২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৩:২০ পিএম

২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর। পরবর্তী বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনে সুদানের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের বাঁচা-মরা ম্যাচ। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই জয় করেন আটলান্টিক পাড়ের ফুটবলযোদ্ধারা। মুহূর্তেই মাঠ ছুঁয়ে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র দেশে। এরই মধ্যে দলনেতা দিদিয়ের দ্রগবার কমান্ডিং হাঁক, 'এসো, জড়ো হও!'
একত্র হলেন সবাই। এক কাতারে দাঁড়ালেন খেলোয়াড়-কোচিং স্টাফ। ড্রেসিংরুম নিস্তব্ধ-পিনপতন নিরবতা। পুরো আইভরি কোস্ট তখন টিভির সামনে, সরাসরি সম্প্রচারে দেখানো হচ্ছিল বিশেষ এই মুহূর্ত।
শান্ত কণ্ঠে দ্রগবা দিলেন যুদ্ধবন্ধের ডাক। আড়ষ্টতা ছাড়াই বলতে শুরু করেন, ‘নারী কিংবা পুরুষ, উত্তর কি দক্ষিণ, পূর্ব কি পশ্চিম; সব আজ এক। আজ প্রমাণ হয়েছে, একাগ্রতা ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা আমাদের বিশ্বকাপের জন্য মনোনীত করেছে। আমরা একসঙ্গে বিশ্বকাপ খেলব।’
দ্রগবার মিনিটখানেকের বক্তব্য জাতীয়ভাবে খ্যাতি এনে তো দিলই, বিশ্বব্যাপী ফলাও করে প্রচার হলো এই সংবাদ। আইভরি কোস্টে সেদিন পুরো দিন-রাত টিভিতে কেবল চলতে থাকল একই ভিডিও। এক হয়ে গেলেন বিদ্রোহী নেতা ও প্রেসিডেন্ট! সমঝোতা স্মারকে সই করলেন দুই নেতা। চিরতরে অবসান হলো যুদ্ধ।
ক্রীড়াতে এমন ঘটনা আরও আছে। আছে বিপরীত দৃশ্যও। অর্থের পেছনে ছুটতে থাকা ভোগবাদী বিশ্বের কাছে এখন বিনোদনের (খেলা) চেয়ে টাকাই মুখ্য। মেটাফরসিসের সেই কীটপতঙ্গে রূপ নিয়েছে এখনকার ক্রীড়া। যা প্রয়োজনের চেয়ে অধিকতর বিরক্তির।
বিশেষত, এখন মাঠে খেলার নামে চলে বানিজ্য—আইসিসি, এসিসির মূখ্য গৌণ লক্ষ্য অর্থের ঝনঝনানি। সম্প্রচার চ্যানেলের টিআরপি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, কর্পোরেট বিলাসিতা—যা অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে উপমহাদেশের ভূরাজনৈতীতেও।
এশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক; সবশেষ ১০-১২টি বৈশ্বয়িক টুনার্মেন্টে ভারত-পাকিস্তান প্রায় একই গ্রুপে। সুডোকুর সহজ চকের মতো কায়দা করে মিলিয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। দু'পক্ষের চাওয়ার চেয়েও আয়োজক কমিটির আগ্রহটাই এখানে প্রাধান্য। এটাই বিজনেসের খেল।
ম্যাচের ফল যাই হোক, সমর্থকদের উচ্ছ্বাস পুঁজি করে অগ্রীম টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার চ্যানেলের হাইপ, স্টেডিয়াম কেন্দ্রিক হোটেল-মোটেল মালিকদের ফুলে ফেঁপে ওঠাও এক প্রকার গোপন মিশন।
ছোট্ট একটি হিসাব—সবশেষ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এটি টেলিভিশনে ২৬ বিলিয়ন মিনিটেরও বেশি দর্শক দেখেন। এর আগে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখেছিল ১৯.৫ বিলিয়ন মিনিট। যা সম্প্রচার সত্ত্ব এবং স্পন্সরশিপ গ্রহীতাদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহের কারণ। চড়ামূল্যে বিক্রি ও নিলামের অন্যতম আকর্ষণ এমন আলোচনা।
দর্শক আগ্রহের সঙ্গে সূত্রপাত আছে অর্থেরও। ক্রিকেট বিষয়ক ভারতীয় ওয়েবসাইট ক্রিক ট্যাকার তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ১৭তম এশিয়া কাপে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এককভাবে প্রায় ১.১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ভারতীয় রুপি) আয় করবে। প্রতিটি ম্যাচ থেকে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের আয় প্রায় ১৮৩ মিলিয়ন পিআর (প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ভারতীয় রুপি)। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ থেকে আয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।
ক্রিকেটের সঙ্গে যাদের সখ্যতা দীর্ঘদিনের, ক্রিকেট যারা বুঝেন বা খোঁজ রাখেন কিংবা স্মৃতিতে রাখেন ৯০ দশকের সাদা-কালো ম্যাচ, তাদের জানারই কথা-উপমহাদেশ তো বটেই, বৈশ্বিক টুনার্মেন্টেও প্রতিবেশি দু'দলকে রাখা হতো আলাদা গ্রুপে। তখন পাকিস্তান-ভারত নিয়ে আলাদা উন্মাদনা ছিল না, তা কিন্তু নয়। উচ্ছ্বাসের সব জমা থাকতো শেষ চার বা শিরোপার মঞ্চের জন্য।
১৯৯২ বলুন আর ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। কথা হতে পারে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কিংবা এশিয়া কাপ নিয়েও—তখন মূলত খেলাটাই হতো। সম্প্রতির বন্ধন আর সম্পর্কের অটুট দৃশ্য ধরা পড়তো প্রায়শঃ। বাইরে যাই হোক, পাকিস্তান-ভারত ক্রিকেটারদের সম্পর্ক ছিল গাঢ়। খেলার বাইরেও আত্মীয় গড়ে ওঠেছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা কিংবা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মাঝে। সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলের বাড়িতে শচীন টেন্ডুলকারদের দাওয়াত গ্রহণ কিংবা পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে রাহুল দ্রাবিড়ের সম্পর্ক। সম্পর্ক ছিল শ্রীলঙ্কার জয়সূরিয়া-জয়াবর্ধনেদের সঙ্গে হাবিবুল বাশার-খালেদ মাহমুদেরও।
সময় বদলেছে। এখন মাঠের খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্পর্ক নষ্টের কারণ। ভারত-পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচ; উপমহাদেশীয় চার দেশের খেলা মানেই অলিখিত রাইভাল। যা মাঠ ছাড়িয়ে টেলিভিশনের টকশো কিংবা সাবেকদের তর্কবিতর্কের খোরাক।
এশিয়া কাপের প্রথম মুখোমুখিতে হাত মেলায়নি ভারত-পাকিস্তানের দুই অধিনায়ক সালমান আলি আগা ও সূর্যকুমার যাদব। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচ নিয়ে রীতিমত যুদ্ধ যুদ্ধ রব। আইসিসির দ্বারস্থ পিসিবি। রেফারিকে মাফ চাওয়ানোর বাড়াবাড়ি। দ্বিতীয় সাক্ষাতেও একই দৃশপট। ভুল শুধরানো তো দূরের ব্যাপার, তিক্ততার পারদ ছিল উর্ধ্বে।
ক্রিকেট মাঠের এই নোংরা অধ্যায়ে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার নামও। গত কয়েকবছর ধরে সিংহ-বাঘের খেলা মানেই অঘোষিত যুদ্ধ। নাগিন ড্যান্স, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়, তেড়েফুঁড়ে ছুটে যাওয়া, একে অন্যকে সহ্য না করার প্রবনতা এখন বেশিই দেখা যায়।
বছর দশক আগেও এমন পরিবেশ ছিল না। একটা সুষম প্রীতির বন্ধন দেখা যেত ক্রিকেটে। বাইশ গজের লড়াই কেবল মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল।
ক্রমান্বয়ে ফাটল ধরা সম্পর্কগুলোকে আরও উসকে দিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে। অহেতুক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখানোর মিডিয়া ট্রায়াল চলছে হারহামেশা। আয়োজক কমিটিরও একই প্রতিপক্ষকে বারবার মুখোমুখি করানোর অপ্রাণ চেষ্টা। মূলত টিআরপি ধরে রাখতেই একই ঘটনা বারবার দেখানো হয় মিডিয়ায়।
চলতে থাকে আলোচনা সমালোচনা। ফরম্যাটে হয় পরিবর্তন। তদুপরি সম্পর্কগুলো হয় আরো নিম্নমুখী।
অথচ ক্রিকেটে হয়ে উঠতে পারতো শান্তির পায়রা। ক্রীড়া কেবল হাসাতে আর কাঁদাতে জানে না, যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তিও ফিরিয়ে আনতে পারে। মনুষ্যত্ব লোপের সঙ্গে একথাও ভুলে গেলো সকলে।
No posts available.
১৩ মে ২০২৬, ৯:২৫ পিএম
১৩ মে ২০২৬, ৬:১০ পিএম
১৩ মে ২০২৬, ৪:২১ পিএম

আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে এবং টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ম্যাচের সূচিও এখন চূড়ান্ত। বিশ্বকাপ শুরুর ৩০ দিন আগে প্রস্তুতি ম্যাচের সূচি প্রকাশ করেছে আইসিসি। আগামী ৬ থেকে ১০ জুনের মধ্যে হবে ১২টি ম্যাচ। গত আসরের ফাইনালিস্ট নিউ জিল্যান্ড ও বাছাই পেরিয়ে আসা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
ডার্বি, লফবরো এবং কার্ডিফে মোট ১২টি প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। লাফবরায় আগামী ৬ জুন নিউ জিল্যান্ড ও এর তিন দিন পর আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। নিগার সুলতানার নেতৃত্বাধীন দল এবারের বিশ্বকাপে 'এ' গ্রুপে লড়বে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
আসর শুরু হবে ১২ জুন। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৪ জুন বার্মিংহামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এরপর ১৭ জুন লিডসে খেলা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে, ২০ জুন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষে, একই মাঠে পরের ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে এবং ২৮ জুন লর্ডসে লড়াই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে।
বিশ্বকাপের আগে স্কটল্যান্ডে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজও খেলবে বাংলাদেশ। দেশ ছাড়বেন তারা আগামী ২৫ মে।
নেদারল্যান্ডস, বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ড—এই চারটি দল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার খেলে মূল আসরে জায়গা করে নিয়েছে। মূল মঞ্চের লড়াইয়ে নামার আগে নিজেদের শেষবারের মতো ঝালিয়ে নিতে এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুতি ম্যাচগুলো কার্যকর মহড়া হিসেবে কাজ করবে।

মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। সিরিজের প্রথম টেস্টে এই হারের পর পাকিস্তান দলের নেতৃত্বের মান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ব্যাটার আহমেদ শেহজাদ।
২৬৮ রান তাড়া করতে নেমে চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তান মাত্র ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায়। এই হারের পর কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং অধিনায়ক হওয়ার মাপকাঠি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় সাবেক ক্রিকেটার আহমেদ শেহজাদ পাকিস্তান ক্রিকেটে অধিনায়ক নিয়োগের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, অধিনায়ক হওয়ার ক্ষেত্রে মাঠের পারফরম্যান্স কি আদৌ এখন প্রধান বিবেচ্য বিষয় কি না।
শেহজাদ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন,
‘আপনারা যদি ৩০ গড়ের ওপর ভিত্তি করে অধিনায়ক নিয়োগ দেন, তবে ভালো ইংরেজি বলতে পারাকেই’ একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে ঘোষণা করে দিন।’
শেহজাদ ব্যঙ্গ করে আরও যোগ করেন যে, অধিনায়ক হওয়ার তালিকায় এখন সম্ভবত ব্যক্তিত্ব এবং বাহ্যিক রূপকেও অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে। শেহজাদের ভাষায়, ‘হয়তো আমরা এখন আসল ক্রিকেটীয় প্রতিভার কথা ভুলেই যেতে পারি।’
শেহজাদ আরও মন্তব্য করেন, তরুণ ক্রিকেটাররা এখন হয়তো ভাবছে নেতৃত্বের সুযোগ পাওয়ার জন্য ক্রিকেটীয় দক্ষতার চেয়ে যোগাযোগ দক্ষতা (ইংরেজি বলা) বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শেহজাদ বলেন,
‘এখন আমাদের উচিত বাচ্চাদের এটা শেখানো যে, পাকিস্তান দলের অধিনায়ক হতে চাইলে শুধু ইংরেজি বলা শিখলেই হবে। কারণ ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এর বাইরে আর কিছুরই এখন আর গুরুত্ব নেই।’
পাকিস্তানের এই হারের ম্যাচে অধিনায়ক শান মাসুদ রান তাড়ায় নেমে দ্রুত আউট হওয়ার আগে করেছেন মাত্র ২ রান। বিপরীতে বাংলাদেশের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। পাঁচ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার তছনছ করে দেন তিনি। বিশেষ করে চা-বিরতির পর এক বিধ্বংসী স্পেলে সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও নোমান আলীকে ড্রেসিংরুমের পাঠান গতি তারকা নাহিদ।
এই জয়ের ফলে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ, আর পাকিস্তান নেমে গেছে সপ্তম স্থানে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী ১৬ মে থেকে সিলেটে শুরু হবে।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) ক্রিকেটের চতুর্থ রাউন্ডে দাপট দেখালেন বোলাররা। আগুনঝরা বোলিংয়ে ৬ উইকেট নিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। বাঁহাতি স্পিনের মায়াজালে আবাহনী লিমিটেডের মাহফুজুর রহমান রাব্বির শিকার ৫ উইকেট।
পিকেএসপিতে মৃত্যুঞ্জয়ের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ৮০ রানে গুটিয়ে গেছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। পরে ১০ উইকেটেই ম্যাচ জিতে নিয়েছে মোহামেডান। সব মিলিয়ে ম্যাচে খেলা হয়েছে মোটে ৩২ ওভার।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে মাত্র ২২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা মৃত্যুঞ্জয়। এর আগের ম্যাচেও ৪১ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
বসুন্ধরার পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করতে পারেন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ছোট লক্ষ্যে ৮.১ ওভারে জিতে যায় মোহামেডান। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ২৮ বলে ৫০ রান করেন এনামুল হক বিজয়। মোহাম্মদ নাঈম শেখ করেন ২১ বলে ৩১ রান।
লিগের চার ম্যাচের সবকটি জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে মোহামেডান।
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে রুপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। আগে ব্যাট করে ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় রুপগঞ্জ টাইগার্স। জবাবে ২৫.৪ ওভারে জিতে যায় লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
রুপগঞ্জ টাইগার্সের ব্যাটারদের নাচিয়ে ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ২৫ রান খরচ করে ৫ উইকেট নেন মাহফুজুর রাব্বি। লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে এটি তার দ্বিতীয় ৫ উইকেট।
শাকির হোসেন শুভ্র দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন। এছাড়া কালাম সিদ্দিকি এলিনের ব্যাট থেকে আসে ৩৪ রান।
রান তাড়ায় ভালো শুরু করেও ৩০ বলে ২৯ রান করে আউট হয়ে যান জিসান আলম। ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৭৬ বলে ৬৫ রান করেন সৌম্য সরকার। জাকের আলি অনিক ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৪০ বলে ৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।
চার ম্যাচে আবাহনীর এটি দ্বিতীয় জয়। পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে তারা।

পরপর দুই বলে সালমান হোসেন ও মাহফুজুল ইসলামকে বোল্ড করে সম্ভাবনা জাগালেন আলিস আল ইসলাম। ওভার শেষ হয়ে যাওয়ায় বাড়ল অপেক্ষা। তবে নতুন ওভার শুরু করে কোনো ভুল করলেন না আলিস। আরিদুল ইসলাম আকাশকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন এই রহস্য স্পিনার।
ইউ ল্যাব ক্রিকেট মাঠে বুধবার প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে শুধু হ্যাটট্রিকই নয়, সব মিলিয়ে ৬ উইকেট নেন আলিস। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) চতুর্থ রাউন্ডে তার রহস্য স্পিনে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে ১৯৮ রানে জিতেছে প্রাইম ব্যাংক।
ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩০৩ রানের পুঁজি পায় প্রাইম ব্যাংক। জবাবে আলিসের রহস্যে কাবু হয়ে ১০৫ রানের বেশি করতে পারেনি গাজী গ্রুপ। ৯.২ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক আলিস।
আরও পড়ুন
| বিসিবি নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের কমিশন |
|
লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা বাংলাদেশের ১৫তম বোলার আলিস। আর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তাকে নিয়ে হ্যাটট্রিকের স্বাদ পাওয়া বোলার হলেন মোট ১১ জন। এদের মধ্যে শুধু মোহাম্মদ শরীফের রয়েছে একাধিক হ্যাটট্রিকের রেকর্ড।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ১৪৬ রান যোগ করেন প্রাইম ব্যাংকের দুই ওপেনার শাহাদাত হোসেন দীপু ও আজিজুল হাকিম তামিম। ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৮ বলে ৭১ রান করেন দীপু। তামিমের ব্যাট থেকে আসে ৩টি করে চার-ছক্কায় ১০৭ বলে ৭৮ রান।
এরপর চার নম্বরে নেমে দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব সামলান শামীম হোসেন পাটোয়ারী। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৫ বলে ৫১ রান করেন তিনি।
শেষ দিকে আবু হায়দার রনি ২ চার ও ৫ ছক্কায় মাত্র ১৭ বলে ৪২ রান করলে তিনশ পার করে প্রাইম ব্যাংক।
৫১ রানে ৪ উইকেট নেন মাহফুজুল ইসলাম।
পরে আলিসের স্পিনে কাবু হয়ে জয়ের কোনো সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি গাজী গ্রুপ। ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট নিয়ে দলকে জেতান ২৯ বছর বয়সী রহস্য স্পিনার।
এ নিয়ে চার ম্যাচের সবকটিই জিতল প্রাইম ব্যাংক। নেট রান রেটে পিছিয়ে থেকে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে তারা। সমান ম্যাচে ২ জয়ে পাঁচ নম্বরে গাজী গ্রুপ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের কমিশন গঠন করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম।
কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন— গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিচালক এবং সহকারী সচিব এ বি এম এহসানুল মামুন।
নবগঠিত এই কমিশন প্রচলিত নিয়ম ও বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম তদারকি ও পরিচালনা করবে। বোর্ড নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে এই কমিশনের প্রধান কাজ।
আরও পড়ুন
| পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে সুখবর পেলেন শান্ত-নাহিদরা |
|
গত বছরের অক্টোবর বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। কয়েক মাসের মধ্যে সেই বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে নির্বাচন হতে পারে আগামী জুনে।
পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের তারিখ অবশ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিসিবির সংবিধান অনুযায়ী, ঢাকা ভিত্তিক ক্লাবগুলো (ক্যাটাগরি-১) থেকে ১২ জন পরিচালক নির্বাচিত হন ৭৬ জন ক্লাব কাউন্সিলরের মাধ্যমে।
ক্যাটাগরি-২, যেখানে আঞ্চলিক ও জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি থাকে, সেখান থেকে আট বিভাগ ও ৬৪ জেলার কাউন্সিলরের ভোটে ১০টি পদ পূরণ হয়।
ক্যাটাগরি-৩, ‘অন্যান্য প্রতিনিধি’ কোটায় একজন পরিচালক নির্বাচিত হন। এ ছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে মনোনীত হন দুই পরিচালক। এভাবে ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। তারপর বোর্ড পরিচালকেরা মিলেই সভাপতি নির্বাচন করেন।