জিতলেই ইতিহাস। প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের উৎসব। কলম্বোর প্রেমাদাসায় প্রথম দুই ম্যাচের ফল ১-১এ অমিমাংসিত থাকায় ক্যান্ডির পাল্লেকেলেতে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি রূপ পেয়েছে ফাইনাল। পাল্লেকেলেতে অতীত সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশ দলের। শ্রীলঙ্কার মাটিতে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়টা সূচিত হয়েছে এই মাঠেই। ২০১৩ সালে ৩ উইকেটে জয় থেকে সিরিজ জয়ের সেই টনিক নিয়ে শ্রীলঙ্কার মাঠে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের উৎসবে ফেটে পড়বে মিরাজের দল, এমন স্বপ্নই দেখেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।তবে ১৯ মাস আগে দিল্লীতে ২৮২ রান তাড়া করে ৫৩ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ে শান্ত, মিরাজ, তানজিদ, তানজিমদের সেই গৌরবগাঁথা পাল্লেকেলের মাঠে পুনরাবৃত্তি হয়নি। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ২৮৬ রানের চ্যালেঞ্জটা নিতেই পারেনি বাংলাদেশ দল। ৯৯ রানে হেরে সিরিজের শেষের ছবিটা হয়েছে হতাশার।
প্রেমাদাসার উইকেট অনেকটা মিরপুরের মতো। রান করতে হয় কষ্ট করে। প্রথমে ব্যাট করে আড়াইশ স্কোরকে যথেষ্ট মনে হয়েছে। কিন্তু পাল্লেকেলের উইকেটের বৈশিষ্ট্য একটু আলাদা। উইকেটে বল পড়ে ব্যাটে ঠিকঠাক মতো এসেছে। এমন সুবিধাজনক ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি পিচ পেয়ে কুশল মেন্ডিজের ব্যাট উঠেছে জ্বলে। তার সেঞ্চুরিতে (১১৪ বলে ১৮ বাউন্ডারিতে ১২৪) ভর করে ২৮৫/৭ স্কোর করেছে শ্রীলঙ্কা।
ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ স্পিনারদের সাপুড়ে নৃত্য দেখে ভয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। হয়তবা সে কারণেই স্লো উইকেট প্রস্তুত করার আইডিয়া থেকে সরে দাঁড়িয়ে ব্যাটারদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন পাল্লেকেলের কিউরেটর।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫০ ওভারের ম্যাচে রেকর্ডটা দারুণ কুশল মেন্ডিজ-আসালাঙ্কার। দু'জনেই ছিল ইতোপূর্বে সেঞ্চুরি-আসালাঙ্কার দুটি, কুশল মেন্ডিজের ১টি। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে ম্যাচ উইনিং সেঞ্চুরির তরতাজা স্মৃতি নিয়ে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নেমেছেন অধিনায়ক আসালাঙ্কা। ২০১৭ সালে ডাম্বুলায় বাংলাদেশের বিপক্ষে কুশল মেন্ডিজের সেঞ্চুরির অতীত সুখস্মৃতি তো আছেই, চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটি থেকেও নিয়েছেন টনিক। চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশ বোলারদের নাভিশ্বাস উঠিয়ে ছেড়েছে এই জুটি। ১১৭ বলে যোগ করেছে তারা ১২৪ রান।
গত বছর ডাম্বুলায় নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের সর্বোচ্চ ১৪৫ রানের ইনিংস ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ডের নেশায় বিভোর কুশল মেন্ডিজ এদিন শুরু থেকে করেছেন ইতিবাচক ব্যাটিং। তানজিম হাসান সাকিবকে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারির চুমোয় ইনিংস শুরু করে ৫৮ বলে ফিফটি এবং ৯৫ বলে ওডিআই ক্যারিয়ারে ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন কুশল মেন্ডিজ। দ্বিতীয় ফিফটিতে লেগেছে তার মাত্র্র ৩৭টি বল। ৯০'র ঘরে এসে রানের জন্য ধুঁকতে হয়নি তাকে। শেষ ১০ রান নিতে লেগেছে তার মাত্র ৬টি বল। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি ইনিংসকে টেনে নিয়েছেন ১২৪ পর্যন্ত। ওডিআই ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংসে ১০৮.৭৭ স্ট্রাইক রেটে করেছেন রান। যে ইনিংসে মেরেছেন তিনি ১৮টি বাউন্ডারি। ব্রেক থ্রু দিয়েছেন অকেশনাল স্পিনার শামীম পাটোয়ারী। তার চতুর্থ ওভারে পুল করতে যেয়ে রিটার্ন ক্যাচে থেমেছেন কুশল মেন্ডিজ। শেষ পাওয়ার প্লে'র প্রথম ওভারে আসালাঙ্কাকে (৬৮ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৫৮) পুল শটে খেলার ফাঁদে ফেলে দিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচে থামিয়েছেন তাসকিন।
তিনশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস ছিল যে ইনিংসে, সেই ইনিংসটা থেমেছে ২৮৫/৭-এ। শেষ পাওয়ার প্লে'র ৬০ বলে বাংলাদেশ বোলাররা ৬২ রানের বেশি শ্রীলঙ্কার স্কোরশিটে যোগ করতে দেননি। ওই ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কার ৪ উইকেট ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা।
মিরাজ এদিন ছিলেন সবচেয়ে মিতব্যয়ী (১০-০-৪৮-২)। পেসার তাসকিনও ছিলেন সফল (২/৫২)। আগের ম্যাচের ফাইফার বাঁ হাতি স্পিনার তানভির এদিন মার খেয়েছেন (৬-০-৪১-১)। তবে অকেশনাল স্পিনার শামীম পাটোয়ারী সিক্সথ বোলারের অভাব ঠিকই পূরণ করেছেন (৪-০-৩০-১)।
তবে যে পিচে প্রথম ইনিংসে লঙ্কান অধিনায়ক আসালাঙ্কা, টপ অর্ডার কুশল মেন্ডিজের ব্যাটে ফুলকি উঠেছে, সেই পিচই বাংলাদেশের ইনিংসে দেখিয়েছে উল্টা চরিত্র। স্পিনারদের বল কখনো থেমে, কখনো অপ্রত্যাশিত লো বাউন্স করে বাংলাদেশ ব্যাটারদের কাজটা কঠিন করে দিয়েছে। ইনিংসের মাঝপথে বাঁ হাতি স্পিনার ওয়েল্লালাগে (২/৩৩), লেগ স্পিনার হাসারাঙ্গার (২/৩৩) বল স্বাভাবিকভাবে খেলতে পারেনি বাংলাদেশের মিডল এবং লোয়ার অর্ডাররা। পুরো ইনিংসে পার্টনারশিপ বলতে দুটি-৪২ ও ৪৩ রানের!
বাংলাদেশের ইনিংসে প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছেন লঙ্কান পেসার আসিথা। তার ইনসুইংয়ে বোল্ড তানজিদ হাসান তামিম (১৩ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৭)। আর এক পেসার চামিরার বলে প্লেড অন শান্ত (৩ বলে ০)। ৪২ রানের জুটিটা লম্বা করতে পারেননি পারভেজ ইমন। ওয়েল্লালাগেকে সুইপ করতে যেয়ে ফাইন লেগে দিয়েছেন ক্যাচ (৪৪ বলে ৪ বা্উন্ডারিতে ২৮)। অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলবেন বলে পন করেও দলের উপকারে আসতে পারেননি মিরাজ। ওয়েল্লালাগেকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে লং অনে দিয়েছেন ক্যাচ (২৫ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ২৮)। শামীম পাটোয়ারিও ভরসা দিতে পারেননি। হাসারাঙ্গাকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে যেয়ে স্ট্যাম্পিংয়ে কাটা পড়েছেন (১৮ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১২)।
টাইগারদের বিপক্ষে আসিথা ফার্নান্দর ৩ উইকেট শিকার
এক এন্ডে টিমমেটদের আসা-যাওয়ার মিছিল দেখেও হতোদ্যম হননি হৃদয়। তবে ফিফটি পূর্ন করে থেমেছেন তিনি। চামিরার অন এন্ড অফ পিচিং ডেলিভারিতে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে মিডল স্ট্যাম্প উড়ে গেছে তার (৭৮ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ৫১)। শেষ স্পেলে সেই চামিরার ১৪৬ কিলোমিটার গতির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন তানজিম হাসান সাকিব (৮ বলে ৫)। হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্ঠা থেমেছে জাকের আলী অনিকের ২৭ রানের মাথায় এসে। আসিথার বলে ক্রস খেলতে যেয়ে হয়েছেন বোল্ড। এক ইনিংসে ৪টি বোল্ড! কৃতিত্ব যতোটা না লঙ্কান বোলারদের, তার চেয়ে ঢের বেশি অপরাধী বাংলাদেশ ব্যাটাররা। এমন এক ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দুই পেসার আসিথা (৩/৩৩)-চামিরা (৩/৫১) দিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদান। তবে ব্যবধানটা গড়ে দিয়েছেন কুশল মেন্ডিজের সেঞ্চুরি।
৩০ আগস্ট ২০২৫, ৯:৫২ পিএম
ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৩৬ রানে শেষ ইনিংস। পরে বল করতে নেমে ১৩.৩ ওভারে হেরে গেছে নেদারল্যান্ডস। ফিল্ডিংয়েও চমৎকার কিছু ক্যাচ নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই প্রথম ম্যাচ হারের পর ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসের সরল স্বীকারোক্তি, তিন বিভাগেই দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ।
দাপুটে জয়েই তিন ম্যাচ সিরিজটি শুরু করেছে স্বাগতিকরা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে তারা জিতেছে ৮ উইকেটে। মাঝারি ১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে তাদের লেগেছে মাত্র ৮১ বল। ম্যাচ জিতে বের হওয়ার সময় অব্যবহৃত ছিল ৩৯টি ডেলিভারি।
বল হাতে নেদারল্যান্ডসের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। চমৎকার বোলিংয়ে মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন অভিজ্ঞ পেসার। এছাড়া দীর্ঘ দিন পর টি-টোয়েন্টিতে ফিরে মূল্যবান ২টি উইকেট নিয়েছেন সাইফ হাসান।
আর রান তাড়ায় অধিনায়ক লিটন কুমার দাসই অগ্রণী ভূমিকায়। মাত্র ২৬ বলে ফিফটি করে ছুঁয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ফিফটির রেকর্ড। শেষ পর্যন্ত ২৯ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন দলকে জিতিয়েই।
আরও পড়ুন
দাপুটে জয়ে বড় প্রাপ্তি সাইফের প্রত্যাবর্তন |
![]() |
ব্যাটিংয়েও বড় অবদান রেখেছেন সাইফ। চার নম্বরে নেমে ১ চারের সঙ্গে ৩টি বিশাল ছক্কায় মাত্র ১৯ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন তিনি।
আর ফিল্ডিংয়ে দুর্বার ছিলেন জাকের আলি অনিক, তাওহিদ হৃদয়। ডিপ স্কয়ার লেগে তো বাজপাখির মতোই একটি ক্যাচ নিয়েছেন জাকের। সব মিলিয়ে তার হাতে জমা পড়ে তিনটি ক্যাচ। আর হৃদয় ধরে দুইটি ক্যাচ।
সব দিক মিলিয়েই বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সের পর অসহায় আত্মসমর্পন ছাড়া আর পথ ছিল না নেদারল্যান্ডসের। ম্যাচ শেষে সেই কথাই যেন মেনে নিলেন দলটির অধিনায়ক স্কট এডওয়ারডস।
“অবশ্যই (সিরিজে আমাদের) আদর্শ শুরু হয়নি। আমি মনে করি ম্যাক্স ও'ডাউড শুরুতে ভালো ব্যাট করেছে/ তবে মাঝখানে আমরা কিছুটা গতি হারিয়ে ফেলি। কিন্তু হ্যাঁ, কৃতিত্ব দিতে হবে বাংলাদেশের বোলার আর ব্যাটারদের- তিন বিভাগেই ওরা আমাদের পরাস্ত করেছে।”
আরও পড়ুন
কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়ে তাসকিনের ‘গ্রেট ফিলিং’ |
![]() |
এসময় ব্যাটিংয়ে জুটি গড়তে না পারার আক্ষেপের কথা বলেন ডাচ দলপতি।
“অবশ্যই। যেমন বললাম, কৃতিত্ব বাংলাদেশেরই। ওরা আমাদের চাপে রেখেছে। যখনই আমরা কোনো পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টা করেছি, ওরা উইকেট নিয়েছে। তাই আমরা আসলে কখনোই পুরোপুরি ছন্দে উঠতে পারিনি। আর হ্যাঁ, ১৩০ রান কখনোই এখানে যথেষ্ট ছিল না।”
এক দিন বিরতি দিয়ে সোমবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। এডওয়ার্ডসের বিশ্বাস ওই ম্যাচ দিয়েই সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন তারা।
“হ্যাঁ, অবশ্যই (ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাস আছে)। কিছু জিনিস আছে যা (হোটেলে) ফিরে গিয়ে আমাদের দেখা লাগবে। তবে হ্যাঁ, যেমনটা বললেন, এটা তিন ম্যাচের সিরিজ। আমাদের পরের ম্যাচে আরও ভালোভাবে ফিরতে হবে।”
এশিয়া কাপে খেলতে যাওয়ার আগে ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলার সুযোগ পেয়েছে লিটনরা। প্রত্যাশিত জয়ে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ এ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮ উইকেটে জিতে সিরিজ শুরু। সিলেটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১৩৭ রান তাড়া করে ৩৯ বল হাতে রেখে জয়কে বাহাবা দিতে হবে।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে সব রসদেরই যোগান দিয়েছে বিসিবি। পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডকে উড়িয়ে আনাটা যে ছিল অপরিহার্য। তার শেখানো বড় শটের টেকনিক কতোটা রপ্ত করতে পেরেছে ব্যাটাররা-সেটাই ছিল কৌতুহল।
লিটন-সাইফের ব্যাটিং পাওয়ার হিটিং কোচের তত্ব প্রয়োগেরই বার্তা দিয়েছে। লিটন ১৮৬.২০ স্ট্রাইক রেটে ২৯ বলে ৬ চার, ১ ছক্কায় ৫৪ রানের হার না মানা ইনিংসে এবং সাইফ ১৮৯.৪৭ স্ট্রাইক রেটে ১ চার, ৩ ছক্কায় ১৯ বলে ৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে তা জানিয়ে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন
কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়ে তাসকিনের ‘গ্রেট ফিলিং’ |
![]() |
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বোলিংয়ের শুরুটা ছিল না প্রত্যাশিত। প্রথম তিন ওভারে উইকেটহীন ২৫ রানে শঙ্কার আলামত ছিল। তবে শরিফুল (১-০-১৩-১) ও শেখ মেহেদি হাসানের (২-০-১২-০) প্রথম স্পেল থামিয়ে দিয়ে তাসকিনকে এনেই সাফল্যের মুখ দেখেছেন লিটন। তাসকিনের ১ ওভারের প্রথম স্পেলে মাত্র ১ রান খরচায় ডাচ ওপেনার গুড লেন্থ ডেলিভারিতে শর্ট কাভারে ক্যাচ দিলে সফরকারীদের রানের গতি যায় থেমে।
এই তাসকিন তিন স্পেল মিলিয়ে ২৮ রান খরচায় ৪ উইকেট পেয়েছেন। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তৃতীয়বারের মতো ৪ উইকেটের ইনিংসে ডট দিয়েছেন ১৩টি। যে ৪টি উইকেটের মধ্যে ডেথ ওভারে দুটি স্লোয়ার ডেলিভারিতে।
যে ছেলেটির ২ বছর আগে থেমে গেছে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, সেই সাইফকে ফিরিয়ে আনা ছিল নির্বাচকদের বড় একটা জুয়া। সম্প্রতি গায়ানায় গ্লোবাল সুপার লিগ টি-টোয়েন্টিতে রংপুর রাইডার্সের হয়ে আদর্শ অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরা সাইফ হাসান এ মাসে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ 'এ' দলের হয়েও করেছেন পারফর্ম।
মিডল অর্ডারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বোলিংয়েও কার্যকরী ভুমিকা রাখতে পারেন সাইফ হাসান, তা জানিয়ে দিয়েছেন শনিবার। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম ৫ ম্যাচে উইকেটহীন সাইফ ২ বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিরে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দেখেছেন উইকেটের মুখ (২-০-১৮-২)।
তার প্রথম ওভারের ৪র্থ বলটি ছিল ফ্লাইটেড ডেলিভারি, সেই ডেলিভারিতে এক্সট্রা কভারে ক্যাচ দিয়েছেন স্কট এডওয়ার্ডস। ষষ্ঠ বলে নিদামানুরুকে হৃদয় যে রানিং ক্যাচটি নিয়েছেন, তা হাততালি পাবার দাবি রাখে। এই ম্যাচে মোস্তাফিজের ইকোনমি বোলিং (৪-০-১৯-১)ও ছিল প্রশংসিত।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে নেদারল্যান্ডকে ৩৪/১ এ আটকে রাখা, শেষ পাওয়ার প্লে-তে ৩৮-এর বেশি নিতে না দেওয়া-পরিকল্পিত বোলিংয়েরই সুফল। ১২০টি ডেলিভারির মধ্যে ৫২টি ডট দিয়ে প্রতিপক্ষকে গর্জে ওঠার সুযোগ দেয়নি এদিন বাংলাদেশ বোলাররা।
এশিয়া কাপের আদর্শ প্রস্তুতির জন্য ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৫৭/১ স্কোরে বড় ব্যবধানে জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন
নেদারল্যান্ডসকে উড়িয়ে বাংলাদেশের শুরু |
![]() |
ইনিংসের প্রথম তিন বলে পারভেজ হোসেন ইমন কী চড়াও-ই না হয়েছিলেন আরিয়ান দত্তের উপর। ৪, ৪, ৬-এই তিনটি শটের পর নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন ইমন। সেই আরিয়ান দত্তের পরের ওভারে অ্যাঙ্গেল ডেলিভারিতে ফ্রন্ট ফুট ফাঁকা রেখে ক্রস খেলতে যেযে বোল্ড আউট হয়ে টেকনিকের ঘাটতি উন্মোচন করেছেন ইমন (৯ বলে ১৫)। তানজিদ তামিম ফিনিশার হতে পারেননি। লিটনের সাথে ৩৯ বলে ৬৬ রানের পার্টনারশিপে অবদান রাখা তানজিদ হাসান তামিম প্রিঙ্গেলকে ফুল টসে পুল করতে যেয়ে লং অনে দিয়েছেন ক্যাচ (২৪ বলে ২৯)।
৪ ইনিংস পর ফিফটি উদযাপন করেছেন লিটন ধুম-ধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে (২৬ বলে ৬ চার, ২ ছক্কায়)। তবে এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি সাইফ হাসানের অল রাউন্ড পারফর্ম (২/১৮ ও ১৯বলে ৩৬*)।
মাসে ৭ হাজার ডলার বেতনে অস্ট্রেলিয়ান কিউরেটর টনি হেমিংকে এনেছে বিসিবি সারাদেশে স্পোর্টিং উইকেট নিশ্চিত করতে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে কিন্তু সিলেটের পিচকে সেই বৈশিষ্ট্যে দেখা যায়নি। বল পড়ে লো করেছে। পেস কমিয়ে পেসাররা পেয়েছেন সাফল্য। স্পিনাররাও পেয়েছেন ফেভার। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপের আদর্শ অনুশীলনের জন্য যে যথার্থ মনে হয়নি সিলেটের পিচকে।
চতুর্থ ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই উইকেট নিলেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারেও প্রথম বলেই সাফল্য পেলেন অভিজ্ঞ পেসার। নিজের বাকি দুই ওভারেও একটি করে শিকার ধরে নেদারল্যান্ডসকে বেশি দূর যেতে দিলেন না তিনি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছন্দময় পথচলায় ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ে তাই ম্যাচ সেরার পুরস্কারও তাই উঠল তাসকিনের হাতে। আর এমন পারফরম্যান্সের পর চওড়া হাসিতে ৩০ বছর বয়সী পেসার বললেন, পরিশ্রমের ফল পেয়ে গ্রেট ফিলিং হচ্ছে তার।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার নেদারল্যান্ডসকে ৮ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। লিটন কুমার দাস ও সাইফ হাসানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৯ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
তবে ব্যাটারদের জন্য ম্যাচটি সাজিয়ে দেন মূলত বোলাররা। বিশেষ করে তাসকিন। ৪ ওভারে মাত্র ২৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন ৩০ বছর বয়সী পেসার। এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচে ৩ বা এর বেশি উইকেট পেলেন তিনি।
আরও পড়ুন
২৬ বলে ফিফটি করে সাকিবের পাশে লিটন |
![]() |
আর সব মিলিয়ে সবশেষ ৬ ম্যাচে তাসকিনের শিকার ১৫ উইকেট। এমন দুর্দান্ত পথচলায় ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সেই পুরস্কার গ্রহণ করে জানিয়েছেন নিজের তাৎক্ষণিক অনুভূতির কথা।
“এমন ম্যাচ কাটানো সবসময়ই গ্রেট ফিলিং। বিশেষ করে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই যদি এমন হয়। এছাড়া চোটে পড়ার পর আমি রিদম ফিরে পেতে সমস্যা হচ্ছিল। দিনে দিনে এটি ভালো হচ্ছে এখন। এটি নিয়ে কাজ করছি। প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি।”
“গত কয়েক সপ্তাহ আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। আর কঠোর পরিশ্রম নিশ্চিতভাবেই একসময় ফল বয়ে আনবে। সেটিই এখন পেলাম।”
আরও পড়ুন
লিটনের উত্তাল ব্যাটে বাংলাদেশের ঝড়ো সূচনা |
![]() |
সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় ম্যাচ। এর কিছুক্ষণ পর থেকে মাঠে দেখা যায় শিশিরের উপদ্রব। স্পিনারদের জন্য বল ধরাই ছিল বেশ কঠিন। পেসারদের জন্যও সহজ ছিল না কাজ। এর মাঝেও দারুণ বোলিংয়ের রহস্য জানান তাসকিন।
“উইকেট খুব ভালো ব্যাটিংয়ের জন্য। মাঠে শিশিরেরও প্রভাব ছিল। এসব মাথায় রেখে আমি নিজের প্রক্রিয়া ঠিক রেখেছি। এর সঙ্গে কিছু বৈচিত্র কাজে লাগিয়েছি।”
কাগজে-কলমে শক্তি-সামর্থ্যে দুই দলের পার্থক্য স্পষ্ট। বাকি ছিল মাঠেও প্রমাণ করা। দাপুটে জয়ে সেই কাজটিও সারলেন লিটন কুমার দাস, তাসকিন আহমেদরা। অনায়াস জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার নেদারল্যান্ডসকে ৮ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ। মাত্র ১৩৭ রানের লক্ষ্য ৩৯ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে লিটনের দল।
সহজ জয়ে দলকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দেন লিটন। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২৯ বলে ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
বল হাতে সবাইকে ছাড়িয়ে যান তাসকিন। চমৎকার প্রদর্শনীতে মাত্র ২৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন অভিজ্ঞ এই পেসার।
আরও পড়ুন
২৬ বলে ফিফটি করে সাকিবের পাশে লিটন |
![]() |
রান তাড়ায় প্রথম ওভারের প্রথম তিন বলে দুই চারের পর এক ছক্কা মেরে উড়ন্ত সূচনা করেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। আরিয়ান দত্তের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৯ বলে ১৫ রান করা বাঁহাতি ওপেনার।
এরপর একই ছন্দে এগোতে থাকেন লিটন। আরিয়ানের পরপর দুই বলে বাউন্ডারি মারেন তিনি। বাঁহাতি স্পিনার ড্যানিয়েল ডোরামের বলে রিভার্স সুইপ করে মারেন ছক্কা। পাওয়ার প্লেতে ৫৭ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ।
রয়েসয়ে শুরু করা তানজিদও পরে হাত খোলেন। তবে টিম প্রিঙ্গেলের এক ফুল টস বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়ে যান ২৪ বলে ২৯ রান করা বাঁহাতি ওপেনার। তার বিদায়ে ভাঙে ৩৯ বলে ৬৬ রানের জুটি।
এরপর আর উইকেট পড়তে দেননি লিটন ও সাইফ হাসান। মাত্র ২৬ বলে ফিফটি করে সাকিব আল হাসানের পাশে বসেন লিটন। দুজনেরই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিফটি ১৩টি। বাংলাদেশের হয়ে যা সর্বোচ্চ।
আরও পড়ুন
লিটনের উত্তাল ব্যাটে বাংলাদেশের ঝড়ো সূচনা |
![]() |
দীর্ঘ দিন পর টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা সাইফ হাসানও ঝড় তোলা ইনিংস খেলেন। ১ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কায় মাত্র ১৯ বলে ৩৬ রান করেন তিনি। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মাত্র ২৬ বলে ৪৬ রান যোগ করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন ও সাইফ।
১৪তম ওভারে পরপর দুই বলে দুই ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন সাইফ।
এর আগে নেদারল্যান্ডসের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৬ রানের ইনিংস খেলেন তেজা নিদামানুরু। এছাড়া ওপেনার ম্যাক্স ও'ডাউড করেন ২৩ রান। দলের আর কেউই তেমন কিছু করতে না পারায় ১৪০ রানও ছুঁতে পারেনি নেদারল্যান্ডস।
নিজের প্রতি ওভারে একটি করে উইকেট নেন তাসকিন। এছাড়া ২ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন সাইফ। কিপটে বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন মুস্তাফিজ।
শুরু থেকেই ঝড়ো ব্যাটিং করতে থাকা লিটন কুমার দাস ফিফটি স্পর্শ করলেন মাত্র ২৬ বলে। একই সঙ্গে গড়লেন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ফিফটির রেকর্ড। যেখানে অবশ্য তার সঙ্গী হিসেবে আছেন সাকিব আল হাসান।
নেদারল্যান্ডসের করা ১৩৬ রানের জবাবে উড়ন্ত সূচনা করেছেন লিটন। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ৬ চার ও ২ ছক্কায় মাত্র ২৬ বলে ফিফটি করেছেন ৩০ বছর বয়সী ব্যাটার।
টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে লিটনের এটি ১৩তম ফিফটি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে তার চেয়ে বেশি ফিফটি নেই আর কোনো ব্যাটারের। প্রায় এক বছর ধরে ক্যারিয়ার থমকে সাকিবও করেছেন তার সমান ১৩টি ফিফটি।
আরও পড়ুন
লিটনের উত্তাল ব্যাটে বাংলাদেশের ঝড়ো সূচনা |
![]() |
তবে ১৩ ফিফটি করতে সাকিবের লেগেছিল ১২৭ ইনিংস। সেখানে ১০৬ ইনিংসেই তাকে ছুঁয়ে ফেলেছেন লিটন। সাকিবের সর্বোচ্চ ইনিংস ৮৪ রানের। আর লিটনের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ৮৩ রান।
বাংলাদেশের হয়ে ফিফটির তালিকায় লিটন-সাকিবের পরে আছেন মাহমুদউল্লাহ। ১৩০ ইনিংসে ৮টি ফিফটি করেছিলেন এরই মধ্যে অবসর নিয়ে ফেলা সাবেক অধিনায়ক।
৪ দিন আগে
৪ দিন আগে
৪ দিন আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৭ দিন আগে
৭ দিন আগে
৯ দিন আগে
৯ দিন আগে
৯ দিন আগে
১১ দিন আগে
১১ দিন আগে