
ভারতের বিপক্ষে ওভাল টেস্টে স্লিংয়ে এক হাত ঝুলিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ক্রিস ওকস। সেটাই হয়ে থাকল ইংলিশ অলাউন্ডারের সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ক্রিস ওকস। ইংল্যান্ড জাতীয় দল থেকে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন তিনি।
অবসরের ঘোষণা দিয়ে ওকস লিখেন,
‘মুহূর্তটি এসেছে, এবং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার এটাই সঠিক সময়।'
আরও পড়ুন
| ভিসা জটিলতায় সৌম্যকে নিয়ে অনিশ্চয়তা |
|
ক’দিন আগেই ইংল্যান্ডের ছেলেদের দলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি পরিষ্কার করেই জানিয়ে দেন, তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় একদমই নেই ওকস। কাঁধের চোটের কারণে আসন্ন অ্যাশেজ থেকেও ছিটকে যান ৩৬ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। এবার জাতীয় দলের অধ্যায়ই শেষ হলো তাঁর।
ইংল্যান্ডের জার্সিতে ৬২ টেস্টে ৯৯ ইনিংসে ১৯২ উইকেট নিয়েছেন ওকস। পাঁচবার নিয়েছেন ৫ উইকেট , একবার ১০ উইকেট। ব্যাট হাতে এক সেঞ্চুরি ও সাত ফিফটিতে করেছেন ২০৩৪ রান।
ওয়ানডেতে ১২২ ম্যাচে ১৭৩ উইকেটের সঙ্গে কেরেছেন ১৫২৪ রান। আর ৩৩ টি-টোয়েন্টিতে তাঁর উইকেট ৩১, রান ১৪৭।
আরও পড়ুন
| বিসিবি নির্বাচনে টিকল ৪৮ মনোনয়ন, সুখবর বুলবুল-ফাহিমের |
|
ক্যারিয়ার নিয়ে স্মৃতিচারণ করে ওকস বলেন,
‘ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা সেই স্বপ্ন ছিল যা আমি ছোটবেলা থেকে আমার পেছনের বাগানে দেখতাম। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে সেই স্বপ্নগুলো আমি জীবনে বাস্তবায়ন রূপ দিতে পেরেছি। ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করা, থ্রি লায়ন্স জার্সি পরা এবং গত ১৫ বছরে সেই সতীর্থদের সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করা—যাদের অনেকেই আজ আমার জীবনের বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছে—এসব আমি সবচেয়ে বেশি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করব।'
প্রিয়জনদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান ওকস ,
‘আমার মা-বাবা, স্ত্রী অ্যামি এবং আমাদের কন্যা লেইলা ও এভিকে, আপনাদের অবিচল ভালোবাসা, সমর্থন ও ত্যাগের জন্য ধন্যবাদ। তোমাদের ছাড়া এ সব কিছু সম্ভব হতো না।’
আরও পড়ুন
| বিনা ভোটে পরিচালক হওয়ার পথে বুলবুল-ফাহিম |
|
আর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ইংলিশ অলরাউন্ডার বলেন,
‘ভক্তদের, বিশেষ করে বার্মি আর্মিকে ধন্যবাদ, যাদের উৎসাহ, চিৎকার এবং বিশ্বাস সবসময় আমার সাথে ছিল। আমার কোচ, সতীর্থ এবং ইংল্যান্ড ও ওয়ারউইকশায়ারের সবাইকে ধন্যবাদ, যারা আমাকে দেশের হয়ে খেলতে সাহায্য করেছেন—আপনাদের দিকনির্দেশনা ও বন্ধুত্ব আমার জন্য অনেক মূল্যবান।'
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেও ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ওকস,
‘আমি আশা করি কাউন্টি ক্রিকেট চালিয়ে যাব এবং শীঘ্রই আরও ফ্র্যাঞ্চাইজি সুযোগ অন্বেষণ করব।’
No posts available.
২৯ মার্চ ২০২৬, ১:৫৭ পিএম
২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরুর আগে বিদেশি খেলোয়াড়দের নাম প্রত্যাহারের প্রবণতা বেড়েছে। তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুনীল গাভাস্কার। এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেটি যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ভারতের কিংবদন্তি এ ক্রিকেটার।
আইপিএলের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নিলামে দল পাওয়ার পর কোনো খেলোয়াড় চোট বা জরুরি মেডিকেল কারণ ছাড়া নাম প্রত্যাহার করলে তাকে পরবর্তী দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তবে হ্যারি ব্রুক ও বেন ডাকেটের মতো খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এই নিয়মের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গাভাস্কার।
ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাভাস্কার বলেন, ‘দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই কাজ করছে না। এমন কিছু করতে হবে যা খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ক্যারিয়ার বা আইপিএলে ফেরার সুযোগে বড় কোনো ধাক্কা না লাগছে, ততক্ষণ এই প্রবণতা থামবে না।’
এবারের মৌসুমে ডাকেটকে ২ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। মৌসুম শুরুর ঠিক আগে ব্যক্তিগত কারণ ও টেস্ট ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলে সরে দাঁড়ান। এই ইংলিশ ব্যাটারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গাভাস্কার বলেন, ‘ডাকেট হয়ত দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে ভালো দাম পাওয়ায় আইপিএলে নাম প্রত্যাহার করতে দ্বিধা করেননি। তিনি হয়ত এখন টেস্ট ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেওয়ার অজুহাত দিচ্ছেন, কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কী হবে?’
এর আগে গত মৌসুমে হ্যারি ব্রুক ৬.২৫ কোটি রুপিতে দল পাওয়ার পর নাম প্রত্যাহার করে বর্তমানে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন। ডাকেটের ক্ষেত্রেও এই দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
গতকাল থেকে শুরু হয়েছে আইপিএলের ১৯ তম সংস্করণের। একের পর এক বিদেশি খেলোয়াড় নাম সরিয়ে নেওয়ায় বিপাকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বর্তমানে ২৪ জনের স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দিল্লি ক্যাপিটালসকে।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আইপিএলের নতুন আসরের প্রথম ম্যাচ রাঙিয়েছেন বিরাট কোহলি। চমৎকার ইনিংসে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে এনে দিয়েছেন দারুণ জয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে খেলেছেন ৩৮ বলে ৬৯ রানের ইনিংস।
অথচ এই ম্যাচের আগে গত ৯ মাস কোনো টি-টোয়েন্টি খেলেননি কোহলি। গত আইপিএল ফাইনালের পর এবারই প্রথম কোনো ২০ ওভারের ম্যাচ খেললেন তিনি। আর সেখানেই করলেন বাজিমাত। এর রহস্য হিসেবে কোহলি বললেন, মাঠে নামলে ১২০ শতাংশ প্রস্তুত হয়েই মাঠে নামেন তিনি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন শুধু আইপিএলেই কুড়ি ওভারের ক্রিকেট খেলেন কোহলি। গত বছরের জুনে বেঙ্গালুরুর প্রথম আইপিএল শিরোপা জয়ের ম্যাচ দিয়েই এই সংস্করণে সবশেষ ম্যাচ খেলেন তিনি।
এরপর মাঝের ৯ মাসে খুব বেশি ক্রিকেট খেলেননি কোহলি। গত জানুয়ারিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে আলো ছড়ান তিনি। পরে আবার দুই মাসের বিরতি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে এরকম বিরতিগুলো দারুণ কাজে দিচ্ছে মনে করেন তিনি।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ২০২ রান তাড়া করে বেঙ্গালুরুকে জেতানোর পর বিরতি ও বিশ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরেন কোহলি।
“গত ১৫ বছর যে ধরনের ব্যস্ত সূচি ও যে পরিমাণে ক্রিকেট আমি খেলেছি, বিষয়টা অপ্রস্তুত থাকার চেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকিটা বেশি। তাই এসব বিরতি অনেক কাজে দেয়। আমি সতেজ থাকি, (খেলার জন্য) রোমাঞ্চিত থাকি। যখনই মাঠে ফিরি, ১২০ শতাংশ প্রস্তুত থাকি। আর যদি না ফিরি, তাহলে বুঝে নেবেন আমি অপ্রস্তুত।”
“অতিরিক্ত বিশ্রাম আমাকে মানসিকভাবে সতেজ হতে সাহায্য করে। আপনি যখন শারীরিকভাবে ফিট থাকেন ও মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত থাকেন, তখন এই দুটি একসঙ্গে খুব সুন্দরভাবে কাজ করে। আপনি দলের জন্য অবদান রাখতে পারেন, যেটা খেলোয়াড় হিসেবে মূল লক্ষ্য। কখনও শুধু দলে জায়গা ধরে রাখতে চাইবেন না। আপনি পারফর্ম করতে চান, দলের জন্য নিয়মিত পরিশ্রম করে যেতে চান।”
দুইশ ছাড়ানো লক্ষ্য তাড়ায় রয়েসয়ে শুরুর পর ৩৩ বলে ফিফটি করেন কোহলি। পরে ১৬তম ওভারে টানা চার বলে ৬, ৪, ৪ ও ৪ মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি। সব মিলিয়ে ৫টি করে চার-ছক্কা মেরে ৩৮ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন কোহলি।
৩৭ বছর বয়স পেরিয়েও ম্যাচ জেতানো এই ইনিংসে নিজের সেরা সময়ের মতোই ফ্লিক, কাভার ড্রাইভ বা অন ড্রাইভ খেলেন কোহলি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, এসব নিয়ে ফাঁকা সময়ে অনেক ঘাম ঝরিয়েছেন তিনি।
“আমি এমন কোনো শট খেলিনি, যেগুলো আমি সাধারণত খেলি না। আমি জানতাম, যতক্ষণ রিদম ঠিক আছে ও ফিটনেসের দিক থেকে আমি পর্দার আড়ালে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি, সবকিছু ঠিকভাবে মিলেই যাবে। আজকের রাতটা ছিল আরেকটা সুযোগ- ভালোভাবে শুরু করার ও এগিয়ে যাওয়ার।”

যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) নাম লেখালেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। টুর্নামেন্টের চতুর্থ সংস্করণে ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের জার্সিতে দেখা যাবে ভারতীয় অফ-স্পিনারকে। অশ্বিন সেখানে সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন পাকিস্তানের পেসার হারিস রউফকে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং ২০২৫ আইপিএল মৌসুম শেষে সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটকে বিদায় জানান অশ্বিন। অবসরের পর এটিই হতে যাচ্ছে তাঁর প্রথম কোনো বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগ। গত ডিসেম্বরে হাঁটুর চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে সিডনি থান্ডারের হয়ে খেলতে পারেননি অশ্বিন।
মেজর লিগ ক্রিকেটের ছয়টি দলের মধ্যে তিন দলের মালিকানায় রয়েছে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো— এমআই নিউ ইয়র্ক (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স), টেক্সাস সুপার কিংস (চেন্নাই সুপার কিংস) এবং এলএ নাইট রাইডার্স (কলকাতা নাইট রাইডার্স)।
এমএলসি ২০২৬ মৌসুম শুরু হবে আগামী ১৮ জুন। টেক্সাস, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওকল্যান্ডে ম্যাচগুলো হবে। ১৮ জুলাই ওকল্যান্ড কলিসিয়ামে হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল।
সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নস এখন পর্যন্ত কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। ২০২৪ সালে রানার্স-আপ হওয়াই ছিল তাদের সেরা সাফল্য।

জয় দিয়ে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ক্রিকেটের নতুন আসর শুরু করল মুলতান সুলতান্স। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শনিবার রাতের ম্যাচে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে তারা।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৭১ রানের পুঁজি পায় ইসলামাবাদ। তবে সেটি যথেষ্ট হয়নি। ৮ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে যায় মুলতান।
দলের জয়ের নায়ক বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার মোমিন কামার ও অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার জশ ফিলিপ। পিএসএল টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ৩ উইকেট নেন মোমিন। আর ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ফিলিপ।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা তেমন মন্দ ছিল না ইসলামাবাদের। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৮ রান যোগ করেন ডেভন কনওয়ে (২৬) ও সামির মিনহাস (২৮)।
পরে চার নম্বরে নেমে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২১ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলেন মার্ক চ্যাপম্যান। শেষ দিকে ফাহিম আশরাফ ১৭ বলে ২৬ রান করলে লড়াইয়ের পুঁজি পায় ইসলামাবাদ।
মুলতানের পক্ষে ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন মোমিন। এছাড়া মোহাম্মদ ওয়াসিম ২ উইকেটের জন্য খরচ করেন ৪২ রান।
রান তাড়ায় শুরুতেই সাহিবজাদা ফারহানের উইকেট হারায় মুলতান। তবে চাপ আসতে দেননি স্টিভেন স্মিথ ও জশ ফিলিপ। দুজনের জুটিতে আসে ৪৫ রান। স্মিথ আউট হন ২৩ বলে ৩১ রান করে।
ফিলিপের ব্যাট থেকে আসে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৩৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস। ৫ নম্বরে নেমে ২৮ বলে ৪৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন অ্যাশটন টার্নার। এছাড়া ১১ বলে ২৫ রান করেন আরাফাত মিনহাস।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের শুরুটা চ্যাম্পিয়নের মতোই করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে আইপিএল ইতিহাসের রেকর্ড গড়েই নতুন আসর শুরু করল টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
নিজেদের ঘরের মাঠে শনিবার রাতে হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জিতেছে বেঙ্গালুরু। আগে ব্যাট করে ইশান কিষান ও অনিকেত বর্মার ঝড়ে ২০১ রান করে হায়দরাবাদ। জবাবে দেবদূত পাডিক্কাল ও ভিরাট কোহলির তাণ্ডবে ১৫.৪ ওভারে ম্যাচ জিতে নেয় বেঙ্গালুরু।
আইপিএল তো বটেই, বিশ্বের যে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ইতিহাসেই, এত কম ওভারে দুইশর বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই আর কোনো দলের। গত আসরে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ২১০ রানের লক্ষ্যে ১৫.৫ ওভারে জিতেছিল রাজস্থান রয়্যালস।
রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারে ফিল সল্টের উইকেট হারায় বেঙ্গালুরু। তবে দলের ওপর চাপ আসতে দেননি দেবদূত পাডিক্কাল। বিরাট কোহলিকে সঙ্গে নিয়ে হায়দরাবাদের বোলারদের কচুকাটা করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৭৬ রান করে ফেলে বেঙ্গালুরু। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় মাত্র ২১ বলে ফিফটি করে ফেলেন পাডিক্কাল। তবে এরপর বেশি দূর যেতে পারেননি। সব মিলিয়ে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ২৬ বলে ৬১ রান করে ফেরেন তিনি। পাডিক্কালের বিদায়ে ভাঙে ৪৫ বলে ১০১ রানের জুটি।
বিধ্বংসী জুটি ভাঙার পর চার নম্বরে নেমে একই ছন্দে এগোতে থাকেন অধিনায়ক রজত পাতিদার। চার-ছক্কার ঝড় তুলে তিনি খেলেন ২ চার ও ৩ ছক্কায় ১২ বলে ৩১ রানের ইনিংস। কোহলির সঙ্গে জুটিতে আসে ২২ বলে ৫৩ রান।
১৩তম ওভারে পরপর দুই বলে পাতিদার ও জিতেশ শর্মাকে আউট করেন ডেভিড পেইন। পরে কিছুটা কমে আসে রানের গতি। একপ্রান্ত ধরে রেখে ৩৩ বলে ফিফটি করেন কোহলি।
আইপিএলে এটি তার ৬৪তম ফিফটি, সঙ্গে আছে ৮টি সেঞ্চুরি। আর সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০৬ নম্বর ফিফটি করলেন কোহলি। সেঞ্চুরি মোট ৯টি।
ফিফটি ছুঁয়ে আর ম্যাচ শেষ করার জন্য সময় নেননি কোহলি। ১৬তম ওভারে হার্শাল প্যাটেলের বলে ১ ছক্কা ও ৩ চার মেরে বেঙ্গালুরুর জয় নিশ্চিত করে দেন ভারতের ব্যাটিং গ্রেট। সব মিলিয়ে ৫টি করে চার-ছক্কায় ৩৮ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। আইপিএল অভিষেকে দুর্দান্ত বোলিং করেন জ্যাকব ডাফি। তৃতীয় ওভারে হায়দরাবাদের দুই ওপেনার অভিশেক শর্মা (৮ বলে ৭) ও ট্রাভিস হেডকে (৯ বলে ১১) ফিরিয়ে দেন নিউ জিল্যান্ডের পেসার।
তার পরের ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন চার নম্বরে নামা নিতিশ কুমার রেড্ডি (৬ বলে ১)। মাত্র ২৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে খাঁদের কিনারায় চলে যায় হায়দরাবাদ।
সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন অধিনায়ক ইশান কিষান ও হেনরিখ ক্লাসেন। দুজন মিলে ৫৩ বলে গড়ে তোলেন ৯৭ রানের জুটি। যেখানে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন ইশান। ১৪তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ৩১ রান করেন ক্লাসেন।
৬ চারের সঙ্গে ২ ছক্কা মেরে ২৭ বলে ফিফটি পূরণ করেন ইশান। এরপর একই ছন্দে এগিয়ে সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকেন উইকেটকিপার-ব্যাটার। কিন্তু ১৬তম ওভারের শেষ বলে ফিল সল্টের দুর্দান্ত এক হাতের ক্যাচে বিদায়ঘণ্টা বাজে তার।
ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে ৮ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ৩৮ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন ইশান।
এরপর দলকে এগিয়ে নেন অনিকেত বর্মা। শেষের তাণ্ডবে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় মাত্র ১৮ বলে ৪৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার। ইশানের পর অনিকেতের এই তাণ্ডবেই চাপ সরিয়ে দুইশ পেরোয় হায়দরাবাদ। যদিও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি।
আইপিএল অভিষেকে মাত্র ২২ রানে ৩ উইকেট নেন ডাফি। রোমারিও শেফার্ড ৩ উইকেটের জন্য দেন ৫৪ রান।