
বিসিবির আসন্ন পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৬ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারই প্রথম তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছে গণমাধ্যম। খসড়া ভোটার তালিকার উপর দিনব্যাপী শুনানী শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা।
এদিন অভিযোগকারীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে শুনানীতে হাজিরা দিয়েছেন ৩২ জন। যার মধ্যে ৪ জন জেলাও বিভাগীয় ( ক্যাটাগরি-১) পর্যায়ের। অন্য ২৮টির মধ্যে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের সুপারিশের আলোকে খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকা ১৫ ক্লাবের প্রতিনিধি, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে কাউন্সিলর ফরম প্রেরণ করা বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ।
আরও পড়ুন
| বিগ ব্যাশে নাম লিখিয়ে ইতিহাস গড়লেন অশ্বিন |
|
বিসিবির বিদ্যমান গঠণতন্ত্র লঙ্ঘন করে ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ পেয়েছেন বলে তামিম ইকবালের বিপক্ষে বুধবার অভিযোগ দাখিল করেছিলেন সাবেক ক্রিকেটার হালিম শাহ। সাদা কাগজে লেখা তার এই অভিযোগ গ্রহন করেনি সেদিন নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি। তারপরও শুনানীতে হাজিরা দিয়ে এই ইস্যুতে গণমাধ্যমের সঙ্গ কথা বলেছেন তামিম ইকবাল। বলেছেন-
‘যিনি আমার নামে অভিযোগ করেছেন, তিনিই বিভিন্ন জায়গায় বলে যাচ্ছেন যে, আমি কমপ্লেইন করিনি। আমি সাইন করিনি। যে বা যারা আমার বিপক্ষে অভিযোগ এনেছেন, তারা একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছেন, ওখানে কিন্তু দুটি জিনিস উল্লেখ করা আছে। অর্গানাইজার বা সাবেক ক্রিকেটার। আমি যে অর্গানাইজার না, এটা কেউ প্রমাণ করতে পারবে? আমি তিনটা টিম ওন করি। দুইটা টিমের কমিটিতে আছি। আমার বিপক্ষে যে আপত্তি তোলা হয়েছে, তাতে লিখা আছে আমার সাথে ওল্ডডিওএইচএসের কোন সম্পর্ক নেই। প্লিজ আমি যে কাগজ জমা দিয়েছি, সেখানে দেখেন আমি ওল্ডডিওএইচএসের কমিটিতে আছি কি না!’
আরও পড়ুন
| ক্রিকেট বোর্ডের ইতিহাসে এত নোংরামি কখনও হয়নি: তামিম |
|
সাবেক ক্রিকেটার না হলে বিসিবির কাউন্সিলর হওয়া যাবে না বলে তার বিপক্ষে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেই অভিযোগ খন্ডন করেছেণ তামিম-
‘সাবেক ক্রিকেটারের কোনো ব্যাখ্যা গঠনতন্ত্রে নেই। আমার অফিসিয়াল রিটায়ারমেন্ট বা অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে হবে, এমন কোনো কথাও লিখা নেই গঠনতন্ত্রে। অবসরের ঘোষণা দিয়ে খেলা ছাড়াই যদি মানদণ্ড হতো এবং বিসিবির গঠনতন্ত্রে যদি সেটাই লিখা থাকতো যে, নির্দিষ্ট দিনক্ষণের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে অবসর না নিলে সাবেক ক্রিকেটারের তকমা গায়ে লাগবে না, তাহলে বিসিবি বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং ‘সি’ ক্যাটাগরিতে জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে কাউন্সিলর হওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলের কাউন্সিলরশিপও বৈধ নয়। আশরাফুল ভাই মাত্র ক'দিন আগে ইংল্যান্ড থেকে খেলে আসলো। আমিনুল ইসলাম বুলবুল ভাই আমাদের বিসিবি প্রেসিডেন্ট। উনিও অফিসিয়ালি অবসরের কথা ঘোষণা করেননি। তারা যদি আমাকে সেভাবে ধরার চেষ্টা করেন, তাহলে তারাও ধরা খাবেন। আমি রিসেন্ট টাইমে ক্রিকেট খেলেছি ৫ মাস আগে। গঠনতন্ত্রে যদি লিখা থাকতো অমুক তারিখের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে অবসরে যেতে হবে, তাহলে আমি মানতাম; কিন্তু এমন কোনো কথা লিখা নেই।’
আরও পড়ুন
| বিপিএলে চোখ রেখে এনসিএলে নতুন শুরুর আশা অধিনায়কদের |
|
ওল্ড ডিওএইচএস কাউন্সিলর হলেও তামিম শুনানিতে এসেছিলেন মূলত গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের সহসভাপতি হিসেবে। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের রিপোর্টের প্রেক্ষিতে যে ১৫টি ক্লাবকে খসড়া ভোটার তালিকায় রাখা হয়নি, তার একটি তামিমের গুলশান ক্রিকেট ক্লাব। এই ১৫ টি ক্লাবের হয়ে তামিম শুনানীতে তার অবস্থান পরিস্কার করেছেন-
‘আমি ওনাদের স্পষ্টভাবে একটা জিনিস বলেছি যে দেখেন, এখানে ১৫টা ক্লাবের চেয়ে বড় বিষয় হলো আপনারা যে সিদ্ধান্তটা নিতে যাচ্ছেন না কেনো, আপনার ৩০০ ক্রিকেটারের কথা মাথায় রাখতে হবে। এই ১৫টা ক্লাব বিভিন্ন বিভাগে নিয়মিত ক্রিকেট খেলে, খেলোয়াড়দের পেমেন্ট করে। ওই টাকা দিয়েই কিন্তু তাদের একটা বছরের ৭০-৮০% আয় হয়। তাদের সঙ্গে তাদের পরিবারও জড়িত। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এই জিনিসটা আপনাদের মনে রাখতে হবে। আপনাদের যদি কোনো আপত্তি থাকত, তাহলে আপনারা কাউন্সিলর ফর্মটা দিলেন কেন?’
আরও পড়ুন
| বাইশ গজে সম্পর্কের বন্ধন নাকি প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষবাষ্প |
|
বিসিবির নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের হস্তক্ষেপ নিয়ে শঙ্কিত তামিম-
‘ক্রিকেটে ১৮ কোটি মানুষের আবেগ জড়িত। এখানে এই নোংরামিগুলো করবেন না। কালকে আমার কাউন্সিলরশিপও বাতিল হয়ে যেতে পারে। এই মুহূর্তে যে সরকার আছে, এই সরকারের দায়িত্বের মধ্যে কি এটা নাই যে সংস্কার করা? সরকারের একটা অংশ যদি এভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তাহলে এটা কি একটা ভালো উদাহরণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে?’
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে আড়াই ঘন্টা পর বিসিবির সাবেক সভাপতির কাউন্সিলর ফরম গৃহিত হওয়ায় ১২টি ক্লাবের আপত্তির শুনানীতে লিখিত যৌক্তিক কারণ উপস্থাপন করেছে ফারুক আহমেদ। আইনগত জটিলতা থাকায় ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে রেঞ্জার্স ক্রিকেট একাডেমী পেয়েছে কাউন্সিলর ফরম। ওই দিন রাত ৯টায় অনুষ্ঠিত বিসিবির পরিচালনা পরিষদের সভার আগে ফরম জমা দেয়ার যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বিসিবি থেকে, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ফরম জমা দিয়েছেন বলে লিখিত ব্যাখ্যায় জানিয়েছেন ফারুক আহমেদ। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল এবং সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আলী খান পুরো ঘটনার স্বাক্ষী বলে লিখিত ব্যাখ্যায় জানিয়েছেন ফারুক আহমেদ।
আরও পড়ুন
| ‘আম্পায়ার ভুল করতেই পারেন’, ফাখারের ক্যাচের ব্যাপারে পাকিস্তান অধিনায়ক |
|
এদিন দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য মিশু আলী সুহাস, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য সৈয়দ ফজলে এলাহী, যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার শান্তনু ইসলাম এবং সিরাজগঞ্জের মামুন সশরীরে নির্বাচন কমিশনের সামনে শুনানীতে হাজিরা দিয়েছেন।
তামিম ইকবালের বিরুদ্ধে ভুতুড়ে অভিযোগ গৃহিত হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে তা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেইন-
‘আমরা এ ব্যাপারে একটি আপত্তি পেয়েছি। তবে যিনি এই আপত্তি জানিয়েছেন, তিনি আজ শুনানিতে উপস্থিত থেকে বিষয়টি উত্থাপন করেননি। আমরা তাঁকে অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত করেছি। সঙ্গত কারণে আপত্তিটি আর আমলে নেয়া হবে না।’
শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা। সে কারণেই যে ১৫টি ক্লাবের কাউন্সিলরদের নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি, গণমাধ্যমের কৌতুহল ওই ১৫টি ক্লাবকে ঘিরে। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে নিজেদের মধ্যে কথা বলে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে চান প্রধান নির্বাচক-
‘১৫টি ক্লাবের ব্যাপারে যে অভিযোগ উঠেছে,সে ব্যাপারে আমরা তাদের আইনজীবী, মালিক ও কাউন্সিলরদের বক্তব্য শুনেছি। আমরা প্রত্যেকের বক্তব্য নোট নিয়েছি এবং সেগুলো পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব।’
নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের একজন অতিরিক্ত আইজিপি ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান সিবগাত উল্লাহ পুলিশ এসি ক্লাবের ভোটার। নির্বাচন কমিশনে এমন একজনকে রাখা হলে সেই নির্বাচন প্রভাবমুক্ত হবে কীভাবে ? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশন বলেছেন-
‘বিসিবির নির্বাচনে আগে রিটার্নিং, প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা বিসিবির কর্মী হতেন। কিন্তু এবার বিসিবির বাইরে থেকে এসব কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছি এবং কোনো চাপের মধ্যে নেই।’
No posts available.
২৯ মার্চ ২০২৬, ৪:১৩ পিএম
২৯ মার্চ ২০২৬, ১:৫৭ পিএম

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বিরাট কোহলিকে ঘিরে আলোচনা থামেনি। বরং প্রশ্নটা আরও বড় হয়েছে। ওয়ানডেতে মাঠে নামলেই আলোচনা শুরু হয়, এটাই কি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়?
এই প্রশ্নের মাঝেই নতুন পরামর্শ দিলেন আম্বাতি রাইডু। তার মতে, কোহলির শুধু ওয়ানডে খেলা নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও ফেরা উচিত এবং সেটি অধিনায়ক হিসেবেই।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের নতুন আসরের প্রথম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে কোহলির ৩৮ বলে ৬৯ রানের ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ইনিংস যেন সেই দাবির পক্ষে জোরাল যুক্তি হয়ে উঠেছে।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইনিংস নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন তিনি। ইনিংসজুড়ে খেলেছেন সেরা সময় মনে করিয়ে দেওয়ার মতো বেশ কয়েকটি শট।
ম্যাচ শেষে তাকে প্রশংসায় ভাসান ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রাইডু।
“আমি মনে করি না, কোহলি ক্যারিয়ারের শেষের কাছাকাছি কোথাও আছে। তার সামনে এখনও পাঁচ-ছয়টা ভালো বছর আছে। আমরা আলোচনা করছিলাম, তার টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা উচিত, আর সেটা অধিনায়ক হিসেবেই হলে ভালো হয়।”
রাইডুর মূল্যায়নে, কোহলি এখনও ভারতের সেরা টেস্ট অধিনায়কদের একজন নন, বরং সেরা।
“আমরা সিরিয়াস- ভারতীয় ক্রিকেটে আমি যত লাল বলের অধিনায়ক দেখেছি, তাদের মধ্যে কোহলিই সেরা। এখনও সে যেভাবে ব্যাটিং করছে, তাতে তার না থাকা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ক্ষতি।”
কোহলির অপরাজিত ইনিংসটি ছিল সেই পুরোনো ধারার প্রতিচ্ছবি- কভার ড্রাইভে নান্দনিকতা, স্ট্রেইট ড্রাইভে আত্মবিশ্বাস আর কবজির জোরে ফ্লিক শটে ছক্কা। বয়স বা ফরম্যাট- কোনোটিই যেন তার ব্যাটিংয়ের ধার কমাতে পারেনি।
কোহলিকে দলের ‘চেজমাস্টার’ হিসেবেই দেখছেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পাতিদার।
“সে আমাদের এক নম্বর চেজমাস্টার। যেভাবে সে পরিস্থিতি বোঝে এবং ইনিংস গড়ে, সেটা ডাগআউট থেকে দেখাও দারুণ অভিজ্ঞতা।”

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৪ জন। একটি ছক্কা মারলেও প্রথম পাঁচ বলে ৮ রানের বেশি নিতে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ বলে বাকি থাকল ৬ রান। দুর্দান্ত শটে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে দিলেন কায়লা রেইনেক।
দলকে জেতানোর পাশাপাশি রেকর্ডও গড়লেন অভিষিক্ত অলরাউন্ডার। পুরুষ ও নারী মিলিয়ে বিশ্বের মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে একাধিক ফরম্যাটে নিজের অভিষেক ম্যাচেই প্লেয়ার অব দা ম্যাচ হলেন রেইনেক।
এতদিন এই রেকর্ডটি ছিল শুধু চার জনের, যেখানের বাংলাদেশের দুজন- ইলিয়াস সানি ও মোস্তাফিজুর রহমান। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন সানি। আর ২০১৫ সালে ওয়ানডের পর টেস্ট অভিষেকে সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন মোস্তাফিজ।
এছাড়া ইংল্যান্ডের বেন ফোকস ওয়ানডে ও টেস্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লুঙ্গি এনগিডি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের অভিষেকেই ম্যাচ সেরা নির্বাচিত।
ক্রাইস্টচার্চে রোববার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মোস্তাফিজদের এই রেকর্ডে ভাগ বসান প্রোটিয়া অলরাউন্ডার। তার নৈপুণ্যে ম্যাচের শেষ বলে গিয়ে ২ উইকেটের জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দল।
দলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে ৩২ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন রেইনেক। এর আগে গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ১৩ রানে ২ উইকেটের পাশাপাশি ১৬ বলে ২৯ রান করে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ২০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। সেদিনও শেষ বলে ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এবার রেইনেকের ওয়ানডে অভিষেকের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ম্যাডি গ্রিনের ৮৫ রানে ভর করে ২৬৮ রানে অলআউট হয় নিউ জিল্যান্ডের মেয়েরা। জবাবে অ্যানারি ডেরেকসেন ৭২ ও সুন লুস ৫৩ রান করলেও শেষ দিকে গিয়ে চাপে পড়ে যায় প্রোটিয়ারা।
তবে একপ্রান্ত ধরে রেখে দলকে জয়ের পথে রাখেন অভিষিক্ত রেইনেক। পরে সুজি বেটসের করা শেষ ওভারে ১৪ রান প্রয়োজন পড়লে তৃতীয় বলে প্রথম ছক্কা মারেন তিনি। কিন্তু পরের দুই বল ডট খেলায় চাপ পড়ে শেষ বলে গিয়ে।
রাউন্ড দা উইকেট থেকে ফুল লেংথে করেন অভিজ্ঞ বেটস। সামনের পা সরিয়ে সজোরে লং অন দিয়ে উড়িয়ে মারেন রেইনেক। সীমানার ওপারে যেতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন রেইনেক ও তার সতীর্থ টুমি সেখুখুনে।
নারী ও পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বের আর কোনো ক্রিকেটার একাধিক ফরম্যাটে অভিষেক ম্যাচেই শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতাতে পারেননি।
এর আগে ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়েছিলেন পাকিস্তানের জুলফিকার বাবর। তবে সেদিন জয়ের জন্য বাকি ছিল শুধু ১ রান।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এখন পর্যন্ত যৌথ সর্বোচ্চ পাঁচবার আইপিএলের ট্রফি জিতেছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দলটি। তবে একটি জায়গায় এক যুগের বেশি সময় ধরে পিছিয়ে রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদবরা।
গত ১৩ বছর ধরে আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিততে পারে না মুম্বাই। ১৪তম বছরে তাদের এবার প্রতিপক্ষ কলকাতা নাইট রাইডার্স। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রোববার রাতে কলকাতার মুখোমুখি হবে মুম্বাই। এই ম্যাচে ১৩ বছরের অপেক্ষা ফুরোবে কিনা সেটিই বড় প্রশ্ন।
সবশেষ ২০১২ সালের আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতেছিল মুম্বাই। এরপর ১৩ বছরে আর প্রথম ম্যাচ জেতা হয়নি তাদের।
২০১৩, ২০২১ ও ২০২৩ সালের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু; ২০১৪ ও ২০১৫ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্স; ২০১৬-১৭ সালে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস; ২০১৯ ও ২০২২ সালে দিল্লি ক্যাপিটালস; ২০১৮, ২০২০ ও ২০২৫ সালে চেন্নাই সুপার কিংস এবং ২০২৪ সালে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ হেরেছে মুম্বাই।
অথচ এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা চার আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যথাক্রমে চেন্নাই, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ও চেন্নাইকে হারিয়েছিল মুম্বাই। কিন্তু ২০১৩ সালে বেঙ্গালুরুর কাছে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর পরই যেন মোড়ক লেগেছে তাদের প্রথম ম্যাচে।
এবার ২০২৬ সালে কলকাতার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে মুম্বাই। তাদের বিপক্ষে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে প্রথম ম্যাচ হেরেছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
তবে অন্য এক পরিসংখ্যান থেকে সাহস পেতে পারে মুম্বাই। এখন পর্যন্ত মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ১২ ম্যাচ খেলে মোটে ২টি (২০১২ ও ২০২৪) ম্যাচ জিততে পেরেছে কলকাতা। হেরেছে বাকি ১০ ম্যাচে। তাই দুই দলের জন্যই এটি নিজেদের অতীত রেকর্ড বদলানোর ম্যাচ।
কলকাতার সম্ভাব্য একাদশ (ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারসহ ১২ জন)
ফিন অ্যালেন, অজিঙ্কা রাহানে, আংকৃশ রঘুবংশী, ক্যামেরন গ্রিন, রিঙ্কু সিং, অনুকুল রায়, রমনদ্বীপ সিং, সুনিল নারিন, বৈভব অরোরা, বরুণ চক্রবর্তী, ব্লেসিং মুজারাবানি, উমরান মালিক/কার্তিক ত্যাগী
মুম্বাইয়ের সম্ভাব্য একাদশ (ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারসহ ১২ জন)
রোহিত শর্মা, কুইন্টন ডি কক/রায়ান রিকেল্টন, তিলক বর্মা, সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, নমন ধীর, শেরফান রাদারফোর্ড, দীপক চাহার, এএম গজনফর, জাসপ্রিত বুমরাহ, আশওয়ানি কুমার, ট্রেন্ট বোল্ট

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরুর আগে বিদেশি খেলোয়াড়দের নাম প্রত্যাহারের প্রবণতা বেড়েছে। তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুনীল গাভাস্কার। এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেটি যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ভারতের কিংবদন্তি এ ক্রিকেটার।
আইপিএলের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নিলামে দল পাওয়ার পর কোনো খেলোয়াড় চোট বা জরুরি মেডিকেল কারণ ছাড়া নাম প্রত্যাহার করলে তাকে পরবর্তী দুই মৌসুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তবে হ্যারি ব্রুক ও বেন ডাকেটের মতো খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এই নিয়মের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গাভাস্কার।
ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাভাস্কার বলেন, ‘দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টতই কাজ করছে না। এমন কিছু করতে হবে যা খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ক্যারিয়ার বা আইপিএলে ফেরার সুযোগে বড় কোনো ধাক্কা না লাগছে, ততক্ষণ এই প্রবণতা থামবে না।’
এবারের মৌসুমে ডাকেটকে ২ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। মৌসুম শুরুর ঠিক আগে ব্যক্তিগত কারণ ও টেস্ট ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলে সরে দাঁড়ান। এই ইংলিশ ব্যাটারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গাভাস্কার বলেন, ‘ডাকেট হয়ত দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে ভালো দাম পাওয়ায় আইপিএলে নাম প্রত্যাহার করতে দ্বিধা করেননি। তিনি হয়ত এখন টেস্ট ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেওয়ার অজুহাত দিচ্ছেন, কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কী হবে?’
এর আগে গত মৌসুমে হ্যারি ব্রুক ৬.২৫ কোটি রুপিতে দল পাওয়ার পর নাম প্রত্যাহার করে বর্তমানে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন। ডাকেটের ক্ষেত্রেও এই দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
গতকাল থেকে শুরু হয়েছে আইপিএলের ১৯ তম সংস্করণের। একের পর এক বিদেশি খেলোয়াড় নাম সরিয়ে নেওয়ায় বিপাকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বর্তমানে ২৪ জনের স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দিল্লি ক্যাপিটালসকে।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আইপিএলের নতুন আসরের প্রথম ম্যাচ রাঙিয়েছেন বিরাট কোহলি। চমৎকার ইনিংসে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে এনে দিয়েছেন দারুণ জয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে খেলেছেন ৩৮ বলে ৬৯ রানের ইনিংস।
অথচ এই ম্যাচের আগে গত ৯ মাস কোনো টি-টোয়েন্টি খেলেননি কোহলি। গত আইপিএল ফাইনালের পর এবারই প্রথম কোনো ২০ ওভারের ম্যাচ খেললেন তিনি। আর সেখানেই করলেন বাজিমাত। এর রহস্য হিসেবে কোহলি বললেন, মাঠে নামলে ১২০ শতাংশ প্রস্তুত হয়েই মাঠে নামেন তিনি।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন শুধু আইপিএলেই কুড়ি ওভারের ক্রিকেট খেলেন কোহলি। গত বছরের জুনে বেঙ্গালুরুর প্রথম আইপিএল শিরোপা জয়ের ম্যাচ দিয়েই এই সংস্করণে সবশেষ ম্যাচ খেলেন তিনি।
এরপর মাঝের ৯ মাসে খুব বেশি ক্রিকেট খেলেননি কোহলি। গত জানুয়ারিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে আলো ছড়ান তিনি। পরে আবার দুই মাসের বিরতি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে এরকম বিরতিগুলো দারুণ কাজে দিচ্ছে মনে করেন তিনি।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ২০২ রান তাড়া করে বেঙ্গালুরুকে জেতানোর পর বিরতি ও বিশ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরেন কোহলি।
“গত ১৫ বছর যে ধরনের ব্যস্ত সূচি ও যে পরিমাণে ক্রিকেট আমি খেলেছি, বিষয়টা অপ্রস্তুত থাকার চেয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকিটা বেশি। তাই এসব বিরতি অনেক কাজে দেয়। আমি সতেজ থাকি, (খেলার জন্য) রোমাঞ্চিত থাকি। যখনই মাঠে ফিরি, ১২০ শতাংশ প্রস্তুত থাকি। আর যদি না ফিরি, তাহলে বুঝে নেবেন আমি অপ্রস্তুত।”
“অতিরিক্ত বিশ্রাম আমাকে মানসিকভাবে সতেজ হতে সাহায্য করে। আপনি যখন শারীরিকভাবে ফিট থাকেন ও মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত থাকেন, তখন এই দুটি একসঙ্গে খুব সুন্দরভাবে কাজ করে। আপনি দলের জন্য অবদান রাখতে পারেন, যেটা খেলোয়াড় হিসেবে মূল লক্ষ্য। কখনও শুধু দলে জায়গা ধরে রাখতে চাইবেন না। আপনি পারফর্ম করতে চান, দলের জন্য নিয়মিত পরিশ্রম করে যেতে চান।”
দুইশ ছাড়ানো লক্ষ্য তাড়ায় রয়েসয়ে শুরুর পর ৩৩ বলে ফিফটি করেন কোহলি। পরে ১৬তম ওভারে টানা চার বলে ৬, ৪, ৪ ও ৪ মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি। সব মিলিয়ে ৫টি করে চার-ছক্কা মেরে ৩৮ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন কোহলি।
৩৭ বছর বয়স পেরিয়েও ম্যাচ জেতানো এই ইনিংসে নিজের সেরা সময়ের মতোই ফ্লিক, কাভার ড্রাইভ বা অন ড্রাইভ খেলেন কোহলি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, এসব নিয়ে ফাঁকা সময়ে অনেক ঘাম ঝরিয়েছেন তিনি।
“আমি এমন কোনো শট খেলিনি, যেগুলো আমি সাধারণত খেলি না। আমি জানতাম, যতক্ষণ রিদম ঠিক আছে ও ফিটনেসের দিক থেকে আমি পর্দার আড়ালে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি, সবকিছু ঠিকভাবে মিলেই যাবে। আজকের রাতটা ছিল আরেকটা সুযোগ- ভালোভাবে শুরু করার ও এগিয়ে যাওয়ার।”