাহফুজুল ইসলাম।
পরে আলিসের স্পিনে কাবু হয়ে জয়ের কোনো সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি গাজী গ্রুপ। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট নিয়ে দলকে জেতান ২৯ বছর বয়সী রহস্য স্পিনার।
এ নিয়ে চার ম্যাচের সবকটিই জিতল প্রাইম ব্যাংক। নেট রান রেটে পিছিয়ে থেকে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে তারা। সমান ম্যাচে ২ জয়ে পাঁচ নম্বরে গাজী গ্রুপ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম।
কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন— গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিচালক এবং সহকারী সচিব এ বি এম এহসানুল মামুন।
নবগঠিত এই কমিশন প্রচলিত নিয়ম ও বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম তদারকি ও পরিচালনা করবে। বোর্ড নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে এই কমিশনের প্রধান কাজ।
আরও পড়ুন
| পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে সুখবর পেলেন শান্ত-নাহিদরা |
|
গত বছরের অক্টোবর বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। কয়েক মাসের মধ্যে সেই বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে নির্বাচন হতে পারে আগামী জুনে।
পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের তারিখ অবশ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিসিবির সংবিধান অনুযায়ী, ঢাকা ভিত্তিক ক্লাবগুলো (ক্যাটাগরি-১) থেকে ১২ জন পরিচালক নির্বাচিত হন ৭৬ জন ক্লাব কাউন্সিলরের মাধ্যমে।
ক্যাটাগরি-২, যেখানে আঞ্চলিক ও জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি থাকে, সেখান থেকে আট বিভাগ ও ৬৪ জেলার কাউন্সিলরের ভোটে ১০টি পদ পূরণ হয়।
ক্যাটাগরি-৩, ‘অন্যান্য প্রতিনিধি’ কোটায় একজন পরিচালক নির্বাচিত হন। এ ছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে মনোনীত হন দুই পরিচালক। এভাবে ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। তারপর বোর্ড পরিচালকেরা মিলেই সভাপতি নির্বাচন করেন।

দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাকিস্তানের বিপক্ষে স্মরণীয় জয়ের পর আইসিসির কাছ থেকেও সুখবর পেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, নাহিদ রানা, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিমরা। র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিলেন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটাররা।
যথারীতি বুধবার দুপুরে পুরুষ ক্রিকেটের র্যাঙ্কিংয়ের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রকাশ করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি। ব্যাটিং র্যাঙ্কিংয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে ২৩ নম্বরে উঠেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের পর দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমে ৮৭ রান করেন শান্ত। এমন ব্যাটিয়ের পর ক্যারিয়ার সেরা ৬৪৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ২৩ নম্বরে উঠেছেন তিনি। এটিই বাঁহাতি ব্যাটারের ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিং।
এছাড়া ব্যাটারদের তালিকায় ২ ধাপ এগিয়ে ২৬ নম্বরে উঠেছেন মুশফিক। দুই ইনিংসেই ফিফটি করে ১২ ধাপ এগিয়ে ৩৫ নম্বরে উঠেছেন মুমিনুল হক। তবে পিছিয়েছেন লিটন কুমার দাস (৬ ধাপ পিছিয়ে ৩৮), সাদমান ইসলাম (৪ ধাপ পিছিয়ে ৫৮)।
বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বরে উঠেছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। আর দ্বিতীয় ইনিংসে আগুনঝরা বোলিংয়ে ৫ উইকেট নেওয়া নাহিদ রানা ৫ ধাপ এগিয়ে ৬৪ নম্বরে উঠেছেন।