ভারতের সাথে ম্যাচের প্রাথমিক স্কোয়াডে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মেলেনি খেলার সুযোগ৷ ফাহমিদুল ইসলাম যে প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছিলেন বাংলাদেশ দল থেকে, তা নিয়েও ছিল বেশ প্রশ্ন। সেটা পেছনে ফেলে আগামী জুনে সিঙ্গাপরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচের দলে ডাক পেলেন এই ফরোয়ার্ড।
এই ম্যাচ ও তার আগে প্রীতি ম্যাচের জন্য ফাহমিদুলকে দলে চেয়ে তার ক্লাব, ইতালির চতুর্থ বিভাগের দল ওলবিয়া কালসিওকে চিঠি দিয়েছিল বাফুফে। কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাদের পক্ষ থেকে ফাহমিদুলকে দেশের হয়ে খেলার জন্য ছুটি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আরও পড়ুন
| ‘ট্রেবল’ জিতে দলগত প্রচেষ্টাকেই কৃতিত্ব দিলেন ফ্লিক |
|
গত মার্চ মার্চে ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচেও প্রাথমিক স্কোয়াডে ডাক মিলেছিল ফাহমিদুলের। এরপর সৌদি আরবে সপ্তাহখানেক দলের সাথে ক্যাম্পও করেন। তবে সেখান থেকে দলের সবাই বাংলাদেশে ফিরলেও তিনি ফিরে যান ইতালি।
সেই সময়ে শেষ মূহুর্তে ফাহমিদুলকে বাদ দেয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। তিনি এর পেছনে ব্যাখায় বলেছিলেন, আপাতত শীর্ষ পর্যায়ে খেলার জন্য প্রস্তুত নন ফাহমিদুল।
তাকে দলে ফেরাতে ফুটবল সমর্থকরা আন্দোলনও করেন। এই ব্যাপারে এক পর্যায়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া আলোচনায় বসেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সাথে।
আরও পড়ুন
| আবারও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়াবিদ হলেন রোনালদো |
|
এবার অবশ্য ফাহমিদুলকে ঘিরে জল ঘোলা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আগামী ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ৪ জুন রয়েছে বাংলাদেশ দলের একটি প্রীতি ম্যাচ। এজন্য ক্যাম্প শুরু হবে আগামী ৩১ মে থেকে।
এই ক্যাম্পে ফাহমিদুলের সাথে হামজা চৌধুরি ও সামিত সোমকেও রাখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাফুফে।
No posts available.
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৩ এম
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৩:০৮ এম

চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন হুলিয়ান আলভারেজ। লিওনেল মেসি ও সার্জিও আগুয়েরোর মতো কিংবদন্তিদের পেছনে ফেলে দ্রুততম আর্জেন্টাইন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে ২৫ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আতলেতিকো মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকার।
বুধবার রাতে ঘরের মাঠে প্রথম লেগে আর্সেনালকে আতিথ্য দিয়েছিল আতলেতিকো। প্রথমার্ধে ভিক্টর ইয়োকেরেসের গোলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি পায় আতলেতিকো। সেখান থেকে দৃষ্টিনন্দন শটে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান আলভারেজ।
এই গোলের মাধ্যমে প্রথম আতলেতিকো খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে ১০ গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন আলভারেজ। এর আগে ক্লাবটির আর কোনো ফুটবলার একক মৌসুমে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি।
আরও পড়ুন
| পয়েন্ট ভাগাভাগিতে ফার্স্ট লেগের ইতি টানল আতলেতিকো-আর্সেনাল |
|
চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪১ ম্যাচে আলভারেজের গোলসংখ্যা এখন ২৫ টি। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে মেসি খেলেছিলেন ৪২ ম্যাচ। আগুয়েরোর লেগেছিল ৪৮ ম্যাচ।
বর্তমানে চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১৪১), এরপরই মেসি (১২৯), তিনে রয়েছে রবার্ট লেভানডফস্কি (১০৯)।
আলভারেজের সমতাসূচক গোলে প্রথম লেগে আতলেতিকো ও আর্সেনালের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয়। লন্ডনের ফিরতি লেগে এখন নির্ধারণ হবে ইউরোপসেরার লড়াইয়ে ফাইনালে উঠছে কোন দল।
মঙ্গলবার লন্ডনে আর্সেনালের ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায়। এই ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির। সেমিফাইনালের অন্য ম্যাচে প্রথম লেগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে পিএসজি।

চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে আর্সেনাল। ম্যাচে বিতর্কিত একটি পেনাল্টি সিদ্ধান্তের কারণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা।
বুধবার রাতে মেত্রোপলিতানোতে দুই অর্ধে পেনাল্টি থেকে দুটি গোল হয়েছে। আর্সেনালের হয়ে প্রথমার্ধে গোল করেন ভিক্টর ইয়োকেরেস, দ্বিতীয়ার্ধে হুলিয়ান আলভারেজের দৃষ্টিনন্দন পেনাল্টিতে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।
বিতর্কের সূত্রপাত ম্যাচের ৭৫ মিনিটে। বদলি হিসেবে নামা এবারিচি এজেকে বক্সের ভেতর ফেলে দেন আতলেতিকো ডিফেন্ডার ডেভিড হাঙ্কো। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে ভিএআর চেকে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।
ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আরতেতা বলেন, ‘আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ কারণ এজের ওপর হওয়া ফাউলটির পেনাল্টি যেভাবে বাতিল করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভিএআর তখনই হস্তক্ষেপ করতে পারে যখন রেফারির সিদ্ধান্তে সুস্পষ্ট ভুল থাকে, কিন্তু এখানে তেমন কিছুই ছিল না। এই একটা সিদ্ধান্ত পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে এই ধরণের ভুল কাম্য নয়।‘
আর্সেনাল কোচ আরও বলেন, ‘এটি সরাসরি নিয়মের লঙ্ঘন। সেখানে পরিষ্কার কন্টাক্ট (ধাক্কা) ছিল। রেফারি একবার নিজের চোখে দেখে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর সেটা ভিডিওতে ১৩ বার দেখেও কীভাবে বাতিল করেন, তা আমার বোধগম্য নয়। টানা ৯ মাস হাড়ভাঙা খাটুনি করে আমরা এই অবস্থানে এসেছি। অথচ একটি ভুল সিদ্ধান্ত আমাদের প্রাপ্য একটি গোল কেড়ে নিল, যা পুরো সেমিফাইনালের ফলাফল উল্টে দিতে পারে। এটা সত্যিই মেনে নেওয়া কষ্টকর।‘
আরও পড়ুন
| রোনালদোর রেকর্ডের রাতে শিরোপার আরও কাছে নাসর |
|
আর্সেনালের পাওয়া পেনাল্টিতে হাঙ্কোর চ্যালেঞ্জের মুখে বক্সে পড়ে গিয়েছিলেন ইয়োকেরেস। অন্যদিকে মার্কোস ইয়োরেন্তের শট আর্সেনাল ডিফেন্ডার বেন হোয়াইটের পা ছুঁয়ে হাতে লাগলে পেনাল্টি দেন রেফারি।
আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনের মতে, পেনাল্টি দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। ‘প্রথম পেনাল্টি সম্পর্কে আমার মত হলো—আর্সেনালের খেলোয়াড় পেছন থেকে হালকা ধাক্কা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল এবং সুযোগ বুঝে পড়ে গেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে পেনাল্টি হতে হলে তা আরও জোরালো হওয়া প্রয়োজন।‘
হ্যান্ডবল এবং ভিএআর প্রসঙ্গে সিমিওনে বলেন, ‘হ্যান্ডবলটি ভিএআর-এর কারণে দেওয়া হয়েছে, আবার দ্বিতীয় পেনাল্টিটি দেওয়া হয়নি ভিএআর-এর কারণেই। মাঝেমধ্যে ভিএআর আপনাকে সুবিধা দেয়, আবার কখনো কেড়ে নেয়।‘
আগামী মঙ্গলবার লন্ডনে ফিরতি লেগে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের মিশনে নামবে দু’দল। আর্সেনালের ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায়।

সৌদি প্রো লিগে শিরোপা জয়ের আরও কাছে আল নাসর। বুধবার রাতে আল আহলিকে হারানোর ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছেন অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
ঘরের মাঠে আল নাসরের জয় ২-০ গোলের। এই জয়ের মাধ্যমে ক্লাব ইতিহাসে টানা ২০ ম্যাচ জয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে রিয়াদভিত্তিক ক্লাবটি।
ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত আল আহলির রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে স্বাগতিকদের। অবশেষে জোয়াও ফেলিক্সের নিখুঁত কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে ডেডলক ভাঙেন রোনালদো। চলতি লিগ মৌসুমে এটি পর্তুগিজ তারকার ২৫তম গোল।
আরও পড়ুন
| সালাহকে নিয়ে সম্ভাবনার খবর লিভারপুলের |
|
এই গোলের মাধ্যমে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো টানা তিন লিগ মৌসুমে ২৫ বা তার বেশি গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন রোনালদো। এর আগে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত টানা ৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন রোনালদো।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা এখন ৯৭০, যার মধ্যে আল নাসরের হয়ে করেছেন ১২৬টি। চলতি সৌদি প্রো লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে ইভান টোনির চেয়ে ২ গোল পিছিয়ে রোনালদো।
ম্যাচের ৯০ মিনিটে কিংসলে কোমান আল আহলির কফিনে শেষ পেরেকটি মারেন। আল আহলি ডিফেন্ডাররা কর্নার ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে জোরালো শটে গোল করে ২-০ ব্যবধানে দলের জয় নিশ্চিত হয় নাসরের।
এই জয়ের পর ৩০ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল আল নাসর। এক ম্যাচ কম খেলে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আল হিলাল। ২৯ ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে আছে আল আহলি।
.jpeg)
আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ, একক নৈপুণ্য; সবই ছিল ম্যাচে। তবে গোলপোস্ট ছিল যেন এক তালাবদ্ধ কপাট। দুই পেনাল্টি থেকে গোল ছাড়া একাধিক চেষ্টাতেও খোলেনি। তাতেই ১-১ গোলের ড্রতে শেষ হলো চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনালের ফার্স্ট লেগ। আগামী মঙ্গলবার লন্ডনে ফিরতি লেগে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের মিশনে নামবে দু’দল।
বুধবার এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোতে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া হাইভোল্টেজ ম্যাচে দুই অর্ধে দুটি গোল হয়েছে। আর্সেনানালের হয়ে প্রথমার্ধে গোল করেন ভিক্টর ইয়োকেরেস, দ্বিতীয়ার্ধে হুলিয়ান আলভারেজের দৃষ্টিনন্দন পেনাল্টিতে সমতায় ফেরে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
ম্যাচ ঘড়ির সাড়ে পাঁচ মিনেট পর প্রথমবার গোছানো আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের বাইরে ওয়ান টু পাসে মেতে ওঠে গানাররা। এরপর ডান প্রান্ত থেকে মাদুয়েকের হাওয়ায় ভাসানো শট থেকে উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যর্থ হন জুবিমেন্দি ও ওডেগার্ড। লাফিয়ে ওঠে দুজনেই চেষ্টা করেছিলেন জালে লক্ষ্যভেদ করতে। অবশ্য তা হেলায় নষ্ট হয়।
১৩তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের বুলেট গতির শট রুখে দেন ডেভিড রায়া। ডি বক্সের সামান্য দূর থেকে নেওয়া আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে বিপদমুক্ত করেন আর্সেনাল গোলকিপার। অথচ গ্যাব্রিয়েল ও রাইস কড়া পাহারায় রেখেছিলেন আলভারেজকে। তবে তার ক্ষিপ্রতার কাছে হার মানেন তারা।
পরের মিনিটে প্রতি আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে আক্রমণে ছুটে আসা ওডেগার্ডের দিকে দারুণ এক বল বাড়ান ভিক্টর ইয়োকেরেস। কিন্তু আর্সেনাল অধিনায়ক বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে দু-তিনটি বাড়তি টাচ নিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগে দ্রুত পজিশন নিয়ে ওডেগার্ডের শট ব্লক করে দেন আতলেতিকো ডিফেন্ডাররা। ওডেগার্ড যদি বলটি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রথম প্রচেষ্টায় শট নিতেন, হয়তো গোলটি পেয়ে যেতে পারত গানাররা।
৩০তম মিনিটে একটু জন্য লিড নেওয়া হলো না আর্সেনালের! মাঝমাঠে লুকম্যানের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন রাইস। এরপর ওডেগার্ডের বুদ্ধিদীপ্ত এক টাচে বল পেয়ে যান মাদুয়েকে। ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত গতিতে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন এই উইঙ্গার। বক্সের প্রান্ত থেকে তার নেওয়া বাঁকানো শটটি ওবলাককে পরাস্ত করলেও দূরের পোস্ট ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে যায়। একটুর জন্য লিড নেওয়া হলো না গানারদের।
৪৪তম মিনিটে ইয়োকেরেস গোলে লিড আদায় করে আর্সেনাল। আলভারেজের একটি দুর্বল হেডার সরাসরি চলে যায় জুবিমেন্দিকে কাছে। ওডেগার্ডের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে তিনি বল বাড়িয়েছিলেন ইয়োকেরেসের দিকে। কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর তাকে ফাউল করে বসেন হাঙ্কো। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, হাঙ্কোর চ্যালেঞ্জটি যে ফাউল ছিল তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ খুব কমই আছে। এই গোলের সুবাধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় আর্সেনাল।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল নেশায় হন্যি হয়ে ছুটতে থাকে আতলেতিকো। ৫৭তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কর্ণার থেকে উড়ে আসা বলে লরেন্তের নেওয়া ভলি বেন হোয়াইটের হাতে লাগলে জোরালো দাবি তোলে স্বাগতিকরা। মুহূর্তেই মেত্রোপলিতানোর গ্যালারি উত্তাল হয়ে ওঠে। পেনাল্টির জোরালো আপিল নাকচ করলেও মাঠের রেফারি বর্তমানে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিআর) সঙ্গে কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত রায় আতলেতিকোর পক্ষেই যায়।
আতলেতিকোর হয়ে পেনাল্টি শট নেন আরভারেজ। ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত প্লেসিংয়ে রায়ার ডান দিক দিয়ে বল জালে জড়ান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার দশম গোল। তবে গোলের সংখ্যার চেয়েও বড় কথা—ম্যাচে সমতায় ফিরল ‘লস রোহিব্লাঙ্কোস’রা।
৬৩তম মিনিটে লিড নিতে পারতো আতলেতিকো। ভাগ্যের নিদারুণ পরিহাসে গোলবঞ্চিত হন গ্রিজমান। লুকম্যানের স্কয়ার পাস থেকে বল পেয়েই চতুরতার সাথে চিপ করেছিলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক রায়া পরাস্ত হলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে গ্রিজমানের ভলি রক্ষণভাগে বাধা পেয়ে কর্নারের বিনিময়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।
৭৫তম মিনিটে আবারও পেনাল্টি পায় আর্সেনাল। প্রথমার্ধে পেনাল্টি হজম করা সেই হাঙ্কোই আবারও খলনায়ক হিসেবে ধরা দেয়।বুকোয়া সাকার ক্রস রিসিভের আগেই এজেকে ফেলে দেন হাঙ্কো। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে সরাসরি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে ভিএআর চেকে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। তাতেই বড় বাঁচা বেঁচে যায় আতলেতিকো। শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় ফার্স্ট লেগ।
ম্যাচে ৫২ শতাংশ বল আতলেতিকো দখলে ছিল। যদিও প্রথমার্ধে তারা পিছিয়ে ছিল। ১৮টি শট নিয়ে ৪টি লক্ষ্যে তারা সিমিওনের শিষ্যরা। ১১টি শট নিয়ে ২টি লক্ষ্যে রাখে গানাররা।
.jpeg)
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ আর রক্ষণ সামলানোর লড়াইয়ে ম্যাচটি গোলশূন্য প্রথমার্ধের দিকেই এগোচ্ছিল। তবে ৪৪তম মিনিটে আচমকা এক পেনাল্টি আশীর্বাদ হয়ে আসে আর্সেনালের জন্য। ডি-বক্সে বল নিয়ন্ত্রণের আগে ফাউলের শিকার হন ভিক্টর ইয়োকেরেস। সুইডিশ ফরোয়ার্ডের পেনাল্টিতে থেকে আদায় করা গোলেই আতলেতিকোর বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে মিকেল আরতেতার দল।
বুধবার এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোতে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগের প্রথমার্ধে মোটে একটি করে গোলমুখে শট নিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও আর্সেনাল। তবে বল পজিশনে এগিয়ে ছিল অতিথিরা। ৫২ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে তারা।
ম্যাচঘড়ির সাড়ে পাঁচ মিনেট পর প্রথমবার গোছানো আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। প্রতিপক্ষের ডি বক্সের বাইরে ওয়ান টু পাসে মেতে ওঠে গানাররা। এরপর ডান প্রান্ত থেকে মাদুয়েকের হাওয়ায় ভাসানো শট থেকে উদ্দেশ্য হাসিলে ব্যর্থ হন জুবিমেন্দি ও ওডেগার্ড। লাফিয়ে ওঠে দুজনেই চেষ্টা করেছিলেন জালে লক্ষ্যবেদ করতে। তা হেলায় নষ্ট হয়।
১৩তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের বুলেট গতির শট রুখে দেন ডেভিড রায়া। ডি বক্সের সামান্য দূর থেকে নেওয়া আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে বিপদমুক্ত করেন আর্সেনাল গোলকিপার। অথচ গ্যাব্রিয়েল ও রাইস কড়া পাহারায় রেখেছিলেন আলভারেজকে। তবে তার ক্ষিপ্রতার কাছে হার মানলেন তারা।
পরের মিনিটে প্রতিআক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। ডি-বক্সে ঢুকে পড়ে আক্রমণে ছুটে আসা ওডেগার্ডের দিকে দারুণ এক বল বাড়ান ভিক্টর ইয়োকেরেস। কিন্তু আর্সেনাল অধিনায়ক বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে দু-তিনটি বাড়তি টাচ নিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগে দ্রুত পজিশন নিয়ে ওডেগার্ডের শট ব্লক করে দেন আতলেতিকো ডিফেন্ডাররা। ওডেগার্ড যদি বলটি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রথম প্রচেষ্টায় শট নিতেন, তবে হয়তো গোলটি পেয়ে যেতে পারত গানাররা।
৩০তম মিনিটে একটু জন্য লিড নেওয়া হলো না আর্সেনালের! মাঝমাঠে লুকম্যানের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেন রাইস। এরপর ওডেগার্ডের বুদ্ধিদীপ্ত এক টাচে বল পেয়ে যান মাদুয়েকে। ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত গতিতে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন এই উইঙ্গার। বক্সের প্রান্ত থেকে তার নেওয়া বাঁকানো শটটি ওবলাককে পরাস্ত করলেও দূরের পোস্ট ঘেঁষে মাঠের বাইরে চলে যায়। একটুর জন্য লিড নেওয়া হলো না গানারদের।
৪৪তম মিনিটে ইয়োকেরেস গোলে লিড আদায় করে আর্সেনাল। আলভারেজের একটি দুর্বল হেডার সরাসরি চলে যায় জুবিমেন্দিকে কাছে। ওডেগার্ডের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে তিনি বল বাড়িয়েছিলেন ইয়োকেরেসের দিকে। কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর তাকে ফাউল করে বসেন হাঙ্কো। রেফারি এক মুহূর্ত দেরি না করে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, হাঙ্কোর চ্যালেঞ্জটি যে ফাউল ছিল তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ খুব কমই আছে। এই গোলের সুবাধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে গেছে আর্সেনাল।