
চোট একজন খেলোয়াড়কে কীভাবে প্রভাবিত করে, সেটা নেইমারের চেয়ে ভালো কেইবা জানেন? এক যুগের বেশি দীর্ঘ এক ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার চোটের শিকার হয়েছেন ব্রাজিল তারকা, মিস করেছেন ম্যাচের পর ম্যাচ। মাঠের বাইরে থাকার তেতো অভিজ্ঞতা তাই ভালোই জানা আছে তার। সেই আলোকেই সদ্য মারাত্মক চোট পাওয়া বায়ার্ন মিউনিখ উইঙ্গার জামাল মুসিয়ালার সুস্থতা জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন নেইমার।
গত শনিবার রাতে ক্লাব বিশ্বকাপে পিএসজির সাথে কোয়ার্টার ফাইনালে গুরুতর চোটে পড়েন মুসিয়ালা। ২২ বছর বয়সী এই ফুটবলার একটি গোলের চেষ্টায় পিএসজির বক্সে ভেতর যাওয়ার পর সেখানে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার উইলিয়াম পাচো এবং গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার মাঝে পড়ে মারাত্মকভাবে আঘাত পান বাঁ পায়ে, যা সাথে সাথেই মচকে যায়।
আরও পড়ুন
| বন্ধু জতাকে হারিয়ে ‘মানসিকভাবে’ খেলতে কষ্ট হচ্ছে ট্রেন্টের |
|
ইনস্টাগ্রামে মুসিয়ালার উদ্দেশে একটি পোস্ট দিয়ে সহমর্মিতা জানিয়েছেন চোট-আঘাতের সাথে নিত্য পরিচিত নেইমার।
“আশা করি তুমি দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে এবং আবারও ঝলক দেখাবে আগের মত। ফুটবলের তোমার মত প্রতিভাকে দরকার। সাহস রাখো।”
নেইমার সাহস রাখতে বললেও চোট পাওয়ার পর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মুসিয়ালা। কারণ, পায়ের যে হাল হয়েছিল তার, সেটা দেখে যে স্বয়ং দোন্নারুম্মাও আতঙ্কিত হয়ে যান। সংঘর্ষে পড়ে জার্মান তারকার পা অস্বাভাবিকভাবে গোড়ালির কাছে মুচড়ে যায়, যা দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল যে, চোটের মাত্রা বেশ গুরুতর।
জার্মানির শীর্ষ সংবাদমাধ্যম বিল্ড ও দেশটির সাংবাদিক ভিক্টর কাতালিনার বরাতে জানা গেছে, মুসিয়ালার বাঁ পায়ের ফিবুলা (হাড়) ভেঙে গেছে এবং কিছু টেনডনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তাকে অন্তত চার থেকে পাঁচ মাসের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে।
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২৬ পিএম

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হারের পর রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আলভারো আরবেলোয়া নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেছেন। স্পেনের এই কোচ জানিয়েছেন, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব তাঁর ব্যাপারে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তা তিনি মেনে নেবেন। তবে কামাভিঙ্গার লাল কার্ড এবং জামাল মুসিয়ালাকে ট্যাকল করার পর ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে সময়ক্ষেপণ করায় রিয়ালের বিপর্যয় নেমে আসে।
ইউসিএলের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার পর বুধবার আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে প্রথমার্ধ পর্যন্ত আশা বাঁচিয়ে রাখে রিয়াল। তবে চূড়ান্ত বিপর্যয় নেমে আসে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে। জামাল মুসিয়ালাকে ট্যাকল করে হলুদ কার্ড দেখার পর ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে সময়ক্ষেপনের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি।
ইউরোপে ট্রফি জেতার স্বপ্ন যখন শেষ রিয়ালের; লা লিগায় সেই ট্রফি জিততে আরও কঠিন এবং অবিশ্বাস্য কিছু ঘটতে হবে। লা লিগায় বার্সেলোনার চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা রিয়াল যদি বাকি ৭ ম্যাচে অবিশ্বাস্য কিছু করতে না পারে, তবে এই শতাব্দীতে পঞ্চমবারের মতো ট্রফিশূন্য মৌসুম পার করতে হবে তাদের।
সার্বিক অবস্থায় আরবেলোয়ার ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। স্পেনের এই কোচ বলেন, ‘ক্লাব আমার ব্যাপারে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, আমি তা মেনে নেব। আমি মনেপ্রাণে একজন রিয়াল মাদ্রিদ ভক্ত। নিজের চেয়েও এই ক্লাব, খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের আমি অনেক বেশি ভালোবাসি।’
‘যখন আমি এই দলের কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন আমার লক্ষ্য নিজেকে একজন ভালো কোচ হিসেবে প্রমাণ করা ছিল না। আমার লক্ষ্য ছিল সবসময় খেলোয়াড়দের পাশে থাকা এবং ক্লাবকে সাহায্য করা। কোচ হিসেবে আমার শেষ দিন পর্যন্ত আমি সেটাই করে যাব।’-যোগ করেন তিনি।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পিছিয়ে থাকার পর আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে রিয়াল মাদ্রিদ যে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে, তা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকেছে। প্রথমার্ধে ৫ গোলের থ্রিলারে তিনটি গোল ছিল লস ব্লাঙ্কোসদের। আরবেলোয়া জানিয়েছেন, দলকে জেতাতে যত প্রচেষ্টা সবই তিনি এবং তার দল করেছে।
আরবেলোয়া বলেন, ‘আমার মনে হয় দলকে জেতানোর জন্য আমি সাধ্যমতো সবকিছুই করেছি। আমি প্রতিদিন আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করি।’
এতসবের পরও যদি আরবেলোয়াকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাতে কিছু তার যা আসে না। বরং তিনি চান, সবসময় রিয়াল ভালো কিছু করুক। আরবেলোয়া বলেন, ‘ক্লাবের সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাব, তবে এই মুহূর্তে আমি তা নিয়ে ভাবছি না। এটা সম্পূর্ণ ক্লাবের সিদ্ধান্ত। আমি ক্লাবেরই একজন মানুষ এবং আমার একমাত্র চাওয়া হলো রিয়াল মাদ্রিদ জিতুক—কোচ যেই থাকুক না কেন, তাতে কিছু যায় আসে না।’
পরবর্তীতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই জানিয়ে আরবেলোয়া আরও বলেন, ‘আমি যখন থেকে এই দায়িত্ব পালন করছি, ভবিষ্যৎ নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত হইনি। আমার খেলোয়াড়দের জেতানোর জন্য প্রতিদিন আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি বলেই আমার বিশ্বাস।’
চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাবি আলোনসোর বিদায়ের পর রিয়ালের দায়িত্ব নেন আরবেলোয়া। তার অধীনে ২১ ম্যাচে ১৩ জয়ের বিপরীতে ৭টি ম্যাচ হেরেছে লস ব্লাঙ্কোসরা।

বিশ্বকাপ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, এরমধ্যে মামলার ঝামেলায় জড়ালেন লিওনেল মেসি। গত বছরের একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ না নেওয়ায় বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির দাবি তুলে ফ্লোরিডার একটি সংস্থা মেসি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম টিএমজেড-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, মেসির খেলার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মাঠে না নামায় আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি কয়েক মিলিয়ন ডলার লোকসানের মুখে পড়েছে।
মায়ামিভিত্তিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান (ভিআইডি) এই মামলার বাদী। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত বছরের অক্টোবরে ভেনিজুয়েলা ও পুয়ের্তো রিকো—এই দুই দলের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সঙ্গে তাদের প্রায় ৭০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির শর্ত ছিল, চোটে না থাকলে মেসিকে প্রতিটি ম্যাচে অন্তত ৩০ মিনিট মাঠে থাকতে হবে।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে সেই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে মেসি খেলেননি। আয়োজকদের দাবি, এতে চুক্তির চরম লঙ্ঘন হয়েছে। মেসি মাঠের লড়াইয়ে অংশ না নিয়ে একটি প্রাইভেট সুইটে (ভিআইপি বক্স) বসে খেলা উপভোগ করেছেন। আয়োজকদের দাবি, ইন্টার মায়ামি তারকার এই অনুপস্থিতি তাদের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। বিপুল পরিমাণ টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে এবং বড় বড় বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের চুক্তি বাতিল করে দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বড় অংকের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় পরের দিন। ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে না খেললেও তার পরের দিনই ইন্টার মায়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নামেন মেসি এবং জোড়া গোল করেন। আয়োজকদের দাবি, পরের দিনই জোড়া গোল করা প্রমাণ করে যে মেসি খেলার জন্য শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ ফিট ছিলেন, তবুও তিনি প্রীতি ম্যাচটিতে অংশ নেননি।
পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মেসি মাঠে নেমেছিলেন এবং ৬-০ গোলের বড় জয়ে দুটি অ্যাসিস্টও করেছিলেন। কিন্তু আয়োজক সংস্থা ‘ভিআইডি’-র দাবি, ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, তারা ১০ লাখ ডলারেরও (প্রায় ১২ কোটি টাকা) বেশি লোকসান গুনেছে।
এই আর্থিক ক্ষতির পেছনে একটি বড় কারণ ছিল ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন। টিকিট বিক্রি আশানুরূপ না হওয়ায় ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচটি শিকাগো থেকে ফোর্ট লডারডেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন শিকাগোর কঠোর অভিবাসন নীতিকে দায়ী করলেও স্থানীয় কর্মকর্তারা দাবি করেন, টিকিটের চাহিদা কম থাকায় ভেন্যু বদলানো হয়েছে। আয়োজক সংস্থাটির আরও অভিযোগ, এই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ভবিষ্যতে চীনে ম্যাচ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। এই আইনি লড়াই নিয়ে মেসি কিংবা এএফএ-র পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেসিকে ঘিরে এমন আইনি জটিলতা এবারই প্রথম নয়। গত মাসেই মেজোর লিগ সকার (এমএলএস) এবং ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস একটি মামলার সমঝোতা করেছে। সেখানেও অভিযোগ ছিল—মেসি, সুয়ারেজ এবং বুসকেটসদের দেখার আশায় টিকিট কাটলেও শেষ পর্যন্ত তারা মাঠে নামেননি।
আইনি লড়াইয়ের মধ্যে মাঠের পারফরম্যান্সে মেসি এখনও অপ্রতিরোধ্য। ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯৬ ম্যাচে করেছেন ৮৩টি গোল। রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর হাত ধরেই ক্লাবটি লিগস কাপ, সাপোর্টার্স শিল্ড এবং এমএলএস কাপের শিরোপা জিতেছে। ফুটবলবিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে আসন্ন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর ‘লাস্ট ডান্স’ দেখার জন্য।

ফুটবল রত্ন তৈরিতে ব্রাজিলের জুড়ি মেলা ভার। ল্যাটিন আমেরিকার ফুটবলপাগল দেশটির তরুণ প্রতিভার দিকে সবসময়ই নজর থাকে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর। তেমন স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার চোখ পড়েছে ব্রাজিলের পরবর্তী ‘হীরা’র দিকে। শুধু কাতালান ক্লাবটিই নয় তাকে পেতে রীতিমতো ত্রিমুখী লড়াই শুরু হয়েছে!
ব্রাজিলের ক্লাব পালমেইরানের বিস্ময় বালক—এদুয়ার্দো কনসেইসাও। পালমেইরাস একাডেমির এই ১৬ বছর বয়সী তরুণ তুর্কিকে দলে ভেড়াতে কাড়াকাড়ি শুরু করেছে ইউরোপের জায়ান্টরা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর খবর অনুযায়ী, এই দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে বার্সেলোনা।
এন্ড্রিক, এস্তেভাও কিংবা রায়ানের মতো প্রতিভাদের হাতছাড়া করার ভুল আর দ্বিতীয়বার করতে চায় না বার্সা। তাই কনসেইসাওয়ের ক্ষেত্রে ন্যু ক্যাম্পের ক্লাবটি আগেভাগেই কোমর বেঁধে নেমেছে। সাম্প্রতিক 'কোপিনিয়া' টুর্নামেন্টে আলো ছড়ানোর আগে থেকেই বার্সেলোনার স্কাউটদের নজরে ছিলেন তিনি। খেলোয়াড়ের প্রতিনিধি এবং পালমেইরাস কর্তৃপক্ষের সাথে বার্সার সুসম্পর্ক এই আলোচনাকে অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে।
কনসেইসাওয়ের রিলিজ ক্লজ রাখা হয়েছে ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। তবে পালমেইরাস প্রায় অর্ধেক দামে, অর্থাৎ ৫ কোটি ৮৫ লাখ ডলারে চুক্তি করতে রাজি হতে পারে। কিন্তু পথটা বার্সার জন্য অতটা সহজ নয়। ম্যানচেস্টার সিটি ইতোমধ্যে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে, যা এখন পর্যন্ত পালমেইরাসের কাছে আসা সর্বোচ্চ প্রস্তাব। পাশাপাশি চেলসির মালিকানাধীন 'ব্লু-কো' গ্রুপও তাদের প্রথম প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কেন তাঁকে নিয়ে এত উন্মাদনা? মাত্র ১৬ বছর বয়সেই কনসেইসাও বিশ্ব ফুটবলের নজর কেড়েছেন। বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রাজিলের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন তিনি। আসরের 'সেরা খেলোয়াড়' হওয়ার দৌড়েও তিনি সবার আগে। ইতোমধ্যে তাঁর নামের পাশে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট যোগ হয়েছে। পালমেইরাস তাঁকে ‘বিশেষ’ প্রতিভা হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তাঁর খেলার ধরন অনেকটা এস্তেভাওয়ের শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।
কোপিনিয়া টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচে ৪ গোল আর ৩ অ্যাসিস্ট—পরিসংখ্যান কিন্তু তাঁর প্রতিভার পুরোটা বলছে না। মাঠে খেলার গতিপ্রকৃতি বোঝার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। পাশপাশি ড্রিবলিংয়ে দক্ষতাও এক কথায় অবিশ্বাস্য। নিজের সম্পর্কে কনসেইসাও বলেন, ‘আমি ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতি এবং ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে পছন্দ করি।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা আছে এখনও। তবে এরমধ্যে আরও একবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আশ্বস্ত করলেন, বিশ্বকাপ খেলবে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ‘নিশ্চিতভাবেই’ অংশ নিচ্ছে ইরান, এমনটাই বললেন ফিফা সভাপতি।
বুধবার সম্প্রচারক সংস্থা সিএনবিসি আয়োজিত অর্থনৈতিক সম্মেলনে ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কথা বলেন ইনফান্তিনো। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরান দল নিশ্চিতভাবেই আসছে। আমরা অবশ্যই আশা করি যে বিশ্বকাপের সময় পরিস্থিতি শান্ত থাকবে, যা সবাইকে সাহায্য করবে। তবে ইরানকে আসতেই হবে। তারা তাদের দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে, তারা যোগ্যতা অর্জন করে এখানে এসেছে এবং ফুটবলাররা খেলতে চায়।’
তুরস্কের আনতালিয়ায় ইরানের অনুশীলন ক্যাম্প পরিদর্শনের পর ইনফান্তিনো আরও ইতিবাচক হয়ে উঠেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে আমি ওদের অনুশীলনে গিয়েছিলাম। ওরা খেলার জন্য মুখিয়ে আছে। খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত। আমরা তো আর চাঁদে বাস করি না, এই পৃথিবীতেই থাকি। সম্পর্কের এই সেতুগুলো তৈরি রাখা এবং মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই আমাদের কাজ।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের মার্চে এশিয়ার অন্যতম সেরা দল হিসেবে তারা বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছিল। তবে যুদ্ধের দামামা সেই আনন্দ ম্লান করে দেয়।
আরও পড়ুন
| মিউনিখ ট্র্যাজেডিতে ট্রফিশূন্য মৌসুমের মুখে রিয়াল |
|
সূচি অনুযায়ী, ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মার্চের শুরুর দিকে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় জানানো হয়েছিল যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে বিশ্বকাপে খেলা সম্ভব নয়। এমনকি তারা যুক্তরাষ্ট্রে না গিয়ে ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ফিফার কাছে অনুরোধও জানিয়েছিল।
তবে গত সপ্তাহে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাম নিশ্চিত করেন, ফিফা ইরানের সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ তার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই চলবে।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ জুনের মধ্যে ইরান দলকে অ্যারিজোনার টাসনে তাদের ক্যাম্পে পৌঁছাতে হবে। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই ফুটবল মহাযজ্ঞ। ইরানের প্রথম ম্যাচ ১৫ জুন, ক্যালিফোর্নিয়ার সোফাই স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর তারা বেলজিয়াম ও মিশরের মুখোমুখি হবে। এমনকি ইরান যদি নকআউট পর্বে ওঠে, তবে সেই ম্যাচগুলোও যুক্তরাষ্ট্রেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ফিফা আশাবাদী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল কিছুটা রহস্যময়। তিনি বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ইরান দল আসুক বা না আসুক তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। আবার কখনও বলেছেন, তারা এলে তাদের 'স্টার' হিসেবেই আপ্যায়ন করা হবে। তবে সেই সঙ্গে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

চ্যাম্পিয়নস লিগ ১৫ বার এবং লা লিগা ৩৬ বার জয়ের রেকর্ড রিয়াল মাদ্রিদের। এই শতাব্দীতে মাত্র চারটি মৌসুমে (২০০৪-০৫, ২০০৫-০৬, ২০০৯-১০ এবং ২০২০-২১) তারা কোনো বড় ট্রফি জিততে পারেনি। এমনকি ২০২৪-২৫ মৌসুমে ক্লাবটি যখন লিগ বা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেনি, তখনও অন্তত উয়েফা সুপার কাপ বা ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের মতো ট্রফিগুলো তাদের ঘরে উঠেছে।
তবে এই মৌসুম ছিল রিয়াল মাদ্রিদের জন্য চরম ধারাবাহিকতাহীন। ক্লাবটি মৌসুম শুরু করেছিল কোচ জাবি আলোনসোর হাত ধরে। প্রথম ১০ ম্যাচের পর বার্সেলোনাকে হারিয়ে ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে লিগ টেবিলের শীর্ষে ছিল তারা। কিন্তু এরপরই টানা চার ম্যাচে জয়হীন থাকতে হয় তাদের। জানুয়ারিতে স্প্যানিশ সুপার কাপে বার্সার কাছে হারলে আলোনসো পদত্যাগ করেন। এরপর দায়িত্ব নেন তারই সাবেক সতীর্থ আরবেলোয়া। তাঁর রিয়ালে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হয় দ্বিতীয় বিভাগের দল আলবাসেতের কাছে কোপা দেল রে-তে হেরে।
সবকিছু মিলিয়ে জুড বেলিংহাম ভালো করেই জানতেন মিউনিখে কী ঘটতে যাচ্ছে। ম্যাচের আগে বেলিংহাম বলেছিলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগে যে কোনো হারই বিপর্যয়ের মতো। লিগের যে অবস্থা, তাতে আমাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচই ফাইনাল। আমরা স্রেফ ম্যাচ খেলে যেতে চাই না, বরং শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে চাই। মনে হচ্ছে যেন এই খেলার ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে। আমাদের বিষয়টাকে সেভাবেই দেখতে হবে। এটা হয় সব পাবে, নয়তো কিছুই পাবে না— এমন একটা খেলা।’
বুধবার রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় এগিয়ে গিয়েও ৪-৩ ব্যবধানে ম্যাচ হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ৮৬ মিনিটে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। তখনও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে ম্যাচ তখন সমতায়। খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে, এমনই আভাস ছিল। কিন্তু ১০ জনের রিয়ালকে কোনঠাসা করে ফেলে বায়ার্ন। শেষ মুহূর্তে দুই গোল দিয়ে ম্যাচও জিতে নেয় তারা। দুই লেগে মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জেতে বাভারিয়ানরা।