২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৩:২০ পিএম

২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর। পরবর্তী বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনে সুদানের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের বাঁচা-মরা ম্যাচ। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই জয় করেন আটলান্টিক পাড়ের ফুটবলযোদ্ধারা। মুহূর্তেই মাঠ ছুঁয়ে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র দেশে। এরই মধ্যে দলনেতা দিদিয়ের দ্রগবার কমান্ডিং হাঁক, 'এসো, জড়ো হও!'
একত্র হলেন সবাই। এক কাতারে দাঁড়ালেন খেলোয়াড়-কোচিং স্টাফ। ড্রেসিংরুম নিস্তব্ধ-পিনপতন নিরবতা। পুরো আইভরি কোস্ট তখন টিভির সামনে, সরাসরি সম্প্রচারে দেখানো হচ্ছিল বিশেষ এই মুহূর্ত।
শান্ত কণ্ঠে দ্রগবা দিলেন যুদ্ধবন্ধের ডাক। আড়ষ্টতা ছাড়াই বলতে শুরু করেন, ‘নারী কিংবা পুরুষ, উত্তর কি দক্ষিণ, পূর্ব কি পশ্চিম; সব আজ এক। আজ প্রমাণ হয়েছে, একাগ্রতা ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা আমাদের বিশ্বকাপের জন্য মনোনীত করেছে। আমরা একসঙ্গে বিশ্বকাপ খেলব।’
দ্রগবার মিনিটখানেকের বক্তব্য জাতীয়ভাবে খ্যাতি এনে তো দিলই, বিশ্বব্যাপী ফলাও করে প্রচার হলো এই সংবাদ। আইভরি কোস্টে সেদিন পুরো দিন-রাত টিভিতে কেবল চলতে থাকল একই ভিডিও। এক হয়ে গেলেন বিদ্রোহী নেতা ও প্রেসিডেন্ট! সমঝোতা স্মারকে সই করলেন দুই নেতা। চিরতরে অবসান হলো যুদ্ধ।
ক্রীড়াতে এমন ঘটনা আরও আছে। আছে বিপরীত দৃশ্যও। অর্থের পেছনে ছুটতে থাকা ভোগবাদী বিশ্বের কাছে এখন বিনোদনের (খেলা) চেয়ে টাকাই মুখ্য। মেটাফরসিসের সেই কীটপতঙ্গে রূপ নিয়েছে এখনকার ক্রীড়া। যা প্রয়োজনের চেয়ে অধিকতর বিরক্তির।
বিশেষত, এখন মাঠে খেলার নামে চলে বানিজ্য—আইসিসি, এসিসির মূখ্য গৌণ লক্ষ্য অর্থের ঝনঝনানি। সম্প্রচার চ্যানেলের টিআরপি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, কর্পোরেট বিলাসিতা—যা অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে উপমহাদেশের ভূরাজনৈতীতেও।
এশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক; সবশেষ ১০-১২টি বৈশ্বয়িক টুনার্মেন্টে ভারত-পাকিস্তান প্রায় একই গ্রুপে। সুডোকুর সহজ চকের মতো কায়দা করে মিলিয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। দু'পক্ষের চাওয়ার চেয়েও আয়োজক কমিটির আগ্রহটাই এখানে প্রাধান্য। এটাই বিজনেসের খেল।
ম্যাচের ফল যাই হোক, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস পুঁজি করে অগ্রীম টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার চ্যানেলের হাইপ, স্টেডিয়াম কেন্দ্রিক হোটেল-মোটেল মালিকদের ফুলে ফেঁপে ওঠাও এক প্রকার গোপন মিশন।
ছোট্ট একটি হিসাব—সবশেষ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এটি টেলিভিশনে ২৬ বিলিয়ন মিনিটেরও বেশি দর্শক দেখেন। এর আগে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখেছিল ১৯.৫ বিলিয়ন মিনিট। যা সম্প্রচার সত্ত্ব এবং স্পন্সরশিপ গ্রহীতাদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহের কারণ। চড়ামূল্যে বিক্রি ও নিলামের অন্যতম আকর্ষণ এমন আলোচনা।
দর্শক আগ্রহের সঙ্গে সূত্রপাত আছে অর্থেরও। ক্রিকেট বিষয়ক ভারতীয় ওয়েবসাইট ক্রিক ট্যাকার তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ১৭তম এশিয়া কাপে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এককভাবে প্রায় ১.১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ভারতীয় রুপি) আয় করবে। প্রতিটি ম্যাচ থেকে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের আয় প্রায় ১৮৩ মিলিয়ন পিআর (প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ভারতীয় রুপি)। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ থেকে আয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।
ক্রিকেটের সঙ্গে যাদের সখ্যতা দীর্ঘদিনের, ক্রিকেট যারা বুঝেন বা খোঁজ রাখেন কিংবা স্মৃতিতে রাখেন ৯০ দশকের সাদা-কালো ম্যাচ, তাদের জানারই কথা-উপমহাদেশ তো বটেই, বৈশ্বিক টুনার্মেন্টেও প্রতিবেশি দু'দলকে রাখা হতো আলাদা গ্রুপে। তখন পাকিস্তান-ভারত নিয়ে আলাদা উন্মাদনা ছিল না, তা কিন্তু নয়। উচ্ছ্বাসের সব জমা থাকতো শেষ চার বা শিরোপার মঞ্চের জন্য।
১৯৯২ বলুন আর ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। কথা হতে পারে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কিংবা এশিয়া কাপ নিয়েও—তখন মূলত খেলাটাই হতো। সম্প্রতির বন্ধন আর সম্পর্কের অটুট দৃশ্য ধরা পড়তো প্রায়শঃ। বাইরে যাই হোক, পাকিস্তান-ভারত ক্রিকেটারদের সম্পর্ক ছিল গাঢ়। খেলার বাইরেও আত্মীয় গড়ে ওঠেছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা কিংবা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মাঝে। সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলের বাড়িতে শচীন টেন্ডুলকারদের দাওয়াত গ্রহণ কিংবা পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে রাহুল দ্রাবিড়ের সম্পর্ক। সম্পর্ক ছিল শ্রীলঙ্কার জয়সূরিয়া-জয়াবর্ধনেদের সঙ্গে হাবিবুল বাশার-খালেদ মাহমুদেরও।
সময় বদলেছে। এখন মাঠের খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্পর্ক নষ্টের কারণ। ভারত-পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচ; উপমহাদেশীয় চার দেশের খেলা মানেই অলিখিত রাইভাল। যা মাঠ ছাড়িয়ে টেলিভিশনের টকশো কিংবা সাবেকদের তর্কবিতর্কের খোরাক।
এশিয়া কাপের প্রথম মুখোমুখিতে হাত মেলায়নি ভারত-পাকিস্তানের দুই অধিনায়ক সালমান আলি আগা ও সূর্যকুমার যাদব। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচ নিয়ে রীতিমত যুদ্ধ যুদ্ধ রব। আইসিসির দ্বারস্থ পিসিবি। রেফারিকে মাফ চাওয়ানোর বাড়াবাড়ি। দ্বিতীয় সাক্ষাতেও একই দৃশপট। ভুল শুধরানো তো দূরের ব্যাপার, তিক্ততার পারদ ছিল উর্ধ্বে।
ক্রিকেট মাঠের এই নোংরা অধ্যায়ে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার নামও। গত কয়েকবছর ধরে সিংহ-বাঘের খেলা মানেই অঘোষিত যুদ্ধ। নাগিন ড্যান্স, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়, তেড়েফুঁড়ে ছুটে যাওয়া, একে অন্যকে সহ্য না করার প্রবনতা এখন বেশিই দেখা যায়।
বছর দশক আগেও এমন পরিবেশ ছিল না। একটা সুষম প্রীতির বন্ধন দেখা যেত ক্রিকেটে। বাইশ গজের লড়াই কেবল মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল।
ক্রমান্বয়ে ফাটল ধরা সম্পর্কগুলোকে আরও উসকে দিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে। অহেতুক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখানোর মিডিয়া ট্রায়াল চলছে হারহামেশা। আয়োজক কমিটিরও একই প্রতিপক্ষকে বারবার মুখোমুখি করানোর অপ্রাণ চেষ্টা। মূলত টিআরপি ধরে রাখতেই একই ঘটনা বারবার দেখানো হয় মিডিয়ায়।
চলতে থাকে আলোচনা সমালোচনা। ফরম্যাটে হয় পরিবর্তন। তদুপরি সম্পর্কগুলো হয় আরো নিম্নমুখী।
অথচ ক্রিকেটে হয়ে উঠতে পারতো শান্তির পায়রা। ক্রীড়া কেবল হাসাতে আর কাঁদাতে জানে না, যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিও ফিরিয়ে আনতে পারে। মনুষ্যত্ব লোপের সঙ্গে একথাও ভুলে গেলো সকলে।
No posts available.
২৯ মার্চ ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম
২৯ মার্চ ২০২৬, ৭:০৫ পিএম
২৯ মার্চ ২০২৬, ৪:১৩ পিএম

পরপর দুই ম্যাচে ফিফটির দেখা পেলেন শামিল হোসেন। এবার তার সঙ্গে যোগ দিলেন হাসান নাওয়াজ। দুজনের চমৎকার ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়ে গেল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স। যা আর টপকাতে পারল না হায়দরাবাদ কিংসমেন। ফলে প্রথম জয় পেয়ে গেল গ্ল্যাডিয়েটর্স।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার বিকেলের ম্যাচে কিংসমেনকে ৪০ রানে হারিয়েছে গ্ল্যাডিয়েটর্স। আগে ব্যাট করে জোড়া ফিফটিতে ১৭৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় তারা। জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রানের বেশি করতে পারেনি কিংসমেন।
দুই ম্যাচে এটিই গ্ল্যাডিয়েটর্সের প্রথম জয়। অন্য দিকে পরপর দুই ম্যাচ হারল এবারই প্রথম পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে আসা কিংসমেন।
ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি গ্ল্যাডিয়েটর্সের। শুরুতেই ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন সৌদ শাকিল (৪) ও রাইলি রুশো (০)।
চাপ সামাল দিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৬৪ বলে ৮৯ রানের জুটি গড়েন শামিল ও নাওয়াজ। আগের দিন মাত্র ২১ বলে ফিফটি করা শামিল এদিন খেলেন ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৪১ বলে ৫৪ রানের ইনিংস। নাওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ৪০ বলে ৫৩ রান।
শেষ দিকে ১৮ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলে দলকে ১৭০ পার করান টম কারান।
কিংসমেনের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন রিলে মেরেডিথ। এছাড়া মাহিশ থিকশানা ও আকিফ জাভেদ নেন ২টি করে উইকেট।
রান তাড়ায় একবারের জন্যও জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেনি কিংসমেন। ১০ ওভারের মধ্যে মাত্র ৫৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকেই যায় তারা।
সেখান থেকে ইরফান নিয়াজি ২৫ বলে ৩৩ ও হাসান খান ১৯ বলে ৩১ রান করলে পরাজয়ের ব্যবধান কমায় নবাগত দলটি।
গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে ৪ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন আবরার আহমেদ। এছাড়া ৪ ওভারে ১৩ রানে ২ উইকেট শিকার আহমেদ দানিয়ালের।

আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
রবিবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য মোশাররফ হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, ২০০৮ সাল থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের অভিযোগ যাচাই করতে শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় বিবেচনায় অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
আমিনুল বলেন, ‘আপনারা জেনে অবাক হবেন, অতীতে বিসিবির আর্থিক ও মানবসম্পদ ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠীকে জনগণের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার কাজে সহায়তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন জানতে চান, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিসিবির সম্পদের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে কি না। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ও অযোগ্য ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল।
জবাবে আমিনুল হক বলেন, পূর্ববর্তী সরকার আমলে ক্রিকেটসহ ক্রীড়া খাত ব্যাপকভাবে রাজনীতিকরণের শিকার হয়েছিল, যার ফলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে স্থবিরতা দেখা দেয়। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্রীড়া খাতকে রাজনীতিমুক্ত করতে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিসিবির কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে উদ্বেগের বিষয় তার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালকের কাছে চলমান তদন্তের তথ্য চাওয়া হবে, যাতে বিষয়টি জনসমক্ষে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা যায়।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শনিবার মধ্যরাতে ঢাকায় পৌঁছানোর পর রোববারই তিনি খোঁজ নিয়েছেন জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পের, একইসঙ্গে সেরেছেন দাপ্তরিক কার্যক্রমও।
গত মাসে রমজান শুরুর আগেই পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে অস্ট্রেলিয়া চলে গিয়েছিলেন বুলবুল। এর মাঝে নানা ধরনের গুঞ্জন ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে, আর হয়তো দেশে ফিরবেন না তিনি। অস্ট্রেলিয়া থেকে দিয়ে দিতে পারেন নিজের পদত্যাগপত্র।
সেসব গুজব উড়িয়ে দিয়ে রোববার প্রথম প্রহরে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের এই সাবেক অধিনায়ক। প্রাথমিকভাবে ২৬ মার্চ ফেরার কথা থাকলেও, সেটি দুই দিন পিছিয়ে বাংলাদেশে ফিরলেন বুলবুল।
দেশে ফিরে একদমই সময় নষ্ট করেননি বুলবুল। রোববার বিসিবি কার্যালয়ে এসে রুটিন ওয়ার্ক সেরেছেন তিনি। পরে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলমান জাতীয় দলের ফিটনেস ক্যাম্পের খোঁজ নিয়েছেন তিনি।
এসময় জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গেও কথা বলেন বিসিবি সভাপতি। বোর্ড পরিচালক ও ক্রিকেট অপ্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমও তার সঙ্গে ছিলেন।
সামনের দিনগুলোতে বুলবুলের জন্য অবশ্য বেশ কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। কারণ স্থবির হয়ে আছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমজমাট টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। এটি আবার চালুর ব্যবস্থা নিতে হবে তার।
এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে বিসিবি নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তের জন্য বিশেষ কমিটি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই হয়তো সেই কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বসতে হবে বিসিবি সভাপতির।

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বিরাট কোহলিকে ঘিরে আলোচনা থামেনি। বরং প্রশ্নটা আরও বড় হয়েছে। ওয়ানডেতে মাঠে নামলেই আলোচনা শুরু হয়, এটাই কি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়?
এই প্রশ্নের মাঝেই নতুন পরামর্শ দিলেন আম্বাতি রাইডু। তার মতে, কোহলির শুধু ওয়ানডে খেলা নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও ফেরা উচিত এবং সেটি অধিনায়ক হিসেবেই।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের নতুন আসরের প্রথম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে কোহলির ৩৮ বলে ৬৯ রানের ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ইনিংস যেন সেই দাবির পক্ষে জোরাল যুক্তি হয়ে উঠেছে।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইনিংস নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন তিনি। ইনিংসজুড়ে খেলেছেন সেরা সময় মনে করিয়ে দেওয়ার মতো বেশ কয়েকটি শট।
ম্যাচ শেষে তাকে প্রশংসায় ভাসান ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রাইডু।
“আমি মনে করি না, কোহলি ক্যারিয়ারের শেষের কাছাকাছি কোথাও আছে। তার সামনে এখনও পাঁচ-ছয়টা ভালো বছর আছে। আমরা আলোচনা করছিলাম, তার টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা উচিত, আর সেটা অধিনায়ক হিসেবেই হলে ভালো হয়।”
রাইডুর মূল্যায়নে, কোহলি এখনও ভারতের সেরা টেস্ট অধিনায়কদের একজন নন, বরং সেরা।
“আমরা সিরিয়াস- ভারতীয় ক্রিকেটে আমি যত লাল বলের অধিনায়ক দেখেছি, তাদের মধ্যে কোহলিই সেরা। এখনও সে যেভাবে ব্যাটিং করছে, তাতে তার না থাকা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ক্ষতি।”
কোহলির অপরাজিত ইনিংসটি ছিল সেই পুরোনো ধারার প্রতিচ্ছবি- কভার ড্রাইভে নান্দনিকতা, স্ট্রেইট ড্রাইভে আত্মবিশ্বাস আর কবজির জোরে ফ্লিক শটে ছক্কা। বয়স বা ফরম্যাট- কোনোটিই যেন তার ব্যাটিংয়ের ধার কমাতে পারেনি।
কোহলিকে দলের ‘চেজমাস্টার’ হিসেবেই দেখছেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক রজত পাতিদার।
“সে আমাদের এক নম্বর চেজমাস্টার। যেভাবে সে পরিস্থিতি বোঝে এবং ইনিংস গড়ে, সেটা ডাগআউট থেকে দেখাও দারুণ অভিজ্ঞতা।”

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৪ জন। একটি ছক্কা মারলেও প্রথম পাঁচ বলে ৮ রানের বেশি নিতে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ বলে বাকি থাকল ৬ রান। দুর্দান্ত শটে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে দিলেন কায়লা রেইনেক।
দলকে জেতানোর পাশাপাশি রেকর্ডও গড়লেন অভিষিক্ত অলরাউন্ডার। পুরুষ ও নারী মিলিয়ে বিশ্বের মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে একাধিক ফরম্যাটে নিজের অভিষেক ম্যাচেই প্লেয়ার অব দা ম্যাচ হলেন রেইনেক।
এতদিন এই রেকর্ডটি ছিল শুধু চার জনের, যেখানের বাংলাদেশের দুজন- ইলিয়াস সানি ও মোস্তাফিজুর রহমান। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন সানি। আর ২০১৫ সালে ওয়ানডের পর টেস্ট অভিষেকে সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন মোস্তাফিজ।
এছাড়া ইংল্যান্ডের বেন ফোকস ওয়ানডে ও টেস্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লুঙ্গি এনগিডি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের অভিষেকেই ম্যাচ সেরা নির্বাচিত।
ক্রাইস্টচার্চে রোববার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মোস্তাফিজদের এই রেকর্ডে ভাগ বসান প্রোটিয়া অলরাউন্ডার। তার নৈপুণ্যে ম্যাচের শেষ বলে গিয়ে ২ উইকেটের জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দল।
দলের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে ৩২ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন রেইনেক। এর আগে গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে ১৩ রানে ২ উইকেটের পাশাপাশি ১৬ বলে ২৯ রান করে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ২০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। সেদিনও শেষ বলে ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এবার রেইনেকের ওয়ানডে অভিষেকের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ম্যাডি গ্রিনের ৮৫ রানে ভর করে ২৬৮ রানে অলআউট হয় নিউ জিল্যান্ডের মেয়েরা। জবাবে অ্যানারি ডেরেকসেন ৭২ ও সুন লুস ৫৩ রান করলেও শেষ দিকে গিয়ে চাপে পড়ে যায় প্রোটিয়ারা।
তবে একপ্রান্ত ধরে রেখে দলকে জয়ের পথে রাখেন অভিষিক্ত রেইনেক। পরে সুজি বেটসের করা শেষ ওভারে ১৪ রান প্রয়োজন পড়লে তৃতীয় বলে প্রথম ছক্কা মারেন তিনি। কিন্তু পরের দুই বল ডট খেলায় চাপ পড়ে শেষ বলে গিয়ে।
রাউন্ড দা উইকেট থেকে ফুল লেংথে করেন অভিজ্ঞ বেটস। সামনের পা সরিয়ে সজোরে লং অন দিয়ে উড়িয়ে মারেন রেইনেক। সীমানার ওপারে যেতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন রেইনেক ও তার সতীর্থ টুমি সেখুখুনে।
নারী ও পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বের আর কোনো ক্রিকেটার একাধিক ফরম্যাটে অভিষেক ম্যাচেই শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতাতে পারেননি।
এর আগে ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়েছিলেন পাকিস্তানের জুলফিকার বাবর। তবে সেদিন জয়ের জন্য বাকি ছিল শুধু ১ রান।