
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এখন পর্যন্ত হওয়া তিনটি ম্যাচেই আগে ব্যাটিং করা দল গড়েছে বিশাল স্কোর। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের বিধ্বংসী ফিফটিতে সেই ধারা বজায় রাখল খুলনা টাইগার্স। দুইশ ছড়ানো স্কোর পাড়ি দিতে সামান্যতম লড়াইও জমাতে ব্যর্থ হল চিটাগং কিংসের টপ অর্ডার। তবে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করে নিভু নিভু জয়ের আশা জাগিয়ে তুললেন শামিম হোসেন। একাই শেষ পর্যন্ত লড়লেন মারমুখী এক ফিফটিতে, তবে সেটা যথেষ্ট হলো না জয়ের জন্য। বড় জয় দিয়েই আসর শুরু করল খুলনা।
মিরপুর বিপিএলের তৃতীয় ম্যাচে মেহেদি হাসান মিরাজের দল জিতেছে ৩৭ রানে। খুলনার দেওয়া ২০৪ রানের টার্গেটে চিটাগং ১৮.৫ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার আগে করতে পারে মোটে ১৬৬ রান।
বড় স্কোর ডিফেন্ড করতে নেমে বল হাতে খুলনার শুরুটা ছিল একটু অন্যরকমই। পাঁচটি নো বল ও দুই ওয়াইড সহ প্রথম ওভার করতে ওশানে থমাস করেন ১২টি বল! ১৮ রানের সেই ওভারেই অবশ্য নাইম ইসলামকেও ফেরান এই ক্যারিবিয়ান পেসার।
ছক্কা মেরে রানের খাতা খোলা পারভেজ হোসেন ইমন বিপদ ডেকে আনেন অতি আগ্রাসী হতে গিয়েই। আবু হায়দার রনির প্রথম শিকার হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ রান। পাওয়ার প্লেতে ৫৬ রান তুলতেই আরও দুই উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে যায় চিটাগং।
ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ক্রমেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় দলটি। ইনিংসের মাঝের সময়ে খুলনার স্পিনারদের সামনে সংগ্রাম করতে হয়ে তাদের। তাতে ৭৪ রান তুলতেই চলে যায় ৮ উইকেট।
আর সেখান থেকেই শুরু হয় শামিমের একক লড়াই। ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই খেলতে থাকেন বড় শট। নাসুম আহমেদের এক ওভারে চার বলের মধ্যে মারেন দুটি করে চার ও ছক্কা।
এরপর শামিমের আক্রমণের মুখে পড়েন আবু হায়দার। ১৫তম ওভারের প্রথম বলটি বোলারের মাথার ওপর দিয়ে সীমানা পার করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। মাত্র ২৩ বলে করে ফেলেন ফিফটি।
শেষ পর্যন্ত আবু হায়দারের বলেই সাজঘরে ফিরতে হয় শামিমকে। তবে তার আগে খেলেন স্মরণীয় এক ইনিংস, যা কিছুটা হলেও তার দলকে যুগিয়েছিল জয়ের আশা। মাত্র ৩৮ বলে শামিম ৭৮ রান করেন ৫টি ছক্কা ও ৭টি চারের মারে। ৪৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে খুলনার সেরা বোলার আবু হায়দার।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা খুলনার নাইম শেখ প্রথম ওভারেই ছক্কা হাকিয়ে আভাস দেন আগ্রাসনের। অন্যপ্রান্তে উইলিয়াম বোসিস্টোও শুরুটা করেন ইতিবাচকভাবে। খালেদ আহমেদের প্রথম ওভারে টানা দুই ছক্কার পাশাপাশি একটি চারও মারেন নাইম।
শেষ পর্যন্ত আলিস আল ইসলামের বলে আউট হওয়ার আগে নাইমের ব্যাট থেকে আসে ৩ চার ও এক ছক্কায় ২৬ রান। খালেদকে চার ও ছয় মেরে শুরুটা ভালো পান মিরাজ। তবে এরপর আর সেভাবে এগিয়ে যেতে পারেননি খুলনা অধিনায়ক। ১০০ স্ট্রাইক রেটে করতে পারেন ১৮ রান।
৩৬ বলে পঞ্চাশে পা রাখা বোসিস্টো রানের চাকা কিছুটা সচল রাখার চেষ্টা করেন। তবে অন্যপ্রান্তে সেভাবে পাচ্ছিলেন না সমর্থন। শেষ পর্যন্ত কাজের কাজটা করে দেন অঙ্কন। ১৬তম ওভারে শামিম হোসেনকে টানা দুই ছক্কা মেরে ইনিংস শুরু করেন তরুণ এই ব্যাটার।
স্রেফ চার-ছক্কায় রান বের করা অঙ্কন এরপর শরিফুল ইসলামের এক ওভারেই হাঁকান তিন ছক্কা। ১৯তম ওভারে তুলে নেন ফিফটি মাত্র ১৮ বলে, যা বিপিএলের ইতিহাসে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে এখন সবচেয়ে কম বলে অর্ধশতকের রেকর্ড। আর সব মিলিয়ে অঙ্কনের ফিফটি এখন বিপিএলের চতুর্থ দ্রুততম।
অঙ্কন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫৯ রানে। ১৮ বলের ইনিংস সাজান ৮টি চার ও ৩ ছক্কায়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে বোসিস্টো খেলেন ৫০ বলে ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। খুলনা ইনিংস শেষ করে ৪ উইকেটে ২০৩ রানে, যা শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয় দলের জয়ের জন্য।
No posts available.
১১ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৬ এম
১১ মার্চ ২০২৬, ১০:২৫ এম
১০ মার্চ ২০২৬, ৭:২২ পিএম

লম্বা বিরতির পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন সূচি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হতাশা শেষ হওয়ার পর এখন পুরো মনোযোগ ৫০ ওভারের ক্রিকেটে। সামনে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ—সেই লক্ষ্যেই নতুন পরিকল্পনায় এগোতে চায় বাংলাদেশ।
গত কয়েক মাস আন্তর্জাতিক ম্যাচ না থাকলেও ক্রিকেটাররা মাঠের বাইরে ছিলেন না। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল), অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ এবং বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন তারা। তবু আন্তর্জাতিক ম্যাচ না থাকায় ব্যস্ততার মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে।
এই সিরিজ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার আরেকটি কারণ আছে। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ নয় দলের মধ্যে থাকতে হবে। তাই সামনে থাকা প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দলের জন্য।
আরও পড়ুন
| গোলকিপারের ভুলে টটেনহামের বিপর্যয়, বায়ার্নের গোলবন্যা |
|
বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ মনে করেন, সামনে থাকা ম্যাচগুলো দলের জন্য বড় সুযোগ। তাঁর মতে, এই বছরে বেশ কিছু ওয়ানডে ম্যাচ রয়েছে বাংলাদেশের সূচিতে এবং সেগুলোর ফলই ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করবে। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে র্যাঙ্কিং ধরে রাখা দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় পাকিস্তানও ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নতুনভাবে দল গুছানোর চেষ্টা করছে। এই সিরিজে তারা কয়েকজন নতুন ক্রিকেটারকে সুযোগ দিয়েছে। দলে থাকা ছয় অনভিষিক্ত ক্রিকেটারের মধ্যে চারজনই টপ অর্ডারের ব্যাটার। এর মধ্যে সাহিবজাদা ফারহানকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা, যিনি সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান করেছিলেন।
তাই অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও পাকিস্তানের নতুন মুখগুলোকে সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্কোয়াডে বড় কোনো চমক না থাকলেও দীর্ঘদিন পর আবার সুযোগ পেয়েছেন লিটন দাস ও আফিফ হোসেন।
ওয়ানডে ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে লিটনের পারফরম্যান্স প্রত্যাশামতো ছিল না। তবু স্পিন ভালো খেলতে পারার কারণে তাঁকে আবার দলে ফেরানো হয়েছে। দলের কোচ ফিল সিমন্স মনে করেন, ব্যাটিং অর্ডারের মাঝামাঝি জায়গায় খেললে লিটনের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে উইকেটকিপিংয়ের পর বিশ্রামও পেতে পারেন তিনি। এখন তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পুরোনো ছন্দে ফিরে আসা।
পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। তাঁর অধিনায়কত্বে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি সিরিজ জিতেছে পাকিস্তান। যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স খুব একটা নজরকাড়া ছিল না।
আরও পড়ুন
| শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় নিউক্যাসলকে থামাল বার্সেলোনা, স্লটের শততম ম্যাচে লিভারপুলের হার |
|
মিরপুরে ম্যাচ মানেই উইকেট নিয়ে আলোচনা। আগের সিরিজে এই মাঠে স্পিনারদের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচগুলোতে বেশির ভাগ ওভারই করেছিলেন স্পিনাররা। এমনকি এক ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পুরো ইনিংসই স্পিনে শেষ করেছিল।
তবে এবার দুই দলের কোচই জানিয়েছেন, উইকেট আগের তুলনায় কিছুটা ভালো। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবার বিকেলের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ জিতেছিল ৩–০ ব্যবধানে। এবারও সেই স্মৃতি মনে রেখে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। সিরিজে জয় পেলে ঈদের আগে সেটি দেশের সমর্থকদের জন্য দারুণ আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেতৃত্ব ভাগাভাগি করে করবেন নিউ জিল্যান্ডের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মিচেল স্যান্টনার ও টম ল্যাথাম। সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেবেন স্যান্টনার, আর শেষ দুই ম্যাচে অধিনায়কত্ব করবেন টেস্ট দলের অধিনায়ক ল্যাথাম।
গতকাল নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করলে এ তথ্য জানানো হয়। সিরিজটি শুরু হবে ১৫ মার্চ, মাউন্ট মঙ্গানুইতে।
সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় খেলেছিলেন স্যান্টনারসহ নিউজিল্যান্ডের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। সামনে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি থাকায় তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে সিরিজের বিভিন্ন সময়ে বিশ্রাম দেওয়া হবে। এর মধ্যে এপ্রিল-মেতে আইপিএল ও পিএসএলের সময় বাংলাদেশের সফর রয়েছে নিউ জিল্যান্ডের। এরপর শীত মৌসুমে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরও আছে কিউইদের।
প্রায় তিন বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরছেন টম ল্যাথাম। ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির হয়ে সুপার স্ম্যাশ ও ফোর্ড ট্রফিতে ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি।
দলের নির্বাচক গ্যাভিন লারসেন জানিয়েছেন, কয়েকজন ক্রিকেটারের বিশ্রাম ও চোটের কারণে দল নির্বাচন করতে কিছুটা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাঁর মতে, দলের গভীরতা থাকায় নতুন কয়েকজন ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
| শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় নিউক্যাসলকে থামাল বার্সেলোনা, স্লটের শততম ম্যাচে লিভারপুলের হার |
|
চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন অফস্পিন অলরাউন্ডার মাইকেল ব্রেসওয়েল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কাফ ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি তিনি এবং এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। চোটের কারণে বিবেচনায় আনা হয়নি পেসার অ্যাডাম মিলনে, ব্লেয়ার টিকনার ও উইল ও’রাউর্ককেও।
সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে উইকেটরক্ষকের দায়িত্বে থাকার কথা ডেভন কনওয়ের। শেষ দুই ম্যাচে তাঁকে বদলে দায়িত্ব নিতে পারেন ডেন ক্লিভার। সম্প্রতি প্লাঙ্কেট শিল্ডে খেলতে নেমে সেঞ্চুরি করে দারুণ ছন্দে আছেন তিনি।
এই সিরিজে নিউ জিল্যান্ড দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন দুই ক্রিকেটার—জেডেন লেনক্স ও কাতেনে ক্লার্ক। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ভালো পারফরম্যান্সের পর টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার লেনক্স। শেষ দুই ম্যাচে স্যান্টনার বিশ্রামে গেলে মূল স্পিনার হিসেবে খেলতে পারেন তিনি।
অন্যদিকে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা সুপার স্ম্যাশে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দলে জায়গা করে নিয়েছেন ওপেনার কাতেনে ক্লার্ক। নয় ইনিংসে ৪৩১ রান করে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭০-এর বেশি।
ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে থাকা বেভন জ্যাকবসও দলে জায়গা পেয়েছেন। সুপার স্ম্যাশে টানা পাঁচটি অর্ধশতক করে আলোচনায় আসেন এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান। এছাড়া টিম রবিনসন ও নিক কেলিকেও টপ অর্ডারে দেখা যেতে পারে।
অলরাউন্ডার হিসেবে দলে আছেন জিমি নিশাম ও জশ ক্লার্কসন। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন পেসার নাথান স্মিথ। এছাড়া কাইল জেমিসন ও বেন সিয়ার্সও এই সিরিজে সুযোগ পেতে পারেন।
নিউ জিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার এই টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ডাবল হেডার হিসেবে হবে, যেখানে একই দিনে নারী দলের ম্যাচও থাকবে। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সিরিজটি প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
লারসেন বলেছেন, বিশ্বকাপের পর এত দ্রুত আবার মাঠে নামার সুযোগ পাওয়া সমর্থকদের জন্যও দারুণ বিষয়। ঘরের মাঠে আবার দর্শকদের সামনে খেলতে মুখিয়ে আছেন দলের ক্রিকেটাররা।
নিউ জিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি দল:
মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক, ১–৩ ম্যাচ), কাতেনে ক্লার্ক (৪–৫ ম্যাচ), জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লিভার (উইকেটরক্ষক, ৪–৫ ম্যাচ), ডেভন কনওয়ে (উইকেটরক্ষক, ১–৩ ম্যাচ), লকি ফার্গুসন (২–৩ ম্যাচ), জ্যাক ফাউলকস, বেভন জ্যাকবস, কাইল জেমিসন, নিক কেলি, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক, ৪–৫ ম্যাচ), জেডেন লেনক্স (৪–৫ ম্যাচ), কোল ম্যাককনকি, জিমি নিশাম, টিম রবিনসন, বেন সিয়ার্স, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি।

সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে পূর্ণ দাপট দেখিয়েই বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। সদ্য সমাপ্ত টুর্নামেন্টের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে পাত্তাই দেয়নি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দলটি। পুরো টুর্নামেন্টেও তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া ভারতের পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। তবে ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টিভ হারমিসন বলেছেন, ভারত আসলে টুর্নামেন্টের সেরা দল ছিল না; তাঁর মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা আরও ভালো খেলেছিল।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারত প্রথম দল হিসেবে শিরোপা রক্ষা ধরে রেখেছে। এছাড়া স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার প্রথম মধূর অভিজ্ঞতাও হয় ভারতের। বিশ্বকাপের ১০তম আসরে মাত্র একটি ম্যাচই হেরেছে ভারত। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিধ্বস্ত হয়েছিল
ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে তারা সেমিফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের কাছে নয় উইকেটে হেরে যায় তারা।
অন্যদিকে আরেক সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারাতে ভালো ঘাম ঝরাতে হয় ভারতের। তবে ফাইনালে জাসপ্রিত বুমরাহ-সঞ্জু স্যামসনদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় ব্লাক ক্যাপসরা।
ভারতের প্রসঙ্গে মন্তব্য করে হারমিসন বলেছেন, ভারতের খেলোয়াড়রা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ভালোভাবে খেলেছে, তবে সামগ্রিকভাবে সেরা দল হিসেবে তারা পুরোপুরি পারফ্যাক্ট ছিল না। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল আরও ধারাবাহিক এবং ভালো দল।
ইউটিউব চ্যানেল টকস্পোর্টে হারমিসন বলেন,
‘ফাইনালে ভারত বড় ব্যবধানে জিতেছে অভিষেক শর্মা এবং সঞ্জুর জুটিতে ভর করে। বুমরাহ পুরো টুর্নামেন্টে ফ্ল্যাট পিচে পার্থক্য তৈরি করেছেন। আমি মনে করি না ভারত এই টুর্নামেন্টের সেরা দল ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকা সেরা দল ছিল। ভারত সেরা ‘মোমেন্ট’ দল ছিল। তারা বড় মুহূর্তগুলো জয় করেছে।’
হারমিসন আরও বলেন,
‘গ্রুপ পর্বে তাদের পারফরম্যান্স এতটা আশাব্যঞ্জক ছিল না আমার মনে হয়। এরপর তারা বড় মুহূর্তগুলো জয় করল। কোয়ার্টার-ফাইনালে (অলিখিত) ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সমস্যা হয়েছিল। ভারত তাদের বিগ-মোমেন্টে খেলোয়াড়দের কারণে এমন পরিস্থিতিতেও জয়ের পথ খুঁজে নিয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্টের বেশি ধারাবাহিক দল ছিল, ফিন অ্যালেনের সেই বিশেষ ম্যাচ ছাড়া। বড় মুহূর্তে চাপ সামলানো এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভারত অন্যদের চেয়ে ভালো করেছে।’

কলকাতায় আটকে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দলের খেলোয়াড়দের দেশে ফেরাতে আলাদা বাণিজ্যিক ফ্লাইটের টিকিটের ব্যবস্থা করেছে আইসিসি। এর আগে তাদের চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হয় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে।
জানা গেছে, কলকাতা থেকে উড্ডয়নের কথা থাকা চার্টার্ড ফ্লাইটটি শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়। লজিস্টিক জটিলতার কারণ দেখিয়ে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়। এর পর খেলোয়াড়দের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফেরাতে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের টিকিট বুকিং করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব খেলোয়াড়ের জন্য ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তারা ধাপে ধাপে ভারত ছাড়তে শুরু করেছেন।
পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথে বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সেই অঞ্চলের কিছু আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত করা অনেক বিমান সংস্থাকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির কারণে ভারত থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চল ও আফ্রিকার দিকে ফ্লাইট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিমান সহযোগী সংস্থাও দুবাইয়ের আকাশপথ বন্ধ থাকায় স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারেনি।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে দুই দলকে নিয়ে একটি যৌথ চার্টার্ড ফ্লাইটে কলকাতা থেকে জোহানেসবার্গ যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেখান থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্যদের অ্যান্টিগায় যাওয়ার কথা ছিল, আর দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়রা নিজ নিজ গন্তব্যে ছড়িয়ে পড়ার কথা ছিল।
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলেছিল কলকাতাতেই দুটি দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ মার্চ সুপার এইট পর্বে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেয়। আর দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযান শেষ হয় ৪ মার্চ প্রথম সেমিফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের কাছে হেরে।
তার পর থেকেই দুই দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাদের দেশে ফেরা বিলম্বিত হয়। পরে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের ব্যবস্থা করায় ধাপে ধাপে তারা ভারত ছাড়তে শুরু করেছেন।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা গুণতে হচ্ছে ভারতের পেসার পেসার আর্শদীপ সিংকে। আহমেদাবাদে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ড্যারিল মিচেলকে লক্ষ্য করে বল ছুঁড়েছিলেন তিনি।
বুধবার এক বিবৃতিতে আর্শদীপের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা। ম্যাচ ফি কর্তনের পাশাপাশি আর্শদীপের নামের পাশে এক ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হয়েছে।
নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসের ১১তম ওভারে বল করার পর ফলো–থ্রুতে বল কুড়িয়ে উইকেটের দিকে ছুড়ে দেন আর্শদীপ। সেই বল গিয়ে লাগে মিচেলের গায়ে। এ কারণে আইসিসির আচরণবিধির লেভেল–১ ধারা ভঙ্গের দায়ে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
আইসিসির আচরণবিধির ২.৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ম্যাচে কোনো খেলোয়াড়ের দিকে বা কাছাকাছি বিপজ্জনক বা অনুপযুক্তভাবে বল বা ক্রিকেট সরঞ্জাম ছুড়ে মারা নিষিদ্ধ।
জরিমানার পাশাপাশি আর্শদীপের শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ডে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয়েছে। গত ২৪ মাসে এটি তার প্রথম ডিমেরিট পয়েন্ট।
অন-ফিল্ড আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও অ্যালেক্স ওয়ার্ফ, তৃতীয় আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকার এবং চতুর্থ আম্পায়ার অ্যাড্রিয়ান হোল্ডস্টক অভিযোগটি আনেন। পরে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নেন আর্শদীপ। ফলে এ নিয়ে আলাদা কোনো শুনানির প্রয়োজন হয়নি।