৩০ আগস্ট ২০২৫, ৭:০৯ পিএম

উইকেট শিকারের উৎসবে এবার যোগ দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি ব্যাটার শরিজ আহমাদকে ফিরিয়ে দিলেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার। আর ১৩ ওভারের মধ্যেই তিনটি ক্যাচ নিয়ে ফেললেন জাকের আলি অনিক।
১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয় শরিজের। শর্ট মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ নেন কিছুক্ষণ আগেই দুর্দান্ত আরেক ক্যাচ নেওয়া জাকের। ১৪ বলে ১৫ রান করে আউট হন শরিজ আহমাদ।
ক্রিজে এখন দুই ব্যাটসম্যান নোয়াহ ক্রোয়েস ও কাইল ক্লেইন।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৩ ওভারে নেদারল্যান্ডসের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৮৭ রান।
আরও পড়ুন
| জাকেরের দুর্দান্ত ক্যাচ, সাইফের জোড়া শিকার |
|
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে শেখ মেহেদি হাসানের বোলিংয়ে ৩ রানের বেশি নিতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। পরের ওভারে শরিফুল ইসলামের ওপর ঝড় তোলেন ও'ডাউড। দারুণ ব্যাটিংয়ে তিনটি চার মারেন ডাচ ওপেনার।
মেহেদির পরের ওভারে ম্যাচের প্রথম ছক্কা মেরে দেন ও'ডাউড। অভিজ্ঞ ওপেনারের সৌজন্যে ভালো শুরুর আশা দেখতে শুরু করে সফরকারীরা।
তবে ও'ডাউডকে টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। চতুর্থ ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই তাকে ড্রেসিং রুমে ফেরত পাঠান অভিজ্ঞ পেসার।
তার স্টাম্পের ওপর করা ডেলিভারি অন সাইডে খেলার চেষ্টায় লিডিং এজ হয় ও'ডাউডের। শর্ট কাভারে সহজ ক্যাচ নেন জাকের আলি অনিক। উল্লাসে ফেটে পড়েন তাসকিন।
৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ২৩ রান করে ফেরেন ও'ডাউড।
আরও পড়ুন
| আবারও প্রথম বলে তাসকিনের উইকেট |
|
পঞ্চম ওভারে আবার আক্রমণে আসেন শরিফুল। আগের ওভারে ১৩ রান খরচ করা তরুণ পেসার ঘুরে দাঁড়ান দারুণভাবে। এবার কোনো রানই দেননি তিনি। করেন মেডেন ওভার।
পরে পাওয়ার শেষ ওভারে উইকেটের সম্ভাবনা জাগান মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু কাভারে অল্পের জন্য ক্যাচ নাগাল পাননি তাওহিদ হৃদয়। তাই বেঁচে যান তেজা নিদামানুরু।
প্রথম ৩ ওভারে ২৫ রান করে ফেলেছিল নেদারল্যান্ডস। সেখান থেকে পরের ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচ করেছে বাংলাদেশ।
পরে অষ্টম ওভারে বিক্রমজিতকে ফিরিয়ে আবার আনন্দে ভাসেন তাসকিন। নিজের প্রথম ওভারের মতো দ্বিতীয় ওভারেও প্রথম বলে উইকেট নেন অভিজ্ঞ পেসার। মাত্র ১১ বলে ৪ রান করে ফেরেন বিক্রমজিত।
এরপর মাত্র ১৫ বলে ২৮ রানের জুটিতে রানের গতি বাড়ান এডওয়ার্ডস ও নিদামানুরু। কিন্তু সাইফ হাসানের জোড়া আঘাতে আবার চাপে পড়ে যায় তারা।
আরও পড়ুন
| পাওয়ার প্লেতে দুর্দান্ত বাংলাদেশ |
|
দশম ওভারে সাইফকে আক্রমণে আনেন লিটন কুমার দাস। দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হজম করে কিছুটা চাপে পড়ে যান দীর্ঘ দিন পর খেলতে নামা সাইফ। তবে চতুর্থ বলেই তিনি পেয়ে যান ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের ১ হাজার ৩৮০ দিন পর অবশেষে প্রথম উইকেটের দেখা পান সাইফ।
বলটি অবশ্য তেমন ভালো ছিল না। লেগ স্টাম্পের বলের প্রাপ্য সাজা দিতেই সুইপ করেন এডওয়ার্ডস। মনে হচ্ছিল বাউন্ডারি পেয়েই যাবেন। কিন্তু ডিপ স্কয়ার লেগে অনেক দৌড়ে শেষ মুহূর্তে ফুল লেংথ ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন জাকের।
১ চারে ৭ বলে ১২ রান করে আউট হন এডওয়ার্ডস।
ওই ওভারের শেষ বলে আরেক সেট ব্যাটসম্যান তেজা নিদামানুরুকেও আউট করেন সাইফ। বড় শটের খোঁজে ডিপ মিড উইকেটে তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দেন ২৬ বলে ২৬ রান করা নিদামানুরু।
No posts available.
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ এম
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ এম
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৩ এম

ভাবুন তো, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪৯৫ ম্যাচে ১৩৪৭ উইকেট। স্পিন কিংবদন্তী মুত্তিয়া মুরালীধরন নিজেকে এতোটা উচ্চতায় তুলেছেন,যে উচ্চতায় তাঁর ধারে কাছে নেই কেউ। নিকট ভবিষ্যতেও এমন কৃতি গড়ার কথা কল্পনায়ও কেউ ভাবছেন না। আশ্চর্য হলেও সত্য, তার ৪টি মাইলস্টোনের সঙ্গে জুড়ে আছে বাংলাদেশের নাম। ২০০১ সালে আশরাফুল টেস্ট অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানের রেকর্ড করেছেন, সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আশরাফুলের সেই রেকর্ডময় টেস্টে মুরালীধরন টেস্টে ৩৫০ উইকেটের মাইলস্টোন ছুঁয়েছেন। ৬৬ তম টেস্টে ৩৫০ উইকেটে এই মাইলস্টোনে দ্রুততম মুরালীধরন।
১০০তম টেস্ট খেলেছেন তিনি চট্টগ্রামে, ২০০৬ সালে, বাংলাদেশের বিপক্ষে। সেই মাইলস্টোন টেস্টে আর একটি রেকর্ড করেছেন তিনি। বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১০০০তম উইকেটের মালিকানা পেয়েছেন। বগুড়ায় পরের টেস্টটিও তাঁর রেকর্ডময়। ১০১ তম টেস্টে প্রথম বোলার হিসেবে ৬০০ উইকেটের মাইলস্টোন ছুঁয়েছেন। এক বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যান্ডি টেস্টটিও তার মাইলস্টোনের। প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে ৭০০তম উইকেট শিকার করেছেন। ২০১০ সালে গল-এ ভারতের বিপক্ষে ফেয়ারওয়েল টেস্টটি স্মরণীয় করে রেখেছেন। বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে ৮০০ উইকেটের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছেন।
এমন এক বিস্ময় বোলারের ৩টি মাইলস্টোনের প্রত্যক্ষদর্শী আমি। দেখেছি টেস্টে ৩৫০ উইকেট ক্লাবে তার দ্রুততম রেকর্ড। দেখেছি টেস্টে ৬০০ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর হাজারতম উইকেট। এই তিনটি মাইলস্টোনের ম্যাচ রিপোর্ট এবং তার কৃতির কথা লিখেছি বড় করে। দৈনিক ইনকিলাবে ছাপা হয়েছে তা। ৩৫০তম উইকেটে ক্লাবে দ্রুততম রেকর্ডের পর মুরালীধরনের ইন্টারভিউ নিয়েছি। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সেই ইন্টারভিউটি নিয়েছি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের মিডিয়া ম্যানেজারের সহায়তায়। শ্রীলঙ্কার তখন হেড কোচ ডেভ হোয়াটমোরের পাশে বসে ড্রেসিং রুমে সেই ইন্টারভিউ নেয়ার সময় সেখানে ছিলেন আর একজন সাংবাদিক, ভোরের কাগজের স্পোর্টস এডিটর প্রয়াত অঘোর মন্ডল। তখন প্লেয়ার্স ড্রেসিং রুমে অনুমতি নিয়ে ঢোকা যেতো বলে তা সম্ভব হয়েছে। ডেভ হোয়াটমোরের শর্ত ছিল একটাই, মুরালীধরনের বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি নিয়ে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বোলার হিসেবে হাজারতম উইকেটের মাইলস্টোনে মুরালীধরন পা রাখার পর বিসিবির তৎকালীন কার্যনির্বাহী সদস্য সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর সেই টেস্ট কাভার করতে আসা সংবাদকর্মীদের সবাইকে দিয়েছিলেন মুরালীধরনের অটোগ্রাফ সম্বলিত একটি করে টি-শার্ট।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের শ্রীলঙ্কা সফরটি ছিল গল-এ। টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর, প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডের গল্প লিখেছি। ইনিংস ব্রেকের সময়ে গিয়েছিলাম গল এর মিউজিয়ামে। মিউজিয়ামটির তখন সংস্কার চলছে। টেবিলের উপর পড়ে আছে টেস্টে মুরালীধরনের ৮০০তম উইকেটের বল। সেই বলটি হাতে নিয়ে ছবি তোলার সে কি আনন্দ ?
আজ এই স্পিন জাদুকরের ৫৩তম জন্মবার্ষিকী। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১ টেস্টে ৮৯ উইকেট, চার-চারটি মাইলস্টোন যার, জন্মদিনে তাঁর রেকর্ড গড়া বলটি ছুঁয়ে দেখার আনন্দটা মনে করিয়ে দিয়েছে আর একবার।

কানাডা ক্রিকেটের জন্য এক বড়সড় ধাক্কা হিসেবে সামনে এসেছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (এসিইউ) তদন্ত। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডার একটি ম্যাচসহ দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে এসিইউ।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদন, বর্তমানে এসিইউ-এর দুটি সক্রিয় তদন্ত চলছে। যার মধ্যে ক্রিকেট কানাডার প্রশাসনিক পর্যায়ের দুর্নীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী কোড বা নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগও রয়েছে।
কানাডার একটি অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র বিষয়ক প্রোগ্রাম 'দ্য ফিফথ এস্টেট'-এর নির্মিত 'করাপশন, ক্রাইম অ্যান্ড ক্রিকেট' নামক একটি তথ্যচিত্রে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলো সামনে আসে। গত শুক্রবার দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি-তে ৪৩ মিনিটের এই তথ্যচিত্রটি প্রচারিত হয়। সেখানে কানাডা ক্রিকেটের সুশাসন ও দুর্নীতির নানা দিক নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এই তথ্যচিত্র অনুযায়ী, বিশ্বকাপে দুর্নীতির অভিযোগটি মূলত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে। আইসিসির আতশি কাঁচের নিচে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের পঞ্চম ওভারটি, যখন কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া বল করতে আসেন। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে ২২ বছর বয়সী বাজওয়াকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
ব্যাটিং অলরাউন্ডার বাজওয়া যখন বল হাতে নেন, তখন নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৩৫ রান। কানাডার পেসার জাসকারান সিং এবং ডিলন হেইলিগার শুরুটা বেশ বাজে করেছিলেন, তারা যথাক্রমে ১৫ ও ১৪ রান খরচ করেন। পরিস্থিতির চাপে কানাডা ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই স্পিন আক্রমণ আনে এবং সাদ বিন জাফর একটি 'উইকেট মেইডেন' ওভার করেন। পরের ওভারে হেইলিগার একটি উইকেট শিকার করেন—আর ঠিক তখনই বাজওয়া বোলিংয়ে আসেন। ওভারের শুরুতেই তিনি একটি নো-বল করেন, এরপর লেগ সাইডে একটি ওয়াইড দেন এবং শেষ পর্যন্ত ওই এক ওভারেই ১৫ রান দিয়ে বসেন।
আইসিসির অপর তদন্তটি শুরু হয়েছে কানাডার তৎকালীন কোচ খুররম চৌহানের একটি টেলিফোন কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে। সেখানে চৌহান দাবি করেন যে, ক্রিকেট কানাডার তৎকালীন সিনিয়র বোর্ড সদস্যরা জাতীয় দলে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাঁর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। গত বছর এই অডিওটি ফাঁস হয় এবং তখন থেকেই এটি এসিইউ-এর তদন্তাধীন রয়েছে। ওই রেকর্ডিংয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টার কথাও উল্লেখ আছে, যদিও সেগুলোর স্বপক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো অকাট্য প্রমাণ জোগাড় করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের অন্তর্বর্তীকালীন জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন,
‘সিবিসি প্রচারিত প্রোগ্রামটি সম্পর্কে এসিইউ অবগত রয়েছে। তবে সংস্থাটির প্রচলিত কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, এই তথ্যচিত্রে থাকা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে এই মুহূর্তে এসিইউ কোনো মন্তব্য করতে পারবে না।’
এই তথ্যচিত্রে কানাডার আরও একজন সাবেক কোচ পুবুদু দাসানায়েকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তিনিও দলে খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর অনুচিত প্রভাব খাটানোর একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁর ক্ষেত্রে ঘটনাটি ছিল ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়। 'দ্য ফিফথ এস্টেট' জানায়, বোর্ড দাসা নায়েককে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড় নির্বাচনে ‘বাধ্য করার’ চেষ্টা করেছিল এবং যখন তিনি তা মানতে রাজি হননি, তখন তাকে জানানো হয় যে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ করে দেওয়া হবে (বরখাস্ত করা হবে)। দাসা নায়েক বর্তমানে এই 'অন্যায় বরখাস্তের' বিরুদ্ধে ক্রিকেট কানাডার নামে মামলা লড়ছেন।

ক্রিকেটে বর্তমানে ভারতের আধিপত্য কতটা সেটা সবারই জানা। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্তক সংস্থার (বিসিসিআই) প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ইশারাতেই ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চের অনেক সমীকরণ নির্ধারিত হয়। আয়ের সিংহভাগ এবং বিশাল দর্শকচাহিদার কারণে আইসিসি-ও ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বিসিসিআই যে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড, এ কথা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির মুখে উঠে এসেছে। কিন্তু কতটা ধনী, কী পরিমাণ অর্থ আছে - সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। বছর দুয়েক আগে ক্রিকবাজের একটি প্রতিবেদন জানিয়েছিল, ভারতীয় বোর্ডের কোষাগারে থাকা অর্থের পরিমাণ ২০ হাজার কোটি রুপির বেশি। নিশ্চিতভাবে সেই অঙ্ক এখন ফুলে ফেঁপে আরও বেড়েছে। এমনকি বিসিসিআইয়ের কাছে এখন যে পরিমাণ টাকা আছে সেটা নাকি স্বয়ং ঈশ্বরের কাছেও নেই!
‘দ্য ওভারল্যাপ ক্রিকেট এক্সক্লুসিভ’-এ ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনের মুখোমুখি হয়েছিলেন আইপিএল-এর প্রতিষ্ঠাতা ললিত মোদী। ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের এই আলোচনা যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি ছিল বিস্ফোরক তথ্যে ঠাসা। টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ, বিসিআইয়ের ক্ষমতা, আইপিএলের দাপটসহ নানন বিষয় নিয়ে কথা বলেন ললিত মোদী।
বিসিসিআইয়ের রিজার্ভে ঠিক কত টাকা আছে? মাইকেল ভনের এমন প্রশ্নে ললিত মোদি বলেন,
‘বিলিয়ন, বিলিয়ন, প্রায় ১০ বিলিয়ন।’
এর আগে বিসিসিআইয়ের প্রভাব স্বীকার করলেও ভারতের ক্রিকেটীয় অবকাঠামো নিয়ে নিজের হতাশা ঝাড়েন ললিত। সবচেয়ে ধনী বোর্ড হয়েও ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো আধুনিক স্টেডিয়াম বানাতে না পারার ব্যর্থতার কথা বলেন তিনি। আর এর পেছনে দূনীর্তিকে দায়ী করেন তিনি।
ললিত মোদি বলেন,
‘এটা তো হওয়ারই ছিল। ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া যেমন কয়েকশ বছর ক্রিকেট শাসন করেছে, আমাদের জনসংখ্যার কারণে এখন ভারতের হাতে ক্ষমতা আসাটা স্বাভাবিক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের কাছে এখন অঢেল টাকা থাকলেও আমরা লর্ডসের মতো বিশ্বমানের স্টেডিয়াম বানাতে পারছি না। চারিদিকে এত দুর্নীতি! আমাদের স্টেডিয়ামের টয়লেটগুলো দেখো, কোনো এস্কেলেটর নেই, সুযোগ-সুবিধা একদম বাজে। বিসিসিআই-এর উচিত এগুলো সব ভেঙে নতুন করে বানানো। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের মতো আধুনিক করা উচিত।’
বিশ্বের সবচেয়ে বড় নরেদ্রো মোদি স্টেডিয়ামেও আধুনিকায়নের ঘাটতি আছে বলছেন ললিত মোদি। ললিত মোদী ক্ষোভের সাথে জানান যে, ভারতের কাছে অঢেল টাকা থাকলেও স্টেডিয়ামের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। লর্ডস বা ওয়েম্বলির মতো বিশ্বমানের স্টেডিয়াম ভারতে থাকা উচিত ছিল। অথচ ভারতের স্টেডিয়ামগুলোতে না আছে ভালো টয়লেট, না আছে এস্কাললেটর বা ভালো ক্যাটারিং ব্যবস্থা তিনি মনে করেন, বর্তমানের সব স্টেডিয়াম ভেঙে ফেলে নতুন করে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা উচিত।
ভারতীয় স্টেডিয়ামগুলোকে ‘এক টুকরো আবর্জনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ললিত বলেন,
‘বাইরে থেকে দেখতে এগুলো বড় বা দর্শকে ঠাসা মনে হলেও আদতে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় কিছুই না। যেন স্টেডিয়ামগুলো আবর্জনার স্তুপ। এটা সত্যিই এমন। এমনকি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে পুরোতন স্টেডিয়ামও এর চেয়ে ভালো।’
যখন ললিত মোদিকে বিসিসিআই-এর ক্যাশ রিজার্ভ বা জমানো অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি সরাসরি বলেন যে বিসিসিআই-এর কাছে
‘ঈশ্বরের চেয়েও বেশি টাকা’ আছে। তিনি নির্দিষ্ট করে বলেন যে এই তহবিলের পরিমাণ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার (দশ বিলিয়ন বা তারও বেশি হতে পারে)।’

নতুন সিরিজের প্রথম ম্যাচে কয়েন ভাগ্য পাশে পেলেন না মেহেদী হাসান মিরাজ। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার বেলা ১১টায় শুরু হবে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে।
টসের ঠিক আগমুহূর্তে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের কাছে ছুটে আসেন বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স। ম্যাচের আগে অনুশীলনে হাঁটুতে চোট পাওয়া অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় তখন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় একাদশে।
উইকেট দেখে ভালো মনে হওয়ায় আগে ব্যাটিং নেওয়ার কথা বলেছেন ল্যাথাম। বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ বলেছেন, নতুন উইকেট হওয়ায় টস জিতলে তিনি ফিল্ডিংই নিতেন।
গত পাকিস্তান সিরিজের শেষ ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তন এই একটিই। মোস্তাফিজের শেষ মুহূর্তের চোটে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর আবার ওয়ানডে খেলার সুযোগ পেলেন শরিফুল।
অন্য দিকে গত জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে খেলা শেষ ওয়ানডের একাদশে মোট ৮টি পরিবর্তন নিউ জিল্যান্ড দলে। ওই ম্যাচ খেলা হেনরি নিকোলস, উইল ইয়াং ও জেডেন লেনক্স আছেন শুধু এই ম্যাচের একাদশে।
বাংলাদেশ একাদশ
সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, তাওহিদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা
নিউ জিল্যান্ড একাদশ
হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, উইল ইয়াং, টম ল্যাথাম, মোহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, জেডেন লেনক্স, উইল ও'রোক

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ভাবনা থেকে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের খেলা শুরু হবে বেলা ১১টায়। এতে কমে গেছে রাতে শিশিরের প্রভাব পড়ার শঙ্কা। তবে তপ্ত গরমে দিনের বেলা ঘাম নিয়ে চিন্তিত কিউই স্পিনার জেডেন লেনক্স।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাধারণত দিবারাত্রির ম্যাচে শেষ দিকে গিয়ে বোলিং দলের কাজ কঠিন করে দেয় শিশিরের উপদ্রব। তবে এবারের খেলা সন্ধ্যায় শেষ হয়ে যাবে বিধায় সেই সমস্যায় পড়বে না দুই দল।
শিশির না থাকলেও দুই দলকে মোকাবিলা করতে হবে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার সঙ্গে। আর একজন স্পিনার হিসেবে ঘর্মাক্ত হাতে বল গ্রিপ করার চ্যালেঞ্জটা ভালোভাবেই জানেন লেনক্স।
প্রথম ম্যাচের আগের দিন তাই নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘামের কথা আলাদা করে বললেন ৩১ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার।
“ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় না, এতে খুব বেশি কিছু বদলে যায়। কারণ শিশির থাকুক বা না থাকুক, ঘাম তো বড় একটি বিষয় হয়েই থাকে। একজন স্পিনার হিসেবে আপনাকে সবসময়ই ঘামে ভেজা হাত সামলাতে হয়।”
“তাই সেটাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেটাই আসল- হাতে মাটি ঘষা বা এমন কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করা। শিশির একটা বড় ফ্যাক্টর হতে পারত, কিন্তু ঘাম আর আর্দ্রতা তো যথাকবেই। তাই মূল ব্যাপার হলো এগুলোকে কীভাবে সামাল দেওয়া যায়।”
গত কিছুদিন ধরে মিরপুরের তাপমাত্রা ছুঁয়ে যাচ্ছে ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা কখনও কখনও গায়ে অনুভূত হয় ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। ম্যাচের দিনও এর ব্যতিক্রম হওয়ার পূর্বাভাস নেই।
তপ্ত দুপুরে খেলার চ্যালেঞ্জ ভালোভাবেই জানা লেনক্সের। তবে এটিকে সমস্যা মনে না করে দল হিসেবে মানিয়ে উপভোগ করার কথাই বললেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
“ম্যাচের শেষ দিকে গিয়ে এর (অতিরিক্ত গরম) প্রভাব কিছুটা পড়বে। তবে উপমহাদেশে এটিই স্বাভাবিক। এখানে আপনাকে বেশ কঠিন আবহাওয়ার মুখোমুখি হতেই হবে। সত্যি বলতে, এমন জায়গায় আসার আনন্দই হলো এমন কিছু অভিজ্ঞতা পাওয়া, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।”
“দল হিসেবে আমরা এটা উপভোগ করব। চারপাশে তাকালে দেখবেন সবাই ঘামে ভিজে যাচ্ছে, ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। কিন্তু সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও যদি টিকে থাকা যায়, সেটার মধ্যেও একটা আলাদা আনন্দ আছে।”
এবারের বাংলাদেশ সফরে নিউ জিল্যান্ড দলে নেই মূল দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে স্রেফ ৩ জন ক্রিকেটারের।
তবে গত বছর নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশে খেলে গেছেন লেনক্স। আর গত জানুয়ারিতে ভারতের মাঠে খেলেছেন ওয়ানডে সিরিজ।
উপমহাদেশে খেলার এই অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাতে চান ৩১ বছর বয়সী স্পিনার।
“গত বছর বাংলাদেশে ‘এ’ দলের সফরের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু নিতে চেষ্টা করব। তাই ভারতের মতো সম্পূর্ণ নতুন না হয়ে, এখানে কিছুটা পরিচিত পরিবেশ পাচ্ছি। উপমহাদেশে ফিরে আসাটা সবসময়ই রোমাঞ্চকর।”
“এই অঞ্চলে ক্রিকেট সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। মানুষের ভেতরে যে আবেগ আর ভালোবাসা, তা সামনে থেকে দেখা এবং সেই উন্মাদ দর্শকদের সামনে খেলা, সবসময়ই দারুণ অভিজ্ঞতা।”