১২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:২২ পিএম

ব্যাট হাতে যেন প্রায় প্রথম ম্যাচের পুনরাবৃত্তিই হল বাংলাদেশের। টপ অর্ডারে দুজন করলেন ফিফটি, এরপর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে তৈরি হল চাপ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জিং স্কোর এনে দেওয়ার কাজটা দারুণ মুন্সিয়ানায় সারলেন মাহমুদউল্লাহ ও জাকের আলি অনিক। দুজনেই পেলেন ফিফটির দেখা, যার মধ্যে মাহমুদউল্লাহ সিরিজে করলেন হ্যাটট্রিক অর্ধশতক।
সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ৫ উইকেটে ৩২১ রানে। মাহমুদউল্লাহ ও জাকের ছাড়াও ফিফটি করেছেন সৌম্য-মিরাজ।
প্রথম দুই ম্যাচে এক ফিফটি সহ দারুণ ব্যাটিংই করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। এই ম্যাচে হাসেনি তার ব্যাট। আলজারি জোসেফকে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ ফিয়ে ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই। দুই বলে ডাক মেরে এরপরই সাজঘরের পথ ধরেন এই সিরিজে তিনবার এক ডিজিটেই আউট হওয়া লিটন দাস। ৯ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন
| মাহমুদউল্লাহ-তানজিমের লড়াকু ব্যাটিং, বাংলাদেশ থামল ২২৭ রানে |
|
অবশ্য বিপদ আরও বাড়তে পারত প্রথম ওভারেই। আলজারির বলেই শুন্য রানে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন সৌম্য। তবে সহজ ক্যাচ জমাতে ব্যর্থ হন ব্র্যান্ডন কিং। জীবন পেয়ে তা দুহাতে কাজে লাগান অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। প্রথম ম্যাচে ৭৪ রান করা মিরাজ সেদিন খেলেছিলেন ধীরলয়ে। তবে এবার শুরু থেকেই কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে ইতিবাচক ব্যাটিং করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
মিরাজ তার প্রথম ২০ রান করেন স্রেফ চার মেরেই। অন্যপ্রান্তে সৌম্য শুরুটা ধীরগতিতে করার পর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন রোমারিও শেফার্ডকে চার মেরে। কয়েক ওভার বাদে একই বোলারকে র্যাম্প শটে কিপারের মাথার ওপর দিয়ে সীমানা ছাড়া করেন। রোমারিও তার পরের ওভারে ছক্কা হজম করেন মিরাজের কাছেও।
গুদাকেশ মোটিকে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে ছক্কা মারা সৌম্য পরের বলেও চেষ্টা করেছিলেন একই শট খেলার। তবে ব্যাটে-বলে হয়নি। আরও একবার তার ক্যাচ ফেলে দেন ক্যারিবিয়ান ফিল্ডাররা। ২০তম ওভারে দলীয় শতক পূর্ণ হয় বাংলাদেশের।
চার মেরে ফিফটি তুলে নেন মিরাজ। একই ওভারে পঞ্চাশে পা রাখেন সৌম্যও। দুজন মিলে এরপর চড়াও হন জেদিয়াহ ব্লেডসের ওপর। এক ওভারেই আসে ১৬ রান। ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সৌম্যকে শেষ পর্যন্ত থামান মোটি। আগের বলে ছক্কা হজমের পর লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন। ৬টি চার ও ৪ বাউন্ডারিতে ৭৩ বলে ৭৩ করেন সৌম্য।
আরও পড়ুন
| তানজিদ-মিরাজ-মাহমুদউল্লাহর ফিফটিতে বাংলাদেশের ২৯৪ |
|
এই জুটির ১৩৬ রানের ইতি ঘটার পর কিছুটা পথ হারায় বাংলাদেশ। চমৎকার গতিতে এগিয়ে যাওয়া মিরাজ দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউটের শিকার হন শেরফান রাদারফোর্ডের সরাসরি থ্রোয়ে। ৭৩ বলের ইনিংস সাজান ৮ চার ও ২ ছক্কায়। ১৫ রান করে তাকে অনুসরণ করেন আফিফ হোসেনও। ১৭১ রানে পতন হয় পঞ্চম উইকেটের।
তবে আরও একবার হাল ধরেন অভিজ্ঞ সেনানী মাহমুদউল্লাহ ও জাকের মিলে। শুরুর দিকে কিছুটা দেখেশুনে খেলার পর চড়াও হন সেট হয়েই। প্রায় প্রতি ওভারেই আসতে থাকে চার ও ছক্কার মার। বেশি আগ্রাসী ছিলেন মাহমুদউল্লাহই। ৪০ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ২১৭।
সেখান থেকে তিনশ পার করার পেছনে দুই ব্যাটারই রাখেন সমান অবদান। তাদের তোপের মুখে শেষ দশ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা দাঁড়াতেই পারেননি কেউ। ৪৬তম ওভারে চার মেরে ওয়ানডেতে নিজের টানা চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ, বল খেলেন ৪৯টি।
পরের ওভারে বাউন্ডারিতে ফিফটিতে পা রাখেন জাকেরও, যা এই ফরম্যাটে তার প্রথম। শেষের কয়েকটি ওভারে অবশ্য তাকে একপ্রান্তে দর্শক বানিয়ে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটান মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫৩ বলে অপরাজিত থাকেন ৮৪ রানে। চার মারেন ৭টি, আর ছক্কা ৪টি। জাকের করেন ৫৭ বলে ৬২।
আরও পড়ুন
| মাহমুদউল্লাহ ৯৮, মিরাজ ৬৬, বাংলাদেশ ২৪৪ |
|
No posts available.
৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

জয়ের জন্য বাকি ১ রান আর ফিন অ্যালেনের সেঞ্চুরি করতে প্রয়োজন ৪ রান। মার্কো ইয়ানসেনের বলে বাউন্ডারি মেরে দিলেন অ্যালেন। হয়ে গেল ইতিহাসগড়া সেঞ্চুরি আর ফাইনালের টিকেট পেয়ে গেল নিউ জিল্যান্ড।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম সেমি-ফাইনাল ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৯ উইকেটে জেতে নিউ জিল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ১২.৫ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয় কিউইরা।
নিউ জিল্যান্ডকে অনায়াস জয় এনে দেওয়ার নায়ক অ্যালেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের কচুকাটা করে ১০ চারের সঙ্গে ৮টি ছক্কা মেরে মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে বিধ্বংসী কিউই ওপেনার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এটিই। আগের দ্রুততম সেঞ্চুরি ছিল দ্য ইউনিভার্স বস, ক্রিস গেইলের (৪৭ বলে)।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল নিউ জিল্যান্ড। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২১ সালের বিশ্বকাপেও শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে উঠেছিল তারা। তবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নপূরণ হয়নি তাদের।
অন্য দিকে গত আসরের ফাইনাল হেরে যাওয়ার পর চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব ও সুপার এইটে টানা সাত ম্যাচ জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু সেমি-ফাইনালের বাধা পার করে আর ফাইনালে উঠতে পারল না এইডেন মার্করামের দল।
রান তাড়ায় পাওয়ার প্লেতে ম্যাচের ভাগ্য ঠিক করে ফেলেন নিউ জিল্যান্ডের দুই ওপেনার ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট। ভাগ্যের ছোঁয়াও অবশ্য পান দুজন। প্রথম ওভারে মার্কো ইয়ানসেনের বলে অল্পের জন্য কট বিহাইন্ড হননি সেইফার্ট।
পরের ওভারে কাগিসো রাবাদার বলে আবার ক্যাচ দেন সেইফার্ট। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে ক্যাচটি নিতে পারেননি কুইন্টন ডি কক ও দেওয়াল্ড ব্রেভিস। জীবন পেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটিং শুরু করেন সেইফার্ট। তৃতীয় ওভারে ইয়ানসেন ও পঞ্চম ওভারে রাবাদার বলে মারেন একটি করে চার-ছক্কা।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে টর্নেডো বইয়ে দেন আরেক ওপেনার অ্যালেন। করবিন বশের বলে ছক্কার পর টানা ৪টি চার মেরে নিয়ে নেন ২২ রান। প্রথম ৬ ওভারে ৮৪ রান করে ফেলে নিউ জিল্যান্ড।
পাল্লা দিয়ে রান তোলার মিশনে ২৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন সেইফার্ট। আর তাকে ছাড়িয়ে যান অ্যালেন।
নবম ওভারে কেশব মহারাজের বলে ছক্কা-চার মেরে মাত্র ১৯ বলে পঞ্চাশ করেন সেইফার্ট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে এটিই দ্রুততম ফিফটি।
পরের ওভারে ভাঙে বিধ্বংসী উদ্বোধনী জুটি। রাবাদার দারুম ডেলিভারিতে বোল্ড আউট হয়ে ফেরেন ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ বলে ৫৮ রান করা সেইফার্ট।
এরপর আর তেমন সময় নেননি অ্যালেন। রাচিন রবীন্দ্রর সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মাত্র ২২ বলে ৫৬ রান যোগ করেন এই ওপেনার। যেখানে রবীন্দ্রর অবদান ১১ বলে ১৩ রান। বাকি রান একাই করে দলকে জেতান অ্যালেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একদমই ভালো ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। দ্বিতীয় ওভারে কোল ম্যাকঙ্কির পরপর দুই বলে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান কুইন্টন ডি কক (৮ বলে ১০) ও রায়ান রিকেল্টন (১ বলে ০)।
শুরুর চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নেন এইডেন মার্করাম ও দেওয়াল্ড ব্রেভিস। তবে রানের গতি বাড়াতে পারেননি দুজন। ৪৩ রানের জুটি গড়ে তারা খেলেন ৩৫ বল। রাচিন রবীন্দ্রর বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে ড্যারেল মিচেলের দারুণ ক্যাচে আউট হন মার্করাম (২০ বলে ১৮)।
ডেভিড মিলার বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ৬ রান করে আউট হন তিনি। লম্বা সময় ক্রিজে থেকে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৭ বলে ৩৪ রান করে আউট হন ব্রেভিস। মাত্র ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় কিউইরা।
সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন মার্কো ইয়ানসেন ও ট্রিস্টান স্টাবস। পাল্টা আক্রমণে দুজন মিলে ৪৮ বলে গড়ে তোলেন ৭৩ রানের জুটি। যেখানে ইয়ানসেনই রাখেন বড় অবদান। আর স্টাবসের ব্যাট থেকে আসে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৪ বলে ২৯ রান।
শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে ২৯ বলে ৫৫ রান করেন ইয়ানসেন। তার ব্যাটেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় প্রোটিয়ারা। যদিও শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য এটি শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন ম্যাট হেনরি, রবীন্দ্র ও ম্যাকঙ্কি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মনের মতো করে কাটিয়েছেন পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। সাত ম্যাচে দুই সেঞ্চুরিতে তাঁর রান ৩৮৩। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেটের চেয়ে ৯১ রান বেশি করেছেন তিনি। কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের ফল পেয়েছেন ফারহান।
বুধবার প্রকাশিত আইসিসির সাপ্তাহিক র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছেন ফারহান। পাকিস্তানের ওপেনারের রেটিং পয়েন্ট তাঁর ক্যারিয়ারসেরা ৮৪৮। শীর্ষে থাকা অভিষেকের রেটিং পয়েন্ট ৮৭৪। অর্থাৎ অভিষেকের সঙ্গে ফারহানের পার্থক্য এখন ২৬ পয়েন্টের। দুইয়ে ওঠার পথে ফারহান পেছনে ফেলেন ইংল্যান্ডের ফিল সল্টকে। তিনে থাকা এই ইংলিশ ব্যাটসম্যানের রেটিং পয়েন্ট ৮০৩।
বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব শেষ হওয়ার পর ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে আরও পরিবর্তন এসেছে। ভারতের ইশান কিশান (চতুর্থ) ও তিলক বার্মা (ষষ্ঠ) দুজনই এক ধাপ করে এগিয়ে সেরা দশে জায়গা পোক্ত করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও এক ধাপ উঠে এখন অষ্টম।
জিম্বাবুয়ের বেনেট টুর্নামেন্টে ২৯২ রান করে ছয় ধাপ এগিয়ে ১১ নম্বরে উঠেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার রায়ান রিকেল্টন ১৩তম ও এইডেন মার্করাম ১৬তম স্থানে উঠে এসেছেন।
বোলারদের তালিকায়ও একই চিত্র। ভারতের স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী শীর্ষে থাকলেও রশিদ খানের সঙ্গে তাঁর মাত্র ১৮ রেটিং পয়েন্ট দূরত্ব। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১২ উইকেট নেওয়া এই স্পিনারের পেছনে আছেন পাকিস্তানের আবরার আহমেদ। যিনি দুই ধাপ এগিয়ে তিন নম্বরে উঠে এসেছেন।
ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ (সপ্তম) ও আর্শদীপ সিং (১৩তম) দুজনই উন্নতি করেছেন। ইংল্যান্ডের লিয়াম ডসন ও দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিদি র্যাঙ্কিংয়ে ওপরে উঠেছেন।
অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। হার্দিক পাণ্ডিয়া এক ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। পেছনে ফেলেছেন পাকিস্তানের সায়েম আইয়ুবকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডারও বড় লাফ দিয়েছেন। আট ধাপ এগিয়ে এখন ১১ নম্বরে।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সুপার এইট পর্বেই বিদায়—পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারও অস্থিরতার ঝড়। হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অধিনায়কত্ব, কোচিং ও দল পরিচালনা, সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ।
জিও সুপারের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালেই পাকিস্তানের কয়েকজন ক্রিকেটার প্রধান কোচ মাইক হেসনের আচরণ নিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কর্মকর্তাদের কাছে।
ড্রেসিংরুমে অস্বস্তি?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচের কঠোর ও একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ অস্বস্তিকর করে তোলে। অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দল পরিচালনার প্রায় সব ক্ষেত্রে হেসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে ক্রিকেটারদের একাংশ অসন্তুষ্ট ছিলেন।
বিশ্বকাপে সালমান আলী আগার নেতৃত্বাধীন দলটি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল ও ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলর কাছে বড় ব্যবধানে হারে। ব্যাটিং–বোলিং দুই বিভাগেই ছিল অসংগতি। মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে ড্রেসিংরুমের অস্থিরতার যোগ আছে কি না, সেটিও এখন আলোচনায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচক প্যানেল ও অধিনায়ক—কেউই নাকি হেসনের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে পারেননি। টিম ম্যানেজমেন্টে তাঁর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ছিল বলেও দাবি সূত্রগুলোর।
বোর্ডের পর্যালোচনা, তবে…
পিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে। টুর্নামেন্ট–সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর কোচের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
কারণ, হেসনের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছে বোর্ড। প্রধান কোচের পদে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নীতিতে আপাতত অনড় পিসিবি। ফলে সমালোচনা ও অভিযোগের মধ্যেও দায়িত্বে টিকে যেতে পারেন এই নিউ জিল্যান্ডের কোচ।
বিশ্বকাপ–ব্যর্থতার পর জরিমানা, নেতৃত্ব পরিবর্তন কিংবা কোচিং স্টাফে রদবদল—সবই এখন আলোচনার টেবিলে। পাকিস্তান ক্রিকেট কোন পথে হাঁটবে, সেটাই দেখার।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভরাডুবির পর সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ উঠেছিল। কঠোর আচরণ, এক হাতে দলের নিয়ন্ত্রণ, বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, টিম ম্যানেজমেন্টও জানিয়েছিল অস্বস্তির কথা।

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে
সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় যৌথভাবে তিন আছেন বরুণ চক্রবর্তী। তবে সর্বোচ্চ উইকেট
নেওয়া এই ‘রহস্য স্পিনারকে’ নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় ভারত। এই বোলার যে দেদারসে রান বিলিয়েই
যাচ্ছেন। ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে আবির্ভাব ঘটা বরুণই এখন রান বিলি করছেন প্রতি ম্যাচে।
আর ব্যাটারদের বেদড়ক মার খেয়ে নাকি ঘুরে দাড়ানোর পরিবর্তে উল্টে হতভম্ব হয়ে যান বরুণ।
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব আর
সুপার এইট মিলিয়ে ৭ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী। এই সাত ম্যাচে ২৪ ওভার
করা ৩৪ বছর বয়সী স্পিনারের ইকোনোমি রেট ৭.৬৬। সবশেষ সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে
অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনালে ৪০ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন বরুণ। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার
বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যাচে ছিলেন আরও খরুচে, ৪৭ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।
বরুণের যে চার ওভারের ওপর
ভারত ভরসা করত, সেই চার ওভারই এখন চিন্তার কারণ। লাইন লেংথ ঠিক রাখতে না পেরে নিয়মিতই
ব্যাটারদের পিটুনি খাচ্ছেন তিনি। ব্যাটাররা তাঁর ওপর হলেই নার্ভাস হয়ে পড়েন বরুণ, এমনটাই
মনে করেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ কৈফ।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে
কৈফ বলেছেন, ব্যাটাররা এখন বরুণের খেলা বোঝে এবং তিনি আর ভারতের ‘রহস্য স্পিনার’ নন।
রান খাওয়ালে বরুণ নার্ভাস হয়ে পড়েন এবং তার প্রাকৃতিক উইকেট-টু-উইকেট লেন্থের পরিবর্তে
প্যাডের দিকে বল করতে শুরু করেন।
কৈফ বলেন,
‘এখন অনেক ব্যাটাররা আগে থেকে প্রস্তুত হয়ে আসছে, ঠিক জানে কিভাবে বরুণকে মোকাবিলা করতে হবে। আর এখানেই তার একটি ছোট সমস্যা দেখা দেয়। আমি লক্ষ্য করেছি, যখন তাকে রান খাওয়ানো হয়, তখন সে কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়ে। প্রতিক্রিয়ায় তা দেখা যায়। উইকেট-টু-উইকেট লেন্থের পরিবর্তে সে প্যাডের দিকে বল করতে শুরু করে।’
কৈফ পরামর্শ দেন,
বরুণকে আরও বেশি লেগ স্পিন করতে হবে এবং ব্যাটাররা কেন তাকে খেলা সহজ মনে করছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করেন, ‘এই বিশ্বকাপে আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি খুব কম লেগ স্পিন করছেন। লেগ স্পিনের ওপর কাজ করতে হবে, কারণ এখন ব্যাটররা তার গুগলির জন্য অপেক্ষা করছে। বল স্টাম্পের দিকে আসছে, তাই তারা এটিকে অফ-স্পিনারের মতো ধরে নেয় এবং ভেতরে ঘুরবে মনে করে। তাই অনেকেই তাকে লং-অন বা সরাসরি ব্যাটে সহজে মারতে পারছে।’
বরুণকে আরও বেশি লেগ স্পিন করতে হবে এবং ব্যাটাররা কেন তাকে খেলা সহজ মনে করছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করেন,
‘এই বিশ্বকাপে আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি খুব কম লেগ স্পিন করছেন। লেগ স্পিনের ওপর কাজ করতে হবে, কারণ এখন ব্যাটররা তার গুগলির জন্য অপেক্ষা করছে। বল স্টাম্পের দিকে আসছে, তাই তারা এটিকে অফ-স্পিনারের মতো ধরে নেয় এবং ভেতরে ঘুরবে মনে করে। তাই অনেকেই তাকে লং-অন বা সরাসরি ব্যাটে সহজে মারতে পারছে।’
এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপে ভারতের সব ম্যাচেই খেলেছেন বরুণ। কুলদীপ যাদবের পরিবর্তে তাঁর ওপরই ভরসা
রেখেছে ভারত। আগামীকাল সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা।
ফাইনাল নিশ্চিতের মঞ্চে নিজের চেনা রূপ দেখাতে পারেন কি না বরুণ সেটাই দেখার এখন।

আরব সাগরের হাওয়া বয়ে যায়
গ্যালারির ওপর দিয়ে। সূর্য ডোবার পর আলো জ্বলে উঠলে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম যেন আরেক রূপ
নেয়। ভারতের ক্রিকেট–ইতিহাসে মুম্বাইয়ের এই মাঠ শুধু একটি
ভেন্যু নয়, আবেগের আরেক নাম। কাল ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড-ভারতের
দেখা হওয়ার আগে তাই স্মৃতির পাতা উল্টে দেখার এটাই সময়। ওয়াংখেড়েতে ভারতের সেমিফাইনাল
মানেই নাটক, উত্তেজনা আর ইতিহাস।
১৯৮৭: স্বপ্নভঙ্গের
শুরু
১৯৮৩ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন
ভারত চার বছর পর ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নে বিভোর। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত
খেলে সেমিফাইনালে ওঠে স্বাগতিকেরা। সেবরাও প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
গ্রাহাম গুচের লড়াকু সেঞ্চুরি
ভারতকে চাপে ফেলে দেয়। রান তাড়ায় নেমে সুনীল গাভাস্কারের দ্রুত বিদায় ছিল বড় ধাক্কা।
মাঝের দিকে লড়াই থাকলেও শেষ ৫ উইকেট মাত্র ১৫ রানে হারিয়ে ৩৫ রানের হারে বিদায় নেয়
ভারত। ওয়াংখেড়েতে সেটিই ছিল স্বাগতিকদের প্রথম বড় ধাক্কা—স্বপ্নভঙ্গের
শুরু।
২০১৬: ১৯২ রানও যথেষ্ট
নয়
সময়ের স্রোতে বদলে গেছে
প্রজন্ম, বদলেছে ফরম্যাট। ২০১৬ সালে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মঞ্চ
সেই ওয়াংখেড়ে। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দল।
বিরাট কোহলির ব্যাটে আগুন
ঝরা ইনিংসে ১৯২ রান তোলে ভারত। গ্যালারিতে তখন উৎসবের আমেজ। কিন্তু টি–টোয়েন্টির
নির্মম বাস্তবতা বুঝিয়ে দেয় ক্যারিবীয়রা। লেন্ডন সিমন্সের স্থিরতা আর আন্দ্রে রাসেলের
ঝড়ে দুই বল বাকি থাকতে ম্যাচ বের করে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯২ রানের স্কোরও যে নিরাপদ
নয়, সেই শিক্ষা দেয় সেই রাত।
২০২৩: প্রতিশোধের উল্লাস
সবচেয়ে সাম্প্রতিক স্মৃতি
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। লিগ পর্বে অপরাজিত ভারত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় নিউজিল্যান্ডের।
চার বছর আগের আঘাতের জবাব দেওয়ার মঞ্চও যেন তৈরি ছিল।
রোহিত শর্মার ঝড়ো শুরু,
শুভমান গিলের লড়াকু ইনিংস, আর বিরাট কোহলির রেকর্ড ভাঙা ৫০তম সেঞ্চুরি—সব মিলিয়ে প্রায়
৪০০ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। জবাবে ড্যারিল মিচেল লড়াই করলেও শেষ কথা বলেন মোহাম্মদ শামি।
তাঁর সাত উইকেটে উল্লাসে ফেটে পড়ে ওয়াংখেড়ে। সেই রাতে ইতিহাসের সঙ্গে আবেগের মেলবন্ধন
ঘটে।
ওয়াংখেড়ের সেমিফাইনাল ইতিহাস
তাই মিশ্র অনুভূতির—হতাশা আছে, আছে গৌরবও। ১৯৮৭-এর কান্না, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের
আক্ষেপ আর ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের উল্লাস—সব মিলিয়ে এই মাঠ ভারতের জন্য এক আবেগঘন
অধ্যায়।
এবার ২০২৬ টি–টোয়েন্টি
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন গল্প লেখার অপেক্ষা। ইতিহাস কি আবার
হাসবে ভারতের দিকে? নাকি ওয়াংখেড়ে উপহার দেবে আরেক নাটকীয় রাত—উত্তর মিলবে আগামীকাল।