১২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:২২ পিএম

ব্যাট হাতে যেন প্রায় প্রথম ম্যাচের পুনরাবৃত্তিই হল বাংলাদেশের। টপ অর্ডারে দুজন করলেন ফিফটি, এরপর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে তৈরি হল চাপ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জিং স্কোর এনে দেওয়ার কাজটা দারুণ মুন্সিয়ানায় সারলেন মাহমুদউল্লাহ ও জাকের আলি অনিক। দুজনেই পেলেন ফিফটির দেখা, যার মধ্যে মাহমুদউল্লাহ সিরিজে করলেন হ্যাটট্রিক অর্ধশতক।
সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ৫ উইকেটে ৩২১ রানে। মাহমুদউল্লাহ ও জাকের ছাড়াও ফিফটি করেছেন সৌম্য-মিরাজ।
প্রথম দুই ম্যাচে এক ফিফটি সহ দারুণ ব্যাটিংই করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। এই ম্যাচে হাসেনি তার ব্যাট। আলজারি জোসেফকে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ ফিয়ে ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই। দুই বলে ডাক মেরে এরপরই সাজঘরের পথ ধরেন এই সিরিজে তিনবার এক ডিজিটেই আউট হওয়া লিটন দাস। ৯ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন
| মাহমুদউল্লাহ-তানজিমের লড়াকু ব্যাটিং, বাংলাদেশ থামল ২২৭ রানে |
|
অবশ্য বিপদ আরও বাড়তে পারত প্রথম ওভারেই। আলজারির বলেই শুন্য রানে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন সৌম্য। তবে সহজ ক্যাচ জমাতে ব্যর্থ হন ব্র্যান্ডন কিং। জীবন পেয়ে তা দুহাতে কাজে লাগান অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। প্রথম ম্যাচে ৭৪ রান করা মিরাজ সেদিন খেলেছিলেন ধীরলয়ে। তবে এবার শুরু থেকেই কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে ইতিবাচক ব্যাটিং করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
মিরাজ তার প্রথম ২০ রান করেন স্রেফ চার মেরেই। অন্যপ্রান্তে সৌম্য শুরুটা ধীরগতিতে করার পর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন রোমারিও শেফার্ডকে চার মেরে। কয়েক ওভার বাদে একই বোলারকে র্যাম্প শটে কিপারের মাথার ওপর দিয়ে সীমানা ছাড়া করেন। রোমারিও তার পরের ওভারে ছক্কা হজম করেন মিরাজের কাছেও।
গুদাকেশ মোটিকে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে ছক্কা মারা সৌম্য পরের বলেও চেষ্টা করেছিলেন একই শট খেলার। তবে ব্যাটে-বলে হয়নি। আরও একবার তার ক্যাচ ফেলে দেন ক্যারিবিয়ান ফিল্ডাররা। ২০তম ওভারে দলীয় শতক পূর্ণ হয় বাংলাদেশের।
চার মেরে ফিফটি তুলে নেন মিরাজ। একই ওভারে পঞ্চাশে পা রাখেন সৌম্যও। দুজন মিলে এরপর চড়াও হন জেদিয়াহ ব্লেডসের ওপর। এক ওভারেই আসে ১৬ রান। ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সৌম্যকে শেষ পর্যন্ত থামান মোটি। আগের বলে ছক্কা হজমের পর লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন। ৬টি চার ও ৪ বাউন্ডারিতে ৭৩ বলে ৭৩ করেন সৌম্য।
আরও পড়ুন
| তানজিদ-মিরাজ-মাহমুদউল্লাহর ফিফটিতে বাংলাদেশের ২৯৪ |
|
এই জুটির ১৩৬ রানের ইতি ঘটার পর কিছুটা পথ হারায় বাংলাদেশ। চমৎকার গতিতে এগিয়ে যাওয়া মিরাজ দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউটের শিকার হন শেরফান রাদারফোর্ডের সরাসরি থ্রোয়ে। ৭৩ বলের ইনিংস সাজান ৮ চার ও ২ ছক্কায়। ১৫ রান করে তাকে অনুসরণ করেন আফিফ হোসেনও। ১৭১ রানে পতন হয় পঞ্চম উইকেটের।
তবে আরও একবার হাল ধরেন অভিজ্ঞ সেনানী মাহমুদউল্লাহ ও জাকের মিলে। শুরুর দিকে কিছুটা দেখেশুনে খেলার পর চড়াও হন সেট হয়েই। প্রায় প্রতি ওভারেই আসতে থাকে চার ও ছক্কার মার। বেশি আগ্রাসী ছিলেন মাহমুদউল্লাহই। ৪০ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ২১৭।
সেখান থেকে তিনশ পার করার পেছনে দুই ব্যাটারই রাখেন সমান অবদান। তাদের তোপের মুখে শেষ দশ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা দাঁড়াতেই পারেননি কেউ। ৪৬তম ওভারে চার মেরে ওয়ানডেতে নিজের টানা চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ, বল খেলেন ৪৯টি।
পরের ওভারে বাউন্ডারিতে ফিফটিতে পা রাখেন জাকেরও, যা এই ফরম্যাটে তার প্রথম। শেষের কয়েকটি ওভারে অবশ্য তাকে একপ্রান্তে দর্শক বানিয়ে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটান মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫৩ বলে অপরাজিত থাকেন ৮৪ রানে। চার মারেন ৭টি, আর ছক্কা ৪টি। জাকের করেন ৫৭ বলে ৬২।
আরও পড়ুন
| মাহমুদউল্লাহ ৯৮, মিরাজ ৬৬, বাংলাদেশ ২৪৪ |
|
No posts available.
১ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৫০ পিএম
১ জানুয়ারি ২০২৬, ২:৫৩ পিএম

পার্থ স্কর্চার্সের বিপক্ষে প্রথম দুই ওভারে ১১ রান দেন রিশাদ হোসেন। তবে শেষ স্পেলে এসে খরুচে বোলিং করলেন বাংলাদেশের এই লেগস্পিনার। রিশাদের মিশ্র বোলিংয়ের দিনে বাকিদের বাজে পারফরম্যান্সে চলতি বিগ ব্যাশে প্রথমবার দুইশর বেশি লক্ষ্য তাড়ায় নামবে হোবার্ট হারিকেন্স।
বেলেরিভ ওভালে প্রথম ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ পেয়েছে পার্থ স্কর্চার্স।
চার ওভার বল করে ৩৫ রান দিয়েছেন রিশাদ, ছিলেন উইকেটশূন্য। ৬ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে উইকেট শিকারিদের তালিকায় ৬ নেমে গেছেন তিনি।
ঘরের মাঠে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্বান্ত নেয় হোবার্ট। তৃতীয় ওভারে অধিনায়ক নাথান এলিসের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান পার্থের ওপেনার ফিন অ্যালেন। পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে আসেন রিশাদ হোসেন। নিজের প্রথম ওভারে আঁটসাঁট বোলিংয়ে দেন ৭ রান।
ষষ্ঠ ওভারে মিচেল ওয়েনের বলে দলীয় ৫১ রানে ফিরে যান তিনে নামা কুপার কনোলি। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে ৪ রান দেন রিশাদ।
১৩তম ওভারে রিশাদের হাতে দ্বিতীয় স্পেলে বল তুলে দেন হোবার্ট অধিনায়ক। প্রথম দুই বলে ৮ রান নিয়ে নিজের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মিচেল মার্শ। ওভারের শেষ চার বলে ৪ রান দেন রিশাদ।
১৪ তম ওভারে বিগ ব্যাশে নিজের দুই হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মার্শ। ২৬ বলে ফিফটি তুলে নেন আরেক ব্যাটার অ্যারন হার্ডি।
১৬তম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে আসেন রিশাদ। প্রথম দুই বলে দুটি চার মারেন হার্ডি। শেষ চার বলে ৪ রান দিয়ে ১২ রানে ওভার শেষ করেন রিশাদ। ৪ ওভারের স্পেল পূর্ণ করা বোলারদের মধ্যে রিশাদের ইকোনমি সবচেয়ে কম ৮.৮০।
এদিন ৫৫ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন মার্শ। সেঞ্চুরির পর দ্রত ফিরে গেলে অ্যারন হার্ডির ভাঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৬৪ রানের জুটি। মার্শের ৫৮ বলে ১০২ রানের ইনিংসে ছিল ১১ টি চার ও ৫টি ছক্কা। ৪৩ বলে ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন হার্ডি।
জয়ের জন্য রিশাদের হোবার্টের দরকার ২৩০ রান। পাঁচ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হোবার্ট।

১২ বলে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রয়োজন ৪৫ রান। উইকেট বাকি মাত্র ২টি। কঠিন এই সমীকরণে একাই লড়লেন শামীম হোসেন। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ওভারে ১৮ রানের পর মোহাম্মদ আমিরের শেষ ওভারে তিনি নিলেন ২০ রান। কিন্তু জয়ের জন্য যথেষ্ট হলো না সেটি। রোমাঞ্চকয় জয়ে দুই নম্বরে উঠল সিলেট টাইটান্স।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ঢাকাকে ৬ রানে হারায় সিলেট। ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৭৩ রানের পুঁজি পায় সিলেট। জবাবে শামীমের লড়াইয়ের পরও ১৬৭ রানের বেশি করতে পারেনি ঢাকা।
ছয় নম্বরে নেমে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ বলে ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন শামীম। ১৩৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই বাঁহাতি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংস। একইসঙ্গে এই ফরম্যাটে ২ হাজার রানও পূর্ণ হয়েছে তার।
সিলেটের জয়ের নায়ক আজমতউল্লাহ ওমরজাই। আগের রাতে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ব্যাট হাতে ২৪ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পরে বল হাতেও ৩ উইকেট নেন আফগানিস্তানের পেস বোলিং এই অলরাউন্ডার।
আরও পড়ুন
| রাতে এসে দুপুরেই ওমরজাইয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিং |
|
দুই দিন বিরতির পর এই ম্যাচ দিয়েই আবার শুরু হয় বিপিএল। খেলা শুরুর আগে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন দুই দলের ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়াল ও মাঠে উপস্থিত বাকিরা।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন ছয় নম্বরে নামা ওমরজাই। তার ঝড়ে শেষ পাঁচ ওভারে ৭৪ রান পায় সিলেট। এছাড়া ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩২ বলে ৪৪ রান করেন ইমন। আর ২৯ রান করতে ৩৪ বল খেলে ফেলেন সাইম আইয়ুব।
২ উইকেটের জন্য ৪ ওভারে ৪৬ রান খরচ করেন সালমান মির্জা। তাসকিনও ৪ ওভারে দেন ৪৬ রান।
রান তাড়ায় শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা। ৮ ওভারের মধ্যে মাত্র ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে ৩১ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়েন সাব্বির রহমান ও শামীম। ১৯ বলে ২৩ রান করে ফিরে যান সাব্বির।
পরে দলকে একাই টেনে নেন শামীম। তবে শেষ দুই ওভারে ঝড় তুলেও জেতাতে পারেননি তিনি।
তিন ম্যাচের সিলেটের এটি দ্বিতীয় জয়। দুই ম্যাচে ঢাকার প্রথম পরাজয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৭৩/৫ (সাইম ২৯, রনি ১১, মিরাজ ৬, ইমন ৪৪, আফিফ ১৩, ওমরজাই ৫০*, ব্রুকস ১৩*; ইমাদ ৩-০-১৪-০, তাসকিন ৪-০-৪৬-১, সালমান ৪-০-৪৬-২, নাসির ৩-০-২০-০, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩২-১, সাইফ হাসান ২-০-১৩-১)
ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৬৭/৮ (সাইফ ৯, জুবাইদ ১, উসমান ২১, মিঠুন ০, নাসির ৫, শামীম ৮১*, সাব্বির ২৩, ইমাদ ৮, সাইফ উদ্দিন ০, তাসকিন ৩*; আমির ৪-১-৩০-২, নাসুম ৪-০-২৬-২, ওমরজাই ৪-০-৪০-৩, মিরাজ ৩-০-১৯-১, খালেদ ৩-০-২৫-০ সাইম ১-০-১৪-০, আফিফ ১-০-৬-০)
ফল: সিলেট টাইটান্স ৬ রানে জয়ী

নতুন বলে মোহাম্মদ আমিরের প্রথম ওভার যেন বুঝতেই পারলেন না সাইফ হাসান। একের পর এক ডট বল খেলে পুরো মেডেন দিয়ে দিলেন ঢাকা ক্যাপিটালস ওপেনার। আর ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাকিব আল হাসানকে টপকে গেলেন সিলেট টাইটান্সের পাকিস্তানি ওপেনার।
দীর্ঘ টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে আমিরের এটি ২৮তম মেডেন ওভার। এই সংস্করণে তার চেয়ে বেশি মেডেন আছে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনিল নারিনের, ৩৩টি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবারের ম্যাচের আগপর্যন্ত ২৭ মেডেন নিয়ে যৌথভাবে দুই নম্বরে ছিলেন আমির ও সাকিব। ঢাকার প্রথম ওভারেই মেডেন করে সাকিবকে তিন নম্বরে ঠেলে এককভাবে দুই নম্বরে উঠে যান আমির।
প্রায় ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে ৩৪৪ ম্যাচে আমিরের এটি ২৮তম মেডেন। পেসারদের মধ্যে তার মেডেনই সবচেয়ে বেশি। ৪৫৯ ইনিংসে সাকিবের মেডেন ২৭টি। পেসারদের মধ্যে আমিরের পরে আছেন ভারতের ভুবনেশ্বর কুমার, ৩১৫ ইনিংসে ২৬টি।
সবার ওপরে থাকা নারিন তার ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে ৫৬৭ ইনিংসে করেছেন ৩৩টি মেডেন ওভার।

জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার জন্য যেটা সবচেয়ে জরুরি সেটাই করে দেখাচ্ছেন। শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফিটনেসে দারুণ উন্নতি করেছেন। রান পাচ্ছেন নিয়মিতই। ঘরোয়া ক্রিকেটে সেঞ্চুরি-ফিফটি করছেন। তারপরও ভারতের নির্বাচকদের নজরে পড়ছেন না সরফরাজ খান।
সবশেষ গতকাল বিজয় হারারে ট্রফিতে ৭৫ বলে ১৫৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে নির্বাচকদের কড়া বার্তাই যেন দিয়ে রাখলেন সরফরাজ। গোয়ার বিপক্ষে মুম্বাইয়ের হয়ে দুর্দান্ত এ ইনিংস সাজান ১৪টি ছক্কা ও ৯টি চারে। ২৮ বছর বয়সী ব্যাটারের ব্যাটে মুম্বাইয়ও পেয়েছে জয়।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ছন্দের তুঙ্গে থাকা সরফরাজের ইনিংসটি এসেছে একেবারে উপযুক্ত সময়ে। ১১ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জায়গা পাওয়ার দাবিটা আরও জোরালো করলেন ডানহাতি ব্যাটার।
আরও পড়ুন
| রাতে এসে দুপুরেই ওমরজাইয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিং |
|
সবশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ভারতের জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন সরফরাজ। ঘরের মাঠে কিউইদের কাছে ধবলধোলাই হয় স্বাগতিক ভারত। ওই সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ডাক মারার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫০ রানের ইনিংস খেলেন সরফরাজ। সিরিজের পরের দুই টেস্টের চার ইনিংস থেকে মাত্র ২১ রান করেন তিনি।
কিউইদের বিপক্ষে ওই সিরিজের ব্যর্থতার পর জাতীয় দলে একরকম ব্রাত্যই হয়ে পড়েন সরফরাজ খান। দল থেকে ছিটকে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে নামেন মিডল অর্ডারের এই ব্যাটার। ১৭ কেজি ওজন কমিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে রীতিমতো রান মেশিনে রূপ নেন। রঞ্জি ট্রফিতে প্রায় ৭০ গড়ে রান করেন। বিজয় হারারে ট্রফিতে সবশেষ পাঁচ ইনিংসে সরফরাজ একটি সেঞ্চুরির সঙ্গে তিন ফিফটিতে মোট ৩৫৭ রান। এরমধ্যে সিকিমের বিপক্ষে ম্যাচে ৮ রানে ছিলেন অপরাজিত।
সরফরাজের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে কথা বলেন অনেকেই। এরমধ্যে ভারতীয় ধারাভাষ্যকর হার্ষা ভোগলে বলেছেন, যদি রানই চূড়ান্ত মাপকাঠি হয়, তাহলে তাকে দলে না রাখাভারতীয় নির্বাচকদের ব্যর্থতা। সরফরাজের লড়াইটা শুধু ব্যাটের নয়।
আগামী ১১ জানুয়ারী ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলবে ভারত। ১৪ ও ১৮ জানুয়ারি ৫০ ওভারের বাকি দুই ম্যাচের পর কিউদের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারত। ব্যাটে রানের বন্যা বইয়ে দেওয়া সরফরাজকে এবার প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ডাক পান কিনা সেটাই দেখার।

ভিনি-ভিডি-ভিসি; এলাম, দেখলাম, জয় করলাম- বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটে ঠিক এটিই যেন করে দেখালেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। আগের রাতে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তিনি খেললেন বিধ্বংসী এক ইনিংস।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবারের প্রথম ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালালেন ওমরজাই। খুনে ব্যাটিংয়ে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় মাত্র ২৪ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেললেন সিলেট টাইটান্সের আফগান অলরাউন্ডার।
ওমরজাইয়ের ঝড়ো ইনিংসের সঙ্গে পারভেজ হোসেন ইমনের ৩২ বলে ৪৪ রানের সৌজন্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানের পুঁজি পেয়েছে সিলেট। জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে ঢাকার সামনে তাই চ্যালেঞ্জিং এক লক্ষ্য।
টস হেরে ব্যাট করতে নামা সিলেটের চতুর্থ উইকেট পতনের পর ১৪তম ওভারে ব্যাট করতে নামেন ওমরজাই। শুরুতে কিছুটা সময় নেন পেস বোলিং এই অলরাউন্ডার। ১৮ ওভার পর্যন্ত তার নামের পাশে ছিল ১৪ বলে ১৭ রান।
আরও পড়ুন
| নতুন বছরে পাকিস্তান সিরিজের আগে শ্রীলঙ্কার মানবিক বার্তা |
|
১৯তম ওভারে সালমান মির্জার বলে ঝড় বইয়ে দেন ওমরজাই। পরপর চার বলে ২ চারের সঙ্গে মারের ২টি বিশাল ছক্কা। ওই ওভার থেকে আসে ২২ রান। পরে শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদের প্রথম বলে ছক্কা ও শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন ওমরজাই।
বিপিএলে ২১ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটিই ওমরজাইয়ের প্রথম ফিফটি। আর সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয়। অথচ বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্তও দলের সঙ্গে ছিলেন না ওমরজাই। রাতে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে পরদিন দুপুরেই তার ব্যাট থেকে এলো আগুনে ইনিংস।
ওমরজাইয়ের ঝড়ে শেষ পাঁচ ওভারে ৭৪ রান পায় সিলেট। যার সৌজন্যে তাদের সামনে এখন লড়াই করার পুঁজি আছে। এছাড়া ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩২ বলে ৪৪ রান করেন ইমন। আর ২৯ রান করতে ৩৪ বল খেলে ফেলেন সাইম আইয়ুব।
২ উইকেটের জন্য ৪ ওভারে ৪৬ রান খরচ করেন সালমান মির্জা। তাসকিনও ৪ ওভারে দেন ৪৬ রান।