১ জুন ২০২৫, ৩:১৯ এম

ফাইনালের আগে লুইস এনরিকে বলেছিলেন, ইতিহাস গড়তে চায় তার দল। তবে বারবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে খালি হাতে ফেরা পিএসজির সেজন্য দরকার ছিল এমন পারফরম্যান্স, যে হয়ত ফাইনালের মঞ্চে আগে দেখাই যায়নি। প্রথম মিনিট থেকে ইন্তার মিলানকে দ্বিতীয় সেরা দল বানিয়ে বিরতির আগেই তাই ম্যাচের লাগাম নিয়ে নিল ফরাসি ক্লাবটি। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের দুর্দমনীয় ফুটবলের সামনে খড়কুটোর মত উড়ে গেল ইতালিয়ান ক্লাবটি। ইতিহাস গড়ে অধরা চ্যাম্পিয়িন্স লিগ জয়ের স্বাদ পেল পিএসজি।
মিউনিখের অ্যালিয়ান্জ অ্যারেনায় রোববারের ফাইনালে পিএসজি পেয়েছে ৫-০ গোলের জয়। এর মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় ফাইনালে গিয়ে প্রথমবারের মত শিরোপা উঁচিয়ে ধরল লিগ ওয়ানের ক্লাবটি।
এর সাথে ক্লাবটি গড়ল নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ট্রেবল জয়ের স্বাদ। এর আগে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লিগ ওয়ান ও লিগ কাপে।
পিএসজির সাথে সাথে ইতিহাস গড়েছেন এনরিকেও। পেপ গার্দিওলার পর মাত্র দ্বিতীয় কোচ হিসেবে দুটি ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবের হয়ে ট্রেবল জিতলেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি তিনি গড়েছিলেন ২০১৫ সালে, বার্সেলনার হয়ে। আর গার্দিওলা দুইবার ট্রেবল জেতেন ২০০৯ সালে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে, আর দ্বিতীয়বার ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ২০২২ সালে।
আরও পড়ুন
| আমাদের লক্ষ্য ছিল ইতিহাস গড়ার : এনরিকে |
|
এই ম্যাচটি ছিল ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় পিএসজি ও ইন্তারের মুখোমুখি লড়াই। ফাইনালের আগে ইন্তার তিনবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী হলেও এই মৌসুমের ফর্ম বিবেচনায় ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামে এনরিকের দল। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই প্রাধান্য বিস্তার করে পিএসজি বুঝিয়ে দেয়, উপভোগ্য ফুটবলে তারা দাপট দেখাতে চায়।
ম্যাচের ১২ মিনিটের মাথায় বলার মত প্রথম আক্রমণেই ইন্তারকে চমকে দেয় পিএসজি। গোল হজমে মিলানের ক্লাবটির বাজে ডিফেন্ডিং রাখে বড় ভূমিকা। মাঝমাথে ভিতিনিয়া বলের দখল নিয়ে বক্সের ভেতর ডানদিকে পাস বাড়ান ডেজিয়ের দুয়েকে। নিজে গোলে শট না নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ঘুরে বক্সের তাকিয়ে খুঁজে নেন ডান উইং দিয়ে উঠে আসা আশরাফ হাকিমিকে। মরক্কান ডিফেন্ডার নিখুঁত এক নিচু শটে বল জালে পাঠাতে আর ভুল করেননি।
এই গোলটি পিএসজির জন্য বিশেষ কিছুই ছিল, কারণ, ২০১৯ সাল থেকে ফাইনালে প্রথমে গোল করা দলগুলোই জিতে আসছে শিরোপা। তবে যিনি এই গোলটি করেছেন, সেই হাকিমি উদযাপন করা থেকে বিরতই থাকেন। পিএসজির আগে যে ইন্তারের জার্সিতেই খেলেছিলেন তিনি।
গোল হজমের পর ইন্তার যেন আরও চাপে পড়ে যায়। আর টানা আক্রমণে পিএসজি বজায় রাখে আধিপত্য। সেই ধারায় ২০তম মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বাঁদিক দিয়ে উঠে এসে বক্সের বাইরে পাস দেন দুয়েকে। ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শট ইন্তার ডিফেন্ডার ফেদেরিকো ডিমারকোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ইয়ান সোমারকে ফাঁকি দিয়ে জড়ায় জালে।
আরও পড়ুন
| হারলেও ইন্তারের নিবেদন নিয়ে গর্বিত ইনজাগি |
|
এই গোলের মধ্য দিয়ে অনন্য রেকর্ড গড়েন দুয়ে। ১৯ বছর ৩৬২ দিন বয়সে ফাইনালে জালের দেখা পেয়ে তিনি হয়ে যান চ্যাম্পিয়ন্স লিগেরর শিরোপার লড়াইয়ের ম্যাচের চতুর্থ কনিষ্ঠ গোলস্কোরার। তার আগে এই কীর্তি ছিল কেবল প্যাট্রিক ক্লুভার্ট (১৯৯৫) এবং কার্লোস আলবার্তো (২০০৪)।
শুধু তাই নয়, এই গোল ফরাসি উইঙ্গারকে জায়গা করে দেয় রেকর্ডের এমন পাতায়, যেখানে নেই ফুটবল ইতিহাসের গ্রেটরাও। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে ফাইনালে গোল ও অ্যাসিস্ট উভয়ই করা সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় তিনিই।
মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে দুই গোল হজম করে খেই হারিয়ে ফেলে ইন্তার। দলটি বলের দখল রাখে এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলে সিমোনে ইনজাগির দলকে বারবার ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। সেটা কাটিয়ে ইন্তার গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পিএসজির অদম্য প্রেসিংয়ের সামনে আটকে যায় তাদের সব প্রচেষ্টা।
উল্টো বিরতির আগে পুরোপুরি আধিপত্য দেখানো পিএসজির বিরতিহীন আক্রমণে ছন্দহীন ফুটবল খেলে ইন্তার। তার মাঝেও ৩৪তম মিনিটে হেনরিখ মিখিতারিয়ানের চমৎকার পাস থেকে সুযোগ এসেছিল মারকুস থুরামের সামনে, যা তিনি কাজে লাগাতে পারেননি।
৩৮তম মিনিটে ফের সুযোগ এসেছিল থুরামের। জটলার মধ্যে কর্নার থেকে দুর্দান্তভাবে লাফিয়ে উঠে দূরের পোস্টে হেড নেন, তবে সেটা পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
৪৪তম মিনিটে বাম দিক থেকে দুয়ে মাপা ক্রস দেন দেম্বেলেকে, ফরাসি উইঙ্গার যে শট নেন, তা শেষ মুহূর্তে গোললাইন অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়।
একচেটিয়া প্রাধান্য দেখানো পিএসজি ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে প্রথমার্ধে গোলের জন্য শট নেয় ৮টি, যার ৩টি থাকে লক্ষ্যে।
৫৮তম মিনিটে পিএসজি মিডফিল্ডার জায়র-এমেরি দূরপাল্লার শট নেন, যা গোলরক্ষক সোমার ব্লক করে দেন দৃঢ়তার সাথেই। এর খানিক বাদে তৃতীয় গোলের দেখা পায় পিএসজি। বক্সের ভিতরে ওয়ান-টু পাসের মাধ্যমে বল পেয়ে ডান পায়ের জোড়াল এক শটে ইন্তার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দুয়ে মেতে ওঠেন বাধভাঙ্গা উল্লাসে।
আরও পড়ুন
| আবেগময় ম্যাচে মেয়ের হয়েও শিরোপা জিতলেন এনরিকে |
|
এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে সরাসরি তিন গোলে অবদান রাখার রেকর্ড করেছেন তিনি।
৮৯তম মিনিটে পিএসজিকে শিবিরকে উল্লাসে ভাসান একটু আগেই বদলি হিসেবে নামা ১৮ বছর বয়সী সেনি মায়ুলু। ব্র্যাডলি বারকোলার কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁদিক থেকে বক্সে প্রবেশ করে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে খুঁজে নেন ঠিকানা।
এই গোলের আগে ও পরে আরও কিছু সহজ সুযোগ এসেছিল পিএসজির সামনে, যা কাজে লাগাতে পারলে অনায়াসেই ৬-৭ গোলে জেতা সম্ভব হত তাদের জন্য।
No posts available.
৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:২৯ পিএম
৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম

জাতীয় দল কিংবা ক্লাব—দুই জার্সিতেই বছরজুড়ে গোলের পর গোল করেছেন। নরওয়ে ও ম্যানচেস্টার সিটিতে সমানতালে গোল উৎসব করে ক্যারিয়ারে পেলেন আরেকটি স্বীকৃতি। টানা ছয়বার নরওয়ের বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়ে ‘হেক্সা’ পূরণ করলেন তারকা এই ফরোয়ার্ড।
প্রতি বছর নরওয়েজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বছরের সেরা নারী ও পুরুষ ফুটবলারকে স্বর্ণপদক (গোল্ডেন বল) পুরস্কার দিয়ে থাকে। পুরুষদের বিভাগে আগের পাঁচ বছরে সেরার এই স্বীকৃতি পান হলান্ড। আর মেয়েদের বিভাগে বছরের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হওয়া ক্যারোলাইন গ্রাহাম হ্যানসেন গত সাত বছরে ষষ্ঠবার এই পদক পাচ্ছেন।
টানা ষষ্ঠবারের মতো বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়ে হলান্ড বললেন, ‘আবার জিততে পেরে দারুণ লাগছে। এটা দারুণ এবং আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।
২০২৫ সাল হল্যান্ডের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। গত বছর হলান্ডের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে তোলা। সদ্য সমাপ্ত বছরের কথা স্বরণ করে এই ‘গোলমেশিন, বলেন,
‘এটা খুবই রোমাঞ্চকর একটি বছর ছিল, অনেক কিছু ঘটেছে। বিশ্বকাপের যোগ্যতা পাওয়া অসাধারণ এবং বড় ঘটনা। আমার জন্য এটাই বছরের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। এটা অংশ হওয়া দারুণ এবং অবশেষে সফল হওয়া আরও ভালো লাগছে।’
ইতালিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট কাটে নরওয়ে। ওই ম্যাচে জোড়া গোল করেন হলান্ড। ২০২৫ সালে মাত্র নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১৭টি গোল করে দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
দলকে বিশ্বকাপে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখাই ছিল হল্যান্ডের জন্য বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সিটির ফরোয়ার্ড বলেন,
‘আমরা সান সিরোতে গিয়েছিলাম এবং জানতাম আমরা যোগ্যতা অর্জন করব। তবে ৪-১ গোলে ইতালিকে হারিয়ে সেটা দারুণ স্টাইলিশভাবেই হলো। এটা আমরা কেবল স্বপ্নে ভাবতে পারতাম। তাই এটা অনেক বড় অর্জন, আমরা ভীষণ খুশি। এখন আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি, এবং আমি অনেক আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি।’
গত বছর প্রিমিয়ার লিগেও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে অসাধারণ মৌসুম কাটিয়েছেন হলান্ড। প্রিমিয়ার লিগে ১০০ গোল করার দ্রুততম খেলোয়াড় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৫০ গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। চলতি মৌসুমেও লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হলান্ড। ২১ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার।

একজন উইঙ্গারের প্রধান দায়িত্ব প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানো। পাশাপাশি অ্যাসিস্টে অবদান রাখাও প্রত্যাশিত। কিন্তু ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই মানদণ্ডে একেবারেই ফিকে।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সবশেষ ২০ ম্যাচে গোলের খাতা খুলতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এ সময়ে পেয়েছেন মাত্র তিনটি অ্যাসিস্ট। বিপরীতে শাস্তির খাতায় নাম লিখিয়েছেন আরও ঘন ঘন—চারটি হলুদ কার্ড পেয়েছেন এসময়।
ভিনিসিয়ুসের সর্বশেষ গোলের জন্য ফিরতে হবে প্রায় ৬০ দিন পেছনে। সবশেষ গত বছরের ১০ অক্টোবর জাতীয় দলের গোল হয়ে করেছিলেন ভিনি। সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে ১ গোল ও এক অ্যাসিস্ট পেয়েছিলেন ভিনি। তার আগে ৫ অক্টোবর ক্লাবের হয়ে লা লিগায় জোড়া গোল পেয়েছিলেন ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে। এরপর থেকে গোল যেন হারিয়েই ফেলেছেন ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার।
ফর্মহীনতার সঙ্গে যোগ হয়েছে মাঠের উত্তেজনা ও আচরণগত বিতর্ক। শেষ ২০ ম্যাচে চারবার হলুদ কার্ড দেখার পাশাপাশি একাধিকবার জড়িয়েছেন নিজ দলের কোচ, প্রতিপক্ষ কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তর্কে।
গতবছরের ২৬ অক্টোবর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এল ক্লাসিকোতে ৭২ মিনিটে বদলি হিসেবে তুলে নেওয়া হয় ভিনিসিয়ুসকে। সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে পারেননি তিনি। টাচলাইনের দিকে হাঁটার সময় বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রকাশ্যেই। বদলি হিসেবে রদ্রিগোকে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন কোচ জাবি আলোনসো, যা নিয়েই মূলত ক্ষোভের সূত্রপাত।
সাধারণত বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় কোচের সঙ্গে হাই-ফাইভ বা কোলাকুলি করেন খেলোয়াড়রা। কিন্তু ভিনিসিয়ুস সেই সৌজন্য দেখাননি। আলোনসোর দিকে তাকানো তো দূরের কথা, বেঞ্চেও না বসে সরাসরি টানেলের দিকে চলে যান। পরে ফিরে এলেও কোচের সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা স্পষ্ট ছিল।
সর্বশেষ সুপারকোপার সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গেও তর্কে জড়ান ভিনিসিয়ুস। ম্যাচ চলাকালীন সিমিওনের খোঁচায় উতপ্ত হয়ে পাল্টা জবাব দেন রিয়ালের ৭ নম্বর জার্সিধারী।
গোল নেই, ফর্ম নেই—তার ওপর আচরণগত বিতর্ক। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জন্য সময়টা যে মোটেও স্বস্তির নয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় সত্য।

তারুণ্যের উৎসব ব্যানারে ধলেশ্বরী জোনে আজ থেকে শুরু হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী ম্যাচে শরিয়তপুর জেলাকে ৩-০ পরাজিত করে স্বাগতিক রাজবাড়ী জেলা।
রাজবাড়ী জেলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথমার্ধে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় রাজবাড়ী। ৫৯ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে মো. নাসিম খানের ক্রসে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে রাজবাড়ীকে লিড এনে দেন রাহুল বিশ্বাস।
দুই মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মো. কাজী আসলান। ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন আসলান। এতে নিশ্চিত হয় রাজবাড়ীর বড় জয়।
পরিসংখ্যানেও রাজবাড়ীর আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। তারা অন টার্গেট ৬টি শট নেয়, কর্নার আদায় করে ৭টি এবং ফ্রি কিক পায় ৮টি। বল দখলে রাজবাড়ী ছিল ৬০ শতাংশ সময়। অন্যদিকে শারিয়তপুর নেয় ৩টি অন টার্গেট শট, কর্নার ৫টি, ফ্রি কিক ৭টি।
জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন রাজবাড়ী জেলার আসলান।
এই প্রতিযোগিতার এটি দ্বিতীয় জোনের খেলা। এর আগে ঝিনাইদহ জোনের খেলা শেষ হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে এক শোক বার্তায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায় বাফুফে।
শোক বার্তায় ফিফা সভাপতি উল্লেখ করেন,
‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।’
আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনের পক্ষ থেকে ফিফা সভাপতি বাংলাদেশ সরকার, বাফুফে এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও এই শোক বার্তার জন্য ফিফা সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায়ের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম নক্ষত্রের জীবনাবসান হয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বর। সেদিন ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ‘মা, মাটি ও মানুষের নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ইতিহাসে অনেক ব্রাজিলিয়ান তারকাই মাঠ মাতিয়েছেন। গোলের পর গোল করে দলের জয়ে অবদান রেখেছেন। ব্যাক্তিগত অনেক অর্জনেরও স্বাক্ষী হয়েছেন। তবে এত এত তারকাদের টপকে এক জায়গায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন আড়ালে থাকা এক ব্রাজিলিয়ান।
প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল করা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার এখন ইগোর থিয়াগো। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে গত পরশু জোড়া গোল করে দারুণ এই রেকর্ডে নাম লেখান ব্রেন্টফোর্ডের এই ফরোয়ার্ড।
২০২৫-২৬ মৌসুমে লিগে ২১ ম্যাচে ১৬ গোল করে ইগোর থিয়াগো ছাড়িয়ে গেছেন ম্যাথিউস কুনহাকে। বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলা কুনহা গত মৌসুম উলভারহ্যাম্পটনের হয়ে ৩৩ ম্যাচে ১৫ গোল করেন। অর্থাৎ ১২ ম্যাচ কম খেলেই এই রেকর্ডে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ২৪ বছর বয়সী ইগোর থিয়াগো। এছাড়া প্রিমিয়ার লিগে এক মৌসুমে ১৫ গোল করেছেন রবার্তো ফিরমিনো, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি।
গত রোববার এভার্টনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর টানা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের পথে ছিলেন থিয়াগো। তবে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৮২তম মিনিটে তাকে তুলে নেন ব্রেন্টফোর্ডের কোচ কিথ অ্যান্ড্রুজ।
ইভান টোনি, ব্রায়ান এমবেউমো ও ইয়োয়ানে উইসার ক্লাব ছাড়ার পর ব্রেন্টফোর্ডের প্রথম পছন্দের স্ট্রাইকার হিসেবে থিয়াগোর এটি প্রথম মৌসুম। ২০২৪ সালের ক্লাব ব্রুজ থেকে ৩ কোটি পাউন্ডে তাকে দলে নেয় ব্রেন্টফোর্ড। তবে চোটের কারণে পুরো প্রথম মৌসুমই মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি।
এ মৌসুমে লিগে ২০ ম্যাচেই শুরুর একাদশে খেলেছেন ইগর থিয়াগো। চার ম্যাচে করেছেন জোড়া গোল, পেয়েছেন একটি হ্যাটট্রিক। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডের প্রশংসা করে ব্রেন্টফোর্ডের কোচ কেইথ অ্যান্ড্রু বিবিসিকে বলেন, ‘সে একজন বিশেষ মানুষ, যে খুব সুন্দরভাবে এই জীবন মানিয়ে নিয়েছে। এই জায়গায় আসতে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। নিজের পথ নিজেই তৈরি করেছে এবং কঠোর পরিশ্রম করেছে। তার ব্যক্তিত্বে প্রবল দৃঢ়তা আছে। সে নিয়মিত নিজের দক্ষতা বাড়াচ্ছে, আর আমরা ধীরে ধীরে তাকে আরও ভালোভাবে জানতে পারছি। সে প্রায় পরিপূর্ণ একজন সেন্টার-ফরোয়ার্ড।’
থিয়াগো এখনও ব্রাজিল জাতীয় দলে সুযোগ পাননি। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার দৌড়ে বেশ জোরালো দাবিই জানিয়ে রাখলেন তিনি।