
গেল মৌসুমটা কেটেছে শিরোপাহীন। সেই খরা কাটাতে বার্সেলোনার নিয়োগ দিয়েছিল হান্সি ফ্লিককে, যিনি এই মৌসুমে করেছেন বাজিমাত। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে না পারলেও লা লিগা জয়ের মধ্য দিয়ে ঘরোয়া ট্রেবল জিতেছে ইয়ামাল-রাফিনিয়ারা। কয়েকজন খেলোয়াড় ব্যক্তিগতভাবে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্ম দেখালেও দুর্দান্ত এই সাফল্যের পেছনে দলগত অবদানকেই বড় করে দেখছেন ফ্লিক।
বৃহস্পতিবার রাতে এস্পানিয়লকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে দুই ম্যাচ হাতেই রেখেই লা লিগা শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলেছে বার্সেলোনা। স্পেনের শীর্ষ লিগে এটি তাদের ২৮তম শিরোপা। লিগ সহ ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ডিসেম্বরের শেষের দিক থেকে অপরাজিত থাকা ফ্লিকের দল এর আগে দুই ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে জিতেছে স্প্যানিশ সুপার কাপ ও কোপা দেল রে। এই পথচলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দুই উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল, রাফিনিয়া, মিডফিল্ডার পেদ্রি এবং অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানদভস্কিরা।
আরও পড়ুন
| ৬ গোলের মহারণে বার্সা-ইন্তার উপহার দিলো মৌসুম সেরা ম্যাচ |
|
লিগ জেতার পর অবশ্য পুরো দলকেই কৃতিত্ব ভাগাভাগি করে দিলেন ফ্লিক।
“আমি মনে করি বিশেষ করে মৌসুমের দ্বিতীয় অংশে আমরা সবাইকে অবাক করে দিয়েছি। আমরা একটা ম্যাচেও হারিনি, যা স্রেফ দুর্দান্ত। এজন্য দলের সবাই, ক্লাব আর ভক্তদে অভিনন্দন জানাই আমি। আমরা যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমরা খুব খুশি। আমার মনে হয় না কিছু বিষয় বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আমি যথেষ্ট সময় পেয়েছি। তবে আমরা একটা সংস্কৃতি তৈরি করার চেষ্টা করেছি, যেখানে একটা পারিবারিক আবহ থাকবে। আমাদের তৈরি করা এই পরিবারটিকে দেখে আমার সত্যিই খুব ভাল লাগছ। এটা অনন্য, আমি খুব খুশি।”
ফ্লিক যতই দলের কথা বলুন না কেন, এই মৌসুমে বিশ্ব ফুটবলে বিশেষ প্রভাব ফেলেছেন ইয়ামাল। স্পেনের তরুণ এই প্রতিভা মাত্র ১৭ বছর বয়সেই হয়ে গেছেন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। যেভাবে মাঠে দাপিয়ে বেড়ান, তাতে প্রায়ই তাকে থামাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। এস্পানিওলের বিপক্ষেও একটি অসাধারণ গোল করেছেন কঠিন এঙ্গেল থেকে।
কোচের বাড়তি প্রশংসা তা পেয়েছেন ইয়ামাল।
“এটা বার্সেলোনার লা লিগা জয়ের ব্যাপার। এটা একজন খেলোয়াড়ের ব্যাপার না, অবশ্যই লামিন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে আমরা একটি দল, আর এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে হ্যাঁ, লামিন এরই মধ্যে অনেক গোল করেছে। সে প্রতিদিনই উন্নতি করে। তবে এই ম্যাচে সে একটা নিখুঁত গোল করেছে।”
No posts available.
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১:২১ পিএম
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৩ এম

পেশাদার ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য প্রতিটি ম্যাচে অন্তত একজন করে ক্লাবের নিজস্ব (একাডেমির) তরুণ খেলোয়াড় মাঠে রাখা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে ফিফা। গত মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত এক সভায় ফিফা কাউন্সিল একমত হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর আগামী এক বছরের মধ্যে এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
কেন এই উদ্যোগ?
মূলত যেসব ক্লাব কেবল চড়া দামে কেনা বা বিদেশি প্রতিভার ওপর নির্ভর করে চলে, তাদের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা তরুণদের খেলার সুযোগ বাড়িয়ে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। ফিফা জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য হলো এমন একটি নিয়ম কার্যকর করা যাতে প্রতিটি সিনিয়র ক্লাব দলের জন্য অনূর্ধ্ব-২০ বা অনূর্ধ্ব-২১ ক্যাটাগরির অন্তত একজন ‘হোমগ্রোন’ খেলোয়াড়কে পুরো সময় মাঠে রাখা বাধ্যতামূলক হয়।
বর্তমান নিয়মের সঙ্গে পার্থক্য
এই নতুন নিয়মটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ বর্তমানের অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার নিয়মের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ জনের স্কোয়াডে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিজস্ব একাডেমির খেলোয়াড় রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, তাদের মূল একাদশে রাখা বা খেলানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
উদাহরণস্বরূপ, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একটি ক্লাবের সর্বোচ্চ ২৫ জনের স্কোয়াডে অন্তত ৮ জন 'স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত' খেলোয়াড় থাকতে হয়। উয়েফার সংজ্ঞা অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে কোনো খেলোয়াড় যদি নিজ ক্লাবে বা ওই দেশেরই অন্য কোনো ক্লাবে অন্তত তিনটি পূর্ণ মৌসুম কাটায়, তবেই তাকে ‘স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষিত’ খেলোয়াড় হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু ফিফার প্রস্তাবিত এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, তাদের শুধু স্কোয়াডে রাখলেই চলবে না, পুরো ৯০ মিনিট একজনকে মাঠের খেলায় রাখতেই হবে।
ক্লাব এবং দলবদল বাজারের ওপর প্রভাব
এই নিয়ম চালু হলে খেলোয়াড় কেনাবেচার কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। ক্লাবগুলো তখন নিজেদের একাডেমিতে তরুণ প্রতিভা তৈরি এবং তাদের ধরে রাখার ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেবে। লিভারপুল কিংবা রিয়াল মাদ্রিদের মতো যেসব ক্লাব বিদেশি তারকাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। অন্যদিকে বার্সেলোনা বা বেনফিকার মতো দলগুলো, যারা নিয়মিত অনূর্ধ্ব-২১ হোমগ্রোন খেলোয়াড় মাঠে নামায়, তারা খুব সহজেই এই নিয়মের সঙে মানিয়ে নিতে পারবে। এর ফলে দলবদল বাজারেও পরিবর্তন আসবে; যেহেতু এই নিয়ম মানতে ‘ঘরের ছেলেদের’ গুরুত্ব বাড়বে, তাই বাজারে তাদের দাম বা মূল্যও অনেক বেড়ে যাবে।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অনেকে এই উদ্যোগকে তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখলেও, কেউ কেউ এর বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিকল্প হিসেবে অনেকে যেকোনো বয়সের হোমগ্রোন খেলোয়াড় রাখার নমনীয় প্রস্তাব দিয়েছেন। ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কাউন্সিলের সভায় বিভিন্ন কনফেডারেশনের সভাপতিরা শুরুতে এই ধারণাকে সমর্থন দিলেও, সামনে এটি নিয়ে আরও ব্যাপক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। এই আলোচনার একটি প্রধান অংশ হবে 'হোমগ্রোন' শব্দটির একটি সর্বজনীন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা, কারণ বর্তমানে একেক লিগে এর সংজ্ঞা একেক রকম।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফিফা কংগ্রেস। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ২১১টি ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা। তবে কানাডায় বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া হচ্ছে না ইরানের। ইরানি ফুটবল কর্মকর্তাদের সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, তাঁর জানামতে ফিফা কংগ্রেস উপলক্ষে কানাডায় আসতে চাওয়া ইরানি ফুটবল কর্মকর্তাদের সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনিতা আনন্দ মূলত ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম-এর একটি প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রী আনন্দ দাবি করেছেন, ইরানকে এই প্রবেশাধিকার না দেওয়ার বিষয়টি ছিল 'অনিচ্ছাকৃত'।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ এবং আরও দুইজন ইরানি কর্মকর্তাকে টরন্টোর পিয়ারসন বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ‘অনুপযুক্ত আচরণের’ কারণে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন
| রোনালদোর রেকর্ডের রাতে শিরোপার আরও কাছে নাসর |
|
পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, তবে আমার জানামতে তাদের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। এটি অনিচ্ছাকৃত ছিল, তবে আমি বিষয়টি অভিবাসন মন্ত্রীর (লিনা ডায়াব) ব্যাখ্যার ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।’
অনলাইন সংবাদমাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল' প্রথম এই খবরটি সামনে আনে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহেদি তাজকে সোমবার ভিসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কানাডায় 'সন্ত্রাসী গোষ্ঠী' হিসেবে তালিকাভুক্ত 'আইআরজিসির’ সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে কানাডা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে ইরানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ফিফার কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আসন্ন বিশ্বকাপের আগে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে এশীয় ফুটবলারদের সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিক সভায়ও (এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন কংগ্রেস) মঙ্গলবার ইরানের প্রতিনিধিদের দেখা যায়নি। ওই সভায় বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ কিংবা দুই দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে কি না—এসব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
ফিফা কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই শঙ্কা ছিল, ভিসা জটিলতার কারণে ইরানি প্রতিনিধি দলের ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে যোগ দেওয়া এবং এমনকি ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ 'জি'-তে ইরানের অভিযান শুরু করার কথা রয়েছে। এরপর তাদের পরবর্তী দুটি ম্যাচ মিশর এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে।

চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন হুলিয়ান আলভারেজ। লিওনেল মেসি ও সার্জিও আগুয়েরোর মতো কিংবদন্তিদের পেছনে ফেলে দ্রুততম আর্জেন্টাইন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে ২৫ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আতলেতিকো মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকার।
বুধবার রাতে ঘরের মাঠে প্রথম লেগে আর্সেনালকে আতিথ্য দিয়েছিল আতলেতিকো। প্রথমার্ধে ভিক্টর ইয়োকেরেসের গোলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি পায় আতলেতিকো। সেখান থেকে দৃষ্টিনন্দন শটে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান আলভারেজ।
এই গোলের মাধ্যমে প্রথম আতলেতিকো খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে ১০ গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন আলভারেজ। এর আগে ক্লাবটির আর কোনো ফুটবলার একক মৌসুমে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি।
আরও পড়ুন
| পয়েন্ট ভাগাভাগিতে ফার্স্ট লেগের ইতি টানল আতলেতিকো-আর্সেনাল |
|
চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪১ ম্যাচে আলভারেজের গোলসংখ্যা এখন ২৫ টি। এই মাইলফলকে পৌঁছাতে মেসি খেলেছিলেন ৪২ ম্যাচ। আগুয়েরোর লেগেছিল ৪৮ ম্যাচ।
বর্তমানে চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১৪১), এরপরই মেসি (১২৯), তিনে রয়েছে রবার্ট লেভানডফস্কি (১০৯)।
আলভারেজের সমতাসূচক গোলে প্রথম লেগে আতলেতিকো ও আর্সেনালের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয়। লন্ডনের ফিরতি লেগে এখন নির্ধারণ হবে ইউরোপসেরার লড়াইয়ে ফাইনালে উঠছে কোন দল।
মঙ্গলবার লন্ডনে আর্সেনালের ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায়। এই ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির। সেমিফাইনালের অন্য ম্যাচে প্রথম লেগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে পিএসজি।

চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে আর্সেনাল। ম্যাচে বিতর্কিত একটি পেনাল্টি সিদ্ধান্তের কারণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা।
বুধবার রাতে মেত্রোপলিতানোতে দুই অর্ধে পেনাল্টি থেকে দুটি গোল হয়েছে। আর্সেনালের হয়ে প্রথমার্ধে গোল করেন ভিক্টর ইয়োকেরেস, দ্বিতীয়ার্ধে হুলিয়ান আলভারেজের দৃষ্টিনন্দন পেনাল্টিতে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।
বিতর্কের সূত্রপাত ম্যাচের ৭৫ মিনিটে। বদলি হিসেবে নামা এবারিচি এজেকে বক্সের ভেতর ফেলে দেন আতলেতিকো ডিফেন্ডার ডেভিড হাঙ্কো। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। তবে ভিএআর চেকে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।
ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আরতেতা বলেন, ‘আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ কারণ এজের ওপর হওয়া ফাউলটির পেনাল্টি যেভাবে বাতিল করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভিএআর তখনই হস্তক্ষেপ করতে পারে যখন রেফারির সিদ্ধান্তে সুস্পষ্ট ভুল থাকে, কিন্তু এখানে তেমন কিছুই ছিল না। এই একটা সিদ্ধান্ত পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে এই ধরণের ভুল কাম্য নয়।‘
আর্সেনাল কোচ আরও বলেন, ‘এটি সরাসরি নিয়মের লঙ্ঘন। সেখানে পরিষ্কার কন্টাক্ট (ধাক্কা) ছিল। রেফারি একবার নিজের চোখে দেখে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর সেটা ভিডিওতে ১৩ বার দেখেও কীভাবে বাতিল করেন, তা আমার বোধগম্য নয়। টানা ৯ মাস হাড়ভাঙা খাটুনি করে আমরা এই অবস্থানে এসেছি। অথচ একটি ভুল সিদ্ধান্ত আমাদের প্রাপ্য একটি গোল কেড়ে নিল, যা পুরো সেমিফাইনালের ফলাফল উল্টে দিতে পারে। এটা সত্যিই মেনে নেওয়া কষ্টকর।‘
আরও পড়ুন
| রোনালদোর রেকর্ডের রাতে শিরোপার আরও কাছে নাসর |
|
আর্সেনালের পাওয়া পেনাল্টিতে হাঙ্কোর চ্যালেঞ্জের মুখে বক্সে পড়ে গিয়েছিলেন ইয়োকেরেস। অন্যদিকে মার্কোস ইয়োরেন্তের শট আর্সেনাল ডিফেন্ডার বেন হোয়াইটের পা ছুঁয়ে হাতে লাগলে পেনাল্টি দেন রেফারি।
আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনের মতে, পেনাল্টি দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। ‘প্রথম পেনাল্টি সম্পর্কে আমার মত হলো—আর্সেনালের খেলোয়াড় পেছন থেকে হালকা ধাক্কা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল এবং সুযোগ বুঝে পড়ে গেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে পেনাল্টি হতে হলে তা আরও জোরালো হওয়া প্রয়োজন।‘
হ্যান্ডবল এবং ভিএআর প্রসঙ্গে সিমিওনে বলেন, ‘হ্যান্ডবলটি ভিএআর-এর কারণে দেওয়া হয়েছে, আবার দ্বিতীয় পেনাল্টিটি দেওয়া হয়নি ভিএআর-এর কারণেই। মাঝেমধ্যে ভিএআর আপনাকে সুবিধা দেয়, আবার কখনো কেড়ে নেয়।‘
আগামী মঙ্গলবার লন্ডনে ফিরতি লেগে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিতের মিশনে নামবে দু’দল। আর্সেনালের ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায়।

সৌদি প্রো লিগে শিরোপা জয়ের আরও কাছে আল নাসর। বুধবার রাতে আল আহলিকে হারানোর ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছেন অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
ঘরের মাঠে আল নাসরের জয় ২-০ গোলের। এই জয়ের মাধ্যমে ক্লাব ইতিহাসে টানা ২০ ম্যাচ জয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে রিয়াদভিত্তিক ক্লাবটি।
ম্যাচের ৭৫ মিনিট পর্যন্ত আল আহলির রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে স্বাগতিকদের। অবশেষে জোয়াও ফেলিক্সের নিখুঁত কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে ডেডলক ভাঙেন রোনালদো। চলতি লিগ মৌসুমে এটি পর্তুগিজ তারকার ২৫তম গোল।
আরও পড়ুন
| সালাহকে নিয়ে সম্ভাবনার খবর লিভারপুলের |
|
এই গোলের মাধ্যমে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো টানা তিন লিগ মৌসুমে ২৫ বা তার বেশি গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন রোনালদো। এর আগে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত টানা ৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন রোনালদো।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা এখন ৯৭০, যার মধ্যে আল নাসরের হয়ে করেছেন ১২৬টি। চলতি সৌদি প্রো লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে ইভান টোনির চেয়ে ২ গোল পিছিয়ে রোনালদো।
ম্যাচের ৯০ মিনিটে কিংসলে কোমান আল আহলির কফিনে শেষ পেরেকটি মারেন। আল আহলি ডিফেন্ডাররা কর্নার ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে জোরালো শটে গোল করে ২-০ ব্যবধানে দলের জয় নিশ্চিত হয় নাসরের।
এই জয়ের পর ৩০ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল আল নাসর। এক ম্যাচ কম খেলে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আল হিলাল। ২৯ ম্যাচে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে আছে আল আহলি।