১৩ জুলাই ২০২৫, ১১:৫০ পিএম

ডাম্বুলা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সমর্থকের স্রোত বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি লিটনদের সামনে। বরং দর্শক উপচে পড়া স্বাগতিক সমর্থকদের পিলে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ দল।সিরিজে বাঁচা মরার ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ রেকর্ড করে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ পাল্লেকেলেতে বাংলাদেশ হেরেছে ৭ উইকেটে। উইকেটের ব্যবধানে ওটাই ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় জয়। ওই হারের বদলা নিয়েছে বাংলাদেশ রোববার। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জয় ছিল ২০১৮ সালে সিলেটে ৭৫ রানে। লিটন (৫০ বলে ৭৫)- শামীম পাটোয়ারির (২৭ বলে ৪৮) ব্যাটিং, রিশাদ (৩/১৮)-শরিফুলের (২/১৪)-সাইফুদ্দিনের (২/২১) বোলিংয়ে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে ডাম্বুলায় বাংলাদেশ ৮৩ রানের বিশাল জয়ে ফিরেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে।
সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শেষ পাওয়ার প্লে'র ৩০ বলে ৬২ রান যোগ করায় চ্যালেঞ্জিং পুঁজি (১৭৭/৭) পেয়েছে বাংলাদেশ।এই পুঁজি নিয়ে জয়ের জন্য দরকার ছিল বোলারদের সমন্বিত পারফমেন্স। তাসকিন-তানজিম হাসান সাকিবের পরিবর্তে শরিফুল এবং মোস্তাফিজকে ফেরানোয় অনেক দিন পর বাংলাদেশ দলের বোলিং ছড়িয়েছে আতঙ্ক। শরিফুলের প্রথম স্পেল (৩-০-১৪-২) দিয়েছে ম্যাচ জয়ের আবহ।ওই স্পেলেই ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে শ্রীলংকা নেমেছে ব্যাকফুটে (৩৭/৪)। ইনিংসের মাঝপথে লেগ স্পিনার রিশাদের একটি ওভারে নিশাঙ্কা (২৯ বলে ৩২) এবং করুনারত্নে (০) ফিরে গেলে ম্যাচটা হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। লেগ স্পিনার রিশাদের একই স্পেলেই (৩.২-০-১৮-৩) ম্যাচে দারুনভাবে ফিরেছে বাংলাদেশ।নিজের প্রথম ওভারের ২য় এবং চতুর্থ বলে ছক্কা-চার খেয়ে হতোদ্যম হননি সাইফউদ্দিন। ওই ওভারের ৫ম বলে শামীম পাটোয়ারির দারুণ ডাইরেক্ট থ্রো-তে কুশল পেরেরাকে রান আউটে ফেরত পাঠিয়ে লংকান সমর্থকদের পিলে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে ১১ রান খরচ করা সেই সাইফুদ্দিন শেষ করেছেন ২ উইকেটে (৩-০-২১-২)।
এই ম্যাচে অধিনায়ক লিটনের বোলিং চেঞ্জ, ফিল্ড প্লেসিং সবই ছিল দারুন। তবে তার ব্যাটিংটা ছিল এক কথায় অসাধারণ। অধিনায়কের ব্যাটে রান না এলে তার বিরূপ প্রভাব পড়ে দলের উপর, পাল্লেকেলেতে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৬ রানে আউট হয়ে দলের সে বিপর্যস্ত চেহারা দেখেছেন লিটন। সিরিজের আশা বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচে নিজেকে ধরেছেন মেলে। করেছেন টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় সেরা পারফরমেন্স (৫০ বলে ১ চার, ৫ ছক্কায় ৭৬ রান)।
ইনিংসের প্রথম দুই ওভারে পারভেজ ইমন (৩ বলে ০) এবং তানজিদ হাসান তামিম (৮ বলে ৫) ফিরে যাওয়ার পর ডাম্বুলায় ছিল অশনি সংকেত। তবে লিটনের ক্যাপ্টেনস নক, হৃদয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৫৫ বলে ৬৯ এবং শামীম পাটোয়ারিকে নিয়ে ৫ম উইকেট জুটিতে ৫২ বলে ৭৭ রানে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ। হৃদয় এদিন ফিরে পেয়েছেন ছন্দ। শানাককে এক ওভারে পর পর দুই বলে ছক্কা এবং চার মেরে দিয়েছিলেন ফিফটির পূর্বাভাস। তবে বিনুরু ফার্নান্ডোর আউটসাইড অফ ডেলিভারিতে শর্ট থার্ডম্যানে থেমেছেন তিনি (২৫ বলে ৩১)।
ব্যাট করতে নেমে লিটন প্রথম বল ফেস করেছেন কভারে সিঙ্গল নিয়ে। শুরুতে আত্মবিশ্বাসী শট পেয়েও বেশ কিছুক্ষণ ছিলেন সতর্ক। প্রথম ৭ রানে খেলেছেন তিনি ১১টি বল। এর পর ব্যাটটা করেছেন চওড়া। বিনুরু ফার্নান্ডোকে দর্শনীয় পুল শটে ছক্কায় পেয়েছেন অক্সিজেন। চার-এর চেয়ে ছক্কার আধিক্য ছিল তার ইনিংসে। ৫টি ছক্কার ২টি মেরেছেন বিনুরু ফার্নান্ডোকে। ১টি করে মেরেছেন শানাকা, থিকসানা ও জেফরিকে। ৩৯ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বাদশ ফিফটি পূর্ণ করেছেন ছক্কার শটে। থিকসানাকে ডাউন দ্য উইকেটে ছক্কা মেরে ৬০ রানের মাথায় জেফরির বলে মিড অফে দিয়েছিলেন ক্যাচ। থিকসানার হাত থেকে ক্যাচ ফসকে যাওয়ায় ইনিংস টেনে নিতে পেয়েছেন ৭৬ পর্যন্ত। থিকসানার মিয এন্ড লেগ স্ট্যাম্পে পিচিং ডেলিভারিতে মিড উইকেট দিয়ে খেলতে যেয়ে থার্ডম্যানে দিয়েছেন ক্যাচ। শামীম পাটোয়ারীর সাথে ৫২ বলে ৭৭ রানের পার্টনারশিপটাই বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জিং পুঁজির জন্য সহায়ক হয়েছে। লিটনের পর ফিফটি পেতে পারতেন শামীম পাটোয়ারী। তবে করুনারত্নে এবং তুষারাকে ছক্কায় ডাম্বুলার দর্শকদের পিলে চমকে দেয়া শামীম পাটোয়ারি থেমেছেন ফিফটি থেকে ২ রান আগে। রান আউটে কাটা পড়েছেন তিনি (২৭ বলে ৫ চার, ২ ছক্কায় ৪৮)।
লিটন-হৃদয়-শামীম পাটোয়ারির ব্যাটিংয়ে যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে পেরেছে বাংলাদেশ, সেই চ্যালেঞ্জে ৮৩ রানের জয়ে সিরিজের ট্রফিতে এখন চোখ লিটনের দলের। আগামী ১৬ জুলাই প্রস্তুত প্রেমাদাসার মঞ্চ।
No posts available.
২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম
২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম
২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭:০৯ পিএম

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির ঘোষিত এই দলে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন বোলিং অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও পেসার রিপন মন্ডল। বয়সভিত্তিক এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতার পুরস্কার পেলেন দু’জন।
ডেথ ওভারে দুর্দান্ত বোলিংয়ে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন রিপন। ২৩ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার এর আগে ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে দেশের হয়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। তবে জাতীয় দলের স্কোয়াডে এটিই তার প্রথম ডাক।
রিপন মন্ডলের জাতীয় দলে অর্ন্তভুক্তি নিয়ে মঙ্গলবার বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হাবিবুল বাশার বলেছেন,
‘আপনারা দেখেছেন দু’জন নতুন মুখ আমরা অন্তর্ভুক্ত করেছি—রিপন মন্ডল এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইন। রিপন মন্ডল খুব ভালো করছিলেন। আমরা মনে করছি, ডেথ ওভারে এবং শুরুর দিকেও তার উইকেট নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। সেটা আমরা ভালোমতো ব্যবহার করতে পারব।’
বোলিং অলরাউন্ডার সাকলাইনকে দলে নেওয়ার ব্যাপারেও কথা বলেছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেছেন,
‘আমরা একটা বোলিং অলরাউন্ডার খুঁজছি। আব্দুল গাফফার সাকলাইন হয়তো সেই অপশনটা হতে পারেন। সেই চিন্তাভাবনা থেকেই তাকে দলে নেওয়া। আশা করছি তিনি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য সেই বোলিং অলরাউন্ডারের যে জায়গাটা সেটা পূরণ করতে পারবেন। তিনি সম্প্রতি ভালো ফর্মে আছেন। আশা করি তার সেই ফর্মটা আমরা কাজে লাগাতে পারব।’
ওয়ানডে সিরিজ ১-১ সমতায়। আগামী বৃহস্পতিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ চট্টগ্রামে। এরপরই টি-টোয়েন্টি মিশন। কুড়ি কুড়ির ফরম্যাটে সুবিধাজনক স্থানে কিউইরা। ২০ মুখোমুখিতে ১৫ বার জয় তাদের পক্ষে নিয়েছে। তারপরও বাশারের বিশ্বাস, দেশের এই টি-টোয়েন্টি দল সিরিজে ভালো ফল উপহার দিবে।
তিনি বলেন,
‘ব্যাটিংয়ে আগে যারা ছিলেন তারা সবাই আছেন। সেখানে আমরা ততটা পরিবর্তন করিনি। আশা করছি, আমাদের এই দলটা এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজটা ভালো করবে।’
প্রথম ও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশ স্কোয়াড:
লিটন দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন, তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), শামীম হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান, মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরীফুল ইসলাম, তানজিম হাসান, রিপন মন্ডল, সাইফউদ্দিন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত এই দলে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও পেসার রিপন মন্ডল।
মঙ্গলবার দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থার ঘোষিত ১৫ সদস্যের এই দলে বড় চমক অভিজ্ঞ তিন পেসারের অনুপস্থিতি। মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানাকে এই দুই ম্যাচের জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
পেস বোলিং আক্রমণে নতুনত্ব আনতে ডাক পেয়েছেন ২৮ বছর বয়সী সাকলাইন। টি-টোয়েন্টিতে কার্যকরী বোলিং দক্ষতার পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারে বড় শট খেলার সামর্থ্য থাকায় নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন তিনি।
ডেথ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতার পুরস্কার হিসেবে দলে জায়গা করে নিয়েছেন রিপন মন্ডল। ২৩ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার এর আগে ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের হয়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন। তবে মূল জাতীয় দলের স্কোয়াডে এটিই তার প্রথম ডাক।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেবেন লিটন কুমার দাস। তার সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন সাইফ হাসান।
আগামী ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে হবে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি। ২৯ এপ্রিল একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ম্যাচ। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি হবে ২ মে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
প্রথম ও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির বাংলাদেশ স্কোয়াড:
লিটন দাস (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন, তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), শামীম হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান, মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরীফুল ইসলাম, তানজিম হাসান, রিপন মন্ডল, সাইফউদ্দিন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

দিনের শুরুতেই কিছুটা হইচই ফেলেছেন জিসান আলম। চার দিনের ম্যাচ হলেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং যাঁর স্বভাবজাত—৫২তম বলে গিয়ে তিনি খুলেছেন নিজের রানের খাতা! তবে সেই টেম্পারমেন্ট বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি মধ্যাঞ্চলের তরুণ ব্যাটার। তার আগে দুই টপ অর্ডার—মাহফিজুল ইসলাম রবিন ও মোহাম্মদ নাঈম শেখও ফেরেন দ্রুত। অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুবের ব্যাটও হাসেনি। পূর্বাঞ্চল অবশ্য বোলিংয়ের এই ছন্দ দিনের বাকি অংশে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
মাঝে এক মৌসুম মাঠে গড়ায়নি—বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ১২তম সংস্করণ শুরু হয়েছে আজ থেকে। সিলেটে প্রথম দিন দুই ম্যাচেই ছিল বোলার-ব্যাটারদের সমান দাপট।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সাদমান-শিবলি ও রনির ফিফটিতে শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠে মধ্যাঞ্চল। দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৭৬ রান তুলেছে তারা। লাল বলের ক্রিকেটে তৃতীয় সেঞ্চুরির সুবাস পাচ্ছেন অলরাউন্ডার আবু হায়দার রনি। কাল দ্বিতীয় দিন ৯০ রান থেকে ব্যাটিং শুরু করবে তিনি। ৭৫ রানে অপরাজিত আছেন আশিকুর রহমান শিবলি।
সিলেট অ্যাকাডেমি গ্রাউন্ডে উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩১৪ রানে থেমেছে দক্ষিণাঞ্চল। শেষ বিকেলে ব্যাটিংয় নেমে ১৬ রান করেছে উত্তরাঞ্চল। সাব্বির হোসেন ১০ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন ৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
ইবাদত হোসেন-খালেদ আহমেদদের নিয়ে অভিজ্ঞ পেস বোলিং, নাঈম হাসান-হাসান মুরাদদের নিয়ে দারুণ স্পিন আক্রমণ পূর্বাঞ্চলের। বোলিংয়ের শক্তিতে মধ্যাঞ্চলকে সহজে গুটিয়ে দিতে চেয়েছিল তারা। টস জিতে তাই আগে বোলিং বেছে নেন অধিনায়ক জাকির হাসান। তাঁর প্রত্যাশা মতোই শুরু পায় পূর্বাঞ্চল। তোফায়েল আহমেদ-ইবাদতদের তোপের সঙ্গে দারুণ ঘূর্ণি জাদুতে ১১৬ রানে ৫ উইকেট হারায় মধ্যাঞ্চল।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে প্রথম উইকটে হারায় মধ্যাঞ্চল। ইবাদতের বলে দলীয় ১০ রানে ফেরেন ওপেনার রবিন (১)। সুইং-বাউন্সারে ইবাদত নতুন বলের সুবিধা আদায় করেন বেশ ভালোভাবে। নিজের পরের ওভারে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা নাঈমকেও (৪) পৌঁছাতে দেননি দুই অঙ্কের ঘরে।
জিসানকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে শুরুর চাপ সামলানোর চেষ্টা করেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। ৫৭ রানের জুটি গড়েন দুজনে। প্রথম ৫১ বলে কোনো রান নেননি জিসান। ভোগাতে থাকেন পূর্বাঞ্চলের বোলারদের। তবে দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে জিসানকে ফিরিয়ে দলকে দারুণ ব্রেক-থ্রু এনে দেন তোফায়েল। ৮০ বলে ১৪ রান ফেরেন জিসান।
মার্শালকেও (৯) থিতু হতে দেননি তোফায়েল। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে ফিফটি তুলে নেন সাদমান। তারপরে তিনিও বেশি দূরে যেতে পারেননি, নাঈমের শিকার হয়েছেন ১১৪ বলে ৫৬ রানে। পরের ওভারে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে (৯) ফেরান মুরাদ।
১২৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় মধ্যাঞ্চল। শঙ্কা জাগে স্কোর ২০০-তে পৌঁছানোর। সেখান থেকে সপ্তম উইকেটে শিবলি-রনির ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। দুজনে গড়েছেন ১৫০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। দিনশেষে ১৫১ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত আছেন শিবলি। বিপরীতে রনি খেলেছেন ব্যাট চালিয়ে। ১১০ বলে অপরাজিত থাকেন ৯০ রানে ইনিংসে মেরেছেন ১০টি চার ও ৩টি ছক্কা। পূর্বাঞ্চলের বোলারদের মধ্যে ইবাদত ও তোফায়েল দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
অ্যাকাডেমি গ্রাউন্ডে দক্ষিণাঞ্চলের ইনিংসে ফিফটি হাতছাড়ার হিঁড়িক। দলের ৭ ব্যাটার দুই অঙ্কেরে ঘরে পৌঁছেছেন, ফিফটি করতে পেরেছেন শুধু অধিনায়ত মোহাম্মদ মিঠুন (৫৩)। পাঁচটি ইনিংসে পেরিয়েছিল অন্তত ৩০। ৪৯ রান করে ফেরেন ওপনোর ইফতিখার হোসেন। ৪৭ রানে আউট হয়েছেন রিজান হোসেন। উত্তরাঞ্চলের বোলারদের মধ্যে তাইজুল ইসলাম ও মামুন ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন।

সফরকারী শ্রীলঙ্কা নারী দলকে ৩ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ শুরুর ম্যাচে অনবদ্য এক ইনিংস উপহার দেন শারমিন আক্তার। তাঁর ৮৬ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে সহজ জয় পায় বাংলাদেশ। রাজশাহীর সেই ইনিংসের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই সুসংবাদ পেলেন টাইগ্রেস ওপেনার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থার সবশেষ হালনাগাদকৃত র্যাঙ্কিংয়ে এক লাফে সাত ধাপ এগিয়েছেন শারমিন। ব্যাটারদের তালিকায় ডানহাতি ব্যাটার উঠে এসেছেন ২২তম স্থানে। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
শারমিন ছাড়াও সোবহানা মোস্তারি ৮ ধাপ উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশের এই ব্যাটার ৫০তম স্থানে উঠে এসেছেন। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪১ রানের ইনিংস খেলার পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছেন মোস্তারি।
ব্যাটারদের তালিকায় শীর্ষে ভারতের স্মৃতি মান্দানা। ৭৯০ রেটিং পয়েন্ট তার। দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার লরা উলভার্ট। তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার বেথ মনি।
বোলারদের তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে ১৩ নম্বরে উঠে এসেছেন নাহিদা আক্তার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৮ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি স্পিনার। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে তিনিই রয়েছেন সবার ওপরে। লেগ স্পিনার রাবেয়া খান এক ধাপ উন্নতি করে জায়গা করে নিয়েছেন ২০তম স্থানে। পেসার মারুফা রয়েছেন যৌথভাবে ৪৩তম স্থানে। বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের সাদিয়া ইকবাল। দ্বিতীয় স্থানটিও অক্ষত রয়েছে।

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের ২০ বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের যাত্রা শুরু করেছে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় ক্রিকেট ভেন্যু প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম। অথচ, কী জানেন, গত সোমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের সংখ্যায় প্রেমাদাসাকে স্পর্শ করেছে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। ৪০ বছর বয়সে প্রেমাদাসায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের সমষ্টি ২২৩, সেখানে ১৯ বছর ৪ মাস ১২ দিনে প্রেমাদাসার সমান আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করেছে বাংলাদেশের হোম অব ক্রিকেট শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। আগামী ২ মে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের টসের সঙ্গে সঙ্গে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামকে ছাড়িয়ে যাবে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। সেই দিনই সর্বাধিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনে ৬ষ্ঠ ভেন্যু হয়ে যাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট ভেন্যুটি।
ফুটবল থেকে ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রূপান্তরের পরে আইসিসির স্বীকৃতি পেয়ে ২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যাত্রা শুরু। ৭০৭৩ দিন আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআই ম্যাচ দিয়ে যখন এই স্টেডিয়ামটির আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিষেক হয়েছে, তখন কী এতো দ্রুত একটার পর একটা ম্যাচের মাইলস্টোনে রেকর্ড করবে এই ভেন্যুটি, তা কী কল্পনা করেছে কেউ ?
আরও পড়ুন
| সৌদি আরবে আধুনিক স্টেডিয়াম বানাবে পাকিস্তান |
|
অথচ, কী জানেন ২০১৮ সালের ১৭ জুন শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়ের ম্যাচ দিয়ে এই ভেন্যু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচের সেঞ্চুরি করেছে। ১১ বছর ৬ মাস ৯ দিনে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনে সেঞ্চুরিতে বিশ্বরেকর্ড করেছে মিরপুর। আন্তর্জাতিক ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরিতেও বিশ্বরেকর্ড। ২০২৩ সালের ৩ মার্চ বাংলাদেশ-ইংল্যান্ডের মধ্যে ওডিআই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের দিন এই ভেন্যু ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছে। যে রেকর্ডে লেগেছে ১৬ বছর ২ মাস ২৩ দিন।
গত ১৭ এপ্রিল নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজের প্রথম ম্যাচে শের-ই-বাংলা ম্যাজিকাল ফিগার (২২২) স্পর্শ করেছে। ৩দিন পর সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে স্পর্শ করেছে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামকে।
আরও পড়ুন
| ‘বন্ধু’ কোহলির জন্যই ক্রিকেট দেখেন কিংবদন্তি জোকোভিচ |
|
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বছরে গড়ে ১২টির কাছাকাছি ম্যাচ আয়োজন করেছে বিসিবি। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই লর্ডস, মেলবোর্ন, সিডনিকে ছাড়িয়ে যাবে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। ক্রিকেটের মক্কা খ্যাত লর্ডস ১৪২ বছরে আয়োজন করেছে ২৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। মাত্র ২০ বছরেই লর্ডসকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে ক্রিকেট সমর্থকরা শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামকে ঘিরে। আর মাত্র ৭টি ম্যাচ হলেই লর্ডসের ম্যাচ সংখ্যাকে স্পর্শ করবে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। আগামী জুন পর্যন্ত হোমে যে সূচি চূড়ান্ত করেছে বিসিবি, তাতে এই সময়ের মধ্যে ৪টি ম্যাচ শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে চূড়ান্ত। সেপ্টেম্বরে ভারত ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের কথা। ৩ ম্যাচের ওডিআই এবং ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজের জন্য প্রধান ভেন্যু হিসেবে বিবেচিত হবে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোমে ২ টেস্টের একটির জন্যও বিবেচিত হবে মিরপুর। তাহলে তো এ বছরই ম্যাচ আয়োজনের সংখ্যায় লর্ডসকে ছাড়িয়ে যাবে মিরপুর। তখন সামনে থাকবে শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়াম (৩১৮ ম্যাচ), হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠ (৩০৫ ম্যাচ), সিডনি ক্রিকেট গ্র্যাউন্ড (২৯৫ ম্যাচ), মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্র্যাউন্ড (২৯০ ম্যাচ)।