
ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সোনালি যুগের শেষ যে কয়েকজন প্রতিনিধি নিজের সময়ে দেখিয়েছেন দাপট, তিনি তাদের মধ্যে সেরাদের কাতারেই থাকবেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ গ্রেট কার্টলি অ্যামব্রোসকে আধুনিক যুগের অনেক পেসাররাই তাদের আইডলও মানেন। ইতিহাদের স্মরণীয় কিছু স্পেল উপহার দেওয়া সাবেক এই পেসার নিজের দিনে ব্যাটারদের জন্য ছিলেন এক বিভীষিকার নাম। কোর্টনি ওয়ালসের সাথে নব্বইয়ে গড়েছিলেন ভয়ংকর এক পেস জুটি, যা আজও হয়ে আছে রুপকথার গল্প।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬৪০ উইকেট নেওয়া সেই অ্যামব্রোস এবারের বিপিএলেও এসেছিলেন ধারাভাষ্য দিতে। দেশে ফেরার আগে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের এই কিংবদন্তি টি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন নিজের খেলোয়াড়ি জীবন থেকে শুরু করে পেস বোলিংয়ের খুটিনাটি সহ নানা বিষয়ে।
পাঠকদের জন্য অ্যামব্রোসের সেই সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল :
প্রশ্ন : শুরুতেই জানতে চাই, বাংলাদেশে আবার আসা এবং বিপিএলে ধারাভাষ্য দেওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
অ্যামব্রোস : অসাধারণ অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশে যতবারই আসি, যেখানেই যাই, মানুষের যে ভালোবাসা পাই, সেটা দুর্দান্ত। দুই যুগ আগে অবসরে যাওয়া সাবেক এক পেসারকে এই দেশের মানুষ যে সম্মান দেয়, আমার কাছে সেটা অবিশ্বাস্যই লাগে। আর ধারাভাষ্য দিতে তো ভালোই লাগে। এখানে আমার পুরনো বন্ধু আতাহারের সাথে দেখা হয়, আবার অন্যদের সাথেও বোঝাপড়াটা বেশ ভালো আমার আগে কাজ করার সুবাদে। সব মিলিয়ে উপভোগ করছি।
প্রশ্ন : এই প্রশ্নটা এল আপনার কথা থেকেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসের অন্যতম গ্রেট পেসার আপনি। আরও যদি বলি, ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা কয়েকজন পেসারদের একজন হিসেবে ধরা হয় আপনাকে। সেই আপনি নিজেকে যেভাবে স্রেফ সাবেক একজন পেসার হিসেবে উল্লেখ করলেন, এটা আপনার বোলিংয়ের একজন ভক্তের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন নয় কি?
অ্যামব্রোস : দেখুন, কার কী মনে হবে সেটা ভেবে তো আপনি জীবন চালাতে পারবেন না। নাকি? আমি নিজেকে যেভাবে দেখি, সেটাই বলি। আমরা যখন খেলেছি, সেই সময়ের দর্শকদের কাছে হয়ত আমার পরিচিত ছিল, হয়ত খেলাও দেখেছে। কিন্তু নতুন প্রজন্মের কাছে আমার পরিচয় স্রেফ একটা নাম দিয়ে, পরিসংখ্যান আর ইউটিউব ভিডিও দেখেই। আমি ধারাভাষ্যকার হিসেবে যখন থেকে কাজ করছি, তখন থেকে আমি নিজের খেলোয়াড় জীবনকে একপাশে সরিয়ে রাখি। দুটি জিনিস একসাথে মিলিয়ে ফেললে সেটা খুব ভালো কিছু বয়ে আনবে না।
প্রশ্ন : জীবনকে এত সরলভাবে দেখার শিক্ষাটা কি পরিবার দেখেই পাওয়া?
অ্যামব্রোস : হয়ত। আমার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল ছিল না। বাবা ছিলেন কারপেন্টার। ক্রিকেটের সাথে তিনি বা তার আগের প্রজন্মের কারও সেভাবে আগ্রহ হয়নি খেলোয়াড় হওয়ার। মায়ের উৎসাহে তাই ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা যখন শুরু করলাম, তখন থেকেই বুঝতে পারছিলাম যে পথটা খুব মসৃণ হবে না। আমাদের পরিবারের ক্রিকেটে কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। বাবা আমার ক্রিকেটার হওয়ার পক্ষে না থাকলেও বাধাও দেননি। তার বলা একটা কথাই মাথায় গেঁথে গিয়েছিল, ‘জীবনে যত বড় যাই কিছু হওনা কেন, কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়।’ তাই পেশাদার জীবনের অর্জন আর ব্যক্তিগত জীবনকে আমি আলাদা রাখতে পারি।
প্রশ্ন : এই যার জীবনবোধ, তার সাথে ১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিখ্যাত সেই টেস্টের ঘটনার মিল পাওয়া বেশ কঠিন। ওই ম্যাচে তো আপনার সাথে রীতিমত লেগে গিয়েছিল স্টিভ ওয়াহের। একবার শুনেছিলাম, আপনি নাকি সরাসরি তাকে হুমকিও দিয়েছিলেন মাঠে। হিট অব দ্য মোমেন্ট?
অ্যামব্রোস : বলতে পারেন। এই ব্যাপারে আগেও অনেক কথা বলেছি। তবুও জানতেই যখন চাইলেন, তাই বলি। দেখুন, অজিরা অনেক কঠিন মানসিকতার। মাঠে জেতার জন্য প্রতিপক্ষকে সম্ভাব্য সব উপায়ে গুঁড়িয়ে দিতে চায় ওরা। সেখানে আমি একজন মানুষ, যে আগ্রাসনকে কখনই ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে না। কিন্তু স্টিভ আমাকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছু বলেছিল, যা আমাকে সাথে সাথেই তাতিয়ে দেয়। হুমকি কিনা জানিনা, তবে আমি তাকে সরাসরি বলে দিয়েছিলাম, ‘এই ম্যাচের পর হয়ত আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে, তবে আমি এটাও নিশ্চিত করে দেব যাতে তোমারটাও শেষ হয়।’
প্রশ্ন : আমি স্টিভ ওয়াহকে যা বলেছেন, সেই ঘটনার সাথে কি আমরা ২০০৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে জিনেদিন জিদানের সেই ঘটনার মিল ছিল?
অ্যামব্রোস : আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চাচ্ছি না আসলে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে স্টিভকে আমি আগেও সম্মান করটাম, এখনও করি। সেদিন সেই ম্যাচে আমি যা বলেছিলাম, তা নিয়ে আমার আক্ষেপ নেই কোনো। তবে অতীত নিয়ে পড়ে থাকার লোকও না আমি।
প্রশ্ন : নব্বইয়ের দশকে যে ম্যাচকে ঘিরে আপনাদের এই ঘটনাটি হল, ঠিক ওই সময়টাকে বলা হয় ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সূর্যাস্তের সময় আর অস্ট্রেলিয়ার সূর্যোদয়ের। এই হাতবদলটা খুব কাছ থেকে দেখেছেন আপনি। মূল কারণ কি ছিল?
অ্যামব্রোস : এটা বলা আসলে কঠিন। কারণ, এখানে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। বোর্ড, সরকার, ক্রিকেট কাঠামো, তারকা খেলোয়াড়ের ইগো সহ আরও অনেক কিছুই। তবে যত্ন না নিলে হীরাও তো কয়লা হয়ে যায়, তাই না? সত্তর দশক থেকে নব্বই পর্যন্ত যে দলটা এত এত গ্রেট ক্রিকেটার উপহার দিল, আধিপত্য বিস্তার করল - এরপর হঠাৎ করে তারা শুধু পতনের দিকেই গেল। এটা তো হতে পারে না। এখন না হয় তরুণরা টি-টোয়েন্টির দিকে ঝুঁকেছে, কিন্তু নব্বই দশক থেকেই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট পথ হারাল, সেটার পেছনে ক্রিকেটীয় ছাড়াও আছে অনেক বিষয়। আমি সেসব নিয়ে কথা বলতে চাই না।
প্রশ্ন : টি-টোয়েন্টির কথা বললেন, গত এক যুগে এই ফরম্যাটে যে কয়েকজন নিজেদের কিংবদন্তির কাতারে নিয়ে গেছেন, তাদের মধ্যে দুজন ডোয়াইন ব্রাভো ও কিয়েরন পোলার্ড। তবে দুজনের কেউই জাতীয় দলের হয়ে একটা সময়ের পর সেভাবে সার্ভিস দেননি, বা দিতে চাননি বা পারেননি। এই তালিকায় আরও আসতে পারেন সুনিল নারাইন, আন্দ্রে রাসেলরা। হতাশাজনক?
অ্যামব্রোস : একদমই না। যে খেলতে চায় না, আপনি তো তাকে জোর করে খেলাতে পারবেন না। হ্যাঁ, চাইলেই তারা জাতীয় দলের হয়ে লম্বা ক্যারিয়ার গড়তে পারত। কিন্তু তারা সেটা চায়নি। এখানে তো আমি দোষের কিছু দেখি না। আপনি তাদের ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের প্রতি নিবেদনের কমতি নিয়ে কথা বলতে পারেন। তবে কে জাতীয় দলে খেলবে আর কে খেলবে না, এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার কাছে।
প্রশ্ন : এটা কি ভালো উদাহারণ? বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য?
অ্যামব্রোস : দেখুন, ভালো উদাহারণ বলতে আপনি কি বোঝেন তা আমার জানা নেই। কিন্তু আমি মনে করি যদি উদাহারণ তৈরি করাই যেত, তাহলে সত্তর থেকে নব্বই দশকের ওই সোনালি সময়ের পর কেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল হিসেবে শুধু পিছিয়েই যাচ্ছে? আগের প্রজন্মের খেলা দেখেই তো ব্রাভো-পোলার্ডরা বড় হয়েছে। তারা সেটাই করেছে, যেটা তাদের কাছে ঠিক লেগেছে। এখানে কে ভুল আর কে ঠিক, সেই বিচার করাটা কঠিন কাজ।
প্রশ্ন : এবার একটু বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কথা বলি। সাকিব, তামিম, মাশরাফিরা যখন খেলা শুরু করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট তখনও ছিল পেছনের বেঞ্চের ছাত্র। খুব বড় উন্নতি হয়ত হয়নি, তবে তারা সহ একটা ব্যাচের হাত ধরে বাংলাদেশ দল বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। লিগ্যাসির কথা যে বলা হয়, তাদের প্রভাবটা কি বাংলাদেশের ক্রিকেটে সামনে দেখা যেতে পারে?
অ্যামব্রোস : আপনি ভুল মানুষকে প্রশ্নটা করেছেন। আমি এখানে আসি স্রেফ ধারাভাষ্য দিতে। আর দূর থেকে খেলা দেখি মাঝেমধ্যে। এর বাইরে আমি সেভাবে জানি না এখানে ক্রিকেটের উন্নতি নিয়ে কেমন কাজ হচ্ছে বা তরুণরা সাকিব-তামিমের মানে যাওয়ার মত কিনা। তবে এটা তো বলাই যায়, যাদের নাম বললেন, তারা তো বাংলাদেশের কিংবদন্তি। আমি নিশ্চিত তাদের দেখে অনেকেই সাকিব, তামিম হতে চাইবে। সেই অনুপ্রেরণার জায়গাটা অবশ্যই এগিয়ে নেবে বাংলাদেশকে।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ আইসিসির পূর্ণ সদস্য হয়েছে ২০০০ সালে। ওয়ানডেতে কিছু বিচ্ছিন্ন সাফল্য থাকলেও এখনও সাদা বলের ক্রিকেটে নেই আইসিসি ইভেন্টে কোনো শিরোপা। টেস্ট ক্রিকেটের চিত্রটা এত বছর পরও আশানরুপ নয়। একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশের উন্নতির এই ধারা আপনি কীভাবে দেখেন?
অ্যামব্রোস : দেখুন, উন্নতি কে কতটুক করল, সেটা বোঝার আগে তার কাছে উন্নতির সংজ্ঞাটা কেমন। কেউ ক্লাসের ফার্স্ট বয় হতে চাইবে, আবার কেউ পাস করতে পারলেই খুশি। অন্য দেশগুলোকে সরিয়ে রেখে যদি শ্রীলঙ্কার দিকেও তাকান, তারা ১৯৯৬ বিশ্বকাপ জিতেছিল সীমিত সামর্থ্য নিয়েই। অথবা বলা যায় ১৯৯২ বিশ্বকাপের ইমরানের খানের সেই পাকিস্তান দলের কথাও। নিজেদের ওপর বিশ্বাসটাই ওদের সবার চেয়ে এগিয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশ যদি এমন উচ্চতায় যেতে চায়, তাদের সবার আগে নিজেদের সামর্থ্যের ওপর অমন বিশ্বাস আনতে হবে। সাকিব, তামিম, মাশরাফি বা আশরাফুলের মত অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার প্রায় একই সময়ে এই দলে খেলেছে। সেই অনুযায়ী সাফল্য যে আসেনি, সেটা দৃশ্যমান। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তারা অন্তত সেই বিশ্বাসটা দিতে পেরেছে যে, তারা বড় দলগুলোর সাথে চোখে চোখ রেখে লড়তে পারে। তরুণ ক্রিকেটারদের দায়িত্ব এখন পরের ধাপে যাওয়ার।
প্রশ্ন : সেই তরুণদের একজন নাহিদ রানার ব্যাপারে আপনার কাছে একটু জানতে চাই। বাংলাদেশ তো বটেই, তরুণ এই গতিময় পেসার এই মুহূর্তে বিশ্ব ক্রিকেটেও অন্যতম আলোচিত এক নাম। বিপিএলে খুব কাছ দেখলেন তাকে। তাকে কি বেছে বেছে খেলানো উচিত বাংলাদেশের?
অ্যামব্রোস : সেই সিদ্ধান্ত বিসিবিকেই নিতে হবে। একজন তরুণ পেসার এত জোরে বল করছে - আপনি চাইবেন যত সম্ভব তাকে খেলাতে। কারণ, এই ধরণের পেসাররা প্রতিপক্ষকে বাড়তি দুর্ভাবনায় ফেলে দেয়। উইকেট যদি নাও পায়, এক-দুইটা স্পেলে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার সক্ষমতা থাকে নাহিদের মত বোলারদের। এখন আপনি কীভাবে সেই ভারসাম্যটা রাখবেন, সেটার ওপর নির্ভর করবে সে কততুকু এগিয়ে যেতে পারবে। তার নিজেরও সচেতন হতে হবে। একজন পেসারের জীবন মোটেও সহজ নয়। খাওয়া থেকে শুরু করে ঘুম, সব ব্যাপারেই আপনাকে নিজের যত্ন নিতে হবে। আর এই যুগে এসে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের কাড়াকাড়ি তো আছেই। সেখানেও আপনাকে সচেতন হবে। এবার আসি তার বোলিংয়ের দিকে। নাহিদের বোলিং অ্যাকশন খুব স্মুথ। আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি তার অনুশীলনও। তার রানিং থেকে শুরু করে বোলিং অ্যাকশন সবই একজন ফাস্ট বোলারের জন্য আদর্শ। অনভিজ্ঞতার কারণে প্রায়ই সে খরুচে হবে, তবে তাতে প্রভাবিত হওয়া চলবে না। এই ধরণের বোলাররা যত বেশি খেলবে, তত বেশি নিজেকে গড়বে আর নতুন নতুন স্কিল রপ্ত করবে।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ দলের অন্য দুই পেসার হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদদের কেমন দেখলেন?
অ্যামব্রোস : হাসান সত্যি বলতে আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি শুনে অবাক হয়েছি যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে তার জায়গা হয়নি। ডেথ ওভারে টানা ইয়র্কার করে যাওয়া এই যুগে খুব কঠিন। কারণ, ব্যাটাররা এখন অনেক স্কিলড। ইয়র্কারকেও তারা বাজে বল বানিয়ে চার-ছয় মেরে দেয়। আর তাই আপনাকে খুব নিখুঁত হতেই হবে। তাসকিনের ব্যাপারেও একই কথাই বলব। আমি ইম্প্রেসড তার বোলিংয়ে। গত দুই-তিন বছর ধরে তাসকিন খুব ভালো করছে। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। যার নামটা বলেননি, সেই খালেদও (আহমেদ) দারুণ বোলার। পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশ উজ্জ্বল একটা ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।
প্রশ্ন : ২০১০ থেকে ২০২০, এই সময়ে ব্যাটারা সব ফরম্যাটেই করেছেন রাজত্ব। বিশেষ করে টেস্টে ফ্যাভ ফোর খ্যাত কোহলি, রুট, উইলিয়ামসন, স্টিভ স্মিথের পাশাপাশি বাবর আজমরাও রান করেছেন অনেক, ছিলেন ভীষণ ধারাবাহিকও। তবে কয়েক বছর ধরেই তাদের বেশ সংগ্রাম করতে হচ্ছে। অন্যদিকে একই সময়ে ক্রমেই আধিপত্য দেখা যাচ্ছে বোলারদের, বিশেষ করে পেস বোলিংয়ে। বাংলাদেশের মত একসময়ের স্পিন নির্ভর দলে পেসারদের একটা বিপ্লব হয়ে গেছে। ব্যাপারটা কীভাবে দেখেন?
অ্যামব্রোস : আসলে যুগে যুগে এভাবেই তো চলে আসছে, তাই না? তবে এটা তো মেনে নিতেই হবে যে মাঝে খেলাটা অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যাটারদের জন্য উপযোগী হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে চিন্তা করলে এখন অনেক বদল এসেছে। অস্ট্রেলিয়া বলুন আর বাংলাদেশ, টেস্ট ম্যাচে সবাই এখন নামে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার মত বোলার নিয়েই। কারণ, সবাই ফলাফল বের করতে চায়। সব দলেই কমবেশি প্রতিভাবান বোলার থাকায় ব্যাটারদের তাই কাজটা একটু কঠিন হয়ে গেছে। বোলারার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি আগ্রাসী, ফলে ব্যাটারদের তারা বাড়তি চ্যালেঞ্জ ফেস করতে হচ্ছে। কিন্তু আপনার যদি স্কিল থাকে, আপনি ঠিকই উপায় একটা বের করেই ফেলবেন। যেমনটা আমরা দেখলাম (স্টিভ) স্মিথের ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে। খেলাটির জন্য এই ভারসাম্য খুব জরুরি।
প্রশ্ন : টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাহলে চিন্তার খুব বেশি কিছু নেই?
অ্যামব্রোস : আমি তো এমন কোনো সম্ভাবনাই দেখি না। টেস্ট ক্রিকেট তো এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় পার করছে। কেউই আর ড্রয়ের জন্য খেলতে নামে না। এরচেয়ে ভালো বিজ্ঞাপন আর কী হতে পারে! নেটফ্লিক্স যখন আসল, কিছু লোক বলা শুরু করল যে সিনেমা নাকি আর চলবে না। মানে সিনেমা হলে গিয়ে আর কেউ সিনেমা দেখবে না। কিন্তু আমরা তো দেখছি দুটোই চলছে একসাথে। টেস্ট আর টি-টোয়েন্টির ব্যাপারটা একই। তবে ওয়ানডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি শতভাগ নিশ্চিত নই।
No posts available.
৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:০৯ পিএম

রংপুর রাইডার্সের শীর্ষস্থান নিশ্চিত নাকি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের লজ্জার রেকর্ড থেকে রেহাই—বিপিএলের আজ বিপরীত সমীকরণ মাথায় রেখে খেলতে নেমেছিল দু’দল। শেষ পর্যন্ত সম্মান রক্ষা হয়েছে প্রথমবার বিপিএলে অংশ নেওয়া নোয়াখালীর। টানা ছয় ম্যাচে হারের পর সপ্তম ম্যাচে ৯ রানে জয় পেয়েছে হায়দার আলীর নেতৃত্বাধীন দলটি।
তুমুল আগ্রহ-উদ্দীপনা ও দর্শক সমর্থন নিয়ে প্রথমবার বিপিএল ক্রিকেট খেলতে এসে একের পর এক শুধু ব্যর্থতাই দেখছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। একে একে টানা ছয়টি ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্টে সবার নিচে রয়েছে বিপিএলের নবাগত দলটি। ২০১২ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম সংস্করণে টানা সাত ম্যাচ পরাজয়ের পর অষ্টম ম্যাচে গিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছিল সিলেট রয়্যালস। টানা হারের সেই লজ্জার রেকর্ডে ভাগ বসানোর শঙ্কা ছিল নোয়াখালীর। তবে অবশেষে জয় পেয়ে সেই অপ্রীতিকর রেকর্ড এড়াল তারা।
শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯.৫ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান করে নোয়াখালী। জবাবে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৯ রানে থামে রংপুর।
এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে উন্নতি হয়নি নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। ষষ্ঠ নম্বরেই অবস্থান করছে দলটি। আজ জিতলে ১০ পয়েন্ট হতো রংপুর রাইডার্সের। নেট রান রেটে ভর করে বন্দর নগরীর ফ্রাঞ্চাইজিকে পেছনে ফেলার সুযোগ ছিল তাদের। তবে দুই পয়েন্ট না পাওয়া দুইয়েই অবস্থান করছে রংপুর।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো ছিল না রংপুরের। দলীয় ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় তারা। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বলে লিটন দাস বোল্ড হওয়ার পর ডেভিড ম্যালানকে বোল্ড করেন স্পিনার নবী।
অবশ্য দুই ওপেনারকে হারানোর পরও পথ হারায়নি রংপুর। তৃতীয় উইকেটে ৫১ বলে ৬৩ রান যোগ করেন তাওহিদ হৃদয় ও ইফতিখার আহমেদ। তাদের দুর্দান্ত এই জুটি শেষ হয় জহির খানের বলে ৩১ বলে ৩৭ করা ইফতিখার আউট হলে।
১৪.৫ ওভারে ১০০ রান তোলার পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উইকেটও হারায় রংপুর। সবশেষ তিন ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করা এই ব্যাটার আউট হন ৮ বলে ৯ করে। আরও ৭ রান যোগ হতেই উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া হৃদয়ও আউট হয়ে সমীকরণ কঠিন করে ফেলেন রংপুরের। পঞ্চম উইকেট পতনের পর জয়ের জন্য শেষ চার ওভারে রংপুরের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ রান।
এবারের বিপিএলে ব্যর্থতার ধারা বজায় রাখেন সোহান। মেহেদী হাসান রানার বলে ৬ বলে ৪ রান করে আউট হয়ে দলকে আরও বিপদে ফেলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। আট নম্বর ব্যাটার হিসেবে মাঠে নামেন মৃত্যুঞ্জয়।
এরপর রংপুরকে জেতানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিলেও ব্যর্থ হন খুশদিল শাহ। শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় ২৩ রান। বিলাল সামির করা ১৯তম ওভারে ৮ রান তোলার পর শেষ ওভারে লক্ষ্য দাড়ায় ১৫ রান।
নোয়াখালীর হয়ে শেষ ওভার করতে আসেন আগের তিন ওভারে ২১ রান দিয়ে এক উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ। মাত্র পাঁচ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে নোয়াখালীকে প্রথম জয় এনে দেন তিনি। তাঁর করা প্রথম ডেলিভারিতেই ১৬ বলে ২৪ করা খুশদিল আউট হন সৌম্য সরকারের ক্যাচ হয়ে। পরের বলে সিঙ্গেল নেওয়ার পর তৃতীয় বলে আউট হন মৃত্যুঞ্জয়ও। দশ নম্বরে নামা মোস্তাফিজ চার মেরে রংপুরকে আশা দেখালেও শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসে নোয়াখালীই।
টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শেষ দিকে ব্যাটিং ধসের কবলে পড়ার আগে শুরুটা মন্দ ছিল না নোয়াখালীর। প্রথম ৬ ওভারে তারা তুলেছিল ৬৬ রান। তবে ১৬ বলে ৩০ রান করা হাবিবুর রহমান সোহান, আর ২৭ বলে ৩১ করা সৌম্য সরকারের শুরুটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় নোয়াখালী।
প্রথম ২ ওভারেই ২৫ রান তুলে নোয়খালী। রংপুর পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর প্রথম ওভার থেকে এসেছে দলটি তোলে ১৪ রান। এরপর ডানহাতি স্পিনার ইফতিখার আহমেদের ওভার থেকে এসেছে ১১।
আক্রমণে এসেই নোয়াখালীর ওপেনিং জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর প্রথম বলেই ব্যাট দিয়ে স্টাম্পে টেনে বোল্ড হয়েছেন শাহাদাত হোসেন। ৮ বলে ৩ চারে ১৪ রান করেছেন এই ব্যাটার।
দ্বিতীয় উইকেটে সোম্য-সোহানের ৪৫ রানের জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন সুফিয়ান মুকিম। ৩০ রান করা হাবিবুর পাকিস্তানি স্পিনাররের বলে লং অনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর জোড়া আঘাত করেন রংপুরের স্পিনার খুশদিল শাহ। ওভারের প্রথম বলে ৩১ রান করা সৌম্যকে ফেরানোর পর দ্বিতীয় বলে বোল্ড করেন মোহাম্মদ নবীকে।
স্কোরবোর্ডে আর ৫ রান যোগ হতেই আরেক ব্যাটার সাজঘরের পথ ধরেন। ঘণ্টায় ১৪৯ কিলোমিটার গতিতে করা নাহিদ রানার শর্ট বলটি থেকে কোনোভাবে বাঁচতে চেয়েছিলেন হায়দার আলী। তবে বল গ্লাভসে লেগে চলে যায় উইকেটকিপার নুরুল হাসানের হাতে। ৪ বলে ১ রান করেছেন হায়দার।
৮৯ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া নোয়াখালীকে এরপর পথ দেখান জাকের আলী ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ধীরলয়ে ব্যাটিং করা জাকের করেন ৩৮ বলে ৩৭ আর অঙ্কনের ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে ২৮ রানের ইনিংস।
দলীয় ১৩৮ রানে টানা দুই বলে জাকের ও মেহেদীকে ফেরানোর হাসান মাহমুদকেও আউট করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তবে এই পেসার নিজেই ক্যাচটা নিতে পারেননি। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রংপুরের সফলতম বোলার তিনি।
মোস্তাফিজ না পারলেও হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি। একমাত্র বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিপিএলে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের মালিক হলেন তিনি। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে মাহিদুল, চতুর্থ বল মেহেদী রানা ও পঞ্চম বলে বিলাল সামিকে আউট করেন মৃত্যুঞ্জয়। ২.৫ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। এর আগে ২০২২ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এই বাঁহাতি পেসার।
মৃত্যুঞ্জয়ের হ্যাটট্রিকের দিন গতির ঝড় তুলে ৪ ওভারে ১৭ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট নেন নাহিদ। বাঁহাতি স্পিনার খুশদিল শাহ ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।

গত বছরের অক্টোবরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফর করে আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া সেই ১৫ সদস্যের স্কোয়াড অপরিবর্তিত রেখেই বিশ্বকাপের স্কোয়াড দিল আইরিশরা।
আগামী মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আজ আইরিশ ক্রিকেট (সিআই) পল স্টার্লিংকে অধিনায়ক করে ১৫ সদস্যের দল দিয়েছে । অভিজ্ঞ ব্যাটার পল স্টার্লিং টানা দ্বিতীয়বারের মতো আয়ারল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেবেন। এই স্কোয়াডের ১২ জনই যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে ছিলেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই সিরিজের আগে চোটে পড়ে ছিটকে যান রস অ্যাডায়ার। হাঁটুর সেই চোট সেরে দলে ফিরেছেন এই ওপেনার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে একটি সেঞ্চুরি করা অ্যাডায়ার এই সংস্করণে গড়ে ২৮.৮৪ রান করেছেন।
আসন্ন টুর্নামেন্ট দলের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে আয়ারল্যান্ড জাতীয় দলের নির্বাচক অ্যান্ড্রু হোয়াইট বড় প্রত্যাশার কথা জানান। হোয়াইট বলেন, ‘এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অপেক্ষায় আমরা কতটা উন্মুখ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ২০২২ সালের স্মরণীয় আসরের পর ২০২৪ সালে আমরা হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারিনি, আর তখন থেকেই সেই ভুলগুলো শোধরানোর জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।’
আয়ারল্যান্ডের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছে বেশ কয়েকজন উঠতি তারকা। ২২ বছর বয়সী টপ-অর্ডার ব্যাটার ও অফস্পিন বোলার টিম টেক্টর সুযোগ পেয়েছেন। তার সঙ্গে দলে রয়েছেন ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি মিডল-অর্ডার ব্যাটার বেন ক্যালিটজ এবং সমবয়সী বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথিউ হামফ্রিজ।
দলের পরিকল্পনা আর কৌশল নিয়ে হোয়াইট আরও বলেন, ‘গত ১৮ মাসে আমরা কৌশল, ভূমিকা ও সমন্বয় নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প পরীক্ষা করেছি, এবং টুর্নামেন্টের আগে এই স্কোয়াড নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। ২০২৪ বিশ্বকাপের ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনের এই দলে থাকা প্রমাণ করে আমাদের একটি বেশ স্থির দল রয়েছে। একই সঙ্গে টিম টেক্টর, বেন ক্যালিটজ ও ম্যাথিউ হামফ্রিজের মতো দারুণ নতুন প্রতিভাদের যুক্ত করতে পেরেছি, যারা দলে আরও প্রাণশক্তি যোগ করবে।’
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-তে আয়ারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, ওমান ও জিম্বাবুয়ে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আয়ারল্যান্ড তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। গ্রুপ পর্বে তাদের সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়।
আগামী মাসে বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রস্তুতি হিসেবে ২৩ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ইতালির বিপক্ষে তিনটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।
২০২৬ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের স্কোয়াড :
পল স্টার্লিং (অধিনায়ক), লরকান টাকার (সহ-অধিনায়ক), মার্ক অ্যাডায়ার, রস অ্যাডায়ার, বেন ক্যালিটজ, কার্টিস ক্যাম্পার, গ্যারেথ ডেলানি, জর্জ ডকরেল, ম্যাথিউ হামফ্রিজ, জশ লিটল, ব্যারি ম্যাককার্থি, হ্যারি টেক্টর, টিম টেক্টর, বেন হোয়াইট ও ক্রেইগ ইয়াং।

মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার আজমল শাহজাদ। তিনি লর্ডসের কোচিং বিভাগে ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত কাজ করেছিলেন, তারপর ডারবিশায়ারে সহকারী কোচ (বোলিং লিড) হিসেবে পাঁচ বছর কাটান।
শাহজাদ এখন লর্ডসে ফিরে এসে এমসিসির হেড কোচ হিসেবে পুরো কোচিং টিমকে নেতৃত্ব দেবেন। তাঁর লক্ষ্য হবে সব স্তরের ক্রিকেটে মানসম্মত কোচিং নিশ্চিত করা, যা অংশগ্রহণমূলক প্রোগ্রাম থেকে শুরু করে এলিট পারফরম্যান্স পরিবেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
সাবেক ইয়র্কশায়ার, ল্যানকাশায়ার, নটিংহ্যামশায়ার ও সাসেক্সের পেসার শাহজাদ ২০১৭ সালে নিজের পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে কোচিং পেশায় যুক্ত হন তিনি। এখন নতুনভাবে সংস্কারকৃত লর্ডস পারফরম্যান্স সেন্টার থেকে ক্লাবের ক্রিকেট কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব কোচিং কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে শাহজাদ বললেন,
‘লর্ডসে ফিরে এসে আমাদের প্রতিভাবান কোচদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে আশা করি। আমি চাই আমাদের দল এবং এমসিসি সব স্তরের ক্রিকেটে প্রভাব রাখতে সক্ষম হোক।’
এমসিসির হেড অফ প্রোগ্রামস রিকি রেনল্ডস বলেন,
‘আজমলকে ফের এমসিসিতে পেয়ে আমরা আনন্দিত। একজন অভিজ্ঞ কোচ হিসেবে তিনি এমন একটি কোচিং ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে পারবেন যা খেলোয়াড়দের বিকাশে সাহায্য করবে। লর্ডস পারফরম্যান্স সেন্টারকে বিশ্বমানের কোচিং, উদ্ভাবন ও কোচ উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এই পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলতে গিয়েই একের পর এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে উপহার দিয়ে যাচ্ছেন রিশাদ হোসেন। ফ্রাঞ্চাইজি এই লিগে আজ আরও তিন উইকেট নিলেন বাংলাদেশি এই লেগ স্পিনার।
আজ অ্যাডিলেড স্টাইকার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। বিগ ব্যাশে এ নিয়ে এই তাঁর মোট উইকেট হলো ১১টি। রিশাদের আরেকটি দারুণ পারফরম্যান্সের ম্যাচে জিতেছে হবার্ট হারিকেন্সও।
শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৮ রান করে রিশাদের দল। এরপর অ্যাডিলেডকে ১৪১ রানেই থামিয়ে দেয় হারিকেন্স। হারিকেন্সের ইনিংসে রিশাদ সর্বোচ্চ উইকেট নিলেও ২ ওভারে ৭ রান দিয়ে দুই উইকেট শিকার করা নাথান এলিস হন ম্যাচসেরা।
এদিন পাওয়ার প্লে’এর শেষ ওভারে রিশাদের হাতে বল তুলে দেন হারিকেন্সের অধিনায়ক নাথান এলিস। ২১ রানেই চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে তখন অ্যাডিলেডে। নিজের করা প্রথম ওভারে খানিকটা খরুচে হলেও শেষ বলে একটি উইকেট তুলে নেন রিশাদ। হ্যারি মানেনেত্তিকে নিখিল চৌধুরির ক্যাচ বানান ২৩ বছর বয়সী স্পিনার। একটি ছক্কা হজম করে মোট ১০ রান দেন ওই ওভারে।
দলীয় নবম আর নিজের দ্বিতীয় ওভারে করতে এসে আবার আঘাত করেন রিশাদ। প্রথম বলেই জেমি ওভার্টনকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন রিশাদ। তাঁর করা দ্বিতীয় ওভার থেকে দুই চারে মোট ১১ রান তোলে প্রতিপক্ষ। ৫৯ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ১০০ রানের আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় তখন অ্যাডিলেড।
নিজের শেষ দুই ওভারে বেশ কিপটে ছিলেন রিশাদ। তৃতীয় ওভারে তিন রান দেওয়ার পর শেষ ওভারে মাত্র দুই রান দিয়ে লুক উডকে আউট করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রানে অ্যাডিলেডকে আটকে দেয় রিশাদের দল। তাতে ৩৭ রানের জয়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে নিজেদের স্থান আরও পোক্ত করল হবার্ট হারিকেন্স। ৮ ম্যাচে ছয় জয় নিয়ে ১২ পয়েন্ট অর্জন তাদের। আগামী রোববার হারিকেন্সের প্রতিপক্ষ সিডনি সিক্সার্স।

উইকেটে হালকা ঘাস, হাটু গেঁড়ে ঝুঁকে গভীর দৃষ্টিতে পরখ করছিলেন কোচ হান্নান সরকার। সেই স্থির চিত্র পোস্ট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রধান কোচ ক্যাপশন জুড়ে দেন, ‘এক নম্বর জায়গাটা সুনিশ্চিত করার ম্যাচ।’ তবে সেই সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তাঁর দল। শেষ ওভারের রোমাঞ্চে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে ২ উইকেটে হেরে গেছে রাজশাহী।
১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শেষ ওভারে জয়ের জন্য রাজশাহীয় প্রয়োজন ছিল ১০ রান। শেষ বলে সেটি দাঁড়ায় ২ রানে। হাসান নওয়াজের দক্ষতায় শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি জিতে শীর্ষস্থান সুদৃঢ় করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
উইকেট যে কিছুটা জটিল সেটি ভালো করেই বুঝেছেন হান্নান সরকার। টস জিতলে ব্যাটিং নাকি বোলিং নিলে ভালো হবে? এমন উইকেটের ভাষা বোঝা রাজশাহী-চট্টগ্রাম দুই দলের জন্য কঠিন ছিল। টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান।
তবে লড়াইয়ের মধ্যেও ছিল লড়াই। রাজশাহী কোচ তো বললেনই ‘শীর্ষে ওঠার’ ম্যাচ। এই ম্যাচে মাঠে নামার আগে দুই দলেরই সমান ৮ পয়েন্ট করে ছিল। জিতলেই ১০ পয়েন্ট নিয়ে চট্টগ্রামকে সরিয়ে শীর্ষে উঠে যেত রাজশাহী। দুই দলের জন্যই কঠিন পরীক্ষা।
বোলিং সহায়ক উইকেটে শুরু থেকেই রান তুলতে হাঁসফাঁস করছিল রাজশাহী। পাওয়ার-প্লেতে উড়ন্ত শুরু না পেলেও ২ উইকেটে স্কোরে জমা করে ৪২ রান। দলীয় ফিফটি হওয়ার আগেই হারায় তিন টপ অর্ডার ব্যাটারকে।
দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও ১৪ বলে ১৯ রানে ফেরেন ওপেনার মোহাম্মদ ওয়াসিম। তানভীর ইসলামের ঘূর্ণি জাদু ব্যাটের নিচ দিয়ে সরাসরি স্টাম্পের লালবাতি জ্বালিয়ে দেয়। আউট হওয়ার আগে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরেছেন আরব আমিরাতের এই তারকা ক্রিকেটার।
তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি ছন্দে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত। ষষ্ঠ ওভারে খণ্ডকালীন হাসান নওয়াজের শিকার হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০ বলে ৭ রান। সংগ্রাম করছিলেন ওপেনার তানিজদ হাসান তামিমও। বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারলেন না, সপ্তম ওভারে আমের জামালের বলে আউট হন ১২ বলে ৫ রানে।
মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহিম (১৫), এসএম মেহরব (১৯), রায়ান বার্ল (১১), আকবর আলীরা (১৭) থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন। শরীফুল ইসলাম-আমের জামালদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে ৯ উইকেটে ১২৮ রান তুলতে সক্ষম হয় রজশাহী।
আমের জামাল ২৩ রান দিয়ে ৩টি, শরীফুল ও তানভীর ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।
১২৯ রান—বড়সড় লক্ষ্য নয়। তবে চট্টগ্রামের শুরুটা রাজশাহীর চেয়েও অনুজ্জ্বল ছিল। পাওয়ার-প্লেতে ৪ উইকেট হারিয়ে তোলে ৩৪ রান। মোহাম্মদ নাঈম (৭), অ্যাডাম রোসিংটন (১৭), মাহমুদুল হাসান জয় (৪) ও সাদমান ইসলাম ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই।
রাজশাহীর ব্যাটিং বিপর্যয়ে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে থিতু হয়ে থাকেন হাসান নওয়াজ। শেষ বলে ২ রান নিয়ে দলের জয় নিশ্চিতও করেন পাকিস্তানি এই তরুণ ব্যাটার। বোলাররা জয়ের আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত হেরে যায় রাজশাহী।
চট্টগ্রামের জয়ে মাঝে শেখ মেহেদী ২৫ বলে ২৮ ও আসিফ আলির ২৫ বলে ২৭ রানের ইনিংসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৩৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান। স্লো স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি হয়ে গেল ম্যাাচসেরা। ইনিংসে ছিল মাত্র ২টি চার।
১৯তম ওভারে ৩ রানে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান তানজিম হাসান সাকিব। শেষ ওভারে ১০ রান দরকার চট্টগ্রামের। স্পিনার মেহরবের করা প্রথম তিন বলে— ২, ২ ও ৪ রান নিয়ে ম্যাচ সহজ করে ফেলেন হাসান। তবে পরের দুই বলে রান নিতে ব্যর্থ হলে ম্যাচ জমে ক্ষীর হয়ে ওঠে। সুপার ওভার নিয়ে ধারাভাষ্য কক্ষে আলাপ হচ্ছিল। তবে লং অফ বল পাঠিয়ে তড়িৎ গতিতে শরীফুলের সঙ্গে দুবার জায়গা বদল করে জয় নিশ্চিত করেন হাসান। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।