
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনালে আগে ব্যাট করা নর্থ জোন ৬ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ২৭৫ রান। পারভেজ হোসেন ইমনের ৭৩ রান ছাপিয়ে ইস্ট জোনের সেরা ব্যাটার শতক করা শাহাদাৎ হোসেন দীপু। পাঁচ উইকেটে নর্থ জোনের বোলিং একাই সামলেছেন নাহিদ রানা।
১১ তম বিসিএলের ফাইনালে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে ইস্ট জোন। প্রথম ওভারেই উইকেট হারিয়েছে দলটা। সৈকত আলি ফিরেছেন ৪ রানে। প্রথম উইকেট নর্থ জোনের পেসার শহিদুল ইসলামের।
আরও পড়ুন: বিসিএলের চ্যাম্পিয়ন ইস্ট জোন
তিনে নামা মাহমুদুল হাসান জয় (১৬), চারে নামা মুমিনুল হক (৮) রানে ফিরেছেন। তবে আরেক ওপেনার ইমনের ব্যাটে ৮৯ বলে ৫ চার, ৩ ছয়ে ৮২ স্ট্রাইক রেটে ৭৩ রানের ইনিংস।
মাঝে ইরফান শুকুরের ব্যাটে পাক্কা ১০০ স্ট্রাইক রেটে ৩৬ রানের ইনিংস। নাসুম আহমেদ পেসার রানা বলে ফিরেছেন ৪ রানে।
আরও পড়ুন: বিসিএলে খেলবেন এশিয়া কাপ জেতা যুব টাইগাররা
ইস্ট জোনের সংগ্রহ ২৭০ পেরোয় দীপুর ব্যাটে। এই ব্যাটার ১১৮ বলে ৮ চার, এক ছয়ে ৮৪ বলে করেন শতক। ২১ বছর বয়সী এই ব্যাটারের লিস্ট 'এ' ক্রিকেটের চতুর্থ নম্বর শতক। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১২২ বলে ১১৩ রানে।

নর্থ জোনের পেসার রানা ১০ ওভারে এক মেডেন ওভারে ৫০ রান দিয়ে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে আগের তিন ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া রানা এবারই পেলেন প্রথম পাঁচ উইকেট।
দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সর্বশেষ খেলার আপডেট জানতে চোখ রাখুন টি স্পোর্টসে এছাড়া ফেসবুকে আমাদের ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন ও ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।
No posts available.

টেস্ট সিরিজ পূর্ব সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ইনিংসে ৪শ' টার্গেটের কথা উল্লেখ করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সে লক্ষ্য পূরণের আভাস দিয়েছে শান্ত এন্ড কোম্পানী প্রথম দিনে ৩০১/৪ স্কোর তুলে। অবশিষ্ট দায়িত্বটা পালন করেছে ৫ম এবং ১০ম উইকেট জুটি। তাতেই মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৪১৩/১০ স্কোর করেছে বাংলাদেশ।
ওভারপ্রতি ৩.৫২ হারে রান তোলা বাংলাদেশের ইনিংসের স্থায়ীত্ব ৫৩৮ মিনিট। দ্বিতীয় দিনে ১৬৮ মিনিট ব্যাটিংয়ে শেষ ৬ জুটি যোগ করেছে ১১২ রান। যার মধ্যে তাসকিন-নাহিদ রানার শেষ পার্টনারশিপের অবদান ৩৪ মিনিটে ৩৯! তবে প্রথম ইনিংসে ৪১৩/১০ স্কোর করেও দ্বিতীয় দিন শেষে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারছে না বাংলাদেশ দল।
মিরপুর টেস্টে প্রথমে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ৪শ প্লাস স্কোরের সংখ্যা বাংলাদেশের খুব বেশি না। চলমান টেস্টের আগে এমন দৃষ্টান্ত ৪বার করতে পেরেছে বাংলাদেশ। সেই চারটি ইনিংসের ম্যাচের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের অতীত আছে বাংলাদেশের। ১৬ বছর আগে এই ভেন্যুতে প্রথমে ব্যাট করে ৪১৯ স্কোর করেও কিন্তু ইংল্যান্ডের কাছে ৯ উইকেটে দুঃসহ স্মৃতি আছে বাংলাদেশ দলের। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ স্কোয়াডের দুই ক্রিকেটারের একজন মুশফিকুর রহিম এই ম্যাচে আছেন মাঠে, অন্যজন তামিম ইকবাল এখন বিসিবি বস। বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট দেখছেন প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে। বড় স্কোরের পরও স্লিপে দুটি ক্যাচ ড্রপে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান কীভাবে লড়াইয়ে ফিরছে, তা উপলব্ধি করছেন।
দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের স্কোর ১৭৯/১। পিছিয়ে আছে তারা ২৩৪ রানে। টেস্ট অভিষেক ইনিংসে সেঞ্চুরি থেকে ১৫ রান দূরে এখন বাঁ হাতি ওপেনার আজান ওয়াইজ (১৩৩ বলে ১২ বাউন্ডারিতে ৮৫)। আর এক ডেব্যুটেন্ট আবদুল্লাহ ফজল আছেন ৩৭ রানে ব্যাটিংয়ে।
মিরপুর স্টেডিয়ামের পিচে দ্বিতীয় দিনে ধরেনি ফাটল। বরং কড়া রোদে পিচ শুকিয়ে স্বাভাবিক ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান টপ অর্ডারদের করছে অনুপ্রানিত। নাহিদ রানার মতো একজন গতির বোলার টিমে আছেন, তাতেই উদ্বুদ্ধ পেসার এবাদত ঘন্টায় ১৪৩ কিলোমিটার গতিতে বল করেছেন! নাহিদ রানার প্রথম ডেলিভারিটি ছিল বাউন্সি। সেই বলে পুল করতে যেয়ে হেলমেটের গ্রিলে বলের আঘাত এতোটাই ছিল যে, মাঠের মধ্যে আজান ওয়াইজের প্রাথমিক চিকিৎসায় লেগেছে ৪ মিনিট। নাহিদ রানার দ্বিতীয় ওভারের ৬টি ডেলিভারির গতি ছিল ঘন্টায় ১৪২, ১৪১, ১৪৪, ১৪৭, ১৪৩ এবং ১৪৬ কিলোমিটার!
তবে বাংলাদেশ পেসারদের গতি আতঙ্ক কাটিয়ে পাকিস্তানের প্রথম উইকেট জুটির ১১২ মিনিটে ১০৬ রানই বলুন কিংবা অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেট জুটির ৮৯ মিনিটে ৭৩, দুটি পার্টনারশিই লম্বা হয়েছে স্লিপ ফিল্ডিংয়ের ব্যর্থতায়। এবাদতের অফ স্ট্যাম্পের উপর পিচিং ডেলিভারিতে ইমাম উল হক থার্ড স্লিপে দিয়েছিলেন ক্যাচ। ফ্লাইং ক্যাচের সে চেষ্টায় ব্যর্থ মাহামুদুল হাসান জয়। ২৩ রানে জীবন ফিরে পাওয়া ইমাম উল হক ইনিংসটা টেনে নিয়েছেন ৪৫ পর্যন্ত। দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানের একমাত্র এই উইকেটটি নিয়েছেন অফ স্পিনার মিরাজ। ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে যেয়ে ব্যাট বলের স্পর্শ না পেয়ে প্যাডে আঘাত হানায় ফিল্ড আম্পায়ার দিয়েছেন আউটের সিদ্ধান্ত। রিভিউ আপীলেও লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে মিডল এন্ড লেগ স্ট্যাম্পে আঘাতের চিত্র ভেসে ওঠায় ফিরে যেতে হয়েছে ইনাম উল হককে ড্রেসিং রুমে। দ্বিতীয় দিনের পড়ন্ত বেলায় তাসকিনের বলে সেকেন্ড স্লিপে আবদুল্লাহ ফজলকে ২৮ রানে থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ অপচয় করেছেন সাদমান।
এক্সপ্রেস বোলার নেই পাকিস্তান দলে, তাতে কি ? ঘন্টায় গড়ে ১২০ কিলোমিটার গতিতে বল করেও মুভমেন্ট পেলে যে বিপজ্জনক হওয়া যায়, লাঞ্চের আগের স্পেলে (৯-১-২২-৩) মিডিয়াম পেসার মুহাম্মদ আব্বাস তা জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বোলিংয়ে নির্বিঘ্নে প্রথম সেশন পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ঘন্টায় বাংলাদেশ হারিয়েছে ৭৯ রানে ৩ উইকেট।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে টানা তিনটি বাউন্ডারিতে লিটন প্রশংসা পেলেও টেস্ট মেজাজটা হারিয়েছিলেন। ৬ ষ্ঠ স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আজান আইওয়াজের হাত থেকে বেঁচে গেছেন। জুম করে ক্যাচ নিশ্চিত হতে যেয়ে মাটি থেকে বল উঠিয়ে আনায় ৩২ রানের মাথায় জীবন পেয়েছেন লিটন। তাঁর পরেও ফিফটি করতে পারেননি লিটন। আব্বাসের পরের ওভারে শর্ট বলে পুল করতে যেয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়েছেন লিটন দাস (৬৭ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ রান)। ৫ম উইকেট জুটিতে ১১২ মিনিটে মুশফিক-লিটনের ৬২ রানের পার্টনারশিপটি মূলত দিনের প্রথম সেশন পার করতে সহায়ক হয়েছে।
এই আব্বাসের শর্ট বলে পুল শটে মিরাজ ডিপ স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা মেরেও নিজেকে পরবর্তীতে নিবৃত্ত রাখতে পারেননি। আব্বাসের পরের ডেলিভারিতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দিয়েছেন ক্যাচ (১২ বলে ১০)। হাসান আলীকে পর পর দুটি ডেলিভারিতে বাউন্ডারি মেরে বাহাদুরি দেখানো টেল এন্ডার তাইজুল (২৩ বলে ১৭) আব্বাসের চতুর্থ শিকারে পরিনত। আব্বাসের বাউন্সারে পুল করতে যেয়ে করেছেন ভুল। উইকেট কিপার রিজওয়ান শুণ্যে লাফিয়ে নিয়েছেন ক্যাচ।
৩৯তম জন্মদিন উদযাপনটিও হয়েছে মিশ্র অনুভুতিতে। সেঞ্চুরিতে ৩৯তম জন্মবার্ষিকীটা অনেক বেশি উদযাপনের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন মুশফিকুর রহিম। জন্মদিনে সেঞ্চুরির কক্ষপথে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। খেলেছেন সংযমী ইনিংস। দুটি মাঝামারিমানের পার্টনারশিপে রেখেছেন অবদান।
৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট ব্যাটিংয়ে টেস্ট মেজাজের পরীক্ষা দিতে দিতে দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের পর ভুল করেছেন। শাহিন আফ্রিদিকে ফরোয়ার্ড ড্রাইভ করতে যেয়ে থেমেছেন ৭১ রানে। ৩৯.৬৬ স্ট্রাইক রেটে ১৭৯ বল খেলে ৯টি বাউন্ডারিতে থেমেছে তাঁর প্রথম ইনিংস।
টেস্ট ক্যারিয়ারে ৬ষ্ঠ বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেতে (৩৪-৮-৯২-৫) মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আব্বাসকে দিয়ে লম্বা স্পেলে বল করিয়েছেন অধিনায়ক শান মাসুদ। লাঞ্চের আগে-পরে মিলিয়ে ১২ ওভারের স্পেলে শিকার করেছেন আব্বাস ৪ উইকেট ( ১২-১-৪১-৪)। আব্বাসের ৫ম উইকেটে শিকার এবাদত। আব্বাস এবাদতকে (১০ বলে ০) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে উদযাপন করেছেন ৫ম উইকেটের আনন্দ।
স্কোরটা ৪শ-তে টেনে নেয়া যখন ভাগ্যের চাকার উপর নির্ভর করছে, তখন আব্বাসকে লং অনের উপর দিয়ে তাসকিনের ছক্কায় শান্ত'র লক্ষ্য পূরন হয়েছে। এই তাসকিনের ১৯ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ২৮ রানের ইনিংস থেমেছে শাহিন আফ্রিদির বলে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে।
পাকিস্তান টপ অর্ডারদের নতুন বলে পর্যুদস্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ বোলাররা। পুরনো বলে কী দায়িত্বটা পালন করতে পারবে বোলাররা ? মিরপুর টেস্টের গতিপথ কোথায় যাচ্ছে,তা নির্ভর করবে বোলারদের ছন্দ ফিরে পাওয়া, না পাওয়ার উপর।

টেস্ট সিরিজ পূর্ব সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ইনিংসে ৪শ' টার্গেটের কথা উল্লেখ করেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সে লক্ষ্য পূরণের আভাস দিয়েছে শান্ত এন্ড কোম্পানী প্রথম দিনে ৩০১/৪ স্কোর তুলে। অবশিষ্ট দায়িত্বটা পালন করেছে ৫ম এবং ১০ম উইকেট জুটি। তাতেই মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৪১৩/১০ স্কোর করেছে বাংলাদেশ।
ওভারপ্রতি ৩.৫২ হারে রান তোলা বাংলাদেশের ইনিংসের স্থায়ীত্ব ৫৩৮ মিনিট। দ্বিতীয় দিনে ১৬৮ মিনিট ব্যাটিংয়ে শেষ ৬ জুটি যোগ করেছে ১১২ রান। যার মধ্যে তাসকিন-নাহিদ রানার শেষ পার্টনারশিপের অবদান ৩৪ মিনিটে ৩৯!
মিরপুরের উইকেট যতোই সবুজ হোক না কেনো, এখানে ফাটল ধরবেই। বল পিচিং করে কখনো লো, কখনো অপ্রত্যাশিত বাউন্স হবে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে সেই বৈশিষ্টে যথারীতি হাজির শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের স্পোর্টিং উইকেট। ঘন্টায় গড়ে ১২০ কিলোমিটার গতিতে বল করেও মুভমেন্ট পেলে যে বিপজ্জনক হওয়া যায়, লাঞ্চের আগের স্পেলে (৯-১-২২-৩) মিডিয়াম পেসার মুহাম্মদ আব্বাস তা জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বোলিংয়ে নির্বিঘ্নে প্রথম সেশন পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ঘন্টায় বাংলাদেশ হারিয়েছে ৭৯ রানে ৩ উইকেট।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে টানা তিনটি বাউন্ডারিতে লিটন প্রশংসা পেলেও টেস্ট মেজাজটা হারিয়েছিলেন। ৬ ষ্ঠ স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আজান আইওয়াজের হাত থেকে বেঁচে গেছেন। জুম করে ক্যাচ নিশ্চিত হতে যেয়ে মাটি থেকে বল উঠিয়ে আনায় ৩২ রানের মাথায় জীবন পেয়েছেন লিটন। তাঁর পরেও ফিফটি করতে পারেননি লিটন। আব্বাসের পরের ওভারে শর্ট বলে পুল করতে যেয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়েছেন লিটন দাস (৬৭ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৩৩ রান)। ৫ম উইকেট জুটিতে ১১২ মিনিটে মুশফিক-লিটনের ৬২ রানের পার্টনারশিপটি মূলত দিনের প্রথম সেশন পার করতে সহায়ক হয়েছে।
এই আব্বাসের শর্ট বলে পুল শটে মিরাজ ডিপ স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা মেরেও নিজেকে পরবর্তীতে নিবৃত্ত রাখতে পারেননি। আব্বাসের পরের ডেলিভারিতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দিয়েছেন ক্যাচ (১২ বলে ১০)। হাসান আলীকে পর পর দুটি ডেলিভারিতে বাউন্ডারি মেরে বাহাদুরি দেখানো টেল এন্ডার তাইজুল (২৩ বলে ১৭) আব্বাসের চতুর্থ শিকারে পরিনত। আব্বাসের বাউন্সারে পুল করতে যেয়ে করেছেন ভুল। উইকেট কিপার রিজওয়ান শুণ্যে লাফিয়ে নিয়েছেন ক্যাচ।
৩৯তম জন্মদিন উদযাপনটিও হয়েছে মিশ্র অনুভুতিতে। সেঞ্চুরিতে ৩৯তম জন্মবার্ষিকীটা অনেক বেশি উদযাপনের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন মুশফিকুর রহিম। জন্মদিনে সেঞ্চুরির কক্ষপথে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। খেলেছেন সংযমী ইনিংস। দুটি মাঝামারিমানের পার্টনারশিপে রেখেছেন অবদান।
৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট ব্যাটিংয়ে টেস্ট মেজাজের পরীক্ষা দিতে দিতে দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের পর ভুল করেছেন। শাহিন আফ্রিদিকে ফরোয়ার্ড ড্রাইভ করতে যেয়ে থেমেছেন ৭১ রানে। ৩৯.৬৬ স্ট্রাইক রেটে ১৭৯ বল খেলে ৯টি বাউন্ডারিতে থেমেছে তাঁর প্রথম ইনিংস।
টেস্ট ক্যারিয়ারে ৬ষ্ঠ বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেতে (৩৪-৮-৯২-৫) মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে আব্বাসকে দিয়ে লম্বা স্পেলে বল করিয়েছেন অধিনায়ক শান মাসুদ। লাঞ্চের আগে-পরে মিলিয়ে ১২ ওভারের স্পেলে শিকার করেছেন আব্বাস ৪ উইকেট ( ১২-১-৪১-৪)। আব্বাসের ৫ম উইকেটে শিকার এবাদত। আব্বাস এবাদতকে (১০ বলে ০) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে উদযাপন করেছেন ৫ম উইকেটের আনন্দ।
স্কোরটা ৪শ-তে টেনে নেয়া যখন ভাগ্যের চাকার উপর নির্ভর করছে, তখন আব্বাসকে লং অনের উপর দিয়ে তাসকিনের ছক্কায় শান্ত'র লক্ষ্য পূরন হয়েছে। এই তাসকিনের ১৯ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ২৮ রানের ইনিংস থেমেছে শাহিন আফ্রিদির বলে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে।

বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ম্যাচের সেঞ্চুরি পূরণ করেছেন মুশফিকুর রহিম ৬ মাস আগে। সেঞ্চুরি টেস্টে সেঞ্চুরিতে ইতিহাস রচনা করেছেন। ১০১তম টেস্ট খেলতে নেমে ইমরান খানকে (২০ বছর ২১৮ দিন) টপকে উপমহাদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিতীয় দীর্ঘ ক্যারিয়ার রেকর্ডস (২০ বছর ৩৪৮ দিন) করেছেন তিনি। উপমহাদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর উপরে এখন শুধুই সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার শচিন টেন্ডুলকার (২৪ বছর ১ দিন)।
চলমান টেস্টের প্রথম দিন বিরল কৃতিতে নাম লিখিয়ে দিন শেষে ছিলেন ৪৮ রানে অবিচ্ছিন্ন। দ্বিতীয় দিনে শাহিন আফ্রিদিকে শর্ট স্কোয়ার লেগে সিঙ্গল নিয়ে ২৯তম টেস্ট ফিফটি উদযাপন করে আর একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। টেস্টে সেঞ্চুরি এবং ফিফটি মিলিয়ে সংখ্যাটি উন্নীত করেছেন ৪২-এ। তামিমকে টপকে টেস্টে এই সংখ্যায় তিনি সবার উপরে।
দীর্ঘ ২০ বছর ৩৪৯ দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে জন্মদিনে ইতোপূর্বে খেলেছেন মাত্র ২টি ম্যাচ। ২০১৫ সালের ৯ মে মুশফিকুর রহিমের ২৮তম জন্মদিনটা পানসে করে দিয়েছিলেন পাকিস্তান স্পিনার ইয়াসির শাহ। তাঁর বলে বোল্ড হয়ে ০ রানে থেমেছিলেন মুশফিকুর রহিম। ৩ বছর আগে ৩৬তম জন্মদিনটা অবশ্য ভালই উদযাপন করেছেন মুশফিকুর রহিম। চেম্পসফোর্ডে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই ম্যাচে মুশফিকুর রহিম খেলেছেন ৬১ রানের ইনিংস। বৃষ্টিতে সেই ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় ৩৬তম জন্মদিন উদযাপনে পাননি অতোটা আনন্দ।
৩৯তম জন্মদিন উদযাপনটিও হয়েছে মিশ্র অনুভুতিতে। সেঞ্চুরিতে ৩৯তম জন্মবার্ষিকীটা অনেক বেশি উদযাপনের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন মুশফিকুর রহিম। জন্মদিনে সেঞ্চুরির কক্ষপথে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। খেলেছেন সংযমী ইনিংস। দুটি মাঝামারিমানের পার্টনারশিপে রেখেছেন অবদান।
৪ ঘন্টা ৩৯ মিনিট ব্যাটিংয়ে টেস্ট মেজাজের পরীক্ষা দিতে দিতে দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের পর ভুল করেছেন। শাহিন আফ্রিদিকে ফরোয়ার্ড ড্রাইভ করতে যেয়ে থেমেছেন ৭১ রানে। ৩৯.৬৬ স্ট্রাইক রেটে ১৭৯ বল খেলে ৯টি বাউন্ডারিতে থেমেছে তাঁর প্রথম ইনিংস।

শততম টেস্টে সেঞ্চুরির পর এবার নিজের জন্মদিনেও শতকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন মুশফিকুর রহিম। তবে অন্যপ্রান্ত থেকে তেমন সমর্থন পাচ্ছে। মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিংয়ে এরই মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে দ্বিতীয় দিনের মধ্যাহ্ন বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩৮০ রান। প্রথম সেশনের ২৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান করেছে স্বাগতিকরা।
এক প্রান্ত আগলে রেখে ৮ চারে ১৭৬ বলে ৭১ রানে খেলছেন মুশফিক। এদিনটি আবার তার ৩৯তম জন্মদিন। তাই আর মাত্র ২৯ রান করতে পারলে সেঞ্চুরি দিয়েই জন্মদিনটি রাঙাতে পারবেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াডে আছেন নেইমার-এস্তেভাও |
|
এর আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের শততম টেস্টে শতক করেছিলেন মুশফিক। এবার আরেকটি সেঞ্চুরি করতে পারলে বিরল কীর্তির মালিক হবেন তিনি। এর আগে ডেভিড ওয়ার্নার নিজের জন্মদিন ও শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
মুশফিকের সেঞ্চুরির পথে বাধা হিসেবে আছেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ৩টি উইকেটই নিয়েছেন তিনি।
৬৭ বলে ৩৩ রানে আউট হয়েছেন লিটন কুমার দাস। মেহেদী হাসান মিরাজ করেছেন ১২ বলে ১০ রান। বিরতির কিছুক্ষণ আগে ফেরেন ২৩ বলে ১৭ রান করা তাইজুল।
এখন মুশফিকের সঙ্গে ক্রিজে আছেন ইবাদত হোসেন চৌধুরি। তাকে নিয়েই নিজের শতকের পথে ও দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যেতে হবে অভিজ্ঞ ব্যাটারের।

মোহাম্মদ আব্বাসের বলে কাভার ড্রাইভে সেঞ্চুরি। এরপর বাধনহারা উচ্ছ্বাস। তবে ঠিক পরের বলেই ফিরে গেলেন ড্রেসিং রুমে। তাই সম্ভাবনা থাকার পরও বেশি বড় হলো না নাজমুল হোসেন শান্তর ইনিংস। এটি নিয়ে আক্ষেপ করতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক। একইসঙ্গে তিনি বার্তা দিলেন, খুব দ্রুতই আসছে তার ডাবল সেঞ্চুরি।
মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ১০১ রানের ইনিংস খেলেছেন শান্ত। টেস্ট ক্যারিয়ারে বাঁহাতি ব্যাটারের এটি নবম সেঞ্চুরি। সবশেষ ৮ ইনিংসের মধ্যেই তিনি সেঞ্চুরি করেছেন ৪টি।
তবে কোনোটি খুব বেশি বড় হয়নি। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে করা ১৬৩ রান এখনও শান্তর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ। বাকি ৮ সেঞ্চুরির একটিতেও দেড়শ ছুঁতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক।
তাই টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাটারদের তালিকা এখনও তিন জনের- মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান।
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে টি স্পোর্টসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শান্ত বলেছেন, দ্রুতই ডাবল সেঞ্চুরিয়ানের ক্লাবে ঢুকবেন তিনি।
“(ডাবল সেঞ্চুরি) আসা উচিত। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি (ডাবল সময় সেঞ্চুরি) আসবে। ব্যাটিং ভালো হচ্ছে। কালকের আউটটা নিয়ে আক্ষেপ... এই কথাটা বলতে চাই না। ব্যাটিংটা ভালো হয়েছে। তবে অবশ্যই দলের যে অবস্থানে ছিলাম, সেখান থেকে আমার রানটা আরও বড় করা উচিত ছিল।”
এখন পর্যন্ত ৪০ টেস্টের ক্যারিয়ারে ১৪ বার পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন শান্ত। এর মধ্যে ৯ বার সেটিকে নিয়ে গেছেন সেঞ্চুরি পর্যন্ত। ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রুপ দেওয়ার রেকর্ডে বিশ্বের সেরা ব্যাটারদের একজন এখন তিনি।
টেস্টে অন্তত ২ হাজার রান করা ব্যাটারদের মধ্যে পঞ্চাশকে সেঞ্চুরিতে রুপান্তর করার হারে শান্তর সামনে শুধু স্যার ডন ব্র্যাডম্যান (৬৯.০০) ও জর্ড হ্যাডলি (৬৬.৭০)। শান্তর ক্ষেত্রে এটি ৬৪.৩০।
দারুণ এই কীর্তিতে নাম লেখালেও রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে চান না শান্ত।
“খুব বেশি রেকর্ডের দিকে যেতে চাই না। ভালো লাগে যখন দলের হয়ে অবদান রাখতে পারি। আমার সবসময় মাথায় থাকে যে, সেট হলে কীভাবে বড় রান করতে পারি। যদিও কালকের ইনিংসটা আরও বড় হতে পারত। তবে আমার মনে হয় যতটুকু ব্যাটিং করেছি ভালো হয়েছে।”
বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে সেঞ্চুরির তালিকায়ও সবার ওপরে শান্ত। এরই মধ্যে অধিনায়ক হিসেবে ৫টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে ৩টির বেশি সেঞ্চুরি নেই আর কারও।
ব্যাট হাতে দারুণ সব রেকর্ড গড়ার পেছনে রহস্য হিসেবে সৎ থেকে কষ্ট করার কথা বলেন শান্ত।
“রহস্য নেই। প্রক্রিয়া ঠিক রাখার চেষ্টা করি। প্রতিদিন কষ্ট করি। সৎ থেকে অবদান রাখার চেষ্টা করি। নিয়মিত মেহনত করার মন মানসিকতাটা রাখি। এটাই মূল কারণ।”
“রেজাল্ট নিয়ে কখনও চিন্তা করিনি। সবসময় নিজের স্কিলের ওপরে বিশ্বাস রেখেছি। বাকিটা আল্লাহর হাতে, আল্লাহ দিচ্ছেন। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া যে ভালো হচ্ছে।”