৩০ আগস্ট ২০২৫, ৭:০৯ পিএম
উইকেট শিকারের উৎসবে এবার যোগ দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি ব্যাটার শরিজ আহমাদকে ফিরিয়ে দিলেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার। আর ১৩ ওভারের মধ্যেই তিনটি ক্যাচ নিয়ে ফেললেন জাকের আলি অনিক।
১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয় শরিজের। শর্ট মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ নেন কিছুক্ষণ আগেই দুর্দান্ত আরেক ক্যাচ নেওয়া জাকের। ১৪ বলে ১৫ রান করে আউট হন শরিজ আহমাদ।
ক্রিজে এখন দুই ব্যাটসম্যান নোয়াহ ক্রোয়েস ও কাইল ক্লেইন।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৩ ওভারে নেদারল্যান্ডসের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৮৭ রান।
আরও পড়ুন
জাকেরের দুর্দান্ত ক্যাচ, সাইফের জোড়া শিকার |
![]() |
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে শেখ মেহেদি হাসানের বোলিংয়ে ৩ রানের বেশি নিতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। পরের ওভারে শরিফুল ইসলামের ওপর ঝড় তোলেন ও'ডাউড। দারুণ ব্যাটিংয়ে তিনটি চার মারেন ডাচ ওপেনার।
মেহেদির পরের ওভারে ম্যাচের প্রথম ছক্কা মেরে দেন ও'ডাউড। অভিজ্ঞ ওপেনারের সৌজন্যে ভালো শুরুর আশা দেখতে শুরু করে সফরকারীরা।
তবে ও'ডাউডকে টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। চতুর্থ ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই তাকে ড্রেসিং রুমে ফেরত পাঠান অভিজ্ঞ পেসার।
তার স্টাম্পের ওপর করা ডেলিভারি অন সাইডে খেলার চেষ্টায় লিডিং এজ হয় ও'ডাউডের। শর্ট কাভারে সহজ ক্যাচ নেন জাকের আলি অনিক। উল্লাসে ফেটে পড়েন তাসকিন।
৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ২৩ রান করে ফেরেন ও'ডাউড।
আরও পড়ুন
আবারও প্রথম বলে তাসকিনের উইকেট |
![]() |
পঞ্চম ওভারে আবার আক্রমণে আসেন শরিফুল। আগের ওভারে ১৩ রান খরচ করা তরুণ পেসার ঘুরে দাঁড়ান দারুণভাবে। এবার কোনো রানই দেননি তিনি। করেন মেডেন ওভার।
পরে পাওয়ার শেষ ওভারে উইকেটের সম্ভাবনা জাগান মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু কাভারে অল্পের জন্য ক্যাচ নাগাল পাননি তাওহিদ হৃদয়। তাই বেঁচে যান তেজা নিদামানুরু।
প্রথম ৩ ওভারে ২৫ রান করে ফেলেছিল নেদারল্যান্ডস। সেখান থেকে পরের ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচ করেছে বাংলাদেশ।
পরে অষ্টম ওভারে বিক্রমজিতকে ফিরিয়ে আবার আনন্দে ভাসেন তাসকিন। নিজের প্রথম ওভারের মতো দ্বিতীয় ওভারেও প্রথম বলে উইকেট নেন অভিজ্ঞ পেসার। মাত্র ১১ বলে ৪ রান করে ফেরেন বিক্রমজিত।
এরপর মাত্র ১৫ বলে ২৮ রানের জুটিতে রানের গতি বাড়ান এডওয়ার্ডস ও নিদামানুরু। কিন্তু সাইফ হাসানের জোড়া আঘাতে আবার চাপে পড়ে যায় তারা।
আরও পড়ুন
পাওয়ার প্লেতে দুর্দান্ত বাংলাদেশ |
![]() |
দশম ওভারে সাইফকে আক্রমণে আনেন লিটন কুমার দাস। দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হজম করে কিছুটা চাপে পড়ে যান দীর্ঘ দিন পর খেলতে নামা সাইফ। তবে চতুর্থ বলেই তিনি পেয়ে যান ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের ১ হাজার ৩৮০ দিন পর অবশেষে প্রথম উইকেটের দেখা পান সাইফ।
বলটি অবশ্য তেমন ভালো ছিল না। লেগ স্টাম্পের বলের প্রাপ্য সাজা দিতেই সুইপ করেন এডওয়ার্ডস। মনে হচ্ছিল বাউন্ডারি পেয়েই যাবেন। কিন্তু ডিপ স্কয়ার লেগে অনেক দৌড়ে শেষ মুহূর্তে ফুল লেংথ ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন জাকের।
১ চারে ৭ বলে ১২ রান করে আউট হন এডওয়ার্ডস।
ওই ওভারের শেষ বলে আরেক সেট ব্যাটসম্যান তেজা নিদামানুরুকেও আউট করেন সাইফ। বড় শটের খোঁজে ডিপ মিড উইকেটে তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দেন ২৬ বলে ২৬ রান করা নিদামানুরু।
৩১ আগস্ট ২০২৫, ৮:৩৭ এম
রান তাড়ায় প্রথম তিন বল দেখেশুনে খেললেন অ্যালেক্স হেলস। পরের চার বল মইন আলির ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দিলেন ইংলিশ ওপেনার। টানা তিন ছক্কার পর মারলেন একটি। শুরুর ওই তাণ্ডবের পর ঝড়ো ইনিংস খেলে ১৪ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন হেলস।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) ম্যাচে রোববার ভোরে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ৪৩ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন হেলস। যার সৌজন্যে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১৪ হাজার রান পূর্ণ হয় ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলতে নামা ওপেনারের।
আরও পড়ুন
৫ উইকেটের আক্ষেপ নেই, সামনে হবে: তাসকিন |
![]() |
এই ফরম্যাটে ১৪ হাজার রান করা বিশ্বের তৃতীয় ব্যাটার হেলস। তার আগে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১৪ হাজার রানের রেকর্ড স্পর্শ করেন ক্রিস গেইল ও কাইরন পোলার্ড। সিপিএলে ঠিক আগের ম্যাচেই এই ঠিকানায় পৌঁছান পোলার্ড।
৫০৫ ইনিংসে ৭ সেঞ্চুরির সঙ্গে ৮৯টি ফিফটিতে হেলসের সংগ্রহ এখন ১৪ হাজার ২৪ রান। তার সামনে শুধু ক্রিস গেইল। অবসরের আগে ৪৫৫ ইনিংসে ২২ সেঞ্চুরি ও ৮৮ ফিফটিতে ১৪ হাজার ৫৬২ রান করেছিলেন ইউনিভার্স বস।
হেলসের বয়স এখন ৩৬ বছর। নিয়মিতই তিনি খেলছেন বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। তাই সামনের দিনগুলোতে হেলস যদি গেইলের রানের রেকর্ড ভেঙে দেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বরং তখন দেখা যাবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নতুন রাজা।
অবশ্য খুব একটা পিছিয়ে নেই পোলার্ডও। ৬৩৪ ইনিংসে ক্যারিবিয়ান তারকা অলরাউন্ডারের সংগ্রহ ১৪ হাজার ১২ রান। তবে তার বয়স হয়ে গেছে ৩৮ বছর। বেশি দিন হয়তো আর খেলা হবে না তার। তাই গেইলকে ছাড়াতে হলে খুব দ্রুত রান করতে হবে পোলার্ডের।
এছাড়া এই সংস্করণে ১৩ হাজারের বেশি রান আছে আর চারজন ব্যাটারের- ডেভিড ওয়ার্নার (১৩ হাজার ৫৯৫), শোয়েব মালিক (১৩ হাজার ৫৭১), বিরাট কোহলি (১৩ হাজার ৫৪৩) ও জস বাটলার (১৩ হাজার ৩৩৮ রান)। তাদের পক্ষেও গেইলকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।
আরও পড়ুন
দুর্দান্ত কামব্যাকের পর সাইফ বললেন, 'ভালোর শেষ নেই, কেবল শুরু' |
![]() |
হেলসের মাইলফলক ছোঁয়ার দিনে সহজ জয়ই পেয়েছে ত্রিনবাগো। গায়ানার করা ১৬৩ রান ১৬ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে তারা।
উদ্বোধনী জুটিতে কলিন মুনরোকে নিয়ে ১১৫ রান যোগ করেন হেলস। মুনরোর ব্যাট থেকে আসে ৩০ বলে ৫২ রান। ৩ চার ও ৭ ছক্কায় ৪৩ বলে ৭৪ রান করেন হেলস। শেষ দিকে ১৪ বলে ২৭ রানের ক্যামিও খেলে দলের জয় ত্বরান্বিত করেন আন্দ্রে রাসেল।
ছয় ম্যাচে পাঁচ জয়ে দশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ত্রিনবাগো। চার ম্যাচে চার পয়েন্ট পাওয়া গায়ানা আছে চার নম্বরে।
ওয়ানডে অভিষেকে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। টেস্টে এই সাফল্য পান তিনি গত বছর। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখনও ৫ উইকেট নেওয়া হয়নি অভিজ্ঞ পেসারের। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খুব কাছে গিয়েও হয়নি।
তবে কোনো আক্ষেপ নেই তাসকিনের। সামনে টি-টোয়েন্টিতেও ৫ উইকেট হয়ে যাবে, বিশ্বাস ৩০ বছর বয়সী পেসারের।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দাপুটে জয়ের মূল কারিগর তাসকিন। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনিই জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
আরও পড়ুন
দুর্দান্ত কামব্যাকের পর সাইফ বললেন, 'ভালোর শেষ নেই, কেবল শুরু' |
![]() |
ম্যাচে নিজের প্রথম বলেই উইকেট নেন তাসকিন। পরের ওভারেও প্রথম বলে সাফল্য পান অভিজ্ঞ পেসার। বাকি দুই ওভারেও একটি করে শিকার ঝুলিতে নেন অভিজ্ঞ এই পেসার।
নিজের শেষ ওভারে নোয়াহ ক্রোয়েসকে যখন আউট করেন তাসকিন, তখনও তার স্পেলের বাকি তিন বল। সম্ভাবনা থাকলেও অল্পের জন্য ৫ উইকেট পাওয়া হয়নি তার। ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ৪ উইকেট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
ম্যাচ শেষে টি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ৫ উইকেট না পাওয়ায় কোনো আক্ষেপ নেই তার।
“(হাসি) না না! কোনো আক্ষেপ নেই। টি-টোয়েন্টি তো ৪ ওভারের খেলা। তবে হবে ইনশাআল্লাহ্।”
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখনও না পেলেও, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এরই মধ্যে দুবার ৫ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। ২০১৬ সালের বিপিএলে ৩১ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। আর বিপিএলের গত আসরে তো গড়েন ইতিহাস!
ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রানে ৭ উইকেট নেন দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলতে নামা তাসকিন। বিপিএল ইতিহাসের সেরা বোলিং এটি। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসেরই তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার তাসকিনের এই ৭ উইকেট।
বিপিএলের ওই ছন্দ এখন জাতীয় দলেও দেখাচ্ছেন তাসকিন। সবশেষ ছয় ম্যাচের চারটিতেই অন্তত ৩ উইকেট নিয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার। এই ছয় ম্যাচে তার শিকার ১৫ উইকেট।
আরও পড়ুন
আসিফের ৬ ছক্কার ঝড় সামলে পাকিস্তানের জয় |
![]() |
অথচ বছরের শুরুতে চোটে পড়ে ছন্দ হারাতে বসেছিলেন তিনি। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তাসকিন এখন সামনে আরও ভালো করার অপেক্ষায়।
“প্রত্যেকটা আন্তর্জাতিক ম্যাচই আমার জন্য অনেক স্পেশাল। বিশেষ করে বছরের শুরুর দিকে হালকা ইনজুরি যখন হয়েছিল, তখন ফেরার পর একটু স্ট্রাগল করছিলাম। শ্রীলঙ্কা সিরিজ দিয়ে (ভালো করা) শুরু হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। ভালোর দিকে যাচ্ছি। এখনও সেরা অবস্থায় আসিনি। পরিশ্রম করে যাচ্ছি, প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাচ্ছি।”
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম সবসময়ই ব্যাটিংবান্ধব হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সেই উইকেটেই ব্যাট হাতে ভয়াবহ ব্যর্থ হলো নেদারল্যান্ডস। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তারা ২০ ওভারে মাত্র ১৩৮ রান তুলতে পারে ৮ উইকেট হারিয়ে। শেষ পর্যন্ত সহজ জয় পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। মাত্র ১৩.৩ ওভারেই ৮ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্য টপকে যায় লিটন কুমার দাসের দল।
ম্যাচটিতে নেদারল্যান্ডসের ব্যাটিং ব্যর্থতার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় অতিরিক্ত ডট বল খেলা। ইনিংসে মোট ১২০ বলের মধ্যে তারা খেলেছে ৫১টি ডট বল—অর্থাৎ পুরো ইনিংসের প্রায় ৪৩ শতাংশ সময় কোনো রান আসেনি। বিপরীতে বাংলাদেশের ব্যাটাররা মাত্র ২২টি ডট বল খেলেছে। ফলে ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে রান তুলতে পার্থক্যটা হয়ে গেছে আকাশছোঁয়া।
নেদারল্যান্ডসের প্রধান কোচ রায়ান কুক তাই ম্যাচ শেষে হতাশাই প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন
দুর্দান্ত কামব্যাকের পর সাইফ বললেন, 'ভালোর শেষ নেই, কেবল শুরু' |
![]() |
“ব্যাটিংয়ের মানসিকতাই সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল। ডট বলের সংখ্যা প্রায় ৪৭টি (আসলে ৫১)—এটা আসলে অপরাধ এই উইকেটে।”
তবে বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডারদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন কুক। মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদরা লাইন-লেংথে বল করেছেন। চমৎকার বোলিংয়ে তাসকিন নিয়েছেন ৪ উইকেট। মাত্র ১ উইকেট পেলেও মুস্তাফিজ ছিলেন কৃপণ।
তাই বাংলাদেশের বোলারদের প্রশংসায় ভাসান কুক।
“বাংলাদেশের বোলাররা ডিসিপ্লিনড ছিল, ফিল্ডাররাও অসাধারণ করেছে পুরো ম্যাচ। প্রতিবারই যখন আমরা পার্টনারশিপ গড়তে যাচ্ছিলাম, তখনই তারা উইকেট তুলে নিয়েছে। ফলে আমরা কখনোই সে অর্থে গতি পাইনি।”
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডস শুরুটা খারাপ করেনি। তিন ওভার শেষে তাদের স্কোর ছিল কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৫ রান। কিন্তু ওপেনার ম্যাক্স ও’ডাউড আউট হওয়ার পর এক ঝটকায় ভেঙে পড়ে ব্যাটিং।
পাওয়ার প্লেতে নেদারল্যান্ডস তুলতে পারে মাত্র ৩৪ রান, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো নয়। ইনিংসে সর্বোচ্চ রান এসেছে ব্যাটার তেজা নিদামানুরুর ব্যাট থেকে, ২৬ রান। বাকিরা সবাই আসা-যাওয়ার মিছিলেই ব্যস্ত ছিলেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যাটাররা দেখিয়ে দিয়েছে একই উইকেটে কেমন ব্যাটিং করা যায়। লিটন দাস ৫৪ রান করেছেন ২৯ বলে। সাইফ হাসান খেলেছেন ১৯ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমনও দ্রুত রান তুলেছেন। ফলে ১৩৮ রানের লক্ষ্য হয়ে গেছে অনেক সহজ।
নিজেদের ব্যর্থতার পেছনে প্রস্তুতির ঘাটতিকেও দায়ী করেছেন কুক।
আরও পড়ুন
আসিফের ৬ ছক্কার ঝড় সামলে পাকিস্তানের জয় |
![]() |
“কিছু ব্যাটারকে তাদের স্বাভাবিক জায়গার বাইরে খেলতে হয়েছে, আবার কেউ দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছে। তাও ফ্লাডলাইটের আলোয় শিশির ভেজা উইকেটে, যেখানে বল স্কিড করছিল- এটা মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। আমাদের হাতে মাত্র একটি প্র্যাকটিস সেশন ছিল, তাই প্রস্তুতির ঘাটতিও প্রভাব ফেলেছে।”
তবে ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দিকও খুঁজে পাচ্ছেন কুক।
“আমরা শিখতে ভালোবাসি। দ্রুতই আমাদের পরের ম্যাচ আছে। আশা করি এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স দিতে পারব।
বল হাতে ২ উইকেট আর ব্যাটিংয়ে ১৯ বলে ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংস। স্বপ্নের মতো এক ম্যাচ খেলেছেন সাইফ হাসান। দুর্দান্ত কামব্যাক হয়তো একেই বলে। তবে এটুকুতেই থামতে চান না সাইফ। বরং দৃপ্ত কণ্ঠে বললেন, এখন মাত্র শুরু হয়েছে। ভালোর কোনো শেষ নেই তার।
২০২১ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় সাইফের। দুটি ম্যাচ খেলে সেবার বাদ পড়ে যান দল থেকে।
পরে ২০২৩ সালে হাংজু এশিয়ান গেমসে তিনটি ম্যাচ অবশ্য খেলেন সাইফ। ম্যাচগুলোর আন্তর্জাতিক মর্যাদাও ছিল। তবে একই সময়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলায়, ওই আসরে কোনো দেশ তাদের মূল দল পাঠায়নি। তাই আসলে জাতীয় দলে ফেরার স্বাদ তখনও পাওয়া হয়নি সাইফের।
অবশেষে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ দিয়ে আবার টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ২৬ বছর বয়সী অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার। আর ফেরার ম্যাচটি তিনি রাঙালেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে।
দশম ওভারে বোলিংয়ে এসে দ্বিতীয় বলে হজম করেন বাউন্ডারি। তবে ঘুরে দাঁড়াতে একদম সময় নেননি সাইফ। এক বলই তিনি ফিরিয়ে দেন স্কট এডওয়ার্ডসকে। ওভারের শেষ বলে তার শিকার তেজা নিদামানুরু।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের ১ হাজার ৩৮০ দিন পর প্রথম উইকেটের স্বাদ পান সাইফ। এর আগে খেলা পাঁচ ম্যাচে কোনো উইকেট ছিল না তার। ম্যাচের বাকি সময়ে আরও এক ওভার করলেও উইকেট পাননি তিনি।
চমৎকার বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও ঝড় তোলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। চার নম্বরে নেমে ১ চারের সঙ্গে ৩টি বিশাল ছক্কা মেরে খেলেন ১৯ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। তার টানা দুই ছক্কায়ই ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশ।
এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পর ম্যাচ সেরার পুরস্কারে সাইফও ছিলেন সমান প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে সেটি শেষ পর্যন্ত জিতেছেন ৪ উইকেট নেওয়া তাসকিন আহমেদ। ম্যাচ সেরা না হলেও দীর্ঘ দিন পর জাতীয় দলে ফিরে তৃপ্ত সাইফ।
ম্যাচ শেষে টি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাইফ বলেছেন, সামনে আরও ভালো পারফরম্যান্সের চেষ্টা থাকবে তার।
“অনেক দিন পর কামব্যাক হয়েছে। সুযোগটা পেয়েছি আল্লাহর রহমতে। সবই আল্লাহর ইচ্ছা। কষ্ট করলে অবশ্যই ফল পাওয়া যায়। ইনশাআল্লাহ্ সামনে আরও ভালো খেলার চেষ্টা করব।”
“ভালোর তো শেষ নেই। কেবল তো শুরু। মাত্র (দলে) আসা হলো। সবই আল্লাহর ইচ্ছা। চেষ্টা করব আরও হার্ডওয়ার্ক করতে, প্রক্রিয়াটা ধরে রাখতে। ফল আপনাআপনিই চলে আসবে।”
সাইফকে স্কোয়াডে ফেরানোর সময়ই প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছিলেন, দলের প্রয়োজনের সময় ২-৩ ওভার বোলিং করতে পারবেন সাইফ। তাই মিডল অর্ডারের পাশাপাশি কার্যকর অফ স্পিনার হিসেবেও বিবেচিত হয়েছেন তিনি।
লিটন কুমার দাসও জানেন সাইফের বোলিং সামর্থ্য সম্পর্কে। তাই শিশিরের কারণে রিশাদ হোসেনের বোলিং করতে সমস্যা হওয়ায় দশম ওভারে সাইফকে আক্রমণে আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে লিটন নিজেই জানান সেই কথা।
“রিশাদ যখন বোলিংয়ে এলো, ততক্ষণে মাঠে শিশির পড়ে গেছে। তখন আমার মনে হয়েছে যে বল গ্রিপ করতে সমস্যা হচ্ছে রিশাদের। তাই আমি সাইফকে এনেছি যেখতে যে সে কেমন বোলিং করে।”
অধিনায়কের দেখতে চাওয়া দারুণভাবে কাজে লাগান সাইফ। রিশাদের চার ওভারের মধ্যে দুই ওভারে করে দেন তিনি। যেখানে ১৮ রান খরচ করে নেন ২ উইকেট। তার মতে, বিপিএল ও জিএসএল খেলে বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন তিনি।
“আমি তৈরি ছিলাম। গত দুই বছর বিপিএল খেলেছি, জিএসএল (গ্লোবাল সুপার লিগ) খেলেছি। সেখানে বোলিংটা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এমনিতে বোলিং নিয়েও আলাদাভাবে কাজ করেছি। তবে অবশ্যই ম্যাচের বোলিং তো আলাদা। আমার রোল পরিষ্কার ছিল। যখনই ব্যাটিং বা বোলিংয়ে আসা হবে, চেষ্টা থাকবে দলের জন্য অবদান রাখার।”
পরে সাইফ যখন ব্যাটিংয়ে নামেন তখন জয় হাতের নাগালেই ছিল বাংলাদেশের। ৬৫ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪৫ রান। চার নম্বরে নেমে এর মধ্যে ৩৬ রান একাই করেন সাইফ। যেটি তার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। আগের পাঁচ ম্যাচ মিলিয়ে করেছিলেন মাত্র ৫২ রান।
বিধ্বংসী ব্যাটিং করার পথে অধিনায়কের সঙ্গে ২৬ বলে ৪৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন সাইফ। পরে ব্যাটিং সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিটনের কাছ থেকে সাহস পাওয়ার কথা জানান তিনি।
“লিটন ভাই অনেক সাপোর্ট করছিলেন। বলছিলেন সময় নিতে। শুরুর দিকে অবশ্যই অনেক নার্ভ কাজ করে। তখন লিটন ভাই সাপোর্ট দিচ্ছিলেন। বলছিলেন যে, এক-দুইটা বল খেললে বুঝতে পারব। তো এরকম সাপোর্ট পেলে আরও ভালো খেলার চেষ্টা করব।”
পাকিস্তানের বড় পুঁজির জবাবে অল্পেই ৫ উইকেট হারাল সংযুক্ত আরব আমিরাত৷ তবে লড়াই চালিয়ে গেলেন আসিফ খান। একের পর এক ছক্কায় তিনি খেললেন ঝড়ো ইনিংস। তবে যথেষ্ট হলো না সেটি। অনায়াস জয় পেল পাকিস্তান।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩১ রানে হারায় সালমান আলি আগার দল।
সাইম আইয়ুবের পর হাসান নাওয়াজের ঝড়ো ফিফটিতে ২০৭ রানের বড় সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। জবাবে আসিফ একা তাণ্ডব চালালেও ১৭৬ রানের বেশি করতে পারেনি আমিরাত।
আফগানিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নিয়ে খেলা এই ত্রিদেশীয় সিরিজে পরিষ্কার ফেবারিট পাকিস্তান। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ফাইনালের পথেও অনেকটা এগিয়ে গেল তারা।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় পাকিস্তান। তবে রানের গতি কমতে দেননি সাইম। একের পর এক বাউন্ডারিতে পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান করে পাকিস্তান।
দলকে একশ পার করিয়ে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে ১২তম ওভারে আউট হন। ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে ৭ চারের সঙ্গে ৪ ছক্কার মারে ৩৮ বলে ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তরুণ বাঁহাতি ওপেনার।
এরপর ঝড় তোলেন হাসান নাওয়াজ। মোহাম্মদ নাওয়াজকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ২৫ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়েন হাসান নাওয়াজ। যেখানে মোহাম্মদ নাওয়াজের অবদান মাত্র ১৩ রান।
২ চারের সঙ্গে ৬ ছক্কার ঝড় তুলে ২৬ বলে ৫৬ রান করে আউট হন হাসান নাওয়াজ। আর মোহাম্মদ নাওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৫ রান।
পরে শেষের ব্যাটাররা মিলে দলকে দুইশ পার করান।
আরব আমিরাতের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন জুনাইদ সিদ্দিকি ও সাঘির খান।
বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকে একবারও জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি আমিরাত।
ইনিংসের ১১ ওভারের মধ্যে মাত্র ৭৬ রানে নিজেদের অর্ধেক উইকেট হারিয়ে ফেলে আমিরাত৷ সেখান থেকে ঝড় তোলেন আসিফ।
ইনিংসের শেষ ওভারে আউট হয়ে ফেরত যাওয়ার আগে ৬টি চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা মারেন আসিফ৷ তার ৩৫ বলে ৭৭ রানের ইনিংসের সৌজন্যে পরাজয়ের ব্যবধান কমায় আমিরাত
এছাড়া অভিজ্ঞ ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিম খেলেন ১৮ বলে ৩৩ রানের ইনিংস।
পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন হাসান আলি।
৬ ঘণ্টা আগে
৭ ঘণ্টা আগে
৭ ঘণ্টা আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৬ দিন আগে
৬ দিন আগে
৬ দিন আগে
৬ দিন আগে
৮ দিন আগে
৮ দিন আগে
১০ দিন আগে
১০ দিন আগে