১ জুন ২০২৫, ৩:১৯ এম

ফাইনালের আগে লুইস এনরিকে বলেছিলেন, ইতিহাস গড়তে চায় তার দল। তবে বারবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে খালি হাতে ফেরা পিএসজির সেজন্য দরকার ছিল এমন পারফরম্যান্স, যে হয়ত ফাইনালের মঞ্চে আগে দেখাই যায়নি। প্রথম মিনিট থেকে ইন্তার মিলানকে দ্বিতীয় সেরা দল বানিয়ে বিরতির আগেই তাই ম্যাচের লাগাম নিয়ে নিল ফরাসি ক্লাবটি। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের দুর্দমনীয় ফুটবলের সামনে খড়কুটোর মত উড়ে গেল ইতালিয়ান ক্লাবটি। ইতিহাস গড়ে অধরা চ্যাম্পিয়িন্স লিগ জয়ের স্বাদ পেল পিএসজি।
মিউনিখের অ্যালিয়ান্জ অ্যারেনায় রোববারের ফাইনালে পিএসজি পেয়েছে ৫-০ গোলের জয়। এর মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় ফাইনালে গিয়ে প্রথমবারের মত শিরোপা উঁচিয়ে ধরল লিগ ওয়ানের ক্লাবটি।
এর সাথে ক্লাবটি গড়ল নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ট্রেবল জয়ের স্বাদ। এর আগে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লিগ ওয়ান ও লিগ কাপে।
পিএসজির সাথে সাথে ইতিহাস গড়েছেন এনরিকেও। পেপ গার্দিওলার পর মাত্র দ্বিতীয় কোচ হিসেবে দুটি ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবের হয়ে ট্রেবল জিতলেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি তিনি গড়েছিলেন ২০১৫ সালে, বার্সেলনার হয়ে। আর গার্দিওলা দুইবার ট্রেবল জেতেন ২০০৯ সালে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে, আর দ্বিতীয়বার ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ২০২২ সালে।
আরও পড়ুন
| আমাদের লক্ষ্য ছিল ইতিহাস গড়ার : এনরিকে |
|
এই ম্যাচটি ছিল ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় পিএসজি ও ইন্তারের মুখোমুখি লড়াই। ফাইনালের আগে ইন্তার তিনবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী হলেও এই মৌসুমের ফর্ম বিবেচনায় ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নামে এনরিকের দল। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই প্রাধান্য বিস্তার করে পিএসজি বুঝিয়ে দেয়, উপভোগ্য ফুটবলে তারা দাপট দেখাতে চায়।
ম্যাচের ১২ মিনিটের মাথায় বলার মত প্রথম আক্রমণেই ইন্তারকে চমকে দেয় পিএসজি। গোল হজমে মিলানের ক্লাবটির বাজে ডিফেন্ডিং রাখে বড় ভূমিকা। মাঝমাথে ভিতিনিয়া বলের দখল নিয়ে বক্সের ভেতর ডানদিকে পাস বাড়ান ডেজিয়ের দুয়েকে। নিজে গোলে শট না নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ঘুরে বক্সের তাকিয়ে খুঁজে নেন ডান উইং দিয়ে উঠে আসা আশরাফ হাকিমিকে। মরক্কান ডিফেন্ডার নিখুঁত এক নিচু শটে বল জালে পাঠাতে আর ভুল করেননি।
এই গোলটি পিএসজির জন্য বিশেষ কিছুই ছিল, কারণ, ২০১৯ সাল থেকে ফাইনালে প্রথমে গোল করা দলগুলোই জিতে আসছে শিরোপা। তবে যিনি এই গোলটি করেছেন, সেই হাকিমি উদযাপন করা থেকে বিরতই থাকেন। পিএসজির আগে যে ইন্তারের জার্সিতেই খেলেছিলেন তিনি।
গোল হজমের পর ইন্তার যেন আরও চাপে পড়ে যায়। আর টানা আক্রমণে পিএসজি বজায় রাখে আধিপত্য। সেই ধারায় ২০তম মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বাঁদিক দিয়ে উঠে এসে বক্সের বাইরে পাস দেন দুয়েকে। ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শট ইন্তার ডিফেন্ডার ফেদেরিকো ডিমারকোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ইয়ান সোমারকে ফাঁকি দিয়ে জড়ায় জালে।
আরও পড়ুন
| হারলেও ইন্তারের নিবেদন নিয়ে গর্বিত ইনজাগি |
|
এই গোলের মধ্য দিয়ে অনন্য রেকর্ড গড়েন দুয়ে। ১৯ বছর ৩৬২ দিন বয়সে ফাইনালে জালের দেখা পেয়ে তিনি হয়ে যান চ্যাম্পিয়ন্স লিগেরর শিরোপার লড়াইয়ের ম্যাচের চতুর্থ কনিষ্ঠ গোলস্কোরার। তার আগে এই কীর্তি ছিল কেবল প্যাট্রিক ক্লুভার্ট (১৯৯৫) এবং কার্লোস আলবার্তো (২০০৪)।
শুধু তাই নয়, এই গোল ফরাসি উইঙ্গারকে জায়গা করে দেয় রেকর্ডের এমন পাতায়, যেখানে নেই ফুটবল ইতিহাসের গ্রেটরাও। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে ফাইনালে গোল ও অ্যাসিস্ট উভয়ই করা সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় তিনিই।
মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে দুই গোল হজম করে খেই হারিয়ে ফেলে ইন্তার। দলটি বলের দখল রাখে এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলে সিমোনে ইনজাগির দলকে বারবার ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। সেটা কাটিয়ে ইন্তার গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পিএসজির অদম্য প্রেসিংয়ের সামনে আটকে যায় তাদের সব প্রচেষ্টা।
উল্টো বিরতির আগে পুরোপুরি আধিপত্য দেখানো পিএসজির বিরতিহীন আক্রমণে ছন্দহীন ফুটবল খেলে ইন্তার। তার মাঝেও ৩৪তম মিনিটে হেনরিখ মিখিতারিয়ানের চমৎকার পাস থেকে সুযোগ এসেছিল মারকুস থুরামের সামনে, যা তিনি কাজে লাগাতে পারেননি।
৩৮তম মিনিটে ফের সুযোগ এসেছিল থুরামের। জটলার মধ্যে কর্নার থেকে দুর্দান্তভাবে লাফিয়ে উঠে দূরের পোস্টে হেড নেন, তবে সেটা পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
৪৪তম মিনিটে বাম দিক থেকে দুয়ে মাপা ক্রস দেন দেম্বেলেকে, ফরাসি উইঙ্গার যে শট নেন, তা শেষ মুহূর্তে গোললাইন অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়।
একচেটিয়া প্রাধান্য দেখানো পিএসজি ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে প্রথমার্ধে গোলের জন্য শট নেয় ৮টি, যার ৩টি থাকে লক্ষ্যে।
৫৮তম মিনিটে পিএসজি মিডফিল্ডার জায়র-এমেরি দূরপাল্লার শট নেন, যা গোলরক্ষক সোমার ব্লক করে দেন দৃঢ়তার সাথেই। এর খানিক বাদে তৃতীয় গোলের দেখা পায় পিএসজি। বক্সের ভিতরে ওয়ান-টু পাসের মাধ্যমে বল পেয়ে ডান পায়ের জোড়াল এক শটে ইন্তার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দুয়ে মেতে ওঠেন বাধভাঙ্গা উল্লাসে।
আরও পড়ুন
| আবেগময় ম্যাচে মেয়ের হয়েও শিরোপা জিতলেন এনরিকে |
|
এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে সরাসরি তিন গোলে অবদান রাখার রেকর্ড করেছেন তিনি।
৮৯তম মিনিটে পিএসজিকে শিবিরকে উল্লাসে ভাসান একটু আগেই বদলি হিসেবে নামা ১৮ বছর বয়সী সেনি মায়ুলু। ব্র্যাডলি বারকোলার কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁদিক থেকে বক্সে প্রবেশ করে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে খুঁজে নেন ঠিকানা।
এই গোলের আগে ও পরে আরও কিছু সহজ সুযোগ এসেছিল পিএসজির সামনে, যা কাজে লাগাতে পারলে অনায়াসেই ৬-৭ গোলে জেতা সম্ভব হত তাদের জন্য।
No posts available.
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ৪:১২ পিএম
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম